গাজা

বামদিকে: ইসরায়েলি কারাগারে যাওয়ার আগে ড. আবু সাফিয়া। ডানদিকে: ইসরায়েলি কারাগারে দেড় বছর কাটানোর পর । ছবি: সংগৃহীত
গাজা ইস্যুতে আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নীরবতার প্রতিবাদে চিকিৎসকদের বিক্ষোভ

শিকাগো: গাজায় স্বাস্থ্যখাতের সংকট এবং ফিলিস্তিনি শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হুসাম আবু সাফিয়ার আটক নিয়ে নীরব থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (এএমএ)-এর সমালোচনা করেছেন একদল অধিকারকর্মী। সংগঠনটির বার্ষিক সম্মেলনের বাইরে তারা বিক্ষোভ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে চিকিৎসকদের এ বিষয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।   এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক কর্মী দাবি করেন, শিকাগোতে অনুষ্ঠিত এএমএর সম্মেলনে তারা ডা. হুসাম আবু সাফিয়ার আটক এবং গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিস্থিতি সম্পর্কে চিকিৎসকদের অবহিত করতে লিফলেট বিতরণ করছিলেন। সে সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। এমনকি সংগঠনের এক কর্মীও তাদের প্রতি বিরূপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   নিবন্ধে বলা হয়েছে, শিশু ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ ডা. হুসাম আবু সাফিয়া ৫০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের হেফাজতে রয়েছেন। লেখকের দাবি, এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি এসব দাবির স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।   লেখক আরও অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর স্বাস্থ্যখাতের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এএমএ দ্রুত বিবৃতি দিয়েছিল এবং সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত, হাসপাতাল ধ্বংস এবং চিকিৎসাকর্মীদের পরিস্থিতি নিয়ে সংগঠনটি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।   নিবন্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত বলে দাবি করা ডা. আবু সাফিয়ার একটি ছবিরও উল্লেখ রয়েছে। লেখকের ভাষ্য, ছবিতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির চিহ্ন দেখা যায়। তবে ছবিটির সত্যতা কিংবা সেখানে নির্যাতনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   এ বিষয়ে আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন বা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়নি।

তাবাস্সুম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গাজায় পুনর্গঠন শুরু করতে ইসরায়েলকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণ না করলেও গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ইসরায়েলের কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন।   মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনার আলোকে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।   প্রস্তাবের বিষয়বস্তু থেকে ইঙ্গিত মিলছে, গাজায় নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র এখন ইসরায়েল সরকারের কাছ থেকে এই শান্তি উদ্যোগে লিখিত সম্মতি বা আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর চাইছে, যাতে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা যায়।   মার্কিন পরিকল্পনায় গাজার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য জরুরি নাগরিক সেবা পুনরায় চালু করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে এসব খাতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে, যা গাজার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।   তবে প্রস্তাবটি নিয়ে এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সরকার। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি এখনো আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় টানা সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক মহলে পুনর্গঠন নিয়ে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে মানবিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে দ্রুত অবকাঠামো পুনরুদ্ধার জরুরি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে অচলাবস্থা থাকলেও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আলাদাভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার সতর্ক করে বলেছে, অবকাঠামো পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তা ছাড়া এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।   এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান কূটনৈতিক সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
গাজায় চিকিৎসাসেবায় ভয়াবহ সংকট, বাইরে চিকিৎসার অনুমতি পেয়েছেন মাত্র ৩৬ শতাংশ রোগী

