সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ওভাল অফিসে প্রেস সেক্রেটারিকে নিয়ে ট্রাম্পের ‘অস্বস্তিকর’ রসিকতা!

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১, ২০২৬ ২২:৫৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সামনে নিজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে নিয়ে এক বিতর্কিত ও অস্বস্তিকর রসিকতা করেছেন। ‘পিপল’ ম্যাগাজিনের ১ এপ্রিলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প রসিকতার ছলে অভিযোগ তোলেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যে ‘নেতিবাচক প্রচারণা’র শিকার হচ্ছেন, তার পেছনে লেভিটের ব্যর্থতা থাকতে পারে। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই ঘটনা ঘটে।

 

ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমানে তিনি ‘৯৩ শতাংশ খারাপ প্রচারণা’ পাচ্ছেন এবং সরাসরি লেভিটের দিকে তাকিয়ে বলেন, “তুমি খুব ভালো কাজ করছ না।” প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুক্ষণ পরই ট্রাম্প হাসতে হাসতে যোগ করেন, “আমরা কি তাকে রাখব? আমার মনে হয়, রাখাই যায়।” পরে ইয়াহু নিউজের এক প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছেন যে, মন্তব্যটি স্রেফ কৌতুক হিসেবেই করা হয়েছিল।

 

চলমান গণমাধ্যমের সমালোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, তাকে নিয়ে প্রকাশিত অধিকাংশ সংবাদই ‘নেতিবাচক এবং ভুয়া’। তবে ভোটাররা তার নির্বাচনী জয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তারা এসব প্রতিবেদনে আস্থা রাখেন না। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে ২৬ বছর বয়সী লেভিট প্রায়ই ট্রাম্পের এমন আকস্মিক মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। এর আগেও গত অক্টোবরে সাংবাদিকদের সামনে তার কাজের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট।

 

ব্যক্তিগত জীবনে লেভিট বর্তমানে তার দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় আছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি হিসেবে আগামী মে মাস থেকে তিনি সাময়িকভাবে হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব থেকে বিরতি নেবেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দান, মিয়ামিতে নতুন ক্যাম্পাসে ৩ বিলিয়ন ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দান, মিয়ামিতে নতুন ক্যাম্পাসে ৩ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক নতুন এবং অভাবনীয় রেকর্ড তৈরি হয়েছে। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটিকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের অর্থ দান করেছেন সিটাডেলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কেন গ্রিফিন। রয়টার্স ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একক ব্যক্তির পক্ষ থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত দানের ঘটনা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সাহায্যে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে কার্নেগি মেলনের একটি সম্পূর্ণ নতুন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পাশাপাশি মূল ক্যাম্পাসের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ আরও বৃদ্ধি করা হবে।   ঐতিহাসিক এই দানের ৩ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারই ব্যয় করা হবে মিয়ামির উইনউড এলাকায় কার্নেগি মেলনের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজে। ৩৫ একরের বেশি জমির ওপর প্রস্তাবিত এই ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ ২০২৭ সালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।   প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৮ সাল নাগাদ সেখানে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু হওয়ার পর এই অত্যাধুনিক ক্যাম্পাসে সাড়ে তিন হাজারের বেশি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীর পাশাপাশি প্রায় তিন শ শিক্ষক এবং ছয় শতাধিক কর্মী থাকবেন।   গতানুগতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নির্দিষ্ট বিভাগভিত্তিক পড়াশোনার বদলে এই ক্যাম্পাসটি মানবস্বাস্থ্য, জাতীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতা এবং শিল্প প্রযুক্তির মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণার কাঠামো সাজাবে।   অন্যদিকে, দানের অবশিষ্ট ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে কার্নেগি মেলনের ঐতিহ্যবাহী পিটসবার্গ ক্যাম্পাসের জন্য। এর মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি ব্যয় হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে। এই বিপুল বিনিয়োগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘কেনেথ সি. গ্রিফিন স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স’ রাখা হয়েছে।   বাকি ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটিং সক্ষমতা সম্প্রসারণের মতো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে নতুন ক্যাম্পাসের পাশাপাশি পুরোনো ক্যাম্পাসের গবেষণার ভিতও অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।   কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি এমনিতেই রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং গবেষণায় বিশ্বজোড়া খ্যাতির অধিকারী। কেন গ্রিফিনের এই যুগান্তকারী বিনিয়োগ তাদের সেই সক্ষমতাকে শিল্প ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করবে।   এর আগে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি দান করা গ্রিফিন এই উদ্যোগকে ভবিষ্যতের উদ্ভাবনের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। কার্নেগি মেলনের প্রেসিডেন্ট ফারনাম জাহানিয়ান মনে করেন, এই বিপুল অর্থায়ন কেবল একটি নতুন ক্যাম্পাসই তৈরি করবে না, বরং মিয়ামি ও পিটসবার্গের মধ্যে শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৬:১৯
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা পুরোপুরি বাতিল চান জেডি ভ্যান্স, উঠছে সস্তা শ্রমের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা পুরোপুরি বাতিল চান জেডি ভ্যান্স, উঠছে সস্তা শ্রমের অভিযোগ

