বিশ্ব

‘ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না’, হামলার পরেই ট্রাম্পের হুমকি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ২৩:৪৮
ইরানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের। ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এ হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

 

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানে ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকা ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।

 

হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে প্রয়োজনে সামরিকভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

 

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র এখনো নিশ্চিত করেনি।

 

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার কিকু ড্রোন হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে ২০ লাখের বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। হামলায় কোনো নাবিক আহত না হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমার আশা তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় সেই প্রচেষ্টা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

সূত্র: আল জাজিরা, সেন্টকম, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
বিস্ফোরিত রুশ জাহাজের ১০ লাখ ব্যারেল তেল ছড়িয়ে পরেছে ৮০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকায়
বিস্ফোরিত রুশ জাহাজের ১০ লাখ ব্যারেল তেল ছড়িয়ে পরেছে ৮০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকায়

ওমান উপকূলে আটকে থাকা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া অপরিশোধিত তেল ভয়াবহ পরিবেশগত সংকট তৈরি করেছে। রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে যুক্ত ক্যারোলিন বেজেঙ্গি নামের ট্যাংকারটিতে প্রায় ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল ছিল। জুনে বিস্ফোরণের পর জাহাজটি ওমান উপকূলে আটকে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। স্যাটেলাইট চিত্রে এক পর্যায়ে ৮০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকায় তেলের স্তর ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়।   পরিস্থিতি এরপর আরও গুরুতর হয়েছে। সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে তেল শুধু দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের সাগরেই সীমাবদ্ধ নেই, ওমানের মূল ভূখণ্ডের সৈকতেও পৌঁছে গেছে। দেশটির পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাবিলিয়াহ দ্বীপের উত্তরে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের রাস মাদরাকাহ এলাকার সৈকতেও তেলদূষণ শনাক্ত হয়েছে।   আরও উত্তরে অবস্থিত মাসিরাহ দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে দ্বীপটির দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারের বেশি। মৌসুমি প্রবল বাতাস ও সাগরের স্রোতের কারণে তেল দ্রুত উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ছে।   ২৪৭ মিটার দীর্ঘ ক্যারোলিন বেজেঙ্গি মে মাসে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্ক থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করে। জুনে ইয়েমেনের কাছাকাছি অবস্থানের সময় জাহাজটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ৩০ জুন এটি ওমানের কাবিলিয়াহ দ্বীপের কাছে আটকে যায়।   বিস্ফোরণের কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং কোনো পক্ষও ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। ফলে জাহাজটির ক্ষতি দুর্ঘটনা, নাশকতা নাকি চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত—তা এখনো নিশ্চিত নয়।   জাহাজটি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক পক্ষের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত পুরোনো ও মালিকানা কাঠামো অস্বচ্ছ এমন জাহাজগুলোর বহরকে সাধারণভাবে রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বলা হয়।   তেল ছড়িয়ে পড়ার পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন হিসাব পাওয়া গেছে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস ও প্যাক্সের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে প্রায় ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী বিশ্লেষণে দূষণের প্রভাব আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সামনে এসেছে।   ফলে ৮০০ বর্গকিলোমিটারের হিসাবটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ, বর্তমান সর্বোচ্চ বিস্তার নয়।   সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে। ট্যাংকারটি যে এলাকায় আটকে রয়েছে, তার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল রয়েছে। সেখানে বিপন্ন অ্যারাবিয়ান সি হাম্পব্যাক তিমি, সামুদ্রিক পাখি এবং অন্যান্য বিরল প্রাণীর আবাস।   বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অপরিশোধিত তেল অগভীর পানি ও সৈকতে পৌঁছালে দীর্ঘমেয়াদে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি অনেক বেড়ে যেতে পারে। তেলের স্তর মাছ, সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি এবং উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।   পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে ওমানের খারিফ মৌসুম। এ সময় শক্তিশালী বাতাস ও সাগরের স্রোত তেল দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে। একই কারণে জাহাজে পৌঁছানো, তেল আটকে রাখা এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।   ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে এখন ক্যারোলিন বেজেঙ্গি উদ্ধারের কাজে যুক্ত হয়েছে। ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজটিকে স্থিতিশীল করা এবং এর ভেতরে থাকা অবশিষ্ট তেল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আন্তর্জাতিক তেলদূষণ মোকাবিলা বিশেষজ্ঞদেরও কাজে যুক্ত করা হয়েছে।   সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এখনো জাহাজটির ভেতরে থাকা তেল। প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল বহনক্ষমতার তেলবোঝাই ট্যাংকারটির সব তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়েনি। জাহাজটি আরও ভেঙে গেলে কয়েক কোটি গ্যালন অপরিশোধিত তেল নতুন করে সাগরে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।   অনেকেই বলছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি কাজ হচ্ছে ট্যাংকারটিকে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করা এবং অবশিষ্ট তেল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া। কারণ তেল ইতোমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল থেকে বহু দূরে ওমানের মূল ভূখণ্ডের সৈকতে পৌঁছে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় সামুদ্রিক তেলদূষণ বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৪:৫৮
ফিলিপাইনে বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন এফবিআইয়ের তালিকাভুক্ত মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী

ফিলিপাইনে বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন এফবিআইয়ের তালিকাভুক্ত মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী

স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ ডেকে ‘গ্রেফতার’ করালেন মা

স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ ডেকে ‘গ্রেফতার’ করালেন মা

সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি

সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি, সেই বেজি নিধনেই লেগেছে ৪৫ বছর

ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ব্রিটিশ ইহুদি নারী খলিলা লিস্টার
ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ব্রিটিশ ইহুদি নারী খলিলা লিস্টার

লন্ডনের একটি ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা ব্রিটিশ নারী খলিলা লিস্টার জীবনের এক পর্যায়ে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে ধর্মটি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও ব্যক্তিগত উপলব্ধির পর ১৯ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি একজন পাবলিক স্পিকার, যোগাযোগ প্রশিক্ষক এবং পাওয়ার অব ভয়েস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা।   নিজের ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে কথা বলেছেন খলিলা। তার বক্তব্য ও একাধিক সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, মুসলিম হওয়ার আগে তিনি বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রেডিও উপস্থাপনা, অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং হিপহপ ঘরানার বিভিন্ন আয়োজনে কাজ করতেন তিনি। বিভিন্ন তারকার সাক্ষাৎকার নেওয়ার পাশাপাশি বড় মঞ্চেও কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল তার।   পেশাগতভাবে এগিয়ে গেলেও জীবনের অর্থ ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে তার মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সেই সময় তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু ইসলাম গ্রহণ করেন। বন্ধুর জীবনে পরিবর্তন দেখেই ইসলাম সম্পর্কে তার আগ্রহ আরও বাড়ে।   এক সাক্ষাৎকারে খলিলা জানিয়েছেন, শুরুতে ইসলামকে নিজের জীবনধারার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়নি তার। মুসলিম নারীদের পোশাক ও জীবনযাপন থেকে শুরু করে ধর্মটির বিভিন্ন বিষয় তার কাছে অপরিচিত ছিল। তবে ইসলাম গ্রহণের পর নিজের বন্ধুর আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং জীবনবোধে পরিবর্তন তাকে ধর্মটি সম্পর্কে আরও জানতে উৎসাহিত করে।   খলিলার ভাষ্য অনুযায়ী, তার বন্ধু প্রায় এক বছর ধরে তার সঙ্গে ইসলাম, হাদিস ও ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেও ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা ও চিন্তাভাবনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে এক স্রষ্টার উপাসনা এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের প্রতি আস্থা তৈরি হয় তার।   শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন খলিলা। নিজের পুরোনো জীবনধারার সঙ্গে নতুন ধর্মীয় বিশ্বাসের সমন্বয় করতে না পেরে সে সময় বিনোদন জগতের ক্যারিয়ার থেকেও সরে আসেন তিনি।   খলিলা নিজেই ২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ১৯ বছর বয়সে মুসলিম হওয়ার পর তার জীবনের অনেক কিছু বদলে যায়। যে মূল্যবোধের সঙ্গে তিনি আগে যুক্ত ছিলেন, ইসলাম গ্রহণের পর সেগুলোর অনেক কিছুর সঙ্গে আর নিজেকে মেলাতে পারছিলেন না। ফলে সে সময়ের পেশাগত জীবন ছেড়ে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেন।   তার পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গেও ধর্মীয় এই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। খলিলা জানিয়েছেন, তার বাবা ছিলেন ইহুদি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাবার মৃত্যুর পর তিনি দাবি করেন, মৃত্যুর প্রায় ৩০ মিনিট আগে তার বাবা শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।   ইসলাম গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আবারও পেশাগতভাবে সক্রিয় হন খলিলা। বর্তমানে তিনি পাওয়ার অব ভয়েস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিশেষ করে মুসলিম নারী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের পাবলিক স্পিকিং এবং যোগাযোগ দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।   তিনি ইসলাম চ্যানেলে উপস্থাপনার পাশাপাশি পাবলিক স্পিকিং কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চ ও অনুষ্ঠানে নিজের ধর্মীয় যাত্রা, মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্ব এবং যোগাযোগ দক্ষতা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।   ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা থেকে ইসলাম গ্রহণ পর্যন্ত নিজের যাত্রাকে খলিলা ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আত্মঅনুসন্ধানের ফল হিসেবেই তুলে ধরেছেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুর জীবনে ইসলামের প্রভাব প্রত্যক্ষ করা তাকে ধর্মটি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী করেছিল। সেই কৌতূহল থেকেই শুরু হওয়া অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সে তার ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ২:৫
আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় যাওয়া শামীমা কি ফিরে পাবেন  নাগরিকত্ব!

আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় যাওয়া শামীমা কি ফিরে পাবেন নাগরিকত্ব!

২৩ বছর পর ইরাক থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

২৩ বছর পর ইরাক থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

‘গোল্ডেন ভিসা’র চাহিদা বাড়ায় এই দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন ধনী আমেরিকানরা

‘গোল্ডেন ভিসা’র চাহিদা বাড়ায় এই দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন ধনী আমেরিকানরা

নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে আফগানিস্তানে খুঁজতে গিয়ে মাথায় গুলি
নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে আফগানিস্তানে খুঁজতে গিয়ে মাথায় গুলি! থেমে গেল স্বাভাবিক জীবন

আফগানিস্তানে নিখোঁজ এক মার্কিন সেনাকে খুঁজতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন জর্জিয়া আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের মাস্টার সার্জেন্ট মার্ক অ্যালেন। সেই গুলিতে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের পর হাঁটা ও কথা বলার ক্ষমতা হারান তিনি। প্রায় এক দশক সেই আঘাতের জটিলতা নিয়ে বেঁচে থাকার পর ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর ৪৬ বছর বয়সে মারা যান অ্যালেন।   ঘটনাটি ২০০৯ সালের। আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে মার্কিন সেনা বো বার্গডাল তার পোস্ট ছেড়ে চলে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। তাকে উদ্ধারে বড় ধরনের অনুসন্ধান অভিযান শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সামরিক আদালতের নথি অনুযায়ী, সেই অনুসন্ধান অভিযানের অংশ হিসেবেই অ্যালেন ও তার দলকে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের এমন কিছু এলাকায় পাঠানো হয়েছিল, যেখানে দীর্ঘ সময় মার্কিন সেনারা টহল দেয়নি।   ২০০৯ সালের ৮ জুলাই বার্গডালকে খোঁজার অভিযানে থাকা অবস্থায় অ্যালেনের দল শত্রুপক্ষের হামলার মুখে পড়ে। গোলাগুলির একপর্যায়ে অ্যালেনের মাথায় গুলি লাগে। সামরিক আদালতে পরে দেওয়া সাক্ষ্যে ওই অভিযানে থাকা মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জন মার্ক্স জানান, হামলার সময় তিনি অ্যালেনের পাশেই ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর অ্যালেনকে মেডিক্যাল ইভাকুয়েশনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়।   মাথায় গুলির আঘাতে অ্যালেন গুরুতর ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। তার একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং দীর্ঘ সময় চিকিৎসা ও রিহ্যাবিলিটেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু আঘাতের প্রভাব ছিল স্থায়ী। তিনি আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে বা কথা বলতে পারেননি এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি কাজেই অন্যের সহায়তার প্রয়োজন হতো।   এই দীর্ঘ লড়াইয়ে অ্যালেনের পাশে ছিলেন তার স্ত্রী শ্যানন অ্যালেন ও পরিবারের সদস্যরা। ২০১৭ সালে বার্গডালের সামরিক বিচার প্রক্রিয়ায় শ্যানন তার স্বামীর দৈনন্দিন জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছিলেন। অ্যালেনকে বিছানা থেকে ওঠানো, গোসল করানো ও পোশাক পরানোর মতো সাধারণ কাজেও দীর্ঘ সময় এবং বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হতো।   