চাপের মুখে ট্রাম্পের গণ-বহিষ্কার অভিযানে বড় রদবদল
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘গণ-ডিপোর্টেশন’ বা গণ-বহিষ্কার অভিযানে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। জনমনে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন এনে এই অভিযানের ধরনে কিছুটা নমনীয়তার আভাস দেওয়া হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) প্রধান ক্রিস্টি নোয়েমকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন সিনেটর মার্কওয়েন মুলিন। একই সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (বর্ডার প্যাট্রোল) প্রভাবশালী কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনোকেও তার পদ থেকে অবনমন (Demote) করা হয়েছে।
প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, নোয়েম এবং বোভিনো ছিলেন ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রধান মুখ। তাদের অধীনে বড় বড় শহরে যেভাবে ঝটিকা অভিযান (Raids) চালিয়ে অভিবাসীদের আটক করা হচ্ছিল, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের এই গণ-বহিষ্কার কর্মসূচির জনপ্রিয়তা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকানদের বড় একটি অংশ এই হার্ডলাইন কৌশলের বিপক্ষে। বিশেষ করে মিনেয়াপোলিসের মতো শহরগুলোতে অভিযানের সময় সংঘাত এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এই সিদ্ধান্তকে আরও বিতর্কিত করে তোলে।
অভিযোগ উঠেছে যে, নোয়েম এবং বোভিনোর ‘যুদ্ধংদেহী’ মনোভাবের কারণে আইনি জটিলতা বাড়ছিল এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছিল।
নতুন ডিএইচএস প্রধান মার্কওয়েন মুলিন এবং ‘বর্ডার জার’ হিসেবে পরিচিত টম হোম্যান এখন এই অভিযানের দায়িত্ব সামলাবেন। হোম্যান ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা আগের মতো বড় শহরগুলোতে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী অভিযানের চেয়ে ‘টার্গেটেড’ বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর গুরুত্ব দেবেন। অর্থাৎ, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে, তাদের বহিষ্কারেই বেশি জোর দেওয়া হবে।
তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে, কেবল মুখ পরিবর্তন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ, গ্রেফতারের হার কিছুটা কমলেও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া অভিবাসীদের আটকে রাখার অভিযোগ এখনও রয়ে গেছে।
শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল হলেও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। অনেকে মনে করছেন, এটি প্রশাসনের একটি কৌশলগত চাল মাত্র। লোকচক্ষুর অন্তরালে বহিষ্কার অভিযান আরও নিখুঁতভাবে চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প সরকার।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বহিষ্কার অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত কয়েক লক্ষ মানুষকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের আর্থিক সক্ষমতা আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত চূড়ান্ত নীতিমালায় ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, অভিবাসীরা যেন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হন, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর বা এর পরে জমা দেওয়া ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা ফর্ম আই-৪৮৫ আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন এই নিয়ম পুরোপুরি প্রযোজ্য হবে। নতুন নীতি অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারী কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন কি না, তা নির্ধারণ করতে পাঁচটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। এগুলো হলো—আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি, সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা এবং শিক্ষা ও দক্ষতা। এর পাশাপাশি স্পন্সরের দেওয়া আর্থিক নিশ্চয়তাপত্র বা ফর্ম আই-৮৬৪-ও বিবেচনা করা হবে। নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ফুড স্ট্যাম্প, আবাসন সহায়তা, নগদ অর্থ কিংবা কলেজে পড়ার জন্য আর্থিক অনুদানের মতো যেকোনো ধরনের সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই তা যাচাই-বাছাইয়ে প্রভাব ফেলবে। তবে এর আগে নেওয়া সুবিধার ক্ষেত্রে পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র নগদ অর্থ সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি সরকারি চিকিৎসাসেবা বিবেচনা করা হবে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেবেন। অবশ্য এই কঠোর নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বিশেষ কিছু শ্রেণির অভিবাসীদের। এর মধ্যে রয়েছেন শরণার্থী বা অ্যাসাইলাম প্রাপ্তরা, মানবপাচার ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তি এবং বিশেষ অভিবাসী কিশোর-কিশোরীরা। এছাড়া, কোনো আবেদনকারী যদি শুধুমাত্র ‘পাবলিক চার্জ’ বা সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কায় বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন, তবে তাকে ‘পাবলিক চার্জ বন্ড’ বা আর্থিক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে পারে ইউএসসিআইএস। এটি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ বা গ্যারান্টি, যা প্রমাণ করে যে আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হবেন না। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার দেওয়া চিঠির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে বন্ড জমা দিতে পারলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