অভিবাসী পরিবারের মেয়ে আনুম জেহরা, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’

অভিবাসী পরিবারের মেয়ে আনুম জেহরা, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে হিন্দু মন্দিরে হা মলা, ইটের আঘাতে ভাঙল জানালার কাচ

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে হিন্দু মন্দিরে হা মলা, ইটের আঘাতে ভাঙল জানালার কাচ

হলিউডে কর্মীর মন খারাপ ভেবে কাছে গেলেন টম ক্রুজ, নেটদুনিয়ায় প্রশংসা
হলিউডে কর্মীর মন খারাপ ভেবে কাছে গেলেন টম ক্রুজ, নেটদুনিয়ায় প্রশংসা

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা টম ক্রুজ কেবল পর্দায় অ্যাকশন হিরো নন, বাস্তবেও যে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল—তারই একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়া এক অপরিচিত কিচেন কর্মীকে বিষণ্ণ ভেবে নিজে থেকেই তার খোঁজ নিতে এগিয়ে আসেন এই সুপারস্টার। ছোট্ট অথচ আন্তরিক এই ঘটনাটি নেটিজেনদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।   জানা গেছে, ক্লেমেন্টিনা নামের ওই নারী কর্মী তার কাজের বিরতির সময় একা বসে মোবাইল ফোনে মগ্ন ছিলেন। ঘাড় নিচু করে ফোন স্ক্রল করার কারণে তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি কোনো কারণে বিপর্যস্ত। সেই পথ দিয়েই যাচ্ছিলেন টম ক্রুজ। মেয়েটির এমন ভঙ্গি দেখে তিনি আর নিজের গন্তব্যে এগিয়ে না গিয়ে থমকে দাঁড়ান এবং ফিরে এসে তার খোঁজ নেন। তিনি মেয়েটির হাতে হালকা টোকা দিয়ে জানতে চান, সবকিছু ঠিক আছে কি না।   আচমকা হলিউড তারকাকে সামনে দেখে রীতিমতো চমকে যান ওই কর্মী। তিনি টম ক্রুজকে জানান যে, তার মন খারাপ নয়; বরং তিনি কেবল আপন মনে ফোনে 'ডুমস্ক্রলিং' করছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে টম হাসিমুখে তার সাথে 'ফিস্ট বাম্প' করেন এবং সে যাত্রায় বিদায় নেন। তবে চমকের এখানেই শেষ ছিল না; কিছুক্ষণ পর তিনি আবারও ফিরে আসেন এবং ওই কর্মীর সাথে হাসিমুখে একটি ছবিও তোলেন।   পরবর্তীতে ক্লেমেন্টিনা নিজেই টিকটকে এই পুরো ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেন, যা মুহূর্তেই ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা টম ক্রুজের এই সাধারণ অথচ মানবিক আচরণের ব্যাপক প্রশংসা করছেন। ব্যস্ত জীবনে একজন অপরিচিত মানুষের প্রতি এমন ছোট একটি সহানুভূতির মুহূর্ত যে কারও দিনটি কতটা সুন্দর করে দিতে পারে, এই ঘটনাই যেন তার প্রমাণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:৩২
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৮ হাজারের বেশি ধ র্ষণের অভিযোগ, শীর্ষে ইউনিভার্সিটি অব উটাহ