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির আওতায় প্রায় ২১ হাজার মানুষের চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত অনুমতি পেয়েছেন ৭ হাজার ৫০০ জনেরও কম, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৬ শতাংশ।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী গাজার বাইরে যাওয়ার কথা ছিল এমন ব্যক্তিদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিলেন জরুরি চিকিৎসাপ্রার্থী রোগী। প্রত্যেক রোগীর সঙ্গে দুইজন করে সহযাত্রীর অনুমতি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। ফলে হাজারো গুরুতর অসুস্থ রোগী এখনও গাজায় আটকা রয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সময়মতো চিকিৎসা না পেলে তাদের অনেকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   এমন পরিস্থিতির মধ্যেও সীমিত সক্ষমতা নিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছে নাসের হাসপাতাল। তবে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য চিকিৎসা উপকরণের তীব্র সংকটে হাসপাতালটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।   এদিকে খান ইউনিসে সামরিক অভিযানের সময় ইসরায়েলি হামলায় একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি নাসের হাসপাতালে দুই দফা অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।   স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাম্বুলেন্সগুলোর গায়ে গুলির অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে। অধিকাংশ যানবাহনের জানালা ও ভেতরের আসন আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া অতিরিক্ত ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।   গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ এবং রোগীদের বাইরে পাঠানোর সুযোগ দ্রুত বাড়ানো না হলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
গাজা-লেবাননসহ একাধিক ফ্রন্টে অভিযানে ইসরায়েলের ব্যয় ২০৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
গাজা-লেবাননসহ একাধিক ফ্রন্টে অভিযানে ইসরায়েলের ব্যয় ২০৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

গত প্রায় তিন বছরে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের মোট ব্যয় প্রায় ২০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে দেশটির একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম জমান ইসরায়েল—যা দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের হিব্রু সংস্করণ—এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি পরে আন্তর্জাতিক মাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডও উল্লেখ করেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতগুলোর ফলে ইসরায়েল সরকারের সরাসরি ব্যয়ই ১১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ব্যাংক অব ইসরায়েলের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এর মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, বেসামরিক বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার এবং ঋণের সুদ পরিশোধে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া সামরিক সহায়তার আর্থিক মূল্যও এই হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামসহ যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার।   তবে ব্যয় শুধু সরকারি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সংঘাতের কারণে অর্থনীতিতে বড় ধরনের উৎপাদন ক্ষতিও হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হয়েছে। আর ২০২৬ সালের সম্ভাব্য পরিস্থিতি যুক্ত করলে তা ৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।   সব মিলিয়ে সরকারি ব্যয়, বিদেশি সামরিক সহায়তা এবং উৎপাদন ক্ষতি একত্রে বিবেচনা করলে সংঘাতগুলোর মোট অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় ২০৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে এই বিশ্লেষণে ব্যক্তিগত ক্ষতি বা বেসরকারি খাতের সব ধরনের লোকসান পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে প্রকৃত অর্থনৈতিক চাপ আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্টরা। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় করের হার বৃদ্ধি পেয়েছে, জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে এবং এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক সংঘাতকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক সময় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই যুদ্ধগুলোর আর্থিক অভিঘাত আগামী বহু বছর ধরে দেশটির অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
প্রতীকী ছবি।
ভয়াবহ গবেষণা: দেশের ৮২ লাখ মাদকসেবীর মধ্যে ৬১ লাখই গাঁজাখোর

