সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

২০ বছরেই ১৫ কোটি ডলারের মালিক ট্রাম্পপুত্র ব্যারন, সম্পদে ছাড়িয়ে গেলেন মা মেলানিয়াকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২২:৪
ডোনাল্ড ও মেলানিয়া ট্রাম্পের একমাত্র সন্তান ব্যারন ট্রাম্প বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসায়িক জগতেও বেশ নজর কেড়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
ডোনাল্ড ও মেলানিয়া ট্রাম্পের একমাত্র সন্তান ব্যারন ট্রাম্প বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসায়িক জগতেও বেশ নজর কেড়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ ছেলে ব্যারন ট্রাম্প মাত্র ২০ বছর বয়সেই প্রায় ১৫ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে তার এই আনুমানিক সম্পদের হিসাব তুলে ধরা হয়, যা ট্রাম্প পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সম্পদের চেয়েও বেশি।

 

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৩০ কোটি ডলার। অন্যদিকে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আনুমানিক সম্পদ প্রায় ২ কোটি ডলার। সেই হিসাবে ব্যারনের সম্পদের পরিমাণ, প্রায় ১৫ কোটি ডলার, তার মায়ের আনুমানিক সম্পদের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

 

অল্প বয়সেই ব্যারন ট্রাম্প ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। রিয়েল এস্টেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং পানীয় খাতের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফ্লোরিডা ও ডেলাওয়্যারে দাখিল করা ব্যবসায়িক নিবন্ধন নথি অনুযায়ী, 'সোল্লোস' (Sollos) নামের একটি পানীয় কোম্পানির পাঁচজন অংশীদারের একজন ব্যারন ট্রাম্প।

 

তবে তার সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে ধরা হচ্ছে ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান 'ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল'। ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার দুই বড় ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে যুক্ত হন ব্যারন।

ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল অর্থনীতিতে ডলারভিত্তিক স্থিতিশীলতা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনের সহজলভ্যতা এবং বিকেন্দ্রীভূত আর্থিক সেবাকে (ডিফাই) সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

 

ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল ট্রাম্প পরিবারের মোট সম্পদে ১৫০ কোটিরও বেশি ডলার যোগ করেছে। এর মধ্যে ব্যারনের অংশ প্রায় ১০ শতাংশ, যার মূল্য আনুমানিক ১৫ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো সম্পদ, বিশেষ করে $WLFI টোকেন এবং মার্কিন ডলারের সঙ্গে সংযুক্ত স্থিতিশীল মুদ্রা USD1-এ বিনিয়োগ থেকেও ব্যারনের সম্পদ বেড়েছে।

 

এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ব্যারন ট্রাম্প ও তার কয়েকজন ব্যবসায়িক সহযোগী ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যে 'ট্রাম্প, ফুলচার অ্যান্ড রক্সবার্গ ক্যাপিটাল ইনকরপোরেটেড' নামে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

 

ব্যারনের ব্যবসায়িক সহযোগী ক্যামেরন রক্সবার্গ পরে নিউজউইককে জানান, নির্বাচনের সময় অপ্রয়োজনীয় গণমাধ্যমের মনোযোগ এড়াতেই কোম্পানিটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল ইউটাহ, অ্যারিজোনা ও আইডাহো অঙ্গরাজ্যে বিলাসবহুল আবাসন ও গলফ কোর্সভিত্তিক প্রকল্পে কাজ করার।

 

তবে পরে ফক্স বিজনেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রক্সবার্গ জানান, প্রতিষ্ঠানটি আর পুনরায় চালু করা হবে না।

বর্তমানে ব্যারন ট্রাম্প নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্টার্ন স্কুল অব বিজনেসে পড়াশোনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প পরিবারের বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগে যুক্ত থেকে ধীরে ধীরে নিজের ব্যবসায়িক পরিচয়ও গড়ে তুলছেন।

 

তবে ফোর্বস উল্লেখ করেছে, ব্যারনের অন্যান্য সম্পদ, সম্ভাব্য উত্তরাধিকার বা অন্য উৎস থেকে আয়ের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়লেই বিপুল অর্থ! তবুও ছাড়তে চাচ্ছেন না সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়াটিয়া
অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়লেই বিপুল অর্থ! তবুও ছাড়তে চাচ্ছেন না সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়াটিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে এক ভাড়াটিয়াকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু শহরে নতুন বাসা ভাড়া নেওয়ার খরচের কথা ভেবে তিনি প্রস্তাবটি গ্রহণে দ্বিধায় আছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট।   এ ধরনের প্রস্তাবকে ভাড়াটিয়ার ‘বাইআউট’ বলা হয়। এতে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অঙ্ক ঠিক করেন। সেই অর্থের বিনিময়ে ভাড়াটিয়া বাসা ছেড়ে দেন। তবে হাতে পাওয়া অর্থের পাশাপাশি নতুন বাসার রেন্ট ও স্থানান্তরের খরচও সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।   সান ফ্রান্সিসকোতে এমন প্রস্তাব নতুন নয়। শহরের রেন্ট বোর্ডের তথ্য নিয়ে সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়া বাইআউটগুলোর মধ্যম পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ হাজার ডলার। অর্থের অঙ্ক অবশ্য বাসা ও ভাড়াটিয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হয়।    শহরের নিয়ম অনুযায়ী, ভাড়াটিয়ার বাইআউট প্রস্তাব গ্রহণ না করার অধিকার আছে। সব পক্ষ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরও ভাড়াটিয়া ৪৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে তা বাতিল করতে পারেন। ফলে ৩৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব পেলেই ওই ভাড়াটিয়াকে বাসা ছাড়তে হবে, এমন নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ২:৩৪
নিউইয়র্কে নতুন সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের সময় অক্টোবর পর্যন্ত

নিউইয়র্কে নতুন সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের সময় অক্টোবর পর্যন্ত

জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছেড়ে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছেড়ে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডালাসের কাছে অভিযানে ১২১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে আড়াই মাসের বিশেষ অভিযানে ১২১ অভিবাসী গ্রেপ্তার

পুলিশের ধাওয়ার সময় চলন্ত গাড়ি থেকে নগদ টাকা ছুড়ে ফেলছেন সন্দেহভাজন চালক। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশের ধাওয়া খেয়ে চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে হাজার হাজার ডলার ছুড়ে ফেললেন অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে পুলিশের ধাওয়ার সময় চলন্ত গাড়ি থেকে হাজার হাজার ডলার নগদ টাকা ছুড়ে ফেলার ঘটনা ধরা পড়েছে পুলিশের ড্যাশক্যামের ভিডিওতে। এটিএমে সন্দেহজনক লেনদেনের খবর পাওয়ার পর দুই ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে গিয়ে এই ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে গাড়ি থেকে ছুড়ে ফেলা ৬ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে পুলিশ।   ঘটনাটি গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে টেক্সাসের পিয়ারল্যান্ড শহরে ঘটে। পিয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ব্রডওয়ে স্ট্রিটের ৯৯০০ ব্লকের একটি ব্যাংক থেকে এটিএমে সন্দেহজনক লেনদেনের খবর পেয়ে কর্মকর্তারা সেখানে যান। পুলিশকে জানানো হয়েছিল, মুখোশ পরা এক ব্যক্তি একাধিক কার্ড ব্যবহার করে পরপর কয়েকটি লেনদেনের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা তুলছিলেন।   পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একটি সাদা রঙের জিএমসি সিয়েরা গাড়ির যাত্রী আসনে উঠতে দেখা যায়। গাড়িটি সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর পুলিশ ড্রোনের সহায়তায় সেটির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে স্মিথ র‌্যাঞ্চ রোডের ২৫০০ ব্লকের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পার্কিং এলাকায় গাড়িটির সন্ধান পাওয়া যায়।   পুলিশ সেখানে পৌঁছালে গাড়ির যাত্রী নেমে হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে আটক করা হয়। তবে গাড়ির চালক পুলিশের থামার নির্দেশ উপেক্ষা করে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে চলে যান। এরপর শুরু হয় পুলিশের গাড়ি ধাওয়া।   ধাওয়ার সময় চালক গাড়ির জানালা দিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা বাইরে ছুড়ে ফেলতে থাকেন। পুলিশের ড্যাশক্যামের ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত গাড়ি থেকে একের পর এক টাকার বান্ডিল বা নোট রাস্তায় পড়ে যাচ্ছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে ৬ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটি স্মিথ র‌্যাঞ্চ রোড ধরে উত্তরে যাওয়ার পর ম্যাকহার্ড রোডে পূর্ব দিকে মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাক্স রোডের ১৬০০ ব্লকে গিয়ে থামে। সেখানে পুলিশ গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে এবং চালককে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ঘটনা ছাড়াই আটক করে।   আটক চালকের নাম লেভন স্টিভেন জুনিয়র। তিনি ফ্লোরিডার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা এবং আলামত বিকৃত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। গাড়ির যাত্রী তারভেরেস গিভেন্সকেও আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিচয় জানাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, এটিএমে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে। ওই লেনদেনের সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক জালিয়াতির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আরও জালিয়াতিসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হতে পারে।   দুই ব্যক্তিকেই ব্রাজোরিয়া কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এটিএম থেকে ঠিক কত টাকা তোলা হয়েছিল এবং ব্যবহৃত কার্ডগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনার পুরো তদন্তে পিয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগ এটিএম লেনদেন, ব্যবহৃত কার্ড এবং গাড়ি থেকে ছুড়ে ফেলা অর্থের উৎস সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে।   সূত্র: পিয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগ, রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ২৩:৪৮
উচ্চ বাড়ির দাম ও বন্ধকী ঋণের সুদহারে নিউইয়র্কের প্রথমবারের ক্রেতারা চাপে পড়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

