সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই বন্দি রাখার পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই বন্দি রাখার পক্ষে আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের মুক্তির জন্য বন্ড হিয়ারিং দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই বলে রায় দিয়েছেন একটি ফেডারেল আপিল আদালত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিউ অরলিন্সভিত্তিক ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের ১৭ বিচারপতির মধ্যে ১০ জন এই সিদ্ধান্তের পক্ষে এবং সাতজন বিপক্ষে মত দেন। রায়টি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইনি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে ইমিগ্রেশন হেফাজতে থাকা কিছু অভিবাসীর বন্ডের মাধ্যমে মুক্তি চাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত হতে পারে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স -এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া এবং ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ায় আটক থাকা সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের জন্য সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত বন্ড হিয়ারিংয়ের অধিকার নিশ্চিত করে না। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া উচিত কি না, তা নির্ধারণের জন্য প্রত্যেক ক্ষেত্রে আলাদা শুনানি আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই বলে আদালত মনে করেন।   রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন মামলার নিষ্পত্তি চলাকালে বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই আটক রাখার আইনি ভিত্তি পেয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে আটক সব অভিবাসীর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে যাঁরা বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন, পরে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে কিংবা অন্য ধরনের ইমিগ্রেশন মামলায় আটক হয়েছেন, তাঁদের আইনি পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। একইভাবে বন্ড হিয়ারিং না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে ডিপোর্টেশনের চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হয়েছে।   এই মামলার সূত্রপাত টেক্সাসে আটক তিন অভিবাসীকে কেন্দ্র করে। তাঁরা হলেন মেক্সিকোর নাগরিক ইগনাসিও সোসনাভা রদ্রিগেজ ও আলেহান্দ্রো ভিয়েগাস অ্যাঞ্জেল এবং হন্ডুরাসের নাগরিক মিগেল অ্যাঞ্জেল গোমেজ আলভারাদো। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁরা প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন ২২ বছরের বেশি সময় এবং অন্য দুজন ২০১১ ও ২০১২ সাল থেকে দেশটিতে ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনের সন্তানও মার্কিন নাগরিক।   ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ট্রাফিকসংক্রান্ত ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন ওই তিন ব্যক্তি। পরে তাঁদের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর হেফাজতে দেওয়া হয়। ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া চলাকালে বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ না পাওয়ায় তাঁরা ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা না করে দীর্ঘ সময় আটক রাখা সংবিধানের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করে।   প্রথমে নিম্ন আদালত তিন অভিবাসীর পক্ষে রায় দেন। বিচারকেরা সিদ্ধান্ত দেন, বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ না দিয়ে তাঁদের আটক রাখা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। পরে জুলাই মাসে ফিফথ সার্কিটের তিন বিচারপতির একটি প্যানেলও অভিবাসীদের পক্ষে অবস্থান নেয়। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ দিতে হবে। শুনানিতে বিচারক বিবেচনা করবেন, আটক ব্যক্তি সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কি না এবং মুক্তি পেলে আদালতে হাজির না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না।   তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া ব্যক্তিদের ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া চলাকালে বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখা যায়। পরে ফিফথ সার্কিটের পূর্ণাঙ্গ বিচারক প্যানেল মামলাটি পুনরায় শুনানির সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে শুক্রবার আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে নতুন রায় দেওয়া হয়। এর ফলে জুলাই মাসে নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে বন্ড হিয়ারিংয়ের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও বাতিল হয়েছে।   সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে রায় লেখেন ট্রাম্পের মনোনীত বিচারক কোরি উইলসন। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় তাঁদের আটক ও মুক্তির বিষয়ে কংগ্রেসের নির্ধারিত অভিবাসন আইনের বিধান প্রযোজ্য। তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিরা চাইলে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে শারীরিক আটকাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তবে এই বক্তব্য আদালতের আইনি যুক্তির অংশ। বাস্তবে প্রত্যেক আটক অভিবাসীর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে দেশত্যাগ করা সম্ভব কি না, সেটি পৃথক প্রশ্ন।   অন্যদিকে সাতজন বিচারক এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তাঁদের একজন বিচারক ডানা ডগলাস সতর্ক করে বলেন, নির্বাহী বিভাগের আটক রাখার ক্ষমতার ওপর যথাযথ বিচারিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে গুরুতর সাংবিধানিক উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। আরেক বিচারক লেসলি সাউথউইক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিদের সাংবিধানিক সুরক্ষা সীমিত হওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। ভিন্নমত পোষণকারী বিচারকদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায়সংগত আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্নকে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক করে দেয় না।   মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের জন্য বড় আইনি সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, ১৯৯৬ সালের অভিবাসন আইনে বাধ্যতামূলক আটকের যে বিধান রয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্ত তার প্রয়োগকে সমর্থন করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে, ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা নির্দিষ্ট অভিবাসীদের বন্ডে মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে আটক রাখা আইনসম্মত।   তবে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো রায়ের সমালোচনা করেছে। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন প্রজেক্টের আইনজীবী এলি নর্টন বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত শুনানি ছাড়াই আরও বেশি মানুষ দীর্ঘ সময় আটক থাকার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাঁর মতে, এর প্রভাব শুধু আটক ব্যক্তিদের ওপর নয়, তাঁদের পরিবার ও কমিউনিটির ওপরও পড়বে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলও রায়টিকে সাংবিধানিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে।   রায়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর ভৌগোলিক এখতিয়ার। ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের অধীনে রয়েছে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপি। ফলে এই তিন অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতে রায়টির সরাসরি প্রভাব রয়েছে। টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক অভিবাসন বন্দিশালা অবস্থিত। অন্য অঙ্গরাজ্য থেকে আটক ব্যক্তিদেরও এসব কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। তাই রায়টির প্রভাব শুধু ওই তিন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট চলতি অক্টোবরেই বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন ডিটেনশনসংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে মূলত ফেডারেল অভিবাসন আইনের অধীনে বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ থাকা উচিত কি না, তা বিবেচনা করা হবে। তবে ফিফথ সার্কিটের শুক্রবারের রায়ে যে সাংবিধানিক প্রশ্নের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের গৃহীত মামলাটি সরাসরি সেই একই প্রশ্নের ওপর নয়। ফলে সর্বোচ্চ আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য আদালতের রায়ের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের জন্য এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং বর্তমানে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন, তাঁদের বন্ড হিয়ারিং পাওয়ার সুযোগ সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ার ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করতে পারে। তবে সব গ্রিন কার্ডধারী, ভিসাধারী, অ্যাসাইলাম আবেদনকারী কিংবা আটক অভিবাসীর বন্ড পাওয়ার অধিকার একসঙ্গে বাতিল হয়েছে, এমন দাবি সঠিক নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির প্রবেশের ইতিহাস, বর্তমান ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং মামলার ধরন গুরুত্বপূর্ণ।   এ ছাড়া বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ সীমিত হওয়া মানেই সব ধরনের আইনি প্রতিকার বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আটক ব্যক্তিরা ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাসের আবেদনসহ অন্যান্য আইনগত পথ অনুসরণ করতে পারেন। তবে কোন প্রতিকার পাওয়া যাবে, তা মামলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তাই আইসিইর হেফাজতে থাকা ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের জন্য অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার অবস্থান যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   সব মিলিয়ে ফিফথ সার্কিটের নতুন রায় ট্রাম্প প্রশাসনের বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন ডিটেনশন নীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আগের ৯০ দিনের মধ্যে বন্ড হিয়ারিং দেওয়ার নির্দেশ বাতিল হওয়ায় টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের মুক্তির আবেদন আরও কঠিন হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সব অভিবাসীর বন্ড হিয়ারিং বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। সুপ্রিম কোর্টে চলমান আইনি প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতের আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর এই নীতির পরবর্তী অবস্থান নির্ভর করবে।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উডল্যান্ড শহরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের (আইসিই) তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আইসিই আতঙ্কে স্কুলে সন্তান পাঠাতেও ভয়, যুক্তরাষ্ট্রের এক শহরে উদ্বেগে অভিবাসী পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের উডল্যান্ড শহরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের তৎপরতা ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় কিছু পরিবার ঘর থেকে বের হওয়া, সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে। বিষয়টি বিশেষ করে অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রভাব ফেলেছে।  