দেশে মাদক ব্যবহারের যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে আনুমানিক ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করছেন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক হলো গাঁজা এবং এককভাবে গাঁজাসেবীর সংখ্যা প্রায় ৬১ লাখ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের আট বিভাগে ১৩ জেলা ও ২৬ উপজেলায় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়।   গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় পর্যায়ে মাদক ব্যবহারের হার বিবেচনায় ময়মনসিংহ শীর্ষে রয়েছে, যেখানে ৬ দশমিক ০২ শতাংশ মানুষ মাদকাসক্ত। এর পরেই রয়েছে রংপুর (৬ শতাংশ) ও চট্টগ্রাম (৫ দশমিক ৫০ শতাংশ) বিভাগ। তবে সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবহারকারী রয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এই সংখ্যা প্রায় ২২ লাখ ৯০ হাজার। গাঁজার পাশাপাশি ইয়াবা, অ্যালকোহল, কফ সিরাপ ও হেরোইনের মতো মাদকের ব্যাপক উপস্থিতিও গবেষণায় নথিবদ্ধ করা হয়েছে।   এই গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক হারে মাদকাসক্ত হয়ে পড়া। তথ্যমতে, ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছেন। এছাড়া ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে মাদক গ্রহণের হার ৫৯ শতাংশ। বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, বেকারত্ব, পারিবারিক অস্থিরতা, হতাশা ও মানসিক চাপের পাশাপাশি মাদকের সহজলভ্যতা তরুণদের এই অন্ধকার পথে ঠেলে দিচ্ছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ৯০ শতাংশ মাদকসেবী স্বীকার করেছেন যে, তাদের কাছে মাদক সংগ্রহ করা অত্যন্ত সহজ।   চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে গবেষণায় বড় ধরনের ঘাটতির চিত্র ফুটে উঠেছে। তথ্যানুযায়ী, মাত্র ১৩ শতাংশ মাদকসেবী এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সুবিধা পেয়েছেন। অধিকাংশ মাদকসেবীই চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সেবার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, মাদক সমস্যা কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট।   এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও গবেষণাভিত্তিক সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, ঝুঁকি বিবেচনায় সরকার ইতোমধ্যে সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে এবং পরিবার ও সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
‘ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরান গাজার মতো ধ্বংস হতো’—পাকিস্তানে পেজেশকিয়ানের মন্তব্য

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা না থাকলে দেশটিকে গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হতো—এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিই ইরানকে সম্ভাব্য বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা করছে।   বুধবার (২৪ জুন) সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তান সফরকালে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গাজায় চলমান পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করেছে।   প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি না থাকলে শত্রুরা ইরানের শিশু কিংবা বৃদ্ধ—কাউকেই রেহাই দিত না।” তিনি আরও বলেন, আত্মরক্ষার প্রশ্নে ইরান কোনো ধরনের আপস করবে না এবং সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখা দেশের জন্য অপরিহার্য।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইসলামাবাদে পৌঁছান পেজেশকিয়ান। রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। এ সময় ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দামও উপস্থিত ছিলেন।   এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও ওমান থেকে এসে প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান।   বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেওয়া। গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতের উদাহরণ টেনে তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা নীতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।   ইরানের দৃষ্টিতে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এ কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও দেশটি বরাবরই বলে আসছে, এটি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।

নীলুফা নিশাত জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
লিডসে আয়োজিত চ্যারিটি ওয়াকে অংশ নেয় শিশু-কিশোররা । ছবি: সংগৃহীত
গাজার অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়াতে লিডস শহরের শিশুদের মানবিক উদ্যোগ

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করেছে যুক্তরাজ্যের নর্থ ইংল্যান্ডের লিডস শহরের একদল শিশু-কিশোর। ‘ফরগটেন উইমেন চ্যারিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত একটি প্রতীকী পদযাত্রায় (চ্যারিটি ওয়াক) অংশ নিয়ে তারা এই অর্থ সংগ্রহ করে।   গত শনিবার লিডসের মিনউড পার্কে অনুষ্ঠিত এই চ্যারিটি ওয়াকে কয়েক ডজন শিশু-কিশোর অংশ নেয়। গাজায় চলমান মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি জানাতে এবং তাদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।   পদযাত্রার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি পাকিস্তানি, আফ্রিকান এবং স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ কমিউনিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা শিশুদের উৎসাহিত করেন এবং মানবিক এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।   আয়োজক সংস্থা ‘ফরগটেন উইমেন চ্যারিটি’র এক মুখপাত্র জানান, ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার অঞ্চলের মধ্যে লিডসের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে। তাদের সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ সাত হাজার পাউন্ডেরও বেশি। এই অর্থ দ্রুত গাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় পাঠানো হবে।   পদযাত্রা শেষে অংশগ্রহণকারী শিশুদের সোনালি রঙের সম্মাননা মেডেল প্রদান করা হয়। মেডেল পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিশুরা। একই সঙ্গে সন্তানদের এমন মানবিক উদ্যোগে অংশ নিতে দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন অভিভাবকরাও।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশুরা শুধু তহবিল সংগ্রহই করেনি, বরং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের নিপীড়িত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও সংহতির মূল্যবোধও শিখেছে। তারা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, ছোট ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হতে পারে।   গাজায় চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে শিশুদের এই উদ্যোগ স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনা ভারতে নিশ্চিন্তে ছুটি কাটাচ্ছেন, গ্রেপ্তারের দাবি মানবাধিকার সংস্থার

গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনা আইতান গিলবোয়া বর্তমানে ভারতে ছুটি কাটাচ্ছেন। চাঞ্চল্যকর এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছে ব্রাসেলস-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন’ (HRF)। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন ব্যুরো এবং পুলিশের কাছে একটি জরুরি আইনি অভিযোগ দায়ের করেছে।   অভিযোগে বলা হয়েছে, গিলবোয়া ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ২৭১তম কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নের একজন রিজার্ভ সেনা হিসেবে গাজার আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন, যা জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ।   হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশনের জমা দেওয়া বিস্তারিত প্রমাণাদিতে দেখা গেছে, গিলবোয়া গাজার খান ইউনিস ও রাফাহ অঞ্চলে বেসামরিক ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই ধ্বংসযজ্ঞ উদযাপনের ভিডিও নিজেই ধারণ করেছেন। পরবর্তীকালে তার পরিবারের সদস্যরা সেই ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।   মানবাধিকার সংস্থাটির দাবি, একজন সাধারণ পর্যটকের আড়ালে গিলবোয়া মূলত তার অপরাধের ভয়াবহ পরিণতি থেকে বাঁচতেই ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে ভারতের হিমাচল প্রদেশের মানালি ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছেন।   ভারত ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। তাই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এ ধরনের গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার আইনি বাধ্যবাধকতা ভারতের রয়েছে বলে মনে করিয়ে দিয়েছে হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির জেনারেল ডিরেক্টর দিয়াব আবু জাহজাহ এক বিবৃতিতে জানান, ভারতকে অবিলম্বে আইতান গিলবোয়াকে গ্রেপ্তার করতে হবে।   বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও ধ্বংস উদযাপনকারী কোনো অপরাধীর জন্য ভারতের মাটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এই গুরুতর আইনি অভিযোগের বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
কড়াকড়ি শিথিল, গাঁজা সেবনে বৈধতা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল মাদক নীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। মার্কিন বিচার বিভাগ গাঁজাকে কম বিপজ্জনক মাদকের তালিকায় পুনর্নির্ধারণ করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে গাঁজা 'শিডিউল-১' ভুক্ত মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল, যা হেরোইন বা এলএসডি-র মতো উচ্চ বিপজ্জনক মাদকের সমপর্যায়ভুক্ত। তবে নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এটিকে 'শিডিউল-৩' ভুক্ত মাদকের তালিকায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এই তালিকায় সাধারণত সেইসব ড্রাগ বা ওষুধ থাকে যা চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং আসক্তির ঝুঁকি তুলনামূলক কম, যেমন— কেটামিন বা কোডিন মিশ্রিত টাইলেনল। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে গাঁজা নিয়ে গবেষণার পথ আরও প্রশস্ত হবে এবং যেসব অঙ্গরাজ্যে গাঁজা বৈধ, সেখানকার ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের কর সুবিধা পাবেন। যদিও এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে গাঁজা পুরোপুরি বৈধ হয়ে যাচ্ছে, তবে এটি ফেডারেল পর্যায়ে গাঁজার প্রতি দীর্ঘদিনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের একটি বড় সংকেত। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে গাঁজা শিল্পের প্রভাব আরও বাড়বে এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার সহজতর হবে। বর্তমানে এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য হোয়াইট হাউসের বাজেট দপ্তরের পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
ওনস জাবেউর
গাজা ইস্যু ও টেনিস কোর্টে লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে সোচ্চার তিউনিসিয়ান তারকা জাবেউর

