বাড়ি ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিদায়ের মুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ট্রাম্পের নাতনি ও তার মা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাতনি কাই ট্রাম্প জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। চলতি ফল সেমিস্টারে (Fall Semester) তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামিতে ভর্তি হচ্ছেন। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গলফ দলের হয়ে খেলবেন তিনি। তবে নতুন এই যাত্রার আগে সবচেয়ে কঠিন বিষয় হয়ে উঠেছে পরিবার, বিশেষ করে মাকে ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্ত।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব ভ্লগে ১৯ বছর বয়সী কাই জানান, নতুন অ্যাপার্টমেন্টে ওঠার প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে তার ক্লাস শুরু হবে। ভিডিওতে কলেজে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো পরিচিত গলফ কোর্সে খেলতে দেখা যায় তাকে। সেই সঙ্গে জীবনের এই বড় পরিবর্তন নিয়ে নিজের অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন।
কাই বলেন, "আগামী সপ্তাহেই কলেজে যাচ্ছি। বিশ্বাসই হচ্ছে না। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে গলফ খেলব।"
তিনি বলেন, "এখন বাড়ি, বন্ধু আর পরিবারকে ছেড়ে যেতে হবে। মাকে খুব বেশি মিস করব।"
মায়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কাই জানান, কয়েকদিন আগে তারা একসঙ্গে একটি দোকান থেকে কেনাকাটা করে ফিরছিলেন। গাড়িতে ওঠার পর হঠাৎ তার মা কাঁদতে শুরু করেন। সেই দৃশ্য দেখে তিনিও নিজেকে সামলাতে পারেননি।
তার ভাষায়, "মা খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। সেদিন গাড়িতে তিনি কাঁদতে শুরু করলেন, তারপর আমিও কেঁদে ফেললাম। সত্যিই খুব কঠিন একটা সময়।"
কাই ট্রাম্প, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও ভ্যানেসা ট্রাম্পের বড় সন্তান। গত মে মাসে ভ্যানেসা ট্রাম্প জানান, তার স্তন ক্যানসার ধরা পড়েছে এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের উদ্দেশে কাই লিখেছিলেন, "আমি যত মানুষকে চিনি, তাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ তুমি। তোমাকে ভালোবাসি।"
ভ্যানেসা বর্তমানে ফ্লোরিডার জুপিটার শহরে থাকেন, যা ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামি থেকে প্রায় ৯০ মাইল দূরে। ফলে প্রতিদিন দেখা না হলেও সপ্তাহান্তে মা-মেয়ের দেখা হওয়ার সুযোগ থাকবে।
১৯ বছর বয়সী কাই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ জনপ্রিয়। তার ইউটিউব চ্যানেলে ১৫ লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। সেখানে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন, গলফ অনুশীলন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার ভিডিও প্রকাশ করেন।
এদিকে ভ্যানেসা ট্রাম্প বর্তমানে কিংবদন্তি গলফার টাইগার উডসের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। ২০২৪ সালে তারা প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সূত্র: দ্য আইরিশ স্টার
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। মরুভূমি, পাহাড়, সমুদ্রসৈকত ও জাতীয় উদ্যানের বৈচিত্র্যে প্রতিবছর লাখো মানুষ সেখানে ভ্রমণ করেন। তবে মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে কিছু মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, যেখানে অসতর্কতা বা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে বহু পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী লিন্ডসি মারিনো অঙ্গরাজ্যের এমন পাঁচটি পর্যটনস্থানের কথা তুলে ধরেন, যেগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনাতেও পরিচিত। তালিকায় রয়েছে ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের দুটি বিখ্যাত স্থানও। মার্কিন ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য, গবেষণা প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মারিনোর উল্লেখ করা ঘটনাগুলোর মিল পাওয়া যায়। প্রথমেই রয়েছে ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক। প্রায় ৩৪ লাখ একরজুড়ে বিস্তৃত এই মরুভূমি পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। মারিনোর ভাষায়, এখানে সবচেয়ে বড় বিপদ শুধু প্রচণ্ড গরম নয়, বরং অল্প সময়ের মধ্যেই একটি ছোট সমস্যা জীবন-মরণ পরিস্থিতিতে পরিণত হতে পারে। গাড়ির টায়ার পাংচার হওয়া বা ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও তীব্র গরমে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। এতে পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়। ২০২৪ সালে ডেথ ভ্যালি দিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র গরমে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই পার্কে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে বছরে প্রায় চারজন। