ছয় বছরের পেশাজীবনে ৮৬১ কোটি টাকার বাড়ি কিনলেন তরুণ এআই গবেষক টনি উ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিবিদদের বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।এরই আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন চীনে জন্ম নেওয়া তরুণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক ইউহুয়াই ‘টনি’ উ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৭ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৬১ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল বাড়ি তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাড়িটি টনি উ নিজের নামে কিনেছেন—এমন প্রমাণ প্রকাশ্য নথিতে পাওয়া যায়নি। সম্পত্তির মালিক হিসেবে নথিতে রয়েছে ডাইকন নো হানা ক্যাপিটাল এলএলসি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম। বিভিন্ন সম্পত্তি লেনদেনের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসূত্র বিশ্লেষণ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম তাঁকেই এই সম্পত্তির সম্ভাব্য প্রকৃত ক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার হিলসবোরো শহরের ৩০০০ র্যালস্টন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত এই বিশাল সম্পত্তির নাম ‘ভিলা দে ভেরানো’। প্রায় ১২ একর জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি ইতালির লেক কোমোর বিলাসবহুল স্থাপত্যশৈলীর আদলে তৈরি।বাড়িটির মূল ভবনের আয়তন প্রায় ১২ হাজার বর্গফুট। সেখানে রয়েছে ছয়টি শয়নকক্ষ। এর পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বর্গফুটের আলাদা অতিথিশালা।
বিলাসবহুল এই সম্পত্তিতে থাকার ব্যবস্থা ছাড়াও বিনোদন ও খেলাধুলার জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। রয়েছে ব্যায়ামাগার, চলচ্চিত্র প্রদর্শনের কক্ষ, স্পা, গোলাপবাগান, প্রতিফলন পুকুর এবং প্রায় ২ হাজার ১০০ গ্যালন ধারণক্ষমতার লবণাক্ত পানির অ্যাকুরিয়াম।
ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য রয়েছে টেনিস কোর্ট, পিকলবল খেলার মাঠ, ভলিবল কোর্ট, বোচে খেলার জায়গা, পাটিং গ্রিন এবং নয়-গর্তের গলফ কোর্স। পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ১৫০ আসনের উন্মুক্ত মঞ্চ।বাড়িটি নির্মাণ ও সাজসজ্জার পেছনে কাজ করেছেন স্থপতি অ্যান্ড্রু স্কারম্যান এবং অভ্যন্তরীণ নকশাবিদ সুজান টাকার। পুরো সম্পত্তিকে অনেকটা ব্যক্তিগত অবকাশকেন্দ্রের আদলে সাজানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বাড়িটির দাম চাওয়া হয়েছিল ৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। প্রায় চার মাস বাজারে থাকার পর এর দাম কমিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি ডলারে সম্পত্তিটি হাতবদল হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ ডলার ১২৩ টাকা ধরে ৭ কোটি ডলারের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৮৬১ কোটি টাকা। তবে বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রকৃত মূল্য কিছুটা কমবেশি হতে পারে।৩১ বছর বয়সী ইউহুয়াই ‘টনি’ উ একজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী। তিনি বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন।
টনি উ ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি ওপেনএআই এবং গুগল ডিপমাইন্ডের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও গবেষণামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।তাঁর গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো যন্ত্রকে মানুষের মতো যুক্তি প্রয়োগ, গাণিতিক সমস্যা সমাধান এবং জটিল বিষয় বিশ্লেষণে আরও দক্ষ করে তোলা।
২০২৩ সালে ইলন মাস্ক এক্সএআই প্রতিষ্ঠা করার সময় যে ছোট দলটি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেন, টনি উ ছিলেন সেই দলের একজন।২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক্সএআই থেকে তাঁর পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়। পরে তিনি বার্ধক্য ও দীর্ঘায়ু নিয়ে কাজ করা একটি নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত হন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মাত্র ছয় বছরের পেশাজীবনে টনি উ ৮৬১ কোটি টাকার বাড়ির মালিক হয়েছেন। তবে এই বক্তব্য পুরোপুরি নির্ভুল নয়।টনি উ-এর গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম ছয় বছরের চেয়েও পুরোনো। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনা, গবেষণা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গবেষণামূলক কাজের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছেন।
