যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হচ্ছে বিকৃত পর্নোগ্রাফি, আইন ভঙ্গ করলে ৫ বছরের জেল
যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নির্দিষ্ট ধরনের পর্নোগ্রাফিক ছবি বা ভিডিও নিজের কাছে রাখা এবং প্রকাশ করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়া এই আইনে শ্বাসরোধের দৃশ্য, নির্দিষ্ট আত্মীয়ের মধ্যে যৌন সম্পর্কের দৃশ্য এবং অপ্রাপ্তবয়স্কের ছদ্মবেশে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন কর্মকাণ্ডের চিত্রযুক্ত সামগ্রী নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করে এসব সামগ্রী প্রকাশ বা অন্যের কাছে ছড়ালে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আর নিষিদ্ধ সামগ্রী নিজের কাছে রাখার অপরাধে বিষয়ভেদে দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাস্তব মানুষের মতো দেখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবিও এই আইনের আওতায় পড়বে।
নতুন বিধানটি যুক্তরাজ্যের অপরাধ ও পুলিশিং আইন ২০২৬-এর অংশ। এতে তিন ধরনের পর্নোগ্রাফিক সামগ্রীকে বিশেষভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রথমত, কোনো ব্যক্তির গলা চেপে ধরা বা শ্বাস নেওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ার বাস্তবসম্মত দৃশ্য। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মধ্যে যৌন সম্পর্কের দৃশ্য, এমনকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাস্তবে আত্মীয় না হলেও যদি তাঁদের আত্মীয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তৃতীয়ত, এমন যৌন কর্মকাণ্ডের দৃশ্য, যেখানে অন্তত একজনকে ১৬ বছরের কম বয়সী বলে মনে হয় অথবা তাঁকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে অভিনয় করতে দেখা যায়। তবে এই বিধান সব ধরনের পর্নোগ্রাফি বা প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে করা সাধারণ যৌন অভিনয়ের ওপর blanket নিষেধাজ্ঞা নয়।
নতুন আইনে নিষিদ্ধ সামগ্রী নিজের কাছে রাখার শাস্তি অপরাধের ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। শ্বাসরোধ বা নির্দিষ্ট আত্মীয়ের মধ্যে যৌন সম্পর্কের দৃশ্যসংবলিত পর্নোগ্রাফি রাখলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আর ১৬ বছরের কম বয়সী হিসেবে উপস্থাপিত ব্যক্তিকে নিয়ে যৌন কর্মকাণ্ডের দৃশ্যসংবলিত সামগ্রী রাখলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তিন ধরনের নিষিদ্ধ সামগ্রী প্রকাশ, আপলোড, পাঠানো, ভাগাভাগি বা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
আইনের আওতায় শুধু ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সামগ্রীই নয়, ব্যক্তিগত মুঠোফোন, কম্পিউটার, অনলাইন অ্যাকাউন্ট কিংবা ক্লাউডে সংরক্ষিত ছবিও পড়তে পারে। আগে থেকে এসব সামগ্রী নিজের কাছে থাকলে আইন কার্যকরের আগেই স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার নির্দেশনা দিয়েছিল বিচার মন্ত্রণালয়। একইভাবে অনলাইনে আপলোড করা নিষিদ্ধ ছবি বা ভিডিও অন্যদের দেখার সুযোগ থাকলে সেগুলোও সরিয়ে ফেলতে হবে। তবে কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন ছবি পেয়ে গেলে এবং অযৌক্তিক সময় পর্যন্ত সেটি নিজের কাছে না রাখলে নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, সহিংসতামূলক যৌন দৃশ্যের সহজলভ্যতা মানুষের আচরণ ও সম্পর্ক সম্পর্কে ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সহিংস আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত অক্টোবরে দেশটির বিচার প্রতিমন্ত্রী অ্যালেক্স ডেভিস-জোনস বলেন, এই আইনের উদ্দেশ্য নিরীহ যৌন পছন্দকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা নয়। বরং নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে তুলে ধরে, এমন সামগ্রীর বিস্তার রোধ করাই এর লক্ষ্য। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যারোনেস গ্যাবি বার্টিনের নেতৃত্বে পরিচালিত পর্যালোচনার সুপারিশের ভিত্তিতেও আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
তবে নতুন আইন নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বাক্স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের আশঙ্কা, আইনের কিছু শব্দ ও সংজ্ঞা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। ফলে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে তৈরি কিছু যৌন দৃশ্যও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। বিশেষ করে শ্বাসরোধ বা শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা দেওয়ার সংজ্ঞা আইনে নির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। বিচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গলা চেপে ধরার পাশাপাশি মুখ ও নাক ঢেকে দেওয়া কিংবা বুকের ওপর চাপ সৃষ্টি করে শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত করাও শ্বাসরোধের আওতায় আসতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট ছবি আইনের আওতায় পড়বে কি না, তা শেষ পর্যন্ত আদালত নির্ধারণ করবে।
আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সংসদ সদস্য জেসিকা আসাতো নতুন বিধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কিছু বক্তব্য সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে হওয়া কিছু যৌন কর্মকাণ্ড নিয়েও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমালোচকদের মতে, আইনের অস্পষ্টতা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিভিত্তিক যৌন আচরণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিষিদ্ধ করা হয়েছে নির্দিষ্ট ক্ষতিকর ও বাস্তবসম্মত দৃশ্যযুক্ত সামগ্রী, সব ধরনের প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন নয়।
এদিকে, অনলাইনে নিষিদ্ধ সামগ্রীর বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপরও যুক্তরাজ্যের অনলাইন নিরাপত্তা আইনের আওতায় দায়িত্ব রয়েছে। দেশটির যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম এসব নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড অথবা তাদের যোগ্য বৈশ্বিক আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। তবে এটি নতুন ফৌজদারি আইনের অধীনে ব্যক্তির কারাদণ্ডের বিধান থেকে আলাদা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য, নতুন বিধানটি মূলত ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কার্যকর হয়েছে। স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে এ ধরনের সামগ্রী নিয়ন্ত্রণে পৃথক আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে পুরো যুক্তরাজ্যে একই নিয়ম কার্যকর হয়েছে বলে মনে করার সুযোগ নেই।
সংবাদ সূত্র: যুক্তরাজ্যের বিচার মন্ত্রণালয়, সরকারি আইনবিষয়ক ওয়েবসাইট ও নিউজউইক।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
বিশ্ব
View moreবেতন বাড়ানো, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও ধর্মঘট হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির দুই শতাধিক স্থানে রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভে অংশ নেন ৬ লাখের বেশি মানুষ। তবে দেশটির অন্যতম বড় শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, সারা দেশে বিক্ষোভ ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ লাখ। প্যারিসের বিক্ষোভে শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশার কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা একসঙ্গে অংশ নেন। তাঁদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে বৈষম্য, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এবং জীবনধারণের ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ পায়। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘বৈষম্য আমাদের ভবিষ্যৎকে গুরুতরভাবে হুমকির মুখে ফেলছে।’ আরেকটিতে বলা হয়, ‘সারাজীবন শুধু জীবিকা নির্বাহের জন্য লড়াই করে কাটাতে পারি না।’ সিজিটির হিসাবে, শুধু প্যারিসেই বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। বিক্ষোভের কারণে দেশটির শিক্ষা ও পরিবহন খাতেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ফ্রান্সের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উচ্চবিদ্যালয় বন্ধ ছিল অথবা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি। কোথাও শিক্ষার্থীদের অবরোধ, আবার কোথাও শিক্ষকদের ধর্মঘটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হয়। কয়েকটি এলাকায় গণপরিবহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতির কারণে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারও বন্ধ রাখা হয়। বিক্ষোভের আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। তাঁদের সঙ্গে ছিল সাঁজোয়া যান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার। প্যারিসের কর্মসূচি বেশির ভাগ সময় শান্তিপূর্ণ থাকলেও রেন, লিওঁ, নঁত, পাউ, অর্লেয়াঁ ও তুলুজসহ কয়েকটি শহরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কিছু এলাকায় মুখোশধারী ব্যক্তিরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন এবং পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের ঘটনায় অন্তত ৪৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রধান শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, দেশটি অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, বাড়িভাড়া, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সেই তুলনায় বেতন ও পেনশন বাড়ছে না। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বেতন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং সরকারি সেবার মান উন্নত করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনগুলো। শিক্ষার্থীদের দাবিও এবারের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। প্যারিসের ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গারাঁস ব্লেজ বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকেরাও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী কোরিন কুচিনি কর্মীসংকট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবের কথা তুলে ধরে বেতন এবং কর্মপরিবেশ উন্নত করার দাবি জানান। আন্দোলনের সূত্রপাত গত সেপ্টেম্বরে প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মীসংকটের প্রতিবাদ থেকে। পরে শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে যোগ দেন। ধীরে ধীরে বেতন, পেনশন, জ্বালানির দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তুষ্ট শ্রমিকেরাও এতে যুক্ত হন। ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমে দেশজুড়ে বৃহত্তর শ্রমিক ও নাগরিক বিক্ষোভে রূপ নেয়। ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। এবারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সেই সময়ের তুলনায় আরও বেশি বলে জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। বিক্ষোভের মধ্যে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আগামী বছর মে মাসে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা আন্দোলনের প্রতি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। বৃহস্পতিবার প্যারিসের বিক্ষোভে অংশ নেন বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ, গ্রিন পার্টির নেতা মারিন তন্দেলিয়ে এবং মধ্যপন্থী বাম রাজনীতিক রাফায়েল গ্লুকসম্যান। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সংবিধান অনুযায়ী টানা তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এদিকে আন্দোলনের চাপ সামাল দিতে সরকার শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর দপ্তর জানিয়েছে, আগামী সোমবার শ্রমিক সংগঠন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সামাজিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বেতন ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু আলোচনা নয়, বেতন বৃদ্ধি, সরকারি সেবায় অর্থায়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সংবাদ সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিজিটি শ্রমিক সংগঠন
মোবাইল গেম দিয়ে ১৩ কোটি ডলার প্রতারণা, যুবকের ৪৫ হাজার বছরের বেশি কারাদণ্ড
ইরানকে ৯০টি হেলিকপ্টার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র দিতে চুক্তি রাশিয়ার
যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হচ্ছে বিকৃত পর্নোগ্রাফি, আইন ভঙ্গ করলে ৫ বছরের জেল
কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল শহরে একটি ভবনের আটতলা থেকে পড়ে পাশের বাড়ির টিনের ছাদে গিয়ে পড়েছেন এক নারী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রায় আধঘণ্টা পর তাঁর জ্ঞান ফেরে। এরপর ছাদের ওপর বসে প্রায় ২০ মিনিট মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তিনি। পরে নিজেই ছাদ থেকে নেমে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। তবে এত উঁচু থেকে পড়ার পর তাঁর শরীরে কী ধরনের আঘাত লেগেছিল, কিংবা পরে চিকিৎসা নিয়েছিলেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি। ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে। সিহানুকভিলের বাসিন্দারা বিকট শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে পাশের একটি বাড়ির ঢেউটিনের ছাদের ওপর ওই নারীকে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। প্রথমে তাঁরা ধারণা করেছিলেন, এত উঁচু থেকে পড়ে নারীটির মৃত্যু হয়েছে অথবা তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। কিন্তু প্রায় ৩০ মিনিট পর তাঁকে নড়াচড়া করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি উঠে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার শুরু করেন। ঘটনাস্থলে ততক্ষণে আশপাশের মানুষের ভিড় জমে যায়। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিচ থেকে টর্চের আলো দিয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। নারীটিকে ধূসর রঙের পোশাক পরা অবস্থায় ছাদের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। প্রায় ২০ মিনিট ফোন ব্যবহারের পর তিনি ধীরে ধীরে উঠে ছাদের কিনারার দিকে এগিয়ে যান। পরে নিজেই নিচে নেমে সেখান থেকে চলে যান বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার বেশ কিছু বিষয় এখনো অজানা। নারীর পরিচয়, তিনি কোন ভবন থেকে কীভাবে পড়ে গিয়েছিলেন এবং ঘটনার সময় সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তিনি পড়ে যাওয়ার পর কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে তাঁকে গুরুতর কোনো আঘাত ছাড়াই বেঁচে ফিরেছেন বলে নিশ্চিতভাবে দাবি করার সুযোগ নেই। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিএনবি নিউজের বরাতে চীনা সংবাদমাধ্যম সিন চিউ ডেইলি প্রথম ঘটনাটি প্রকাশ করে। পরে সিঙ্গাপুরের সংবাদমাধ্যম মাদারশিপ, স্টম্পসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও খবরটি প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে ভিডিওতে দেখা দৃশ্যের বাইরে নারীর শারীরিক অবস্থা বা ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: সিন চিউ ডেইলি, মাদারশিপ।
