বিশ্ব

উত্তেজনা থাকলেও কেন একে অপরের পরমাণু কেন্দ্রে হামলা করে না ভারত-পাকিস্তান?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ৬:৩৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে সামরিক সংঘাত যত জটিল হচ্ছে, ততই বাড়ছে বেসামরিক পরমাণু অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ইরানের নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহানের পরমাণু স্থাপনাকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যুদ্ধের সময় এসব স্পর্শকাতর স্থাপনার নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত।

 

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, পরমাণু স্থাপনায় হামলাকে আন্তর্জাতিকভাবে এক ধরনের অলঙ্ঘনীয় নিষেধাজ্ঞা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কারণ এ ধরনের হামলা শুধু একটি দেশের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

 

এমন এক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে ভারত ও পাকিস্তানের একটি পুরোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, যা কয়েক দশক ধরে দুই দেশের মধ্যে পরমাণু স্থাপনাগুলোকে সামরিক হামলার বাইরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

ভারত ও পাকিস্তান বিশ্বের দুই পরমাণু অস্ত্রধারী প্রতিবেশী রাষ্ট্র। স্বাধীনতার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে একাধিক যুদ্ধ, সীমান্ত সংঘাত এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও সম্পর্কের অবনতি হয়েছে এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত পর্যায়ে নেমে এসেছে।

 

তবুও একটি বিষয়ে দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে আশ্চর্যজনক সংযম বজায় রেখেছে। তা হলো, কোনো পরিস্থিতিতেই একে অপরের পরমাণু স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু না করা।

এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে ১৯৮৮ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর নেতৃত্বে ‘পরমাণু স্থাপনা ও কেন্দ্রে হামলা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। পরে ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে এটি কার্যকর হয়।

 

চুক্তিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের পরমাণু স্থাপনাগুলোর তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরের কাছে হস্তান্তর করে। এর উদ্দেশ্য হলো, যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বা সংঘাতের সময় এসব স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না করা।

১৯৯২ সালে এই তথ্য বিনিময় প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে একবারের জন্যও তা বন্ধ হয়নি। চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারিতেও দুই দেশ টানা ৩৫তম বারের মতো এই তালিকা বিনিময় করেছে।

 

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই তালিকায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং সংশ্লিষ্ট বেসামরিক অবকাঠামোর তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। নিউ দিল্লি ও ইসলামাবাদের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এসব তথ্য নিয়মিত আদান-প্রদান করা হয়।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত ডি বি ভেঙ্কটেশ বর্মা এই ব্যবস্থাকে বিশ্বের অন্যতম সফল আস্থা-নির্মাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকা সত্ত্বেও দুই দেশ এই চুক্তিকে কার্যকর রেখেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ।

 

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ভারতের সাবেক প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিনও চুক্তিটির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ১৯৯০-এর দশকে ইসলামাবাদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজেই এই তালিকা বিনিময় প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন। তার মতে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির বর্তমান বাস্তবতায় এই ব্যবস্থা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরমাণু স্থাপনায় হামলার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো তেজস্ক্রিয় দূষণ। একটি বড় দুর্ঘটনা বা হামলার প্রভাব কেবল একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বাতাস, পানি এবং পরিবেশের মাধ্যমে তা সীমান্ত পেরিয়ে বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।

এ কারণেই আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরমাণু অবকাঠামোকে যুদ্ধের বাইরে রাখার নীতি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

 

তবে আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি মনে করেন, ভারত-পাকিস্তান মডেলটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সব অঞ্চলে সরাসরি একইভাবে প্রয়োগ করা সহজ হবে না। কারণ প্রতিটি অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কৌশলগত পরিবেশ ভিন্ন।

বর্তমানে ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন পরমাণু স্থাপনাকেও ঘিরে উত্তেজনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের চুক্তি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিরোধ এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। তবে পরমাণু স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গড়ে ওঠা এই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা দেখিয়েছে, চরম বৈরিতার মধ্যেও কিছু বিষয়ে সহযোগিতা ও সংযম বজায় রাখা সম্ভব।

তাদের মতে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এটিই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কঠোর শর্ত দিল ফ্রান্স

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আসন্ন আলোচনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে সন্তুষ্ট না হলে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মতি দেবে না ফ্রান্স।   শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আলোচনায় শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।   বারো বলেন, ইরানের কাছ থেকে বড় ধরনের ছাড় নিশ্চিত হলেই কেবল জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং ভেটো ক্ষমতাধারী দেশ হিসেবে ফ্রান্সের অবস্থান ছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সম্ভব নয়।   তার ভাষায়, “ইরানের অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তন আনাই আমাদের লক্ষ্য। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে এই সংকটের সমাধানে ফ্রান্সের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”   চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।   এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার বাইরে থাকা ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি পরবর্তী দফার আলোচনার কাঠামো নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ৭:২৫
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে তীব্র সংঘর্ষে ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীবাহী ট্রেন ঘণ্টায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। ছবি: সংগৃহীত

২০৩০ সালের মধ্যে এক রেলপথে যুক্ত হবে কুয়েত, সৌদি আরব, কাতারসহ ৬ উপসাগরীয় দেশ

ছবি: রয়টার্স

কে এই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি হতে পারেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?

