যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: যুদ্ধ থামল, লাভের পাল্লা কার দিকে?
মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত ১৪ দফার এই স্মারকলিপি বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নৈশভোজের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, চুক্তিটি ভার্সাইতেই স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেছে, যা পারস্পরিক সম্মতিতে আরও বাড়ানো যেতে পারে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হবে। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ৬০ দিনের জন্য টোল-মুক্ত নিরাপদ পথ নিশ্চিত করবে।
সমঝোতার সবচেয়ে আলোচিত অংশ অর্থনৈতিক প্যাকেজ। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের নিষ্পত্তি আইএইএর তত্ত্বাবধানে হবে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
চুক্তির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালী চালু রাখা সম্ভব হতো না এবং এর ফলে বিশ্ববাজারে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ধাক্কা লাগতে পারত। যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন জনগণের মধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর প্রভাব ট্রাম্পের অর্থনৈতিক জনপ্রিয়তার ওপরও পড়েছিল, এমনকি তার সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যেও।
চুক্তি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। ফলে জ্বালানি মূল্য ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাড়তে থাকা জনমতের চাপের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বস্তি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই সমঝোতা নতুন বিতর্কও তৈরি করেছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ২০১৫ সালের জেসিপিওএ পরমাণু চুক্তিকে ‘সবচেয়ে খারাপ চুক্তি’ বলে সমালোচনা করেছেন এবং প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে প্রত্যাহারও করেন। কিন্তু নতুন এই কাঠামোগত সমঝোতায় ইরানকে দেওয়া সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা আগের চুক্তির তুলনায় বেশি বলে সমালোচকদের একটি অংশ দাবি করছে।
ইরান চুক্তিটিকে নিজেদের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেছেন, ইরান এই চুক্তিকে একটি বিজয় হিসেবে দেখছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক মাধ্যমে একে একটি ঐতিহাসিক দলিল আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি শক্তিশালী ইরানের পক্ষ থেকে একটি বার্তা এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনিও স্মারকলিপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে ইরানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হিমায়িত সম্পদ মুক্তির সম্ভাবনা এবং তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি, যা দেশটির দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।
চুক্তিতে ইসরায়েল কোনো পক্ষ নয়। ফলে দেশটির পক্ষ থেকে সমালোচনাও প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলের সমালোচনার জবাবে বলেন, “ট্রাম্পই বিশ্বে তোমাদের একমাত্র মিত্র যিনি বাকি আছেন।” তার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অস্বস্তি রয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি ও ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তারা একমত। তবে একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারেরও কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ইসরায়েল। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষও যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও চলমান।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, মূল চুক্তিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্র অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগের অন্যতম প্রধান বিষয় হওয়া সত্ত্বেও এসব প্রশ্ন অমীমাংসিত থাকায় তেল আবিবের অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চুক্তিটি বিভাজন তৈরি করেছে। সমালোচকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেছেন, যারা এই চুক্তির বিরোধিতা করছে তারা “দুষ্কৃতিকারী, মূর্খ বা ঈর্ষাকাতর।” তার এই বক্তব্য রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেও মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়।
যুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল, অধিকাংশ আমেরিকান ইরানে মার্কিন হামলার পক্ষে ছিল না। একই সঙ্গে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক রেটিংও চাপে পড়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের অবসান ও বাজারে স্থিতিশীলতা জনমনে স্বস্তি আনলেও ইরানকে দেওয়া বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিতর্ক থামেনি।
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সমঝোতা এখনো মূল বিরোধগুলোর সমাধান করেনি। বিশেষজ্ঞ এলিসা ইওয়ার্সের মতে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। কারণ টোল আদায় না করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সার্ভিস ফি বা অন্যান্য আর্থিক ব্যবস্থার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে এই চুক্তিতে উভয় পক্ষই তাৎক্ষণিক কিছু অর্জন দেখাতে পারছে। ট্রাম্প যুদ্ধের অবসান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কৃতিত্ব দাবি করতে পারছেন, আর ইরান পাচ্ছে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল হওয়ার প্রতিশ্রুতি। তবে পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ এখনো অমীমাংসিত। ফলে আগামী ৬০ দিনের আলোচনা এই সমঝোতার চূড়ান্ত সফলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreস্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস লিওনর তিন বছরের সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে দেশের রানি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। প্রশিক্ষণের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি ছিল প্যারাশুট প্রশিক্ষণ। ২০২৬ সালের জুনে মুরসিয়ার আলকান্তারিয়া বিমানঘাঁটির মেন্দেজ পারাদা মিলিটারি প্যারাশুট স্কুলে বেসিক প্যারাশুট কোর্স শেষ করেন লিওনর। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে তিনি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে একাধিক প্যারাশুট জাম্প করেন। এর মধ্যে রাতের জাম্পও ছিল। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ‘কাজাদোর পারাকাইদিস্তা’ বা প্যারাশুট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যের ব্যাজ পান। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে মুরসিয়ার সান হাভিয়েরের জেনারেল এয়ার অ্যান্ড স্পেস অ্যাকাডেমিতে যোগ দিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণের তৃতীয় ধাপে প্রবেশ করেন লিওনর। সেখানে বিমান চালনার প্রশিক্ষণও নেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি প্রথমবার এককভাবে একটি পিলাটাস পিসি-২১ প্রশিক্ষণ বিমান উড়ান। ২০২৬ সালের জুনে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বাবার সঙ্গে একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইটেও অংশ নেন তিনি। স্পেনের রাজপরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক প্রশিক্ষণের পুরো প্রক্রিয়ায় লিওনরকে তিন বাহিনীর বিভিন্ন ধরনের সামরিক দায়িত্ব ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে পরিচিত করা হয়েছে। তবে সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ হলেও লিওনরের প্রস্তুতি এখানেই শেষ হচ্ছে না। স্পেনের রাজপরিবার জানিয়েছে, সামরিক ক্যারিয়ারের পর তিনি মাদ্রিদের কার্লোস থ্রি ইউনিভার্সিটিতে পলিটিক্যাল সায়েন্সে পড়াশোনা করবেন। চার বছরের এই ডিগ্রিতে রাজনীতি, আইন, অর্থনীতি, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হবে। ভবিষ্যতে স্পেনের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে লিওনরের। ২০২৭ সালের জুলাইয়ে তিনি স্পেনের সেনাবাহিনী ও এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে লেফটেন্যান্ট এবং নৌবাহিনীতে নেভাল এনসাইন হিসেবে কমিশন পাওয়ার কথা রয়েছে। লিওনরের সামরিক প্রশিক্ষণকে স্পেনের রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি সিংহাসনে বসলে প্রায় দেড়শ বছর পর স্পেনে আবার একজন নারী শাসক হিসেবে রাজত্ব করবেন।
হামলায় স্ত্রী ও ৬ সন্তানকে হারিয়েছিলেন, এবার ১,৫০০ দম্পতির সঙ্গে আবার বিয়ে করলেন সেই বাবা
কানেকটিকাটে স্ন্যাপ সুবিধা হারানো পরিবারকে ৩০০ ডলারের খাদ্য সহায়তা, প্রিপেইড কার্ডে মিলবে এলাউন্স
জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওদূদীর নাতনি সোফিয়া, পোশাকে ইসরায়েলের প্রতীক! ট্রাম্পপন্থী রাজনীতিতেও সক্রিয়
দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার মেহের নিউজ এজেন্সি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে তাঁকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেলেও ভিডিওটি কখন এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কেও মেহের নিউজ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ভিডিওটি প্রকাশ পেলেও এর পটভূমি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ্যে না এসে আড়াল থেকেই দেশের নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনির কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়নি। তাঁর বিভিন্ন নির্দেশনা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ অথবা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করা হতো। মেহের নিউজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চীনা সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনও মেহের নিউজের বরাতে তাদের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করেছে। তবে মেহের নিউজের ইংরেজি ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা ভিডিও প্রকাশিত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর এই ভিডিও প্রকাশ ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যক্রম নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ভিডিওটির ধারণের সময়, স্থান ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকায় এ নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ইরানের সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। সূত্র: সিনহুয়া, মেহের নিউজ এজেন্সি
সিটবেল্ট না বাঁধায় এক শিশুর কারণে বাতিল পুরো ফ্লাইট, ভোগান্তিতে শতাধিক যাত্রী
ইরান যুদ্ধে কমেছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, রাশিয়া-চীনের সম্ভাব্য সুযোগ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
পড়াশোনার খরচ জোগাতে ২৮ লাখ মানুষের কাছে মাত্র ১ সেন্ট করে চাইলেন, শেষ পর্যন্ত উঠল প্রায় ৩৫ লাখ টাকা!
রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। শুক্রবার ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়া বিলটির আওতায় বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ভারত, চীন, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া। তবে শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না। বিলটি আইনে পরিণত হলে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে। বিলটির নাম ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর এই উদ্যোগের পক্ষে কাজ করেছিলেন। বিলটির মূল লক্ষ্য ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে আসা আয় কমানো। এর আওতায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে। বর্তমানে ওই তালিকায় চীন ও ভারতের পাশাপাশি আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার নাম রয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশই রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এসব দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সিনেটে অনুমোদনের পর বিলটি এখন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে যাবে। গ্রীষ্মকালীন বিরতি শেষে হাউসের অধিবেশন ৩১ আগস্ট পুনরায় শুরু হওয়ার কথা। সেখানে বিলটি পাস হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। তবে হাউসে বিলটির ভবিষ্যৎ এখনো নিশ্চিত নয়। রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কংগ্রেসে ব্যাপক সমর্থন থাকলেও কিছু আইনপ্রণেতা প্রেসিডেন্টকে নতুন ও বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হলে শেষ পর্যন্ত মার্কিন আমদানিকারক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদেরও বাড়তি খরচ বহন করতে হতে পারে। বিলে শুধু রাশিয়ার জ্বালানির ক্রেতাদের লক্ষ্য করা হয়নি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির বিভিন্ন কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ধনকুবের এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৯৬ সালের ইরান স্যাংশনস অ্যাক্টের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে ইরানের জ্বালানি খাতে নির্দিষ্ট ধরনের বিনিয়োগ ও লেনদনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সিনেটে বিলটি পাস হওয়ার পর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল বলেন, লিন্ডসে গ্রাহাম বেঁচে থাকলে এই অগ্রগতিতে গর্বিত হতেন। তার মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের লক্ষ্য হচ্ছে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করে এমন পক্ষগুলোর ওপর চাপ বাড়ানো। তবে বিলটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ভারত বা চীনের ওপর এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়ে যায়নি। সিনেটের অনুমোদন আইন প্রণয়নের একটি ধাপ মাত্র। হাউসের অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পর বিলটি আইনে পরিণত হলে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করতে পারবেন।
যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ
কোকা-কোলার কাস্টম ক্যান নিয়ে বিতর্ক: ‘ঈশ্বরই প্রভু’ লিখা নিষিদ্ধ অথচ ‘শিশুকামী প্রাইড' লিখায় মিলল অনুমতি