স্থানীয় একটি বেকারির মালিক মারিয়া ওলমেদো জানান, অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগের কারণে তাঁর ব্যবসায় ক্রেতা কমে গেছে। তিনি শুধু ব্যবসা সামলাচ্ছেন না; যারা বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন, তাঁদের জন্য তথ্য ও সহায়তার ব্যবস্থাও করছেন। কিছু মায়ের সন্তানদের স্কুল থেকে নিয়ে আসতেও সাহায্য করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্বেগ আরও বেড়েছে একটি গাড়ি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর এক আইসিই কর্মকর্তা চালিত গাড়ি উডল্যান্ডের এক বাসিন্দাকে ধাক্কা দেয়। ওই ব্যক্তি গাড়িটির ভিডিও ধারণ করছিলেন। ঘটনাটি তদন্ত করছে উডল্যান্ড পুলিশ বিভাগ। পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন দিকের ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করে বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব দিক সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।    স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষও পরিবারগুলোর উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে আশ্বস্ত করেছে যে, অভিবাসন-স্থিতি নির্বিশেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। অভিভাবকদের মধ্যে কেউ কেউ সন্তানদের স্কুলে পাঠানো এবং স্কুলের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন। অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে পরিবারগুলোর জন্য নির্ভরযোগ্য আইনি তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। আইসিই কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিস্থিতিতে কী অধিকার প্রযোজ্য, তা ব্যক্তির পরিস্থিতি ও আইনের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবের বদলে বিশ্বস্ত অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত সহায়তা সংস্থার পরামর্শ নেওয়া উচিত।   এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণ করিয়ে দেয়—স্থানীয় স্কুলের বার্তা, শহর কর্তৃপক্ষের ঘোষণা এবং জরুরি যোগাযোগের তথ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। তবে উডল্যান্ডের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের সব শহরের পরিস্থিতি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না; অভিবাসন অভিযান ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের লারেডোর অভিবাসন আটককেন্দ্রে মারা গেছেন ডালাসে দীর্ঘদিন বসবাস করা এমিলিয়ানো আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
টেক্সাসের অভিবাসন কেন্দ্রে ডালাসের বাসিন্দার মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ পরিবারের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লারেডো শহরের একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে মারা গেছেন ডালাসে কয়েক দশক ধরে বসবাস করা ৫৬ বছর বয়সী এমিলিয়ানো আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াস। গত ১৭ অক্টোবর সকালে রিও গ্র্যান্ডে প্রসেসিং সেন্টারে তাঁকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর মৃত্যু কী কারণে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার। একই সঙ্গে আটক অবস্থায় তাঁর চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটের দিকে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় কর্মীরা আন্দ্রাদেকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। প্রায় ২০ মিনিট পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ওয়েব কাউন্টির চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয়ে তাঁর ময়নাতদন্ত চলছে।   আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াসের পরিবার বলছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডালাসে বসবাস করতেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর মেয়ে এস্তেফানি আন্দ্রাদের ভাষ্য, বাবার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগ ছিল। আটক হওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধও ছিল, কিন্তু আটককেন্দ্রের কর্মীরা তাঁকে সেগুলো দেননি বলে পরিবারের অভিযোগ। মেয়ের দাবি, অসুস্থ বোধ করা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এবং বুকে চাপ অনুভব করার কথা জানালেও তাঁর বাবা যথাযথ সাড়া পাননি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।   আইসিই জানিয়েছে, গত ২৬ জুন মেক্সিকো থেকে টেক্সাসে ফেরার সময় লারেডো সীমান্তে তাঁকে আটক করা হয়। সংস্থাটির দাবি, ২০০৪ সালে চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তারের তথ্য অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদনে প্রকাশ না করায় তাঁর বৈধ অভিবাসন মর্যাদা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ মনে করে। তবে ওই ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন কি না, তা আইসিইর প্রকাশিত বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়নি। সংস্থাটি আরও বলেছে, তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কার-সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া চলছিল এবং আটক অবস্থায় তিনি যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছিলেন। তাঁর মেয়ে অবশ্য দাবি করেছেন, আবেদনের সময় বাবার অতীতের গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছিল এবং এরপরও তাঁর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি অনুমোদন করা হয়েছিল।   ঘটনাটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহে নেমেছেন টেক্সাসের লারেডো এলাকার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হেনরি কুয়েলার। তিনি ১৮ অক্টোবর আটককেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসাসামগ্রী দেখেছেন বলে জানান। তবে আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াস ঠিক কী ধরনের চিকিৎসা পেয়েছিলেন, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। কুয়েলার বলেন, একদিকে পরিবারের বক্তব্য, অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের বিবরণ, ফলে প্রকৃত ঘটনা জানতে আরও তথ্য প্রয়োজন। তিনি এ বিষয়ে নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি চেয়েছেন।   আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াসের পরিবার জানিয়েছে, তাঁরা বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাননি। তাঁর মেয়ে বলেছেন, বাবার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। ডালাসে তিনি অ্যাপার্টমেন্ট ও টাউনহাউস রং করার কাজ করতেন এবং তাঁর তিন সন্তানই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছেন। পরিবার বলছে, মেক্সিকোতে একটি বাড়ি নির্মাণের কাজ শেষ করে একসময় সেখানে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। এখন মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং আটক অবস্থায় চিকিৎসা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার।   সূত্র: ফক্স ৪ নিউজ, দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
আইসিইর অভিবাসন কেন্দ্রে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে বিক্ষোভ
আইসিইর হাতে অন্যায়ভাবে আ টক হলে মার্কিন নাগরিকেরা পেতে পারেন অন্তত ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর (ICE) কর্মকর্তারা কোনো মার্কিন নাগরিককে অন্যায়ভাবে আ টক বা হেফাজতে রাখলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অন্তত ৫ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব উঠেছে কংগ্রেসে। নতুন একটি বিলে বলা হয়েছে, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ৫ লাখ ডলারের পাশাপাশি হেফাজতে থাকার অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন; কার্যকর হয়নি।   নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজ গত ১৫ অক্টোবর ‘জাস্টিস ফর সিটিজেনস রংফুলি ডিটেইন্ড বাই আইসিই অ্যাক্ট’ নামের বিলটি উত্থাপন করেন। নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি বনি ওয়াটসন কোলম্যান এতে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন। বিলটি উত্থাপনের পর প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত পাস হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি বা তার পর থেকে কোনো মার্কিন নাগরিককে অভিবাসন কর্মকর্তা কিংবা অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা পরোয়ানা বা যথাযথ সন্দেহের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি কারণ ছাড়াই গ্রে প্তার বা হেফাজতে রাখলে তিনি ফেডারেল আদালতে মামলা করতে পারবেন। মামলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বিবাদী করা যাবে। বিলে বলা হয়েছে, আদালত অভিযোগকারীর পক্ষে রায় দিলে তাকে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এর সঙ্গে গ্রে প্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রথম দিনের পর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ১ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া মামলার যুক্তিসংগত আইনজীবী ফি ও অন্যান্য খরচও পরিশোধ করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিতে বা আইনি অধিকার ঘোষণা করতে পারবেন। প্রস্তাবটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অভিযুক্ত অভিবাসন কর্মকর্তারা যেন মামলায় দায় এড়াতে ‘অ্যাবসলিউট ইমিউনিটি’ বা ‘কোয়ালিফায়েড ইমিউনিটি’র মতো আইনি সুরক্ষার যুক্তি দেখাতে না পারেন, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের মামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সার্বভৌম দায়মুক্তি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অভিযোগের কারণ তৈরি হওয়ার পর পাঁচ বছরের মধ্যে মামলা করার সুযোগ থাকবে। অন্য কোনো আইনের আওতায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার থাকলে নতুন আইনের ক্ষতিপূরণ তার অতিরিক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। বিলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের অব্যবহৃত অংশের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্থায়ীভাবে বাতিল করার প্রস্তাবও রয়েছে। ফলে এটি শুধু অন্যায়ভাবে আ টক হওয়া নাগরিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়; অভিবাসন আইন প্রয়োগের অর্থায়ন নিয়েও প্রভাব ফেলতে পারে। আইসিইর আ টক নিয়ে উদ্বেগ ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় মার্কিন নাগরিকদেরও অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আ টক হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি অনুসন্ধানে ৫০৬ জন মার্কিন নাগরিককে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে হেফাজতে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ করা, কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে। শিকাগোর প্যারালিগ্যাল ও মার্কিন নাগরিক ডায়ানে ফিগুয়েরোয়া অভিযোগ করেছেন, বর্ডার প্যাট্রোলের কর্মকর্তারা তাকে জোর করে গাড়ি থেকে বের করে আনেন। ঘটনার ভিডিও সরকারের বর্ণনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিনিয়াপোলিসে চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন আরেক মার্কিন নাগরিক আলিয়া রহমান। একই শহরে আ টক হওয়া ব্র্যান্ডন সিগুয়েঞ্জা বলেছেন, হেফাজতে থাকা অবস্থায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিষয়ে তথ্য দিতে ফেডারেল কর্মকর্তারা তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। টেক্সাসের ব্রায়ান গার্সিয়া মোরালেস নিজেকে মার্কিন নাগরিক দাবি করার পরও আইসিই তাকে মেক্সিকোতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। পরে জন্মের নথি দেখিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। বিভাগের এক মুখপাত্র বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে মার্কিন নাগরিক হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রে প্তার করা হতে পারে। তার ভাষ্য, যুক্তিসংগত সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে সাময়িকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তিনি মার্কিন নাগরিক বলে নিশ্চিত হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে থাকা ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী হেফাজতে রাখা হয় বলেও দাবি করেছে বিভাগটি। ডিএইচএসের মুখপাত্র