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৮ হাজারের বেশি ধ র্ষণের অভিযোগ, শীর্ষে ইউনিভার্সিটি অব উটাহ

নিউইয়র্ক সিটিতে হ্যালোউইন ও শরৎকালীন উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণিল প্যারেড ও উৎসবমুখর পরিবেশ। ছবি: সংগৃহীত

হ্যালোউইনে নিউইয়র্কের ১৬০ সড়ক গাড়িমুক্ত, শিশুদের জন্য থাকছে মিষ্টি, খেলাধুলা ও নানা বিনোদন

যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী সমকামীদের নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস, ‘গেইজ ফর প্যালেস্টাইন’ স্লোগান ঘিরে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী সমকামীদের নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস, ‘গেইজ ফর প্যালেস্টাইন’ স্লোগান ঘিরে বিতর্ক

ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়া অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের কার্গো বিমান। ছবি: সংগৃহীত
বাতাসের তথ্য না জেনেই অবতরণ, মিয়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের হয়ে পণ্য পরিবহনকারী একটি কার্গো বিমান রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার আগে পাইলটদের বাতাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের প্রাথমিক তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। ৬ সেপ্টেম্বরের ওই দুর্ঘটনায় মাটিতে থাকা পাঁচজন নিহত এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। বিমানের দুই পাইলট সামান্য আহত হন। তবে তদন্তকারীরা এখনো দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করেননি।   দুর্ঘটনায় জড়িত উড়োজাহাজটি ছিল বোয়িং ৭৬৭-৩৩এ মডেলের কার্গো বিমান। ২১ এয়ারের পরিচালনায় বিমানটি অ্যামাজনের হয়ে পণ্য পরিবহন করছিল। এটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে আসছিল। মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩০ নম্বর রানওয়েতে অবতরণের পর বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত অতিক্রম করে মাটিতে থাকা দুটি যাত্রীবাহী যানবাহনে আঘাত করে। দুর্ঘটনার পর বিমানের ডান পাখায় আগুন ধরে যায় এবং উড়োজাহাজটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   প্রাথমিক তদন্তে বাতাসের তথ্য না পাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার প্রায় চার মিনিট আগে অন্য একটি বিমান বাতাসের তথ্য জানতে চেয়েছিল। তখন নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বাতাস ১৯০ ডিগ্রি দিক থেকে ১৯ নট বেগে বইছে এবং দমকা বাতাসের গতি ২২ নট পর্যন্ত উঠছে। কিন্তু দুর্ঘটনায় পড়া কার্গো বিমানটি তখন ওই বেতার তরঙ্গে ছিল না। পরে বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার সময় পাইলটদের সেই বাতাসের তথ্য জানানো হয়নি।   জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড জানিয়েছে, পেছন দিকের বাতাসের প্রভাব থাকা অবস্থায় কোনো রানওয়েতে বিমানকে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রকের বাতাসের দিক ও গতি জানানো প্রয়োজন। কিন্তু এই বিমানটির অবতরণের অনুমতির সঙ্গে সেই তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে সংস্থাটি এখনো বলেনি যে বাতাসের তথ্য না পাওয়ার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।   বাতাসের পাশাপাশি অবতরণের সময় বিমানটির গতিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ককপিটের রেকর্ড অনুযায়ী, অবতরণের শেষ পর্যায়ে একজন পাইলট ফ্ল্যাপ ২০ ডিগ্রিতে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর অন্য পাইলট সতর্ক করেন যে বিমানটি অতিরিক্ত গতিতে এগোচ্ছে। এরপরও বিমানের অতিরিক্ত গতি নিয়ে আরও কয়েকবার মন্তব্য করা হয়।   বিমানটি রানওয়ের শুরু থেকে প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ ফুট সামনে গিয়ে প্রথমবার মাটি স্পর্শ করে। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নাকের চাকা ও ডান পাশের প্রধান চাকা মাটি স্পর্শ করার সময় বিমানটির মাটির ওপর গতি ছিল প্রায় ১৫৮ নট। এরপর ১৪৬ নট গতিতে ব্রেক প্রয়োগ করা হয়। বাম পাশের প্রধান চাকা মাটি স্পর্শ করে প্রায় ১৩৪ নট গতিতে।   