দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ: ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ৬৮৫
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় (একদিনে) এই বায়ুবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৬৮৫ জন শিশু। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নতুন চারজনসহ চলতি বছর এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কেবল মার্চ মাসেই মারা গেছে ৩২ জন। সংক্রমণ এখন আর কেবল নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সংক্রমণের উচ্চমাত্রার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণের ক্ষমতা (R0) অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এটি খুব দ্রুত এক শিশু থেকে অন্য শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের সংক্রমণের (এনসেফালাইটিস) মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
জাতীয়
View moreদক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ২ অক্টোবর সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি। বাংলাদেশ চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন ও স্বাক্ষরের আশা প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এই চুক্তি নিয়ে পঞ্চম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দুই দেশ চুক্তির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা আরও এগিয়ে নিয়েছে। সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির। বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ চেয়েছে। বিশেষ করে অর্ধপরিবাহী প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল, উচ্চমানের তৈরি পোশাক এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পণ্য সরবরাহব্যবস্থা, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সেবা খাতেও সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশি পণ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় তুলে ধরা হয়। কর্মসংস্থানও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মসংস্থান অনুমতি ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও বেশি দক্ষ ও আধাদক্ষ বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল বিস্তৃত। দুই পক্ষ সামরিক প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সদস্যদের বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানিয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ জানিয়েছে যে দেশে একটি প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়াও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটি প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ পারস্পরিকভাবে সম্মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার সুযোগ খুঁজে দেখার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এদিকে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সার্বিকভাবে, সাম্প্রতিক আলোচনায় বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে বিনিয়োগ নেওয়া নয়; বরং বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিল্প, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ—একাধিক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা বাড়ানো। তবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি এখনো চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়নি। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ট্রাম্পের নৈশভোজে ডা. জুবাইদাসহ অংশ নেওয়ার ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারিতে নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিট
এআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার নয়, সৃজনশীলতা ধরে রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করেছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সফরের আগের প্রকাশিত কর্মসূচিতে বিস্ট ফিলানথ্রোপি, ইউপিএস ফাউন্ডেশন, আইকেইএ ফাউন্ডেশন, ইনফোসিস ফাউন্ডেশন, বায়ের ফাউন্ডেশন ও নর্থওয়েল হেলথসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মানবিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এসব বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ২৩ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠান এবং ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণও রয়েছে।
আমার পিএইচডি রিসার্চের টপিক ঠিক করে দিয়েছিলেন তারেক রহমান, বললেন শিক্ষামন্ত্রী
জ্বালানির দাম বাড়তেই বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণে বৈঠক, ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব মালিকদের
বেকারত্বের লাগাম টানতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের তাগিদ রাষ্ট্রপতির
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাক্ষাতে শহিদ মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ এবং পরিবারের সদস্য মাহফুজা জাফরিন আরিবা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শহিদ ও আহতদের পরিবারের জন্য সরকার যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান তাঁরা। সাক্ষাতের একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের একটি রেপ্লিকা রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেওয়া। সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনে প্রকাশিত ৮৪৫ জন জুলাই শহিদের নাম ওই স্মৃতিস্তম্ভে খচিত রয়েছে। মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিস্তম্ভটির রেপ্লিকা রাষ্ট্রপতিকে উপহার দেন। রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। বঙ্গভবনের প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, জাতি তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না। রাষ্ট্রপতি শহিদ পরিবারগুলোর সার্বিক কল্যাণ এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি জুলাইয়ের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করেন। মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বহুল আলোচিত শহিদদের একজন। পরবর্তী সময়ে জুলাই আন্দোলনের স্মরণে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও মুগ্ধসহ নিহতদের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও মুগ্ধসহ আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করা হয়েছিল। রোববারের সাক্ষাতে বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত তথ্যে সাক্ষাতের এসব বিষয় জানানো হয়েছে।
দক্ষ জনশক্তি গড়তে এনএসডিএ গভর্নিং বোর্ডের সভায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
৫ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনতে চায় অ্যামচ্যাম