গ্রীষ্মের ছুটিতে টানা ৩০০ ঘণ্টা পরিশ্রম, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য থ্রিডি প্রিন্টেড হুইলচেয়ার বানিয়ে প্রশংসায় ১৩ বছরের কিশোর
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর প্রযুক্তির প্রতি তার ভালোবাসা এবং মানুষের উপকার করার মানসিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। গ্রীষ্মের ছুটিতে বন্ধুরা যখন খেলাধুলা বা বিনোদনে ব্যস্ত, জ্যক ওয়াটার্স নামের এই কিশোর তখন টানা ৩০০ ঘণ্টা ব্যয় করেছে এক মহৎ কাজে। ২১ মাস বয়সী এক শিশুর জন্য সে নিজ হাতে নকশা করে তৈরি করেছে একটি কাস্টম থ্রিডি প্রিন্টেড হুইলচেয়ার। তার এই মানবিক উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি ৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্যক ওয়াটার্স প্রথম থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের জগতের সাথে পরিচিত হয় ইউটিউবের একটি ভিডিও দেখে। এরপরই সে সিদ্ধান্ত নেয়, নিজের এই নতুন আগ্রহকে কোনো অর্থবহ ও ভালো কাজে লাগাবে। সেই ভাবনা থেকেই গ্রীষ্মের লম্বা ছুটিতে স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই বিশেষ প্রজেক্ট হাতে নেয় জ্যক।
নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে জ্যক এবিসি ৪-কে জানায়, “এই কাজটি আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় দুটি জিনিসকে এক করেছে—একটি হলো থ্রিডি প্রিন্টিং, আর অন্যটি হলো অসহায় মানুষের সাহায্য করা। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটাই করা উচিত!”
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, হুইলচেয়ারটির নকশা করা, প্রিন্ট করা, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করা এবং সবশেষে সেগুলো জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে প্রায় ৩০০ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেছে জ্যক। এর মধ্যে যন্ত্রাংশগুলো জোড়া লাগানোর কাজটিই তার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে বলে জানিয়েছে সে। সম্পূর্ণ হুইলচেয়ারটি ২১ মাস বয়সী এক শিশুকন্যার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।
জ্যক এই পুরো ধারণাটিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে 'মেকগুড' (MakeGood) নামের একটি অলাভজনক সংস্থার সহায়তায়। সংস্থাটি প্রতিবন্ধী বা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে কাস্টমাইজড সহায়ক যন্ত্রপাতি তৈরি করে থাকে। যাদের এসব যন্ত্রপাতির প্রয়োজন, সংস্থাটি তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তা সরবরাহ করে। 'সহায়ক প্রযুক্তি সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত' এই নীতিতে বিশ্বাসী মেকগুড এমন কিছু নকশা তৈরি করে, যা জ্যকের মতো স্থানীয় নির্মাতারা বিনামূল্যে ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারেন।
মেকগুড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নোয়াম প্ল্যাট জ্যকের প্রশংসা করে বলেন, “আমি জ্যকের মতো আমাদের সকল স্বেচ্ছাসেবক নির্মাতাদের বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা অন্যদের সাহায্য করার জন্য নিজেদের সময় ও সম্পদ ব্যয় করছেন। 'টডলার মোবিলিটি ট্রেইনার' নামের এই প্রজেক্টটি যেভাবে বড় হচ্ছে এবং নির্মাতা ও পরিবারগুলোকে এক সুতোয় গাঁথছে, তা দেখে আমরা মেকগুড পরিবার সত্যিই অনেক রোমাঞ্চিত।”
তিনি আরও বলেন, “এই হুইলচেয়ারটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে যে কেউ সহজেই এটি তৈরি করতে পারে। আর এ কারণেই আমরা জ্যকের মতো এমন বিস্ময়কর গল্প দেখতে পাচ্ছি। নির্মাতাদের জন্য এটি নিজেদের সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সত্যিকারের হিরো হওয়ার এক দারুণ সুযোগ।”
হুইলচেয়ারটিতে একটি সহজে খোলা যায় এমন কাপ হোল্ডার এবং ট্রে টেবিল যুক্ত করা হয়েছে। এর পেছনের অংশে ভারী চিকিৎসা সরঞ্জাম রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও রাখা হয়েছে। হুইলচেয়ারটির সবচেয়ে দারুণ দিক হলো এর ফুটরেস্ট (পা রাখার জায়গা) এবং হেডরেস্ট (মাথা রাখার জায়গা) শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইচ্ছামতো পরিবর্তন বা সমন্বয় করা যাবে। ফলে শিশুটি বড় হলেও এটি ব্যবহার করতে পারবে। যেহেতু শিশুটির প্রিয় রং গোলাপি, তাই জ্যক হুইলচেয়ারটিতে গোলাপি রঙের প্রলেপ দিয়েছে। এর পাশাপাশি সবুজ এবং হলুদ রঙের কিছু দারুণ কারুকাজও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
