সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

'গাজায় ইসরায়েলের হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়': মঞ্চে কেঁদে বললেন এড শিরান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ২২:২৭
ফিলাডেলফিয়ায় কনসার্টে বক্তব্য দিচ্ছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। ছবি: সংগৃহীত
ফিলাডেলফিয়ায় কনসার্টে বক্তব্য দিচ্ছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘বিপর্যয়কর, অন্যায্য ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় নিজের কনসার্টে কথা বলার সময় গাজায় বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। শনিবার রাতে লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে কনসার্টের শুরুতে এ বক্তব্য দেন শিরান।

 

এটি ছিল র‍্যাপার ম্যাকলমোরকে নিজের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের প্রথম কনসার্ট। ম্যাকলমোর এর আগে মঞ্চে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ায় বিতর্কে জড়ান। তাকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের বেশ কয়েকজন উদ্বোধনী শিল্পীও সফর থেকে সরে দাঁড়ান।

 

কনসার্টে নিজের বক্তব্যের শুরুতে শিরান বলেন, তিনি কখনোই নিজেকে রাজনৈতিক সংগীতশিল্পী হিসেবে তুলে ধরতে চাননি। তার সংগীত ও পরিবেশনা যেন বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য এবং রাজনীতির পরিবর্তে মানবিকতার কথা বলে, সেটিই তিনি চেয়েছেন।

 

তবে গাজা পরিস্থিতিকে তিনি কেবল রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখছেন না বলে জানান। শিরান বলেন, এটি একটি মানবিক সংকট এবং এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি আর গোপন করতে পারছেন না।

 

ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং ওই দিনের একটি সংগীত উৎসবে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে শিরান বলেন, এর সঙ্গে ইহুদি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বেদনার বিষয়ও জড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে গাজায় চলমান পরিস্থিতির সমালোচনা করেন তিনি।

 

মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন শিরান। তিনি বলেন, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় তার হৃদয় ভেঙে গেছে। পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিতেও যে অবিচার চলছে, সেটি উপেক্ষা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

নিজের বক্তব্যে ইসরায়েল ও হামাসের সংঘাতের প্রসঙ্গও তোলেন শিরান। তিনি বলেন, এই সংঘাত নিয়ে কথা বলা তার জন্য সহজ নয়। তবে মানবিক সংকটের কারণে তিনি এ বিষয়ে নীরব থাকতে পারছেন না।

 

এর আগে ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ম্যাকলমোরের দাবি ছিল, গাজা ও ফিলিস্তিনের পক্ষে তার বক্তব্যের পর সফর থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে শিরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নিজের নয়, বরং সফরের আয়োজকদের সিদ্ধান্ত ছিল।

 

ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর সফরের অন্য কয়েকজন শিল্পীও শিরানের সঙ্গে আর না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে ছিলেন অ্যারন রো, লুকাস গ্রাহাম, বেওগা এবং ফিনিয়াস। তাদের কেউ কেউ ম্যাকলমোরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।

 

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলাডেলফিয়ায় শিরানের কনসার্টের আগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভও হয়। স্থানীয় কয়েকটি সংগঠন কনসার্টস্থলের কাছে সমাবেশের আয়োজন করে।

 

তবে বিতর্কের মধ্যেও শিরান সফর চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টে তিনি বলেন, ভক্তদের প্রতি নিজের প্রতিশ্রুতি তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই উদ্বোধনী শিল্পী ছাড়াই তিনি মঞ্চে উঠেছেন।

 

মঞ্চে তিনি আরও বলেন, কোনো শিল্পীর পরিবেশনার বিষয়বস্তু আগে থেকে নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করার ধারণা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এমন পরিস্থিতি দেখা গেলেও মুক্ত সমাজে এটি হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

বক্তব্যের পর দর্শকদের কাছ থেকে করতালি পান শিরান। এরপর তিনি নিয়মিত পরিবেশনায় ফিরে গিয়ে ‘ক্যাসল অন দ্য হিল’ গানটি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন দর্শক পরে তার বক্তব্যের প্রশংসা করেন এবং বলেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে তিনি যে অবস্থান তুলে ধরেছেন, তা ঐক্যের বার্তা দিয়েছে।

 

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ফিলিভয়েস


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
জার্মানিতে ডানপন্থি দল এএফডির উত্থানে অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
জার্মানিতে এএফডির উত্থান, দেশটিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় অভিবাসীরা

