সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আমেরিকায় গাড়ি মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে জানুন এই ৭ বিষয়, বাঁচবে বাড়তি খরচ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ৩:২৪
আমেরিকায় গাড়ি মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে জানুন এই ৭ বিষয়
আমেরিকায় গাড়ি মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে জানুন এই ৭ বিষয়

নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি মেরামত করাতে গিয়ে অনেকেই অপ্রত্যাশিত বড় বিলের মুখে পড়েন। কোনো কাজের খরচ আগে পরিষ্কার না করা, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাজ করানো কিংবা যন্ত্রাংশ ও শ্রমের খরচ সম্পর্কে না জানার কারণে শেষ পর্যন্ত গুনতে হতে পারে অতিরিক্ত টাকা। তবে মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করলে অপ্রয়োজনীয় খরচের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

 

প্রথমেই গাড়ির সমস্যার প্রাথমিক তথ্য জেনে নিন। বিশেষ করে ইঞ্জিনের ত্রুটির সংকেত জ্বললে সরাসরি বড় ধরনের মেরামতের সিদ্ধান্ত না নিয়ে ওবিডি স্ক্যানের মাধ্যমে সমস্যার সংকেত জানা যেতে পারে। কিছু গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকানে এই ধরনের স্ক্যান বিনামূল্যে করা হয়, তবে সেবার নিয়ম ও খরচ দোকানভেদে ভিন্ন হতে পারে। সমস্যার সংকেত জানা থাকলে মেকানিকের সঙ্গে কথা বলার সময় বিষয়টি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। তবে শুধু স্ক্যানের সংকেত দেখে কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। প্রকৃত কারণ জানতে পেশাদারভাবে গাড়ি পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে।

 

দ্বিতীয়ত, কাজ শুরু করার আগে লিখিত খরচের হিসাব নিন। সেখানে কী সমস্যা, কোন যন্ত্রাংশ লাগবে, শ্রমের খরচ কত এবং মোট সম্ভাব্য ব্যয় কত হতে পারে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকা উচিত। ফেডারেল ট্রেড কমিশনও গাড়ি মেরামতের আগে লিখিত খরচের হিসাব নেওয়ার পরামর্শ দেয়। ব্যয়বহুল বা জটিল মেরামতের ক্ষেত্রে একাধিক দোকান থেকে হিসাব নিয়ে তুলনা করাও ভালো। গাড়ির সমস্যা শনাক্ত করার জন্য আলাদা কোনো ফি আছে কি না, সেটিও আগে জেনে নিন।

 

নিউইয়র্কে গাড়ির মালিকদের জন্য লিখিত হিসাব এবং অনুমতির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলসের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহক চাইলে মেরামতের দোকানকে খরচের হিসাব দিতে হয়। অনুমোদিত হিসাবের চেয়ে বেশি খরচ করতে হলে অতিরিক্ত কাজের জন্য গ্রাহকের অনুমতি প্রয়োজন। তাই মুখের কথায় কাজ শুরু না করে লিখিত কাগজে মেরামতের ধরন ও সম্ভাব্য খরচ পরিষ্কার করে নেওয়া নিরাপদ।

 

তৃতীয়ত, গাড়িতে কোন ধরনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে তা জেনে নিন। প্রস্তুতকারকের মূল যন্ত্রাংশ, বিকল্প প্রস্তুতকারকের যন্ত্রাংশ, পুনর্নির্মিত যন্ত্রাংশ এবং ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দামও এক নয়। সব ক্ষেত্রে সবচেয়ে দামি যন্ত্রাংশই প্রয়োজনীয়, এমন নয়। আবার গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক বা নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে সস্তা বিকল্প নেওয়ার আগে এর মান, গাড়ির সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং গ্যারান্টি সম্পর্কে জানতে হবে। সম্ভব হলে হিসাবের কাগজে যন্ত্রাংশের নাম ও নম্বর লিখিয়ে রাখুন।

 

চতুর্থত, শ্রমের ঘণ্টাপ্রতি খরচ এবং গাড়ির সমস্যা শনাক্ত করার ফি আগে জেনে নিন। কোনো দোকান ঘণ্টা হিসেবে শ্রমের খরচ নেয়, আবার কোনো কাজের জন্য নির্ধারিত হারে খরচ নেয়। একইভাবে গাড়ির সমস্যা শনাক্ত করার জন্য আলাদা ফি থাকতে পারে। মেরামতের কাজ করালে সেই ফি মোট বিল থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না, সেটিও আগে জেনে নেওয়া উচিত। কাজ শুরুর আগেই দোকানটি কীভাবে শ্রমের খরচ হিসাব করে, তা পরিষ্কার করে নিন।