বিশ্ব টেনিস র‍্যাঙ্কিংয়ের সাবেক দুই নম্বর তারকা ও তিউনিসিয়ান গর্ব ওনস জাবেউর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এবার শুধু র‍্যাকেট হাতে নয়, বরং মানবতার পক্ষে তার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং ব্যক্তিগত জীবনের নতুন এক অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনের গাজা পরিস্থিতি, টেনিসে লিঙ্গবৈষম্য এবং প্রথম সন্তান জন্মের পর কোর্টে ফেরার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এই ‘মিনিস্টার অফ হ্যাপিনেস’। গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাবেউর বলেন, "একজন অ্যাথলেট হিসেবে কথা বলাটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যখন শিশুদের ক্ষুধার্ত থাকতে দেখি বা নিরপরাধ মানুষদের প্রাণ হারাতে দেখি, তখন টেনিস কোর্টের জয়-পরাজয় গৌণ হয়ে যায়।" গাজা ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার হলেও, ন্যায়ের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। পাশাপাশি টেনিস বিশ্বে নারীদের সমান অধিকার এবং লিঙ্গবৈষম্য নিয়েও মুখ খুলেছেন এই তিনবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালিস্ট। টেনিসের বড় আসরগুলোতে নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রচারের ক্ষেত্রে যে ব্যবধান রয়েছে, তা দূর করার আহ্বান জানান তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে জাবেউর এখন এক নতুন রোমাঞ্চের অপেক্ষায়। তিনি প্রথমবারের মতো মা হতে চলেছেন। তবে মা হওয়া মানেই যে ক্যারিয়ারের ইতি, তা মানতে নারাজ এই তিউনিসিয়ান। কিম ক্লিইস্টার্সের মতো কিংবদন্তিদের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, মা হওয়ার পর আরও শক্তিশালী হয়ে টেনিস কোর্টে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। জাবেউর বলেন, "আমি নিজেকে সময় দিতে চাই, দেখতে চাই আমার শরীর কীভাবে সাড়া দেয়। তবে আমি নিশ্চিতভাবেই আবারও টেনিস র‍্যাকেট হাতে ফিরব এবং আগামী কয়েক বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।" তার এই ঘোষণা ভক্তদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। মাঠ ও মাঠের বাইরে সমানভাবে প্রভাবশালী এই অ্যাথলেট আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং এক বৈশ্বিক পরিবর্তনের দূত।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবে যুক্তরাজ্যে ৭৫ এমপির সমর্থন

গাজা, দখলকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে ৭৫ জন সংসদ সদস্য (এমপি) স্বাক্ষর করেছেন।   প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন লেবার পার্টির এমপি রিচার্ড বার্গন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সহকর্মীদের এই উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।   স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) মুখপাত্র ব্রেন্ডন ও’হারা, লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন এবং যুক্তরাজ্যের একমাত্র ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এমপি লায়লা মোরান।   প্রস্তাবে গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান চাপ ও বিভাজনের প্রতিফলন। যদিও প্রস্তাবটি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে সরকারের অবস্থান ও পার্লামেন্টে সমর্থনের ওপর।   সূত্র: আল জাজিরা

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ইনাম আল-দাহদুহ
অন্তহীন প্রতীক্ষা: ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি তিন সন্তানকে নিয়ে গাজাবাসী এক মায়ের আর্তনাদ

