ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে পরিবারের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক ঘুরতে বেরিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী রোমাঞ্চ মহাজন। বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখার পর সেন্ট্রাল পার্কে একটি ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে আনন্দময় সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি ও তার পরিবার। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সেই আনন্দময় ভ্রমণ পরিণত হয় শোকাবহ ট্র্যাজেডিতে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রোমাঞ্চ। পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও এই ঘটনার ধাক্কা তাদের জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার বিকেলে নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের চেরি হিল এলাকায় পরিবার নিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণ করছিলেন রোমাঞ্চ। সঙ্গে ছিলেন তার বাবা দীপক মহাজন, মা প্রিয়া মহাজন এবং ছোট ভাই। পার্কের একটি পরিচিত ফোয়ারার সামনে পরিবারের স্মরণীয় একটি ছবি তোলার জন্য গাড়িচালক ঘোড়ার গাড়ি থামান। পরিবারের দাবি, ছবি তোলার সুবিধার্থে চালক কিছুটা দূরে সরে গেলে ঘোড়াটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত ছুটতে শুরু করে। রোমাঞ্চের বাবা দীপক মহাজন জানান, মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘোড়াটি ফুটপাতে উঠে যায় এবং পরে ঘাসের ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে দৌড়াতে থাকে। এ সময় চালক ঘোড়ার পেছনে ছুটলেও সেটিকে থামাতে পারেননি। দীপক মহাজন বলেন, “আমরা বারবার সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলাম। সবাই একে অপরকে শক্ত করে ধরে রেখেছিল।” তিনি আরও জানান, দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকা গাড়ি থেকে তার স্ত্রী প্রিয়া মহাজন ছিটকে পড়ে গেলে রোমাঞ্চ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে যায়। মাকে বিপদে দেখে সে গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে। “আমার ছেলে শুধু তার মাকে বাঁচাতে চেয়েছিল। সে বারবার ‘মা, মা’ বলে চিৎকার করছিল,” বলেন আবেগাপ্লুত দীপক মহাজন। গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে রোমাঞ্চ মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাকে দ্রুত নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। বুধবার রাতেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যরা তুলনামূলকভাবে কম আহত হন। তবে নিয়ন্ত্রণহীন ঘোড়ার গাড়িটি পরে আরেকটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুপুর প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা নিউ ইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। প্রাণীকল্যাণকর্মী এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বহু বছর ধরে সেন্ট্রাল পার্কে পর্যটকদের বহনকারী ঘোড়ার গাড়িগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। ঘোড়ার গাড়িচালকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন লোকাল ১০০-ও ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কেম্প এক বিবৃতিতে বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী মনে হচ্ছে চালক ঘোড়ার কাছ থেকে এমন দূরত্বে সরে গিয়েছিলেন, যেখানে তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তার মতে, ছবি তোলার জন্য কোনো চালকেরই গাড়ি বা ঘোড়াকে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে যাওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা কখনোই ঘটার কথা নয়। আমরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।” ইউনিয়নের তথ্যমতে, ‘স্যাম্পসন’ নামের সাত বছর বয়সী ঘোড়াটি মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে সেন্ট্রাল পার্কে কাজ শুরু করেছিল। দুর্ঘটনার পর ঘোড়াটিকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট ঘোড়ার গাড়িচালককে গাড়ির মালিক অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করেছেন বলে জানিয়েছে ইউনিয়ন। তার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নিউ ইয়র্ক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, চালকের দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে সফরটি মহাজন পরিবারের জন্য আনন্দ ও স্মৃতির হওয়ার কথা ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত তাদের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতায় পরিণত হলো। মাকে বাঁচানোর চেষ্টায় এক তরুণের মৃত্যু এখন নিউ ইয়র্কজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ফেডারেল সরকারের প্রাইভেট স্কুল ট্যাক্স ক্রেডিট প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে নিউ ইয়র্ক দ্বিতীয় ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্য হিসেবে এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত এই কর্মসূচির আওতায় করদাতারা নির্দিষ্ট শিক্ষা সহায়তা