সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আইসিই

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়
ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র আইসিই এজেন্ট মোতায়েন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টসহ ফেডারেল কর্মকর্তাদের মোতায়েন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নাগরিক অধিকার ও ভোটাধিকার সংগঠনগুলোর একটি জোট এবং ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত ডেনভার শহর। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়। এতে ভোটকেন্দ্র বা ভোট সংগ্রহের স্থানগুলোর আশপাশে সশস্ত্র ফেডারেল কর্মকর্তাদের মোতায়েন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এ ধরনের যেকোনো পরিকল্পনাকে বেআইনি ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র কর্মকর্তাদের উপস্থিতির আশঙ্কা নির্বাচনের স্বাধীন পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এতে ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি হতে পারে যে ভোট দিতে গেলে তাদের সশস্ত্র ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি হতে হবে। মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ও আইসিই-কে বিবাদী করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিন এবং আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেভিড ভেনচুরেল্লাকেও বিবাদী করা হয়েছে। ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ডের মাধ্যমে লীগ অব ইউনাইটেড লাতিন আমেরিকান সিটিজেনস (এলইউএলএসি), কমন কজ, ইউনিডসইউএস এবং ডেনভার শহর এই মামলা করেছে। বাদীপক্ষ ১৮৬৫ সালের একটি ফেডারেল আইনের বিধানের ওপরও জোর দিয়েছে। ওই আইনে সাধারণ বা বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে—এমন কোনো স্থানে ‘সশস্ত্র লোক’ বা সেনা মোতায়েন করা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রয়োজন হলে এর ব্যতিক্রম রয়েছে। এর আগে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা এমএজিএ শিবিরের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ভোটকেন্দ্র ঘিরে আইসিই মোতায়েনের আহ্বান জানালেও ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে। তবে ভোটকেন্দ্রে কোনো পরিস্থিতিতেই আইসিই থাকবে না—এমন নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়নি। চলতি মাসের শুরুতে নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ভোটকেন্দ্রে টহল দেওয়ার জন্য আইসিই মোতায়েন করা হবে না। তবে কোনো ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হলে কিংবা আগে থেকেই নজরদারিতে থাকা কাউকে গ্রেপ্তারের পরোয়ানা কার্যকর করতে হলে সেখানে আইসিই এজেন্ট যেতে পারে বলে জানান তিনি। মুলিন বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরোয়ানা কার্যকর করতে হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আইসিই কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। আইসিইর ডিপোর্টেশন শাখার প্রধান কাজ যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের খুঁজে বের করা, গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কার করা। অন্যদিকে এর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বা এইচএসআই শাখা সাধারণত আন্তর্জাতিক যোগসূত্র থাকা অপরাধ দমনে কাজ করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই শাখাকেও অভিবাসন enforcement এবং কথিত ভোটার জালিয়াতির তদন্তে কাজে লাগানো হচ্ছে। এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীও ভোটকেন্দ্রে সেনা বা ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে সেনা বা ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা সামরিক বাহিনীর নেই।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই হেফাজতে চিকিৎসার অভাবে ২৯ বছর বয়সী যুবকের মৃ ত্যু, বিচার দাবি পরিবারের
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই হেফাজতে চিকিৎসার অভাবে ২৯ বছর বয়সী যুবকের মৃ ত্যু, বিচার দাবি পরিবারের

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা আইস-এর একটি ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকার পর ২৯ বছর বয়সী এক মেক্সিকান যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রিসিলিয়ানো ত্রেজো রিকানো নামের ওই যুবক আইস হেফাজতে থাকা অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে থাকাকালীন তাকে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।   মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে তাকে একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করে আইস হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তিনি অ্যাকিউট লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। অথচ এর আগে তার শরীরে বড় কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যার লক্ষণ ছিল না।   নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহামের বাসিন্দা প্রিসিলিয়ানো মাত্র তিন বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। গত ১৯ জুন তাকে গ্রেপ্তার করে জর্জিয়ার স্টুয়ার্ট ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। সেখানে আটক থাকার তিন সপ্তাহের মধ্যেই তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারকে ভিডিও কল করে তিনি নিয়মিত তার শারীরিক যন্ত্রণার কথা জানাতেন।   এমনকি নিজের ২৯তম জন্মদিনে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন যে, তীব্র গলাব্যথা, রক্তকাশি এবং মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় ভুগলেও তাকে কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি এবং কর্তৃপক্ষের কাছে তারা কেবলই একটি 'সংখ্যা' মাত্র।   গত ১৬ জুলাই আইনজীবীর মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে যে, প্রিসিলিয়ানোকে জর্জিয়ার অগাস্টার একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে পরিবারের সদস্যদের তার সাথে দেখা করার সুযোগ করে দিতে শেষ মুহূর্তে আইস তাকে তাদের হেফাজত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় অবশেষে ২৪ জুলাই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।   এই ঘটনায় মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, ডিটেনশন সেন্টারে যদি তিনি সঠিক সময়ে চিকিৎসাসেবা পেতেন, তবে হয়তো তাকে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না। যেহেতু মৃত্যুর ঠিক আগে তাকে আইস হেফাজত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তাই সরকারি পরিসংখ্যানে এই মৃত্যুকে 'হেফাজতে মৃত্যু' হিসেবে দেখানো হচ্ছে না, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে।   প্রিসিলিয়ানোর পরিবার এখন আইস-এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এবং এই মর্মান্তিক অবহেলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
মাইক্রোফোন হাতে অভিবাসী অধিকার নিয়ে সরব অধ্যাপক মেলিনা আবদুল্লাহ
আইসিই এজেন্টের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, ‘আক্রমণের’ আহ্বানে বিতর্কে ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেসের অধ্যাপক মেলিনা আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে এক আইসিই এজেন্টের পরিচয় ও সম্ভাব্য অবস্থান প্রকাশ করে তাকে লক্ষ্য করার আহ্বান জানানোর অভিযোগ উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অক্সনার্ডে রোববার এক সমাবেশে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুল্লাহ এক আইসিই এজেন্টের নাম উল্লেখ করে বলেন, ওই কর্মকর্তা অক্সনার্ডের একটি হোটেলে থাকতে পারেন। এরপর তাঁকে উদ্দেশ করে একাধিকবার অশালীন ভাষায় ‘ফাক হিম আপ’ মন্তব্য করেন। নিরাপত্তার কারণে এজেন্টটির সম্ভাব্য অবস্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আবদুল্লাহ বলেন, তিনি ওই শব্দগুলো ‘অনেকভাবে’ বোঝাতে ব্যবহার করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, আইসিই এজেন্টদের কর্মকাণ্ড গোপন রাখা উচিত নয়; বরং তাঁদের কার্যক্রম জনসমক্ষে তুলে ধরা দরকার। তবে নির্দিষ্ট একজন এজেন্টের পরিচয় ও সম্ভাব্য অবস্থান প্রকাশের পর এমন মন্তব্য করায় সমালোচকেরা এটিকে ওই কর্মকর্তার জন্য সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। ঘটনাটি ঘটে ‘লা ডিফেনসা দেল পুয়েবলো’ নামে একটি সম্মেলনে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসী কমিউনিটির অধিকার এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়। আবদুল্লাহ ক্যাল স্টেট এলএ-তে প্যান-আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক এবং ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার লস অ্যাঞ্জেলেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা। ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন। যে আইসিই এজেন্টকে নিয়ে আবদুল্লাহ বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে দায়িত্বের বাইরে থাকা অবস্থায় একটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনায় কিথ পোর্টার জুনিয়র নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, পোর্টার একটি রাইফেল থেকে গুলি ছুড়ছিলেন এবং সংঘর্ষের একপর্যায়ে ওই এজেন্ট আত্মরক্ষায় গুলি চালান। এ ঘটনায় এজেন্টটির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আবদুল্লাহর সাম্প্রতিক বক্তব্যের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে তাঁর মন্তব্য আইনগতভাবে সহিংসতায় উসকানির পর্যায়ে পড়ে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন ও ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ নামে বিলটি উত্থাপন করেন
আইসিই এজেন্টদের হাতে আসছে ‘শক গ্লাভস’! নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন বিল

