নিউইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি দুর্ঘটনায় ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যুতে ১০৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণের সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হন রোমাঞ্চ মহাজন নামের ১৮ বছর বয়সী এক ভারতীয় পর্যটক। এই মৃত্যুর ঘটনায় নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ১০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে নিহতের পরিবার।
তাদের দাবি, রাস্তায় থাকা ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ থেকে নির্গত বৈদ্যুতিক শকে (স্ট্রে ভোল্টেজ) ঘোড়াটি হঠাৎ ভয় পেয়ে দৌড় দিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'কন এডিসন'-সহ বেশ কয়েকটি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলার এই প্রাথমিক নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, স্বপ্নের ছুটি কাটাতে মাত্র তিন দিন আগে ভারত থেকে মা-বাবা এবং ১১ বছরের ছোট ভাইয়ের সঙ্গে নিউইয়র্কে এসেছিলেন রোমাঞ্চ। গত ১৭ জুন তারা সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়িতে ঘুরতে যান। চালক যখন গাড়ি থামিয়ে পরিবারটির ছবি তুলছিলেন, ঠিক তখনই ঘোড়াটি ভয় পেয়ে ছুটতে শুরু করে।
এ সময় চলন্ত গাড়ি থেকে রোমাঞ্চের মা ছিটকে পড়লে তাকে ধরতে গিয়ে রোমাঞ্চও নিচে পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তার মৃত্যু হয়। যদিও তার মা এই দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চালক ঘোড়ার গাড়িটির পিছু নিয়ে থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও সেটি শেষপর্যন্ত ফুটপাতে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং সিটি কর্মকর্তারা আগে থেকেই ওই এলাকায় অবাঞ্ছিত বিদ্যুতায়নের সমস্যার কথা জানতেন, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। তবে কন এডিসনের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা গত ১৬ ও ২৩ জুলাই ওই এলাকায় খুবই কম মাত্রার ভোল্টেজের উপস্থিতি পেয়েছিলেন, যা তাদের কোনো সরঞ্জাম থেকে আসেনি। অন্যদিকে সিটি ল ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে যে তারা নথিটি পর্যালোচনা করছে।
এদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর নিউইয়র্কে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলা ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ির রাইড চিরতরে বন্ধ করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। প্রাণী অধিকারকর্মীদের পাশাপাশি সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিনও জননিরাপত্তা ও প্রাণীকল্যাণ নিশ্চিতে বিকল্প সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে কুইন্সের ডেমোক্রেটিক কাউন্সিলম্যান জেমস জেনারো এই ঘটনাকে 'মানবিক ভুল' আখ্যা দিয়ে রাইডগুলো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার বদলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছেন। যার মধ্যে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়া বাঁধার নির্দিষ্ট পোস্ট স্থাপন এবং চালকদের আরও উন্নত প্রশিক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম মিশিগানে টিউবিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক মা, তাঁর ৯ বছরের ছেলে এবং এক আত্মীয়কে প্রায় তিন দিন পর গভীর জঙ্গল থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মাসকিগন নদীতে টিউবিং করার সময় গাছের গুঁড়ির ধাক্কায় তাদের টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা নদীর এক দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। নিখোঁজ এই তিনজন হলেন ২৮ বছর বয়সী সারাহ ভিদা, তাঁর ছেলে কেডেন কোভালসিক এবং সারাহর ২৮ বছর বয়সী খালাতো বোন জ্যাজমিন হক। উদ্ধার অভিযানের হৃদয়স্পর্শী ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। গত ৫ আগস্ট পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশকে খবর দেন। নদীর তীরে তাদের গাড়ি পাওয়ার পর পুলিশ, প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, উদ্ধারকারী দল ও কুকুর ইউনিট ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে। টানা তিন দিন পর কাদা-মাটিতে পায়ের ছাপ, ভাঙা ডালপালা, নুয়ে যাওয়া ঘাস ও নদীর পাশে পড়ে থাকা টিউবের সূত্র ধরে উদ্ধারকারীরা জঙ্গলের গভীরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকারীদের চিৎকারের জবাবে শিশু কেডেনের আওয়াজ শুনে তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়। তখন তারা চরম ক্লান্তি, পানিশূন্যতা, শরীরজুড়ে কাটা-ছেঁড়া ও পোকামাকড়ের কামড়ে জর্জরিত ছিলেন। জানা যায়, এই দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার জন্য তারা নদীর পানি পানের পাশাপাশি ফুল, গাছের ছাল এবং পিঁপড়া পর্যন্ত খেয়েছেন। উদ্ধারের সময় ৯ বছরের শিশু কেডেনকে এক কর্মকর্তা পিঠে করে জঙ্গল থেকে বের করে আনেন এবং চরম দুর্বল দুই নারীকে স্ট্রেচারে করে আনা হয়। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে বর্তমানে তারা সবাই সুস্থতার পথে রয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তা ক্যামেরন রাইট এই ঘটনাকে ‘প্রায় অলৌকিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিন দিন ধরে জঙ্গলের মাঝে ভয়, ক্ষুধা আর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর পরিবারের সঙ্গে তাদের পুনর্মিলনের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন ও স্বস্তিদায়ক।
