আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষকের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা, প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল শিক্ষার্থীরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ২১:৫১
ভার্জিনিয়ার একটি স্কুলে শিক্ষকের ওপর হামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে নিয়ন্ত্রণে আনে সহপাঠীরা। ছবি: সংগৃহীত
ভার্জিনিয়ার একটি স্কুলে শিক্ষকের ওপর হামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে নিয়ন্ত্রণে আনে সহপাঠীরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ওপর ছুরি হামলার ঘটনায় দ্রুত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে কয়েকজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হামলার পর তারা অভিযুক্ত সহপাঠীকে মাটিতে ফেলে নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় শেরিফের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আরও বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

 

এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার লি কাউন্টির জোনসভিল মিডল স্কুলে। অভিযুক্ত ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ছুরি দিয়ে একজন শিক্ষককে আঘাত করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

লি কাউন্টির শেরিফ গ্যারি পারসন্স জানান, শিক্ষককে আঘাত করার পরপরই কয়েকজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এগিয়ে আসে। তারা হামলাকারীকে মাটিতে ফেলে ধরে রাখে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

শেরিফ পারসন্স বলেন, "শিক্ষার্থীরা প্রশংসার দাবিদার। তাদের দ্রুত পদক্ষেপ সম্ভবত আরও বড় ক্ষতি ঠেকিয়েছে। অন্তত শিক্ষকের জীবন রক্ষা করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।"

শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, আহত শিক্ষক প্রাণঘাতী নয় এমন আঘাত পেয়েছেন। তার ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থী ও কর্মীরা নিরাপদ ছিলেন। হামলার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আর কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের রান্নাঘর থেকে একটি রান্নার ছুরি নিয়ে এসেছিল। সেই ছুরি দিয়েই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

 

ঘটনার পর ১২ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর জখমের উদ্দেশ্যে হামলা এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

কেন এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সম্ভাব্য কারণ এবং হামলার পেছনের প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

এদিকে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। ভার্জিনিয়ার এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউ জার্সির ডিলানি হল অভিবাসন আটককেন্দ্রে আরও এক অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সির আইসিই অভিবাসন আটককেন্দ্রে আরও এক অভিবাসীর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩

ক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্কে অবস্থিত আইসিই (ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) পরিচালিত ডিলানি হল অভিবাসন আটককেন্দ্রে আটক থাকার পর আরও এক অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি গুয়াতেমালার নাগরিক হোসে চাখোন-রাখসোন। ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটককেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পুনরায় চালু হওয়া ডিলানি হল আটককেন্দ্রে এটি তৃতীয় মৃত্যুর ঘটনা। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রটি আবার চালু করা হয়েছিল।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটককেন্দ্রে থাকা অবস্থায় হোসে চাখোন-রাখসোন হঠাৎ খিঁচুনির মতো শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হন। দায়িত্বরত একজন নার্স তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেন এবং পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের ডাকা হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।   আইসিই জানায়, গত ১৮ জুলাই চাখোন-রাখসোনকে গ্রেপ্তার করে ডিলানি হলে আনা হয়। তবে চার দিন পর, ২২ জুলাই তাকে আইসিইর হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। কেন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল বা এরপর হাসপাতালে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।   ডিএইচএস এক বিবৃতিতে বলেছে, আইসিইর নীতিমালা অনুযায়ী, কেউ হেফাজতের বাইরে চলে গেলে তার পরবর্তী মৃত্যু পর্যবেক্ষণ বা পর্যালোচনার দায়িত্ব সংস্থার থাকে না।   তবে এই অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছেন নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রব মেনেনডেজ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, এই নীতির কারণে একটি "ফাঁক" তৈরি হয়েছে। এর ফলে কাউকে হেফাজত থেকে ছেড়ে দিয়ে পরে তার মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত বা কংগ্রেস ও জনগণকে জানানো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের শুরুতে আইসিই একটি নীতিগত পরিবর্তন আনে। এর আগে বাইডেন প্রশাসনের সময় ২০২১ সালে চালু হওয়া নীতি অনুযায়ী, হেফাজত থেকে মুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে সেটিও প্রকাশ করা হতো। নতুন নীতিতে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। চাখোন-রাখসোনের মৃত্যুর বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আসেনি। গত সপ্তাহে কংগ্রেসম্যান রব মেনেনডেজ বিষয়টি প্রকাশ করার পর ঘটনাটি সামনে আসে।   ডিলানি হল আটককেন্দ্রে এর আগেও দুটি মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে আইসিইর হেফাজতে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার পর এল সালভাদরের নাগরিক এডউইন লোপেজ-করনেহোর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ডিসেম্বরে একই কেন্দ্রে আটক থাকা হাইতির নাগরিক জিন উইলসন ব্রুটাসেরও মৃত্যু হয়।   মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর হেফাজতে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এসব সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোর চিকিৎসাসেবা ও বন্দিদের জীবনযাপনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।   ডিলানি হল আটককেন্দ্র নিয়েও গত কয়েক মাসে নানা অভিযোগ উঠেছে। বন্দিদের ওপর প্রহরীদের শারীরিক নির্যাতন, নষ্ট খাবার সরবরাহ এবং অপর্যাপ্ত সেবার অভিযোগে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। মে মাসের শেষ দিকে অন্তত ৩০০ অভিবাসী অনশন ও কর্মবিরতিতে অংশ নেন। পরে নারী বন্দিরাও পৃথকভাবে অনশন শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল, আটককেন্দ্রের পরিস্থিতির উন্নতি এবং ২১ বছরের কম বয়সী নারী, অসুস্থ নারী ও মায়েদের মুক্তি দেওয়া।   তবে আইসিইর দাবি, তাদের হেফাজতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ২২:৫৪
মেক্সিকান নাগরিক মারিয়া গুয়াদালুপে আরেওলা রিভেরা

আগুন দিয়ে ২৩ মাসের মেয়েকে হত্যার দায়ে জেল, মুক্তির পর মেক্সিকোয় ডিপোর্ট

ম্যাসাচুসেটসের অ্যাকটনে মা ও ভাই হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার কিশোরকে নিয়ে তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত

চ্যাটজিপিটি থেকে ধারণা নিয়ে মা ও ভাইকে খুন! যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছেলে গ্রেপ্তার

ভার্জিনিয়ার একটি স্কুলে শিক্ষকের ওপর হামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে নিয়ন্ত্রণে আনে সহপাঠীরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষকের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা, প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল শিক্ষার্থীরা