 

পঞ্চমত, পুরনো যন্ত্রাংশের বিষয়ে আগে থেকেই কথা বলুন। বদলে দেওয়া যন্ত্রাংশ দেখতে বা ফেরত নিতে চাইলে কাজ শুরুর আগেই দোকানকে জানানো ভালো। নিউইয়র্কে গ্রাহক আগে লিখিতভাবে অনুরোধ করলে বদলে দেওয়া কিছু যন্ত্রাংশ ফেরত দেওয়ার নিয়ম রয়েছে, যদিও এর কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে। কাজ শেষে বিস্তারিত বিল নিন। সেখানে কোন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে এবং শ্রমের জন্য কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা দেখে নিন।

 

ষষ্ঠত, গ্যারান্টির বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝে নিন। শুধু গ্যারান্টি আছে শুনে কাজ করাবেন না। কোন যন্ত্রাংশের ওপর গ্যারান্টি রয়েছে, কতদিন বা কত মাইল পর্যন্ত তা কার্যকর, যন্ত্রাংশ ও শ্রম দুটোই এর আওতায় রয়েছে কি না এবং কোনো বিশেষ শর্ত আছে কি না, লিখিতভাবে জেনে নিন। গাড়ির মেরামতের সঙ্গে কোনো সেবা চুক্তি থাকলে কোন কাজ বা যন্ত্রাংশ তার আওতায় পড়বে, সেটিও আগে দেখে নেওয়া উচিত।

 

সপ্তমত, মেরামতের দোকানের সুনাম ও মেকানিকের যোগ্যতা যাচাই করুন। পরিচিত মানুষ বা বিশ্বস্ত কমিউনিটির কাছ থেকে সুপারিশ নেওয়া যেতে পারে। অনলাইন পর্যালোচনা দেখার সময় শুধু সামগ্রিক নম্বর নয়, সাম্প্রতিক অভিযোগ এবং গ্রাহকদের বিস্তারিত অভিজ্ঞতাও পড়ুন। এএসই সনদ থাকা মেকানিকদের নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার মানদণ্ড পূরণের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে শুধু সনদ দেখেই কোনো দোকানকে ভালো বা বিশ্বস্ত ধরে নেওয়া উচিত নয়।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বড় ধরনের গাড়ি মেরামতের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। একই সমস্যার জন্য সম্ভব হলে একাধিক দোকান থেকে লিখিত হিসাব নিন এবং কোন কাজটি জরুরি, আর কোনটি পরে করা যেতে পারে, তা মেকানিককে জিজ্ঞেস করুন। গাড়ি মেরামতের সব হিসাব, অনুমতিপত্র এবং যোগাযোগের রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। এতে ভুল বিল বা অনুমতি ছাড়া অতিরিক্ত কাজ নিয়ে কোনো সমস্যা হলে নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারবেন।

 

নিউইয়র্কে নিবন্ধিত কোনো গাড়ি মেরামতের দোকান নিয়ে অভিযোগ থাকলে গ্রাহক স্টেট ডিএমভির মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ পান। তবে গাড়ি মেরামতসংক্রান্ত আইন ও গ্রাহকের অধিকার অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই বড় ধরনের মেরামতের আগে নিজের অঙ্গরাজ্যের নিয়ম জেনে নেওয়া এবং লিখিত হিসাব ও অনুমতি ছাড়া বড় অঙ্কের কাজে সম্মতি না দেওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু বিদেশি নাগরিকের ওপর নতুন ভিসা বিধিনিষেধ
দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের জন্য ভিসায় বড় পরিবর্তন আনল ট্রাম্প প্রশাসন

দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু বিদেশি নাগরিকের জন্য নতুন ভিসা বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভূমি নীতি ও ব র্ণভিত্তিক ব ৈ ষ ম্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্ষতিপূরণ ছাড়াই জমি দখল, ব র্ণভিত্তিক বৈ ষ ম্য অথবা সংখ্যালঘু জাতিগত বা ব র্ণগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে স হিং তায় উসকানি দেওয়ার মতো আইন বা নীতির জন্য দায়ী কিংবা এতে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের ওপর এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে। তবে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার সব নাগরিকের ওপর ব্ল্যাঙ্কেট ভিসা নিষেধাজ্ঞা নয়। বরং নির্দিষ্ট নীতি বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে মার্কিন প্রশাসন যাদের মনে করছে, তাদের লক্ষ্য করেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রুবিও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারকে আগে থেকেই এসব বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, দেশটির সরকার সেসব উদ্বেগ যথাযথভাবে মোকাবিলা করেনি। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সরকারের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের টানাপোড়েন অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় মার্কিন সহায়তা কমিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য আফ্রিকানারদের পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছেন। ট্রাম্প এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে আফ্রিকানারদের বিরুদ্ধে বৈ ষ ম্য ও নি পী ড় নের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দেশটিতে ‘শ্বেতাঙ্গ গ ণ হ ত্যা’ চলছে বলেও দাবি করেছেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও রামাফোসার বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা যায়। বৈঠকে ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের বিরুদ্ধে স হিং সা তায় প্রমাণ হিসেবে কিছু ভিডিও ও ছবি দেখান। জবাবে রামাফোসা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার শ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের নি পী ড় ন করে—এমন কোনো নীতি দেশটির নেই। রামাফোসা আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় অ প রা ধ ও হ ত্যা কা ণ্ডের ঘটনা রয়েছে, তবে এর শিকার শুধু শ্বেতাঙ্গরা নন; কৃষ্ণাঙ্গরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভুক্তভোগী। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের এই অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৫:৪৫
বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পিছু নেওয়া

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পিছু নেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রে গু/লিতে নি/হত ভারতীয় নারী

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ছেন হাজারো আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ছেন হাজারো আমেরিকান, বাড়ছে প্রবাসী হওয়ার প্রবণতা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো চিকিৎসকদের নজিরবিহীন ধর্মঘট

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো চিকিৎসকদের নজিরবিহীন ধর্মঘট, রোগীসেবায় প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

ডে-কেয়ারে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল জালিয়াতি!
ডে-কেয়ারে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল জালিয়াতি! গ্রেপ্তার ১২ অভিবাসী

ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো এলাকায় কম আয়ের পরিবারের শিশুদের ডে-কেয়ার খরচে সহায়তার জন্য দেওয়া সরকারি অর্থ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি জালিয়াতির অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা লাইসেন্সধারী বাড়িভিত্তিক শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনার দাবি করে শিশুদের উপস্থিতি নিয়ে ভুয়া তথ্য জমা দিয়ে সরকারি ভর্তুকির অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে ২৫০ জনের বেশি ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। সান দিয়েগোর বিভিন্ন এলাকায় শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের দাবি করা ১২টি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে ১২ অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিক হওয়া ব্যক্তি এবং বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাও রয়েছেন। বিচার বিভাগের নথিতে অভিযুক্তদের আদি দেশ হিসেবে সিরিয়া, সোমালিয়া, সুদান, আফগানিস্তান ও ইরাকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে সরকারি নথিতে অভিযুক্তদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থার পাশাপাশি আদি দেশের তথ্যও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো মূলত সরকারি শিশু পরিচর্যা ভর্তুকির অর্থ নিয়ে কথিত জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব অভিযোগ এখন আদালতে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়িভিত্তিক শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনার লাইসেন্স নেন এবং শিশু পরিচর্যা সহযোগী সংস্থা ও ওয়াইএমসিএর মাধ্যমে পরিচালিত সরকারি ভর্তুকি কর্মসূচিতে নিবন্ধিত হন। এসব কর্মসূচির আওতায় যোগ্য কম আয়ের পরিবারগুলো শিশুদের জন্য অনুমোদিত ডে-কেয়ার সেবা নিতে পারে। এরপর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সেবা প্রদানকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হয়। এই অর্থ পাওয়ার জন্য ডে-কেয়ার পরিচালকদের প্রতি মাসে কোন শিশু কোন দিন এবং কতক্ষণ তাদের তত্ত্বাবধানে ছিল, তার সঠিক উপস্থিতির হিসাব জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।   ফেডারেল কৌঁসুলিদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা শিশুদের উপস্থিতির হিসাব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য জমা দেন এবং সেগুলো সঠিক বলে শপথের আওতায় ঘোষণা করেন। তদন্তকারীরা নজরদারি ভিডিও, আর্থিক লেনদেন এবং সীমান্ত পারাপারের তথ্যসহ বিভিন্ন নথি যাচাই করে এসব হিসাবের সঙ্গে অসঙ্গতি পান।   বিচার বিভাগের দেওয়া একটি উদাহরণে বলা হয়েছে, আবদুররহমান আলাওয়াদ ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে যথাক্রমে ২৩ ও ২৫ শিশুকে নিয়মিত সেবা দেওয়ার দাবি করেছিলেন। কিন্তু ৫৭ দিনের নজরদারি ভিডিওতে তার ডে-কেয়ারে শিশু প্রবেশ বা বের হওয়ার ঘটনা মাত্র একদিন দেখা যায়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ওই দিনই একজন অঙ্গরাজ্য পরিদর্শক আকস্মিক পরিদর্শনে সেখানে গিয়েছিলেন।   আরেক অভিযুক্ত তুরকিয়া মামদুহ আলাওয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, সীমান্ত পারাপারের তথ্য অনুযায়ী তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যান এবং প্রায় ৩০ দিন পর ফিরে আসেন। কিন্তু বিদেশে অবস্থানের সময়ও তিনি ডে-কেয়ার সেবা দেওয়ার উপস্থিতির হিসাব জমা দিয়েছেন বলে কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেছেন। এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিশু পরিচর্যা সহযোগী সংস্থা ও ওয়াইএমসিএ থেকে তার হিসাবে মোট ১৪ হাজার ৯৭০ ডলারের আটটি অর্থ জমা হয় বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন অভিযুক্ত কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর ধরে সরকারি কর্মসূচি থেকে কয়েক লাখ ডলার করে পেয়েছেন। ব্যক্তিভেদে কথিত অর্থপ্রাপ্তির পরিমাণ ৫ লাখ ৩৮ হাজার থেকে ১২ লাখ ডলারের মধ্যে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আবদুররহমান আলাওয়াদ ২০২৫ সালেই সান দিয়েগো কাউন্টি, শিশু পরিচর্যা সহযোগী সংস্থা ও ওয়াইএমসিএ থেকে ৩ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন অভিযুক্তের ক্ষেত্রে মোট অর্থপ্রাপ্তির পরিমাণ ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে।   মামলাটির তদন্তে ফেডারেল ও স্থানীয় একাধিক সংস্থা যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসও রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সুবিধা কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে মার্কিন বিচার বিভাগের নতুন জাতীয় জালিয়াতি দমন বিভাগ গঠনের পর এটি তাদের প্রথম দিকের বড় ধরনের পদক্ষেপগুলোর একটি।   অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত বৈদ্যুতিক যোগাযোগের মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ বৈধ করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইনে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত ১২ অভিযুক্তকেই আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে বলে ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১:২১
বাস দুর্ঘটনার নিউজ করতে গিয়ে এনবিসি সংবাদমাধ্যমের  হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

বাস দুর্ঘটনার নিউজ করতে গিয়ে এনবিসি সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৩

ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ

এনার্জি অ্যাফোর্ডেবিলিটি প্রোগ্রামের আওতায় আয়ভেদে ইউটিলিটি বিলে ছাড় দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ২৫ লাখ পরিবারের জন্য ইউটিলিটি বিলে ৫০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ

থিও সাবোর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা-মা মিহাইল ও আনকা সাবো গ্রেপ্তার হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
৫ বছরের সন্তানকে গাড়িতে রেখেই পার্টিতে বাবা-মা, অতিরিক্ত গরমে শিশুর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের পিওরিয়ায় পরিবারের বাড়ির বাইরে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে গাড়িতে কয়েক ঘণ্টা থাকার পর ৫ বছরের থিও সাবোর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সময় বাড়িতে প্রায় ৫০ জন অতিথি নিয়ে পারিবারিক আয়োজন চলছিল। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা মিহাইল সাবো ও আনকা সাবোকে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে ১৩ সেপ্টেম্বর, রোববার। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা গির্জায় অন্য এক সন্তানের বাপ্তিস্ম অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দুপুর ১টার দিকে পিওরিয়ার বাড়িতে ফেরেন। এরপর বাড়িতে পারিবারিক আয়োজন চলতে থাকে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন, থিওকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।   পরে শিশুটির মা আনকা সাবো বাড়ির বাইরে থাকা পারিবারিক গাড়ির ভেতর থিওকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের সদস্যরা তাকে গাড়ি থেকে বের করে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বুকে চাপ দিয়ে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালুর চেষ্টা করেন। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।   ঘটনার দিন পিওরিয়া এলাকায় তাপমাত্রা ১০৫ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি উঠেছিল। স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ফিনিক্স এলাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট, যা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।   শিশুটিকে গাড়িতে কীভাবে এতক্ষণ রেখে দেওয়া হলো, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কে শিশুটিকে গাড়ি থেকে বের করে আনবেন, তা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল।   আদালতে পরিবারের আইনজীবী লিয়া ডডের বক্তব্য অনুযায়ী, থিওকে গাড়ি থেকে বের করে আনার দায়িত্ব প্রথমে বাবার ওপর থাকার কথা ছিল। পরে মিহাইল সাবো তাঁদের ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে থিওকে গাড়ি থেকে বের করে আনতে বলেছিলেন বলে আইনজীবী দাবি করেন। তবে আদালতে ওই কিশোর জানায়, তাকে এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে তার মনে নেই।   এই বক্তব্যের কারণে ঘটনার দায়িত্ব কার ওপর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটির অনুপস্থিতি বুঝতে পারেন। এরপর খোঁজাখুঁজির সময় গাড়ির ভেতর তাকে পাওয়া যায়।   থিওর মৃত্যুর পর তাঁর বাবা মিহাইল ও মা আনকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ করেনি এবং মামলার কিছু নথি আদালতের নির্দেশে গোপন রাখা হয়েছে।   সোমবার মারিকোপা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে পৃথক শুনানিতে হাজির হন থিওর বাবা-মা। শুনানির সময় আনকা সাবো কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চান। তাঁর আইনজীবী আদালতে বলেন, শিশুটিকে গাড়িতে পাওয়া যাওয়ার পর আনকাই জরুরি নম্বরে ফোন করেন, জীবন রক্ষার চেষ্টা করেন এবং তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেন।   আইনজীবী লিয়া ডড আরও বলেন, ঘটনাটি একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির ফল। তিনি অভিযোগ করেন, অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এ ঘটনায় প্রযোজ্য নয়। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুটি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়িতে ছিল এবং ওই পুরো সময় বাবা-মা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতেন না।   আদালত মিহাইল ও আনকা সাবোর প্রত্যেকের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করেছেন। তাঁদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের অন্য চার সন্তানের সঙ্গে তত্ত্বাবধানে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ওই চার সন্তানের বয়স ৯, ১৪, ১৫ ও ১৮ বছর।   আদালতের তথ্য অনুযায়ী, দম্পতির বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তাঁরা প্রায় ১৯ বছর ধরে বিবাহিত এবং ২০১১ সাল থেকে অ্যারিজোনায় বসবাস করছেন বলে তাঁদের আইনজীবী জানিয়েছেন। পরিবারের প্রতিবেশীরাও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দম্পতিকে ভালো মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুটির ক্ষতি করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন না বলে জানিয়েছেন।   অ্যারিজোনায় প্রচণ্ড গরমের কারণে গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা বাইরে থাকা তাপমাত্রার তুলনায় দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিস্থিতি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। পিওরিয়া পুলিশের কর্মকর্তা উইলিয়াম কেনেডি পরিবারগুলোর প্রতি গাড়ি থেকে নামার আগে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও পোষা প্রাণী কেউ ভেতরে রয়ে গেছে কি না তা নিশ্চিতভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।   শিশু নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা কিডস অ্যান্ড কার সেফটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সাল থেকে অ্যারিজোনায় গরম গাড়িতে অন্তত ৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটি শিশুদের গাড়িতে রেখে না যাওয়ার পাশাপাশি গাড়ি থেকে নামার পর শিশুর অবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়।   থিওর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত এখনো চলছে। মিহাইল ও আনকা সাবো আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মারিকোপা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে আবার হাজির হবেন। পরবর্তী শুনানিতে মামলার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   সূত্র: এজেডফ্যামিলি, কেজেডজেড, পিওরিয়া পুলিশ বিভাগ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ২২:০
ইলিনয়ের মনমাউথে স্মিথফিল্ড ফুডসের মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা। ছবি: সংগৃহীত

সহকর্মীর মৃত্যুর পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ, ক্ষোভে কারখানা ছাড়লেন শতাধিক শ্রমিক

পাখির ডাক নকল করে পরিচিতি পাওয়া ১২ বছরের স্যামুয়েল হেন্ডারসন। ছবি: সংগৃহীত

১০০টির বেশি পাখির ডাক নকল করতে পারে ১২ বছরের স্যামুয়েল, তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ নেট দুনিয়া

নিউইয়র্কের স্প্রিং স্ট্রিট পাতালরেল স্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত মালাইকা চিত্রে ও নাভাম কাউল। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বন্ধুকে সাহায্য করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণীসহ দুজনের মৃত্যু

0 Comments