আরও বলেছেন, আইসিইর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ বা মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে কেউ যদি কার্যক্রমে বাধা দেন বা কর্মকর্তাদের ওপর হা মলা করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিভাগটির দাবি, মার্কিন নাগরিকদের গ্রে প্তার ও বহিষ্কারের অভিযোগ মিথ্যা। অন্যদিকে, বিলটির উদ্যোক্তা লেগার ফার্নান্দেজ বলেছেন, আইসিই যেন নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে দায়মুক্তি না পায়, সেটি নিশ্চিত করাই তার উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তার মতে, অন্যায়ভাবে আ টক হওয়া নাগরিকদের ন্যায়বিচার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মৃ ত্যুর ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মিনিয়াপোলিসে রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি, টেক্সাসের সাউথ পাদ্রে আইল্যান্ডে ২৩ বছর বয়সী রুবেন রে মার্টিনেজ এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪৩ বছর বয়সী কিথ পোর্টার জুনিয়র—এদের মৃ ত্যুর ঘটনায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা বা আইসিই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে আইসিইর ক্ষমতা সীমিত করার একাধিক প্রস্তাব আনা হলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেগুলোর পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন বিলটি বিচার বিভাগীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দলীয় নিয়ন্ত্রণ বদলাতে পারে। তবে বর্তমান কংগ্রেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিলটি আইনে পরিণত না হলে পরবর্তী কংগ্রেসে এটি নতুন করে উত্থাপন করতে হতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার মা ডিকারলা ও তাঁর মেয়ে আরানজা
নৌদুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যুক্তরাষ্ট্রে এসেও আইসিইর হাতে আটক ভেনেজুয়েলার মা, বিচ্ছিন্ন মেয়ে

ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার নাগরিক ডিকারলা আন্তোনেলা সুয়ারেজ ভার্গাস ও তাঁর ছোট মেয়ে আরানজা সোফিয়া কাস্তিয়ো সুয়ারেজ। সমুদ্রে প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। কিন্তু সেই বিপর্যয় থেকে বেঁচে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নতুন জীবন শুরু করলেও এখন আরেক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন মা। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আ ট ক হওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর মেয়ে রয়েছে এক আত্মীয়ের কাছে।   ৩৪ বছর বয়সী ডিকারলা ও তাঁর মেয়ে ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর নিকারাগুয়ার কর্ন আইল্যান্ডসের কাছে একটি নৌডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। কলম্বিয়ার সান আন্দ্রেস থেকে কর্ন আইল্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল নৌযানটি। দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে সেটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিকারাগুয়ার নৌবাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় জেলেদের নৌকাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করে। সব মিলিয়ে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে দুর্ঘটনায় ভেনেজুয়েলার দুই যাত্রীর মৃ ত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল। ডিকারলার বোন কিসি সুয়ারেজের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় তাঁর বোন ও ভাগনি প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা সমুদ্রে আটকে ছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, হয়তো আর বেঁচে ফেরা হবে না। ওই ঘটনায় অন্য যাত্রীদের প্রাণহানিও ঘটে। পরিবারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর আশায় তাঁরা ওই নৌযানে যাত্রা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মা-মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে টেক্সাসের ডালাসে বসবাস শুরু করেন। ডিকারলা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতেন, আর তাঁর মেয়ে আরানজা স্কুলে যেত। পরিবারের ভাষ্য, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের হাজির করেছিলেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম চলতে থাকে। তবে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি বদলে যায়। পরিবারের দাবি, সেদিন ডিকারলা নিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত সাক্ষাৎ বা চেক-ইনের জন্য গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে আ ট ক করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—আইসিই। এরপর থেকে তিনি অভিবাসন হেফাজতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ডিকারলা ২০২৪ সালের মে মাসে মেয়েকে নিয়ে এল পাসোর কাছে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন। বিভাগের এক মুখপাত্রের দাবি, সে সময় তিনি কর্মকর্তাদের কাছে অবৈধ মাদক ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে বিভাগটির বিবৃতিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কথা বলা হয়নি। পরিবারের দাবি, ডিকারলার কোনো অপরাধের রেকর্ড, ফৌজদারি অভিযোগ বা আগের গ্রেপ্তারের ঘটনা নেই। তবে তাঁর অভিবাসন মামলার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলেছে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি একজন অভিবাসন বিচারক তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেন। এরপর তাঁর আইনজীবীরা ফেডারেল আদালতে আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করেন। ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন দাখিল করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিকারলাকে লারেডো প্রসেসিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। মা-মেয়ের বিচ্ছিন্নতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে পরিবার। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র বলেছেন, আইসিইর নীতি অনুযায়ী আরানজাকে একজন আত্মীয়ের কাছে রাখা হয়েছে। বিভাগের বক্তব্য, অভিভাবকদের জিজ্ঞাসা করা হয় তাঁরা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বহিষ্কৃত হতে চান কি না। তা না হলে অভিভাবকের মনোনীত নিরাপদ ব্যক্তির কাছে শিশুকে রাখা হয়। বিভাগটির দাবি, এটি আগের প্রশাসনগুলোর অভিবাসন আইন প্রয়োগের পদ্ধতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ডিকারলার বোন কিসি জানিয়েছেন, তাঁর বোন মেয়েকে ঘিরেই জীবন সাজিয়েছিলেন। তিনি মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতেন, স্কুল শেষে বাড়ি ফিরিয়ে আনতেন, দেখাশোনা করতেন এবং সংসার চালাতে বিভিন্ন কাজ করতেন। হোটেল ও খাবার পরিবেশনসহ ডালাস এলাকার বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অ্যাক্সেল রোহাস ডিকারলার আইনি খরচ মেটাতে অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর মতে, ডিকারলার সঙ্গে যা ঘটছে, তা গভীরভাবে অন্যায্য। তিনি আশা করছেন, ডিকারলা ন্যায়সংগত আচরণ পাবেন এবং মা-মেয়ে আবার একসঙ্গে থাকতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কঠোরতার মধ্যে মা-বাবাকে আ ট ক বা বহিষ্কারের কারণে সন্তানদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু সম্ভবত তাদের কোনো অভিভাবকের আ ট ক হওয়ার অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছে। ডিকারলা ও আরানজার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা আরও গভীর, কারণ তাঁরা ইতোমধ্যে প্রাণঘাতী নৌদুর্ঘটনা থেকে বেঁচে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে মা কাজ করেছেন, মেয়ে স্কুলে পড়েছে এবং তাঁরা একসঙ্গে জীবন গড়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখন বহিষ্কারের আদেশ ও দীর্ঘ আটকাবস্থার কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। পরিবারের আশঙ্কা, আইনি প্রক্রিয়ার পরিণতি তাঁদের আবারও আলাদা করে দিতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে অভিবাসন নীতি নিয়ে ফেডারেল ও স্থানীয় বিরোধ
অভিবাসী আটক নিয়ে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে বিরোধ, আইসিইর ১৬ হাজার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অভিবাসীদের আটক ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ১৬ হাজার ৭০টি আটক অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এসব অনুরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোট ৫২ হাজার ৫০৩টি অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ডের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে বিভাগটি।   ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অপরাধের মধ্যে রয়েছে খুন, অপহরণ, যৌন অপরাধ, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, হামলা এবং অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ। তবে এসব পরিসংখ্যানে অভিযোগ ও দণ্ড—দুই ধরনের তথ্যই রয়েছে। ফলে তালিকাভুক্ত প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আইসিইর আটক অনুরোধ বা ‘ডিটেইনার’ হলো স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো একটি আবেদন। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে স্থানীয় হেফাজতে মুক্তির সময়ের পর সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে রাখার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তির দায়িত্ব নিতে পারেন। তবে এ ধরনের অনুরোধের আইনি বাধ্যবাধকতা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার সীমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে প্রত্যাখ্যাত আটক অনুরোধগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৩১টি খুন, ১৩২টি অপহরণ, ১ হাজার ১৭টি যৌন অপরাধ, ১ হাজার ৫৬১টি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনা, ১ হাজার ৬৩১টি চুরি এবং ১ হাজার ৭৭৬টি ডাকাতির অভিযোগ বা দণ্ডের তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্রসংক্রান্ত ২ হাজার ১৯৮টি অপরাধ, হামলার ৯ হাজার ৫০২টি ঘটনা এবং বিপজ্জনক মাদকসংক্রান্ত ৪ হাজার ৩২৪টি অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিভাগটির দাবি, এসব অনুরোধে সাড়া না দেওয়ার ফলে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা না পেলেও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তাঁর বক্তব্য, অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে এমন নীতির কারণে জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের দপ্তর অবশ্য এই অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। গভর্নরের মুখপাত্র আলেক্সিয়া নিজনি বলেছেন, নিউইয়র্ক কখনোই সহিংস অপরাধীদের আশ্রয়স্থল ছিল না এবং হবে না। তাঁর ভাষ্য, অঙ্গরাজ্যের কারাগারে সাজা ভোগ করছেন এমন অমার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। গভর্নরের দপ্তর আরও জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য-পরিচালিত বিভিন্ন স্থাপনা থেকে আনুমানিক ২ হাজার ব্যক্তিকে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হোকুলের দপ্তরের দাবি, অঙ্গরাজ্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করেনি; বরং কোন পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে সহযোগিতা করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। গত আগস্টে হোকুল ‘লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট’ নামে একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। আইনটি অভিবাসনসংক্রান্ত কিছু দেওয়ানি বিষয়ে অঙ্গরাজ্যজুড়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। ট্রাম্প প্রশাসন নিউইয়র্কের এ ধরনের নীতিকে ‘স্যাংচুয়ারি স্টেট’ বা অভিবাসন প্রয়োগে সীমিত সহযোগিতার অঙ্গরাজ্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই বিরোধের মধ্যে নিউইয়র্কে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে অস্কার বেলগাল নামের এক ব্যক্তির আহত হওয়ার ঘটনাও নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ব্রঙ্কসে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের দাবি, বেলগাল গাড়ি থেকে নামার নির্দেশ মানেননি এবং সরকারি দুটি গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পর কর্মকর্তাদের দিকে গাড়ি চালিয়ে এগিয়ে যান। এ সময় তার পাঁচ বছর বয়সী সন্তান গাড়ির পেছনের আসনে ছিল। বেলগালের ঘাড়ে গুলি লাগে এবং পরে তাকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে মতবিরোধ রয়েছে। সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, অপরাধে অভিযুক্ত অভিবাসীদের হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সহযোগিতা জরুরি। অন্যদিকে নিউইয়র্কের কর্মকর্তারা বলছেন, অঙ্গরাজ্য আইন মেনেই ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে এবং তাদের নীতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০
