সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আইসিইর কর্মকাণ্ডে আপত্তি তোলার ৪৮ ঘণ্টায় বরখাস্ত বিচারক, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৬:২৭
আইসিইর কর্মকাণ্ডে আপত্তি তোলার পর ৪৮ ঘণ্টায় বরখাস্ত বিচারক
আইসিইর কর্মকাণ্ডে আপত্তি তোলার পর ৪৮ ঘণ্টায় বরখাস্ত বিচারক

সান ফ্রান্সিসকোর সাবেক ইমিগ্রেশন বিচারক ক্লোয়ি ডিলন অভিযোগ করেছেন, আদালত থেকে বের হওয়ার পর আইসিই এক অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাসাইলামপ্রার্থীকে আটক করার ঘটনায় আইনি ও ডিউ প্রসেস নিয়ে উদ্বেগ জানানোর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এ অভিযোগে তিনি ট্রাম্প প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছেন। 

 

ডিলন ২০২২ সালে সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্টে বিচারক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে এক কিশোর অ্যাসাইলামপ্রার্থী তাঁর আদালতে হাজির হন। আইসিই তাঁর অ্যাসাইলাম মামলা বাতিল করে তাকে এক্সপেডাইটেড রিমুভাল প্রক্রিয়ায় নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিলন সেই পদক্ষেপে আপত্তি জানান এবং ওই ব্যক্তিকে আইনি সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেন। 

 

এরপর আদালত থেকে বের হওয়ার পর আইসিই ওই কিশোরকে আটক করে বলে ডিলনের অভিযোগ। পরে তাঁর ফাইল পর্যালোচনা করে ডিলনের মনে হয়, ওই ব্যক্তি সম্ভবত একজন আনঅ্যাকম্পানিড মাইনর এবং তাকে সরাসরি এক্সপেডাইটেড রিমুভালে পাঠানো নিয়ে আইনি প্রশ্ন রয়েছে। একই দিন তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ই-মেইল করে সম্ভাব্য আইন ও ডিউ প্রসেস লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ জানান। 

 

ডিলনের মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ই-মেইল পাঠানোর প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর তিনি চাকরি থেকে বরখাস্তের নোটিশ পান। নোটিশে তাঁর চাকরি শেষ করার কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের আর্টিকেল ২ উল্লেখ করা হয়েছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। 

 

ডিলন দাবি করছেন, তাঁর বরখাস্ত ছিল হুইসেলব্লোয়িংয়ের প্রতিশোধ। মামলায় তিনি হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা আইন, প্রথম ও পঞ্চম সংশোধনী এবং অন্যান্য সাংবিধানিক বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন ও ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন প্রতিকার চেয়েছেন। 

 

মামলাটি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ৩:২৬-cv-10143 এবং বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ, সির্স ওয়েন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। 

 

তবে বিচার বিভাগ ডিলনের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডিওজির একজন মুখপাত্র অভিযোগটিকে “patently false” বা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে চলমান মামলা ও কর্মীসংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণত মন্তব্য না করার কথাও জানিয়েছে বিভাগটি। 

 

ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কোর্ট ব্যবস্থায় চলমান বড় পরিবর্তনের মধ্যেই সামনে এসেছে। এনবিসি বে এরিয়া জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ১২০ জনের বেশি ইমিগ্রেশন বিচারককে অপসারণ করা হয়েছে বলে বিচারকদের ইউনিয়ন দাবি করেছে। তবে বরখাস্তের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন হিসাব রয়েছে। 

 

ডিলনের মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে আইসিইর করা ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন সবসময় অনুমোদনের বিষয়ে বিচারকদের ওপর চাপ ছিল। ডিলনের দাবি, তিনি এর বিরোধিতা করেছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে তাঁর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁকে সতর্ক করেছিলেন যে হোয়াইট হাউস বিষয়টি নজরে রাখছে। এটি অবশ্য মামলার অভিযোগ - আদালত এখনো এসব দাবি সত্য বলে সিদ্ধান্ত দেয়নি। 