কানেকটিকাটের স্টেট হাউসের পর এবার সিনেটের পথে মেরিয়াম খান, জিতলে গড়বেন নতুন ইতিহাস
গবেষণায় দান করা মরদেহ কালোবাজারে বিক্রি! ৫৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে ফুটবল মাঠে গণপিটুনি! প্রাণ গেল ১৯ বছরের তরুণের
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে চলমান বিরোধ আরও তীব্র করল যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালতের সিনিয়র ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আকানে ও সেয়ের কোনো সম্পদ থাকলে তা জব্দ বা ফ্রিজ করা হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় তাদের প্রবেশাধিকারও কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। মার্কো রুবিওর অভিযোগ, আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার স্বীকার করেনি এমন দেশের কর্মকর্তাদের তদন্ত, গ্রেপ্তার বা বিচারের আওতায় আনার প্রচেষ্টায় আকানে ও সেয়ে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কোনো দেশ আইসিসির এখতিয়ার মেনে না নিলে সেই দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে আদালতের এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। নিষেধাজ্ঞার পেছনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। গাজা যুদ্ধ ঘিরে কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা আবদুলায়ে সেয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে জাপানের নাগরিক তোমোকো আকানে ২০২৪ সাল থেকে আইসিসির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসি প্রতিষ্ঠাকারী রোম স্ট্যাটিউটের সদস্য হয়নি। ফলে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নাগরিকদের ওপর এই আদালতের বিচারিক ক্ষমতা থাকার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের মতো আইসিসির সদস্য নয় এমন দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের পদক্ষেপ জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ। তবে আইসিসির যুক্তি ভিন্ন। রোম স্ট্যাটিউটের অধীনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি সদস্য নয় এমন দেশের নাগরিক হলেও আদালত বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক আদালতটি। আইসিসি বলেছে, এ ধরনের ব্যবস্থা আদালতের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এবং আইনের শাসনকে দুর্বল করে। আদালত তার কর্মকর্তা ও কর্মীদের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপানও সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছে। জাপান সরকার তাদের নাগরিক ও আইসিসি প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে 'অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক' বলে উল্লেখ করেছে। নেদারল্যান্ডসও নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আইসিসির এই বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও আদালতের প্রধান প্রসিকিউটরসহ একাধিক বিচারক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন। আফগানিস্তানে মার্কিন কর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির তদন্ত এবং গাজা যুদ্ধ ঘিরে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের পদক্ষেপের পর দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিসির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কো রুবিও। যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য আদালতটিকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে সদস্য দেশগুলোকে আইসিসি থেকে সরে আসতে চাপ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে আইসিসি বলছে, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপের মুখেও যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব থেকে তারা সরে আসবে না। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন আরও গভীর হলো।
আলাস্কায় দলনিরপেক্ষ সিনেট প্রাইমারিতে সুলিভানকে পেছনে ফেললেন ডেমোক্র্যাট মেরি পেল্টোলা
পাইলট সংকট কাটাতে আটলান্টার স্কুলে বিমানচালনা প্রশিক্ষণ
রোগীর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট ঠেকানোর অভিযোগ, সেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর অনেকেই মনে করেন নাগরিকত্বের পথ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। বাস্তবে গ্রিন কার্ড থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিটিজেনশিপ নিশ্চিত হয় না। দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা, নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ট্যাক্স ফাইল করা কিংবা আইনগত অধিকার না থাকা অবস্থায় ভোট দেওয়ার মতো বিষয় ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের আবেদনে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। ২০২৬ সালের কার্যকর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ন্যাচারালাইজেশনের সময় ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিক বসবাস, বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস, ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য এবং ভোট দেওয়া বা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের মতো বিষয় যাচাই