গ্রিস সীমান্তে সাগরে তেলের ট্যাংকার। ফাইল ছবি: রয়টার্স
১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল সরবরাহ হারিয়েছে বিশ্ববাজার, ঘাটতি পূরণে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ থেকে ১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি বঞ্চিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ঘাটতি পূরণে অন্তত এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সুখবর হিসেবে সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের পরও সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।   বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের সময় বিশ্ববাজারে প্রায় ১১৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহ বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেল মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।   আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কৌশলগত তেলের মজুত ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত গত ৪৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পর্যায়ে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে।   বাজার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনে সতর্ক করে বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুললেও তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবহন অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং ট্যাংকার চলাচল পুনরায় সক্রিয় করতে সময় লাগবে।   বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত পূর্ববর্তী অতিরিক্ত সরবরাহের ফল, যা এখন দ্রুত কমে যাচ্ছে।   গত কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে তেল মজুত প্রায় ১৯ কোটি ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তেল হাব ওকলাহোমার কাশিং এলাকাতেও মজুত ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রায় সীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ার পরও পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এই সময়ে বাজারকে বিদ্যমান মজুতের ওপর নির্ভর করতে হবে।   আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দৈনিক চাহিদার তুলনায় পাঁচ মিলিয়ন ব্যারেল অতিরিক্ত উৎপাদন থাকলেও হারানো বিপুল সরবরাহ পুনরুদ্ধারে প্রায় এক বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে।   অন্যদিকে কিছু বাজার বিশ্লেষক মনে করছেন, উৎপাদনকারী দেশগুলোর বাড়তি উৎপাদন প্রবণতা এবং ওপেকভুক্ত দেশের কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণে বাজার দ্রুত ভারসাম্যে ফিরতে পারে।   তবে অন্যদিকে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গির বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি আগের তুলনায় দুর্বল অবস্থানে থাকায় ভবিষ্যতে দাম আবারও বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এখন সরবরাহ পুনর্গঠন ও মজুত পুনরায় পূরণের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ৬:২২
ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থগিত, যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসন সীমিত করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সুইজারল্যান্ডে

ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে কাতার: পেজেশকিয়ান

ছবি: সংগৃহীত
চুক্তির জন্য মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প, সদিচ্ছা থেকে এগিয়েছে ইরান: মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরকে ঘিরে নতুন মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা খামেনি। তিনি দাবি করেছেন, এই সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের কর্মকর্তারা আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার পরিচয় দিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছিলেন।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত এক বার্তায় খামেনি বলেন, ইরানি কর্মকর্তারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ও চাপ প্রয়োগ দেখা গেছে।   খামেনি বলেন, “উদ্যমী ও অনুগত ইরানি জাতি জেনেছে যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে আমাদের কর্মকর্তারা সহমর্মিতা ও সদিচ্ছা নিয়ে অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টই এই লক্ষ্য অর্জনে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছেন।”   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন।   সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ, ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়।   খামেনি জানান, শুরুতে এই সমঝোতা নিয়ে তার কিছু সংরক্ষণ ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের দেওয়া আশ্বাস এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অবস্থানের পর তিনি চুক্তির অনুমোদন দেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরানের জাতীয় স্বার্থ, জনগণের অধিকার এবং তথাকথিত প্রতিরোধ ফ্রন্টের অবস্থান রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত বা অযৌক্তিক কোনো দাবিও গ্রহণ করা হবে না।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, “আমরা এখন ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। ভবিষ্যতে সরাসরি আলোচনা হতে পারে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আমরা প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নিচ্ছি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইরান ভবিষ্যতে আরও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করবে।   সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, উভয় দেশ এখন ৬০ দিনের একটি আলোচনাকালে প্রবেশ করেছে। এই সময়ের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজন হলে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এই সময়সীমা বাড়ানোও যেতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে।   বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চুক্তির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে উভয় পক্ষ ঘোষিত শর্তগুলো কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে তার ওপর।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত খামেনির মন্তব্যের সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা আগেই বলেছিলেন, চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের ওপরই ভবিষ্যৎ সম্পর্কের অগ্রগতি নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ২৩:২৬
ছবি: সংগৃহীত

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: এএফপি

ইসরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

0 Comments