আইসিই হেফাজতে থাকার মিথ্যা দাবি করে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন সুন্দাস নকভি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
আইসিইর হাতে ২ দিন আটক থাকার দাবি, বাস্তবে হোটেলে স্পা নিচ্ছিলেন নারী, এখন ১০ লাখ ডলারের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে প্রায় ৪৩ ঘণ্টা অবৈধভাবে আটক থাকার দাবি ঘিরে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা সুন্দরস ‘সানি’ নাকভির বিরুদ্ধে এক মিলিয়ন ডলার বা ১০ লাখ ডলারের মানহানির মামলা করেছেন উইসকনসিনের ডজ কাউন্টির শেরিফ ডেল শ্মিট। শেরিফের অভিযোগ, নাকভি আটকের যে বিবরণ প্রকাশ করেছিলেন, তা সত্য নয় এবং ওই বক্তব্য তাঁর ও তাঁর দপ্তরের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন, তাই অভিযোগগুলোকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   ২০২৬ সালের মার্চে নাকভি দাবি করেছিলেন, তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরে তাঁকে ইলিনয়ের ব্রডভিউয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) একটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত উইসকনসিনের ডজ কাউন্টি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমর্থকেরা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন। ঘটনাটি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং মার্কিন নাগরিকদের আটক করার অভিযোগ ঘিরে আলোচনা তৈরি করে।   তবে ডজ কাউন্টির শেরিফ ডেল শ্মিট এসব দাবি অস্বীকার করেন। ১০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নাকভিকে ডজ কাউন্টি শেরিফের দপ্তর কখনো আটক করেনি এবং কারাগারের নথিতেও তাঁর নাম নেই। শেরিফের দপ্তর জানায়, সংশ্লিষ্ট সময়ের কারাগারের নথি, বার্তা, হোটেলের তথ্য এবং নজরদারি ভিডিও পর্যালোচনা করে তারা নাকভির বর্ণনার সঙ্গে অসংগতি পেয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই শ্মিট দাবি করেন, আটকের ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।   শেরিফের দায়ের করা মামলার নথিতে বলা হয়েছে, নাকভি ৫ মার্চ শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইলিনয়ের রোজমন্ট এলাকার হ্যাম্পটন ইন অ্যান্ড সুইটস হোটেলে ওঠেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ মার্চ ভোরে তাঁকে উইসকনসিনের বেভার ড্যাম এলাকার একটি হলিডে ইন হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। শ্মিটের দাবি, এসব তথ্য এবং অন্যান্য নথি তাঁর আটকে থাকার বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে হোটেলে অবস্থান বা যাতায়াতের তথ্য একাই পুরো ঘটনার সব দিক চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে না। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও উভয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়ার কথা।   ১০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের পূর্বাঞ্চলীয় জেলা আদালতে দায়ের করা মামলায় শ্মিট অভিযোগ করেন, নাকভি এবং তাঁর বক্তব্য প্রচারে ভূমিকা রাখা কয়েকজন ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। মামলায় কুক কাউন্টির কমিশনার ও সাবেক কংগ্রেস প্রার্থী কেভিন মরিসনের নামও রয়েছে। শেরিফের দাবি, নাকভির আটকের ঘটনা নিয়ে প্রচারিত বক্তব্য তাঁর দপ্তর সম্পর্কে জনমনে ভুল ধারণা তৈরি করেছে। তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক মিলিয়ন ডলার দাবি করেছেন। পরে মামলার সংশোধিত অভিযোগপত্রে নাকভির বোন সারাহ আফজালকেও বিবাদী হিসেবে যুক্ত করা হয় এবং অভিযোগে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।   মামলার নথি অনুযায়ী, শ্মিটের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট হোটেল ও মুঠোফোনের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়। ১৩ এপ্রিল আদালত নির্দিষ্ট কিছু তথ্য সংগ্রহের জন্য তৃতীয় পক্ষের কাছে নথি চাওয়ার অনুমতি দেয়। এই আদেশ মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের অনুমতি, নাকভির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত রায় নয়। পরবর্তী সময়ে বিবাদীপক্ষ মামলা খারিজের আবেদন করে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া আদালতের নথিতে এসব আবেদনের বিষয়ে শুনানি ও জবাব দাখিলের সময়সূচি নির্ধারণের তথ্য রয়েছে।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই সামনে আসে। নাকভির আটকের দাবি প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর সমর্থকেরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে, শেরিফের দপ্তর বলেছে, তাদের কাছে থাকা নথি ও ভিডিওর সঙ্গে ওই দাবির মিল পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক পরিসরে আলোচনা হলেও, কোনো পক্ষের বক্তব্যকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সমতুল্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।   বর্তমানে মামলার মূল প্রশ্ন হলো, নাকভির আটকের বিষয়ে প্রচারিত বক্তব্য মিথ্যা ছিল কি না এবং তা শেরিফের সুনাম ক্ষুণ্ন করার মতো মানহানিকর ছিল কি না। এ ছাড়া অন্য বিবাদীরা কীভাবে ওই বক্তব্য প্রচারে যুক্ত ছিলেন, সেটিও মামলার অংশ। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ, বিবাদীপক্ষের জবাব এবং বিচারকের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই এসব প্রশ্নের নিষ্পত্তি হবে। ফলে ঘটনাটিকে ইতিমধ্যে প্রমাণিত প্রতারণা বা সাজানো ঘটনা হিসেবে বর্ণনা না করে, শেরিফের অভিযোগ ও মামলার বর্তমান অবস্থান আলাদা করে তুলে ধরা জরুরি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে মেয়রের স্বামীকে গ্রেপ্তার করল আইসিই, মেয়রকেও জিজ্ঞাসাবাদ
টেক্সাসে মেয়রের স্বামীকে গ্রেপ্তার করল আইসিই, মেয়রকেও জিজ্ঞাসাবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ক্রিস্টাল সিটির মেয়র হোসে অ্যাঞ্জেল সেরদার স্বামী আরমান্দো গারজা লিরাকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে স্থানীয় শেরিফ অফিসের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ ঘটনায় মেয়রকেও জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ নেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় টেক্সাসের জাভালা কাউন্টি শেরিফ অফিস এবং আইসিই যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। ক্রিস্টাল সিটিতে একজন ব্যক্তি বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ছাড়া বসবাস করছেন, এমন অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযানটি চালানো হয়। ক্রিস্টাল সিটি সান আন্তোনিও শহর থেকে প্রায় ১১৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।   জাভালা কাউন্টি শেরিফ অফিসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটের দিকে শেরিফ অফিসের একজন ডেপুটি ক্রিস্টাল সিটির একটি গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের একজন ছিলেন আরমান্দো গারজা লিরা। অন্যজন ছিলেন শহরের মেয়র হোসে অ্যাঞ্জেল সেরদা।   পরিচয় শনাক্তের পর ডেপুটিরা ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শেরিফ অফিসের ভাষ্য অনুযায়ী, আইসিই তখন জানায়, আরমান্দো গারজা লিরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ছাড়া অবস্থান করছেন। এরপর তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।   গ্রেপ্তারের পর লিরাকে জাভালা কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ইমিগ্রেশন কার্যক্রমের জন্য তাঁকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে একই গাড়িতে থাকা মেয়র হোসে অ্যাঞ্জেল সেরদাকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়।   নিউজ নেশনের প্রতিবেদক আলি ব্র্যাডলি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছেন, লিরা তাঁর ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। তবে তিনি কোন দেশের নাগরিক, কী ধরনের ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ঠিক কত দিন আগে তাঁর অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তা প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট করা হয়নি।   একইভাবে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ডিপোর্টেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না, আগে কোনো ইমিগ্রেশন কোর্টের আদেশ ছিল কি না কিংবা তিনি বর্তমানে অন্য কোনো বৈধ স্ট্যাটাসের আবেদন করেছেন কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   জাভালা কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, টেক্সাসের আইন অনুযায়ী স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হয়। টেক্সাস গভর্নমেন্ট কোডের ৭৫২.০৫৩ ধারা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসন এমন কোনো নীতি গ্রহণ করতে পারে না, যা নির্দিষ্ট ধরনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে সহযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করে।   শেরিফ অফিসের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আইনগত দায়িত্বের অংশ হিসেবেই আইসিইর সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও স্টেট ও ফেডারেল আইনের আওতায় এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   তবে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে কোনো ব্যক্তির ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা সাধারণত ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় বিবেচিত হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি, পূর্ববর্তী ইমিগ্রেশন রেকর্ড এবং প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে আটক, শুনানি কিংবা ডিপোর্টেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।   এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসার গায়ে লেখা মেয়াদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের অনুমোদিত সময় সব সময় এক নয়। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আই-৯৪ রেকর্ড বা অনুমোদিত স্ট্যাটাসের শর্ত অনুযায়ী অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারিত হয়। ফলে শুধু ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে বলেই কেউ অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, এমন সিদ্ধান্ত সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়।   আরমান্দো গারজা লিরার বিষয়ে আইসিইর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁকে বৈধ স্ট্যাটাসবিহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তাঁর পূর্ণাঙ্গ ইমিগ্রেশন রেকর্ড কিংবা আদালতের নথি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগের বাইরেও তাঁর বর্তমান আইনি অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।   এদিকে ক্রিস্টাল সিটির মেয়র হোসে অ্যাঞ্জেল সেরদা ঘটনার সময় তাঁর স্বামীর সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে শেরিফ অফিস। তবে মেয়রের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির মধ্যে এই গ্রেপ্তারের খবর সামনে এসেছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটক করার কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফ অফিসের সঙ্গে আইসিইর সহযোগিতার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় রয়েছে।   টেক্সাসে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার আইনি কাঠামো আগে থেকেই রয়েছে। জাভালা কাউন্টির শেরিফ অফিস জানিয়েছে, লিরাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও সেই কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে।   তবে লিরার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সহিংস অপরাধ, প্রতারণা কিংবা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার কারণ মূলত তাঁর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসসংক্রান্ত অভিযোগ।   মেয়রের স্বামী হওয়া সত্ত্বেও আরমান্দো গারজা লিরার ক্ষেত্রে সাধারণ ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, তিনি ইমিগ্রেশন কোর্টে শুনানির সুযোগ পাবেন কি না এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কোনো আইনগত সুযোগ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ফেডারেল প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