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্যে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। এছাড়া অতিরিক্ত গরমজনিত অসুস্থতাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুর কারণ। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের বিখ্যাত হাফ ডোম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮ হাজার ৮০০ ফুট উঁচু এই গ্রানাইট শৃঙ্গ ট্রেকারদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। শীর্ষে পৌঁছাতে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ মাইল পথ হাঁটতে হয় এবং শেষ অংশে ইস্পাতের তার ধরে খাড়া ঢাল বেয়ে উঠতে হয়। চমৎকার দৃশ্যের জন্য পরিচিত হলেও এই পথ অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালের পর থেকে হাফ ডোমের কেবল অংশ ও শীর্ষ এলাকায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পার্ক কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, বৃষ্টি, ভেজা পাথর বা বজ্রঝড়ের সময় কখনোই কেবল বেয়ে ওঠা উচিত নয়। কারণ ভেজা পাথর ও বজ্রপাত মুহূর্তেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ইয়োসেমিটির আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান নেভাডা ফলস। প্রায় ৫৯৪ ফুট উঁচু এই জলপ্রপাত গত দুই দশকে একাধিক প্রাণহানির সাক্ষী হয়েছে। চলতি বছরের জুনে ২২ বছর বয়সী এক পর্যটক জলপ্রপাতের কাছে পড়ে গিয়ে মারা যান। এর আগে ২০১৮ সালে এক ইসরায়েলি পর্যটক ছবি তুলতে গিয়ে খাদের কিনারা থেকে পড়ে প্রাণ হারান। ২০১৩ সালে স্যাক্রামেন্টোর ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ জলপ্রপাতের ওপরে স্রোতে ভেসে নিচে পড়ে মারা যান। এ কারণে সেখানে বড় সতর্কবার্তাও টানানো রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, জলপ্রপাতের ওপরে পানিতে নামা বা পিচ্ছিল পাথরের ধারে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে কাউকে জলপ্রপাতের কিনারায় নিয়ে যেতে পারে এবং নিচে পড়ে গেলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। ইয়োসেমিটিতে শুধু জলপ্রপাতই নয়, গাছও কখনো কখনো প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। গত মাসে পার্কের টুয়োলামনি গ্রোভ এলাকায় হাঁটার সময় একটি বিশাল সিকোইয়া গাছের ডাল ভেঙে পড়ে এক গুগল প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়। তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকোর ওশান বিচ। বাহ্যিকভাবে এটি শান্ত ও সুন্দর সৈকত মনে হলেও স্থানীয়দের কাছে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শক্তিশালী রিপ কারেন্ট, বরফশীতল পানি এবং হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া বিশাল ঢেউয়ের কারণে বহু মানুষ এখানে প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু ১৯৯৮ সালেই এই সৈকতে সাতজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আরও অন্তত আটজনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছরের জুনেও অস্বাভাবিক বড় ঢেউয়ের আঘাতে এক সার্ফারের মৃত্যু হয়। সবশেষে রয়েছে মাউন্ট হুইটনি। ১৪ হাজার ৫০৫ ফুট উচ্চতার এই পর্বত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। প্রতিবছর হাজারো পর্বতারোহী এখানে ওঠেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষে পৌঁছানোর চেয়ে নিচে নেমে আসার পথই বেশি বিপজ্জনক। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা, বিকেলের আকস্মিক ঝড়, হিমশীতল আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি অনেক সময় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গড়ে প্রতি বছর এক থেকে দুইজন এখানে প্রাণ হারান। ২০২২ সালে চারজন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছিল। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক পর্বতারোহী সঙ্গী ফিরে গেলেও একাই আরোহণ চালিয়ে যান এবং পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার এসব স্থান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত হলেও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ ভ্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
বাড়ি ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিদায়ের মুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ট্রাম্পের নাতনি ও তার মা
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় এলাকা কোনগুলো? জানাল নতুন সমীক্ষা
