ইটালির উত্তরাঞ্চলের শহর বোলোনিয়ায় পুলিশি হেফাজতে মরক্কোতে জন্ম নেওয়া ৪২ বছর বয়সী অভিবাসী আবদেররাহিম ফাকিরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্য ফাকিরকে মাটিতে উপুড় করে চেপে ধরে রেখেছেন। এ সময় তিনি বারবার “আমি শ্বাস নিতে পারছি না” বলে চিৎকার করছিলেন। কিছুক্ষণ পর তাকে নিস্তেজ হয়ে যেতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ফাকিরের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা দায়ীদের বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামেন। বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস রূপ নিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে ইতালীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় প্রসিকিউটর কার্যালয় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশের দেহে ধারণ করা ক্যামেরার ভিডিও জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। তদন্তে পুলিশ সদস্যদের বলপ্রয়োগ আইনসঙ্গত ছিল কি না এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হবে। ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের দোষী সাব্যস্ত না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। অন্যদিকে মরক্কোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফাকিরের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্য দিকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, মানবাধিকারকর্মী এবং অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো বলছে, এই ঘটনা ইটালিতে পুলিশি বলপ্রয়োগ, জবাবদিহি এবং অভিবাসীদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেক পর্যবেক্ষক ঘটনাটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনার মিল খুঁজে দেখলেও তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ফলে আবদেররাহিম ফাকিরের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে ইতালীয় কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কারাগারে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই মাদকচক্রের বন্দিদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজন কারারক্ষীও রয়েছেন। এ ঘটনায় শতাধিক বন্দি ও কারারক্ষী আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী কারাগার দাঙ্গা হিসেবে ঘটনাটিকে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ জানায়, রোববার (৬ জুলাই) রাত থেকে নেগোম্বো কারাগারের ভেতরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়ে দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। গুলিবর্ষণ, ধারালো অস্ত্রের হামলা এবং ব্যাপক মারামারিতে বহু বন্দি ও কারারক্ষী গুরুতর আহত হন। আহতদের দ্রুত নেগোম্বো হাসপাতালে নেওয়া হয়। নেগোম্বো হাসপাতালের পরিচালক পুষ্পা গামলাথ জানিয়েছেন, হাসপাতালে ২৩ জনের মরদেহ আনা হয়। এছাড়া শতাধিক আহতের চিকিৎসা চলছে। গুরুতর আহত ১৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী কলম্বোর জাতীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকেই গুলিবিদ্ধ এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। পরে বিচারমন্ত্রী হারশানা নানায়াক্কারা জানান, আরও তিনজনের মৃত্যু হওয়ায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তিনি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, কারাগারের ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। তার ভাষায়, “নিহতরা বন্দি না অপরাধচক্রের সদস্য—এ মুহূর্তে সেটি বড় বিষয় নয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের প্রাণহানি, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে কারাগারের নারী ওয়ার্ডে উত্তেজনা দেখা দেয়। কয়েকজন নারী বন্দি ছাদে উঠে প্রতিবাদ জানান এবং মুক্তির দাবি করেন। এ সময় ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে কয়েকজন নারী বন্দি আহত হন। ঘটনার পর সরকার অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। কারা বিভাগের মুখপাত্র চামিন্দা গাজানায়াকে জানান, এ ঘটনায় কোনো বিদেশি বন্দি হতাহত হননি। তিনি বলেন, মাদক পাচারের অভিযোগে আটক এক ব্রিটিশ নাগরিক ওই কারাগারে থাকলেও তিনি নিরাপদ আছেন। সোমবার কারাগারের বাইরে উদ্বিগ্ন স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শ্রীলঙ্কা বিমানবাহিনী ড্রোন ও একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাতভর গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষের সময় কিছু বন্দি কারারক্ষীদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েছিল বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে গিয়ে সাতজন কারারক্ষী প্রাণ হারান। সোমবার সকালে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে বর্তমানে ৪১ হাজার ২৫০ জন বন্দি রয়েছে, যা ধারণক্ষমতার প্রায় চারগুণ। অতিরিক্ত ভিড়, সীমিত অবকাঠামো এবং দীর্ঘদিনের চাপ কারাগার ব্যবস্থাপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই ঘটনা দেশটির কারা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং বন্দি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ ফটকের জিপিও লিংক রোড এলাকায় হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন স্বর্ণ গলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ওই এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এ সময় ফুটপাতে থাকা অস্থায়ী দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে পরদিনই হকাররা পুনরায় সেখানে দোকান বসানোর চেষ্টা করলে সোনা ব্যবসায়ীরা বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে বায়তুল মোকাররম স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে ফুটপাত থেকে অস্থায়ী দোকান সরানোর চেষ্টা করা হলে হকাররা বাধা দেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, উচ্ছেদ কার্যক্রম ঘিরেই এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ হয়নি। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এর শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর চিকিৎসকেরা জরুরি বিভাগের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। জানা যায়, এক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে জরুরি বিভাগে এলে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাপত্র দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নির্ধারিত ওষুধ না থাকায় বাইরে থেকে তা সংগ্রহ করতে বলা হয়। এ নিয়ে কিছু সময় পর ওই শিক্ষার্থী তার সহপাঠীদের নিয়ে ফিরে এসে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের কিছু শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে এ ঘটনার পর থেকে জরুরি বিভাগে নতুন রোগী ভর্তি নেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেবা কার্যক্রম সীমিত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নাটোরের লালপুর এলাকায় বালুবোঝাই ট্রাক ও যাত্রীবাহী ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে লালপুর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কের নবীনগর এলাকায় ঘটে। নিহতরা হলেন—ছোটবাতকয়া গ্রামের জোহা মাস্টারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৫০), একই গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে মনির হোসেন (২৭) এবং একই এলাকার বাবুল (৩৫)। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকালেই যাত্রীবাহী ইজিবাইকটি লালপুর থেকে ঈশ্বরদীর দিকে যাচ্ছিল। নবীনগর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। এতে ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে, তবে চালক ও সহকারী পালিয়ে যান। আহতরা হলেন—ইজিবাইক চালক রাব্বি (২২), যাত্রী মিঠুন সাহা (৩৫), মজনু (৪০) এবং রাজিব (৩৫)। রাব্বি, মিঠুন ও মজনুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, আর রাজিবকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের লাশ ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া যান দুটি থানায় আনা হয়েছে। পলাতক ট্রাকচালক ও সহকারীকে আটকের চেষ্টা চলছে।
নিউ ইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে অবতরণের সময় এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে অগ্নিনির্বাপক ট্রাকের সংঘর্ষে পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় আরও নয়জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পোর্ট অথরিটি অব নিউ ইয়র্ক অ্যান্ড নিউ জার্সি জানায়, অন্য একটি বিমানের জরুরি প্রয়োজনে সাড়া দিতে যাওয়ার সময় রানওয়েতে এ সংঘর্ষ ঘটে। জ্যাজ এভিয়েশন পরিচালিত এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের সিআরজে-৯০০ মডেলের বিমানটি ৭২ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে মন্ট্রিল থেকে নিউ ইয়র্কে আসছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার-২৪ জানায়, প্রায় ২৪ মাইল বেগে অবতরণের সময় বিমানটি ট্রাকটিকে আঘাত করে। দুর্ঘটনার সময়কার রেডিও বার্তায় শোনা যায়, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার একটি যানবাহনকে রানওয়ে পার হওয়ার অনুমতি দিলেও মুহূর্ত পর সেটিকে থামানোর চেষ্টা করেন। তিনি বারবার ‘ট্রাক-১ থামো’ বলে সতর্ক করলেও ততক্ষণে সংঘর্ষ ঘটে যায়। এরপর দ্রুত অন্যান্য আগত বিমানকে অবতরণ না করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর বিমানের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অগ্নিনির্বাপক ট্রাকটি উল্টে একপাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। জানা গেছে, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক গন্ধ পাওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল এবং সেই সহায়তা দিতেই ট্রাকটি সেখানে যাচ্ছিল। ঘটনার পর লা গার্ডিয়া বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং অন্তত ১৮টি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়। মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।
কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নে কোমল পানীয়ের বোতলের ক্যাপ ছোড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মো. শফিউদ্দিন (৬৫), মো. রাব্বি (২২), মো. ওবাইদুল্লাহ (৩০), জনি শেখ (২০), শারুফ শেখ (২০) ও ওবাদুল্লাহ শেখ (৫৫)। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কয়েকজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বেড় কালোয়া মোড়ে এক ব্যক্তি কোমল পানীয় পান শেষে বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারলে তা আরেকজনের মাথায় লাগে। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মিটিয়ে দেন। তবে বিকেলে পূর্বের ঘটনার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অন্তত সাতজন গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে অনেকেই লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছুটাছুটি করছেন। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।