থ্রিডি প্রিন্টিং সম্প্রদায়ের অংশ হতে পেরে জ্যক অত্যন্ত আনন্দিত। সে আশা করে, ভবিষ্যতে নিজের দক্ষতা ও জ্ঞানকে সে আরও শানিত করতে পারবে।
জ্যক উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে, “যাদের আসলেই একটি হুইলচেয়ার প্রয়োজন, সেই পরিবারের মুখে হাসি ফুটতে দেখাটা আমার জন্য সবচেয়ে আনন্দের। এটি প্রিন্ট করে তাদের খুশি হতে দেখাটা আমাকে দারুণ তৃপ্তি দিয়েছে।”
জ্যকের দাদি শার্লট ওয়াটার্স নাতির এই মহৎ কাজে ভীষণ গর্বিত। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি সে সবসময় মনে রাখবে যে, একজন মানুষের রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় কীর্তি হলো অন্য কারও জীবনকে সুন্দর করে তোলা। তার বয়স নয়, বরং তার চরিত্রই প্রমাণ করে সে মানুষের জন্য কতটা পার্থক্য গড়তে পারে।”
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অন্যতম প্রধান সংবাদপত্র ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস আসন্ন মার্কিন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটি ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে মিশিগানের ভোটারদের এল-সায়েদকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানায়। সম্পাদকীয়তে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে নিয়ে পত্রিকাটি তীব্র সমালোচনামূলক ভাষা ব্যবহার করেছে। সেখানে রজার্সকে ‘চরমপন্থী’ হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়েছে, তিনি এমন একটি রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেন যা পত্রিকাটির মতে মিশিগানের মূলধারার মানুষের অবস্থান থেকে অনেক দূরে। তবে ‘চরমপন্থী’ শব্দটি ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের সম্পাদকীয় মূল্যায়ন, কোনো নিরপেক্ষ সরকারি বা আদালতের শ্রেণিবিন্যাস নয়। রজার্সের প্রচারণা এখনো এ বিষয়ে মন্তব্য করেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে নিয়ে এমন সমালোচনা থাকলেও সেই প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ নন। এরপর পত্রিকাটি এল-সায়েদের বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রচারণার বিষয় তুলে ধরে তার প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে। মিশিগানের সিনেট আসনটি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর একটি। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে। এল-সায়েদ ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন, আর রিপাবলিকানদের প্রার্থী মাইক রজার্স। দুজনই ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এল-সায়েদ এর আগে ওয়েইন কাউন্টি ও ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ম্যালরি ম্যাকমরো এবং হ্যালি স্টিভেন্সকে পেছনে ফেলে দলের প্রার্থী হন। প্রাইমারির আগে ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস অবশ্য অন্য প্রার্থী ম্যালরি ম্যাকমরোর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল। অন্যদিকে রজার্স মিশিগান থেকে সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি। চলতি নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। এল-সায়েদ ও রজার্সের মধ্যে নির্বাচনী বিতর্কও নির্ধারিত হয়েছে। ৮ অক্টোবর গ্র্যান্ড র্যাপিডসে একটি বিতর্ক এবং ২১ অক্টোবর ডেট্রয়েটে আরেকটি বিতর্ক হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সমর্থনও দুই প্রার্থীর পক্ষে ভাগ হয়েছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ২২ সেপ্টেম্বর এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানান। এর আগে ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্সসহ কয়েকটি সংগঠনও এল-সায়েদকে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের প্রতিদ্বন্দ্বী সংবাদপত্র ডেট্রয়েট নিউজ চলতি মাসের শুরুতে রজার্সের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ফলে মিশিগানের দুই প্রভাবশালী সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় সমর্থন দুই প্রার্থীর পক্ষে ভাগ হয়ে গেছে। ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস অতীতের দুই মিশিগান সিনেট নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করেছিল। তাই এবারের সমর্থনকে পত্রিকাটির সম্পাদকীয় অবস্থানের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংবাদপত্রের সমর্থন নিজে থেকে নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। নির্বাচনের আগে দুই প্রার্থীর প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন, জাতীয় রাজনীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে মিশিগানের সিনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রচারণা ও বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস, ডেট্রয়েট নিউজ, নিউজউইক
যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর থেকে বদলাচ্ছে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সহায়তার নিয়ম, যা জানা জরুরি
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ আই এর ঝুঁকি নিয়ে বুঝাতে আগ্রহী বিল গেটস
ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের চেয়ে অসমর্থন বেশি ২২ দশমিক ৪ পয়েন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের জন্য নতুন মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে আইআরএস। এতে কর ফেরতের অগ্রগতি দেখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য দেখা ও কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর অ্যাপটি চালুর ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। এটি আগের ‘আইআরএসটুগো’ অ্যাপের জায়গা নিয়েছে। কর ফেরতের অবস্থা জানতে অ্যাপে সাইন ইন করতে হবে না। সাইন ইন ছাড়াই নির্দিষ্ট কর পরিশোধ এবং বিনামূল্যে কর রিটার্ন দাখিলের সহায়তা খোঁজার সুবিধাও থাকছে। তবে সাইন ইন করলে করের বকেয়া, আগের পরিশোধের তথ্য, আইআরএসের পাঠানো নির্দিষ্ট চিঠি এবং করসংক্রান্ত নথি দেখা যাবে। সংশোধিত রিটার্নের ফেরতের অবস্থাও দেখা যাবে। আইআরএস জানিয়েছে, চালুর সময় অ্যাপে অনলাইন অ্যাকাউন্টের সব সুবিধা থাকছে না। যাঁদের ফোনে আগে থেকেই ‘আইআরএসটুগো’ আছে, তাঁদের আলাদা অ্যাপ নামাতে হবে না। স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু থাকলে পুরোনো অ্যাপটি নতুন সংস্করণে বদলে যাবে। অ্যাপটি বিনামূল্যে অ্যাপল অ্যাপ স্টোর ও গুগল প্লেতে পাওয়া যাচ্ছে। আইআরএসের নামে নকল অ্যাপ বা বার্তা থেকে সতর্ক থাকতে বলেছে সংস্থাটি। আসল অ্যাপ খুঁজতে আইআরএসের ওয়েবসাইটে থাকা যাচাইকৃত লিংক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে তারা। অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা বা ইমেইলে আইআরএস ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য চায় না বলেও জানিয়েছে।
সপ্তাহে ছয় দিন যেতেন ডেটে, দুই বছরে ১৫ হাজার ডলার সাশ্রয় করলেন নারী
নিউ ইয়র্কে মায়েদের জন্য ফর্মুলা ও খাবার সহায়তা, উইকে আবেদন করবেন যেভাবে জানুন
নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিসহ ছয় রাজ্যে ঝড়, শত শত ফ্লাইট বাতিল, বিদ্যুৎহীন লক্ষাধিক মানুষ
ডিজিটাল মূল্যতালিকা চালুর পর গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করতে নতুন করে আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন ফার্নার জানিয়েছেন, গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, কেনাকাটার ইতিহাস, আয় বা কোনো পণ্যের জন্য তিনি কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, এসব তথ্য ব্যবহার করে আলাদা আলাদা দাম নির্ধারণ করবে না ওয়ালমার্ট। শুক্রবার ওয়ালমার্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফার্নার বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ‘ব্যক্তির পরিচয় নয়, পণ্যের মূল্য’ নির্ধারণের নীতিতে থাকবে। তার ভাষ্য, কে পণ্যটি কিনছেন বা দিনের কোন সময়ে কিনছেন, তার ওপর ভিত্তি করে একই পণ্যের জন্য আলাদা দাম নেওয়া হবে না। ওয়ালমার্টের দোকানগুলোতে কাগজের মূল্যতালিকার পরিবর্তে ধীরে ধীরে ছোট ডিজিটাল পর্দা বা ডিজিটাল শেলফ লেবেল বসানো হচ্ছে। এসব পর্দায় পণ্যের দাম দেখানো হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে দাম পরিবর্তন করা যায়। প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গ্রাহক ও ভোক্তা অধিকারকর্মীর মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিভেদে পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হতে পারে কি না। ওয়ালমার্ট অবশ্য বলছে, ডিজিটাল শেলফ লেবেলের কাজ শুধু পণ্যের দাম প্রদর্শন করা। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব লেবেল গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে না, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে না এবং নিজেরা পণ্যের দাম নির্ধারণও করে না। অনুমোদিত মূল্য পরিবর্তন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে করা হয় এবং দোকানের তাকের দাম ও ক্যাশ কাউন্টারে নেওয়া দাম একই রাখাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ফার্নার আরও জানিয়েছেন, ওয়ালমার্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটা সহকারী ‘স্পার্কি’র ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। গ্রাহক স্পার্কির সঙ্গে কী তথ্য শেয়ার করছেন বা তার কেনাকাটার ইতিহাস কী, সেসবের ভিত্তিতে বেশি দাম নেওয়া হবে না। একইভাবে কোনো গ্রাহকের প্রয়োজনের সঙ্গে মেলে এমন কম দামের পণ্য গোপন করার জন্যও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। ডিজিটাল মূল্যতালিকার ব্যবহার ওয়ালমার্টে দ্রুত বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটি মার্চে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ওয়ালমার্ট শাখায় তখন এই প্রযুক্তি চালু ছিল এবং আগামী এক বছরের মধ্যে পুরো মার্কিন শাখা নেটওয়ার্কে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়ালমার্টের মতে, কাগজের লেবেল বদলানোর পরিবর্তে ডিজিটাল লেবেল ব্যবহারে কর্মীদের সময় সাশ্রয় হচ্ছে। নতুন পণ্য আসা, ছাড়ের দাম পরিবর্তন বা বিশেষ মূল্য নির্ধারণের মতো ক্ষেত্রে কর্মীদের হাতে হাতে হাজার হাজার কাগজের লেবেল বদলাতে হয় না। ফলে দোকানের তাকের দাম দ্রুত হালনাগাদ করা এবং ক্যাশ রেজিস্টারে থাকা দামের সঙ্গে মিল রাখা সহজ হচ্ছে। তবে বিষয়টি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রক পর্যায়েও আলোচনা চলছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে কোনো গ্রাহক একটি পণ্যের জন্য কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, সেই ধারণার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের বিষয়ে একটি প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রকাশ করে। কমিশন বলেছে, কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে দাম নির্ধারণ করলে এবং সে বিষয়টি গ্রাহকদের কাছে যথাযথভাবে প্রকাশ না করলে তা ভোক্তা সুরক্ষা আইনের আওতায় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এফটিসি অবশ্য বলেছে, সব ধরনের ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিষিদ্ধ করার আইনগত ক্ষমতা তাদের নেই। তবে বিভ্রান্তিকর বা অন্যায্যভাবে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন প্রয়োগ করা হতে পারে। আগস্টে প্রকাশিত প্রস্তাবের ওপর জনমত নেওয়ার সময়সীমাও পরে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ওয়ালমার্টের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের উদ্দেশে দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল মূল্যব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফার্নারের বক্তব্য অনুযায়ী, বাজার পরিস্থিতির কারণে পণ্যের দাম কমতে বা বাড়তে পারে। কোনো পণ্য কম দামে সংগ্রহ করা গেলে ওয়ালমার্ট সেই সাশ্রয় গ্রাহকদের দিতে পারে। আবার পণ্য সংগ্রহ বা পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে দামও বাড়তে পারে। তবে ব্যক্তিগত গ্রাহকের তথ্য বা তার অর্থ দেওয়ার সক্ষমতার ভিত্তিতে একই পণ্যের জন্য আলাদা দাম নেওয়া হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন। সূত্র: ওয়ালমার্ট
সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে কমছে গ্র্যাজুয়েশনের হার, উঠছে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