জার্মানির পূর্বাঞ্চলে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় দেশটিতে বসবাসরত অনেক অভিবাসী নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে জার্মানিতে বসবাস, কাজ এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও অনেকে বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশিদের প্রতি বিরূপ আচরণ বেড়েছে।   জার্মানির বাল্টিক উপকূলীয় শহর রস্টকে বসবাসকারী শাহদ নাজিব এমনই একজন। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধাদের হাত থেকে পালিয়ে এক দশকেরও বেশি আগে জার্মানিতে আশ্রয় নেন তিনি। স্বামী মাহমুদ হমুয়েশ ও দুই সন্তানকে নিয়ে সেখানে নতুন জীবন গড়ে তুলেছেন। স্বামী একটি নাপিতের দোকানে কাজ করেন এবং নাজিব স্থানীয় স্কুলগুলোতে খাবার পরিবেশন করেন।   রয়টার্সকে নাজিব বলেন, সিরিয়া ছাড়ার সময়কার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনো তার মনে রয়েছে। কিন্তু জার্মানিতে এক দশকের বেশি সময় কাটানোর পরও বর্তমানে তিনি ভাবছেন, এই দেশটিতে তিনি ও তার পরিবার আগের মতো স্বাগত কি না।   রয়টার্স রস্টক ও কাছের শহর শভেরিনে অভিবাসী পরিবারের ২০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের বেশির ভাগই জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশিদের নিয়ে কটূক্তি ও বিরূপ আচরণের ঘটনা বেড়েছে। এসব আচরণের মধ্যে প্রকাশ্যে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলা থেকে শুরু করে অপমানজনক মন্তব্য পর্যন্ত রয়েছে। এক নারী জানিয়েছেন, তার প্রতিবেশী বারান্দা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পানি তার ওপর ঢেলে দিয়েছিলেন।   নাজিবের নিজের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের। সন্তানদের স্কুল থেকে নিয়ে ফেরার পথে একটি দোকানের কাছে এক বয়স্ক ব্যক্তি তাকে জার্মানিতে থাকার অধিকার নিয়ে কটূক্তি করেন বলে তিনি জানান। ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, ‘এই দেশ জার্মানদের জন্য।’   নাজিব বলেন, রস্টকে যে ধরনের কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন, সেটি তার জীবনে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, নিজের জীবন গড়ে তোলার জন্য কঠোর পরিশ্রম করার পরও কেউ তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখলে সেটি অন্যায়ের অনুভূতি তৈরি করে।   এ ধরনের অভিজ্ঞতার কথা সামনে আসছে এমন এক সময়ে, যখন জার্মানির পূর্বাঞ্চলে এএফডির রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ছে। মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্ন রাজ্যে ২০ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপগুলোতে দলটিকে সবচেয়ে বড় দল হওয়ার সম্ভাবনায় এগিয়ে দেখা হয়েছিল। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় আরেক রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে এএফডি প্রথমবারের মতো কোনো রাজ্য নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পায়।   ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী অবস্থান নিয়ে এএফডির যাত্রা শুরু হলেও ২০১৫ সালে তৎকালীন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেলের সরকারের অভিবাসন নীতির পর দলটির অভিবাসনবিরোধী অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়। ওই সময়ে প্রায় ১০ লাখ অভিবাসী ও শরণার্থী জার্মানিতে প্রবেশ করেন, যাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছিলেন সিরীয়।   এএফডির প্রধান প্রার্থী লাইফ-এরিক হোম অবশ্য বলেছেন, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের অভিবাসনের ব্যাপারে তার দলের আপত্তি নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিকের জার্মানিতে থাকার আইনগত অধিকার নেই, তাদেরই দেশে ফেরত পাঠানো উচিত। তবে সমালোচকদের মতে, অভিবাসন ও ‘রিমিগ্রেশন’ নিয়ে দলের বক্তব্যের কারণে বিদেশিদের মধ্যে সামগ্রিকভাবে অনিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।   মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নের সামাজিক গণতন্ত্রী রাজ্যপ্রধান মানুয়েলা শভেসিগ এক টেলিভিশন বিতর্কে এএফডির বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, যারা জার্মানিতে কাজ করছেন, কর ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবদান রাখছেন, তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক।   একই বিতর্কে মরক্কোর এক নকশাবিদকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই কর্মী নিয়মিত বর্ণবাদী কটূক্তির শিকার হচ্ছেন এবং এ কারণে তাকে হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে একজন প্রকৌশলী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হোম বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করলেও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও যাদের থাকার অধিকার নেই তাদের ফেরত পাঠাতে সরকারের ব্যর্থতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।   অভিবাসন নিয়ে এই রাজনৈতিক বিতর্কের অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নে প্রায় ৫০ হাজার অভিবাসী পটভূমির মানুষ কর্মরত। দেশটির পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যের মতো এই অঞ্চলও কম জন্মহার ও বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে ভবিষ্যতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতির মুখে পড়তে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন।   জার্মানির শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জার্মান নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি এমন প্রায় ৩ লাখ ১৬ হাজার সিরীয় নাগরিক দেশটিতে কাজ করছেন। তাদের বেশির ভাগই পূর্ণকালীন চাকরিতে নিয়োজিত এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবদান রাখছেন। সিরীয় নাগরিকদের সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৩০ শতাংশের বেশি হলেও জার্মানিতে দীর্ঘদিন অবস্থানকারীদের কর্মসংস্থানের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, সাত বছর বা তার বেশি সময় ধরে জার্মানিতে থাকা সিরীয়দের ৬০ শতাংশের বেশি কর্মরত ছিলেন।   জার্মানির পূর্বাঞ্চলে এএফডির উত্থানের পেছনে অভিবাসন ছাড়াও অর্থনৈতিক বৈষম্য, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং দীর্ঘদিনের পূর্ব-পশ্চিম বিভাজনের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় রয়েছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালে দুই জার্মানি এক হওয়ার পর পূর্বাঞ্চলে কর্মসংস্থান ও আয় পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হলেও সম্পদের ব্যবধান এখনো উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালে পূর্বাঞ্চলে, বার্লিনসহ, গড় নিট সম্পদের পরিমাণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৪৯ শতাংশ ছিল।   এদিকে অনেক সিরীয় নাগরিক নিজ দেশে পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফিরে যাওয়ার আশা করছেন। আবার নাজিব ও হমুয়েশের মতো কেউ কেউ জার্মানিকেই ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখছেন। তবে রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন সেই সিদ্ধান্তকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   হমুয়েশ বলেন, তিনি চান না তার সন্তানরা যে সমাজকে নিজেদের ঘর মনে করে, সেখানে বড় হয়ে নিজেদের প্রত্যাখ্যাত মনে করুক। তার কাছে পরিবারের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ২৩:৩৬
ফিলাডেলফিয়ায় কনসার্টে বক্তব্য দিচ্ছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। ছবি: সংগৃহীত

