আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয়দের আটক বেড়েছে ১১০৯ শতাংশ, সবচেয়ে বেশি ভারতীয়দের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১১:২৩
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিকদের অভিবাসন আটকের ঘটনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিকদের অভিবাসন আটকের ঘটনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিকদের অভিবাসন আটকের ঘটনা ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় ১১০৯ শতাংশ বেড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ইকুইটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থার মোট আটকের সংখ্যা বেড়েছে ৩৮৬ শতাংশ।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় তিন হাজার এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিককে অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থা আটক করে। ওই বছর সংস্থাটির মোট আটকের ১১ শতাংশ ছিল এই জনগোষ্ঠীর। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আটকের মোট অংশেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।

 

ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয়, নেটিভ হাওয়াইয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দার সংখ্যা ৭২ লাখের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মোট এই জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ শতাংশ ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারত, চীন, ভিয়েতনাম, আর্মেনিয়া ও লাওসের নাগরিকদের মধ্যে অভিবাসন আটকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

 

আটক হওয়া ব্যক্তিদের অপরাধের ইতিহাসেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৫ সালে আটক হওয়া এই জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫৬ শতাংশের কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ১৯ শতাংশ। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, নারী, শিশু এবং অপরাধের রেকর্ড নেই এমন ব্যক্তিদের আটকের সংখ্যাও বেড়েছে।

 

ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহরে ২০২৫ সালে অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থা এবং সীমান্ত টহল বাহিনীর একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়। ২০২৬ সালে এসব অভিযান আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও কম প্রচারিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আগের বছরগুলোর তুলনায় অভিবাসন কার্যক্রম এখনও বেশি রয়েছে।

 

এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব আটকের কারণে কমিউনিটির মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হচ্ছে। পরিবারগুলো স্বজনদের খুঁজে বের করতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে এবং অনেক পরিবারকে আতঙ্কের মধ্যে ছুটতে হচ্ছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির সামনে, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে, কর্মস্থলে এবং আদালতে নিয়মিত হাজিরার সময়ও আটকের ঘটনা ঘটছে।

 

বিশ্লেষণে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির প্রভাব নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। প্রশাসন গুরুতর অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বিশ্লেষণে অপরাধের রেকর্ড নেই এমন ব্যক্তিদের আটকের পাশাপাশি বৈধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযান বাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লেনদেনমূলক রেকর্ড প্রবেশাধিকার ক্লিয়ারিংহাউসের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন হেফাজত কেন্দ্রে থাকা ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের কোনো অপরাধের সাজা নেই। ক্যালিফোর্নিয়ায় আটকের প্রবণতার সঙ্গে এই তথ্যও বিশ্লেষণে বিবেচনা করা হয়েছে।

 

ইকুইটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণটি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থার জানানো ব্যক্তিগত আটকের রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এসব তথ্য ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলির বহিষ্কারসংক্রান্ত তথ্য প্রকল্পের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে।

 

তবে এই হিসাব ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে হওয়া সব অভিবাসন আটকের পূর্ণ চিত্র নয়। কারণ বিশ্লেষণে শুধু অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থার আটকের তথ্য রয়েছে। সীমান্ত টহলসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাও ক্যালিফোর্নিয়ায় বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ফলে প্রকৃত মোট আটকের সংখ্যা এই বিশ্লেষণে পাওয়া সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্রেতা সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয় প্রচারণামূলক সামগ্রী বিক্রির ‘ট্রাম্প সুপারস্টোর’ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
সমর্থকদের ভিড়ে থাকত জমজমাট, এখন ৫০ শতাংশ ছাড়েও বন্ধ হচ্ছে ‘ট্রাম্প সুপারস্টোর’