করতে পারে। প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা। সাধারণ নিয়মে নাগরিকত্বের জন্য একজন গ্রিন কার্ডধারীকে নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিকভাবে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হয়। অধিকাংশ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই সময় পাঁচ বছর। মার্কিন নাগরিকের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে তিন বছরের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তবে একটানা ছয় মাসের বেশি কিন্তু এক বছরের কম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলেই যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে যাবে বা নাগরিকত্বের যোগ্যতা শেষ হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের অনুপস্থিতি ন্যাচারালাইজেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাস ভেঙে গেছে বলে ধরে নেওয়ার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তখন আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রেই তার স্থায়ী বসবাস বজায় ছিল। আর একটানা এক বছর বা তার বেশি দেশের বাইরে থাকা সাধারণভাবে নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাসে আরও বড় বাধা তৈরি করে। একই সঙ্গে দীর্ঘ অনুপস্থিতি গ্রিন কার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা স্ট্যাটাস বজায় রাখা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা রয়েছে। রি-এন্ট্রি পারমিট থাকলেই নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্ষা হয় না। রি-এন্ট্রি পারমিট মূলত দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দার উদ্দেশ্য প্রমাণে সহায়ক হতে পারে। নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক পরিস্থিতিতে ধারাবাহিক বসবাস সংরক্ষণের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ট্যাক্স রিটার্ন। আইআরএসের ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে বৈধ গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তি ফেডারেল ট্যাক্সের ক্ষেত্রে রেসিডেন্ট এলিয়েন হিসেবে বিবেচিত হন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মতোই বিশ্বব্যাপী আয় রিপোর্ট করার নিয়মের আওতায় পড়েন। তাই কোনো গ্রিন কার্ডধারী ভুলভাবে নিজেকে নন-রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে ট্যাক্স রিটার্ন করলে বিষয়টি পরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এমন অবস্থান যদি যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে দাবি করার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হতে পারে। তবে ট্যাক্সের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ও আন্তর্জাতিক ট্যাক্স ট্রিটির নিয়ম থাকতে পারে। ফলে সব পরিস্থিতিতে একই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য নয়। বিদেশে আয়, দ্বৈত ট্যাক্স রেসিডেন্সি বা ট্যাক্স ট্রিটির সুবিধা নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ ট্যাক্স পেশাজীবী বা ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি হলো ভোট দেওয়া। গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজের অধিকার দিলেও এটি মার্কিন নাগরিকত্ব নয়। ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তির ভোট দেওয়া বেআইনি। ইউএসসিআইএস ২০২৫ সালে ন্যাচারালাইজেশন সংক্রান্ত নীতিমালায় বেআইনি ভোট, বেআইনিভাবে ভোটার রেজিস্ট্রেশন এবং নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করার বিষয়গুলো নিয়ে নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করেছে। তবে এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি ধরনের নির্বাচনের নিয়ম এক নয়। কিছু অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানীয় নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তাই "গ্রিন কার্ডধারী কোনো নির্বাচনেই ভোট দিতে পারবেন না" এমন সার্বিক বক্তব্য সঠিক নয়। কিন্তু ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ এবং অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে ভোট দিলে গুরুতর ইমিগ্রেশন পরিণতি হতে পারে। বিশেষ করে ভোটার রেজিস্ট্রেশনের সময় নিজেকে ভুলভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বেআইনি ভোট বা মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি কিছু ক্ষেত্রে শুধু ন্যাচারালাইজেশন আবেদনকেই প্রভাবিত করে না, ডিপোর্টেশনের আইনি ভিত্তিও তৈরি করতে পারে। তাই গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের প্রস্তুতি শুধু এন-৪০০ ফর্ম জমা দেওয়ার সময় শুরু হয় না। বিদেশে কতদিন থাকা হচ্ছে, ট্যাক্স কীভাবে ফাইল করা হচ্ছে এবং ভোট বা ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতা কী, এসব বিষয়ে শুরু থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো ভুল ইতোমধ্যে হয়ে থাকলে তা গোপন করার পরিবর্তে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে যোগ্য ইমিগ্রেশন আইনজীবীর সঙ্গে নিজের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা নিরাপদ। কারণ একই ঘটনা একজনের ক্ষেত্রে সামান্য ব্যাখ্যার বিষয় হলেও অন্য কারও ক্ষেত্রে তার ইমিগ্রেশন ইতিহাস ও পরিস্থিতির কারণে গুরুতর আইনি সমস্যা তৈরি করতে পারে।
আকাশে লুকিয়ে থাকা বিপদ, ক্যানসারে মৃত্যু ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার ইতিহাস গড়তে চলেছেন এল সাইদ!