নিউ ইয়র্কে অবতরণের সময় বিমান ও ফায়ার ট্রাকের সংঘর্ষে পাইলট-কো-পাইলট নিহত
নিউ ইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে অবতরণের সময় এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে অগ্নিনির্বাপক ট্রাকের সংঘর্ষে পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় আরও নয়জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পোর্ট অথরিটি অব নিউ ইয়র্ক অ্যান্ড নিউ জার্সি জানায়, অন্য একটি বিমানের জরুরি প্রয়োজনে সাড়া দিতে যাওয়ার সময় রানওয়েতে এ সংঘর্ষ ঘটে।
জ্যাজ এভিয়েশন পরিচালিত এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের সিআরজে-৯০০ মডেলের বিমানটি ৭২ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে মন্ট্রিল থেকে নিউ ইয়র্কে আসছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার-২৪ জানায়, প্রায় ২৪ মাইল বেগে অবতরণের সময় বিমানটি ট্রাকটিকে আঘাত করে।
দুর্ঘটনার সময়কার রেডিও বার্তায় শোনা যায়, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার একটি যানবাহনকে রানওয়ে পার হওয়ার অনুমতি দিলেও মুহূর্ত পর সেটিকে থামানোর চেষ্টা করেন। তিনি বারবার ‘ট্রাক-১ থামো’ বলে সতর্ক করলেও ততক্ষণে সংঘর্ষ ঘটে যায়। এরপর দ্রুত অন্যান্য আগত বিমানকে অবতরণ না করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার পর বিমানের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অগ্নিনির্বাপক ট্রাকটি উল্টে একপাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। জানা গেছে, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক গন্ধ পাওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল এবং সেই সহায়তা দিতেই ট্রাকটি সেখানে যাচ্ছিল।
ঘটনার পর লা গার্ডিয়া বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং অন্তত ১৮টি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি কারাগারে জন্ম হয়েছিল অরোরা স্কাই ক্যাস্টনারের। জন্মের পর মায়ের কাছ থেকে তিনি আর সেভাবে স্নেহ-যত্ন পাননি। নবজাতক অরোরাকে কারাগার থেকে নিয়ে গিয়ে একাই বড় করেন তার বাবা। জীবনের শুরুটাই ছিল নানা প্রতিকূলতায় ভরা। কিন্তু সেই পরিস্থিতি তার শিক্ষাজীবনের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। বরং কঠোর পরিশ্রম, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং একজন সহৃদয় পরামর্শদাতার সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পান তিনি। অরোরার জন্ম টেক্সাসের Galveston County Jail-এ। তখন তার মা কারাগারে ছিলেন। জন্মের পর অরোরাকে তার বাবা কারাগার থেকে নিয়ে যান এবং একক অভিভাবক হিসেবে তাকে বড় করতে থাকেন। শৈশবটা সহজ ছিল না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবা-মেয়ের জীবন ছিল আর্থিক ও পারিবারিক নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। এমন পরিস্থিতিতেও অরোরার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় অরোরা একটি পরামর্শদাতা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানেই তার পরিচয় হয় মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে। ধীরে ধীরে হ্যাম্বি শুধু তার শিক্ষাজীবনের পরামর্শদাতা নন, অরোরার জীবনে একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিতে পরিণত হন। চশমা কেনা, চুল কাটানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন দৈনন্দিন বিষয়েও তিনি অরোরাকে সহযোগিতা করতেন। এমনকি অরোরার জন্য গ্রীষ্মকালীন শিবিরে যাওয়ার সুযোগও তৈরি করে দেন তিনি। অরোরার মেধা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ প্রথম দেখাতেই হ্যাম্বির নজরে আসে। হ্যাম্বি জানিয়েছিলেন, অরোরা ছোটবেলা থেকেই প্রচুর বই পড়ত। তার প্রিয় ব্যক্তিত্বদের একজন ছিলেন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেত্রী রোজা পার্কস। অরোরার এই আগ্রহ দেখে হ্যাম্বি বুঝতে পারেন, মেয়েটির মধ্যে বড় কিছু করার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু পড়াশোনাতেই নয়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমেও অরোরা নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন। তিনি মাদকবিরোধী বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পান এবং একটি বৃত্তিও অর্জন করেন। পরে Conroe High School থেকে ২০২৩ সালে অত্যন্ত ভালো ফল নিয়ে স্নাতক হন। তিনি পুরো স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন অবশ্য অরোরার হঠাৎ তৈরি হয়নি। ২০২২ সালের মার্চে মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। সেই সফর তার মনে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়ার ইচ্ছা আরও দৃঢ় করে। এরপর থেকেই হার্ভার্ডে পড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে থাকেন তিনি। হার্ভার্ডে ভর্তির আবেদনপত্রের প্রবন্ধে নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতাকেই সামনে আনেন অরোরা। তার আবেদনের প্রথম বাক্য ছিল, ‘আমি কারাগারে জন্মেছি।’ নিজের অতীতকে লুকিয়ে না রেখে সেটিকেই তিনি জীবনের গল্পের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আবেদনপত্র তৈরিতে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকও তাকে সহায়তা করেছিলেন। ২০২৩ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, অরোরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান এবং পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে সেখানে পড়ার প্রস্তুতি নেন। তার লক্ষ্য ছিল আইন নিয়ে পড়াশোনা করা। তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। অরোরার গল্পে মোনা হ্যাম্বির ভূমিকা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ছোটবেলায় অরোরার জীবনে যে ধরনের সহায়তা ও দিকনির্দেশনার প্রয়োজন ছিল, হ্যাম্বি তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অরোরাও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তার পরামর্শদাতার অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। হ্যাম্বির সঙ্গে সম্পর্ককে তিনি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখেন। অরোরার জীবনের গল্প তাই শুধু একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ঘটনা নয়। জন্মের পরিস্থিতি, পারিবারিক অনিশ্চয়তা কিংবা শৈশবের সীমাবদ্ধতা একজন মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না, তার পথচলা সেই কথাটিই সামনে আনে। একজন অভিভাবকের চেষ্টা, একজন পরামর্শদাতার সহায়তা এবং নিজের অধ্যবসায় কীভাবে একটি শিশুর সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে পারে, অরোরার গল্প তারও একটি উদাহরণ। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অরোরার হার্ভার্ডে ভর্তি ও পূর্ণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্য মূলত ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে প্রকাশিত। সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের নির্ভরযোগ্য সূত্রে তার বর্তমান শিক্ষাবর্ষ বা হার্ভার্ডে আইন পড়ার বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই তাকে বর্তমানে হার্ভার্ডের আইন শিক্ষার্থী হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করার বদলে ২০২৩ সালে হার্ভার্ডে আইন পড়ার জন্য পূর্ণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্যই যাচাই করা অবস্থায় বলা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ইন্ডিয়ানা, প্রাণহানি বেড়ে ৬, বিদ্যুৎহীন দেড় লাখ মানুষ
চুইংগাম চিবোলেই কমবে ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকি, ৯৩% ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করার দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার স্কুলে অভিনব নিয়ম, মাকে চুমু না খেলে মিলবে না স্কুলে প্রবেশের অনুমতি
নিউইয়র্ক সিটিতে গত পাঁচ মাসে জানালা থেকে চারজন শিশুর পড়ে যাওয়ার মতো ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির পর কিছু রাজনীতিক নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে 'অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক নাটক' বাদ দিয়ে শহরের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের মৌলিক সমস্যাগুলোর দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই চার শিশুই ওপর থেকে পড়ে যাওয়ার পরও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার দ্য ব্রঙ্কস এলাকার বুচানান প্লেসে। পুলিশ জানিয়েছে, জুলাই মাসে ৫ বছরে পা দেওয়া ডিলান মোকুয়েটে নামের এক শিশু তার অ্যাপার্টমেন্টের পাঁচতলার জানালা থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার এক দিন আগে ওই শিশুর মা ডমিনিকান রিপাবলিকের উদ্দেশে রওনা হন এবং ২২ বছর বয়সী বোনের তত্ত্বাবধানে শিশুটি ছিল। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বোন যখন রান্নাঘরে ব্যস্ত ছিলেন, তখন ডিলান বিছানা থেকে উঠে জানালা দিয়ে বাইরে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে ৫০ ফুট নিচে ফুটপাতে পড়ে যায়। বর্তমানে সে নিউইয়র্ক-প্রেসবিটারিয়ান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পারিবারিক এক বন্ধুর ভাষ্যমতে, শিশুটির শরীরের বেশ কিছু হাড় ভেঙে গেলেও সৌভাগ্যবশত কোনো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং নিচে আবর্জনার স্তূপ থাকায় সেটি কিছুটা কুশনের মতো কাজ করেছে, যার ফলে সে এখন বিপদমুক্ত। তবে জানালায় গার্ড বা প্রতিরক্ষামূলক গ্রিল সঠিকভাবে লাগানো না থাকার কারণেই শিশুটি বাইরে চলে আসতে পেরেছিল বলে দাবি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওই অ্যাপার্টমেন্টের কোনো জানালাই শহরের ৫০ বছর পুরোনো আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। আইন অনুযায়ী, যেসব অ্যাপার্টমেন্টে ১০ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে এবং জানালাগুলো জরুরি নির্গমনের পথ নয়, সেগুলোতে অবশ্যই উইন্ডো গার্ড থাকতে হবে। কিন্তু ডিলানদের ওই জানালাগুলোতে গার্ডের ফাঁকা অংশ ৪.৫ ইঞ্চির বেশি থাকায় তা আইনসম্মত ছিল না। এ ছাড়া গত ৬ এপ্রিল মরিসানিয়ায় অটিজমে আক্রান্ত ৫ বছরের এক শিশু তিনতলার জানালা থেকে পড়ে যায়। ২৭ মে কুইন্সের গ্লেনডেলে ৩ বছরের একটি মেয়ে দোতলার জানালা থেকে পড়ে যায় এবং ১৭ জুলাই মট হ্যাভেনে ১ বছরের এক ছেলে শিশু পাঁচতলার জানালা থেকে নিচে পড়ে যায়। এই ঘটনাগুলোর পর শহরের ‘হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (HPD)’ গত ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরে—যার মধ্যে মেয়র মামদানির প্রশাসনের প্রথম ছয় মাসও অন্তর্ভুক্ত—উইন্ডো-গার্ডের নিয়ম লঙ্ঘনের অন্তত ৫,৮৬৮টি নোটিশ জারি করেছে। যদিও আগের অর্থবছরে এই নিয়ম ভঙ্গের সংখ্যা ছিল ৭,০৪৫টি। কুইন্সের ডেমোক্র্যাট দলীয় সিটি কাউন্সিলম্যান ফিল ওং এই পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে চারটি শিশুর জানালা থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি অবিলম্বে বিদ্যমান উইন্ডো-সেফটি আইনগুলোর সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে মেতে না থেকে প্রশাসনকে শহরের প্রাত্যহিক সমস্যাগুলো সমাধানে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে কুইন্সের রিপাবলিকান কাউন্সিলওম্যান জোয়ান আরিওলা মনে করিয়ে দেন যে, মেয়র মামদানি ভাড়াটেদের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু গত আট মাস ধরে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে নিয়ে কথা বলা এবং আগের প্রশাসনের কাজের কৃতিত্ব নিতেই ব্যস্ত ছিলেন। তবে সিটি হেলথ ডিপার্টমেন্টের দাবি, গত পাঁচ বছরের তুলনায় এ বছর জানালা থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা বাড়েনি এবং গত অর্ধশতক ধরে শহরের উইন্ডো গার্ড আইন অগণিত মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে একই ফ্লাইট নম্বরে মুখোমুখি দুই বিমান, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা ঠেকালেন কন্ট্রোলার
ট্রাম্পের অভিবাসী বিতাড়ন নীতির মাঝেই আইসিইকে বিলুপ্ত করার পক্ষে ভোট দিল ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি
২০২৮ নির্বাচনে মিশেল ওবামা-এওসিকে পেছনে ফেলে তরুণ ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ পছন্দ কমলা হ্যারিস
যুক্তরাষ্ট্রে ব্লু-কলার বা কায়িক শ্রমের পেশাগুলোতে নতুন করে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং সম্প্রতি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ভবিষ্যতের লাখ ডলারের চাকরিগুলো সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে নয়, বরং এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের কাজ থেকেই আসবে। বর্তমানে এসব সুবিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণে লাখ লাখ ইলেক্ট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, নির্মাণকর্মী ও সুপারভাইজারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যেখানে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছাড়াই বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির এই নতুন জোয়ার কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি করলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতের জন্য বড় ধরনের সংকট ডেকে আনছে। মেটা, অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ডেটা সেন্টারের নির্মাণকাজে যোগ দিয়ে শ্রমিকরা আগের চেয়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন পাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন সাধারণ সুপারভাইজার বা ইলেক্ট্রিশিয়ান এখন বছরে এক থেকে দুই লাখ ডলার পর্যন্ত আয় করছেন। ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ফাউন্ডেশনের মতে, শুধু এই বছরেই খাতটিতে প্রায় ৪ লাখ ৩৯ হাজার কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ বাড়ি নির্মাতাদের পক্ষে এত উচ্চ মূল্যে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, আবাসন নির্মাণে শ্রমিকের তীব্র সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন বাড়ি তৈরির সময়সীমা দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রিয়েল্টর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জোয়েল বার্নার। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ বাসস্থানের ঘাটতি রয়েছে, যা এই শ্রমিক সংকটের কারণে আরও ঘনীভূত হচ্ছে। টেক্সাস ও ভার্জিনিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে ডেটা সেন্টারের সবচেয়ে বেশি কাজ চললেও জর্জিয়া, পেনসিলভানিয়া ও ওহাইওর মতো রাজ্যেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, বড় বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য ক্রেন ও কংক্রিট পরিচালনায় দক্ষ বড় দলের প্রয়োজন হয়, যা ছোট ছোট শহরের স্থানীয় ঠিকাদারদের পক্ষে সামলানো কঠিন। ফলে বাইরের শহর থেকে আসা এই বিশাল শ্রমিকদের থাকার জন্য স্থানীয়ভাবে সাময়িক আবাসন সংকটও তৈরি হচ্ছে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে এই উচ্চ বেতনের হাতছানি আরও বেশি মানুষকে নির্মাণ ও কারিগরি পেশায় আগ্রহী করে তুলবে বলে অনেকেই আশাবাদী, তবে স্বল্পমেয়াদে এটি আবাসন খাতের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ডেটা সেন্টারের কাজ শেষে এই কর্মীরা যদি পরবর্তীতে আবাসন খাতে ফিরে আসেন, তবেই ভবিষ্যতের এই সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লস অ্যাঞ্জেলেসে সামান্য কথাকাটাকাটির জেরে দম্পতি ও কুকুরকে গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যা, ১০০ বছরের রেকর্ড ভেঙে উদ্ধার অভিযানে ন্যাশনাল গার্ড