তাঁর বিপুল সম্পদের প্রকৃত পরিমাণও প্রকাশ্যে নিশ্চিত নয়। এক্সএআইয়ে তাঁর মালিকানার অংশ কত ছিল, বিভিন্ন চুক্তি থেকে তিনি কত অর্থ পেয়েছেন কিংবা বাড়িটি কেনার অর্থের উৎস কী এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ কারণে তাঁকে সরাসরি ৮৬১ কোটি টাকার বাড়ির ব্যক্তিগত মালিক হিসেবে উল্লেখ করার পরিবর্তে বলা বেশি নির্ভুল যে, তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৭ কোটি ডলারের সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই বিপুল মূল্যের বাড়ি কেনার খবর ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তবে টনি উ নিজে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত উত্থান যে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের জন্য অভূতপূর্ব আর্থিক সুযোগ তৈরি করেছে, টনি উ-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই সম্পত্তি কেনার ঘটনা তারই একটি আলোচিত উদাহরণ। তবে বাড়িটির প্রকৃত ব্যক্তিগত মালিকানা এবং টনি উ-এর মোট সম্পদের পরিমাণ নিয়ে নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করা থেকে বিরত থাকাই যুক্তিসঙ্গত।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তার স্ত্রীর গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টরা তাকে আটক করলেও ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার জন্য তার কোনো অনুশোচনা নেই। ৭৭ বছর বয়সী মাউঙ্ক "মঙ্ক" বারাজোনের স্ত্রী ৪৬ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক গ্লোরিয়া বারাজোনকে গত জুলাই মাসে নিউজার্সি থেকে মিয়ামি যাওয়ার পথে নেওয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) গ্রেপ্তার করে। সম্প্রতি মার্কিন নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রীদের এ ধরনের আটকের ঘটনা বেশ বেড়েছে। তবে নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনো আক্ষেপ আছে কি না—নিউজউইকের এমন প্রশ্নের জবাবে বারাজোন স্পষ্ট জানিয়েছেন, "না, একেবারেই না। বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় থাকলে আমাদের দেশের অবস্থা আরও খারাপ হতো।" বারাজোন জানান, তার স্ত্রী ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ১৫ বছর আগে তাদের বিয়ের পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করেন। গত তিন বছর ধরে তারা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আটকের সময় গ্লোরিয়ার গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের আবেদন প্রক্রিয়াধীন ছিল। এমনকি তিনি ফ্লোরিডার রিয়েল আইডি ড্রাইভিং লাইসেন্সও পেয়েছিলেন। গ্লোরিয়াকে প্রথমে নিউজার্সিতে রাখা হলেও পরে লুইজিয়ানা এবং সাউথ টেক্সাস আইস প্রসেসিং সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। বারবার এই স্থানান্তরের ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে এবং আইনজীবীদের খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন বারাজোন। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ৩০ জুলাই একটি সুনির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সময় গ্লোরিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংস্থাটির দাবি, ভিসার অনুমোদিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে তিনি দেশের আইন লঙ্ঘন করেছেন। তবে স্ত্রীর এমন পরিস্থিতির শিকার হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্পের নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বারাজোন বলেন, তিনি ট্রাম্পের ৮০ শতাংশ কাজের সাথে একমত। তিনি অপরাধী ও গ্যাং সদস্যদের গ্রেপ্তারের শতভাগ পক্ষে, তবে মার্কিন নাগরিকদের স্ত্রীদের এভাবে আটক করা অনুচিত বলে মনে করেন। তিনি এ ঘটনার জন্য ট্রাম্পকে নয়, বরং 'কিছু খারাপ আইস কর্মকর্তার' দায় দেখছেন। স্ত্রীর মুক্তির জন্য আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে বর্তমানে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এই প্রবীণ ব্যবসায়ী। আইনি খরচ মেটাতে তাকে নিজের মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এবং আত্মীয়দের কাছ থেকেও হাজার হাজার ডলার ঋণ নিতে হয়েছে। পাশাপাশি তিনি হৃদরোগসহ মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। রিপাবলিকান সিনেটর ও প্রতিনিধিদের কাছে সাহায্য চেয়েও বন্দি স্ত্রীর স্বাক্ষরিত সম্মতিপত্রের অভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় তেমন কোনো সহায়তা পাননি তিনি। সবশেষে বারাজোন বলেন, অবৈধ অভিবাসী বিশেষ করে অপরাধীদের জন্য আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেমন কড়াকড়ি থাকা উচিত, তেমনি মার্কিন নাগরিকদের স্বামী-স্ত্রীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ আলাদা মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন।
নাটালির সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে গুঞ্জন, মেলানিয়ার নীরবতায় জল্পনা আরও তীব্র
ছয় বছরের পেশাজীবনে ৮৬১ কোটি টাকার বাড়ি কিনলেন তরুণ এআই গবেষক টনি উ
“অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের জন্য আজ দারুণ দিন” হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারির পোস্টে কড়া বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে কিশোরীদের অনলাইনে টার্গেট ও শোষণের অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী কাইল উইলিয়াম স্পিৎজকে ৭৭ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দেওয়া এই সাজা ৭৬৪ নামের সহিংস অনলাইন উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের কোনো সহযোগীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ ফেডারেল সাজা বলে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে। ফ্রেন্ডসভিলের বাসিন্দা স্পিৎজকে শিশু যৌন নিপীড়নের উপকরণ তৈরি, প্রাণীর ওপর নির্যাতনের ভিডিও ছড়াতে সহায়তা এবং শিশু যৌন নিপীড়নের উপকরণ ইচ্ছাকৃতভাবে সংগ্রহ ও দেখার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাকে যাবজ্জীবন তত্ত্বাবধানে রাখার পাশাপাশি যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধনের নির্দেশও দিয়েছে। মার্কিন তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্পিৎজ ৭৬৪ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ‘হার্ম নেশন’ নামে সংশ্লিষ্ট একটি অনলাইন নেটওয়ার্কের প্রশাসক ও নেতৃস্থানীয় সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, এসব নেটওয়ার্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের টার্গেট করে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নেটওয়ার্কটির সদস্যরা ভয়ভীতি, ব্ল্যাকমেইল ও নানা ধরনের মানসিক চাপ ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের যৌন শোষণ, আত্মক্ষতি কিংবা সহিংস কর্মকাণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ কারণে এ ধরনের অনলাইন নেটওয়ার্ককে মার্কিন কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। তদন্তে স্পিৎজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে শিশুদের শোষণ-সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও পাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার ফোনের জন্য তল্লাশি পরোয়ানা নেওয়া হয়েছিল। পরে তদন্তে তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রসিকিউটরদের দাবি, স্পিৎজ অনলাইনে নিজেকে ‘ক্রিমিনাল’সহ বিভিন্ন নামে পরিচয় দিতেন এবং বিপুলসংখ্যক ভুক্তভোগীকে প্রভাবিত করার দাবি করেছিলেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তার কর্মকাণ্ডের অন্তত কিছু অংশে ভুক্তভোগীদের ওপর ভয়াবহ মানসিক চাপ ও জবরদস্তির অভিযোগ রয়েছে। এফবিআই ৭৬৪-কে এমন একটি অনলাইন উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক হিসেবে দেখছে, যার সদস্যরা বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে। সংস্থাটি এ ধরনের কার্যক্রমকে ‘আধুনিক যুগের সন্ত্রাসবাদের’ একটি রূপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। স্পিৎজের ৭৭ বছরের সাজা তাই শুধু একটি অপরাধ মামলার রায় নয়; অনলাইনে শিশুদের শোষণ ও উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অপরাধ সংগঠনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানেরও বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অবৈধ অভিবাসীদের ট্যাক্স ফেরত বন্ধে নতুন বিধির প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও দুই মেয়ে নিহত
সান দিয়েগোতে মসজিদে হামলার পর শিশুদের পাশে দাঁড়ানো তরুণীর প্রশংসা কংগ্রেস সদস্যের, পেলেন বিশেষ স্বীকৃতি
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশ প্রধান কেভিন ডেভিস এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত সোমবার ওয়াশিংটনের অদূরে গ্রেট ফলস এলাকার একটি পার্কের পার্কিং লট থেকে এক নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নারীর নাম কারমেন লিসেত পুচ। তিনি তিন বছরের একটি কন্যা সন্তানের জননী ছিলেন এবং পুলিশ তাকে একজন অত্যন্ত স্নেহশীল মা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, অভিযুক্ত তরুণ এবং নিহত নারী ভার্জিনিয়ার হার্নডন এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে কাজ করতেন এবং তাদের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পুলিশের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, অভিযুক্ত তরুণ হত্যাকাণ্ডের রাতে রেস্তোরাঁ থেকে একটি ধারালো ছুরি, কালো ল্যাটেক্স গ্লাভস এবং একটি পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে বের হয়েছিলেন। ঘটনার দিন সকালে এক পথচারী পার্কের একটি গাড়ির পাশে নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে জরুরি সেবায় কল করেন এবং পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ শুরু করে। অভিযুক্ত তরুণ একটি মোটরসাইকেল থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে পানির বোতলে ভরে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান এবং ওই নারীর শরীরে একাধিকবার ছুরিকাঘাতের পর আগুন দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে বর্তমানে তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রেস্তোরাঁর মালিকসহ নিহতের সহকর্মীরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তারা নিহতের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য একটি আর্থিক তহবিল গঠন করেছেন।
নিউইয়র্ক-ক্যালিফোর্নিয়ার চড়া খরচ ছেড়ে কম দামে বাড়ি, সাশ্রয়ী জীবনে নতুন গন্তব্য আইওয়া
গর্ভবতী নারী সপ্তাহের পর সপ্তাহ ডিটেনশনে, ইমিগ্রেশন আইনজীবীর প্রতারণায় দিশেহারা পরিবার