 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্ট ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে এবং সেখানকার মামলাগুলো অন্য আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ডিলনের মামলাটি তাই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালত, আইসিইর ইনফোর্চমেন্ট এবং বিচারকদের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডসংক্রান্ত নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্ধারিত হতে পারে এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসা, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে কংগ্রেসে চলমান উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি নির্ভর করতে পারে নির্বাচনের ফলের ওপর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইতোমধ্যে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগসংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের মধ্যে নির্বাচন ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছেন। নির্বাচনে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে গেলে অভিবাসনসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো নিয়ে শুনানি, ভোটাভুটি এবং আইন প্রণয়নের গতি পরিবর্তিত হতে পারে। তবে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশ বা সরকারি সংস্থাগুলোর বিধিমালা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে না। সেগুলো পরিবর্তনের জন্য পৃথক প্রশাসনিক, আইনি বা আইন প্রণয়নসংক্রান্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে।   এইচ-১বি ভিসা নিয়ে কড়াকড়ির পাশাপাশি কংগ্রেসে একাধিক প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্লেন গ্রথম্যান এবং সিনেটর জন হুস্টেডের উদ্যোগে আনা ‘প্রটেক্টিং আমেরিকান ওয়ার্কার্স থ্রু এইচ-১বি মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’-এর লক্ষ্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মজুরির শর্ত আরও কঠোর করা। প্রস্তাবটির পক্ষে থাকা আইনপ্রণেতাদের যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত থাকা বেতনসীমার কারণে কিছু নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নির্ধারিত শর্ত এড়িয়ে যেতে পারছে।   বর্তমান নিয়মে এইচ-১বি নির্ভরশীল কিছু নিয়োগদাতাকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে যোগ্য মার্কিন কর্মী খোঁজার বিষয়ে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে বছরে অন্তত ৬০ হাজার ডলার বেতন পাওয়া অথবা স্নাতকোত্তর বা তার বেশি ডিগ্রিধারী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রয়েছে। ১৯৯৮ সালে নির্ধারিত এই বেতনসীমা মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার করা উচিত বলে গ্রথম্যানের কার্যালয় জানিয়েছে। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি কর্মী নিয়োগের ব্যয় ও প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে।   এইচ-১বি ভিসা নিয়ে আরও কঠোর অবস্থানের পক্ষে রয়েছে রিপাবলিকানদের আরেকটি প্রস্তাব। মন্টানার সিনেটর টিম শিহি উত্থাপিত ‘এন্ড এইচ-১বি অ্যাবিউজ অ্যাক্ট অব ২০২৬’-এ নতুন এইচ-১বি ভিসা দেওয়া তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এতে নির্দিষ্ট এইচ-১বি আবেদন বা নিয়োগের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের ফি আইনে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে। মার্কিন কর্মীদের চাকরি ও মজুরি সুরক্ষার যুক্তিতে প্রস্তাবটির সমর্থকেরা বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধিনিষেধ চান। তবে প্রস্তাবটি এখনো আইন নয়, তাই এটিকে কার্যকর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   এদিকে ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি নিয়ে আইনি জটিলতাও রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু নতুন এইচ-১বি আবেদনের সঙ্গে এই ফি যুক্ত করেছিল। ২০২৬ সালের জুনে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রায় দেয়। তবে আপিল চলমান থাকায় বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। কংগ্রেস চাইলে নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এ ধরনের ফি বা বিধিনিষেধের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ করতে পারে। অন্যদিকে নির্বাচনের পর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলালেও বিদ্যমান নির্বাহী সিদ্ধান্তের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আদালতের রায় এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর।   কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস ও টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে পিইআরএম বা স্থায়ী শ্রম সনদ প্রক্রিয়ায় বিধিনিষেধের খবর প্রকাশিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগদাতাকে সাধারণত প্রমাণ করতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদে যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগে স্থানীয় কর্মীদের মজুরি ও কাজের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীদের অনেকে এই কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ ধরনের পদক্ষেপ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধ বাড়তে পারে। এতে কিছু প্রস্তাব আটকে যেতে পারে, সংশোধিত হতে পারে কিংবা সেগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে আইন পাসের জন্য প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। সিনেটে অধিকাংশ বিলের ক্ষেত্রে বিতর্ক শেষ করে ভোটে যাওয়ার জন্য সাধারণত ৬০ ভোটের সমর্থন লাগে। দুই কক্ষে একই ভাষায় বিল পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়, যদিও ভেটো অতিক্রমের সাংবিধানিক পথও রয়েছে।   সব মিলিয়ে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের ভিসা ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিয়ে নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতে এইচ-১বি ভিসা বা গ্রিন কার্ডের নিয়ম তাৎক্ষণিকভাবে বদলে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ভারতীয় পেশাজীবীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী অন্য দেশের কর্মীদেরও প্রস্তাবিত বিল, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং সরকারি বিধিমালার পরবর্তী অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।   সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস, ইউএস গভর্নমেন্ট পাবলিশিং অফিস।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ২০:৩৮
কর্মস্থলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আঙুল হারিয়ে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পেলেন যুবক