ন্যাশভিলের ওই মাকে মে মাসে আইসিই আটক করার পর লুইজিয়ানার একটি বন্দিশালায় রাখা হয়েছিল। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ডিটেনশন ক্যাম্পে তিন মাস, অবশেষে সন্তানদের কাছে ফিরলেন অভিবাসী মা

লুইজিয়ানার একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্র (ডিটেনশন সেন্টার) থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অবশেষে নিজের দুই সন্তানের কাছে ফিরেছেন গুয়াতেমালা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী এক মা। গত ১৯ মে সকালে সন্তানদের নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে নিজ বাসা থেকে তাঁকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস পর এক প্রতিবেশীর বাসায় সন্তানদের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন ঘটে। তবে এই দীর্ঘ বিচ্ছেদে ওই মায়ের বুকের দুধ শুকিয়ে গেছে, ফলে তিনি আর তাঁর সন্তানদের স্তন্যপান করাতে পারছেন না। প্রতিশোধের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নারী জানিয়েছেন, তাঁর দুই বছর বয়সী বড় মেয়েটির ডাউন সিনড্রোম রয়েছে এবং সে ভেবেছিল তার মা তাকে চিরতরে ছেড়ে চলে গেছে। অন্যদিকে, এক বছর বয়সী ছোট শিশুটি মাকে দেখেই চিনতে পেরেছিল বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।   সন্তানদের কাছে ফিরে আসার এই আবেগঘন মুহূর্তটি ওই মায়ের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। তিনি বলেন, "আমার মনে হচ্ছিল আমি স্বপ্ন দেখছি। আমার মন আচ্ছন্ন হয়ে ছিল, কিন্তু যখনই আমি তাদের জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলাম এবং আদর করছিলাম, তখনও মনে হচ্ছিল এটা সত্যি নয়।" গত ১৪ আগস্ট বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের হস্তক্ষেপে সাউথ লুইজিয়ানা আইসিই প্রসেসিং সেন্টার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে তাঁর সঙ্গী এখনো ওকলাহোমার একটি ইমিগ্রেশন বন্দিশালায় আটক রয়েছেন।   এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের (ডিএইচএস) ইনস্পেক্টর জেনারেলের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা, সদ্য মা হওয়া এবং স্তন্যদানকারী নারীদের আটক না করার বিষয়ে আইসিই-এর নিজস্ব যে নীতিমালা রয়েছে, সংস্থাটি তা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে যে, কেবল জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বা ব্যতিক্রমী কোনো পরিস্থিতি ছাড়া এ ধরনের নারীদের আটক করা যাবে না। ওই নারীর কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও কেবল তাঁর সঙ্গীর বিরুদ্ধে থাকা পরোয়ানা তামিল করতে গিয়ে তাঁকেও আটক করা হয়। টেনেসি ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটস কোয়ালিশন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি প্রথম সারির সংগঠন এই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছে।   দেশজুড়ে অভিবাসী ও প্রজনন অধিকার কর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, আইসিই নিয়মিতভাবেই তাদের এই নীতিমালা লঙ্ঘন করছে। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে এই নিয়ম বাতিল করা হলেও ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসন তা পুনরায় বহাল করে, যা বর্তমানেও কার্যকর রয়েছে। ডিএইচএস-এর এক মুখপাত্র এই অভিযোগের সরাসরি উত্তর না দিয়ে পূর্বের দেওয়া একটি বিবৃতিই পুনরায় পাঠিয়েছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে স্তন্যদানকারী বা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের আটকের ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং আটককৃতদের যথাযথ চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই পরিবারের ওপর যে অমানবিক ও বেআইনি আঘাত হানা হয়েছে, তার মানসিক ক্ষত তাদের বছরের পর বছর বয়ে বেড়াতে হবে।   সন্তানদের কাছে ফিরে স্বস্তি পেলেও বর্তমানে চরম আর্থিক ও মানসিক অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন ওই মা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আটক থাকায় এবং নিজে গাড়ি চালাতে না পারায় তাঁর বড় মেয়ের চিকিৎসা ও থেরাপি ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে এক বন্ধুর ওপর নির্ভরশীল এই নারী বলেন, "আমার মনে হচ্ছে সব দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমি নিজেকে ফাঁদে আটকে পড়া অনুভব করছি এবং কোনো আলোর দেখা পাচ্ছি না।" তবুও ঈশ্বরের ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, "আমরা সন্তানদের একটি সুন্দর জীবন দেওয়ার আশায় কঠোর পরিশ্রম করতে এই দেশে এসেছিলাম, নিজেদের দেশে যে কষ্ট পেয়েছি তার চেয়ে আরও বেশি কষ্ট ভোগ করার জন্য নয়।"

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নিহতের ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে পরিবারের দুই মামলা
আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নিহতের ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে পরিবারের দুই মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর পরিবার কেন্দ্রীয় সরকার ও ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি দেওয়ানি মামলা করেছে। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর করা মামলাগুলোতে ক্ষতিপূরণ ও জুরি বিচারের আবেদন জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউস অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলেছে।    ৩৭ বছর বয়সী গুডকে গত ৭ জানুয়ারি তাঁর গাড়ির ভেতর গুলি করেন আইসিই এজেন্ট জনাথন রস। সে সময় মিনেসোটায় কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছিল। গুডের পরিবার মামলায় দাবি করেছে, গুলি চালানোর ঘটনায় তাঁর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং বলপ্রয়োগ ছিল অযৌক্তিক।   প্রথম মামলাটি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে। এতে গুডের মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় মামলায় রসের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোমসহ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার নাম রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ধরন নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের পথ তৈরি করেছিল।    মামলার ঘোষণা দিতে পরিবারের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে আসেন গুডের স্ত্রী বেকা গুড। রেনির ভাই ব্রেট গ্যাঙ্গার বলেন, তাঁর বোনের মৃত্যুর পর জবাবদিহির অভাব তাঁদের হতবাক করেছে। পরিবার বলছে, আদালতের মাধ্যমে তারা গুলির ঘটনার পূর্ণ জবাবদিহি চায়।    হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রশাসন মামলাগুলোর বিরুদ্ধে আদালতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে। অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আগে রসের বলপ্রয়োগকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ন্যায্য বলে সমর্থন করেছে। রসের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় এখনো কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। মিনেসোটার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গুলির ঘটনার তদন্ত করছে। 

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
ডেন্টিস্টের পথে গাড়ি থামায় আইসিই, আতঙ্কে মেয়েকে বাসায় পড়াচ্ছেন মার্কিন পরিবার
ডেন্টিস্টের পথে গাড়ি থামায় আইসিই, আতঙ্কে মেয়েকে বাসায় পড়াচ্ছেন মার্কিন পরিবার

টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে আইসিই এজেন্টদের হাতে গাড়ি থামানোর ঘটনার পর দৈনন্দিন জীবন বদলে গেছে মার্কিন নাগরিক মনিক রামিরেজের পরিবারের। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও আবার একই পরিস্থিতিতে পড়ার ভয় কাটেনি। মেয়ের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাকে স্কুলে সরাসরি পাঠানোর বদলে বাসা থেকে অনলাইনে ক্লাস করার ব্যবস্থা করেছেন রামিরেজ।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইউনিভিশনকে তিনি জানান, ঘটনার সময় তারা গাড়িতে ডেন্টিস্টের অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাচ্ছিলেন। তার ১৬ বছরের মেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। কিন্তু আইসিইর মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে মেয়েটি উদ্বেগ ও ভয়ের মধ্যে রয়েছে বলে জানান তিনি।   পরিবারের অনেকেই একই স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন বলে মেয়েকে সরাসরি ক্লাস থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কঠিন ছিল বলে উল্লেখ করেন রামিরেজ। তবে মেয়ের নিরাপত্তাবোধ ও স্বস্তিকে গুরুত্ব দিয়ে অনলাইন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।    দ্য ইনডিপেনডেন্টকে রামিরেজ জানিয়েছেন, এখন তারা জন্মসনদ সঙ্গে রাখেন। ডিএইচএসের দাবি, গাড়িটি অনিয়মিত অভিবাসীর নামে নিবন্ধিত ছিল। রামিরেজ তা অস্বীকার করেন।    ইউনিভিশনের সঙ্গে কথোপকথনে রামিরেজ জানান, পরিবারের ছোট শিশুরাও বাইরে যেতে ভয় পায়। সাধারণ পুলিশের গাড়ি দেখলেও তারা ঘরে চলে আসে বলে তার ভাষ্য। সন্তানদের সবাই যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ার পরও এমন ভয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে, বিষয়টি তাকে কষ্ট দিচ্ছে।    অভিবাসন অভিযান নিয়ে নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের একটি গবেষণাতেও মার্কিন নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের পর্যালোচিত ঘটনায় ১৫৫ জন মার্কিন নাগরিক আটক, অভিযানের লক্ষ্যবস্তু বা আইন প্রয়োগে অসদাচরণের শিকার হয়েছেন। শিশুদের মধ্যে ৩২ জন মার্কিন নাগরিক ছিল। এগুলো সংগঠনের পর্যালোচিত ঘটনার হিসাব, দেশজুড়ে সব অভিযানের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নয়।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানোর পথ খুলল সুপ্রিম কোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানোর পথ খুলল সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রে নিজ দেশের বাইরে অন্য দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নীতি আপাতত চালু রাখতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের একটি রায় স্থগিত করেছে। তবে নীতিটি বৈধ কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। আদালত ডিসেম্বরে মামলাটির শুনানি করবে।    এখানে ‘তৃতীয় দেশ’ বলতে এমন দেশ বোঝানো হচ্ছে, যেটি ফেরত পাঠানো ব্যক্তির নিজের দেশ নয় এবং যেখানে তাঁর আগে কোনো সম্পর্কও নাও থাকতে পারে। এই নীতি মূলত তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে, যাঁদের নামে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার চূড়ান্ত আদেশ রয়েছে, কিন্তু আদেশে উল্লেখিত কোনো দেশে তাঁদের পাঠানো যাচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট সব অভিবাসীকে যেকোনো দেশে পাঠানোর সাধারণ অনুমতি দেয়নি। নির্দিষ্ট এই নীতির ওপর নিম্ন আদালতের বাধা স্থগিত করেছে।    