আমেরিকা

জলবায়ু অভিবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি: সুবিধা পাবে দক্ষিণ এশিয়ার ৩ দেশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৬:২৭
জলবায়ু অভিবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি
জলবায়ু অভিবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যখন লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন এবং বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জলবায়ু অভিবাসন নীতি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্ব মানবাধিকার অঙ্গনে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক নিপীড়ন, জাতিগত নির্যাতন কিংবা ভয়াবহ যুদ্ধ ছাড়া আশ্রয়প্রার্থীদের আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষার বৈধতা দেওয়া হতো না। 

 

তবে সাম্প্রতিক সময়ের এই আইনি ও নীতিনির্ধারণী কাঠামোর পরিবর্তন কি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো অতিমাত্রায় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, নাকি সামনে নিয়ে আসছে আরও কঠিন ও জটিল কোনো প্রশাসনিক বাধা?

 

দক্ষিণ এশিয়ার চলমান জলবায়ু সংকট:

 

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ পুরো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল বর্তমানে চরম বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী খরা, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় এবং অস্বাভাবিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মারাত্মক মুখোমুখি। 

 

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণেই প্রতিবছর এই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের ভিটেমাটি, কৃষি জমি ও চিরাচরিত জীবনজীবিকা হারিয়ে সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়ছেন। 

 

ফলে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন অত্যন্ত তীব্র হয়ে উঠছে।

 

মার্কিন নীতিতে মানবিক ও পরিবেশগত স্বীকৃতি:

 

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতিনির্ধারণী কাঠামোয় প্রথমবারের মতো পরিবেশগত ও জলবায়ুজনিত মানবিক সংকটকে বিশ্বজনীন আন্তর্জাতিক সুরক্ষার অন্যতম প্রধান আইনি ভিত্তি হিসেবে স্বীকার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 

 

এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে সরাসরি ভৌগোলিক বিপর্যয়ে বাস্তুচ্যুত হওয়া দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের অভিবাসীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মানবিক সুরক্ষার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করার অনন্য আইনি সুযোগ পেতে পারেন। এটি আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিচার এবং মানবিক সুরক্ষার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

আবেদন প্রক্রিয়ার কঠোরতা ও বাস্তবতার চিত্র:

 

তবে আইনি এ সুযোগের বাস্তব চিত্র একেবারেই সহজ বা মসৃণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন আইনের সুফল ভোগ করতে হলে আবেদনকারীকে সুনির্দিষ্ট তথ্যাদি ও দাপ্তরিক প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে যে, সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত দুর্যোগটি তার জীবনধারণের জন্য সরাসরি চরম ও অপূরণীয় হুমকি তৈরি করেছে এবং তার দেশের সরকার তা মোকাবিলায় কিংবা তাকে মৌলিক সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। 

 

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর আইনি প্রক্রিয়া, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সীমিত কোটা ব্যবস্থার কারণে কেবল সুনির্দিষ্ট ও সীমিত সংখ্যক মানুষই বাস্তবে এই সুরক্ষার সুযোগ পাবেন।

সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতার সামগ্রিক মূল্যায়ন:

 

সংক্ষেপে বলতে গেলে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য আইনি স্বীকৃতির একটি আশাব্যঞ্জক ও ইতিবাচক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। 

 

কিন্তু আবেদনের অতি কঠোর নিয়মাবলি, প্রমাণের জটিলতা এবং ধীরগতির যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য এটি কোনো তাৎক্ষণিক বা সহজ সমাধান নয়। 

 