কর্মস্থলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আঙুল হারিয়ে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পেলেন যুবক

নিউইয়র্কে ৭৩২ ডলার থেকে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার সুযোগ, ব্রঙ্কসে শুরু আবাসন লটারি

নিউইয়র্কে ৭৩২ ডলার থেকে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার সুযোগ, ব্রঙ্কসে শুরু আবাসন লটারি

ব্রুকলিনের ২৭ বছর বয়সী নারী আইএসের হয়ে একে-৪৭ চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, দোষী সাব্যস্ত

ব্রুকলিনের ২৭ বছর বয়সী নারী আইএসের হয়ে একে-৪৭ চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, দোষী সাব্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ মাইল দূরে বসে ক্যানসার রোগীর অস্ত্রোপচার, রোবট দিয়ে প্রস্টেট অপসারণ
যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ মাইল দূরে বসে ক্যানসার রোগীর অস্ত্রোপচার, রোবট দিয়ে প্রস্টেট অপসারণ

যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুই হাসপাতালের মধ্যে দূরনিয়ন্ত্রিত রোবোটিক সার্জারি বা ‘টেলিসার্জারি’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফ্লোরিডার এক সার্জন ৩৫ মাইল দূরে অবস্থান করে রোবট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ৬৬ বছর বয়সী এক ক্যানসার রোগীর প্রস্টেট অপসারণ করেছেন।   গত রোববার অরল্যান্ডোর কাছে অবস্থিত অ্যাডভেন্টহেলথ সেলিব্রেশন-এর ‘গ্লোবাল রোবোটিকস ইনস্টিটিউট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. বিপুল প্যাটেল এই অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করেন। এ সময় মার্ক নামের ওই রোগী মিনোলা শহরের অ্যাডভেন্টহেলথ হাসপাতালে ছিলেন, আর চিকিৎসক প্যাটেল সেলিব্রেশন শহরের অন্য একটি হাসপাতাল থেকে রোবটিক যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন।   সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে দুটি আলাদা স্থানে সম্পন্ন হওয়া প্রথম দূরনিয়ন্ত্রিত সার্জারি। টেলিসার্জারি ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) বিশেষ অনুমোদনের আওতায় একটি ক্লিনিক্যাল গবেষণার অংশ হিসেবে এই অস্ত্রোপচার করা হয়।   জরুরি প্রয়োজনে রোগীর পাশে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সার্জন মার্সিও মোসকোভাসের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল দল উপস্থিত ছিল। সফল অস্ত্রোপচারের পর ওই রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।   ডা. বিপুল প্যাটেল এক বিবৃতিতে জানান, এই পদ্ধতির মাধ্যমে ভৌগোলিক দূরত্ব ঘুচিয়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার সম্ভাবনা তৈরি হলো। তবে এই পদ্ধতিতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বা সাইবার হামলার মতো প্রযুক্তিগত ঝুঁকি থাকায় এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই লন্ডনের এক সার্জন থ্রিডি ক্যামেরা ও চার হাতের একটি রোবট ব্যবহার করে প্রায় ১,৫০০ মাইল দূরে জিব্রালটারে অবস্থানরত এক রোগীর সফলভাবে প্রস্টেট অপসারণ করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিলেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৮:২৪
যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারে চোরদের হানা, হলিউডি কায়দায় চুরি ১০ কোটি ডলারের এআই সরঞ্জাম

যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারে চোরদের হানা, হলিউডি কায়দায় চুরি ১০ কোটি ডলারের এআই সরঞ্জাম

মেক্সিকো উপকূলে নৌকাডুবি, উত্তাল সাগরে একাই ১৬ জনের প্রাণ বাঁচালেন মার্কিন কোস্টগার্ড সাঁতারু

মেক্সিকো উপকূলে নৌকাডুবি, উত্তাল সাগরে একাই ১৬ জনের প্রাণ বাঁচালেন মার্কিন কোস্টগার্ড সাঁতারু

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের আনতে চান? জানুন পিটিশন, যোগ্যতা ও আবেদনের ধাপ

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের আনতে চান? জানুন পিটিশন, যোগ্যতা ও আবেদনের ধাপ