গাজার এক অস্থায়ী তাবু। ভেতরে বসে আছেন ৬২ বছর বয়সী বৃদ্ধা ইনাম আল-দাহদুহ। কোলে তার ছয় নাতি-নাতনি। হাতে একটি ছবি—যাতে রয়েছে তার আদরের তিন ছেলের মুখ। আজ ১৭ এপ্রিল, ফিলিস্তিনি বন্দি দিবস। কিন্তু ইনামের জন্য এই দিনটি উৎসবের নয়, বরং সীমাহীন যন্ত্রণার। গত দুই বছর ধরে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি তার তিন সন্তান মাহমুদ, আলা এবং দিয়া। তারা বেঁচে আছেন কি না, কেমন আছেন—তার কোনো সঠিক উত্তর নেই এই মায়ের কাছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে নিজ বাড়ি থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায় ইসরায়েলি বাহিনী। সেই অভিযানে নিহত হন ইনামের স্বামী নাঈমও। এরপর থেকে যাযাবর জীবন আর সন্তানদের ফেরার প্রতীক্ষায় দিন কাটছে এই বৃদ্ধার। তবে ইনামের উদ্বেগ এখন বহুগুণ বেড়ে গেছে। সম্প্রতি ইসরায়েলি পার্লামেন্টে বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রেখে একটি নতুন আইন পাস হয়েছে। ইনাম বলেন, "ক্ষুধা, কষ্ট বা নির্যাতন—সবই হয়তো ওরা সহ্য করে নেবে। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড? একজন মা হিসেবে এই আতঙ্ক নিয়ে আমি কীভাবে শান্তিতে থাকি?" বন্দি অধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৯,৬০০ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি রয়েছেন, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৮৩ শতাংশ বেশি। এদের মধ্যে ৩৫০ জন শিশুও রয়েছে। কারাগারের ভেতর অমানবিক পরিবেশ এবং বন্দিদের মৃত্যুর খবরে ইনামের মতো হাজারো ফিলিস্তিনি মা আজ দিশেহারা। ইনম তার বড় ছেলে মাহমুদের সন্তানদের পবিত্র কোরআন শেখাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তার ছেলেরা নির্দোষ এবং একদিন তারা ফিরে আসবে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তার আকুতি, "একজন বন্দিরও বেঁচে থাকার এবং সম্মানের অধিকার আছে। এই নিষ্ঠুরতা বন্ধ করতে বিশ্বকে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে।"

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
গাজা বা ইউক্রেনের মতো কেন ইরানে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না পশ্চিমা বিশ্বের রাজপথে?

ইসরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা যখন চরম শিখরে, তখন একটি প্রশ্ন বিশ্বজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে—গাজা বা ইউক্রেন যুদ্ধের সময় পশ্চিমা বিশ্বের রাজপথ যেভাবে প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রে কেন তা অনুপস্থিত? আল জাজিরার এক বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই 'নীরবতার' নেপথ্য কারণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে গাজা এবং ইউক্রেন ইস্যুতে ক্রমাগত আন্দোলন করতে করতে পশ্চিমা অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে এক ধরনের 'ক্লান্তি' (Protest Fatigue) চলে এসেছে। এছাড়া, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে পশ্চিমা সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা নেতিবাচক ধারণা বা ভীতি অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর চলমান সামরিক চাপ এবং অবরোধের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়লেও, পশ্চিমা জনমতে ইরানের প্রতি সহমর্মিতার অভাব স্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে পশ্চিমা সরকারগুলোর কঠোর অবস্থান এবং গণমাধ্যমের একপাক্ষিক প্রচারণা সাধারণ মানুষকে দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলেছে। ফলে গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে যে বিশাল গণজোয়ার দেখা গিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামামা বাজলেও রাজপথে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এই নীরবতাকে 'হতাশা' এবং 'ভয়ের' সংমিশ্রণ হিসেবে দেখছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, একদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে আতঙ্ক, অন্যদিকে নিজ দেশের রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে ইরানের পক্ষে দাঁড়ানোর ঝুঁকি—সব মিলিয়ে স্তিমিত হয়ে পড়েছে পশ্চিমা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি
ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক অভিযান ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ও ইতালি একে অপরের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি গবেষণার তথ্য আদান-প্রদান করত। প্রধানমন্ত্রী মেলোনির এই ঘোষণার ফলে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতায় বড় ধরনের ছেদ পড়ল। ইতালির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনসার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি বলেছেন, "বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিরক্ষা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজায় মানবিক বিপর্যয় এবং সম্প্রতি ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর আগে স্পেনও ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। ইতালির এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
আর্থিক সংকটে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড, থমকে যেতে পারে গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনা

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তি ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত বিশেষ 'শান্তি বোর্ড' (Peace Board) তীব্র অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। এই সংকটের কারণে গাজা উপত্যকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসন হাতে নিয়েছিল, তা কার্যত থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। রয়টার্সের শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প গাজা নিয়ে যে বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন, তার মূল চালিকাশক্তি ছিল এই শান্তি বোর্ড। তবে দাতাগোষ্ঠী এবং মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আশানুরূপ অর্থ সহায়তা না পাওয়ায় বর্তমানে বোর্ডটি তহবিল সংকটে ভুগছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এবং অন্যান্য বৈশ্বিক অংশীদারদের কাছ থেকে যে পরিমাণ অর্থের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বড় একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। মূলত গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কী—এমন রাজনৈতিক জটিলতার কারণে অনেক দেশই বড় অংকের বিনিয়োগ করতে দ্বিধাবোধ করছে। ট্রাম্পের এই 'গাজা পরিকল্পনা'র অন্যতম লক্ষ্য ছিল দ্রুত সময়ের মধ্যে গাজা উপত্যকায় আধুনিক আবাসন, ব্যবসায়িক কেন্দ্র এবং অবকাঠামো নির্মাণ করা। এর মাধ্যমে অঞ্চলটিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তহবিলের অভাবে বর্তমানে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং প্রাথমিক কারিগরি কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত সমাধান চাইলেও আর্থিক বাস্তবতা এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্তি বোর্ড যদি শিগগিরই বড় কোনো বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে না পারে, তবে গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, যা ওই অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এপ্রিলের এই সময়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনার মাঝে গাজার এই পুনর্গঠন প্রকল্প ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে অর্থ ছাড় না হলে এই পরিকল্পনা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশাধিকার বন্ধ, ফিলিস্তিনজুড়ে বাড়ছে প্রাণঘাতী সহিংসতা

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনে গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। একদিকে পবিত্র স্থানগুলোতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী সহিংসতা। আল জাজিরার সাপ্তাহিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে ফিলিস্তিনের বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলো এখনো কার্যত অবরুদ্ধ। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ফিলিস্তিনিরা সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না। বিশেষ করে জুমার নামাজে অংশ নিতে আসা মুসল্লিদের ওপর কড়াকড়ি ও তল্লাশির নামে হয়রানি চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে পবিত্র নগরীজুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত এক সপ্তাহে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জেনিন, নাবলুস এবং তুলকারেম এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলা ও স্থল অভিযানে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিদের হামলায় ফিলিস্তিনি কৃষকরা তাদের কৃষি জমি থেকে উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন। সহিংসতার পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করলেও ত্রাণ সরবরাহে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সাপ্তাহিক এই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার পথে, যেখানে হাজার হাজার আহত মানুষ নূন্যতম চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন। ফিলিস্তিনে চলমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পবিত্র স্থানগুলোতে ইবাদতের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এবং অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না, বরং দিন দিন তা আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, পবিত্র স্থানগুলো বন্ধ রাখা এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘ ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার বিদায়ী প্রধান ফিলিপ লাজারিনি
গাজায় ৩৯০ জনেরও বেশি কর্মী নিহত, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জাতিসংঘের

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৩৯০ জনেরও বেশি সহকর্মী নিহতের ঘটনায় একটি স্বাধীন ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘ ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (UNRWA) বিদায়ী প্রধান ফিলিপ লাজারিনি।  জেনেভায় নিজের শেষ কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই দাবি জানান। লাজারিনি বলেন, গাজায় চলমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমাদের কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।  অবরুদ্ধ গাজায় জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ ও সেবা কার্যক্রমের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে ইউএনআরডব্লিউএ, যা কার্যত সেখানকার অধিকাংশ মানুষের জন্য একমাত্র রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিকল্প।  এই সংস্থাটির কর্মীদের ওপর এ ধরণের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশু ও পুলিশসহ নিহত ৭