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই এজেন্টদের বৈদ্যুতিক ‘শক গ্লাভস’ ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন একটি বিল উত্থাপন করেছেন দুই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। তাদের আশঙ্কা, অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযানে এ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করলে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন ও ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ নামে বিলটি উত্থাপন করেন। এতে অভিবাসন আইন প্রয়োগের সময় কেন্দ্রীয় সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শক গ্লাভস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে যুক্ত অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। শক গ্লাভস এমন এক ধরনের বিশেষ দস্তানা, যা কারও শরীরে সরাসরি স্পর্শ করিয়ে বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কেনটাকিভিত্তিক ‘কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি’র তৈরি ‘সিটিজি-৫ জি.এল.ও.ভি.ই.’। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএস আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য প্রায় ৬ হাজার শক গ্লাভস কিনতে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার খরচের পরিকল্পনা করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি, গ্লাভসটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কারা কর্মকর্তাদের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে শান্ত করার একটি প্রযুক্তি। দেখতে সাধারণ দস্তানার মতো হলেও এটি সক্রিয় করার পর বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই সতর্ক করে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ঝুঁকিমুক্ত নয়। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার না করলে এতে আঘাত এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। আইসিই এখনো শক গ্লাভস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রেপ্তার, আটককেন্দ্রে অভিযান কিংবা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের সময় এগুলো ব্যবহার করা হতে পারে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বলছে, প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরিস্থিতি উত্তেজনামুক্ত করতে গ্লাভসটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু মৌখিকভাবে নির্দেশ না মানার কারণে বা শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের নিরাপদে গ্রেপ্তার এবং অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে সরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। সংস্থাটির দাবি, আইসিই যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে, সেগুলো আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা মেনেই বাছাই করা হয়। কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিস্থিতি শান্ত করার কৌশল এবং বলপ্রয়োগের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ডিএইচএস জানিয়েছে, শক গ্লাভসগুলো আইসিইর দুটি প্রধান কার্যক্রম—‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস’ বা স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্ত বিভাগ এবং ‘এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস’ বা অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও বহিষ্কার কার্যক্রমের কর্মকর্তাদের দেওয়া হতে পারে। শক গ্লাভসের নিরাপত্তা নিয়ে এরই মধ্যে কংগ্রেসে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট রামিরেজসহ ৫০ জন প্রতিনিধি ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিনকে চিঠি দিয়ে এই যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের চিঠিতে বলা হয়, গ্লাভসটি প্রায় ৩৮০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এমন যন্ত্রের ব্যবহার নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলেও তারা দাবি করেন। সিনেটেও এই পরিকল্পনার বিরোধিতা হয়েছে। নেভাদার সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্টোসহ ১৬ জন সিনেটর গত ২৭ আগস্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে শক গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা বাতিল করার আহ্বান জানান। তারা গ্লাভসটি কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করা হবে, কর্মকর্তাদের কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং এর ব্যবহার কীভাবে নজরদারি করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই চুক্তি করার পরিকল্পনা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও শক গ্লাভস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে কম প্রাণঘাতী প্রযুক্তির সমর্থকদের কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের সরঞ্জাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিকল্প হতে পারে। সাবেক মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা এবং আইসিই কর্মকর্তা ক্লেয়ার ট্রিকলার-ম্যাকনাল্টি বলেন, শক গ্লাভস ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় কৌশলগত সমস্যা রয়েছে। তার মতে, গ্লাভস পরা অবস্থায় একজন কর্মকর্তা সহজে আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোনো কম প্রাণঘাতী সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে একাধিক হুমকির মুখে ওই কর্মকর্তা নিজেই আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তার মতে, নিয়ন্ত্রিত আটককেন্দ্রের মতো জায়গায় সীমিত ব্যবহারের কিছু যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু রাস্তায় গ্রেপ্তার, গাড়ি থামানো বা কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের সময় এটি ব্যবহার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। শক গ্লাভস নিয়ে বিতর্ক শুধু অভিবাসন আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চলতি বছরের শুরুতে নেব্রাস্কার ওমাহা সরকারি বিদ্যালয়গুলো স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য এই যন্ত্র নিষিদ্ধ করে। কর্মকর্তারা নিশ্চিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সেখানে দুই শিক্ষার্থীর ওপর শক গ্লাভস ব্যবহার করা হয়েছিল। ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ এখন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিলটির তালিকাভুক্ত সমর্থকদের মধ্যে কোনো রিপাবলিকান সদস্য ছিলেন না। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে বিলটি আইনে পরিণত করতে হলে উভয় কক্ষের অনুমোদনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরও প্রয়োজন হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার নীতিকে ঘিরে আইসিই ও ডিএইচএসের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছেই। এর মধ্যেই আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে শক গ্লাভস দেওয়ার পরিকল্পনা এবং তা বন্ধ করতে ডেমোক্র্যাটদের এই উদ্যোগ নতুন করে সেই বিতর্ক আরও জোরালো করেছে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক আইসিই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞার পথে নতুন বিল
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক আইসিই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞার পথে নতুন বিল

ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তা ও ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে কাজ করা ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের পথ বন্ধ করতে একটি বিল পাস করেছে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভা। এখন বিলটি গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।    ‘গেট দ্য ফেডস আউট অ্যাক্ট’ বা ‘জিটিএফও অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত বিলটির লক্ষ্য হলো যারা ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন, তাদের ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় চাকরির ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করা। এর আওতায় রাজ্য, কাউন্টি, শহর, স্কুল ডিস্ট্রিক্টসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান পড়বে।    বিলটি অ্যাসেম্বলিতে মে মাসে ৫৩-২১ ভোটে পাস হয়। আগস্টের শেষ দিকে সিনেটও বিলটি অনুমোদন করে এবং সিনেটের সংশোধনীতে অ্যাসেম্বলির সম্মতি পাওয়ার পর এটি গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়।    বিলটির মূল উদ্যোক্তাদের একজন ডেমোক্র্যাট অ্যাসেম্বলিম্যান মার্ক গনজালেজ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে একই ধরনের দায়িত্বশীলতা ও মূল্যবোধের মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন।    তবে বিলটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এর সমালোচনা করে বলেছেন, ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করাকে কেন্দ্র করে কাউকে ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি থেকে বাদ দেওয়া আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।    বিলটিতে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো পুলিশ সংস্থায় যোগ দিয়ে রাজ্যের মৌলিক পুলিশ প্রশিক্ষণ নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রার্থীর যোগ্যতা আলাদাভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।    গভর্নর নিউজম এখন বিলটিতে স্বাক্ষর করবেন নাকি ভেটো দেবেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আইনসভা থেকে পাস হওয়া বিলগুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাঁর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে।    বিলটি আইনে পরিণত হলে ক্যালিফোর্নিয়াই হবে সাবেক ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাদের অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রথম অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
আটক অভিবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্যাসি রেভকিন। ছবি: সংগৃহীত
আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে শিশুদের খাবার কিনতে সপ্তাহে ১০ হাজার ডলার দিচ্ছেন এক মা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডিলেতে আইসিইর সাউথ টেক্সাস ফ্যামিলি রেসিডেনশিয়াল সেন্টারে আটক অভিবাসী পরিবারগুলোর শিশুদের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে প্রতি সপ্তাহে ১০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা দিচ্ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্যাসি রেভকিন। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গত বছর কেন্দ্রটি আবার চালু করার পর সেখানে আটক বাবা-মায়েরা খাবারে তেলাপোকা পাওয়ার এবং ট্যাপের পানি পান করে শিশুদের বমি করার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পরই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন রেভকিন।  রেভকিন ‘ইচ স্টেপ হোম’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডিলেতে আটক পরিবারগুলোর কমিসারি অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিচ্ছেন। ওই অর্থ দিয়ে অভিভাবকেরা বোতলজাত পানি, নুডলসসহ শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার এবং অন্যান্য সামগ্রী কিনতে পারছেন। গত সাত মাসে এভাবে তিনি শত শত পরিবারকে সহায়তা করেছেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    ভেনেজুয়েলার এক আটক মা এডগারিয়ান্নি কোর্তেস গেরভিস ও তাঁর মেয়েও এই সহায়তা পেয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিটেনশন সেন্টারে থাকা অবস্থায় কোর্তেস গেরভিসের ওজন কমছিল এবং তিনি ক্যাফেটেরিয়ার দেওয়া ভাত ও মাংসের মিশ্র খাবার খেতে পারছিলেন না। তাঁর মেয়েও খুব কম খাচ্ছিল এবং ডায়রিয়ায় ভুগছিল। পরে রেভকিনের সহায়তায় তারা কমিসারি থেকে নিজেদের পছন্দের খাবার ও বোতলজাত পানি কিনতে পারেন।    রেভকিন জানান, ডিলের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার পর তিনি মনে করেছিলেন, কিছু একটা করা দরকার। তাঁর ভাষায়, শিশুদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে জীবন কিছুটা সহজ করতে পারছেন, এটিই তাঁকে স্বস্তি দেয়।   ডিলেতে খাবার ও পানির মান নিয়ে অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৬ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটক পরিবারগুলোর কাছ থেকে খাবার, পরিষ্কার পানির অভাব এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। মার্চে এবিসি নিউজ জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিলের কেন্দ্র থেকে একাধিক জরুরি ৯১১ কল করা হয়েছিল। এসব কলে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থার কথা উঠে আসে।    অন্যদিকে, আইসিই এসব অভিযোগের বিষয়ে বলেছে, ডিলেতে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসা, শিক্ষা, বিনোদন এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়। কেন্দ্রটি বেসরকারি ঠিকাদার কোরসিভিক পরিচালনা করে। কোরসিভিকের দাবি, ডিলের পানির সরবরাহ শহরের অন্যান্য বাসিন্দাদের মতোই পরিষ্কার পানির ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।    তবে অভিযোগের মধ্যেই রেভকিনের মতো বেসরকারি উদ্যোগগুলো আটক পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তায় পরিণত হয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠান শুধু খাবার নয়, শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্যও অর্থ দিচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মদিনের জন্য ক্যান্ডি থেকে শুরু করে ধুলোময় পরিবেশে থাকা শিশুদের নাকের স্প্রে পর্যন্ত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
আইসিইর নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
আইসিই নিয়োগ নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ, পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আগেই নিয়োগ পাচ্ছেন সশস্ত্র এজেন্টরা

