- প্রচ্ছদ
- Topic
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি
কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কতটা কঠিন হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবানন ও ইসরায়েল ইস্যু, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা এই সমঝোতার সামনে সবচেয়ে বড় তিনটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বুধবার সাংবাদিকদের, যাদের মধ্যে বিবিসিও ছিল, ১৪ অনুচ্ছেদের একটি সমঝোতা স্মারক পড়ে শোনান যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। চুক্তিটি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেভাগেই এতে স্বাক্ষর করেন। তেহরানও নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চুক্তিতে সই করেছেন। সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার পথ তৈরি হবে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ধাপে ধাপে প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু এবং ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা শুরুর অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিনিময়ে তেহরান পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও উভয় পক্ষ সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এই সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত নয় এবং এটি ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযানে ফিরে যেতে পারে। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের অবিশ্বাস এখনও রয়েছে এবং ইরানের “আঙুল ট্রিগারের ওপরই আছে”। লেবানন ও ইসরায়েল ইস্যু প্রাথমিক সমঝোতা ঘোষণার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, উভয় পক্ষ লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। সমঝোতা স্মারকেও লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবাননের বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানালেও ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, বুধবার ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা ও কফর তেবনিতের উপকণ্ঠে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লেবানন যুদ্ধবিরতির কাঠামোর মধ্যে থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর লেবানন থেকে প্রত্যাহার এই চুক্তির শর্ত নয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার বহাল থাকবে। অন্যদিকে ইরান বলছে, লেবানন যুদ্ধের অবসান যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইরান-সমর্থিত হেজবুল্লাহও একই অবস্থান নিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, পরবর্তী আলোচনায় লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, দেশটির বাহিনী লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, লেবানন ইস্যুতে ইরান হামলা চালালে ইসরায়েল পূর্ণ শক্তিতে পাল্টা জবাব দেবে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এইচ. এ. হেলিয়ারের মতে, ইসরায়েলি সামরিক অভিযান কূটনৈতিক অগ্রগতির জন্য সবচেয়ে বড় একক হুমকি। তার আশঙ্কা, তেহরান সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে পারমাণবিক ইস্যুতে কার্যকর আলোচনা শুরুর আগেই পুরো প্রক্রিয়া ভেঙে পড়তে পারে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা সমঝোতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল অংশ হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পর্যন্ত ইরান প্রায় ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুদ করেছিল। সাধারণভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধির প্রয়োজন হয়। তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। নতুন সমঝোতাতেও তারা পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে বিদ্যমান ইউরেনিয়াম মজুদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে যে ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধির মাত্রা কমিয়ে আনা হবে এবং এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ওই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর ইরান তাদের কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সাবেক উপপ্রধান ডারিন সেলনিক বলেছেন, যদি ইরান আবার অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পথে এগোয়, তাহলে ট্রাম্প পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারেন। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ সমঝোতার অন্যতম লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা। ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় অচল হয়ে থাকা এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হতো। চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরের পরপরই প্রণালিটি খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত বাধা, বিশেষ করে মাইন অপসারণের কাজ শেষ হলে ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে। সমঝোতায় বলা হয়েছে, প্রথম ৬০ দিনের জন্য প্রণালিটি টোলমুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে ইরান, ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে জলপথের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করবে। তবে ভবিষ্যতে ফি আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে সেবা ফি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও সেই ফি কী ধরনের সেবার জন্য হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নৌ চলাচলের জন্য সরাসরি টোল আরোপ করা না গেলেও নির্দিষ্ট সেবার বিপরীতে ফি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করছেন, ভবিষ্যতেও প্রণালিটি কার্যত টোলমুক্ত থাকবে। তাদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এমন কোনো ব্যবস্থা সমর্থন করবে না, যা অবাধ নৌ চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে। তবুও বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি বলেছেন, মাইন অপসারণে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো সতর্ক অবস্থানেই থাকবে। সংকট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ইওএস রিস্ক গ্রুপের মার্টিন কেলির ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে হলে অত্যন্ত সাহসী কোনো অধিনায়ক প্রয়োজন হবে। ড. হেলিয়ারও সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সমঝোতা কেবল একটি কাঠামোগত স্মারক, এটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়। তার ভাষায়, কঠিন কাজ এখনো শুরুই হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত ১৪ দফার এই স্মারকলিপি বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নৈশভোজের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, চুক্তিটি ভার্সাইতেই স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেছে, যা পারস্পরিক সম্মতিতে আরও বাড়ানো যেতে পারে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হবে। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ৬০ দিনের জন্য টোল-মুক্ত নিরাপদ পথ নিশ্চিত করবে। সমঝোতার সবচেয়ে আলোচিত অংশ অর্থনৈতিক প্যাকেজ। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের নিষ্পত্তি আইএইএর তত্ত্বাবধানে হবে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। চুক্তির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালী চালু রাখা সম্ভব হতো না এবং এর ফলে বিশ্ববাজারে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ধাক্কা লাগতে পারত। যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন জনগণের মধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর প্রভাব ট্রাম্পের অর্থনৈতিক জনপ্রিয়তার ওপরও পড়েছিল, এমনকি তার সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যেও। চুক্তি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। ফলে জ্বালানি মূল্য ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাড়তে থাকা জনমতের চাপের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বস্তি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সমঝোতা নতুন বিতর্কও তৈরি করেছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ২০১৫ সালের জেসিপিওএ পরমাণু চুক্তিকে ‘সবচেয়ে খারাপ চুক্তি’ বলে সমালোচনা করেছেন এবং প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে প্রত্যাহারও করেন। কিন্তু নতুন এই কাঠামোগত সমঝোতায় ইরানকে দেওয়া সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা আগের চুক্তির তুলনায় বেশি বলে সমালোচকদের একটি অংশ দাবি করছে। ইরান চুক্তিটিকে নিজেদের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেছেন, ইরান এই চুক্তিকে একটি বিজয় হিসেবে দেখছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক মাধ্যমে একে একটি ঐতিহাসিক দলিল আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি শক্তিশালী ইরানের পক্ষ থেকে একটি বার্তা এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনিও স্মারকলিপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে ইরানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হিমায়িত সম্পদ মুক্তির সম্ভাবনা এবং তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি, যা দেশটির দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। চুক্তিতে ইসরায়েল কোনো পক্ষ নয়। ফলে দেশটির পক্ষ থেকে সমালোচনাও প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলের সমালোচনার জবাবে বলেন, “ট্রাম্পই বিশ্বে তোমাদের একমাত্র মিত্র যিনি বাকি আছেন।” তার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অস্বস্তি রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি ও ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তারা একমত। তবে একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারেরও কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ইসরায়েল। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষও যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও চলমান। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, মূল চুক্তিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্র অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগের অন্যতম প্রধান বিষয় হওয়া সত্ত্বেও এসব প্রশ্ন অমীমাংসিত থাকায় তেল আবিবের অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চুক্তিটি বিভাজন তৈরি করেছে। সমালোচকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেছেন, যারা এই চুক্তির বিরোধিতা করছে তারা “দুষ্কৃতিকারী, মূর্খ বা ঈর্ষাকাতর।” তার এই বক্তব্য রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেও মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়। যুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল, অধিকাংশ আমেরিকান ইরানে মার্কিন হামলার পক্ষে ছিল না। একই সঙ্গে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক রেটিংও চাপে পড়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের অবসান ও বাজারে স্থিতিশীলতা জনমনে স্বস্তি আনলেও ইরানকে দেওয়া বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিতর্ক থামেনি। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সমঝোতা এখনো মূল বিরোধগুলোর সমাধান করেনি। বিশেষজ্ঞ এলিসা ইওয়ার্সের মতে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। কারণ টোল আদায় না করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সার্ভিস ফি বা অন্যান্য আর্থিক ব্যবস্থার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই চুক্তিতে উভয় পক্ষই তাৎক্ষণিক কিছু অর্জন দেখাতে পারছে। ট্রাম্প যুদ্ধের অবসান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কৃতিত্ব দাবি করতে পারছেন, আর ইরান পাচ্ছে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল হওয়ার প্রতিশ্রুতি। তবে পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ এখনো অমীমাংসিত। ফলে আগামী ৬০ দিনের আলোচনা এই সমঝোতার চূড়ান্ত সফলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির রূপরেখা সামনে আসার আগেই ইসরায়েলে তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ ও বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় হিব্রু দৈনিক ‘ইয়েদিওত আহরোনত’-এর রোববার সংখ্যার প্রধান শিরোনামে এই সম্ভাব্য চুক্তিকে দুই শব্দে আখ্যা দেওয়া হয়েছে—“বাজে চুক্তি”, যা ইসরায়েলের বর্তমান জনমত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের কাঠামোতে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা, মার্কিন অবরোধ শিথিল এবং ইরানি বন্দরের ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর কথাও আলোচনায় রয়েছে। এই সময়ে দুই দেশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনায় বসবে বলে জানা গেছে। তবে এসব আলোচনায় ইসরায়েলের প্রত্যাশিত মূল নিরাপত্তা ইস্যুগুলো অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় দেশটির নীতিনির্ধারক মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের বিষয়টি আলোচনার প্রাথমিক কাঠামোতে না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। ইসরায়েলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাকব নাগেল এক ভিডিও ব্রিফিংয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত যাই ঘটুক, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে নিজের কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করবেন। তিনি আরও বলেন, চুক্তির যেসব সম্ভাব্য বিষয় সামনে এসেছে, সেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক সক্ষমতা বা আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গ স্পষ্টভাবে নেই। অন্যদিকে ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডোর লিবারম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এটিকে দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি ইসরায়েলের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির ইতিহাসে একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমান সরকারে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য করছেন না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে না গিয়ে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে ইসরায়েলি প্রশাসন। চুক্তির সম্ভাব্য কাঠামো অনুযায়ী ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক মিত্রবাহিনীর প্রতি সমর্থন বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তগুলো এখনো স্পষ্ট নয়। এই অনিশ্চয়তা ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে পর্যাপ্ত কাঠামো নেই বলে ইসরায়েল মনে করছে। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে চলমান আলোচনায় সেই অবস্থান কতটা প্রতিফলিত হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও এই বিতর্ককে আরও জোরদার করেছে। ক্ষমতাসীন জোটের ভেতর থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির পর্যন্ত, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তে ইসরায়েলের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে বলে সমালোচনা উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তি রোববার স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তিতে সই করবেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আশাবাদের পর একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান বলছে, রোববার নয়, চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে। শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত, সহজ এবং নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি লিখেছেন, “আগামীকাল (আজ) চুক্তিটি সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি সই হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।” এর আগে শনিবার বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, “আমরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন শান্তিচুক্তির আরও কাছাকাছি অবস্থানে আছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হতে পারে। এরপরই শান্তিচুক্তি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সই হবে। পাকিস্তান এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পরের সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা হবে।” তবে চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, স্বাক্ষরের সঠিক সময় সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তি আগামীকাল নয়, বরং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বাক্ষর হতে পারে। এদিকে এমন এক সময় এই অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যখন শনিবার ভোরেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একাধিক ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের কর্মকর্তারা গত শুক্রবার থেকে ধারাবাহিকভাবে চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আসছেন। যুদ্ধ শুরুর পর গত তিন মাসে এমন ইতিবাচক বার্তা আগে দেখা যায়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছে।” পরে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সতর্ক করে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো সমঝোতা হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। তিনি আরও জানান, চুক্তিটি দূরবর্তী বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হবে। আরাগচির এই বক্তব্যের আগে পশ্চিমা এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও পরোক্ষভাবে সেই সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। চুক্তিতে ইরান বেশি সুবিধা পাচ্ছে বলে যে আলোচনা চলছে, তার জবাবে শুক্রবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ইরান যেসব শর্ত ফেক নিউজ বা ভুয়া খবর হিসেবে ফাঁস করেছে, তার সঙ্গে লিখিতভাবে যেসব শর্তে সম্মতি হয়েছে, তার কোনো সম্পর্ক নেই।” যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা চুক্তির ধারাগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হতে পারে। এ ছাড়া ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, তেহরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং দেশটির জব্দ অর্থের একটি অংশ ছাড় দেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিক এই চুক্তিতে পারমাণবিক কর্মসূচি সরাসরি অন্তর্ভুক্ত থাকছে না। এ বিষয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আলাদা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে এখনো পার্থক্য রয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা অন্যত্র স্থানান্তরে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করা হবে না এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রেও পাঠানো হবে না। বরং দেশের ভেতরেই সংরক্ষণ করে এর সমৃদ্ধতার মাত্রা কমিয়ে আনা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। সংঘাত শুরুর ৪০ দিন পর, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। পরে নতুন করে দ্বিতীয় দফা আলোচনার চেষ্টা চলতে থাকে। বর্তমানে যে সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে, তা দুই দেশের কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতিতে নয়; বরং ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হবে বলে জানা গেছে। সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা আগামী ৪ জুলাই শুরু হবে এবং ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে তাঁকে দাফন করা হবে। এদিকে সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনার মধ্যেই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আরও কঠোর নিরাপত্তার আওতায় নিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য কোনো মার্কিন অভিযানের মাধ্যমে ইউরেনিয়াম জব্দ ঠেকাতে কিছু ভূগর্ভস্থ টানেল ধ্বংস করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রবেশপথে বিস্ফোরক মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যার সক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পর্যায়ে বলে ধারণা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।