জলবায়ু অভিবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি: সুবিধা পাবে দক্ষিণ এশিয়ার ৩ দেশ
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার কিশোরদের চিকিৎসায় মেডিকেইড তহবিল বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন
নিউইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি দুর্ঘটনায় ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যুতে ১০৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক একটি কোম্পানি বাজার থেকে ৪১ হাজারেরও বেশি বেবি জাম্পার এবং সুইং (দোলনা) প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। শিশুদের পড়ে যাওয়া, আঘাত পাওয়া এবং শ্বাসরোধ হওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকির পাশাপাশি অন্তত ৩২টি আহত হওয়ার ঘটনার পর ফেডারেল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই পণ্যগুলো প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কনজ্যুমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন (সিপিএসসি) জানিয়েছে, এই প্রত্যাহার আদেশের আওতায় রয়েছে 'ট্যালকো গিয়ার' (Taleco Gear) ব্র্যান্ডের বেবি জাম্পার, বেবি সুইং এবং টু-ইন-ওয়ান বেবি জাম্পার অ্যান্ড সুইং। ২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট এবং ট্যালকো গিয়ারের নিজস্ব ওয়েবসাইটে অনলাইনে এই পণ্যগুলো বিক্রি করা হয়েছিল। সেসময় এগুলোর দাম ছিল ৬৫ থেকে ১২০ মার্কিন ডলারের মধ্যে। সিপিএসসি আরও জানিয়েছে, ট্যালকো গিয়ারের কাছে ইতোমধ্যে পণ্যগুলো থেকে পড়ে যাওয়া, আঘাত লাগা এবং শ্বাসরোধের ঝুঁকির অন্তত ৫২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে মাথায় আঘাত পেয়ে ফুলে যাওয়া ও নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো অন্তত ৩২টি শিশু আহত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের অবিলম্বে প্রত্যাহার করা পণ্যগুলোর ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পণ্যগুলো ফেরত দিয়ে কীভাবে অর্থ ফেরত (রিফান্ড) পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা পেতে কোম্পানিটির সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
নিউইয়র্কে রাস্তায় গোলাগুলি, লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে বাথরুমে থাকা নিরীহ নারীর মৃ ত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ২০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে বিনামূল্যে সাইকেল ও হেলমেট উপহার
চুরি করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ চোর, এখন মালিকের কাছে ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি
ভারতের কর্ণাটকের ছোট্ট একটি গ্রাম থেকে শুরু হয়েছিল তার অদম্য এক যাত্রা। যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার সময় পকেটে পর্যাপ্ত টাকা বা চেনা-পরিচিত কেউই ছিল না তার। সেই কপর্দকশূন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী থেকে আজ তিনি একজন সফল টেক-উদ্যোক্তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গর্বিত নাগরিক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের এই দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরেছেন সাইমন শেঠি। কর্ণাটকে বেড়ে ওঠা সাইমন বিশ্বেশ্বরায় টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বিএসএনএল-এ ইন্টার্ন হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে টেসলা এবং লিফ্ট-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ও বিশ্বমানের কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। তবে আরামদায়ক ও উচ্চ বেতনের চাকরির মোহ ছেড়ে ২০২৩ সালে তিনি নিজের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, যা তার জীবনে নতুন এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় তার পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। ঋণের বোঝা, বারবার চাকরির সাক্ষাৎকারে প্রত্যাখ্যান এবং এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসা লটারিতে সুযোগ না পাওয়ার মতো হতাশা তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে যখন একসময়ের পরিচিত কিছু মানুষ তার বিরুদ্ধে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে জালিয়াতির মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার হীন উদ্দেশ্যেই এই ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে সঠিক পর্যালোচনার পর মার্কিন বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে সত্যের জয় হয় এবং তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হন। নাগরিকত্ব পাওয়ার এই আনন্দঘন মুহূর্তে সাইমন সেইসব অভিবাসীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন, যারা এখনও এফ-১ (F-1), এইচ-ওয়ানবি (H-1B), ও-১ (O-1), এল-১ (L-1) ভিসা বা গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় দিন গুনছেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্যে সাইমনের সহজ বার্তা— ধৈর্য রাখুন, নিয়ম মেনে চলুন এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকুন। নিজের পোস্টে সাইমন লিখেছেন, "ট্রলরা চেয়েছিল আমাকে নির্বাসনে পাঠাতে। কিন্তু তার বদলে আজ আমি একজন আমেরিকান।" তার এই অনুপ্রেরণাদায়ক পোস্টে নেটিজেনরা অভিবাদন ও প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন।
ভারতীয় প্রতিবেশীদের বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মার্কিন নারী
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কলম্বিয়াকে আরও ১ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র