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) দ্রুত জনবল বাড়াতে গিয়ে নিয়োগ ও ভেটিং প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধাপ এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির ১৭ বছরের সাবেক এক কর্মকর্তা হুইসেলব্লোয়ার অভিযোগে বলেছেন, কিছু প্রার্থী ফিঙ্গারপ্রিন্ট, পরিচয়, ক্রেডিট ও পলিগ্রাফ যাচাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগ পেয়েছেন।    নিউইয়র্ক টাইমসের হাতে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রমের সময় আইসিইর ভেটিং কর্মকর্তাদের কিছু প্রার্থীর পূর্ণ নিরাপত্তা ফর্ম, ফিঙ্গারপ্রিন্টের ফলাফল কিংবা পলিগ্রাফের তথ্য হাতে না থাকলেও তাদের প্রাথমিক অনুমোদন দিতে বলা হয়েছিল। আগে এই প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়ায় একজন প্রার্থীর পরিচয়, অপরাধের ইতিহাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করতে সাধারণত সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগত।   অভিযোগে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে কিছু নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাদের পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেক শেষ হওয়ার আগেই প্রশিক্ষণে যোগ দেন। পরে প্রশিক্ষণের সময়ও প্রায় ১০ সপ্তাহ থেকে কমিয়ে ছয় সপ্তাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আইসিইর প্রশিক্ষণ নিয়ে এর আগেও সাবেক কর্মকর্তা রায়ান শ্যাঙ্ক কংগ্রেসের এক শুনানিতে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে “ত্রুটিপূর্ণ ও ভেঙে পড়া” বলে বর্ণনা করেন।    তবে প্রশিক্ষণের সময় কমানোর বিষয়ে আইসিইর বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকর করতে কিছু বিষয় পুনর্বিন্যাস ও সময় কমানো হয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মূল বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়নি। আইসিই আরও জানিয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের ভেটিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়।    নিয়োগ ও ভেটিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার পেছনে মেইনের বিডফোর্ডে আইসিই এজেন্টের গুলিতে ২৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক জোহান সেবাস্তিয়ান দুরান গুয়েরেরোর মৃত্যুর ঘটনাটিও আলোচনায় এসেছে। জুলাইয়ে ওই ঘটনায় গুলি চালানো আইসিই এজেন্ট হিসেবে ৩৭ বছর বয়সী ডেভিড ব্রুইলেটের নাম প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তী প্রতিবেদনে তার সাবেক স্ত্রীর করা সুরক্ষা আদেশের আবেদন এবং ব্রুইলেটের অতীত আচরণ নিয়েও তথ্য সামনে এসেছে।    তবে কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টের সঙ্গে ভেটিং প্রক্রিয়ার কথিত ত্রুটির সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন দাবি এখনই করা যাচ্ছে না। আইসিইর নিয়োগ ও ভেটিং প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে আরও তদন্ত ও সরকারি পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির দ্রুত জনবল বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি নতুন এজেন্টদের প্রশিক্ষণ ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক কতটা কঠোরভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও নিউ জার্সির নিউয়ার্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলিমামি সেসাই। ছবি: সংগৃহীত
হাসপাতালের বেডে শিকলবন্দী আইসিই আটক অভিবাসী, অস্ত্রোপচারের পরও স্বজনদের সাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার হেফাজতে থাকা ৪১ বছর বয়সী আলিমামি সেসাই একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও নিউ জার্সির নিউয়ার্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পায়ের সঙ্গে বিছানায় শিকলবন্দী থাকছেন বলে অভিযোগ করেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকলেও তাঁর বাগদত্তা ও পাঁচ মাস বয়সী ছেলেকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।   সেসাইকে গত ২৮ মে আইসিই আটক করে। হারিয়ে যাওয়া চালকের লাইসেন্সের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি নিতে তিনি নিজেই নিউয়ার্কের একটি ফেডারেল ভবনে গিয়েছিলেন। সেখানে অপেক্ষা করার সময় একজন আইসিই কর্মকর্তা তাঁকে জানান, তদারকি আদেশ অনুযায়ী তিনি একটি নির্ধারিত সাক্ষাতে উপস্থিত হননি। এরপর তাঁকে আটক করা হয় এবং ইউনিয়ন কাউন্টির এলিজাবেথ কন্ট্রাক্ট ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।   জুলাইয়ের শুরুতে অন্ত্রের সমস্যার চিকিৎসার জন্য সেসাইকে নিউয়ার্কের ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে তাঁর বৃহদান্ত্রের একটি অংশ অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর পেটের বড় ক্ষত বন্ধ রাখতে চামড়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ক্ষত থেকে তরল বের করার জন্য পেটে একটি নলও রাখা হয়েছে এবং অন্তত ছয় মাস তাঁকে কলোস্টমি ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   হাসপাতালে থাকার সময়ে সেসাইয়ের ওজনও দ্রুত কমেছে। আটকের সময় তাঁর ওজন ২০০ পাউন্ডের বেশি ছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা কমে ১৩৪ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। ক্ষত পরিষ্কার করার সময় চিকিৎসকদের সহায়তা করতে হয় বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, চিকিৎসকেরা ক্ষত পরিষ্কার করার সময় কখনো কখনো বেশি চাপ প্রয়োগ করেন, তাই তিনি নিজেই ক্ষত পরিষ্কারের কাজে সহযোগিতা করেন।   সেসাইয়ের অভিযোগ, শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও প্রায়ই তাঁর পা বিছানার সঙ্গে শিকল বা হাতকড়া দিয়ে আটকানো থাকে। এতে অস্বস্তি হয় এবং ঘুমাতেও সমস্যা হয় বলে জানান তিনি। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর বাগদত্তা জেনা কার্টার এবং তাঁদের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে কিং সালিম সেসাইকে দেখতে দেওয়া হচ্ছে না।   কার্টার জানান, সেসাই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর পর্যন্ত তিনি বিষয়টি জানতেন না। জুলাইয়ে তিনি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সেসাইয়ের শারীরিক অবস্থা বা চিকিৎসা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেননি এবং তাঁকে দেখার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। ২০ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমবার সেসাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন তিনি। পরে সেসাইয়ের একটি ছবি দেখে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কার্টার।   ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আটক ব্যক্তি ও অন্য রোগীদের দর্শনার্থী প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করা হয় কি না এবং এ বিষয়ে আইসিই কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কি না। হাসপাতাল এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে জানায়, তাদের চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা দল প্রত্যেক রোগীকে সহানুভূতিশীল ও মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   অভিবাসন অধিকারকর্মীদের দাবি, সেসাইয়ের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তাঁদের মতে, নিউ জার্সির এলিজাবেথ ও নিউয়ার্কের ডেলানি হলসহ বিভিন্ন আটককেন্দ্রের আটক ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদনে হাসপাতালে ভর্তি আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে স্বজনদের তথ্য না দেওয়ার বিষয়টি দেশজুড়ে দেখা যায় এমন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।   সেসাইয়ের চিকিৎসার পাশাপাশি এলিজাবেথ ডিটেনশন সেন্টারে থাকার সময় একজন নার্সের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মৌখিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘাড় ও কাঁধের ব্যথার চিকিৎসার জন্য সেখানে যাওয়ার সময় ওই ঘটনা ঘটে। ডিটেনশন সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কোরসিভিক জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করা হয়েছে এবং তা ভিত্তিহীন পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।   সেসাইয়ের আইনজীবী র‍্যাচেল মারানডেট তাঁকে আইসিই হেফাজত থেকে মুক্ত করতে নিউ জার্সির ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন। আটক ব্যক্তিদের করা এ ধরনের আবেদনের মাধ্যমে সরকারকে কোনো ব্যক্তিকে হেফাজতে রাখার আইনি ভিত্তি আদালতের কাছে ব্যাখ্যা করতে হয়। সেসাইয়ের আবেদনটি নিউয়ার্কের ফেডারেল আদালতের বিচারক মাইকেল শিপের সামনে বিচারাধীন রয়েছে।   সেসাই কিশোর বয়সে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ১১ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে প্রায় এক দশক আগে গাঁজা-সংক্রান্ত একটি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তাঁর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল হয় বলে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন।   আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সেসাইকে বহিষ্কার স্থগিত রাখার আদেশ এবং তদারকির আওতায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজও করতে পারতেন। সেসাই সায়রভিলে একটি গুদামে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে এক অনুষ্ঠানে জেনা কার্টারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের সন্তান জন্ম নেয় এবং তাঁরা নিউ জার্সিতে একটি বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছিলেন।   সেসাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রই তাঁর বাড়ি এবং এখানেই তিনি তাঁর ছেলেকে বড় করতে চান। তাঁর ভাষ্য, জীবনের বেশির ভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর সিয়েরা লিওনে ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং কবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন, তা জানা নেই।   সূত্র: এনজে ডটকম