তবুও বৈশ্বিক জলবায়ু অভিবাসন নীতি সংস্কারের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক মাইলফলক হিসেবে স্থান করে নেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
স্যাক্রামেন্টোয় ইমিগ্রেশন আইনজীবীর অফিসে আইসিই পরিচয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হানা, ওয়ারেন্ট না থাকায় ব্যর্থ অভিযান
স্যাক্রামেন্টোয় ইমিগ্রেশন আইনজীবীর অফিসে আইসিই পরিচয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হানা, ওয়ারেন্ট না থাকায় ব্যর্থ অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোয় একটি ইমিগ্রেশন ল ফার্মে (আইনজীবী প্রতিষ্ঠান) আইসিই (ICE) এজেন্ট পরিচয়ে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছে। শুক্রবার সকালে নর্থ নাটোমাসের ওই ভবনে অন্তত চারটি গাড়িতে করে আসা এই ব্যক্তিরা দাবি করেন যে, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে তাদের কাছে একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে।   ওই তালিকায় থাকা অনেক ক্লায়েন্ট এই ল ফার্মের ঠিকানা ব্যবহার করছেন বলে তারা অভিযোগ করেন। ভবনে অভিবাসীদের জন্য কোনো বিছানা পাতা আছে কি না, তা তল্লাশির নামে তারা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে কোনো আইনি ওয়ারেন্ট বা পরোয়ানা দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।   মরিস ল গ্রুপের মালিক রাইসা মরিস জানান, সকাল ৯টা ১৬ মিনিটে তার এক কর্মী টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে তাকে এই সশস্ত্র ব্যক্তিদের উপস্থিতির কথা জানান। আইসিই ব্যাজ পরা এক ব্যক্তি সরাসরি রিসেপশনে এসে অফিস ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে চান। মরিস তাৎক্ষণিকভাবে কর্মীদের নির্দেশ দেন যে, ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে যেন ভেতরে ঢুকতে না দেওয়া হয়।   এ সময় বাধা পেয়ে ওই ব্যক্তি হুমকি দিয়ে বলেন যে, পরবর্তী নির্দেশ পেলে তারা রাত ৩টার দিকে এসে জানালা ভেঙে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করবেন। রাইসা মরিস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের ক্লায়েন্টরা, বিশেষ করে অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিতভাবেই আইনি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাকে নিজেদের মেইলিং অ্যাড্রেস বা চিঠিপত্র আদান-প্রদানের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করেন।   তার প্রতিষ্ঠানে এমন দুই হাজারেরও বেশি ক্লায়েন্ট রয়েছেন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে তিনি তার কর্মী ও ক্লায়েন্টদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   ঘটনাটি দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে চলার পর ভবনের ম্যানেজার ও ডেন্টিস্ট ড্যানিয়েল আজুরদুই সেখানে পৌঁছান। তিনি ওই ব্যক্তিদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ওয়ারেন্ট ছাড়া তাদের এই অবস্থান বেআইনি অনুপ্রবেশের শামিল এবং তিনি পুলিশ ডাকতে বাধ্য হবেন। এর পরপরই তারা সেখান থেকে চলে যান। পুরো ঘটনাটি নিয়ে ইউসি ডেভিস ল-এর অধ্যাপক এবং ইমিগ্রেশন আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ কেভিন জনসন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।   তিনি বলেন, নথিপত্রহীনদের তথ্য সংগ্রহের নামে ওয়ারেন্ট ছাড়া ইমিগ্রেশন ল ফার্মে ঢুকে বিছানা খোঁজার চেষ্টার কথা তিনি আগে কখনো শোনেননি। আইনজীবীরা সাধারণ মানুষের চেয়ে আইন সম্পর্কে বেশি জানেন, তাই সেখানে ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশির চেষ্টা শুধুই সময় নষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, এই হয়রানিমূলক ঘটনার বিষয়ে আইসিই বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৭:২২
মিশিগানে গভীর জঙ্গল থেকে তিন দিন পর জীবিত উদ্ধার মা-ছেলে, বেঁচেছিলেন গাছের ছাল-পিঁপড়া খেয়ে

মিশিগানে গভীর জঙ্গল থেকে তিন দিন পর জীবিত উদ্ধার মা-ছেলে, বেঁচেছিলেন গাছের ছাল-পিঁপড়া খেয়ে