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি বড় মার্কিন পণ্য বিক্রির দোকান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দোকানের মালিকের দাবি, অবসর নেওয়া বা অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে নয়, মূলত ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।   নক্সভিলের কাছে ইন্টারস্টেইট ৪০ - এর পাশে অবস্থিত ট্রাম্প সুপারস্টোরটি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প সমর্থকদের কাছে পরিচিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। দোকানটির বাইরে ট্রাম্পের বিশাল বিলবোর্ড ও ব্যানার রয়েছে। এমনকি সেখানে ‘ডেমোক্র্যাট সুপারস্টোর’ নামে একটি ইটের তৈরি প্রতীকী শৌচাগারও রাখা হয়েছিল।   দোকান বন্ধের আগে অবশিষ্ট পণ্য ৫০ শতাংশ ছাড়ে বিক্রি করা হচ্ছে। দোকানের মালিক ৮০ বছর বয়সী বিল হেইস জানিয়েছেন, তিনি অবসর নিচ্ছেন বা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন—এমন খবর সঠিক নয়।   দোকানের এক কর্মচারী সংক্ষেপে বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমরা এখন আর ব্যস্ত নই।”   একসময় অবশ্য চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার পর দোকানে বিপুলসংখ্যক সমর্থক ভিড় করেছিলেন বলে জানান হেইস। তার ভাষ্য, তখন দোকানে ঢোকার জন্য মানুষকে বাইরে অপেক্ষা করতে হতো এবং পুরো ভবনটি যেন ট্রাম্প সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল।   বর্তমানে সেই ভিড় আর নেই। দোকানের কর্মচারীদের একজন ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে তার মতে, ক্রেতাদের আর্থিক চাপও ব্যবসা কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ।   তিনি বলেন, অনেক মানুষ এখন কেনাকাটার বদলে প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো নিয়ে চিন্তিত। কারও সামনে প্রশ্ন—মাসের বাজার করবেন, নাকি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবেন।   দোকানের কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, জ্বালানি ব্যয় এবং পরিবারের ওপর বাড়তে থাকা আর্থিক চাপের কারণে মানুষ অতিরিক্ত অর্থ রাজনৈতিক পণ্য কেনাকাটায় ব্যয় করতে আগের মতো আগ্রহী নন।   টেনেসি ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজ্যটিতে ট্রাম্প বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। ফলে ট্রাম্পের নামে গড়ে ওঠা এই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক আগ্রহ তৈরি করেছে।   তবে একটি দোকানের ক্রেতা কমে যাওয়া বা ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়াকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সামগ্রিক চিত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা পরিস্থিতি, ক্রেতাদের ব্যয়ক্ষমতা এবং দোকানের নিজস্ব ব্যবসায়িক কারণও জড়িত থাকতে পারে।   তবু কয়েক বছর আগেও ট্রাম্প সমর্থকদের ব্যাপক আগ্রহে যে দোকানটি জমজমাট ছিল, সেটি এখন অর্ধেক দামে পণ্য বিক্রি করে বন্ধ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে—ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পণ্যনির্ভর ব্যবসার পরিবর্তিত চিত্রের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১১:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালতে একসঙ্গে শত শত অভিবাসীর গণ-শুনানি বা ‘মেগা মাস্টার’ শুনানি নেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে শত শত অভিবাসীর শুনানি, হাজির না হলেই বহিষ্কার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিকদের অভিবাসন আটকের ঘটনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয়দের আটক বেড়েছে ১১০৯ শতাংশ, সবচেয়ে বেশি ভারতীয়দের

ভারতে মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন করা সব বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের সাক্ষাৎকার দিতে সশরীরে উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ভিসায় সব বয়সী শিশুর সাক্ষাৎকার বাধ্যতামূলক