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই আগস্টে দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। ছবি: সংগৃহীত
আগস্টে রেকর্ড ৫১ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার করেছে আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই আগস্টে দেশজুড়ে ৫০ হাজার ৯২৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, এক মাসে গ্রেপ্তারের হিসাবে এটি সংস্থাটির নতুন রেকর্ড। এর আগে জুলাইয়ে ৫০ হাজার ২০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের গ্রেপ্তারের সংখ্যা জুলাইয়ের আগের রেকর্ডকে ৭১৭ জন ছাড়িয়ে গেছে। জুনে আইসিই ৪৩ হাজার ৯০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ফলে জুন, জুলাই ও আগস্ট, টানা তিন মাসে সংস্থাটির মাসিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।   আগস্টে গ্রেপ্তার হওয়া ৫০ হাজার ৯২৫ জনের সংখ্যা ৫১ হাজারের খুব কাছাকাছি হওয়ায় তা প্রায় ৫১ হাজার হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে সরকারি হিসাবে সঠিক সংখ্যা ৫০ হাজার ৯২৫ জন। জুলাইয়ের ৫০ হাজার ২০৮ জন এবং জুনের ৪৩ হাজার ৯০০ জনের তুলনায় আগস্টে গ্রেপ্তারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আগস্টের গ্রেপ্তারের পরিমাণ সেই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।   জুনে ৪৩ হাজার ৯০০ জনকে গ্রেপ্তারের পর জুলাইয়ে এই সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার ২০৮ জনে পৌঁছায়। এরপর আগস্টে আরও ৭১৭ জন বেশি গ্রেপ্তার করা হয়। তিন মাসের হিসাব অনুযায়ী, আগস্টের সংখ্যাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, আগস্টের এই সংখ্যা এক মাসে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে জুলাইয়ের ৫০ হাজার ২০৮ জনই ছিল এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের সংখ্যা। আগস্টে সেই রেকর্ড আবারও অতিক্রম করা হয়েছে।   আইসিই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালনকারী একটি সংস্থা। সংস্থাটির আগস্টের কার্যক্রমের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক মাসে প্রথমবারের মতো গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৫০ হাজারের সীমা অতিক্রম করেছে। এর মাধ্যমে মাসিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা টানা তৃতীয় মাসে বেড়েছে।   আগস্টের ৫০ হাজার ৯২৫ জনের গ্রেপ্তারের সংখ্যা জুনের তুলনায় ৭ হাজারেরও বেশি বেশি। একই সময়ে জুলাইয়ের তুলনায়ও আগস্টে গ্রেপ্তার বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের পরিমাণ তুলে ধরছে।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্যে আগস্টের গ্রেপ্তারকে সংস্থাটির মাসিক কার্যক্রমের নতুন সর্বোচ্চ হিসাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাইয়ে রেকর্ড গড়ার এক মাস পরই সেই সংখ্যা আবার ছাড়িয়ে গেছে। ফলে টানা তিন মাসের প্রতিটিতেই আগের মাসের তুলনায় বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে।   সরকারি হিসাবে, জুনে ৪৩ হাজার ৯০০, জুলাইয়ে ৫০ হাজার ২০৮ এবং আগস্টে ৫০ হাজার ৯২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তিন মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আগস্টেই সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। নতুন এই রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে আইসিইর সাম্প্রতিক তৎপরতার পরিমাণকে সামনে এনেছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
ড্যানবারিতে গত সপ্তাহের আইসিই অভিযানে ৭০ জনের বেশি বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আইসিই অভিযানের পর আতঙ্কে কানেকটিকাট অভিবাসী সম্প্রদায়, আটক ৭০

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ড্যানবারিতে গত সপ্তাহের আইসিই অভিযানে ৭০ জনের বেশি বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র রবার্তো আলভেস। তবে আইসিই আনুষ্ঠানিকভাবে আটকের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। অভিযানের পর শহরের অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে স্কুলে উপস্থিতি ও স্থানীয় ব্যবসায়ও।   সোমবার ড্যানবারির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিবাসী অধিকারকর্মী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এবং মেয়র আলভেস। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তারা জানান, আইসিই আবার অভিযান চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় অনেকে কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন। সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়েও অনেক অভিভাবক উদ্বিগ্ন।   মেয়র আলভেসের হিসাবে, গত সপ্তাহে ড্যানবারিতে ৭০ জনের বেশি মানুষকে আইসিই আটক করেছে। স্থানীয় অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর কাছ থেকেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আইসিই অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অপারেশনাল তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে।   অভিযানের প্রভাব স্থানীয় ব্যবসাগুলোতেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, নিয়মিত ক্রেতা ও কর্মীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় দোকান ও রেস্তোরাঁগুলোতে স্বাভাবিক ব্যস্ততা নেই। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অভিবাসী বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক শহরের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলছে।   ড্যানবারিতে আইসিইর তৎপরতা বাড়ার খবর প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের কর্মকর্তারা উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। সিনেটর ব্লুমেনথাল আইসিইর অভিযানের পর আটকদের বিষয়ে তথ্য এবং অভিযানের পদ্ধতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন।   কানেকটিকাটে গত সপ্তাহের অভিযানে ড্যানবারিসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আইসিই তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, অভিযান শেষ হয়ে গেলেও এর কারণে তৈরি হওয়া আতঙ্ক দ্রুত কাটবে না। মেয়র আলভেসও সতর্ক করে বলেছেন, আইসিই আবার কখন অভিযান চালাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় এখনো রয়ে গেছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে আটক অভিবাসী বার্নার্ডো মাসেও সাবন। ছবি: সংগৃহীত
২৫ বার গ্রেপ্তার অভিবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চান কংগ্রেসম্যানের প্রতিনিধিরা, বহিষ্কারের উদ্যোগ আইসের

টেক্সাসের আলভারাডোতে প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে আটক এক অভিবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন কংগ্রেসম্যান মার্ক ভিসির কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা। একই সময়ে ওই ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)।   আইসিইর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তি বার্নার্ডো মাসেও সাবন। সংস্থাটির দাবি, ১৯৮২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে টেক্সাসের বিভিন্ন এলাকায় তাকে ২৫ বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে চুরির অভিযোগ এবং একটি বাসায় দুই দফা চুরির ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ওই মামলায় তাকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে হামলা, গ্রেপ্তারে বাধা, অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ, চুরি ও বাসায় চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।   আইসিই আরও জানিয়েছে, ১৯৯৮ সালে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক সাবনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে আইসিই।   অন্যদিকে, কংগ্রেসম্যান মার্ক ভিসির কার্যালয় গত কয়েক মাসে প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন সেন্টারে আটক ব্যক্তিদের পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ জানিয়েছে। মার্চে ভিসি নিজেও ওই ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা, স্বচ্ছতা এবং মানবিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আগস্টেও তার কার্যালয় ওই কেন্দ্রে আটক এক ইরানি ধর্মযাজকের মুক্তির দাবি জানিয়েছিল।   তবে বার্নার্ডো মাসেও সাবনকে নিয়ে আইসিইর পোস্টে উল্লেখ করা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার আইনজীবী বা কংগ্রেসম্যান ভিসির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইসিইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ীই বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
জিরো ক্লিক অ্যাটাকের মাধ্যমে স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ না নিয়েই মেসেজিং অ্যাপের তথ্য চুরি করতে সক্ষম গ্রাফাইট। ছবি: সংগৃহীত
ফোনে গোপনে নজরদারি করতে পারে ‘গ্রাফাইট’, এই স্পাইওয়্যার নির্মাতার সঙ্গে আইসিইর ২০ লাখ ডলারের চুক্তি