'গাজায় ইসরায়েলের হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়': মঞ্চে কেঁদে বললেন এড শিরান

আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে ৩ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেপ্তার ৯ ইসরায়েলি

গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ছাড়ছে না ডেনমার্ক

গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ছাড়ছে না ডেনমার্ক, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি

মঞ্চনাটকে  তুলে ধরছেন সেখানকার অভিনেতারা
যে যুদ্ধের মধ্যে বেঁচে আছেন, সেই যুদ্ধই মঞ্চে অভিনয় করছেন গাজার শিল্পীরা

গাজায় যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতা এবার মঞ্চনাটকে তুলে ধরছেন সেখানকার অভিনেতারা। ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নামের এই নাটকে অভিনয় করা শিল্পীদের অনেকেই নিজেরাই যুদ্ধের ক্ষত, ঘর হারানো ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে মঞ্চে তারা যে গল্প বলছেন, তার অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।   ৪২ বছর বয়সী আবু কুসাই কাদ্দুরা যুদ্ধের আগে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রোডাকশন ম্যানেজার ও সাউন্ড টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। যুদ্ধের সময় তার উত্তর গাজার আল-তাওয়াম এলাকার বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। এখন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া বাড়ির ছাদে প্লাস্টিকের আচ্ছাদনের নিচে একটি কক্ষে থাকেন তিনি। প্রতিদিন পরিবারের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করে রান্নার ব্যবস্থা করার পর প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে মহড়ায় যেতে হয় তাকে।   নাটকে কাদ্দুরা এমন এক চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি যুদ্ধের মধ্যে হাসপাতালে আটকা পড়েন এবং অ্যানেসথেশিয়া ছাড়াই নিজের সন্তানের পা কেটে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। দৃশ্যটি একজন বাস্তব গাজাবাসী বাবার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নিজের সন্তানদের কথা মনে পড়ায় দৃশ্যটি অভিনয় করতে গিয়ে কাদ্দুরা আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। মহড়ার মাঝেই কান্নায় ভেঙে পড়লেও পরে আবার মঞ্চে ফিরে একই দৃশ্য অভিনয় করেন।   নাটকটির পরিচালক আলি আবু ইয়াসিন গাজায় ৩৭ বছর ধরে অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। যুদ্ধের কারণে গাজার সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনেস্কোর হিসাবে, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গাজায় ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক বা শিল্প-সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন ১২৮টি স্থাপনাও রয়েছে।   ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ প্রকল্পটির শুরু ২০২৬ সালের এপ্রিলে নাট্যরচনা কর্মশালা হিসেবে। শুরুতে ১৪ জন তরুণ-তরুণীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও চিকিৎসার জন্য গাজা ছাড়ার কারণে শেষ পর্যন্ত আটজন এতে যুক্ত থাকতে পারেন। পরে তারাই নাটকটি মঞ্চস্থ করার সিদ্ধান্ত নেন   শুরুতে তাদের কোনো স্থায়ী মঞ্চ ছিল না। তাঁবু টাঙিয়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের গাড়ি রাখার জায়গায় মহড়া চলেছে। পরে গোলাগুলির কারণে স্থান পরিবর্তন করে একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাফের ছোট কক্ষে মহড়া করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ ছিল অনিয়মিত, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও ছিল না। কাঠের সংকট থাকায় তাঁবুর ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় ও পাওয়া কাঠ দিয়ে শিল্পীরাই মঞ্চের সেট তৈরি করেন।   ২৫ বছর বয়সী অভিনেত্রী ইমান ওদাও নিজের জীবনের ভয়কে চরিত্রের মধ্যে খুঁজে পান। এক মহড়ার সময় কাছাকাছি বিস্ফোরণ হলে অভিনেতারা মহড়া বন্ধ করে পরিবারের খোঁজ নিতে ফোন করেন। নিজের বাবার মৃত্যুর স্মৃতিও নাটকের একটি চরিত্রের নামের সঙ্গে জড়িয়ে তার আবেগকে আরও তীব্র করে তোলে।   অভিনেতা তামের নাজমের গল্পও নাটকের সঙ্গে মিশে গেছে। যুদ্ধের আগে তিনি গাজা সিটির নাসের এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য বহু বছর সঞ্চয় করেছিলেন। সেই বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন বাড়ি, ফুটপাত ও তাঁবুতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। যুদ্ধের মধ্যেই তাদের দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়। নাটকে তিনি এমন এক বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি পরিবার ও সন্তানকে হারানোর আশঙ্কায় থাকেন।   অবশেষে গাজা সিটির আল-ওয়াহদা স্ট্রিটের এ.এম. কাত্তান ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন হয় ১৯ জুলাই। প্রায় ১৫০ আসনের হলটি দর্শকে পূর্ণ হয়। পরে জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজার দারাজ, দেইর আল-বালাহ, নুসেইরাত ও খান ইউনিসে নাটকটির প্রদর্শনী হয়। খান ইউনিসের একটি প্রদর্শনীতে ৫০০ জনের বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।   গাজার এই শিল্পীদের কাছে নাটকটি শুধু বিনোদন নয়; নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ ও যুদ্ধের বাস্তবতা নথিবদ্ধ করার একটি মাধ্যম। যুদ্ধের মধ্যেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারা এমন গল্প বলছেন, যেগুলোর অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবন থেকে উঠে এসেছে। আর অভিনয় শেষ হওয়ার পরও তাদের যুদ্ধ থেমে থাকে না—মঞ্চ থেকে ফিরে আবার শুরু হয় খাবার, আশ্রয় ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাস্তব লড়াই।   Source: আল জাজিরা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৯:১২
হুথিদের দখলে মোখা

হুথিদের দখলে মোখা, ঘরবন্দি বাসিন্দা - বন্ধ দোকান, খালি স্কুল

সন্তানের অপরাধে মা-বাবার ভাতা বন্ধ, জেলও হতে পারে যুক্তরাজ্যে

সন্তানের অপরাধে মা-বাবার ভাতা বন্ধ, জেলও হতে পারে যুক্তরাজ্যে

ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা গোপন করছে পেন্টাগন

ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা গোপন করছে পেন্টাগন, তথ্যে ধোঁয়াশা