সামরিক পরিবারের জন্য বিশেষ সুবিধার আবেদন চলাকালীনই মার্কিন সেনাসদস্য মেয়ে গ্রেস ওর্তেগার বাবা হুয়ান ওর্তেগাকে মেক্সিকোয় বহিষ্কার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন সেনাসদস্য মেয়ের আবেদনও রক্ষা করতে পারল না বাবাকে, মেক্সিকোয় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত গ্রেস ওর্তেগার বাবা হুয়ান ওর্তেগাকে গত ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। মেয়ের মাধ্যমে সামরিক পরিবারের সদস্যদের জন্য দেওয়া বিশেষ থাকার অনুমতির আবেদন চলমান থাকা অবস্থাতেই তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরিবারের দাবি, মেক্সিকোতে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করেননি হুয়ান।   গ্রেস ওর্তেগা ২০২৪ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তাঁর সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল সামরিক বাহিনীর একটি কর্মসূচি, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অনুমতি ছাড়া থাকা সেনাসদস্যদের নিকট পরিবারের সদস্যদের জন্য সাময়িকভাবে থাকার অনুমতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। হুয়ানও মেয়ের মাধ্যমে এই সুবিধার জন্য আবেদন করেছিলেন।   গ্রেস জানান, ভালো একটি চাকরি পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করার পাশাপাশি পরিবারের সুরক্ষার আশাতেও তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বাবা বহিষ্কারের শিকার হওয়ায় তিনি নিজের দেশের কাছ থেকে বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হুয়ান অভিবাসন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন যে মেয়ের মাধ্যমে তাঁর থাকার অনুমতির আবেদন চলমান রয়েছে।   পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, হুয়ানকে মে মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল বলে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, ২০১৬ সালে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে তাঁর একটি গ্রেপ্তারের ঘটনা ছিল এবং ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ দেওয়া হয়। তবে সংস্থাটি ওই গ্রেপ্তারের কোনো প্রমাণ দেয়নি এবং তখন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল কি না, সেটিও জানায়নি।   হুয়ান গ্রেপ্তারের পরও মেয়ের মাধ্যমে করা সামরিক পরিবারের জন্য থাকার অনুমতির আবেদন থেকে আশাবাদী ছিলেন। তিনি তাঁর অভিবাসন মামলা পুনরায় খোলার আবেদনও করেছিলেন এবং মেয়ের সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকার বিষয়টি তার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে তাঁর আবেদনগুলো বহিষ্কারের পরও কার্যকর ছিল কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।   গ্রেসের বাবা প্রায় ছয় সপ্তাহ অভিবাসন আটককেন্দ্রে ছিলেন। গ্রেস জানান, সেখানে থাকার সময় তাঁর বাবা প্রায় ১৪ কেজি ওজন হারান এবং হার্নিয়ায় আক্রান্ত হন। হুয়ান আটককেন্দ্রের খাবার, ঘুমানোর ব্যবস্থা, পানির ব্যবস্থা ও গোসলের সুযোগ নিয়েও অভিযোগ করেন।   হুয়ানের আইনজীবী তাঁকে মুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ওই আবেদনের পরপরই ৪ জুলাই তাঁকে মেক্সিকোয় পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। হুয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে মেক্সিকোর চিয়াপাসে নিয়ে যাওয়া হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী পরিবারের কাছ থেকে অনেক দূরের একটি এলাকা।   মেক্সিকোয় পৌঁছানোর পর হুয়ান ও অন্য বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা বাসস্টেশনে যাওয়ার জন্য গাড়ি খুঁজছিলেন। তাঁর দাবি, কয়েকজন চালক তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে এবং অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবারের কাছ থেকে আরও অর্থ নেওয়ার হুমকি দেয়। হুয়ানের কাছে থাকা ৪০০ মেক্সিকান মুদ্রা দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান। পরে তিনি মেক্সিকোর সিউদাদ হুয়ারেসে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছান।   হুয়ান এখন মেক্সিকোয় পরিবারের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করছেন। তবে তাঁর স্ত্রী ও চার সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে রয়ে গেছেন। গ্রেস জানান, তাঁর বাবা আগে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন। পরিবারের ছোট ছেলেটির বয়স সাত বছর এবং সে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত। তার নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে হুয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিবারের কোনো সদস্য সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক থাকার অনুমতি, বৈধ অভিবাসন মর্যাদা বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা থেকে ছাড় পাওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষও সামরিক পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাময়িক থাকার অনুমতি বা অন্য কিছু সুবিধা দেওয়ার সুযোগ রাখে বলে জানিয়েছে।   এদিকে গ্রেসের ঘটনায় সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যদের অন্তত ৫২ জন বাবা-মা ও স্বামী বা স্ত্রীকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করে আটক করেছে। তাদের মধ্যে অন্তত ছয়জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং একজন নিজে থেকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন।   গ্রেস ওর্তেগার ক্ষেত্রে তাঁর বাবার আবেদন চলমান থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়েছে। গ্রেস বলেন, তিনি দেশের জন্য কাজ করতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন এবং বাবাকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলেও আশা করেছিলেন। বাবাকে বহিষ্কারের পর সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১০:৩
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে তিন দিনব্যাপী ফোবানার ৪০তম সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসে ফোবানার ৪০তম সম্মেলন, আর মাত্র ১৯ দিন পর শুরু

সাবেক আইটি আর্কিটেক্ট মাহবুব রহমান। ছবি:সংগৃহীত

ফিলাডেলফিয়ায় হার্ভার্ডের সাবেক আইটি আর্কিটেক্ট মাহবুব রহমানের ইন্তেকাল

বাড়ির সরবরাহ কমে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেতাদের চাপ বাড়ছে, বাড়ছে আবাসন ব্যয়ও। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির সরবরাহ কমে ক্রেতাদের সংকট, উচ্চ দাম ও সুদে নতুন বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে

মেজর জেনারেল আমির হাতামি। ছবি:সংগৃহীত
মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা ইরানের সেনাপ্রধানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রতিটি মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল আমির হাতামি।   রোববার ইরানের সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাতামি এ ঘোষণা দেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানি বাহিনীর কোনো সদস্য একজন মার্কিন ‘আগ্রাসী’ সেনাকে হত্যা বা বন্দি করতে পারলে জনগণের অংশগ্রহণে তাকে এই অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে।   হাতামির এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক সংঘাতের কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি। যুদ্ধবিরতি ও অন্তর্বর্তী সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা থাকলেও সর্বশেষ আলোচনাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।   সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই নিয়ন্ত্রণের দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে নৌ অবরোধ বজায় রাখার কথা জানিয়েছে এবং প্রয়োজনে সেটি অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার কথাও বলেছে।   অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সত্ত্বেও ইরান নিজেদের শর্ত ছাড়া নৌপথটি স্বাভাবিকভাবে খুলবে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এই সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২৪০ দিনের বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে রণতরীটির নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কথা মার্কিন আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন।   এই দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাময়িকভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি কমে যাচ্ছে, যা চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার মধ্যে নতুন কৌশলগত উদ্বেগ তৈরি করেছে।   এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হলে তেহরানকে এর জন্য বড় মূল্য দিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। একই সময়ে ইরানও যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।   ফলে দুই দেশের মধ্যে শুধু সামরিক সংঘাতই নয়, পাল্টাপাল্টি হুমকি, অবরোধ, পুরস্কার ঘোষণা এবং কূটনৈতিক চাপও ক্রমেই বাড়ছে।   আমির হাতামির ৩০ হাজার ডলারের এই ঘোষণা সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তবে ঘোষণাটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে, পুরস্কারের অর্থ কে দেবে এবং এ ধরনের কোনো পুরস্কার ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও হরমুজ প্রণালি, নৌ অবরোধ, সামরিক অভিযান এবং ক্ষতিপূরণের মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশের অবস্থান এখনো ব্যাপকভাবে ভিন্ন। ফলে সামরিক উত্তেজনা কমানোর বদলে পাল্টাপাল্টি চাপের এই পরিস্থিতি আরও কতদিন চলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ৭:৪১
যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ ও উচ্চ আর্দ্রতা। ছবি: সংগ্রহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশে তীব্র তাপপ্রবাহ, ঝুঁকিতে প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ মানুষ

শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ উপসাগরীয় মিত্ররা, মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে খুঁজছে বিকল্প নিরাপত্তা বলয়

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানএবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। ছবি:সংগৃহীত

সৌদির অর্থ, তুরস্কের প্রযুক্তি আর পাকিস্তানের পরমাণু শক্তি, নতুন সমীকরণে উদ্বেগ ভারতের

0 Comments