যুক্তরাষ্ট্রে মিলি মুন ডায়াপার নিয়ে শত শত অভিযোগ, শিশুদের ত্বকে র‍্যাশ ও র ক্তপাতের দাবি
যুক্তরাষ্ট্রে মিলি মুন ডায়াপার নিয়ে শত শত অভিযোগ, শিশুদের ত্বকে র‍্যাশ ও র ক্তপাতের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনজ্যুমার রিপোর্টস অভিভাবকদের বিলাসবহুল ব্র্যান্ড 'মিলি মুন'-এর ডায়াপার কেনা ও ব্যবহার বন্ধ করার জোর আহ্বান জানিয়েছে। ইউএস কনজ্যুমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশনে (সিপিএসসি) জমা পড়া ৬০০-এর বেশি অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৬ অক্টোবর ডায়াপারগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের এই অনুরোধ করা হয়।   শুধু গত এক মাসেই তিন শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে, যেখানে অভিভাবকরা জানিয়েছেন এই ডায়াপার ব্যবহারের ফলে শিশুদের নিতম্ব ও যৌনাঙ্গে মারাত্মক র‍্যাশ, লালচে ভাব, জ্বালাপোড়া এবং রক্তপাতের মতো ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালে ছুটতে বাধ্য হয়েছেন।   ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরা বছরের পর বছর ধরে কোনো সমস্যা ছাড়াই মিলি মুন ডায়াপার ব্যবহার করে আসছিলেন, তবে সম্প্রতি কেনা নতুন প্যাকেটের ডায়াপারগুলোতেই বিপত্তি ঘটছে। এক অভিভাবকের অভিযোগ, ডায়াপার পরানোর পর তাঁর দুই মাস বয়সী শিশুর ত্বকে রাসায়নিক পোড়ার মতো ভয়াবহ ক্ষত সৃষ্টি হয়, যা কোনো ক্রিমেই সারেনি।   আরেকজন জানান, তাঁর নবজাতকের ত্বকের চামড়া উঠে যাওয়ার পর অন্য ব্র্যান্ডের ডায়াপার পরালে তা সেরে যায়, কিন্তু মিলি মুন পুনরায় ব্যবহার করলেই আবার র‍্যাশ ফিরে আসে। ডায়াপারের পাশাপাশি তিন বছর বয়সীদের জন্য তৈরি পুল-আপস বা ট্রেইনিং প্যান্টস ব্যবহার করেও শিশুদের পেট ও পিঠে চুলকানি এবং লালচে ভাব দেখা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রেডিটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অভিভাবকরা তাঁদের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছেন এবং অন্যদের সতর্ক করছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে মিলি মুন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে পর্যালোচনা করে তাদের কোয়ালিটি টিমের কাছে তদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। তবে ডায়াপারের উপাদান বা তৈরির প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি বলে দাবি করেছে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি।   তাদের দাবি, গত ফেব্রুয়ারিতে শুধু ডায়াপারের বাইরের দিকের নকশা কিছুটা ওপরের দিকে বর্ধিত করা হয়েছিল। স্বাধীন গবেষণাগারে পরীক্ষার পর এতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক বা উৎপাদনগত ত্রুটি পাওয়া যায়নি বলেও কোম্পানিটি জানিয়েছে। বর্তমানে টার্গেট, ওয়ালমার্ট, সিভিএস, ক্রোজারসহ বিভিন্ন স্টোরে বিক্রি হওয়া এই ডায়াপার নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে কনজ্যুমার রিপোর্টস ও মিলি মুন কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী অভিভাবকদের সরাসরি কোম্পানির ওয়েবসাইটে অথবা সিপিএসসির কাছে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৬:২০
নিউইয়র্কে অবৈধ চেক ক্যাশিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী, জব্দ ৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলার

নিউইয়র্কে অবৈধ চেক ক্যাশিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী, জব্দ ৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলার

ফ্লোরিডায় ৩ বছরের শিশুর গোলের পর গোল, প্রতিভা সহ্য করতে না পেরে পুলিশ ডাকলেন লিগ কর্মকর্তারা

ফ্লোরিডায় ৩ বছরের শিশুর গোলের পর গোল, প্রতিভা সহ্য করতে না পেরে পুলিশ ডাকলেন লিগ কর্মকর্তারা

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের সমর্থন, ক্ষমতা হারালেন অভিবাসন বিচারকেরা

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের সমর্থন, ক্ষমতা হারালেন অভিবাসন বিচারকেরা

0 Comments