একটি স্মার্টফোনে গোপনে ঢুকে ব্যক্তিগত বার্তা ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করতে পারে ‘গ্রাফাইট’ নামের শক্তিশালী স্পাইওয়্যার। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এর কিছু আক্রমণে ফোনের মালিককে কোনো লিংকে ক্লিক করা, ফাইল খোলা কিংবা কোনো সফটওয়্যার ডাউনলোড করার প্রয়োজনও হয় না। এমন প্রযুক্তি তৈরি করা প্রতিষ্ঠান প্যারাগন সলিউশন্সের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর ২০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি রয়েছে।   গ্রাফাইটকে বাণিজ্যিক নজরদারি প্রযুক্তির একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। এটি সরকারের গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করা হয়। বহুল আলোচিত পেগাসাসের মতো গ্রাফাইটও এমন প্রযুক্তির অংশ, যেগুলো নির্দিষ্ট ব্যক্তির স্মার্টফোনে গোপনে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা দেয়। তবে প্যারাগনের প্রযুক্তির বিষয়ে সব তথ্য প্রকাশ্যে নেই। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, তারা যাচাই করা সরকারি সংস্থার কাছেই প্রযুক্তি বিক্রি করে এবং সাংবাদিক বা নাগরিক সমাজের সদস্যদের বেআইনিভাবে নজরদারির অনুমতি দেয় না। কিন্তু ইতালি ও ইউরোপের কয়েকটি ঘটনায় গবেষকেরা গ্রাফাইটের ব্যবহার নিয়ে ফরেনসিক প্রমাণ পাওয়ার পর প্রযুক্তিটির ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   গ্রাফাইট কীভাবে ফোনে ঢোকে গ্রাফাইটের সবচেয়ে আলোচিত সক্ষমতার একটি হলো ‘জিরো-ক্লিক’ আক্রমণ। সাধারণ সাইবার হামলায় ব্যবহারকারীকে কোনো ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করতে, সংযুক্ত ফাইল খুলতে বা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করতে হয়। কিন্তু জিরো-ক্লিক আক্রমণে ব্যবহারকারীর এমন কোনো ভুল করার প্রয়োজন নেই। স্মার্টফোনে আসা বার্তা, ছবি বা অন্য কোনো তথ্য প্রদর্শনের আগে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা ও প্রক্রিয়াজাত করে। এই প্রক্রিয়ার কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিশেষভাবে তৈরি তথ্য ফোনে পৌঁছালে আক্রমণকারী ডিভাইসে ক্ষতিকর কোড চালানোর সুযোগ পেতে পারে। এরপর ফোনের ভেতরে স্পাইওয়্যারের অংশ বসিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।   সিটিজেন ল্যাবের গবেষণা অনুযায়ী, প্যারাগনের অবকাঠামো ও গ্রাফাইটের সঙ্গে যুক্ত একটি জিরো-ক্লিক আক্রমণ শনাক্ত করতে হোয়াটসঅ্যাপকে সহায়তা করেছিল তাদের গবেষণা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াটসঅ্যাপ প্রায় ৯০ জন ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে জানায় যে তারা প্যারাগনের স্পাইওয়্যারের লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারেন। আক্রান্তদের মধ্যে সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যও ছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রে আক্রমণের একটি পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পিডিএফ ফাইল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল। লক্ষ্যবস্তুদের একটি গ্রুপে যুক্ত করে তাদের কাছে ওই ধরনের ফাইল পাঠানো হয়েছিল। গবেষকদের কাছে এটিই গ্রাফাইটের জিরো-ক্লিক সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে ওঠে।   এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনও কেন পুরোপুরি রক্ষা করতে পারে না গ্রাফাইটের মতো স্পাইওয়্যার নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো, হোয়াটসঅ্যাপ বা সিগন্যালের মতো অ্যাপের বার্তা যদি এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনে সুরক্ষিত থাকে, তাহলে সেগুলো কীভাবে পড়া সম্ভব? এর উত্তর হলো, এনক্রিপশন বার্তাকে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে যাওয়ার সময় সুরক্ষা দেয়। কিন্তু বার্তাটি ব্যবহারকারীর ফোনে পৌঁছে অ্যাপ যখন সেটিকে পড়ার উপযোগী করে, তখন সেটি ডিভাইসের ভেতরেই দৃশ্যমান হয়ে যায়। স্পাইওয়্যার যদি আগে থেকেই সেই ফোনে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে এনক্রিপশন ভাঙার প্রয়োজন ছাড়াই ডিভাইসের ভেতরে থাকা তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। এই কারণেই গ্রাফাইটের মতো স্পাইওয়্যার শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা নয়, বরং পুরো ডিভাইসের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।   ইতালিতে সাংবাদিক ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের ফোনে গ্রাফাইট গ্রাফাইট নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তদন্তগুলোর একটি হয়েছে ইতালিতে। সিটিজেন ল্যাব কয়েকজন ইতালীয় নাগরিকের ফোন ফরেনসিকভাবে পরীক্ষা করে প্যারাগনের স্পাইওয়্যারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিহ্ন খুঁজে পায়। লুকা কাসারিনি ও জুসেপ্পে কাচ্চি নামে দুই অভিবাসন অধিকারকর্মীর অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গ্রাফাইট-সংশ্লিষ্ট স্পাইওয়্যার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। ইতালীয় সাংবাদিক ফ্রানচেস্কো কানচেল্লাতোকেও হোয়াটসঅ্যাপ সতর্ক করেছিল যে তার ফোন লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারে। ২০২৬ সালের মার্চে রোম ও নেপলসের প্রসিকিউটরদের তদন্তে তিনটি ফোনেই ক্ষতিকর সফটওয়্যারের চিহ্ন পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের মতে, কাসারিনি, কাচ্চি ও কানচেল্লাতোর ফোনে একই সময়ের কাছাকাছি অস্বাভাবিক কার্যক্রম দেখা যায় এবং সেগুলো গ্রাফাইটের কার্যপ্রণালির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ইতালীয় তদন্তে কাসারিনি ও কাচ্চির বিরুদ্ধে গ্রাফাইট ব্যবহারের সঙ্গে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমের সম্পর্ক পাওয়া গেলেও সাংবাদিক কানচেল্লাতোর ক্ষেত্রে একই ধরনের সরকারি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত এখনো তার ফোনে কে নজরদারি চালিয়েছিল, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছে। ইতালীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাসারিনি ও কাচ্চির ওপর গ্রাফাইট ব্যবহার আইনগত অনুমোদনের ভিত্তিতে করা হয়েছিল। সাংবাদিক কানচেল্লাতোর ক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই বলেও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। এই ঘটনায় একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি দাবি করে যে তার প্রযুক্তি শুধু আইনসম্মত নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, তাহলে বাস্তবে কোনো সরকারি সংস্থা সেই প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করছে, তা কতটা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব?   প্যারাগনের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের ছবিও আলোচনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাফাইট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় প্যারাগনের একজন শীর্ষ আইন কর্মকর্তার লিংকডইনে দেওয়া একটি ছবিকে ঘিরে। ছবিতে পেছনের একটি বড় পর্দায় গ্রাফাইটের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের মতো একটি ইন্টারফেস দেখা যায়। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হলেও সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা ছবিটি সংরক্ষণ করেন। ছবিতে একটি ফোন নম্বর, ‘ভ্যালেন্তিনা’ নামে একটি পরিচিতি, বার্তা ও তথ্য সংগ্রহের রেকর্ড এবং বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিভাগ দেখা যাচ্ছিল বলে সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা জানান। সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল, টেলিগ্রাম ও লাইনসহ কয়েকটি যোগাযোগ অ্যাপের চিহ্নও দেখা যায়। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্যানেল থেকে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ডিভাইসে নজরদারি পরিচালনা, সংগৃহীত তথ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং অনুমোদনের মেয়াদ সম্পর্কিত তথ্য দেখার সুযোগ থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।   প্যারাগনের প্রতিষ্ঠা ও মালিকানা প্যারাগন সলিউশন্স প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে ইসরায়েলে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এবং ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সাবেক কমান্ডার এহুদ শ্নোরসন। ২০২৪ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্টনার্স প্যারাগন অধিগ্রহণে সম্মত হয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। চুক্তিটির মূল্য কমপক্ষে ৫০ কোটি ডলার বলে তখন জানানো হয়েছিল। পরে প্যারাগনের শেয়ার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মূল প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ্যে আসে। প্যারাগন নিজেকে অন্যান্য বিতর্কিত বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার প্রতিষ্ঠানের তুলনায় দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরে। তাদের বক্তব্য, প্রযুক্তিটি গণতান্ত্রিক দেশের যাচাই করা সরকারি সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয় এবং সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের বেআইনিভাবে লক্ষ্যবস্তু করা নিষিদ্ধ। কিন্তু ইতালির ঘটনাগুলো সেই দাবির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কারণ কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা বাইরের মানুষের পক্ষে যাচাই করা কঠিন।   আইসিইর সঙ্গে ২০ লাখ ডলারের চুক্তি প্যারাগন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ আরও বেড়েছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর সঙ্গে ২০ লাখ ডলারের চুক্তির কারণে। আইসিইর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বিভাগের সঙ্গে প্যারাগনের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের এক বছরের চুক্তি ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তিটির মূল্য ছিল ২০ লাখ ডলার। কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয় এবং ৮ অক্টোবর ‘স্টপ-ওয়ার্ক’ আদেশ দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল চুক্তিটি বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ২০২৩ সালের নির্বাহী আদেশে এমন বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, যেগুলো জাতীয় নিরাপত্তা বা মানবাধিকার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রায় এক বছর পর, ২০২৫ সালের আগস্টের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে জানানো হয়, আইসিইর চুক্তির ওপর থাকা ‘স্টপ-ওয়ার্ক’ আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে প্যারাগনের সঙ্গে চুক্তিটি কার্যকর করার পথ আবার খুলে যায়। তবে প্রকাশ্য চুক্তির নথিতে গ্রাফাইটের নাম সরাসরি উল্লেখ নেই। সেখানে প্যারাগনের কাছ থেকে কনফিগার করা মালিকানাধীন সমাধান, সফটওয়্যার লাইসেন্স, হার্ডওয়্যার, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণের কথা রয়েছে। ফলে আইসিই ঠিক কোন নজরদারি সক্ষমতা পেয়েছে বা ব্যবহার করতে চায়, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। এই জায়গাটিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ গ্রাফাইট যদি চুক্তির আওতায় থাকে বা ভবিষ্যতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে প্রচলিত তল্লাশি বা জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই কোনো ব্যক্তির ফোন থেকে যোগাযোগ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার হাতে চলে যেতে পারে।   অভিবাসী ও সাংবাদিকদের ওপর ব্যবহারের আশঙ্কা আইসিই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা সংস্থা। ফলে প্যারাগনের মতো শক্তিশালী নজরদারি প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের চুক্তি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও গোপনীয়তা অধিকারকর্মীদের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অভিবাসী, আইনজীবী, সাংবাদিক, অধিকারকর্মী বা অন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে কি না। চুক্তির প্রকাশ্য নথিতে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের নিয়ম, ব্যবহারের সীমা এবং স্বাধীন নজরদারির বিস্তারিত তথ্য নেই। বিতর্কের মূল জায়গা এখানেই। কোনো স্মার্টফোনে গ্রাফাইটের মতো প্রযুক্তি সফলভাবে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারী নিজে বিষয়টি বুঝতেই নাও পারেন। ফোনে কোনো অস্বাভাবিক বার্তা, পপ-আপ বা সতর্কতা দেখা না দিয়েও তথ্য সংগ্রহ হতে পারে। ফলে সাধারণ নিরাপত্তা সতর্কতা মেনে চলা একজন ব্যবহারকারীর পক্ষেও এমন আক্রমণ ঠেকানো কঠিন হতে পারে। সিটিজেন ল্যাবের গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৯০টি ঘটনা সম্ভবত প্যারাগনের মোট নজরদারি কার্যক্রমের একটি অংশ মাত্র। কারণ সব ধরনের সংক্রমণ একই পদ্ধতিতে শনাক্ত করা সম্ভব নয় এবং অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি কখনোই সতর্কবার্তা পেতে পারেন না। ফলে গ্রাফাইটের ঘটনা শুধু একটি স্পাইওয়্যার বা একটি প্রতিষ্ঠানের বিতর্কে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সরকারি নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের সীমা, নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সাংবাদিকদের তথ্যসূত্রের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে।   বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ হলো, প্রযুক্তি ব্যবহারের পর কোনো ব্যক্তি যদি জানতে না পারেন যে তার ফোনে নজরদারি চালানো হয়েছে, তাহলে সেই নজরদারির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও সীমিত হয়ে যায়। আর এ কারণেই গ্রাফাইটের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি নয়, স্বাধীন তদারকি ও স্পষ্ট আইনি সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন অধিকারকর্মীরা। সূত্র: দ্য সিটিজেন ল্যাব