অসুস্থ মায়ের সেবায় পড়াশোনা ছাড়ার সিদ্ধান্ত, পাশে দাঁড়াল সহপাঠীরা
ইরান যুদ্ধের প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পালাবদল, ক্ষমতা হারানোর মুখে ট্রাম্পের দল
চীনের কারখানায় ৮ ঘণ্টার শিফট শেষ করে ইতিহাস গড়ল শাওমির হিউম্যানয়েড রোবট
যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে ইচ্ছুক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনে আর্থিক সক্ষমতার শর্ত আরও কঠোর হচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য আগের তুলনায় বেশি অর্থের প্রমাণ দেখাতে হবে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, লন্ডনে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে পড়তে গেলে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড থাকার খরচের জন্য দেখাতে হবে। এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বা পড়াশোনার খরচের বাইরে আলাদাভাবে থাকতে হবে। বর্তমানে লন্ডনে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে ১ হাজার ১৭১ পাউন্ডের আর্থিক সক্ষমতা দেখাতে হয়। নতুন নিয়মে লন্ডনে মাসিক প্রয়োজনীয় অর্থ বাড়ছে ৪১ পাউন্ড এবং অন্যান্য এলাকায় ৩২ পাউন্ড। নয় মাস বা তার বেশি মেয়াদের কোর্সের ক্ষেত্রে লন্ডনে মোট ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড দেখাতে হবে, যা বর্তমানে ১৩ হাজার ৭৬১ পাউন্ড। অন্যদিকে, লন্ডনের বাইরে নয় মাসের জন্য প্রয়োজন হবে ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ড, যা আগে ছিল ১০ হাজার ৫৩৯ পাউন্ড। অর্থাৎ নয় মাসের হিসাবে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩৬৯ থেকে ২৮৮ পাউন্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের শুধু থাকা-খাওয়ার খরচ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বকেয়া টিউশন ফি, ভিসা আবেদনের ফি এবং বাধ্যতামূলক অভিবাসন স্বাস্থ্য সারচার্জও বহন করার সক্ষমতা থাকতে হবে। সাধারণ নিয়মে প্রয়োজনীয় অর্থ আবেদনকারীর নিজের অথবা মা-বাবার ব্যাংক হিসাবে টানা অন্তত ২৮ দিন জমা থাকতে হবে। ব্যাংক হিসাবের শেষ দিনের ব্যালান্সসহ আর্থিক নথি ভিসা আবেদনের তারিখের ৩১ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। তবে অনুমোদিত শিক্ষাঋণ অথবা সরকারি ও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমেও এই শর্ত পূরণ করা সম্ভব। তবে যুক্তরাজ্যে বৈধ অভিবাসন অনুমতি নিয়ে টানা অন্তত ১২ মাস বসবাস করেছেন, এমন শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত নতুন করে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে না। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবাসনের জন্য অগ্রিম অর্থ জমা দেওয়া থাকলে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সেই অর্থ জীবনযাত্রার ব্যয়ের হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন নিয়মে এই ছাড়ের সর্বোচ্চ সীমাও ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশটির স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য যে পরিমাণ আর্থিক সহায়তা নির্ধারণ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের শর্তও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অভিবাসন বিধিমালার পরিবর্তনসংক্রান্ত নথিতে নতুন অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। ভিসা আবেদনের তারিখের ভিত্তিতে পুরোনো ও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ২৯ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা দিলে পুরোনো নিয়ম এবং ৩০ নভেম্বর বা তার পরে আবেদন করলে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। এদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে স্পনসরড স্টাডি ভিসার আবেদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ কমেছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই প্রবণতা তাদের আর্থিক পরিকল্পনায় চাপ তৈরি করছে। নতুন আর্থিক শর্তের কারণে যুক্তরাজ্যে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যয় আরও সতর্কভাবে হিসাব করতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, টিউশন ফি, আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক ব্যালান্সের বিষয়টিও আগেভাগে পরিকল্পনায় রাখতে হবে। ৩০ নভেম্বরের আগে বা পরে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নতুন আর্থিক শর্ত এবং ২৮ দিনের ব্যাংক ব্যালান্সের নিয়ম ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, ৩ মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের
বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার উত্তর কোরিয়ার