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফের বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। রোববার ভোরে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় দুটি পুলিশ চেকপোস্ট লক্ষ্য করে চালানো এই বিমান হামলায় এক শিশু ও তিনজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলাকে গত পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো খান ইউনিসের দুটি পুলিশ তল্লাশি চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন পুলিশ কর্মকর্তা এবং এক শিশুসহ তিন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। হামলায় আরও অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি (এএ) জানায়, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আল-মাওয়াসি অঞ্চলের 'বীর ১৯' এলাকায় একদল বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। পরবর্তীতে খান ইউনিসের বানি সুহেইলা চত্বরের কাছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে আরও এক ফিলিস্তিনি নিহত হন। সব মিলিয়ে রোববারের এই সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করে আসছে। ১৮ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীনও ইসরায়েলি হামলায় ৬৯১ জন নিহত এবং ১৮৭৬ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ। ধ্বংস হয়ে গেছে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো। বর্তমানে লেবাননে স্থল অভিযান এবং ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই গাজায় এই নৃশংসতা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
ইরান ইস্যুর আড়ালে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন, খান ইউনিসে শিশুসহ নিহত ৬

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে দুটি পুলিশ চেকপোস্ট লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক বিমান হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, নিহতদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য এবং তিনজন সাধারণ নাগরিক। মর্মান্তিক এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে এক শিশুও। হামলায় আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে এই বিমান হামলা নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তথাকথিত ' ceasefire' বা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েল সম্মত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৯২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১,৮৯৫ জনেরও বেশি মানুষ।  আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি যখন ইরান পরিস্থিতির দিকে, তখন গাজার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
ইজরায়েলি সেনার পৈশাচিক বর্বরতা: সিগারেটের ছ্যাঁকা ও পায়ে পেরেকবিদ্ধ ১৮ মাসের শিশু করিমের আর্তনাদে কাঁপছে বিশ্ব

গাজায় চলমান গণহত্যার নৃশংসতা যেন সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এবার এক ১৮ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুর ওপর ইজরায়েলি বাহিনীর মধ্যযুগীয় বর্বরতার লোমহর্ষক চিত্র সামনে এসেছে। বাবার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নিষ্পাপ শিশু করিমকে। তার কোমল শরীরে অসংখ্য সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া ছাড়াও পায়ে গেঁথে দেওয়া হয়েছে লোহার পেরেক।  প্যালেস্টাইন টিভির সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই পৈশাচিক ঘটনাটি উঠে এসেছে। ঘটনাটি ঘটে আল মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে। শিশুটির বাবা ওসামা আবু নাসর নিজের জীবিকা ও ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করার সময় হঠাৎ ইজরায়েলি সেনা ও হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে গোলাগুলির কবলে পড়েন। ইজরায়েলি সেনারা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে এবং সঙ্গে থাকা ১৮ মাসের শিশু করিমসহ সেনা শিবিরে নিয়ে যায়। সেখানে ওসামাকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে জেরা ও অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়। কিন্তু পাশবিকতার চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে যখন ওসামার চোখের সামনেই তার ছোট্ট শিশুটির ওপর শুরু হয় বর্বরতা। টানা ১০ ঘণ্টা ধরে চলে এই পৈশাচিক উল্লাস। শিশুটির আর্তচিৎকার ইজরায়েলি সেনাদের মনে বিন্দুমাত্র দয়া উদ্রেক করেনি, বরং তারা হিংস্র উল্লাসে মেতে ওঠে। নির্যাতনের পর শিশুটিকে রেডক্রস সোসাইটির মাধ্যমে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হলেও ওসামা আবু নাসর এখনও ইজরায়েলি হেফাজতেই বন্দি আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করিমের শরীরে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন রয়েছে এবং মানসিক ট্রমার কারণে সে ঘুমের ঘোরেও যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠছে। বিশ্বজুড়ে এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
গাজায় 'যুদ্ধবিরতি' চলাকালীনও থামেনি রক্তপাত: নিহত প্রায় ৭০০ ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তথাকথিত 'যুদ্ধবিরতি' চলাকালীন সময়েও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৮৯ জন ফিলিস্তিনি।  গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদে গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মাঠ পর্যায়ের সংবাদকর্মীরা এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৬০ জন ফিলিস্তিনি।  যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও গাজার সাধারণ মানুষের ওপর এই নিরবচ্ছিন্ন হামলা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

তাবাস্সুম মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০