মেরিল্যান্ডে বসছে সবচেয়ে বড় ইতালীয় মেলা, ২০ হাজার মানুষের সমাগম ঘিরে জমজমাট প্রস্তুতি
মেরিল্যান্ডে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বসছে রাজ্যের সবচেয়ে বড় ইতালীয় মেলা। হারফোর্ড কাউন্টির অ্যাবারডিনে রিপকেন স্টেডিয়ামের পার্কিং লটে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে চলছে প্রস্তুতি। চতুর্থবারের মতো আয়োজিত অ্যাভেনা মেরিল্যান্ড ইতালিয়ান ফেস্টিভ্যালে ২০ হাজারের বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। ১৫টিরও বেশি অঙ্গরাজ্য থেকে দর্শনার্থীরা এই উৎসবে আসবেন বলেও জানানো হয়েছে।
২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে নানা ধরনের আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে খাঁটি ইতালীয় খাবার, সরাসরি সংগীত পরিবেশনা, কার্নিভ্যাল রাইড ও বিভিন্ন খেলা। পাশাপাশি থাকছে কারুশিল্পের পণ্য কেনাকাটা, রান্নার প্রদর্শনী, ওয়াইন টেস্টিং, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী এবং আতশবাজি।
অ্যাবারডিনে এবার দ্বিতীয়বারের মতো এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। শহরের মেয়র প্যাট্রিক ম্যাকগ্র্যাডি বড় এই আয়োজনকে স্থানীয় ব্যবসাগুলোর জন্য ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, অ্যাবারডিনের ভৌগোলিক অবস্থান দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধাজনক হওয়ায় মেরিল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পেনসিলভানিয়া, ডেলাওয়্যার এবং ওয়াশিংটন ডিসি থেকে মানুষ সহজেই এখানে আসতে পারেন।
মেলাকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসাগুলোও প্রস্তুতি নিচ্ছে। আয়োজকদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। অ্যাবারডিনের একটি ট্রপিক্যাল স্মুদি ক্যাফের স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এরিক মেটজ জানিয়েছেন, বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে তারা প্রস্তুত। মেলায় আসা মানুষদের জন্য নিজেদের পার্কিং সুবিধাও ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
বেল এয়ারের ব্রে অ্যান্ড এম বুটিকের মালিক অ্যাশলি ওউয়েন্সও এবার মেলায় বিক্রেতা হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। তিনি এবার আগের চেয়ে বড় পরিসরে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর দোকান থেকে মেলার জন্য বিশেষ কিছু ইতালীয় পণ্যও আনা হবে, যেগুলো সাধারণ সময়ে দোকানে পাওয়া যায় না। গতবার এসব বিশেষ পণ্য পুরোপুরি বিক্রি হয়ে যাওয়ায় এবার অতিরিক্ত পণ্য মজুত করা হচ্ছে।
শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় মেলার কার্যক্রম শুরু হবে এবং চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা এবং রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা চলবে।
মেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এক দিনের সাধারণ প্রবেশ টিকিটের মূল্য ১২ ডলার। তবে ১২ বছর বা তার কম বয়সী শিশুরা একজন প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবে। অনলাইনে অথবা মেলাস্থলে সরাসরি টিকিট কেনা যাবে।
এই আয়োজনের সঙ্গে দাতব্য কার্যক্রমও যুক্ত রয়েছে। মেলা থেকে পাওয়া নিট অর্থ সোসাইটি অব ইতালিয়ান আমেরিকান বিজনেসমেনের সহায়তায় পরিচালিত আঞ্চলিক দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যয় করা হবে। আয়োজকদের সংগঠনটি মেরিল্যান্ডে ইতালীয় সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রমে সহায়তা করার সঙ্গে যুক্ত।
মেরিল্যান্ডের পর্যটন বিভাগের তথ্যেও ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর অ্যাবারডিনে এই ইতালীয় মেলার আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকেরা বড় দর্শকসমাগমের প্রত্যাশা করছেন এবং তিন দিনের আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসা ও বিক্রেতাদের মধ্যেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় জন্মের সময় মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজনের এক শিশু দীর্ঘ ৩৩৪ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফিরেছে। অ্যাডোনিস নামের শিশুটিকে চিকিৎসক ও নার্সরা ‘মিরাকেল বেবি’ হিসেবে অভিহিত করছেন। জন্মের পর তার বেঁচে থাকা এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা থাকলেও প্রায় এক বছর চিকিৎসার পর সে হাসপাতাল ছাড়তে সক্ষম হয়েছে। মিনেসোটার ম্যাপল গ্রোভে নর্থ মেমোরিয়াল হেলথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল অ্যাডোনিস। তার মা জেসমিন ওয়েলিংটনের গর্ভাবস্থা ২৪ সপ্তাহ ৫ দিন চলার সময় হঠাৎ প্রসবব্যথা শুরু হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের সময় তার ওজন ছিল ১ পাউন্ড ৮ আউন্স, যা প্রায় ৬৮০ গ্রামের সমান। জন্মের পর অ্যাডোনিসের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তাকে দীর্ঘ সময় কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়তা নিতে হয়। চিকিৎসকদের জন্যও তার সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টি ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। হাসপাতালের নার্স ক্যাথরিন মার্টিনসন জানান, শিশুটির জন্মের পর প্রথম কয়েক দিন এতটাই কঠিন ছিল যে তিনি কাজে ফিরে এসে অ্যাডোনিসকে জীবিত দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা করেছিলেন। চিকিৎসার প্রথম কয়েক মাসেও অ্যাডোনিসকে