স্ট্রলারে মেয়েকে নিয়ে ১ মাইল দৌড়ে সম্ভাব্য নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন স্টিফেন বিবেলহাউজেন। ছবি: সংগৃহীত
স্ট্রলারে মেয়েকে নিয়ে ১ মাইল দৌড় ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে, বিশ্বরেকর্ড গড়ার অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের এক বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে শিশুকন্যাকে স্ট্রলারে বসিয়ে মাত্র ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে ১ মাইল দৌড় শেষ করে আলোচনায় এসেছেন এক বাবা। সময়টি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ যাচাই করলে এটি হবে স্ট্রলার ঠেলে সবচেয়ে দ্রুত ১ মাইল দৌড়ানোর নতুন বিশ্বরেকর্ড।   এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক স্টিফেন বিবেলহাউজেন গত শনিবার ক্লিভল্যান্ডের বার্ষিক ‘গার্ডিয়ান মাইল’ প্রতিযোগিতার ‘স্ট্রলার মাইল’ বিভাগে অংশ নেন। তার সঙ্গে ছিল ছোট মেয়ে ব্লেক, যে পুরো পথ স্ট্রলারে বসেই বাবার সঙ্গে দৌড় সম্পন্ন করে।   আয়োজকদের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, স্টিফেন ১ মাইল দৌড় শেষ করেন ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই বিভাগের রেকর্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিলাস ফ্রান্টজ। তিনি ২০২৫ সালের ২৪ জুন ৪ মিনিট ২৬ দশমিক ২৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই হিসাবে স্টিফেনের সময় প্রায় ৯ সেকেন্ড কম।   তবে নতুন এই সময়টি এখনও গিনেস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করেনি। যাচাই শেষে অনুমোদন মিললে স্টিফেনই হবেন স্ট্রলার ঠেলে সবচেয়ে দ্রুত ১ মাইল দৌড়ানোর নতুন বিশ্বরেকর্ডধারী। স্টিফেন জানান, শুরুতে তার লক্ষ্য ছিল শুধু মেয়েকে নিয়ে একটি আনন্দময় অভিজ্ঞতা তৈরি করা। তিনি বলেন, "মেয়েকে স্ট্রলারে বসিয়ে দৌড়ানো মজার হবে বলে মনে হয়েছিল। পরে আগের কোর্স রেকর্ড দেখে ভাবলাম, হয়তো সেটি ভাঙতে পারব।" দৌড়ে শুরু থেকেই দারুণ গতি ধরে রাখেন তিনি। প্রথম আধা মাইল শেষ করেন ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডে। এরপর আরও গতি বাড়িয়ে শেষ আধা মাইল সম্পন্ন করেন মাত্র ২ মিনিট ৫ সেকেন্ডে। ফলে মোট সময় দাঁড়ায় ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ড।   প্রতিযোগিতার পথ ছিল ক্লিভল্যান্ড শহরের মধ্য দিয়ে। মার্কেট স্কয়ার পার্কের কাছে শুরু হয়ে কুয়াহোগা নদী পার হয়ে ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ফায়ার মিউজিয়াম ও প্রগ্রেসিভ ফিল্ডের কাছে গিয়ে শেষ হয় দৌড়। স্টিফেন জানান, পুরো দৌড়জুড়ে তার মেয়ে ব্লেক বেশ আনন্দে ছিল। তার ভাষায়, "সে পুরো সময় কথা বলছিল। দর্শকদের উৎসাহ-উদ্দীপনাও খুব উপভোগ করেছে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, তখন তার ঘুমানোর সময় পেরিয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট হয়ে গিয়েছিল, তবুও সে হাসিখুশিই ছিল।" সম্ভাব্য বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও মেয়ের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তটিকেই বেশি মূল্য দেন স্টিফেন।   তিনি বলেন, "এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি ওকে নিয়ে নিয়মিত দৌড়াতে বের হই। প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটাতে ও খুব আনন্দ পায়, আর সেই মুহূর্তগুলো আমার কাছেও বিশেষ।"   এবিসি নিউজ জানিয়েছে, স্টিফেনের দৌড়ের সময়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায় কি না, তা জানতে তারা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এখন সেই যাচাইয়ের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন স্টিফেন ও তার পরিবার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ২১:২৫
বাবা-মা আটকের পর চার ভাইবোনের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে ১৮ বছর বয়সী ওয়েন্ডি ডোমিঙ্গোকে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের সামনেই আটক অভিবাসী দম্পতি, ১৮ বছরের মেয়ের কাঁধে চার ভাইবোনের দায়িত্ব

নিউইয়র্কের আবাসন সংকটে বাড়ছে ভাড়া, কমছে নতুন ফ্ল্যাটের তালিকা। ছবি: সংগৃহীত

ম্যানহাটনে গড় বাড়িভাড়া পৌঁছাল ৫ হাজার ডলারে, তীব্র আবাসন সংকটে নিউইয়র্কবাসী

ক্যালিফোর্নিয়ায় বেকার ভাতার আবেদনে রেকর্ড

ক্যালিফোর্নিয়ায় বেকার ভাতার আবেদনে রেকর্ড, ধারে-কাছেও নেই নিউইয়র্ক-টেক্সাস

রাশিয়ায় বন্দি অবস্থায় মৃ ত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলেন, অবশেষে দেশে ফিরলেন সাবেক মার্কিন সেনা
রাশিয়ায় বন্দি অবস্থায় মৃ ত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলেন, অবশেষে দেশে ফিরলেন সাবেক মার্কিন সেনা