সংস্থায় অনুদান দিলে কেন্দ্রীয় কর থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত ছাড় পাবেন। এই অর্থ শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট স্কুলের বেতন, টিউশনি, অতিরিক্ত শিক্ষাসহায়তা এবং অন্যান্য শিক্ষা ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে। বৃহস্পতিবার রাতে এক সভায় গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ নিউ ইয়র্কের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা তৈরি করতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং প্রকল্পের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন গভর্নরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, কর্মসূচিটি বহু পরিবারের শিক্ষা ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে এবং ধর্মীয় ও ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হবে। তবে সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এই উদ্যোগ সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, সরকারি স্কুল ব্যবস্থার বাইরে অর্থায়নের সুযোগ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে। এর আগে গভর্নর হোকুল চার্টার স্কুল সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং সরকারি স্কুলগুলোর উন্নয়নে বড় বাজেট বরাদ্দ করেছিলেন। নতুন এই কর সুবিধা কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তকে নিউ ইয়র্কের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউ ইয়র্কের নাসাউ কাউন্টির সায়োসেট এলাকায় একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা ফ্রান্সিসকো সানলেস এবং তার ১৫ বছর বয়সী ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া রাসায়নিকগুলো বিস্ফোরক তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং সেগুলো এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে জননিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় বোম্ব স্কোয়াড ঘটনাস্থলেই সেগুলো ধ্বংস করে। তদন্তের সূত্রপাত হয় সায়োসেট হাই স্কুলের বাথরুমের দেয়ালে স্বস্তিকা চিহ্ন ও বিদ্বেষমূলক বার্তা পাওয়ার মধ্য দিয়ে। সেই ঘটনার সূত্র ধরে বুধবার দুপুরে প্যাট্রিসিয়া লেনের ওই বাড়িতে অভিযান চালায় আইউইটনেস নিউজ ও পুলিশ বাহিনী। ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা বাড়ির ভেতর থেকে বেশ কিছু বিপজ্জনক রাসায়নিক বাইরে বের করে আনছেন। কর্মকর্তাদের দাবি, সানলেস অর্থের বিনিময়ে একাধিকবার এসব নিষিদ্ধ রাসায়নিক সংগ্রহ করেছেন। আটককৃত বাবার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখা, অপরাধে সহায়তা, শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করা এবং বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, তার কিশোর ছেলের বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখা, ভাঙচুর, গুরুতর হয়রানি এবং দেয়ালে ঘৃণামূলক বর্ণবাদী চিহ্ন আঁকার অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের দুজনকে পৃথকভাবে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এই ঘটনার পর সায়োসেট হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্কুলে স্বস্তিকা ও বর্ণবাদী লেখা পাওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং এ ধরনের বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে ৭ মাস বয়সী শিশু কাওরি প্যাটারসন-মুর-এর মৃত্যুর পর সিটি মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, এটি আমাদের শহরের প্রথম পরিবার নয় যারা এই যন্ত্রণা ভোগ করছে। বুধবার একটি সন্দেহভাজন গ্যাং-সংক্রান্ত ঘটনায় মোপেডে থাকা বন্দুকধারীর ছোড়া গুলিতে স্ট্রোলারে থাকা অবস্থায় ওই শিশুটি নিহত হয়। মামদানি আরও বলেন, অনেক শিশু বড় হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই হারিয়ে যাচ্ছে। যেসব বাবা-মা তাদের সবচেয়ে প্রিয়জনকে হারিয়েছেন আমরা এটিকে আমাদের শহরে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে পারি না। এই যন্ত্রণার প্রতি আমরা অসাড় হয়ে যেতে পারি না। আজকের এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শহরে বন্দুক সহিংসতা মোকাবেলায় এখনও অনেক কাজ বাকি। তবে তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন কুইন্সের সিটি কাউন্সিলর ভিকি পালাদিনো। তিনি অভিযোগ করেন, অপরাধীদের দোষারোপ না করে বন্দুককে দায়ী করা মামদানির রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, অপরাধীদের দোষ না দিয়ে সবকিছুই বলা হচ্ছে যাদের আমাদের সিস্টেম বারবার ছেড়ে দেয়, কোনো পরিণতি ছাড়াই। এটি সম্পূর্ণ লজ্জাজনক। ডানপন্থী ভাষ্যকার ব্রিটানি হিউজ-ও সমালোচনা করে বলেন, গত মাসে নিউ ইয়র্ক সিটিতে এক ৮৩ বছর বয়সী ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রবীণ রিচার্ড উইলিয়ামস-কে সাবওয়ে ট্র্যাকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করা হলেও, সে বিষয়ে মামদানি কোনো মন্তব্য করেননি। ম্যানহাটন ইনস্টিটিউটের ফেলো রাফায়েল এ. মাঙ্গুয়াল বলেন, এই ঘটনাকে বন্দুক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা থেকে বোঝা যায়, মেয়র প্রকৃত অপরাধীদের ভূমিকা স্বীকার করতে অস্বস্তি বোধ করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ২১ বছর বয়সী আমুরি গ্রিন-কে শিশুটির হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরেক সন্দেহভাজন ম্যাথিউ রড্রিগেজ (১৮) শুক্রবার পেনসিলভানিয়ায় গ্রেপ্তার হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রদ্রিগেজ একটি মোপেড চালাচ্ছিলেন, যার পেছনে থাকা বন্দুকধারী ব্রুকলিনের বুশউইক এলাকায় হামবোল্ট ও মুর স্ট্রিটের কোণে গুলি চালায়।
ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: নিউ ইয়র্কের কুইন্সে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি তরুণী জান্নাত নিশাত তার ছোট বোনের জন্মদিনের জন্য কেক কিনতে গিয়েছিলেন এমন তথ্য জানিয়েছেন তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা। জান্নাত নিশাতের অকাল মৃত্যুর খবর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিউ ইয়র্কসহ গোটা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের বন্ধু আমিন মেহেদি বলেন, তার ছোট বোন তাকে কেক কিনে আনতে বলেছিল। সে দোকানে গিয়েছিল এবং বাড়ি ফিরছিল। পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছিল, কিন্তু সে ফিরছিল না। পরে তার ফোনের শেষ লোকেশন দেখে এক বোন তাকে খুঁজে পায়। জানা যায়, নিশাত জ্যামাইকার একটি পার্কিং গ্যারেজে খণ্ডকালীন ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি কেক কিনতে থামেন। এরপরই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রবিবার রাত প্রায় ১১টা ৫৫ মিনিটে উডসাইড এলাকায় ৬২তম স্ট্রিট পার হওয়ার সময় একটি বেসরকারি স্যানিটেশন ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। ট্রাকটি রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ থেকে মোড় নিচ্ছিল। দুর্ঘটনাস্থলটি তার বাড়ি থেকে প্রায় আধা মাইল দূরে ছিল। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিশাত ম্যানহাটনের সিটি কলেজ অফ নিউ ইয়র্ক -এর একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। তার এই মৃত্যু পরিবারে গভীর শোক নেমে এনেছে, বিশেষ করে তার ছোট বোনের জন্য, যার জন্মদিন এখন চিরদিনের জন্য এই দুঃখজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে। আমিন মেহেদি বলেন, আমরা সবাই ভীষণ শোকাহত। এত অল্প বয়সে কেউ এভাবে জীবন হারাবে, তা আমরা কখনো ভাবিনি। সে ছিল পরিশ্রমী একটি মেয়ে, পড়াশোনা করছিল, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিল। নিহতের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সিদ্দিক বলেন, পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। সে খুবই ভালো ও মেধাবী ছাত্রী ছিল। বাবা-মায়ের প্রতি খুব যত্নশীল ছিল। ছোট বয়সেই পরিবারকে সহায়তা করতে কাজ শুরু করেছিল। মঙ্গলবার তার বাড়ির কাছে বাইতুল জান্নাহ মসজিদ মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা উপস্থিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। ৩৮ বছর বয়সী ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়নি। নিশাত তার বাবা-মা এবং চার বোনকে রেখে গেছেন।
নিউ ইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে অবতরণের সময় এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে অগ্নিনির্বাপক ট্রাকের সংঘর্ষে পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় আরও নয়জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পোর্ট অথরিটি অব নিউ ইয়র্ক অ্যান্ড নিউ জার্সি জানায়, অন্য একটি বিমানের জরুরি প্রয়োজনে সাড়া দিতে যাওয়ার সময় রানওয়েতে এ সংঘর্ষ ঘটে। জ্যাজ এভিয়েশন পরিচালিত এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের সিআরজে-৯০০ মডেলের বিমানটি ৭২ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে মন্ট্রিল থেকে নিউ ইয়র্কে আসছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার-২৪ জানায়, প্রায় ২৪ মাইল বেগে অবতরণের সময় বিমানটি ট্রাকটিকে আঘাত করে। দুর্ঘটনার সময়কার রেডিও বার্তায় শোনা যায়, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার একটি যানবাহনকে রানওয়ে পার হওয়ার অনুমতি দিলেও মুহূর্ত পর সেটিকে থামানোর চেষ্টা করেন। তিনি বারবার ‘ট্রাক-১ থামো’ বলে সতর্ক করলেও ততক্ষণে সংঘর্ষ ঘটে যায়। এরপর দ্রুত অন্যান্য আগত বিমানকে অবতরণ না করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর বিমানের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অগ্নিনির্বাপক ট্রাকটি উল্টে একপাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। জানা গেছে, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক গন্ধ পাওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল এবং সেই সহায়তা দিতেই ট্রাকটি সেখানে যাচ্ছিল। ঘটনার পর লা গার্ডিয়া বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং অন্তত ১৮টি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়। মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।