ট্রাম্পের অভিবাসী বিতাড়ন নীতির মাঝেই আইসিইকে বিলুপ্ত করার পক্ষে ভোট দিল ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী বিতাড়ন কর্মসূচির বিস্তৃতির মধ্যেই ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি (ডিএনসি)।
শনিবার টেক্সাসের অস্টিনে অনুষ্ঠিত ডিএনসি-এর গ্রীষ্মকালীন বৈঠকে ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতাদের প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়। তবে একই বৈঠকে সংস্থাটি সংস্কারের পক্ষেও আরেকটি আলাদা প্রস্তাব পাস হয়েছে, যা আইসিই বিলুপ্তি নাকি শুধুই সংস্কার তা নিয়ে দলের ভেতরের চলমান মতভেদকেই সামনে এনেছে।
আইসিই বিলুপ্তির এই প্রস্তাবে কেবল সংস্কারের দাবিই জানানো হয়নি; বরং কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের এমন আইন পাসের আহ্বান জানানো হয়েছে, যা আইসিই-কে পুরোপুরি বিলুপ্ত করবে।
পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন বা অভিবাসী আটক ব্যবস্থা ধীরে ধীরে বন্ধ করা, নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) তহবিল সীমিত করা এবং বেসরকারি ডিটেনশন প্রোভাইডারদের সঙ্গে সব ধরনের চুক্তি বাতিলেরও জোর দাবি জানানো হয়েছে এতে।
২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অভিবাসন নীতি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে অন্যতম বিতর্কিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থী আইসিই-এর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সমালোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে দলের নীতিনির্ধারকরা এই ইস্যুতে কতটা কঠোর অবস্থানে যাওয়া উচিত, তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত; কারণ সাধারণত এই ধরনের বিষয়ে রিপাবলিকানরা ভোটারদের কাছে বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে।
ডিএনসি চেয়ারম্যান কেন মার্টিন এই প্রসঙ্গে বলেন, দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রতি চার বছর অন্তর কনভেনশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তবে অভিবাসন ইস্যুতে বর্তমান প্রশাসনের বিতর্কিত পদক্ষেপের বিরোধিতায় সব ডেমোক্র্যাট যে ঐক্যবদ্ধ, তা জোরালোভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreদক্ষিণ অ্যারিজোনায় দ্বিতীয় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ ঠেকাতে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে গাছ আঁকড়ে প্রতিবাদ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। শেষ পর্যন্ত সোমবার সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো কটনউড গাছ কেটে ফেলেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে সান রাফায়েল ভ্যালির লোচিয়েল শহরের কাছে। সীমান্তের পাশে থাকা চারটি কটনউড গাছের জায়গা দিয়েই প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। গাছগুলো রক্ষায় আন্দোলনকারীরা সেখানে দুই মাসের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছিলেন। সোমবার ফেডারেল এজেন্টরা ওই প্রতিবাদস্থলে অভিযান চালান। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রায় ৫০ জন ফেডারেল এজেন্ট সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের কয়েকজন মুখোশ পরেছিলেন। এমনকি কিছু এজেন্টের পোশাকের পরিচয়পত্র বা ব্যাজ টেপ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা। অভিযানের সময় একটি গাছে উঠে অবস্থান নেওয়া এক প্রতিবাদকারীকে নামিয়ে আনতে একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মযুক্ত যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ফেডারেল এজেন্টরা গাছটি ঘিরে রেখেছেন। পরে ওই যন্ত্রের সাহায্যে গাছের ওপর থাকা প্রতিবাদকারীকে নামিয়ে আনা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই গাছটি কেটে ফেলা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির কর্মী রাস ম্যাকস্প্যাডেন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা গাছগুলো কেটে ফেলার পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরে কয়েকজন প্রতিবাদকারী গাছে উঠে অবস্থান নেন। তাদের একজন সেখানে টানা ৭১ দিন ছিলেন বলে জানান তিনি। অভিযানকারীদের দাবি, সোমবারের অভিযানে ১০ জন প্রতিবাদকারীকে আ ট ক করা হয়। তাদের কয়েকজন পরে ছাড়া পেয়েছেন। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত আরও কয়েকজন হেফাজতে ছিলেন। এই গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অ্যারিজোনায় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ নিয়ে পুরোনো বিরোধ আবারও সামনে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ সীমান্তে নতুন করে সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সান রাফায়েল ভ্যালিতেও নির্মাণকাজ চলছে। আন্দোলনকারীদের কাছে কটনউড গাছটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করত। তাদের মতে, গাছটির বয়স প্রায় ২০০ বছর এবং এটি ওই এলাকার অন্যতম পুরোনো গাছ। সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের জন্য গাছটি কেটে ফেলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই তারা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। সোমবারের অভিযানে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র এজেন্ট মুখোশ পরে সেখানে অভিযান চালান এবং পরিচয় শনাক্ত করার মতো ব্যাজও ঢেকে রাখেন। গাছের ওপর থাকা প্রতিবাদকারীকে সরিয়ে নেওয়ার পর দ্রুত সেটি কেটে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ তাদের। তবে সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও রয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারটি কটনউড গাছই সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের জন্য অপসারণের তালিকায় ছিল। গাছ কাটার আগে পরিবেশবিষয়ক পর্যবেক্ষকেরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। অ্যারিজোনার সীমান্ত এলাকায় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ নিয়ে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তোহোনো ও’ওধাম নেশন এলাকায় নির্মাণকাজের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছিল। সেখানেও স্থানীয় ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নির্মাণকাজের বিরোধিতা করা হয়। লোচিয়েল এলাকার প্রতিবাদকারীরা জানিয়েছেন, সোমবারের অভিযান ও গাছ কাটার পরও তাদের আন্দোলন থামছে না। সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের বিরুদ্ধে তারা আরও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। মঙ্গলবারও প্রতিবাদের নতুন চিত্র দেখা গেছে। একজন আন্দোলনকারী মেক্সিকোর পাশের একটি কটনউড গাছে উঠে অবস্থান নেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে একটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো গাছ কেটে ফেলার ঘটনাটি শুধু একটি গাছ অপসারণের বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি অ্যারিজোনায় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ, পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের প্রতিবাদ—এই তিনটি বিষয়কে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি কর্মীদের কত বেতন দিতে হবে, সামনে এলো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
ট্রাম্পের নোবেল স্বপ্নে ধাক্কা, সম্ভাবনায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এগিয়ে
৯০ ডলারের এককালীন পেমেন্ট পাচ্ছেন লাখো বয়স্ক, শর্ত পূরণ না করায় বাদ ৪ কোটি
লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সম্ভাবনা এবং দেশটিতে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের প্রস্তাব বিবেচনার কথা বলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিনদাউগাস সিনকেভিচিয়াস জানিয়েছেন, ঘাঁটি স্থাপনে প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে প্রস্তুত ভিলনিয়াস। একই দিনে লিথুয়ানিয়ার পার্লামেন্ট পারমাণবিক অস্ত্র ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েনের ওপর সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাবের প্রথম ধাপের অনুমোদন দিয়েছে। এসব পদক্ষেপকে রাশিয়ার সীমান্তের কাছে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখছে মস্কো। ৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সিনকেভিচিয়াস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনে সম্মত হয়, তাহলে এর খরচ বহন করতে প্রস্তুত তার দেশ। এর আগে সোমবার ট্রাম্পকে লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করবে। ট্রাম্প লিথুয়ানিয়ার মানুষকে নিজের বন্ধু এবং চমৎকার মানুষ হিসেবেও উল্লেখ করেন। লিথুয়ানিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য। দেশটির সীমান্ত রয়েছে রাশিয়া ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের সঙ্গে। ২০১৯ সাল থেকে দেশটিতে প্রায় ১ হাজার মার্কিন সেনার একটি সাঁজোয়া ব্যাটালিয়ন পালাক্রমে মোতায়েন রয়েছে। অর্থাৎ সেনারা নির্দিষ্ট সময় পরপর সেখানে আসে এবং অন্য ইউনিট তাদের জায়গা নেয়। লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী গত মাসে ট্রাম্পের দূত জন কোয়েলের সঙ্গে ভিলনিয়াসে বৈঠকের সময় এই ঘূর্ণায়মান মার্কিন উপস্থিতিকে স্থায়ী করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। লিথুয়ানিয়া বলছে, দেশটিতে স্থায়ী মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ সক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। প্রধানমন্ত্রী সিনকেভিচিয়াসের ভাষায়, স্থায়ীভাবে মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেই প্রয়োজনীয় খরচ বহনে প্রস্তুত লিথুয়ানিয়া। এর পাশাপাশি লিথুয়ানিয়ার পার্লামেন্ট মঙ্গলবার সংবিধানের ১৩৭ নম্বর অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের প্রস্তাবের প্রথম ধাপে অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমান সংবিধানে দেশটির ভূখণ্ডে গণবিধ্বংসী অস্ত্র এবং বিদেশি রাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি মোতায়েন নিষিদ্ধ। মঙ্গলবারের ভোটে ১০৬ জন আইনপ্রণেতা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, ১৮ জন বিপক্ষে এবং ৬ জন ভোটদানে বিরত থাকেন। চূড়ান্ত ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ১২ জানুয়ারি। প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে লিথুয়ানিয়ার ভূখণ্ডে মিত্র দেশগুলোর পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে লিথুয়ানিয়া নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা নিয়ন্ত্রণ করবে। ন্যাটোর পারমাণবিক অংশীদারত্ব ব্যবস্থায় ইউরোপের কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র রাখা হলেও সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকে। লিথুয়ানিয়ার এই সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য মার্কিন ঘাঁটির পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়া ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়ার সীমান্তের কাছে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোকে মস্কো উত্তেজনা বাড়ানোর পদক্ষেপ ছাড়া অন্যভাবে দেখতে পারে না। একইভাবে প্রতিবেশী দেশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনাকেও রাশিয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হিসেবে দেখছে। পেসকভ আরও বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে মস্কো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে পারে। ক্রেমলিনের এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। রাশিয়ার সঙ্গে লিথুয়ানিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগের পেছনে দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। লিথুয়ানিয়া রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলের কাছাকাছি এবং বেলারুশের সঙ্গেও সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার একটি বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড, যা পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত। সেখানে রাশিয়ার সামরিক অবকাঠামো রয়েছে। এদিকে লিথুয়ানিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের বাজেটে দেশটি প্রতিরক্ষায় মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ বরাদ্দ করেছে। এ অর্থ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মিত্র বাহিনীর উপস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির একটি বড় সামরিক ব্রিগেডও গড়ে তোলা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৫ হাজার সদস্যের জার্মান ব্রিগেড ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় যাওয়ার কথা। এর অবকাঠামো ও স্থায়ী উপস্থিতির প্রস্তুতিও দেশটির সামরিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত কয়েক মাসে লিথুয়ানিয়া ও বাল্টিক অঞ্চলে আকাশসীমা লঙ্ঘন, ড্রোন এবং তথাকথিত হাইব্রিড হামলা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিথুয়ানিয়া ও তার মিত্ররা পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো সীমান্তে প্রতিরক্ষা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সময়ে রাশিয়া ন্যাটোর সামরিক অবকাঠামো তার সীমান্তের কাছে আরও এগিয়ে আসাকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। ফলে লিথুয়ানিয়ায় সম্ভাব্য স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটি এবং পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের আইনি পথ খুলে দেওয়ার উদ্যোগ ইউরোপের পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং পারমাণবিক অস্ত্রসংক্রান্ত সাংবিধানিক পরিবর্তনও এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়নি।
গাড়ি চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ও সবচেয়ে খারাপ শহর কোনগুলো, দেখুন তালিকায়
গ্রিন কার্ডে স্বজন আনতে হলে স্পনসরের আয় হতে হবে কত, জানুন হিসাব
চাকরি ছিল, স্বপ্নও ছিল, স্পনসর না পেয়ে আমেরিকা ছাড়লেন ভারতীয় বিজ্ঞানী, নতুন জীবন জার্মানিতে
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হতে যাচ্ছে। ২০২৭ সাল থেকে মার্কিন নাগরিকরা নতুন একটি অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে বসেই প্রথম পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে কাগজপত্র পূরণ, পাসপোর্টের ছবি তোলা এবং আবেদন জমা দিতে আলাদাভাবে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে আসবে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হবে সরকারের নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আমেরিকা ডট গভ-এর মাধ্যমে। ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্ল্যাটফর্মটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রথমবারের পাসপোর্ট আবেদন অনলাইনে করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী বছর থেকে মার্কিন নাগরিকরা প্রথম পাসপোর্টের আবেদন পুরোপুরি অনলাইনে সম্পন্ন করতে পারবেন। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক কেউ প্রথমবার মার্কিন পাসপোর্টের আবেদন করলে তাকে অনুমোদিত পাসপোর্ট গ্রহণকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হতে হয়। আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় ফরম পূরণ করে কাগজপত্র নিয়ে যেতে হয় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সরাসরি সাক্ষাতের সময়ও নিতে হয়। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে এই প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসবে। আবেদনকারীরা আমেরিকা ডট গভ-এ প্রবেশ করে ধাপে ধাপে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নিরাপদ সরকারি লগইন ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হবে। সরকারের কাছে থাকা নির্দিষ্ট তথ্য নিরাপদভাবে আবেদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। পাসপোর্টের ছবি তোলার ক্ষেত্রেও আসছে পরিবর্তন। আবেদনকারী নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বাড়িতেই ছবি তুলতে পারবেন অথবা নিজের ডিভাইস থেকে ছবি জমা দিতে পারবেন। ছবিটি পছন্দ না হলে নতুন ছবি তুলে আবার জমা দেওয়ার সুযোগও থাকবে। তবে ছবিতে কৃত্রিম ফিল্টার বা এমন কোনো ডিজিটাল পরিবর্তন করা যাবে না, যা মুখের স্বাভাবিক চেহারা বদলে দেয়। আবেদনের ফিও অনলাইনে নিরাপদভাবে পরিশোধ করা যাবে। অর্থাৎ ফরম পূরণ, ছবি জমা এবং ফি পরিশোধ—সবকিছু একই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করার লক্ষ্য রয়েছে। এতে আবেদনকারীদের তৃতীয় পক্ষের কোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করার প্রয়োজনও কমে যাবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হবে আবেদনের অগ্রগতি দেখা। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীরা তাদের পাসপোর্ট আবেদনের বর্তমান অবস্থা অনলাইনে অনুসরণ করতে পারবেন। এমনকি পাসপোর্ট কবে নাগাদ পৌঁছাতে পারে, সে বিষয়ে সম্ভাব্য তারিখও দেখানো হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় করা। বর্তমানে অনেক আবেদনকারীকে শুধু পাসপোর্টের ছবি তোলা বা আবেদন জমা দেওয়ার জন্য আলাদা করে বাইরে যেতে হয়। নতুন ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালু হলে সেই ঝামেলা অনেকটাই কমবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা লুক ওর্তেগা বলেন, যাদের আগে কোনো পাসপোর্ট ছিল না, তাদের জীবন আরও সহজ করাই এই পরিবর্তনের অন্যতম লক্ষ্য। তবে নতুন ব্যবস্থা এখনো সবার জন্য চালু হয়নি। বর্তমানে প্রথমবারের প্রাপ্তবয়স্ক পাসপোর্ট আবেদনকারীদের প্রচলিত নিয়মেই সরাসরি আবেদন করতে হচ্ছে। ২০২৭ সালে ধাপে ধাপে অনলাইন সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিককে আমেরিকা ডট গভ-এর মাধ্যমে পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট কার্ডের আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে বেশির ভাগ পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন অনলাইনে করা যায়। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে সেই ডিজিটাল সুবিধা প্রথমবারের আবেদনকারীদের কাছেও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে গেলেও মার্কিন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিরাপত্তা মান বজায় থাকবে। শুধু আবেদন প্রক্রিয়াতেই পরিবর্তন আসছে না। ২০২৮ সাল থেকে মার্কিন পাসপোর্টের নকশাতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন পাসপোর্টে থাকবে নতুন artwork বা শিল্পকর্ম এবং আরও কিছু নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য। নতুন নকশা চালু হলেও বর্তমানে যাদের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের শুধু নকশা পরিবর্তনের কারণে নতুন পাসপোর্ট নিতে হবে না। পুরোনো পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত বৈধ থাকবে, যদি সেটি অন্য কোনো কারণে বাতিল বা ব্যবহারের অনুপযোগী না হয়। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ব্যবস্থায় আগামী দুই বছরে দুটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। ২০২৭ সালে প্রথমবার পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ২০২৮ সালে নতুন নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসহ পাসপোর্ট চালুর প্রস্তুতি চলছে। এসব পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে মার্কিন নাগরিকদের পাসপোর্ট আবেদনে সময়, যাতায়াত এবং অতিরিক্ত সেবার খরচ—তিনটিই কমতে পারে।
মামদানির নেতৃত্বে প্রথম বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক, অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে
নিজের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি সরকারি ডলার গায়েব, দোষ স্বীকার সিআইএ কর্মকর্তার