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারের লোহার গেট গাড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে ইসলামিক সেন্টারে হামলা, তেল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে একটি ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশপথে দুটি গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে গেট ভেঙে ফেলা এবং পরে সেখানে দাহ্য পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটিকে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত ক্ষতিসাধন হিসেবে তদন্ত করছে ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ।   কর্নওয়ালের কার্নন ডাউনস এলাকায় অবস্থিত কর্নওয়াল ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টা ২০ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে কেন্দ্রটির স্বেচ্ছাসেবী ইমাম হাসান কিলিককে এক প্রতিবেশী ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, কেন্দ্রের লোহার গেটটি ভেঙে কবজা থেকে ছিটকে গেছে।   তবে গেট ভাঙার পাশাপাশি কেন্দ্রের আঙিনা থেকে মূল প্রবেশপথ পর্যন্ত এবং ভবনের দেয়ালে তেলজাতীয় একটি পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে। কিলিক জানান, কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজে দুটি ভ্যানকে গেটে ধাক্কা দিতে দেখা গেছে। এরপর দুই ব্যক্তি সেখানে ঢুকে বিভিন্ন স্থানে তেল ছড়িয়ে দেন বলে তিনি জানিয়েছেন।   ঘটনার পর কিলিক বলেন, কেন্দ্রের ভেতরে হামলাকারীরা প্রবেশ করতে পারেনি বা প্রবেশের চেষ্টা করেনি। তবে ভাঙচুরের বিষয়টি তিনি পুলিশ ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়কে জানান।   এটি ওই ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে গত ১৮ বছরে দ্বিতীয়বারের মতো সম্ভাব্য জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত হামলার ঘটনা। এর আগে ২০০৮ সালে কেন্দ্রটি যে সাবেক মেথডিস্ট চার্চ ভবনে পরিচালিত হতো, তার দরজায় শূকরের মাথা পেরেক দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ভবনে বর্ণবাদী গ্রাফিতিও লেখা হয়েছিল বলে CornwallLive জানিয়েছে।   সাম্প্রতিক ঘটনার পর স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও কেন্দ্রটির নেতারা উত্তেজনার পরিবর্তে ঐক্য ও ইতিবাচকতার মাধ্যমে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার কথা জানিয়েছেন।   হাসান কিলিক CornwallLive-কে বলেন, ঘটনাটি সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য স্বাভাবিকভাবেই কষ্টদায়ক। তবে তারা এটিকে স্থানীয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন বা কয়েকজনের কর্মকাণ্ড দিয়ে পুরো সম্প্রদায়কে সংজ্ঞায়িত করা হবে না।   শুক্রবার মুসলমানদের সাপ্তাহিক প্রধান নামাজের দিন হওয়ায় ওই দিন কেন্দ্রটিতে দেওয়া বক্তব্যেও শান্তি, ধৈর্য, ঐক্য ও আশার বার্তা তুলে ধরার কথা জানান কিলিক। তিনি বলেন, এই ঘটনা তাদের ভয় দেখাতে বা কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে না।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। কর্নওয়াল ও আইলস অব সিলির পুলিশ কমান্ডার চিফ সুপারিনটেনডেন্ট স্কট ব্র্যাডলি বলেন, ঘটনার স্থান ও পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিকভাবে এটিকে জাতিগতভাবে প্ররোচিত ক্ষতিসাধন হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনাটির শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তিত হতে পারে।   পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে। ঘটনার সময় আশপাশে সন্দেহজনক কোনো গাড়ি বা ব্যক্তির উপস্থিতি কেউ দেখে থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতে শুক্রবার ও সপ্তাহান্তে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।   ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কর্নওয়ালে জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের ঘটনা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাহিনীর আওতাধীন এলাকায় ২৮২টি ঘটনায় মুসলিমবিরোধী ধর্মীয় বিদ্বেষের ধরন নথিভুক্ত হয়েছিল। তবে এসব পরিসংখ্যানের মধ্যে এই নির্দিষ্ট ঘটনার কোনো তথ্য নেই।   পুলিশের পক্ষ থেকে সন্দেহজনক তথ্য থাকা ব্যক্তিদের ১০১ নম্বরে অথবা পুলিশের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। বেনামে তথ্য দিতে স্বাধীন দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্সের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়।   সূত্র: CornwallLive, Devon & Cornwall Police

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ০:৭
ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য ১০ লাখ ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন ইউটিউব তারকা মিস র‍্যাচেল। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ১০ লাখ ডলার দিচ্ছেন ইউটিউব তারকা মিস র‍্যাচেল

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র পেল স্থায়ী সামরিক অধিকার, চীন-রাশিয়ার ঘাঁটি স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা

চীনের মালান বিমানঘাঁটিতে দেখা যাওয়া রহস্যময় লেজবিহীন ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত

চীনের ‘এরিয়া ৫১’ ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক ড্রোনের পরীক্ষা, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments