বিশ্ব

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ঘিরে বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া, কোন দেশ কী বলল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ৬:১৫
তেহরানে সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের সমর্থনে সমাবেশ । গেটি ইমেজ
তেহরানে সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের সমর্থনে সমাবেশ । গেটি ইমেজ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা বা চুক্তি হয়েছে বলে ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বহু দেশ এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর এবং স্থিতিশীলতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তবে কিছু দেশ বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা শর্ত নিয়ে সতর্ক মন্তব্যও করেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক ঘোষণায় বলেন, “ইরান ইসলামিক রিপাবলিকের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ।” তিনি আরও লেখেন, “বিশ্বের জাহাজগুলো ইঞ্জিন চালু করুক। তেল প্রবাহ শুরু হোক।”

 

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানান, নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ আরও বিস্তৃত একটি চুক্তি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে।

 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, সুইজারল্যান্ডে শুক্রবার এই চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের পর একটি “বড় অগ্রগতি”, যার ফলে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

 

কাতার

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি পার্থক্য নিরসনে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের একটি ইতিবাচক উদাহরণ।

 

রাষ্ট্রীয় প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ আল-খুলাইফি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে এবং বাকি ইস্যুগুলোর সমাধানে দায়িত্বশীল সংলাপকে উৎসাহিত করবে।

 

পাকিস্তান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা সংঘাত সমাধানে কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছে। তিনি কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

 

ইসরায়েল

চুক্তি ঘোষণার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, লেবাননে নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইসরায়েল কোনোভাবেই সেনা প্রত্যাহার করবে না।

 

তিনি বলেন, ইরান যদি লেবাননে হামলার জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে, তবে তেহরানের বিরুদ্ধে “কঠোর শক্তি” প্রয়োগ করা হবে।

 

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই চুক্তিকে ইসরায়েল ও “পুরো মুক্ত বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর” বলে মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, ইরানকে দুর্বল করতে যে অগ্রগতি হয়েছে তা নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।

 

তুরস্ক

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, এই চুক্তি আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি বলেন, আঙ্কারা ভবিষ্যতেও শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সহায়তা করবে।

 

জাতিসংঘ

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই চুক্তিকে “সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুক্তির দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়ন। তাঁর মতে, নৌপথে বাধাহীন চলাচল পুনরুদ্ধার করা জরুরি।

 

যুক্তরাজ্য

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চুক্তিকে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীতে বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে যুক্তরাজ্য মাইন অপসারণ কার্যক্রমে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

 

ফ্রান্স

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে পুনরায় চালুর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য।

 

বাংলাদেশ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকা সবসময়ই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করে চুক্তিটি কার্যকর ও টেকসই হবে।

 

জার্মানি

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, এই চুক্তি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়তা করবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
দুর্ঘটনার পর ধসে পড়া খনিতে চলছে উদ্ধার অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে কয়লাখনিতে ভয়াবহ মিথেন বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩২ শ্রমিক

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে চলা উদ্ধার অভিযানে একে একে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। খনির ভেতরে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে।   দুর্ঘটনাটি বৃহস্পতিবার কোয়েটার অদূরে সোরাঞ্জ এলাকার একটি কয়লাখনি কমপ্লেক্সে ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভেতরে অতিরিক্ত মিথেন গ্যাস জমে শক্তিশালী বিস্ফোরণের সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের পর খনির একটি অংশ ধসে পড়ে, ফলে ভেতরে কর্মরত শ্রমিকরা আটকা পড়েন। বেলুচিস্তানের খনি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিস্ফোরণের সময় খনির ওই অংশে ৩৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আরও কয়েকজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। খনির গভীরে অক্সিজেনের ঘাটতি এবং ধসে পড়া অংশের কারণে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিস্ফোরণের তীব্রতায় পাশের আরও দুটি খনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল, নিরাপত্তা বাহিনী এবং খনি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে খনির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস এবং ধসে পড়া কাঠামোর কারণে অভিযান চালাতে উদ্ধারকর্মীদের চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে। বেলুচিস্তানের খনিজ ও খনি বিষয়ক মন্ত্রী শোয়েব নওশেরওয়ানি নিহতদের পরিবারের জন্য জনপ্রতি পাঁচ লাখ পাকিস্তানি রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   পাকিস্তান সেন্ট্রাল মাইনস লেবার ফেডারেশন এই দুর্ঘটনার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও অবহেলাকে দায়ী করেছে। শ্রমিক সংগঠনটির অভিযোগ, অধিকাংশ খনিতেই পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, মিথেন গ্যাস শনাক্তকারী যন্ত্র এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। তারা নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।   পাকিস্তানে, বিশেষ করে বেলুচিস্তানে কয়লাখনিতে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নতুন নয়। নিরাপত্তার দুর্বল মান, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশের কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। দারিদ্র্য ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে হাজারো শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এসব খনিতে কাজ করতে বাধ্য হন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ২৩:৩৮
গাজা নিয়ে নতুন শান্তি পরিকল্পনায় শর্তসাপেক্ষ নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিয়েছে হামাস। ছবি: সংগৃহীত

গাজা সংকটে ঐতিহাসিক মোড়: সেনা প্রত্যাহারের শর্তে ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণে রাজি হামাস

নরেন্দ্র মোদির নামে ছড়িয়ে পড়া কথিত পদত্যাগপত্রকে ভুয়া বলেছে ভারত সরকার। ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল মোদির ‘পদত্যাগপত্র’, যা জানা গেল

সংঘর্ষের পর সুনসারিসহ কয়েকটি জেলায় কারফিউ জারি করেছে নেপাল সরকার। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে নিহত ৩, শান্ত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মরক্কো থেকে স্পেনের সিউতায় প্রবেশের চেষ্টা করছেন হাজারো অভিবাসী। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে স্পেনে হাজার হাজার অভিবাসীর প্রবেশের চেষ্টা, নামানো হলো সেনাবাহিনী

মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউতায় হাজারো অভিবাসীর প্রবেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সীমান্তের বিভিন্ন অংশ দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ একসঙ্গে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেয় স্পেন সরকার। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে।   উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত সিউতা ভৌগোলিকভাবে মরক্কোর সঙ্গে যুক্ত হলেও এটি স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তের অংশ। দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত সিউতা। অভিবাসন সংকটের কারণে অঞ্চলটি প্রায়ই স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।   স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার কয়েক হাজার মানুষ একযোগে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন। কেউ সাঁতরে সমুদ্রপথে সিউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, আবার কেউ সীমান্তের বেড়া ও গেট অতিক্রম করে শহরে প্রবেশ করেন। এতে সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে এবং পরিস্থিতিকে "সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল" বলে বর্ণনা করেন সিউতায় দায়িত্বরত স্পেনের সিভিল গার্ড সদস্যদের সংগঠনের প্রধান রাশিদ সিবিহি।   খবরে বলা হয়েছে, সীমান্ত পার হওয়ার সময় অনেক অভিবাসী ভাসমান টিউব ও অন্যান্য ভাসমান সামগ্রী ব্যবহার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, শত শত মানুষ সমুদ্র পাড়ি দিয়ে সিউতার উপকূলে পৌঁছাচ্ছেন, আর অন্যরা সীমান্তের প্রবেশপথ ভেঙে শহরের দিকে দৌড়ে যাচ্ছেন।   স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় অন্তত কয়েকজন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, সর্বশেষ হিসাবে প্রাণহানির সংখ্যা অন্তত নয়জনে পৌঁছেছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় এ সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পরে অনেকেই সীমান্তসংলগ্ন মরক্কোর কাস্তিয়েখোস (ফনিদেক) এলাকায় ফিরে গেলেও নতুন করে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সিউতার অনেক দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।   স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মরক্কো সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় চলছে। অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের যত দ্রুত সম্ভব ফেরত পাঠাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সেনা সদস্য, নৌযান এবং ডুবুরি ইউনিট মোতায়েন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাসকার সিউতা সফরেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, কেবল অভিবাসন পরিস্থিতির কারণে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার আইনগত সুযোগ নেই।   এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। উপপ্রেস সচিব আনা কেলি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউরোপের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। তবে স্পেন সরকার এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য না করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে।   এর আগে ২০২১ সালেও প্রায় ১০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সিউতায় প্রবেশ করেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ঘটনাটি সেই সংকটের স্মৃতি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে এবং ইউরোপে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ২১:২৪
গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলে  ২,৫৯৬ অস্ত্র পাঠিয়েছে ভারত

গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলে ২,৫৯৬ অস্ত্র পাঠিয়েছে ভারত

মার্কিন সেনাদের ফোনের ভিডিওতেই গোপন তথ্যপাচ্ছে ইরান

মার্কিন সেনাদের ফোনের ভিডিওতেই গোপন তথ্যপাচ্ছে ইরান! ফোন ব্যাবহারে কড়াকড়ি, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

চীন ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করলে 'আমি খুব হতাশ হব': ট্রাম্প

ভারতের সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ অবমাননাবিরোধী বিল নিয়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ অবমাননায় সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল, রাজ্যসভায় নতুন বিল পাস

ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-কে অবমাননা করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনতে নতুন আইন প্রণয়নের পথে এগিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এ লক্ষ্যে ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ বুধবার (২৯ জুলাই) রাজ্যসভায় কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।   এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী দলগুলোর ওয়াকআউটের মধ্যেই বিলটি পাস হয়। এখন এটি লোকসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললে বিলটি আইনে পরিণত হবে।   বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় রাজ্যসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধী সদস্যরা নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাজধানীতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভ চললেও স্পিকার অধিবেশন চালিয়ে যান এবং সদস্যদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।   পরে কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ ও ক্ষমতায়ন প্রতিমন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে বিলটির পক্ষে বক্তব্য দিতে উঠলে বিরোধী দলগুলো ওয়াকআউট করে। বিলের জবাবি বক্তব্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, তুষ্টিকরণের রাজনীতি করতে গিয়ে কংগ্রেস দেশের সম্মান এবং ‘বন্দে মাতরম’-কে অপমান করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বহু বিপ্লবী ও স্বাধীনতাসংগ্রামী মৃত্যুর আগে ‘বন্দে মাতরম’ উচ্চারণ করেছিলেন।   তিনি আরও বলেন, ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্ব অপরিসীম। কংগ্রেস কেন এ সংগীতের বিরোধিতা করছে, তা তার বোধগম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রস্তাবিত সংশোধনী আইনে ভারতের জাতীয় পতাকা, সংবিধান, জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-সহ জাতীয় প্রতীকগুলোর অবমাননা বা অসম্মানকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   আইনটি কার্যকর হলে এসব জাতীয় প্রতীক অবমাননার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজ্যসভায় বিলটি উত্থাপন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা প্রদান করা।   সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বছরব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তবে বিলটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর এটি লোকসভার অনুমোদন এবং পরে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নতুন আইন কার্যকর হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২৩:২৩
শিশুর মৃত্যুর পর গবেষণা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষামূলক জিন থেরাপিতে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু, ৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার ব্যয় করা পরিবার তুলল গুরুতর অভিযোগ

সিস্যাটসের স্বয়ংক্রিয় সমুদ্র ড্রোনের ধারণ করা চীনা যুদ্ধজাহাজের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছে চীনা যুদ্ধজাহাজের ভিডিও প্রকাশ, আলোচনায় মার্কিন ড্রোন

মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে উ.কোরিয়া-রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা

মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে উ.কোরিয়া-রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা, জাতিসংঘে ফ্রান্সের বক্তব্যের সময় মার্কিন প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট

0 Comments