মার্ক অ্যালেন ১৯৯১ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরে ফ্লোরিডা আর্মি ন্যাশনাল গার্ড এবং এরপর জর্জিয়া আর্মি ন্যাশনাল গার্ডে দায়িত্ব পালন করেন। আফগানিস্তানের পাশাপাশি তিনি ইরাক এবং সিনাই উপদ্বীপেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সরকারি সামরিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২২ বছরের সামরিক ক্যারিয়ার শেষে আফগানিস্তানে পাওয়া আঘাতের কারণে ২০১৩ সালের মে মাসে তিনি অবসর নেন। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পার্পল হার্ট পান।   অ্যালেনকে যে অভিযানে পাঠানো হয়েছিল, সেই বো বার্গডাল পরে প্রায় পাঁচ বছর তালেবানের হাতে বন্দি ছিলেন। ২০১৪ সালে গুয়ানতানামো বে-তে আটক পাঁচ তালেবান সদস্যের বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে সামরিক আদালতে বার্গডাল নিজের পোস্ট ত্যাগ এবং সহযোদ্ধাদের বিপদের মুখে ফেলার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি, তবে পদাবনতি, বেতন কর্তন এবং ডিজঅনারেবল ডিসচার্জের সাজা দেওয়া হয়েছিল।   অ্যালেনের আহত হওয়ার সঙ্গে বার্গডালকে খোঁজার অভিযানের সরাসরি সম্পর্কও সামরিক আদালতের নথিতে উঠে আসে। আদালতে উপস্থাপিত সরকারি নথিতে বলা হয়, ২০০৯ সালের ৮ জুলাই অ্যালেন যে মিশনে অংশ নিয়েছিলেন, সেটির উদ্দেশ্যই ছিল বার্গডালকে খুঁজে বের করা। সেই অভিযানেই হামলার মুখে পড়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি।   আঘাত পাওয়ার এক দশকেরও বেশি সময় পর ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর মারা যান মার্ক অ্যালেন। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি নথিতেও উল্লেখ করা হয়েছে, আফগানিস্তানে পাওয়া গুরুতর যুদ্ধকালীন আঘাতের সঙ্গে দীর্ঘ ১০ বছর লড়াইয়ের পর তার মৃত্যু হয়।   অ্যালেনের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জানিয়েছিলেন, শেষ সময়ে পরিবারের সদস্যরা তার পাশেই ছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে একটি মুহূর্তের আঘাত কীভাবে একজন সেনা এবং তার পরিবারের পরবর্তী পুরো জীবন বদলে দিতে পারে, মার্ক অ্যালেনের গল্প তারই এক দীর্ঘস্থায়ী উদাহরণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ০:১৪
কয়েক সপ্তাহ ধরে ভুল রোগ নির্ণয়ের পর ১১ বছরের মেলির শরীরে ধরা পড়ে স্টেজ-৪ বারকিট লিম্ফোমা। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকেরা বলেছিলেন টনসিল, শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ল ১১ বছরের শিশুর স্টেজ-৪ ক্যানসার

২০১২ সালের আলোচিত হত্যাকাণ্ডটি আবারও আলোচনায় এসেছে আদালতের রায়কে ঘিরে। ছবি: সংগৃহীত

১৪ বছরের মেয়ের কক্ষে প্রেমিক: ক্ষুব্ধ বাবা ৭ তলা থেকে ফেলে হত্যা করলেন কিশোরকে

এআই দিয়ে কাজ করিয়ে কর্মী ছাঁটাই করা যাবে না, চীনা আদালতের যুগান্তকারী রায়

এআই দিয়ে কাজ করিয়ে কর্মী ছাঁটাই করা যাবে না, চীনা আদালতের যুগান্তকারী রায়

0 Comments