রাশিয়ায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি থাকা মার্কিন মেরিন কর্পসের সাবেক সেনা রবার্ট গিলম্যান অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। তবে দেশে ফেরার আগে তিনি প্রায় মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মুক্তির জন্য কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। ৩২ বছর বয়সী গিলম্যানকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে রাখা হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাঁকে দীর্ঘ চিকিৎসাপর্বের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তাঁকে মুক্ত করার কার্যক্রমে যুক্ত সংস্থা 'গ্লোবাল রিচ'-এর প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা কিরন রামসে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা এবং পেশায় শিক্ষক গিলম্যানকে ২০২২ সালে রাশিয়ায় আটক করা হয়। গত সপ্তাহে তাঁর চরম স্বাস্থ্যগত অবনতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গ্লোবাল রিচের প্রধান কৌশল কর্মকর্তা এরিক লেবসনের মতে, রাশিয়ার একটি হাসপাতালে গিলম্যানকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় অচেতন বা 'ডিসোসিয়েটিভ স্টুপোর' দশায় আটকে রাখা হয়েছিল। এমনকি সে সময় তাঁকে টিউবের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হচ্ছিল। এ প্রসঙ্গে কিরন রামসে সিবিএস নিউজকে জানান, সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করতে তাঁদের প্রায় গিলম্যানের মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে তিনি যে এখন নিরাপদে নিজ দেশের মাটিতে ফিরেছেন, তাতেই তাঁরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তাঁকে সান আন্তোনিওর ব্রুক আর্মি মেডিকেল সেন্টারে বিশ্বের অন্যতম সেরা চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।   রাশিয়ায় গিলম্যানকে মারাত্মক অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন এরিক লেবসন। তিনি জানান, রুশ কর্তৃপক্ষ গিলম্যানকে মানসিক হয়রানির পাশাপাশি টানা ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ব্যায়াম করতে বাধ্য করেছে। এমনকি তাঁকে মানসিক রোগের ওষুধও প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য প্রবল চাপ দেওয়া হয়েছিল। যদিও সিবিএস নিউজ স্বাধীনভাবে এই দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি এবং রুশ কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে এর কোনো জবাব দেননি।   তবে গিলম্যানের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে মানবিক কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন রুশ সরকারের কাছে বারবার দাবি জানিয়েছিল বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন। লেবসন উল্লেখ করেন, রাশিয়ায় বন্দি থাকা অন্য যেকোনো মার্কিন নাগরিকের তুলনায় রবার্টের পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ায় বন্দি থাকা বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তি নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে রাশিয়ায় ১০ জন, ইরানে ২ জন এবং চীনে ১ জন মার্কিন নাগরিক বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন রামসে। খুব শিগগিরই তাঁদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৯:১৪
না ফেরার দেশে চলে গেলেন বক্সার প্রিচার্ড কোলন

কোমা, হুইলচেয়ার আর ১০ বছরের সংগ্রাম; না ফেরার দেশে চলে গেলেন বক্সার প্রিচার্ড কোলন

ফ্লোরিডায় পারিবারিক কলহের জেরে মা ও দুই নিষ্পাপ সন্তানকে হ ত্যার পর আত্মহ ত্যা নারীর

ফ্লোরিডায় পারিবারিক কলহের জেরে মা ও দুই নিষ্পাপ সন্তানকে হ ত্যার পর আত্মহ ত্যা নারীর

ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর হাতে খু ন বৃদ্ধ, নিউসমকে দুষলেন ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’

ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর হাতে খু ন বৃদ্ধ, নিউসমকে দুষলেন ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’

0 Comments