বাড়ির চড়া দাম ও গৃহঋণের উচ্চ সুদে উভয় সংকটে নিউইয়র্কবাসী, প্রভাব পড়ছে বাসা ভাড়ার বাজারেও

অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের গড় আয়ু কম বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যয় করেও গড় আয়ুতে ৩৮তম অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে তরুণদের অকালমৃত্যু

কংগ্রেসের অনুমোদিত সরকারি তহবিল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের নির্দেশে ৮১০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল বাতিল, বড় কাটছাঁট অভিবাসন খাতে

নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান
নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান

ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের কোনো বিকল্প নেই বলে আবারও আন্তর্জাতিকভাবে ঐকমত্য পোষণ করেছে ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর দ্য ইমপ্লিমেন্টেশন অব দ্য টু-স্টেট সলিউশন’।   গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে জোটের কো-চেয়ারদের একটি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   ‘নিউইয়র্ক ঘোষণাপত্র’ গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী এবং গাজার বোর্ড অব পিস-এর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিসহ প্রায় ১০০টি রাষ্ট্র ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই সমাধানের পেছনে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তবে পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হওয়ায় সমাধানের পথ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে।   বৈঠক শেষে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ, উচ্ছেদ, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং চরমপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের নজিরবিহীন সহিংসতা দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।   একইসঙ্গে পবিত্র স্থানগুলোতে ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি। বিবৃতিতে ফিলিস্তিন নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পুনরায় ব্যক্ত করে বলা হয়, গাজা এবং পশ্চিম তীরসহ পূর্ব জেরুজালেম মূলত একটি একক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড। গাজাকে কোনোভাবেই পশ্চিম তীর থেকে আলাদা করে দেখা যাবে না এবং একটি বৈধ ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে এর পুনরেকত্রীকরণ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।   ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই অঞ্চলে প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তা আনা সম্ভব।   ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ওপর চলমান আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ নিয়েও বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আটকে রাখা সব রাজস্ব তহবিল ফিলিস্তিনকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দাতা সংস্থাগুলোকে সরাসরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।   গাজায় দ্রুত ও নিরাপদে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং জাতিসংঘ ও এর সংস্থাগুলোর, বিশেষ করে ইউএনআরডব্লিউএ-এর (UNRWA) মাধ্যমে পুনর্গঠন কাজ শুরু করার ওপর জোর দিয়েছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স। গাজায় যুদ্ধবিরতি সুসংহত করার পাশাপাশি হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সবশেষে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয়ের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার যেমন অটুট রয়েছে, তেমনি ইসরায়েলকে বুঝতে হবে যে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পথে বাধা সৃষ্টি করে কখনোই দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা অর্জন করা সম্ভব নয়।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৯:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিড়াল নি র্যাতন করে ৪ লাখ ডলারের প্রতারণা, যুবকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিড়াল নি র্যাতন করে ৪ লাখ ডলারের প্রতারণা, যুবকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

ফ্লোরিডায় গ্যারেজে টেসলা গাড়ির ব্যাটারি বি স্ফোরণ, পুড়ে ছাই কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি

ফ্লোরিডায় গ্যারেজে টেসলা গাড়ির ব্যাটারি বি স্ফোরণ, পুড়ে ছাই কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি

নিউইয়র্কে ই হুদি ধর্মযাজককে পিটিয়ে আ হত, বিচারকের আদেশে জামিনে মুক্ত অভিযুক্ত

নিউইয়র্কে ই হুদি ধর্মযাজককে পিটিয়ে আ হত, বিচারকের আদেশে জামিনে মুক্ত অভিযুক্ত

0 Comments