রেকর্ড করা তথ্যে আরও দেখা যায়, বিমানটির গতি যখন প্রায় ১২০ নটে নেমে আসে, তখন ব্রেক ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ইঞ্জিনের শক্তি এমন পর্যায়ে বাড়ানো হয়, যা আবার আকাশে ওঠার চেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কয়েক সেকেন্ড পর ইঞ্জিনের শক্তি আবার কমিয়ে ব্রেক প্রয়োগ করা হয়। তখন বিমানটির গতি ছিল প্রায় ১১৭ নট।   তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, রেকর্ড করা তথ্যে অবতরণের সময় বিমানের স্পিড ব্রেক কিংবা ইঞ্জিনের থ্রাস্ট রিভার্সার মোতায়েন হওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ব্রেক প্রয়োগ করা হয়েছিল। রেকর্ডিং শেষ হওয়ার সময় বিমানটির সর্বশেষ ধারণ করা গতি ছিল ৬৫ নট।   রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিমানটি দুটি যানবাহনে আঘাত করে। এতে মাটিতে থাকা পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। বিমানে থাকা দুই ক্রু সদস্য সামান্য আহত হন। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড দুর্ঘটনার পরদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ এবং দুর্ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত শুরু করে।   তদন্তে বিমানটির ককপিটের কথোপকথন ও উড্ডয়নসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণকারী দুটি যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ককপিটের কথোপকথন সংরক্ষণকারী যন্ত্রে দুই ঘণ্টার বেশি সময়ের ভালো মানের শব্দ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে উড্ডয়নসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণকারী যন্ত্রে প্রায় ৫৪ ঘণ্টার তথ্য এবং চার শতাধিক তথ্যসূচক সংরক্ষিত ছিল। এসব তথ্য দুর্ঘটনার শেষ মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠনে ব্যবহার করছেন তদন্তকারীরা।   দুর্ঘটনার পর অ্যামাজন ২১ এয়ারের ব্যবহার স্থগিত করেছে। ২১ এয়ার জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের প্রাথমিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে এবং তদন্তে যেসব তথ্য প্রতিষ্ঠিত হবে, তার ভিত্তিতে নিরাপত্তা উন্নত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। অ্যামাজনও চলমান তদন্তে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।   তবে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড স্পষ্ট করেছে, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য প্রাথমিক এবং তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ নির্ধারণ করা হয় না। চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণের জন্য বিমানটির কার্যক্ষমতা, পাইলটদের সিদ্ধান্ত, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, আবহাওয়া এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় পরীক্ষা করা হচ্ছে।   ফলে বাতাসের তথ্য না দেওয়া, অবতরণের সময় অতিরিক্ত গতি, রানওয়ের অনেকটা সামনে গিয়ে মাটি স্পর্শ করা কিংবা শেষ মুহূর্তে আবার আকাশে ওঠার চেষ্টা - কোনো একটিকেই এখন দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ বলা যাচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এসব ঘটনার সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণের সম্পর্ক নির্ধারণ করবে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১২:৪১
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে প্রদর্শিত নতুন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘আপলিফট’-এর দুর্যোগকালীন প্রস্তুত ঘর। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাকে বহনযোগ্য ঘরেই মিলবে বিছানা-বাথরুম-রান্নাঘর, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন উদ্যোগ

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটি অনুসন্ধানের মাধ্যমে আবার সামনে আনা দ্য কর্নেল ডেইলি সানের প্রধান সম্পাদক সোফিয়া দাস। ছবি: সংগৃহীত

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যাং রেইপের অভিযোগ সামনে আনতে ভূমিকা রাখলেন মুসলিম শিক্ষার্থী সোফিয়া

ক্যানসার আক্রান্ত চার সন্তানের বাবা কাইলার হেস ও তাঁর পরিবার এবং ইনসেটে নিঃস্বার্থ লিভার দাতা অ্যাবি কনলি। ছবি: সংগৃহীত

চার সন্তানের ক্যানসার আক্রান্ত বাবাকে নিজের লিভার দান করলেন এক অপরিচিত নারী, হতবাক পরিবার

0 Comments