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘শক গ্লাভস’ নিষিদ্ধে বিল পাস, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন সংঘাতে রাজ্য
ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘শক গ্লাভস’ নিষিদ্ধে বিল পাস, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন সংঘাতে রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তাদের 'শক গ্লাভস' বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার গ্লাভস ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে সম্প্রতি একটি নতুন বিল পাস করেছেন। 'অ্যাসেম্বলি বিল ২৭৬০' নামের এই প্রস্তাবটি বর্তমানে চূড়ান্ত স্বাক্ষরের জন্য গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের ডেস্কে পাঠানো হয়েছে।   বিলটি আইনে পরিণত হলে ক্যালিফোর্নিয়ার যেকোনো স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য পরিধানযোগ্য ইলেকট্রোশক বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে। ফেডারেল সরকার এই বিশেষ গ্লাভস কেনার জন্য ২ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়ার খবরের পরপরই ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতা লাশায় শার্প-কলিন্স তড়িঘড়ি করে বিলটি উত্থাপন করেন।   কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা এই প্রযুক্তিটি মূলত 'জি.এল.ও.ভি.ই' (জেনারেটেড লো আউটপুট ভোল্টেজ এমিটার) নামে পরিচিত। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই গ্লাভসকে পরিস্থিতি শান্ত করার একটি হাতিয়ার বা 'ডি-এসকেলেশন টুল' হিসেবে বর্ণনা করেছে।   তবে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আইসিই কর্মকর্তারা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন। শার্প-কলিন্সের মতে, এই গ্লাভসগুলো সবচেয়ে কম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও বেপরোয়া কর্মকর্তাদের হাতে গিয়ে পড়বে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।   এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ক্যালিফোর্নিয়ার এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে 'অসাংবিধানিক' আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিষিদ্ধ করার এই অপচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি তাদের কর্মকর্তাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ।   সংবিধানের 'সুপ্রিমেসি ক্লজ'-এর বরাত দিয়ে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, অঙ্গরাজ্যের কোনো আইন কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ খাটাতে পারে না, তাই তারা এই নিষেধাজ্ঞা মানবে না। ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় পুলিশও বিলটির বিরোধিতা করেছে। স্যাক্রামেন্টো কাউন্টির শেরিফ জিম কুপার জানান, তার বিভাগ প্রাণঘাতী অস্ত্রের বিকল্প হিসেবে ইতোমধ্যেই ৩৫ হাজার ডলার খরচ করে ১০টি শক গ্লাভস কিনেছে এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে।   তিনি স্বীকার করেন যে এটি অস্বস্তিকর এবং এতে ব্যথা লাগে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এটি বেশ কার্যকর। উল্লেখ্য, গত বছর ক্যালিফোর্নিয়া আইসিই এজেন্টদের ফেস মাস্ক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি আইন করলেও পরবর্তীতে একজন ফেডারেল বিচারক তা বাতিল করে দিয়েছিলেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত সাত অভিবাসীকে এক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত
এক সপ্তাহে বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত ৭ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার

যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত সাতজন অভিবাসীকে এক সপ্তাহের মধ্যে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কৃতদের মধ্যে বেলিজ, নিকারাগুয়া, মেক্সিকো ও কোস্টারিকার নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদক পাচার, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন অপরাধসহ বিভিন্ন মামলায় দণ্ডের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।   আইসিইর তালিকায় থাকা বেলিজের নাগরিক রাইন উশার ডাকাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। নিকারাগুয়ার গনজালো আন্তোনিও গুজমান-গুজমান একটি জাহাজে কোকেন বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন।   মেক্সিকোর নাগরিক হুয়ান উরকিসা আরমান্ডো শিশুর প্রতি অশালীন আচরণ এবং অ্যাগ্রাভেটেড সেক্সুয়াল ব্যাটারির মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। কোস্টারিকার ওয়াইলেন বারান্তেস-হিমেনেজ একটি জাহাজে এক হাজার কেজি বা তার বেশি মারিজুয়ানা বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন।   এ ছাড়া মেক্সিকোর নাগরিক তেরেসেও দে হেসুস মারকাদো-ফ্লোরেস ৫০ গ্রাম বা তার বেশি মেথঅ্যামফেটামিন বিতরণের মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। হুয়ান পাবলো সেররাতা আগ্নেয়াস্ত্র রাখার পাশাপাশি পাঁচ কেজির বেশি কোকেন বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন।   তালিকার সপ্তম ব্যক্তি এদিলবার্তো গোমেজ ভিয়ালভা অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন প্রকৃতির অশালীন কর্মকাণ্ডের মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। আইসিই জানিয়েছে, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় দণ্ডের পর তাঁদের ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   আইসিই সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধে দণ্ডিত এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত অনুমতি নেই এমন অনাগরিকদের শনাক্ত, আটক ও বহিষ্কারের কার্যক্রম জোরদার করেছে। তবে প্রতিটি ব্যক্তির বহিষ্কারের আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
সিটি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিকে জানাতে হবে ডাইভারসিটি ও আইসিই-সংযোগের তথ্য
শিকাগোতে নতুন নিয়ম, সিটি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিকে জানাতে হবে ডাইভারসিটি ও আইসিই-সংযোগের তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে সরকারি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিগুলোকে এখন তাদের নেতৃত্বে ডাইভারসিটির তথ্য এবং আইসিইসহ বিভিন্ন সরকারি বা আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ২৬ আগস্ট নতুন নির্বাহী আদেশে এসব নিয়ম চালু করেন।   নতুন নীতির আওতায় সিটি কন্ট্রাক্টর ও সাবকন্ট্রাক্টরদের নিজেদের কর্মী ও নেতৃত্বের ডাইভারসিটি সম্পর্কিত তথ্য জানাতে হবে। বিশেষ করে বড় কোম্পানিগুলোকে তাদের করপোরেট নেতৃত্ব ও পরিচালনা পর্ষদের গঠন এবং ডাইভারসিটি বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।   একই সঙ্গে কোনো কোম্পানি গত পাঁচ বছরে আইসিই বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কের ব্যবসা করেছে কি না, সেটিও প্রকাশ করতে হবে। সরকারি কন্ট্রাক্টের সঙ্গে সম্পর্কিত নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক বা বৈষম্যের অভিযোগের তথ্যও প্রকাশের আওতায় থাকবে।   মেয়র জনসন বলেছেন, কর্মক্ষেত্রের তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে বৈষম্য শনাক্ত করা সহজ হবে। তার ভাষায়, শিকাগোর সঙ্গে ব্যবসা করতে চাইলে কোম্পানির নেতৃত্ব শহরের যেসব মানুষের করের অর্থে ওই কন্ট্রাক্ট দেওয়া হচ্ছে, তাদের ডাইভারসিটিকে কতটা প্রতিফলিত করে তা জানা প্রয়োজন।   নতুন নির্বাহী আদেশে শুধু ডাইভারসিটির তথ্য নয়, কোম্পানির ব্যবসায়িক আচরণ নিয়েও কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, মজুরি চুরি বা নির্দিষ্ট ধরনের ‘পাবলিক ইন্টিগ্রিটি ভায়োলেশন’-এ জড়িত থাকলে সেটি সিটি কন্ট্রাক্টের জন্য অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।   এ জন্য ১২ সদস্যের একটি Ethical Procurement Standards Task Force গঠনের কথাও বলা হয়েছে। শহরের প্রধান procurement কর্মকর্তা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়মগুলোর বিস্তারিত বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করবেন।   শিকাগোর এই পদক্ষেপের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জনসন প্রশাসন এমন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারি অর্থের সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে চাইছে, যেগুলো ফেডারেল সরকারের অভিবাসন অভিযান বা ডিপোর্টেশন কার্যক্রমে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত।   তবে নতুন নিয়মের অর্থ এই নয় যে কোনো কোম্পানির আইসিইর সঙ্গে কন্ট্রাক্ট থাকলেই তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিকাগোর ব্যবসা থেকে বাদ পড়বে। বরং কোম্পানিগুলোর সম্পর্ক ও কর্মকাণ্ড প্রকাশের পর সিটি কর্তৃপক্ষ সেগুলো মূল্যায়ন করবে।   শিকাগো সিটি ক্লার্কের রেকর্ড অনুযায়ী, জনসনের এই নির্বাহী আদেশের নাম Executive Order 2026-6 এবং এটি ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষর করা হয়। আদেশটির লক্ষ্য হিসেবে করদাতা ও স্থানীয় কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষা এবং সিটি কন্ট্রাক্টে নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।   এই সিদ্ধান্তের ফলে শিকাগোর সরকারি অর্থ কোন কোম্পানির কাছে যাচ্ছে এবং সেই কোম্পানিগুলো অন্য সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কী ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখছে, সে বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসন শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় নিউ অরলিন্স বিমানবন্দর থেকে ব্রিটিশ রাজনৈতিক ভাষ্যকার মিলো ইয়ানোপুলোসকে আটক করেছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন শুনানিতে অনুপস্থিত, বিমানবন্দরেই আইসিইর হাতে আটক ব্রিটিশ ভাষ্যকার

