১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল, ভিসাধারীদের জরুরী ৫ করণীয়
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগসহ বিভিন্ন কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাম্প্রতিক হিসাবে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে অ্যাসল্ট, ড্রাইভিং আন্ডার দ্য ইনফ্লুয়েন্স বা ডিইউআই, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধের মতো ঘটনা রয়েছে। যৌন অপরাধ, শিশু নির্যাতন, প্রতারণা, মানবপাচার এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগের ঘটনাতেও ভিসা বাতিলের উদাহরণ তুলে ধরেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
তবে আগে প্রকাশিত প্রায় ১৬ হাজার ডিইউআই, ১২ হাজার অ্যাসল্ট এবং ৮ হাজার চুরিসংক্রান্ত ভিসা বাতিলের পরিসংখ্যানটি বর্তমান ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসার পূর্ণাঙ্গ বিভাজন নয়। ওই সংখ্যা ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত প্রায় ৮০ হাজার নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিলের হিসাবের অংশ ছিল। ফলে বর্তমান ১ লাখ ৭৫ হাজারের সঙ্গে ওই তিনটি পুরোনো সংখ্যা মিলিয়ে প্রায় অর্ধেক ভিসা বাতিল হয়েছে বলা সঠিক হবে না।
ভিসা বাতিলের খবর পাওয়ার পর অনেকের প্রথম প্রশ্ন হয়, এখন কী করতে হবে। বিশেষ করে যিনি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তার ক্ষেত্রে ভিসা বাতিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এক বিষয় নয়। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আই-৯৪, বর্তমান স্ট্যাটাস এবং ভিসা বাতিলের কারণ বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
ভিসা বাতিলের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টাকে কোনো সরকারি আইনি সময়সীমা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তবে পরিস্থিতি দ্রুত যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণের জন্য এই সময়ের মধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
প্রথমত, ভিসা বাতিলের তথ্য ও নিজের ইমিগ্রেশন রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে কোনো ইমেইল বা নোটিশ পেয়ে থাকলে সেটির কপি রাখুন। অনলাইনে ভিসার স্ট্যাটাস দেখা গেলে তার স্ক্রিনশটও সংরক্ষণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে সিবিপির আই-৯৪ রেকর্ড ডাউনলোড করে নিজের সর্বশেষ প্রবেশের তথ্য এবং অনুমোদিত থাকার মেয়াদ যাচাই করুন।
দ্বিতীয়ত, ভিসা বাতিলের খবর পেয়েই আতঙ্কিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেবেন না। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পোর্ট অব এন্ট্রিতে গিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর একজন নন-ইমিগ্র্যান্ট কত দিন বৈধভাবে থাকতে পারবেন, সেটি সাধারণত তার আই-৯৪ রেকর্ডের অনুমোদিত সময়সীমা বা ডিউরেশন অব স্ট্যাটাসের ওপর নির্ভর করে।
অর্থাৎ পাসপোর্টে থাকা ভিসা বাতিল হওয়া মানেই প্রত্যেক ক্ষেত্রে একই মুহূর্তে আই-৯৪ স্ট্যাটাস শেষ হয়ে যাওয়া নয়। তবে ভিসা বাতিলের ধরন, কারণ এবং ব্যক্তির ইমিগ্রেশন পরিস্থিতির ওপর আইনি পরিণতি ভিন্ন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেরিয়ে গেলে বাতিল হওয়া ভিসা ব্যবহার করে সাধারণভাবে আবার প্রবেশ করা যাবে না এবং নতুন ভিসার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে দেশ ছাড়ার আগে ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয়ত, কোনো অ্যারেস্ট, ডিইউআই, অ্যাসল্ট, ড্রাগ চার্জ, ট্রাফিকসংক্রান্ত গুরুতর ঘটনা বা অন্য কোনো ল এনফোর্সমেন্ট এনকাউন্টার থাকলে সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন। অ্যারেস্ট রিপোর্ট, চার্জ, কোর্ট ডিসপোজিশন, মামলা খারিজের আদেশ, জরিমানা পরিশোধের রিসিট এবং মামলার চূড়ান্ত ফলাফলসহ প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহ করুন। শুধু গ্রেফতার বা অভিযোগ এবং আদালতে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই প্রকৃত আইনি রেকর্ড অ্যাটর্নিকে দেখানো জরুরি।
চতুর্থত, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে তাড়াহুড়া করে তথ্য পরিবর্তন, গোপন বা ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বর্তমানে বিভিন্ন নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে অনলাইন প্রেজেন্স রিভিউ বা সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই সম্প্রসারণ করেছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি ভিসা ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিংস পাবলিক বা ওপেন রাখতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই সব অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট করে রাখা নিরাপদ, এমন সাধারণ পরামর্শ বর্তমান সরকারি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো ভিসা আবেদন বা সরকারি জিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে তথ্য গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপন না করে সত্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