বাসায় যাওয়ার পথে নিউইয়র্কে বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। অন্য শিশুদের মতো স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পাঁচ বছরের নোয়াও। তবে এবার তার সবচেয়ে বড় অপেক্ষা নতুন বই বা স্কুলব্যাগের জন্য নয়, মায়ের জন্য। কারণ নিয়মিত একটি অভিবাসন সাক্ষাৎকারে যাওয়ার পর থেকে তার মা মাইসা লোপেস এলিয়াসের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)-এর হেফাজতে রয়েছেন। আর স্ত্রীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে এখন আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য অ্যালেক্সিস হারামিলো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএএলবি (KALB) জানায়, স্টাফ সার্জেন্ট অ্যালেক্সিস হারামিলো গত ১১ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কর্মরত। পুয়ের্তো রিকোতে জন্ম নেওয়া এই বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ বলেন, দেশের সেবায় গর্বিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে 'প্রতারিত' মনে করছেন। হারামিলোর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই তিনি, তার স্ত্রী এবং পাঁচ বছরের ছেলে নোয়া আলাবামার মন্টগোমারিতে একটি নির্ধারিত অভিবাসন সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে আট ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যান। সাক্ষাৎকার চলাকালে আইস কর্মকর্তারা তার স্ত্রীকে আলাদা কক্ষে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তাদের জানানো হয়, মাইসা লোপেস এলিয়াসেরকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, "আমার ছেলের সামনেই জানানো হয় তার মাকে আটক করা হয়েছে। সেই মুহূর্তের কথা মনে করাও খুব কষ্টের।" ২০১৯ সালে ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন মাইসা। পরে হারামিলোর সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদনও করা হয়। তবে অভিবাসন আইনজীবী মাইকেল গাহাগান জানান, মাইসা নির্ধারিত একটি বায়োমেট্রিকস (আঙুলের ছাপ ও পরিচয় যাচাই) সাক্ষাতে উপস্থিত হননি। এর ফলে তার আশ্রয় আবেদন বাতিল হয় এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ জারি করা হয়। হারামিলো বলেন, তারা মনে করেছিলেন বিয়ের পর নতুন করে জমা দেওয়া কাগজপত্রের কারণে আগের বায়োমেট্রিকস সাক্ষাতে আর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আইন অনুযায়ী একটি আবেদন অন্য প্রক্রিয়াকে বাতিল করে না। বর্তমানে হারামিলোর আইনজীবী মামলাটি পুনরায় চালুর আবেদন করেছেন। আইনজীবীদের আশা, আদালত আবেদন গ্রহণ করলে আপাতত বহিষ্কারের প্রক্রিয়া স্থগিত হতে পারে। তবে এরই মধ্যে আইস ব্রাজিলের কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে। স্ত্রীকে মুক্ত করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে গিয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন হারামিলো। তিনি বলেন, মামলার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই চাপ তার ব্যক্তিগত জীবন তো বটেই, সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের ওপরও প্রভাব ফেলছে। তার ভাষায়, "আমার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা আমার ছেলে। স্কুল শুরু হয়েছে, কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো তার মা তাকে স্কুলের প্রথম দিনে নিয়ে যেতে পারছে না।" বর্তমানে মাইসা লুইজিয়ানার ব্যাসিলে অবস্থিত আইস প্রসেসিং সেন্টারে আটক আছেন। তার স্বামীর দাবি, তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। যদি শেষ পর্যন্ত তার স্ত্রীকে ব্রাজিলে ফেরত পাঠানো হয়, সেটিই হবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন বলে মন্তব্য করেন হারামিলো। তিনি বলেন, "আমরা আইন ভাঙার চেষ্টা করছি না। বরং আইন মেনেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চেয়েছি।" হারামিলো যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের প্রতি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের ব্যয় মেটাতে একটি গোফান্ডমি তহবিলও চালু করেছেন। এদিকে, এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও আইসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: কেএএলবি (KALB), গ্রে নিউজ
সড়ক দুর্ঘটনায় মায়ের মৃত্যুর দুই দিন পর প্রাণ হারাল ৪ বছরের মেয়ে, বেঁচে আছে শুধু এক বছরের মা-হারা ছেলে
অভিবাসীদের আটক অভিযানে বিদ্যুৎ শক দেওয়া বিশেষ গ্লাভস কিনতে ২ কোটি ডলার ব্যয় করবে আইস
অনুশীলনের সময় খেলোয়াড়ের হেলমেটে বিষধর সাপ, একটুর জন্য রক্ষা পেলেন স্কুলছাত্র