মামলার কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গন্তব্য জানিয়ে সেখানে নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কা তুলে ধরার যথাযথ সুযোগ দিতে হবে কি না। ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক ব্রায়ান মারফি নীতিটিকে বেআইনি বলে রায় দিয়েছিলেন। আপিল আদালতও তাঁর রায়ের অধিকাংশ বহাল রাখে। সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় আপাতত স্থগিত করেছে; তিন বিচারপতি স্থগিতাদেশের বিরোধিতা করেছেন।   কোন দেশে পাঠানো হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এ নীতির আওতায় মানুষকে মেক্সিকো, দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা, নিরক্ষীয় গিনি, লাইবেরিয়া ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রসহ বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সংকলিত হিসাবে, ২০২৫ সাল থেকে ২৯টি তৃতীয় দেশে ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে পাঠানো হয়েছে; তাঁদের অধিকাংশকে পাঠানো হয়েছে মেক্সিকোয়। এটি সংগঠনগুলোর হিসাব, আদালতের অনুমোদিত দেশের তালিকা নয়।   ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, যাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না, তাঁদের অপসারণে তৃতীয় দেশের ব্যবস্থা প্রয়োজন। অন্যদিকে মামলাকারীদের আইনজীবীরা বলছেন, গন্তব্য ও ঝুঁকি সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ ছাড়া কাউকে পাঠালে তিনি নিপীড়ন বা নির্যাতনের মুখে পড়তে পারেন। আদালতের মঙ্গলবারের আদেশে এই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি; ডিসেম্বরে শুনানির পর চূড়ান্ত রায় আসবে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
২০ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা, তার আগেই কেনিয়ায় বিতাড়িত নার্স
২০ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা, তার আগেই কেনিয়ায় বিতাড়িত নার্স

যুক্তরাষ্ট্রে দুই দশক ধরে বসবাসকারী এক নার্সকে স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করার অভিযোগে কেনিয়ায় বিতাড়িত করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। মৌরিন ওয়াঞ্জিরু ন্গুরে নামের এই নারী ২০০৬ সালের নভেম্বরে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন।   গত আগস্ট মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে আইসিই কার্যালয়ে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্টে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় এক মাসের বেশি সময় বন্দি রাখার পর ২২ সেপ্টেম্বর তাকে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানো হয়। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন এই নার্স সপরিবারে কানাডায় পাড়ি জমানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা খাতে তার একটি চাকরির প্রস্তাবও ছিল।   গ্রেপ্তারের পর মৌরিনকে ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা, লুইজিয়ানা এবং নিউজার্সির বিভিন্ন বন্দিশিবিরে কয়েক সপ্তাহ কাটাতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বন্দিদশায় মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি এবং একপর্যায়ে তার ফোন ও পরিচয়পত্রও হারিয়ে যায়।   যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে অবস্থান করার কারণেই তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখার অভিযোগকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে ডিএইচএস। তবে মৌরিনের মুক্তির জন্য চালু করা একটি ওয়েবসাইটে জানানো হয়, তিনি কন্টিনেন্টাল কোভিড টিমের একজন স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছরের জীবনে কখনোই ডিএইচএস-এর কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস করেননি।   ডিএইচএস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একজন ইমিগ্রেশন বিচারক ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই মৌরিনকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আইসিই বর্তমানে তাদের নিয়ম অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের নিজ উদ্যোগে দেশ ছাড়ার জন্য তিন হাজার ডলার ও বিনা মূল্যে ফ্লাইটের প্রস্তাব দিচ্ছে।   তবে মৌরিনের আইনি সহায়তা ও যাতায়াত খরচ জোগাতে একটি 'গোফান্ডমি' পেজ খোলা হয়েছিল, যেখানে ২৬ হাজার ডলারেরও বেশি অনুদান জমা পড়েছে। তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই ঘটনাকে অমানবিক আখ্যা দিয়েছেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার কনকর্ডে তাকে সমর্থন জানিয়ে একটি সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।   মৌরিনের আইনজীবী রেজিন ডুপুই নিশ্চিত করেছেন যে, তার স্বামী পিটার মাঙ্গারা মুচেন্দু এবং তাদের দুই ছোট সন্তান শুক্রবার সান ফ্রান্সিসকো থেকে কেনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সন্তানদের মানসিক নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্রুত স্ত্রীর কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পিটার।   তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান অভিবাসন নীতির কারণেই তারা কানাডায় চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু তার আগেই এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যায়। বর্তমানে এই পরিবারটি কেনিয়াতে পুনরায় একত্রিত হয়েছে এবং সেখান থেকেই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা যাচাই করে দেখছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় শহরে কমছে বাড়িভাড়া, পেছনে রয়েছে আবাসনবাজারের নানা পরিবর্তন
অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোয় বাড়িভাড়া কমছে, ডিএইচএসের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরে বাড়িভাড়া কমার পেছনে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নীতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। তবে আবাসন বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ভাড়া কমার পেছনে নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহ বৃদ্ধি ও ভাড়াটিয়ার চাহিদা কমে যাওয়ার মতো আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে।   ডিএইচএসের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও আইসিইর গ্রেপ্তার কার্যক্রমের ফলে অস্টিন, ন্যাশভিল, ফিনিক্স, সান আন্তোনিও, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি, আটলান্টা ও নিউ অরলিন্সের মতো শহরে বাড়িভাড়া কমেছে। বিভাগটি বিভিন্ন শহরের ভাড়া কমার হারও উল্লেখ করেছে। তবে এসব শতাংশ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পদ্ধতি বা নির্দিষ্ট তথ্যসূত্র প্রকাশ করেনি ডিএইচএস।   অন্যদিকে, আবাসনবাজারের বিভিন্ন তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরেই নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহ বেড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহরে গত কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক নতুন ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট বাজারে এসেছে। সরবরাহ বাড়ায় বাড়িওয়ালাদের মধ্যে ভাড়াটিয়া পাওয়ার প্রতিযোগিতাও বেড়েছে।   রিয়েল্টর ডটকমের আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বড় মেট্রো এলাকার মধ্যে ৩৭তম মাসের মতো টানা বছরওয়ারি ভিত্তিতে মাঝারি ভাড়া কমেছে। সংস্থাটি বলছে, নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভাড়ার চাহিদা তুলনামূলক দুর্বল হয়ে পড়া এই প্রবণতার অন্যতম কারণ।   ডিএইচএস যেসব শহরের কথা বলেছে, সেগুলোর কয়েকটিতে ভাড়ার পতনের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। যেমন সান আন্তোনিওতে ভাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮০ ডলার, ফিনিক্সে ৭০ ডলার এবং ন্যাশভিলে ৫০ ডলার কমেছে। তবে একই সময়ে লাস ভেগাস ও সান ডিয়েগোর মতো শহরেও ভাড়ার চাপ কমেছে, যেখানে ডিএইচএসের দাবিকৃত অভিবাসন নীতির প্রভাবকে একইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।   অর্থনীতিবিদদের আলোচনায় আরেকটি বিষয়ও উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণ খাতে অভিবাসী শ্রমিকদের অংশ উল্লেখযোগ্য। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের কারণে শ্রমিকের সংখ্যা কমে গেলে নির্মাণকাজ ধীর হয়ে যেতে পারে এবং শ্রম ব্যয় বাড়তে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও শিল্পসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন।   ডিএইচএসের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ বাড়িভাড়া কমাতে ভূমিকা রাখছে। তবে কোন শহরে কতজন ভাড়াটিয়া অভিবাসন অভিযানের কারণে বাসস্থান ছেড়েছেন এবং মোট ভাড়া কমার কতটা সরাসরি এর সঙ্গে সম্পর্কিত—সে বিষয়ে বিভাগটি নির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িভাড়া কমার বর্তমান প্রবণতায় অভিবাসন নীতির পাশাপাশি নতুন আবাসনের সরবরাহ, ভাড়াটিয়ার চাহিদা এবং স্থানীয় আবাসনবাজারের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
আইসিইবিরোধী বি ক্ষো ভে যোগ দেওয়ার পর গ্রে প্তা র হয়েছেন অস্টিনের কাউন্সিল প্রার্থী
আইসিই কর্মকর্তার গু লিতে ব্যক্তি আ হ ত, বি ক্ষো ভ প্র তি বা দে যোগ দেওয়ায় কাউন্সিল প্রার্থী গ্রে প্তা র

টেক্সাসের অস্টিনে আইসিইবিরোধী বি ক্ষো ভে অংশ নেওয়ার পর সিটি কাউন্সিল নির্বাচনের প্রার্থী মিসায়েল রামোসকে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রে প্তা র করেছে রাজ্যের জননিরাপত্তা বিভাগ। তাঁর বিরুদ্ধে দা ঙ্গায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে এক হাজার ডলারের জা মি নে তিনি ছাড়া পান।   রামোস অস্টিন সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ আসনের প্রার্থী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেইউটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর অস্টিনে আইসিইর এক কর্মকর্তার গু লিতে উইলবার গারসেস পেরেজ নামের এক ব্যক্তি আ হ ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে বি ক্ষো ভে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।   রামোসের প্রচার ব্যবস্থাপকের ভাষ্য, শনিবার সকালে কুকুর নিয়ে হাঁটার সময় তাঁকে গ্রে প্তা র করা হয়। সেদিনই তাঁকে ট্রাভিস কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয় এবং বিকেলে জা মি নে মুক্তি দেওয়া হয়।   রামোসের বিরুদ্ধে আনা অ ভি যোগটি টেক্সাসে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অ প রা ধের শ্রেণিতে পড়ে। বি ক্ষো ভে তাঁর ঠিক কোন আচরণের ভিত্তিতে অ ভি যোগ আনা হয়েছে, তা প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট নয়। তাঁর বিরুদ্ধে অ ভি যোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   রামোসের প্রচার শিবির বলছে, তিনি আইসিই কর্মকর্তার গু লির ঘটনার প্র তি বা দ জানাতে অন্যদের সঙ্গে বি ক্ষো ভে যোগ দিয়েছিলেন। গ্রে প্তা রের বিষয়ে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে কেইউটি জানিয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে আইসিই ও ডিএইচএসের অবস্থান ঘিরে নতুন করে আলোচনা
অপরাধে অভিযুক্ত নন এমন অভিবাসীদেরও আইনি হেফাজতে নেবে আইসিই, জানাল ডিএইচএস

যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধে জড়িত নন এমন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আইনি হেফাজতে নেওয়া বন্ধ বা সীমিত করার বিষয়ে আইসিইকে নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—এমন খবর অস্বীকার করেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিতভাবে অবস্থান করা কাউকেই আইনি ব্যবস্থার আওতার বাইরে রাখা হয়নি।   সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আইসিইর কর্মকর্তাদের অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এমন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আপাতত আইনি হেফাজতে না নিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের নির্দেশনা আইসিইর অভ্যন্তরে মৌখিকভাবে দেওয়া হয়েছিল এবং এটি সাময়িকও হতে পারে।   তবে ডিএইচএস এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিতভাবে অবস্থান করা যেকোনো ব্যক্তি আইসিইর অভিবাসন আইন প্রয়োগের আওতায় থাকতে পারেন। ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘কেউই তালিকার বাইরে নয়।’   এদিকে আইসিইর কৌশল পরিবর্তনের দাবি করা প্রতিবেদনে বলা হয়, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে অভিযান থেকে বিরত থাকতে বলা হতে পারে। তবে এই নির্দেশনা লিখিত নাকি মৌখিক, কিংবা এটি সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য কি না—তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   ডিএইচএসের অস্বীকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের দাবির মধ্যে পার্থক্য থাকায় আইসিইর অভ্যন্তরে কোনো সাময়িক বা সীমিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো নথি পাওয়া যায়নি, যা দেশজুড়ে আইসিইর অভিবাসন আইন প্রয়োগের নীতিতে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন নিশ্চিত করে।   ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থার নীতিতে এমন কোনো পরিবর্তন হয়নি, যার মাধ্যমে অপরাধে জড়িত নন এমন অনিবন্ধিত অভিবাসীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনি হেফাজত থেকে অব্যাহতি পাবেন।   অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ও না থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আইসিই কীভাবে অভিযান পরিচালনা করবে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও দাবি সামনে এসেছে। তবে নতুন কোনো জাতীয় নীতিগত পরিবর্তন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ডিএইচএসের প্রকাশ্য অবস্থান হলো—আইন ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা ব্যক্তিরা আইনি ব্যবস্থার আওতায় থাকতে পারেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ডালাসের কাছে অভিযানে ১২১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে আড়াই মাসের বিশেষ অভিযানে ১২১ অভিবাসী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ডালাসের উত্তরে লেক লুইসভিলকে ঘিরে গ্রীষ্মকালজুড়ে চালানো এক অভিযানে ১২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই (ICE)। সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সবারই কোনো না কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল। তাদের মধ্যে দুজনকে ভেনেজুয়েলাভিত্তিক ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইসিই।   শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইসিই জানায়, গত ২৭ জুন থেকে লেবার ডে সপ্তাহান্ত পর্যন্ত এই অভিযান চলে। ডালাসের আইসিই কার্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থা সহায়তা করে।   লেক লুইসভিল ডালাসের উত্তরে অবস্থিত একটি বড় জলাধার। গ্রীষ্মকালে এলাকাটি নৌবিহার ও বিনোদনের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। আইসিই বলেছে, অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সেখানে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা, হ্রদসংক্রান্ত বিভিন্ন তদন্তে সহায়তা করা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নৌযান নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগে বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।   আইসিইর দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অতীত রেকর্ডে হামলা, পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক আঘাতের ঘটনা, চুরি, বাড়িতে অবৈধ প্রবেশ, শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন, শিশুর সঙ্গে যৌন আচরণজনিত অপরাধ, গাড়ি ব্যবহার করে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, মদ্যপ অবস্থায় নৌযান চালানো এবং বিভিন্ন ট্রাফিক অপরাধের মতো ঘটনা রয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, ১২১ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ছিল না।   আইসিই আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের ওই গ্যাংয়ের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তাদের লেক লুইসভিলে অনুমোদনহীন নৌযানভিত্তিক পরিবহন ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে টেক্সাস পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগের একটি তদন্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।   আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে হন্ডুরাস ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ রয়েছেন। কয়েকজনের আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের রেকর্ডও ছিল বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে গ্রেপ্তার প্রত্যেক ব্যক্তির আইনি অবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   অভিযান সম্পর্কে আইসিই ডালাস ফিল্ড অফিসের পরিচালক মিগুয়েল ভারগারা বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সীমিত সরকারি সম্পদ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। তার দাবি, অভিযানের ফলে জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন ব্যক্তিদের আটক করা এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা সম্ভব হয়েছে।   লেক লুইসভিলকে ঘিরে এই অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ছিল বলে আইসিই জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, গ্রীষ্মের ব্যস্ত নৌবিহার মৌসুমে পানিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থলভাগে অপরাধ ও অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজ চালিয়ে যেতে এই সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   আইসিইর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক চলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কেন্দ্রীয় সরকার অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার করার নীতি গ্রহণ করেছে। তবে এই নীতির প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।   অন্যদিকে, মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন শহরে ভাড়া কমার তথ্যও তুলে ধরে দাবি করেছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার হওয়ার সঙ্গে কিছু এলাকায় ভাড়ার বাজারে পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। সংস্থাটি সান অ্যান্টোনিও, অস্টিন, ডালাস ও হিউস্টনসহ কয়েকটি শহরের ভাড়া কমার হার উল্লেখ করেছে। তবে ভাড়া কমার কারণ হিসেবে অভিবাসন অভিযানকে সরাসরি দায়ী করার এই ব্যাখ্যাটি স্বরাষ্ট্র বিভাগের নিজস্ব দাবি এবং এর সঙ্গে অন্যান্য অর্থনৈতিক কারণের সম্পর্ক আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।   টেক্সাসে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কার্যক্রমের পাশাপাশি সম্প্রতি অস্টিনে একটি পৃথক ঘটনায় এক ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে ভেনেজুয়েলার এক নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা ওই ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন। ঘটনাটি লেক লুইসভিল অভিযানের অংশ নয় এবং পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।   লেক লুইসভিলের গ্রীষ্মকালীন অভিযানের বিষয়ে আইসিই জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম শেষ হয়েছে লেবার ডে সপ্তাহান্তে। তবে সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও আইনি ও অভিবাসনসংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া পৃথকভাবে চলতে পারে।   সূত্র: ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
আইসিই’র নির্বিচার গ্রেপ্তার ঠেকাতে মার্কিন সিনেটে নতুন বিল প্রস্তাব
আইসিই’র নির্বিচার গ্রেপ্তার ঠেকাতে মার্কিন সিনেটে নতুন বিল প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে বিনা পরোয়ানায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) গ্রেপ্তার কমানো এবং নির্দোষ অভিবাসীদের অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার ক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক দলের ইলিনয়ের সিনেটর ডিক ডারবিন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যালেক্স প্যাডিলা যৌথভাবে ‘ইমিগ্রেশন ওয়ারেন্ট রিফর্ম অ্যাক্ট’ নামের এই আইনটি প্রস্তাব করেছেন।   আইসিই যাতে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অথবা বর্ণবাদের ভিত্তিতে কাউকে আটকে রাখতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই বিলটি তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বৈধ কাগজপত্র থাকা অনেক অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিককেও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, যা এই বিল প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা।   প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অবশ্যই তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রশাসনিক পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে হবে এবং আটকের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। পরোয়ানার পাশাপাশি আটকের পর কবে ইমিগ্রেশন আদালতে হাজিরা দিতে হবে, তা-ও আটকদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।   বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকৃতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন শুনানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি, আটকে রাখা প্রতিটি অনাগরিকের হেফাজতের বিষয়টি প্রতি ৬০ দিন পরপর কোনো ইমিগ্রেশন বা মার্কিন জেলা বিচারককে পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে, যাতে বিনা বিচারে কেউ দীর্ঘদিন আইসিই হেফাজতে না থাকেন। সিনেটর প্যাডিলা বলেন, এই আইনটি পাস হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার বন্ধ হবে।   তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি সহজে আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী এবং আইনজীবীরা এই বিলের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, ‘জননিরাপত্তার জন্য আসন্ন বিপদ’ হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের যে সুযোগ আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে রাখা হয়েছে, তা অপব্যবহারের আশঙ্কা করছেন তারা।   টেক্সাস-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা রাইসেস-এর সহ-প্রধান নির্বাহী ফয়সাল আল-জুবুরি প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ সিভিল বা দেওয়ানি অপরাধের জন্য কাউকে আটকে রাখা এবং তার ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করা কতটা যৌক্তিক। তিনি মনে করেন, এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মৌলিক সাংবিধানিক সুরক্ষার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ডিটেনশন সেন্টার সম্প্রসারণে পরিকল্পনাহীন ব্যয়, আইসিইর কোটি কোটি ডলার অপচয়
যুক্তরাষ্ট্রে ডিটেনশন সেন্টার সম্প্রসারণে পরিকল্পনাহীন ব্যয়, আইসিইর কোটি কোটি ডলার অপচয়