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্রিটিশ রাজনৈতিক ভাষ্যকার মিলো ইয়ানোপুলোসকে আটক করেছে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই। গত মাসে নির্ধারিত অভিবাসন শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ৪১ বছর বয়সী ইয়ানোপুলোস গত মাসের অভিবাসন শুনানিতে হাজির হননি। এরপর বৃহস্পতিবার নিউ অরলিন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের দাবি, ইয়ানোপুলোস যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং ২০১৯ সালের ১৪ মে নিউইয়র্ক সিটি দিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে পরে অনুমোদিত সময়ের বেশি দেশটিতে অবস্থান করেন বলে বিভাগটি জানিয়েছে।   বিভাগটি আরও জানায়, শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় ২২ জুলাই একজন অভিবাসন বিচারক ইয়ানোপুলোসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ জারি করেন। বর্তমানে তিনি আইসিইর হেফাজতে থাকবেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলবে।   ইয়ানোপুলোস ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্টে কাজ করার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার বক্তব্য ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে তখন সমালোচনা ও নিন্দা দেখা দেয়। ২০১৭ সালে তার পুরোনো কিছু মন্তব্য গণমাধ্যমে পুনরায় আলোচনায় আসার পর তিনি ব্রেইটবার্ট থেকে পদত্যাগ করেন।   এরপর বিভিন্ন ডানপন্থী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। মূলধারার রিপাবলিকানদের সঙ্গেও তার বিরোধ তৈরি হয়। ২০২০ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। পরে র‍্যাপার কানিয়ে ওয়েস্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ২০২৪ সালের ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনায় সহায়তা করেন।   আইসিইর তথ্যভান্ডারে ইয়ানোপুলোসকে বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীদের বহিষ্কার নিয়ে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।   বিভাগটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা যেন আর দেশের ভেতরে বিমান ভ্রমণ করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য একটি সরকারি আবেদনের মাধ্যমে সহায়তা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে ৩ হাজার ডলার এবং বিনামূল্যে বিমান ভ্রমণের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে যারা এই সুযোগ গ্রহণ করবেন না, তাদের আটক করে বহিষ্কার করা হতে পারে বলেও বিভাগটি সতর্ক করেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা-মেয়ে, সেখান থেকেই আইসিইর গ্রেপ্তার; ছাড়তে হলো যুক্তরাষ্ট্র I ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা-মেয়ে, সেখান থেকেই আইসিইর গ্রেপ্তার; ছাড়তে হলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া এক ইকুয়েডরীয় মা ও মেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। ৩৯ বছর বয়সী গ্রেস ক্যালোরো এবং তার ১৯ বছর বয়সী মেয়ে জিউলিয়ানা ক্যারিয়েল গত শুক্রবার ইকুয়েডরের রাজধানী কিটোর মারিসকাল সুক্রে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।   নিজ দেশে প্রাণনাশের হুমকি ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন, কিন্তু গত ২০ আগস্ট ফ্লোরিডার ওসেওলা কাউন্টির এইচসিএ ফ্লোরিডা পয়েনসিয়ানা হাসপাতালে আইসিই (ICE) এজেন্টদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারা ‘স্বেচ্ছায় নির্বাসন’ বা সেলফ-ডিপোর্টের পথ বেছে নেন।   ঘটনার দিন মেয়েকে নিয়ে কাজে যাওয়ার পথে তাদের গাড়িটি অন্য একটি গাড়ির ধাক্কায় বেশ কয়েকবার উল্টে যায়। এরপর তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে স্যালাইনের সুচ লাগানো অবস্থাতেই মা ও মেয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন এবং আইসিই এজেন্ট ও পোল্ক কাউন্টির শেরিফরা তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন। হাসপাতাল থেকে সরাসরি তাদের পোল্ক কাউন্টি জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।   তাদের আইনি অবস্থান নিয়ে অবশ্য দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, গ্রেসের একটি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন ও বৈধ ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে এবং তার মেয়ের ভিসার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৈধ।   অন্যদিকে, পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিস ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (DHS) জানিয়েছে, তারা দুজনেই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।   এই অমানবিক গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শুক্রবার এইচসিএ পয়েনসিয়ানা হাসপাতালের বাইরে ‘হোপ কমিউনিটি সেন্টার’ এবং অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের কর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।   বিক্ষোভকারীরা অভিবাসীদের চিকিৎসাসেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে এমন ভীতি সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভেরিফায়েড সদস্যদের সাথে আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই তারা কাজ করেছে এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে তাদের কোনো গাফিলতি ছিল না।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন নাগরিক পরিচয় দিয়ে ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেপ্তার আইসিই-বিরোধী আন্দোলনকারী
মার্কিন নাগরিক পরিচয় দিয়ে ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেপ্তার আইসিই-বিরোধী আন্দোলনকারী

ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্ভাব্য নির্বাচন জালিয়াতি প্রতিরোধে শুরু হওয়া অভিযানের অংশ হিসেবে ডারউইন জোনাথন রিভেরা ফ্লোরেস (৩০) নামের হন্ডুরাসের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এজেন্টরা। আইসিই (ICE)-বিরোধী এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আগেই পরিচিতি পাওয়া এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করে ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলি জানান, শুক্রবার সকালে ভেনচুরার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে থেকে রিভেরা ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করা হয়।   তিনি আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে অনাগরিকদের পক্ষে সহজেই ভোটার হওয়া এবং ডাকযোগে ব্যালট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ঠিক কতজন অনাগরিক ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত আছেন, তা বলা কঠিন।   যুক্তরাষ্ট্রে আইনত স্থায়ী বাসিন্দা হলেও নাগরিকত্ব না থাকা রিভেরা ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তারের এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন লস অ্যাঞ্জেলেসে সম্ভাব্য নির্বাচন জালিয়াতির একাধিক মামলা তদন্ত করছে ফেডারেল এজেন্টরা।   এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে ক্যামারিলোতে আইসিই-বিরোধী এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ফেডারেল ভবনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে রিভেরাকে এক বছরের প্রবেশনে রাখা হয়েছিল।   পরবর্তীতে এপ্রিলে এক ফেডারেল এজেন্টকে অপমানজনক টেক্সট মেসেজ পাঠানোর পাশাপাশি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।   তদন্তে নেমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উইসকনসিনের ঠিকানায় "ডারউইন রিভেরা" নামে একটি অনলাইন ভোটার নিবন্ধনের রেকর্ড এবং তার স্বাক্ষরযুক্ত একটি আবেদনপত্র উদ্ধার করে।   ওই ফর্মে তিনি মার্কিন নাগরিক হিসেবে নিজেকে দাবি করেন এবং পরিচয়পত্র হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করেন। তবে তার নাগরিকত্ব চাওয়া বা পাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, এমনকি তিনি কোনো নির্বাচনে ভোটও দেননি।   ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলির মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার শিথিল ভোটার নিবন্ধন আইন এ ধরনের জালিয়াতিকে উৎসাহিত করে। অঙ্গরাজ্যটি ফেডারেল সরকারের সাথে ভোটার তালিকা শেয়ার না করায় নিবন্ধিত ব্যক্তিরা সত্যিই মার্কিন নাগরিক কি না, তা যাচাই করা কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব হয় না। তবে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে হলে প্রত্যেককে শপথের অধীনে নিশ্চিত করতে হয় যে তিনি মার্কিন নাগরিক।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
৬ হাজার ইলেকট্রিক শক গ্লাভস কিনছে আইসিই, খরচ ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার
৬ হাজার ইলেকট্রিক শক গ্লাভস কিনছে আইসিই, খরচ ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার

আইসিই আটক ব্যক্তি ও বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের জন্য ৬ হাজার জোড়া ইলেকট্রিক শক দিতে সক্ষম গ্লাভস কিনছে। এ জন্য কেনটাকিভিত্তিক কোম্পানি কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসির সঙ্গে ১৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের একটি নো-বিড চুক্তি করেছে সংস্থাটি।   ফেডারেল ডাটাবেসে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, চুক্তিতে শুধু গ্লাভস নয়, এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট সেবাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগামী ছয় মাসে এসব সরঞ্জাম সরবরাহের কথা রয়েছে। প্রতি গ্লাভসের দাম প্রায় ২ হাজার ৪৯৫ ডলার বলে ফেডারেল চুক্তির নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।    আইসিই জানিয়েছে, গ্লাভসগুলো বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হবে, যখন কোনো ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে বা নিষ্ক্রিয়ভাবে বাধা দিচ্ছেন এবং দ্রুত তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। গ্রেপ্তার, আক্রমণাত্মক আচরণ করা আটক ব্যক্তিকে এক স্থান থেকে অন্যত্র নেওয়া এবং ডিটেনশন ফ্যাসিলিটির বাইরে সিভিল ডিসটার্বেন্সের মতো পরিস্থিতিতে এগুলো ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।    গ্লাভসটি সাধারণ প্যাট্রোল গ্লাভসের মতোই থাকে। তবে অফিসার একটি বোতাম চাপলে এর ইলেকট্রিক মোড সক্রিয় হয়। এরপর গ্লাভসটি সরাসরি কারও ত্বকে লাগলে ব্যথাদায়ক বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। আইসিইর দাবি, এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা এবং আগ্নেয়াস্ত্রসহ আরও গুরুতর ধরনের বলপ্রয়োগের প্রয়োজন কমানো।   তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। নাগরিক অধিকারকর্মী এবং ডেমোক্র্যাটিক দলের কয়েকজন সিনেটর আশঙ্কা করছেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ, ব্যবহারের স্পষ্ট সীমা এবং পর্যাপ্ত নজরদারি ছাড়া এই সরঞ্জাম অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।    নেভাদার ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্টোসহ ১৬ জন সিনেটর বৃহস্পতিবার আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান জানান। তারা আইসিইর সাম্প্রতিক বলপ্রয়োগ নিয়ে বিতর্কের কথা তুলে ধরে জানতে চান, নতুন এই সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কী এবং অফিসারদের কীভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।    সিনেটররা বিশেষভাবে জানতে চেয়েছেন, গ্লাভস ব্যবহারের প্রতিটি ঘটনা কীভাবে নথিভুক্ত ও অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করা হবে। তাদের মতে, স্পষ্ট নিয়ম ও কার্যকর নজরদারি ছাড়া আটক ব্যক্তি বা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এর ব্যবহার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।    এর আগে চলতি মাসেই আইসিইর গ্লাভস কেনার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আসে। তখন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এসব সরঞ্জামকে ‘কন্ডাক্টিভ ডিসট্র্যাকশন অ্যান্ড ডি-এস্কেলেশন ডিভাইস’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।    তবে সমালোচনার জবাবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বলেছে, ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা তাদের দায়িত্ব পালনে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সংস্থাটি দাবি করেছে, কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা জরুরি।    ইলেকট্রিক শক গ্লাভস নিয়ে বিতর্কের মূল প্রশ্ন এখন এর ব্যবহার কতটা নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং আইসিই কর্মকর্তারা কোন পরিস্থিতিতে এটি প্রয়োগ করতে পারবেন। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রশিক্ষণ, ব্যবহারবিধি ও নজরদারির কাঠামো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়েই নজর থাকবে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের আমলে আইসিইর রেকর্ড গ্রেপ্তার, অর্ধেকের বেশি অভিবাসীর নেই অপরাধের রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। জুনে ৪৩ হাজারের বেশি এবং জুলাইয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। তবে জুলাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধে দণ্ড বা বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা ছিল না বলে নতুন ফেডারেল তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক নির্বাসন অভিযানের মধ্যে আইসিই এখন শুধু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের নয়, বরং যাদের বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হয়েছে কিংবা যারা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে আছেন, তাদেরও বেশি হারে গ্রেপ্তার করছে। একই সময়ে অতীতে সহিংস অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের হার ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।   অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযানের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। কারাগার থেকে অভিবাসীদের হেফাজতে নেওয়ার বদলে আইসিই এখন কর্মস্থল, বাড়ি এবং ট্রাফিক স্টপের মতো জায়গা থেকে সরাসরি গ্রেপ্তার বাড়িয়েছে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আইসিইর প্রায় ৬৩ শতাংশ গ্রেপ্তার এখন এ ধরনের সরাসরি অভিযানের মাধ্যমে হচ্ছে।   এ ধরনের অভিযানে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের অংশগ্রহণও বেড়েছে। ২৮৭(জি) কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহায়তার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে আইসিইর হেফাজতে নেওয়া মানুষের সংখ্যা এখন মোট গ্রেপ্তারের প্রায় ১৪ শতাংশ।   অভিবাসন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতায় থাকা ব্যক্তিরাও এখন ঝুঁকিতে পড়ছেন। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন বা গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া চলার সময় যাদের বৈধ স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদেরও আইসিই গ্রেপ্তার করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের প্রশাসনগুলোর সময়ে এ ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের সাধারণত আটক করা হতো না।   ট্রাম্প প্রশাসন একই সঙ্গে আইসিইর আটক ও নির্বাসন কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছে। চলতি বছরের শুরুতে আইসিই কর্মকর্তারা কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে নির্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। যেকোনো সময়ে অন্তত ৯৯ হাজার মানুষকে আইসিইর আটক কেন্দ্রে রাখার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।   নির্বাসনসংক্রান্ত ফ্লাইটের সংখ্যাও বেড়েছে। হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে আইসিইর আটক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের জন্য ১ হাজার ৩৬৩টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে, যা অন্তত ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ মাসিক সংখ্যা। একই মাসে অন্তত ৩২৯টি নির্বাসন ফ্লাইট ৩৭টি দেশে পরিচালিত হয়েছে।   তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, অপরাধের রেকর্ড না থাকা ব্যক্তিদেরও ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার ও দ্রুত নির্বাসনের আওতায় আনা হলে তাদের আইনি অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশেষ করে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো অভিবাসীদের ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা এবং পরে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের দমনে ১৬.৭ মিলিয়ন ডলারের ‘ইলেকট্রিক শক গ্লাভস’ কিনছে আইসিই
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের দমনে ১৬.৭ মিলিয়ন ডলারের ‘ইলেকট্রিক শক গ্লাভস’ কিনছে আইসিই

মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) আটককৃত অভিবাসী এবং বিক্ষোভকারীদের দমনের জন্য ১৬.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চরম বিতর্কিত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় সংস্থাটি ৬ হাজার জোড়া ‘ইলেকট্রিক শক গ্লাভস’ বা বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম বিশেষ ধরনের হাতমোজা কিনতে যাচ্ছে।   মানবাধিকার কর্মী এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ব্যাপক বিরোধিতা ও উদ্বেগ সত্ত্বেও এই বিপুল পরিমাণ গ্লাভস কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে আইসিই। সংস্থাটির দাবি, যেসব বন্দি বা বিক্ষোভকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতেই কর্মকর্তারা এই বিশেষ গ্লাভস ব্যবহার করবেন।   বৃহস্পতিবার ফেডারেল ডেটাবেসে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্টাকি-ভিত্তিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি’-এর সাথে কোনো ধরনের পূর্ব দরপত্র ছাড়াই এই চুক্তি করেছে আইসিই।   চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৬ হাজার জোড়া গ্লাভস এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি। সাধারণ টহল গ্লাভসের মতোই দেখতে এই ডিভাইসের নির্দিষ্ট বোতাম চাপলে তা মুহূর্তেই বৈদ্যুতিক মোডে চলে যায়।   এরপর সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে এলে এটি এমনভাবে শক তৈরি করে, যা তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু স্থানীয় কারাগার ও পুলিশ বিভাগ এই বিশেষ গ্লাভস ব্যবহার করলেও, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অধীনে আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে এর ব্যবহার চরম মাত্রায় ক্ষমতার অপব্যবহার ডেকে আনতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।   এই গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট সিনেটররা। নেভাডার ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্তোর নেতৃত্বে ১৬ জন আইনপ্রণেতা আইসিই-র ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের কাছে চিঠি দিয়ে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।   চিঠিতে তারা লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো এবং মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অমানবিক আচরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, সুস্পষ্ট নীতিমালা ও যথাযথ নজরদারি ছাড়া এই গ্লাভসের ব্যবহার সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।   তবে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে আইসিই-র মূল সংস্থা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) পাল্টা বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে বাধা দেওয়া মূলত দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জীবন বিপন্ন করার একটি হীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চেষ্টা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে মন্দার প্রভাবে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতেই বাড়ির দাম কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শহরে সবচেয়ে দ্রুত কমছে বাড়ির দাম, ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০