নিউইয়র্ক সিটির বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর আরোপিত বিতর্কিত ‘পিয়ে-আ-তের’ (Pied-à-terre) কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন আদালত। এর জেরে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি গভর্নর হোকুলের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মঙ্গলবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ওয়েন ওজি সোমবার কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই করটি নিয়ে রাজ্য সরকার ও সিটি হলের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিতর্কিত এই করের লক্ষ্য নিউইয়র্ক সিটিতে থাকা উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় আবাসন বা বিলাসবহুল বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা। চলতি বছরের মে মাসে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা রাজ্য বাজেটের অংশ হিসেবে করটির অনুমোদন দেন। এটি ছিল মেয়র মামদানি এবং তার সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর একটি। তবে কর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পরপরই একাধিক জটিলতা সামনে আসে। এরপর আদালতের স্থগিতাদেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এ অবস্থায় গভর্নর হোকুলের কার্যালয় জানিয়েছে, করটির বাস্তবায়নের দায় নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের। গভর্নরের মুখপাত্র জেনিফার গুডম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, এই মামলাটি কর বাস্তবায়নের প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে, যা আদালত এবং সিটি প্রশাসনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। তবে গভর্নর এখনও মনে করেন, যারা নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের দ্বিতীয় বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখেন, তারা ন্যায্য হারে কর দেওয়ারও সামর্থ্য রাখেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন গভর্নর নির্বাচন সামনে রেখে হোকুল এই বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইছেন। ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, নির্বাচনের আগে হোকুলের জন্য ‘কর বাড়ানো ও অতিরিক্ত ব্যয়ের’ ভাবমূর্তি মোটেই সুবিধাজনক নয়। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান এই ইস্যুতে গভর্নরকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। কুইন্সে এক নির্বাচনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হোকুল নিজের ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। তার দাবি, ডেমোক্রেটিক পার্টিতে এখন মামদানির প্রভাব বেড়েছে এবং গভর্নর তার চাওয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এদিকে, আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করেছে মামদানির প্রশাসন। তাদের দাবি, স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হলে মামলার শুনানি চলাকালেও কর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী র্যান্ডি মাস্ত্রো অভিযোগ করেছেন, আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরও সিটি প্রশাসন কর বাস্তবায়নের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আদালতে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘আইনের শাসনের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের বর্তমান স্থগিতাদেশ শুধু তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক জটিলতাই নয়, ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির দীর্ঘদিনের জটিল সম্পত্তি কর ব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কারের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। কারণ, এই কর কার্যকর করতে হলে শহরের বিদ্যমান সম্পত্তি কর কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হতে পারে, যা অতীতের কোনো মেয়রই বাস্তবে কার্যকর করতে পারেননি। রিপাবলিকান নেতারাও এই সুযোগে গভর্নর হোকুলের সমালোচনা আরও জোরদার করেছেন। অঙ্গরাজ্যের কম্পট্রোলার পদপ্রার্থী জোসেফ হার্নান্দেজ বলেন, মামদানি নতুন কর চেয়েছিলেন, হোকুল সেটি অনুমোদন দিয়েছেন। এখন এর পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইকেল ট্যানুসিসও দাবি করেন, এই করের বাস্তবায়ন যেমন সমস্যায় পড়েছে, তেমনি করটির প্রয়োজনীয়তাও প্রশ্নবিদ্ধ। তার ভাষায়, শুধু বাস্তবায়ন নয়, এমন করই থাকা উচিত নয়। নিউইয়র্কে ‘পিয়ে-আ-তের’ কর নিয়ে আইনি লড়াই এখনও চলমান। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে করটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না এবং এটি গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক অবস্থানে কতটা প্রভাব ফেলবে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের পোস্ট আগে দেখতে লাখ লাখ ডলারের চুক্তি করছে বিভিন্ন ট্রেডিং ফার্ম
চার বছর রাশিয়ার কারাগারে বন্দী মার্কিন নৌসেনা, মুক্ত হয়ে ট্রাম্পের কাছে চাইলেন চিজবার্গার