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বন্দি আটকে রাখার ধারণক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর তাড়াহুড়োয় লাখ লাখ ডলার করদাতার অর্থ অপচয় করেছে। সরকারি পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস’ (জিএও)-এর প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গণ-বহিষ্কার নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইসিই দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ের হিসাব ছাড়াই একের পর এক ডিটেনশন সেন্টার বা বন্দিশালা কিনেছে। এমনকি যেসব ওয়্যারহাউস বা গুদামঘর তারা আর ব্যবহার করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলো কিনতেও তাদের অন্তত ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার লোকসান হয়েছে।   ফেডারেল ব্যয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, জানুয়ারির এক দিনেই আইসিই এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দুই মেয়াদের অন্য কোনো দিনেই দেখা যায়নি। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, বন্দিশালা অধিগ্রহণের জন্য আইসিই শুরুতে ‘শিকাগো টাইটেল ইন্স্যুরেন্স’-এর মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অগ্রিম প্রদান করে।   পরবর্তীতে মাত্র দুই মাসের মধ্যে আইসিই ১.০৭ বিলিয়ন ডলার খরচ করে ১১টি গুদামঘর কেনে, যার মধ্যে ৭টিই এখন তারা বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। গুদামঘরের পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার পর জুলাই ও আগস্ট মাসে আইসিই শিকাগো টাইটেল থেকে ২.২ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়ে বেসরকারি কারা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘কোরসিভিক’-এর কাছ থেকে চারটি ডিটেনশন সেন্টার ক্রয় করে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে কংগ্রেস আইসিই-কে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল তহবিল প্রদান করে, যার মধ্যে ৪৫ বিলিয়ন ডলারই বরাদ্দ ছিল ডিটেনশন সেন্টারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। এই বিপুল অর্থ হাতে পাওয়ার পর আইসিই তাদের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছে।   সিবিএস নিউজের বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের অক্টোবর থেকে এই বছরের জুলাই পর্যন্ত সংস্থাটি ১৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা এর আগের পুরো অর্থবছরের ১১ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে অনেক বেশি। প্রচলিত বাজেট পাসের প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এমন বিশাল তহবিল পাওয়ার কারণে কংগ্রেসের নিয়মিত নজরদারি এড়িয়ে আইসিই ইচ্ছেমতো অর্থ খরচের সুযোগ পেয়েছে বলে বাজেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন।   অপচয়ের মাত্রা কেবল গুদামঘর বা কোরসিভিকের চুক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জিএও-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিমার (FEMA) মাধ্যমে আইসিই ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যকে তাদের দুটি ডিটেনশন সেন্টারের জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি অর্থ প্রদান করেছে।   এছাড়াও, এল পাসোতে সামরিক ঘাঁটিতে ডিটেনশন সেন্টার তৈরির এক পরিত্যক্ত উদ্যোগে এমন সব খাবারের পেছনে ৭.১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে, যার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। এমনকি গুয়ানতানামো বে-তে ৩০,০০০ বন্দি রাখার জন্য ২.৮৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তাঁবু স্থাপন করা হলেও, সেখানে হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন বন্দিকে রাখা হয়েছিল। সার্বিক পরিস্থিতিতে জিএও জানিয়েছে যে, এই বিপুল আর্থিক অপচয় রোধে আইসিই-এর অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
নিজেদের আইসিই কর্মকর্তা পরিচয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিককে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়ার দৃশ্য ভাইরাল
নিজেদের আইসিই কর্মকর্তা পরিচয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিককে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়ার দৃশ্য ভাইরাল

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের এভারেট শহরে দুই নির্মাণ শ্রমিককে কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি আটক করে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও ধারণকারী বাড়ির মালিক জেনিফার গর্ডনের দাবি, ওই ব্যক্তিরা নিজেদের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।   ঘটনাটি সোমবার সকালে নর্থ এভারেটের একটি আবাসিক এলাকায় ঘটে। গর্ডনের বাড়িতে কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি নির্মাণকাজ চলছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের হয়ে সেখানে কাজ করছিলেন। প্রয়োজনীয় কিছু মাপ নেওয়ার পর তারা নির্মাণসামগ্রী আনতে বাইরে যান। পরে ফিরে আসার সময় কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি তাদের আটক করেন।   গর্ডনের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি দুই শ্রমিককে আটক করার চেষ্টা করছেন। ভিডিওতে একজনকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে এবং একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে যেতে দেখা যায়। গর্ডন তাদের পরিচয় জানতে চান এবং বিচারকের স্বাক্ষর করা ওয়ারেন্ট আছে কি না, সেটিও জানতে চান। ভিডিওতে একজন আটককারীকে ওয়ারেন্ট দেখানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে শোনা যায়।   গর্ডনের দাবি, মুখোশধারী ব্যক্তিরা নিজেদের আইসিই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন এবং আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাদের নিজ দেশে অপরাধের অভিযোগ থাকার কথা জানান। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। আইসিইও কেআইআরও ৭-কে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় বা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।   ঘটনার সময় সেখানে থাকা এক প্রতিবেশী কেআইআরও ৭-কে জানান, তিনি প্রায় ছয় থেকে আটজন এজেন্টকে ওই শ্রমিককে আটক করতে দেখেছেন। ওই প্রতিবেশীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে একজন এজেন্ট তাকে জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজ দেশে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তবে আইসিই এই তথ্য নিশ্চিত করেনি।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এভারেট পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের কোনো কর্মকর্তা ওই অভিযানে জড়িত ছিলেন না। কেআইআরও ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের পোশাকে ‘পুলিশ’ লেখা ভেস্ট ছিল। একইসঙ্গে গর্ডন জানিয়েছেন, তারা নিজেদের আইসিই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় বা অভিযানের পুরো আইনি বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   দ্য হেরাল্ডের প্রতিবেদনেও নর্থ এভারেটে একজনকে মুখোশধারী ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তারা আটক করার দৃশ্যের কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটি ভিডিও করেন এবং আটকের পদ্ধতি ও কর্মকর্তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।   গর্ডনের ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের একজনকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে দেখা যায়। পরে একজন ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে গর্ডন জানিয়েছেন। অন্য ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গর্ডন বলেন, তিনি একজন স্বাস্থ্যকর্মী ও নেভি ভেটেরান হিসেবে ঘটনাটি ভিডিও করার সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষ্য, অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও দেখে তিনি এ ধরনের পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয় সে সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিলেন।   এদিকে কেআইআরও ৭ জানিয়েছে, তারা আইসিইর কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। সংস্থাটি আটক ব্যক্তিদের নাম ছাড়া অতিরিক্ত তথ্য দিতে রাজি হয়নি এবং গোপনীয়তার কারণ দেখিয়েছে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠান টমি বিল্ডার্সের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   ফলে ভিডিওতে আটকের দৃশ্য স্পষ্ট হলেও, আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আইনি অবস্থা এবং অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সরকারি পরিচয় সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। এ কারণে ঘটনাটিকে আইসিইর অভিযান হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
আইসিইর থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে দুর্ঘটনায় নিহত গুয়াতেমালার অভিবাসী মারিও
আইসিইর আটকের ভয়ে পালাতে গিয়ে নিহত অভিবাসী চালকের পরিবারের আহাজারি

মিশিগানের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে আইসিইর গাড়ি থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত গুয়াতেমালার অভিবাসী মারিও ডেভিড করোনাডো হুয়ারেজের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। ৩৬ বছর বয়সী মারিও ছিলেন তিন সন্তানের বাবা। যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণকাজ করে উপার্জনের অর্থ তিনি গুয়াতেমালায় থাকা স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে পাঠাতেন বলে পরিবার জানিয়েছে।   মারিওর স্ত্রী মাসাদোনিয়া জানিয়েছেন, স্বামী প্রতিদিন পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। কিন্তু গত রোববার সকালে তার নিয়মিত ফোনটি আসেনি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি সন্তানদের জানান, কেন তাদের বাবা ফোন করছেন না, তা তিনি জানেন না। পরে তারা জানতে পারেন, মারিও গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। স্ত্রী বলেন, মারিও সন্তানদের নিয়ে সবসময় চিন্তা করতেন এবং তাদের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মারিওর ১৩ ও ১১ বছর বয়সী দুই মেয়ে এবং ৭ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তিনি গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ করছিলেন এবং উপার্জনের অর্থ নিয়মিত পরিবারকে পাঠাতেন। এখন তার মরদেহ গুয়াতেমালায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে পরিবার।   গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে হল স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউ এলাকায় আইসিই এজেন্টরা মারিওর গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ বলছে, চালক সেখান থেকে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যান। প্রায় এক মাইল দূরে ম্যাককেনড্রিক স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউ এলাকায় গাড়িটি একটি গাছে ধাক্কা দেয় এবং আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে আইসিইর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ বিভাগের কোনো পূর্বজ্ঞান বা সম্পৃক্ততা ছিল না। ফেডারেল এজেন্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্থানীয় তদন্তকারীদের সীমাবদ্ধতা থাকায় পুলিশ প্রধান জোসেফ ট্রিগ মিশিগান স্টেট পুলিশকে তদন্তে যুক্ত করার অনুরোধ করেন। গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারও ঘটনাটি স্বাধীনভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।   নিহত ব্যক্তিকে গুয়াতেমালার নাগরিক মারিও ডেভিড করোনাডো হুয়ারেজ হিসেবে শনাক্ত করেছেন গুয়াতেমালার শিকাগো কনসাল জেনারেল রোজারিও ওভান্দো। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারিও গুয়াতেমালার সান মার্কোস শহরের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় অধিকারকর্মী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানকে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছিলেন।   এদিকে ঘটনার পর গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি তুলেছেন। তবে আইসিইর থামানোর চেষ্টা এবং পরবর্তী দুর্ঘটনার মধ্যে আইনগত দায় বা চূড়ান্ত কারণ এখনো তদন্তাধীন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   মারিওর স্ত্রী এখন স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে একা হয়ে পড়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মরদেহ গুয়াতেমালায় নিয়ে গিয়ে স্বজনদের কাছে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাস্থলের কাছে তাকে স্মরণ করে একটি ভিজিল বা স্মরণসভা আয়োজনের কথাও জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।   সূত্র: ফক্স ১৭, গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ বিভাগ

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০