জলবায়ু অভিবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি

জলবায়ু অভিবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি: সুবিধা পাবে দক্ষিণ এশিয়ার ৩ দেশ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার কিশোরদের চিকিৎসায় মেডিকেইড তহবিল বন্ধ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার কিশোরদের চিকিৎসায় মেডিকেইড তহবিল বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন

নিউইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি দুর্ঘটনায় ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যুতে ১০৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি
নিউইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি দুর্ঘটনায় ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যুতে ১০৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণের সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হন রোমাঞ্চ মহাজন নামের ১৮ বছর বয়সী এক ভারতীয় পর্যটক। এই মৃত্যুর ঘটনায় নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ১০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে নিহতের পরিবার।   তাদের দাবি, রাস্তায় থাকা ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ থেকে নির্গত বৈদ্যুতিক শকে (স্ট্রে ভোল্টেজ) ঘোড়াটি হঠাৎ ভয় পেয়ে দৌড় দিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'কন এডিসন'-সহ বেশ কয়েকটি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলার এই প্রাথমিক নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে।   জানা যায়, স্বপ্নের ছুটি কাটাতে মাত্র তিন দিন আগে ভারত থেকে মা-বাবা এবং ১১ বছরের ছোট ভাইয়ের সঙ্গে নিউইয়র্কে এসেছিলেন রোমাঞ্চ। গত ১৭ জুন তারা সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়িতে ঘুরতে যান। চালক যখন গাড়ি থামিয়ে পরিবারটির ছবি তুলছিলেন, ঠিক তখনই ঘোড়াটি ভয় পেয়ে ছুটতে শুরু করে।   এ সময় চলন্ত গাড়ি থেকে রোমাঞ্চের মা ছিটকে পড়লে তাকে ধরতে গিয়ে রোমাঞ্চও নিচে পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তার মৃত্যু হয়। যদিও তার মা এই দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চালক ঘোড়ার গাড়িটির পিছু নিয়ে থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও সেটি শেষপর্যন্ত ফুটপাতে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।   নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং সিটি কর্মকর্তারা আগে থেকেই ওই এলাকায় অবাঞ্ছিত বিদ্যুতায়নের সমস্যার কথা জানতেন, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। তবে কন এডিসনের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা গত ১৬ ও ২৩ জুলাই ওই এলাকায় খুবই কম মাত্রার ভোল্টেজের উপস্থিতি পেয়েছিলেন, যা তাদের কোনো সরঞ্জাম থেকে আসেনি। অন্যদিকে সিটি ল ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে যে তারা নথিটি পর্যালোচনা করছে।   এদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর নিউইয়র্কে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলা ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ির রাইড চিরতরে বন্ধ করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। প্রাণী অধিকারকর্মীদের পাশাপাশি সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিনও জননিরাপত্তা ও প্রাণীকল্যাণ নিশ্চিতে বিকল্প সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।   তবে কুইন্সের ডেমোক্রেটিক কাউন্সিলম্যান জেমস জেনারো এই ঘটনাকে 'মানবিক ভুল' আখ্যা দিয়ে রাইডগুলো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার বদলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছেন। যার মধ্যে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়া বাঁধার নির্দিষ্ট পোস্ট স্থাপন এবং চালকদের আরও উন্নত প্রশিক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৫:৫৪
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে অ্যামাজন-ওয়ালমার্টে বিক্রি হওয়া ৪১ হাজার বেবি জাম্পার প্রত্যাহার I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে অ্যামাজন-ওয়ালমার্টে বিক্রি হওয়া ৪১ হাজার বেবি জাম্পার প্রত্যাহার

নিউইয়র্কে রাস্তায় গোলাগুলি, লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে বাথরুমে থাকা নিরীহ নারীর মৃ ত্যু

নিউইয়র্কে রাস্তায় গোলাগুলি, লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে বাথরুমে থাকা নিরীহ নারীর মৃ ত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ২০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে বিনামূল্যে সাইকেল ও হেলমেট উপহার