পঞ্চমত, যত দ্রুত সম্ভব একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কারও ভিসা বাতিল হলে তার বর্তমান আই-৯৪, ভিসার ধরন, কোনো ক্রিমিনাল বা ইমিগ্রেশন রেকর্ড আছে কি না এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট কী কারণে ভিসা বাতিল করেছে, এসব বিষয় একসঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আইনজীবী বা স্থানীয় স্বীকৃত লিগ্যাল এইড সংস্থার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসার মেয়াদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সময়সীমা এক নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্পষ্টভাবে জানায়, পাসপোর্টে থাকা ভিসার মেয়াদ যুক্তরাষ্ট্রে একজন ব্যক্তি কত দিন থাকতে পারবেন তা নির্ধারণ করে না। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় সিবিপি যে আই-৯৪ রেকর্ড দেয়, সেখানে থাকা তারিখ বা ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস সাধারণত অনুমোদিত থাকার সময় নির্ধারণ করে।
তবে ভিসা বাতিলের প্রতিটি ঘটনা আলাদা। কারও ক্ষেত্রে এটি ভবিষ্যৎ ভ্রমণ বা নতুন ভিসা আবেদনের বিষয় হতে পারে, আবার অন্য কারও ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, ক্রিমিনাল মামলা বা এনফোর্সমেন্টের প্রশ্নও জড়িত থাকতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণ পরামর্শ দেখে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করা, স্ট্যাটাস পরিবর্তন করা বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এই তথ্য সাধারণ সচেতনতার জন্য। এটি ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। ভিসা বাতিলের নোটিশ পাওয়া ব্যক্তি নিজের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেবেন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস হারানো হাইতিয়ানদের অনেককে সরাসরি চেক-ইনে হাজির হতে বলছে আইসিই। ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চেক-ইনে হাজির হওয়ার পর অনেকের পায়ে জিপিএস অ্যাঙ্কেল মনিটর পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে ইমিগ্রেশন কোর্টে তাদের মামলার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা যায়। জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতির টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সুযোগ দেওয়ার পর তিন লাখের বেশি হাইতিয়ানের ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি বদলে যায়। তবে টিপিএস হারানো মানেই প্রত্যেক ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে ডিপোর্টেশনের মুখে পড়বেন, বিষয়টি এমন নয়। যাদের অ্যাসাইলাম আবেদন, অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পৃথক আইনি ভিত্তি রয়েছে, তাদের পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচিত হতে পারে। দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিই হাইতিয়ানদের চেক-ইনের জন্য ডেকে পাঠাচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে আটক না করে অ্যাঙ্কেল মনিটরের মাধ্যমে তাদের চলাচল পর্যবেক্ষণ করছে। ইমিগ্রেশন বিচারক তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ কোনো ভিত্তি আছে কি না, যেমন অ্যাসাইলাম ক্লেইম, সেটি নির্ধারণ না করা পর্যন্ত এই নজরদারি চলতে পারে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন সিনিয়র কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক মানুষকে ডিটেনশন সেন্টারে রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকাও অ্যাঙ্কেল মনিটর ব্যবহারের একটি কারণ। টিপিএস শেষ হওয়ার ফলে কয়েক লাখ হাইতিয়ান এখন সম্ভাব্য ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের আওতায় পড়েছেন। অ্যাঙ্কেল মনিটর মূলত আইসিইর অলটারনেটিভস টু ডিটেনশন ব্যবস্থার একটি অংশ। কাউকে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে না রেখে নির্দিষ্ট শর্তে বাইরে থাকার সুযোগ দিয়ে তার অবস্থান পর্যবেক্ষণের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এটি পরানো মানেই ওই ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এমন নয়। ইমিগ্রেশন মামলা সাধারণত সিভিল আইনের আওতায় পরিচালিত হয়। ২৫ জুন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়ে হাইতি ও সিরিয়ার টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকরের পথ খুলে দেয়। আদালতের সিদ্ধান্তে প্রায় সাড়ে তিন লাখ হাইতিয়ান এবং ছয় হাজারের বেশি সিরিয়ান সরাসরি প্রভাবিত হন। টিপিএস এমন একটি মানবিক ইমিগ্রেশন প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো গুরুতর সংকটের কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকরা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অনুমতি পান। হাইতিতে ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দেশটির নাগরিকদের জন্য প্রথম টিপিএস চালু করা হয়েছিল। টিপিএস নিজে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের সরাসরি পথ নয়। তবে একজন টিপিএসধারীর একই সময়ে অ্যাসাইলাম, পারিবারিক পিটিশন বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন সুবিধার আবেদন থাকতে পারে। ফলে টিপিএস শেষ হলেও অন্য বৈধ ভিত্তি থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ থাকতে পারে। এই কারণেই আইসিই চেক-ইনে ডাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কারও অ্যাসাইলাম ক্লেইম বা অন্য কোনো বৈধ আবেদন থাকলে তা ইমিগ্রেশন কোর্টে বিবেচিত হতে পারে। বিচারক শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনি ভিত্তি রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করবেন। হাইতিয়ানদের টিপিএস বাতিল এমন সময়ে কার্যকর হচ্ছে, যখন দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, গ্যাং সহিংসতা এবং মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে সামনে রেখে ইমিগ্র্যান্ট অধিকার সংগঠনগুলো হাইতিয়ানদের ডিপোর্ট করার বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হচ্ছে, টিপিএস একটি সাময়িক কর্মসূচি এবং কোনো দেশের জন্য এই সুরক্ষা অনির্দিষ্টকাল চালু থাকার কথা নয়। টিপিএস হারানো হাইতিয়ানদের মধ্যে যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন ভিত্তি নেই, তারা এখন আটক ও ডিপোর্টেশনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তবে অ্যাঙ্কেল মনিটর পরানো বা আইসিই চেক-ইনে হাজির হওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সঙ্গে সঙ্গেই ডিপোর্ট করা হবে। ইমিগ্রেশন কোর্টে চলমান মামলা এবং ব্যক্তির অন্য কোনো বৈধ ক্লেইম থাকলে তার ফলাফলের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করতে পারে। ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিরা টিপিএস হারানো ব্যক্তিদের আইসিই চেক-ইন বা কোর্ট হিয়ারিং এড়িয়ে না গিয়ে নিজেদের কেসের বর্তমান অবস্থা এবং অন্য কোনো ইমিগ্রেশন সুবিধার যোগ্যতা আছে কি না, তা দ্রুত যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ একই টিপিএস প্রোগ্রামের আওতায় থাকলেও প্রত্যেক ব্যক্তির ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি ও আইনি বিকল্প এক নয়।
তিন মাস ধরে দুধ নেই! মার্কিন যুদ্ধ জাহাজে খাবার সংকটে নাবিকদের আর্তনাদ
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বাদ দিয়ে স্টিম ব্যবস্থায় ফিরতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে ট্রাম্পের নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে দাঁতের চিকিৎসার সময় অতিরিক্ত চেতনানাশক প্রয়োগে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ডেন্টিস্ট
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগসহ বিভিন্ন কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাম্প্রতিক হিসাবে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে অ্যাসল্ট, ড্রাইভিং আন্ডার দ্য ইনফ্লুয়েন্স বা ডিইউআই, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধের মতো ঘটনা রয়েছে। যৌন অপরাধ, শিশু নির্যাতন, প্রতারণা, মানবপাচার এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগের ঘটনাতেও ভিসা বাতিলের উদাহরণ তুলে ধরেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তবে আগে প্রকাশিত প্রায় ১৬ হাজার ডিইউআই, ১২ হাজার অ্যাসল্ট এবং ৮ হাজার চুরিসংক্রান্ত ভিসা বাতিলের পরিসংখ্যানটি বর্তমান ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসার পূর্ণাঙ্গ বিভাজন নয়। ওই সংখ্যা ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত প্রায় ৮০ হাজার নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিলের হিসাবের অংশ ছিল। ফলে বর্তমান ১ লাখ ৭৫ হাজারের সঙ্গে ওই তিনটি পুরোনো সংখ্যা মিলিয়ে প্রায় অর্ধেক ভিসা বাতিল হয়েছে বলা সঠিক হবে না। ভিসা বাতিলের খবর পাওয়ার পর অনেকের প্রথম প্রশ্ন হয়, এখন কী করতে হবে। বিশেষ করে যিনি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তার ক্ষেত্রে ভিসা বাতিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এক বিষয় নয়। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আই-৯৪, বর্তমান স্ট্যাটাস এবং ভিসা বাতিলের কারণ বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা বাতিলের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টাকে কোনো সরকারি আইনি সময়সীমা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তবে পরিস্থিতি দ্রুত যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণের জন্য এই সময়ের মধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, ভিসা বাতিলের তথ্য ও নিজের ইমিগ্রেশন রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে কোনো ইমেইল বা নোটিশ পেয়ে থাকলে সেটির কপি রাখুন। অনলাইনে ভিসার স্ট্যাটাস দেখা গেলে তার স্ক্রিনশটও সংরক্ষণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে সিবিপির আই-৯৪ রেকর্ড ডাউনলোড করে নিজের সর্বশেষ প্রবেশের তথ্য এবং অনুমোদিত থাকার মেয়াদ যাচাই করুন। দ্বিতীয়ত, ভিসা বাতিলের খবর পেয়েই আতঙ্কিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেবেন না। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পোর্ট অব এন্ট্রিতে গিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর একজন নন-ইমিগ্র্যান্ট কত দিন বৈধভাবে থাকতে পারবেন, সেটি সাধারণত তার আই-৯৪ রেকর্ডের অনুমোদিত সময়সীমা বা ডিউরেশন অব স্ট্যাটাসের ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ পাসপোর্টে থাকা ভিসা বাতিল হওয়া মানেই প্রত্যেক ক্ষেত্রে একই মুহূর্তে আই-৯৪ স্ট্যাটাস শেষ হয়ে যাওয়া নয়। তবে ভিসা বাতিলের ধরন, কারণ এবং ব্যক্তির ইমিগ্রেশন পরিস্থিতির ওপর আইনি পরিণতি ভিন্ন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেরিয়ে গেলে বাতিল হওয়া ভিসা ব্যবহার করে সাধারণভাবে আবার প্রবেশ করা যাবে না এবং নতুন ভিসার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে দেশ ছাড়ার আগে ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয়ত, কোনো অ্যারেস্ট, ডিইউআই, অ্যাসল্ট, ড্রাগ চার্জ, ট্রাফিকসংক্রান্ত গুরুতর ঘটনা বা অন্য কোনো ল এনফোর্সমেন্ট এনকাউন্টার থাকলে সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন। অ্যারেস্ট রিপোর্ট, চার্জ, কোর্ট ডিসপোজিশন, মামলা খারিজের আদেশ, জরিমানা পরিশোধের রিসিট এবং মামলার চূড়ান্ত ফলাফলসহ প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহ করুন। শুধু গ্রেফতার বা অভিযোগ এবং আদালতে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই প্রকৃত আইনি রেকর্ড অ্যাটর্নিকে দেখানো জরুরি। চতুর্থত, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে তাড়াহুড়া করে তথ্য পরিবর্তন, গোপন বা ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বর্তমানে বিভিন্ন নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে অনলাইন প্রেজেন্স রিভিউ বা সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই সম্প্রসারণ করেছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি ভিসা ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিংস পাবলিক বা ওপেন রাখতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই সব অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট করে রাখা নিরাপদ, এমন সাধারণ পরামর্শ বর্তমান সরকারি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো ভিসা আবেদন বা সরকারি জিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে তথ্য গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপন না করে সত্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। পঞ্চমত, যত দ্রুত সম্ভব একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কারও ভিসা বাতিল হলে তার বর্তমান আই-৯৪, ভিসার ধরন, কোনো ক্রিমিনাল বা ইমিগ্রেশন রেকর্ড আছে কি না এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট কী কারণে ভিসা বাতিল করেছে, এসব বিষয় একসঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আইনজীবী বা স্থানীয় স্বীকৃত লিগ্যাল এইড সংস্থার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসার মেয়াদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সময়সীমা এক নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্পষ্টভাবে জানায়, পাসপোর্টে থাকা ভিসার মেয়াদ যুক্তরাষ্ট্রে একজন ব্যক্তি কত দিন থাকতে পারবেন তা নির্ধারণ করে না। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় সিবিপি যে আই-৯৪ রেকর্ড দেয়, সেখানে থাকা তারিখ বা ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস সাধারণত অনুমোদিত থাকার সময় নির্ধারণ করে। তবে ভিসা বাতিলের প্রতিটি ঘটনা আলাদা। কারও ক্ষেত্রে এটি ভবিষ্যৎ ভ্রমণ বা নতুন ভিসা আবেদনের বিষয় হতে পারে, আবার অন্য কারও ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, ক্রিমিনাল মামলা বা এনফোর্সমেন্টের প্রশ্নও জড়িত থাকতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণ পরামর্শ দেখে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করা, স্ট্যাটাস পরিবর্তন করা বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই তথ্য সাধারণ সচেতনতার জন্য। এটি ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। ভিসা বাতিলের নোটিশ পাওয়া ব্যক্তি নিজের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেবেন।
গ্রীষ্মের ছুটিতে টানা ৩০০ ঘণ্টা পরিশ্রম, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য থ্রিডি প্রিন্টেড হুইলচেয়ার বানিয়ে প্রশংসায় ১৩ বছরের কিশোর
নিউ জার্সির আইসিই অভিবাসন আটককেন্দ্রে আরও এক অভিবাসীর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩
আগুন দিয়ে ২৩ মাসের মেয়েকে হত্যার দায়ে জেল, মুক্তির পর মেক্সিকোয় ডিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যাকটন শহরে এক মর্মান্তিক জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। আপন মা এবং ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নিজের পরিবারকে হত্যার আগে ধারণা পেতে সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 'চ্যাটজিপিটি' (ChatGPT) ব্যবহার করেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান সিবিএস বস্টনকে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ওই কিশোরের নাম অর্জুন অরবিন্দ। তার বিরুদ্ধে ৪৫ বছর বয়সী মা সুধা ভেঙ্কটেশন এবং ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাই সিদ্ধার্থ অরবিন্দকে হত্যার দায়ে জোড়া খুনের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গত বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অর্জুনের বাবা মার্থা লেনে অবস্থিত নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে পুলিশকে ফোন করেন। কারণ তিনি অনেক চেষ্টা করেও কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। এর আগে ওই দিন সকালে একজন গৃহশিক্ষক পড়ানোর জন্য তাদের বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে অর্জুনের বাবা কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় তার স্ত্রীকে শেষবার দেখেছিলেন। অন্যদিকে, ছোট ভাই সিদ্ধার্থকে মঙ্গলবার সকালে একটি বিনোদন কেন্দ্রে দেখা গিয়েছিল এবং সে দুপুর নাগাদ বাড়ি ফেরে। তদন্তকারীদের ধারণা, সকাল থেকে দুপুরের পর এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেই মা ও ছেলেকে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ ওই বাড়িতে প্রবেশ করে নিচতলায় (ফার্স্ট ফ্লোর) সিদ্ধার্থের এবং বেসমেন্টে সুধার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, দুজনের শরীরেই মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন অস্ত্র দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জোড়া খুনের পর মায়ের হোন্ডা অ্যাকর্ড গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় অর্জুন। বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ডের একটি পার্কিং লটে একটি অ্যালার্ম বাজার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখান থেকেই ওই গাড়িসহ অর্জুনকে গ্রেপ্তার করে। তাকে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই হেফাজতে নেওয়া হয় বলে বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি। অর্জুনের বিরুদ্ধে হত্যা, মারধর এবং গাড়ি চুরিসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার বিকেলে লোয়েল জুভেনাইল কোর্টে গাড়ি চুরির অভিযোগে তাকে হাজির করা হয়। বৃহস্পতিবার কনকর্ড ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তার বিরুদ্ধে হত্যার মূল অভিযোগগুলো উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। তবে মারিয়ান রায়ান জানিয়েছেন, "অর্জুন সম্প্রতি কিছু উদ্বেগজনক আচরণ করছিল। এর মধ্যে ইন্টারনেট এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে পরিবারকে হত্যার তাত্ত্বিক ধারণা বা কল্পকাহিনি খোঁজার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।" অ্যাকটনের পুলিশ প্রধান ডগ স্টুরনিওলো জানান, অর্জুন পুলিশের কাছে অপরিচিত ছিল না। গত বছর সে একবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল তার পরিবার। এই ঘটনাকে একটি "বর্ণনাতীত ট্র্যাজেডি" ও "অত্যন্ত অন্ধকার দিন" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি। বস্টন থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত অ্যাকটন শহরের এই ঘটনা পুরো সম্প্রদায়কে স্তব্ধ করে দিয়েছে। মার্থা লেনের এক প্রতিবেশী সংবাদমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাদের কাছে এসে কিছু দেখেছে কি না জানতে চায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিবেশী বলেন, "কৌতূহলবশত আমি উঁকি দিয়ে দেখি রাস্তায় ফায়ার ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশের গাড়ি। অফিসাররা কাউকে বা কিছু খুঁজছিলেন। পরিবারটির সাথে আমার কখনো দেখা হয়নি, তবে ঘটনাটি সত্যিই মর্মান্তিক।" ডেভন রিপ নামে আরেক প্রতিবেশী বলেন, "আমাদের রাস্তার পাশেই এমন ঘটনা ঘটেছে, এটি অবিশ্বাস্য রকমের দুঃখজনক এবং আতঙ্কজনক। আমি এখানে এমন জরুরি অবস্থা বা পুলিশের এত উপস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।"
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষকের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা, প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল শিক্ষার্থীরা
স্ট্রলারে মেয়েকে নিয়ে ১ মাইল দৌড় ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে, বিশ্বরেকর্ড গড়ার অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের এক বাবা