একের পর এক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সে আলাদাভাবে মেথিসিলিন-প্রতিরোধী স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস সংক্রমণ এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। এসব শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকার কারণে তার চিকিৎসা ও পরিচর্যাও ছিল অত্যন্ত জটিল। তারপরও চিকিৎসক, নার্স এবং পরিবারের সদস্যদের নিবিড় পরিচর্যায় ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। অ্যাডোনিসের মা জেসমিন ওয়েলিংটন বলেন, পুরো যাত্রাটিই ছিল নানা উত্থান-পতনে ভরা। কখনও তার সন্তানের অবস্থার উন্নতি হয়েছে, আবার কখনও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ের অভিজ্ঞতা তার জন্য উদ্বেগ ও মানসিক চাপের ছিল, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলেও তিনি জানান। শিশুটির বাবা জুনিয়র র্যান্সি-কোয়ায়ে এই কঠিন সময়েও বিশ্বাস ধরে রাখার কথা জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অ্যাডোনিসের বেঁচে থাকাকে সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন এবং শিশুটির সুস্থ হয়ে ওঠার আশায় অপেক্ষা করেছেন। হাসপাতালে ৩৩৪ দিন কাটানোর পর অ্যাডোনিস এখন অবশেষে পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে ফিরেছে। তবে চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ হয়নি। বর্তমানে তাকে অক্সিজেনের সহায়তা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসা দল আশা করছে, বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একসময় তার আর অক্সিজেনের প্রয়োজন হবে না। প্রায় এক বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে অ্যাডোনিসের ওজন এখন ২০ পাউন্ডের বেশি। জন্মের সময় মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজনের শিশুটির এই বেড়ে ওঠাকে চিকিৎসাকর্মীরা তার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। নার্স ক্যাথরিন মার্টিনসনের মতে, অ্যাডোনিসের ঘটনা একটি অলৌকিক ঘটনা বলেই মনে হয়েছে। তার মতো খুব কম বয়সে জন্ম নেওয়া অনেক শিশুকে জন্মের পর বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে শ্বাসনালিতে বিশেষ ব্যবস্থা বা খাবার দেওয়ার জন্য বিশেষ টিউবের প্রয়োজন হতে পারে। অ্যাডোনিসও জন্মের সময় এমন একটি অবস্থায় ছিল, যেখানে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল। তবে দীর্ঘ চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর অ্যাডোনিস সেই আশঙ্কাগুলোকে অনেকটাই পেছনে ফেলেছে। হাসপাতালের কর্মীরা বলছেন, খুব কম বয়সে জন্ম নেওয়া শিশুরাও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ভালো করতে পারে। অ্যাডোনিসের দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার ঘটনাকে তাই তার পরিবার ও চিকিৎসাকর্মীদের কাছে বিশেষ এক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৩৩৪ দিন পর হাসপাতালের বাইরে পরিবারের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেছে অ্যাডোনিস। জন্মের সময় মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজনের সেই শিশুই এখন ২০ পাউন্ডের বেশি ওজন নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। তার চিকিৎসায় যুক্ত নার্স ও চিকিৎসকদের কাছে এই দীর্ঘ যাত্রাই তাকে ‘মিরাকেল বেবি’ হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে। সূত্র: সিবিএস
মেরিল্যান্ডে বসছে সবচেয়ে বড় ইতালীয় মেলা, ২০ হাজার মানুষের সমাগম ঘিরে জমজমাট প্রস্তুতি
যুক্তরাষ্ট্রে ট্যারিফ আয় ফেরতের চেয়ে বেশি, আগস্টে ফেরত ১০.৫ বিলিয়ন ডলার
উল্টে যাওয়া বোটের ওপর রাত কাটিয়ে আলাস্কায় প্রাণে বাঁচল ১৫ বছরের কিশোর
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে বিজ্ঞানী, গবেষক ও আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ বাড়লেও বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’। এআই নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ডালাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে নিজের অবস্থান জানান। তিনি বলেন, এআই নিয়ে তার কোনো উদ্বেগ নেই। তার মতে, প্রযুক্তিটির কারণে কোনো সমস্যা তৈরি হলেও তা মোকাবিলার উপায় থাকবে। ট্রাম্প একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে গুরুত্ব দেন এবং বলেন, এই প্রতিযোগিতায় চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে রয়েছে। ট্রাম্পের এমন আশাবাদী অবস্থানের বিপরীতে এআই খাতের ভেতর থেকেই সম্ভাব্য বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা বাড়ছে। বিশেষ করে অ্যানথ্রপিকের কয়েকজন গবেষকের বক্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন পদত্যাগের পর উন্নত এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যের পর এআইয়ের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। অ্যানথ্রপিকের গবেষক ইভান হুবিঙ্গারও এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছেন। তার মতে, উন্নত এআই একসময় মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতির অস্তিত্ব সংকটে পড়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলে মনে করেন। তবে এটি তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়। এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের পেছনে শুধু ভবিষ্যতের আশঙ্কাই নয়, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও ভূমিকা রাখছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলক ব্যবহারের সময় ওপেনএআইয়ের তৈরি এআই ব্যবস্থা সফটওয়্যার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রুবিজেমসে আক্রমণ চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় শত শত ক্ষতিকর প্যাকেজ আপলোড করা হয়েছিল। ওপেনএআই পরে ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানায়, অভ্যন্তরীণ এআই ব্যবস্থাগুলো প্রশিক্ষণের সময় ওই কার্যক্রম চালিয়েছিল। অন্যদিকে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তাদের তৈরি এআই ব্যবস্থাও বিভিন্ন ধরনের অপব্যবহারের শিকার হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এআই ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র নিয়ে গবেষণা, সাইবার হামলা, নজরদারি ও প্রতারণার মতো কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা হয়েছে। এসব ঘটনা উন্নত এআই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহার করা হতে পারে এবং সেগুলোর ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ এখন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সিনেটের আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাবে উন্নত এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বাধ্যতামূলক দায়িত্ব নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় ধরনের বিপর্যয়কর ঝুঁকি কমানোর জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, বিপজ্জনক সক্ষমতা তৈরি করতে পারে এমন এআই ব্যবস্থার ব্যবহার বা প্রকাশ ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। কোনো এআই ব্যবস্থা মানুষের জন্য বড় ধরনের বিপদ তৈরি করতে পারে কি না, তা পরীক্ষা করতে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণাগারে পরীক্ষার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে আইনটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এর চূড়ান্ত রূপ বা বাস্তবায়নের সময়সীমাও নিশ্চিত নয়। এআই নিয়ে উদ্বেগের মাত্রা বাড়ার আরেকটি কারণ হলো প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা তৈরি করছে। এর পাশাপাশি এআই ব্যবস্থাগুলোর স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করার সক্ষমতাও বাড়ছে। ফলে কিছু গবেষক মনে করছেন, প্রযুক্তির সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি হচ্ছে কি না, সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনা বাড়লেও প্রযুক্তিটির উন্নয়ন থামানোর বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান এখনো স্পষ্টভাবে পরিবর্তিত হয়নি। ট্রাম্পের বক্তব্যে বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়লে দেশটি বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে। একই সময়ে এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ওপেনএআইসহ প্রযুক্তি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের গতি কমানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র এআই প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব ধরে রাখতে দ্রুত উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে গবেষক ও আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ সম্ভাব্য বিপর্যয়কর ঝুঁকি মোকাবিলায় আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানাচ্ছে। এই দুই অবস্থানের মাঝেই এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। তবে ট্রাম্প এখনো এসব উদ্বেগকে বড় ধরনের বাধা হিসেবে দেখছেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এআই নিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস
৩০ বছর পর প্রথমবার ‘সন্ত্রাসী আদালত’ ব্যবহার করে আফগান নারীকে ডিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের
আমেরিকান পণ্য বয়কট করছেন কানাডিয়ানরা, নতুন দেশ থেকে পণ্য আনছে সুপারমার্কেটগুলো
আয়ারল্যান্ড এক হবে, দাবি ট্রাম্পের! পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মোড়
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ জানিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না। তারা চায় না, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান চালাক। ট্রাম্প বলেন, “হুতিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না।” তিনি আরও বলেন, হুতিরা চায় না যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর হামলা চালাক। একই সঙ্গে অঞ্চলটির পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ভালোভাবেই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ট্রাম্প এ সময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও কথা বলার কথা জানান। তিনি সৌদি যুবরাজকে নিজের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সৌদি যুবরাজ দুবার ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধে সম্মতি দেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এদিকে, এই সপ্তাহেই হুতিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপরও প্রভাব বিস্তার করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গৃহহীন শিক্ষার্থীকে স্কুলে রাখতে চাকরি হারালেন প্রধান শিক্ষক, পরে হলেন সেই ছাত্রেরই অভিভাবক
১৩২ বছর পর লাইব্রেরিতে ম্যাগাজিন ফেরত, বেঁচে গেল ১২ হাজার ডলারের জরিমানা