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ২০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে বিনামূল্যে সাইকেল ও হেলমেট উপহার

চুরি করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ চোর, এখন মালিকের কাছ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ চান
চুরি করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ চোর, এখন মালিকের কাছে ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে এক অভাবনীয় ও অদ্ভুত আইনি লড়াইয়ের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি করতে গিয়ে মালিকের হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়া এক গৃহহীন ব্যক্তি এখন উল্টো ওই মালিকের কাছেই ১০ মিলিয়ন বা এক কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।   কেনেথ ভয়েলস নামের ওই ব্যক্তির অভিযোগ, এই ঘটনার কারণে তিনি চরম ‘মানসিক আঘাত’ বা ইমোশনাল ডিস্ট্রেসের শিকার হয়েছেন। চলতি বছরের মে মাসে পোর্টল্যান্ড-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'টাচস্টোন গ্রানাইট অ্যান্ড মার্বেল ইনকর্পোরেটেড' এবং এর মালিক জেমস গ্রান্টের বিরুদ্ধে ব্যাটারি, হামলা, অবহেলা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মানসিক আঘাত দেওয়ার অভিযোগ এনে তিনি এই মামলাটি দায়ের করেন।   মাল্টনোমাহ কাউন্টির আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৬ মার্চ ভোরে কেনেথ ভয়েলস একটি ড্রিল মেশিনের ব্যাগ চুরির উদ্দেশ্যে জেমস গ্রান্টের বন্ধ দোকানে অনুপ্রবেশ করেছিলেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে চুরি করাই তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। ভয়েলসের দাবি, মালিক জেমস গ্রান্ট হঠাৎ দোকানে চলে এলে তিনি ভয় পেয়ে ক্ষমা চান এবং দরজার দিকে দৌড় দেন।   এ সময় ক্ষুব্ধ গ্রান্ট তার দিকে কফির মগ ও ভারী টাইলস ছুড়ে মারেন এবং একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। তবে মালিক জেমস গ্রান্ট এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ভয়েলস একটি বোল্ট কাটার হাতে নিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তার দিকে তেড়ে আসছিলেন। নিজের প্রাণ বাঁচাতে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতেই তিনি বাধ্য হয়ে গুলি চালিয়েছিলেন বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।   মামলার এজাহারে ভয়েলস উল্লেখ করেছেন, তিনটি গুলি লাগার কারণে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। তার ফুসফুস ফুটো হয়ে যায়, বুকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং ডান হাতের হাড় ভেঙে যায়, যার জন্য তাকে ভাস্কুলার মেরামতসহ একাধিক জরুরি অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি ৫ মিলিয়ন ডলার এবং শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও ৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করেছেন।   একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশকারীদের মোকাবিলার জন্য কর্মীদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকে উল্টো মালিকের বিরুদ্ধে এমন মামলার খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনরা একে একটি 'ভিত্তিহীন ও হাস্যকর' মামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলছেন, যে ব্যক্তি নিজেই চুরির কথা স্বীকার করেছেন, তার এমন আইনি পদক্ষেপ নেওয়াটা আইনের অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:৩৫
ঋণ, প্রত্যাখ্যান আর ভিসা লটারির ব্যর্থতা, শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব পেলেন ভারতের সাইমন শেঠি

ঋণ, প্রত্যাখ্যান আর ভিসা লটারির ব্যর্থতা, শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব পেলেন ভারতের সাইমন শেঠি

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভারতে ফিরে যাওয়ার মুহূর্তে প্রতিবেশী মার্কিন নারীর সাথে আবেগঘন বিদায় ভাগ করে নিচ্ছেন এক ভারতীয় দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় প্রতিবেশীদের বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মার্কিন নারী

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কলম্বিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী সামরিক কার্গো বিমানে লোড করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কলম্বিয়াকে আরও ১ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments