বিশ্ব

ইহুদিদের উদ্বেগ স্বত্তেও, ইজরায়েল বিরোধী চরমপন্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে আগ্রহী এল-সায়েদ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ২:৩৮
ইজরায়েল বিরোধী চরমপন্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে আগ্রহী এল-সায়েদ
ইজরায়েল বিরোধী চরমপন্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে আগ্রহী এল-সায়েদ

মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক ইউএস সিনেট প্রাইমারিতে জয়ের পর আবদুল এল-সায়েদের সঙ্গে জনপ্রিয় কিন্তু বিতর্কিত রাজনৈতিক স্ট্রিমার হাসান পাইকারের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পাইকারের অতীতের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়লেও তার কাছ থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বানে সাড়া দেননি এল-সায়েদ। এর মধ্যেই মিশিগানের কিছু ইহুদি ভোটার ও কমিউনিটি নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে হারিয়ে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেন এল-সায়েদ। নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মিশিগানে এই নির্বাচন ইউএস সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

এল-সায়েদের সঙ্গে পাইকারের রাজনৈতিক যোগাযোগ নতুন নয়। গত এপ্রিলে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে আয়োজিত প্রচারণা অনুষ্ঠানে তারা একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির ঠিক আগেও এল-সায়েদের প্রচারণায় অংশ নেন পাইকার।

 

হাসান পাইকার যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় বামপন্থী রাজনৈতিক স্ট্রিমার। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তার বিপুল অনুসারী রয়েছে। তবে ইসরায়েল, হামাস, ৯/১১ হামলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে অতীতে দেওয়া তার বক্তব্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। তার কিছু বক্তব্যকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতা। পাইকার অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তার বক্তব্যকে অনেক ক্ষেত্রে প্রসঙ্গের বাইরে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন।

 

এল-সায়েদকে এর আগেও পাইকারের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এপ্রিলে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, অন্য কারও সব মতামত থেকে নিজেকে প্রকাশ্যে বিচ্ছিন্ন ঘোষণা করা তার কাজ নয়। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, পাইকারের সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ তার প্রতিটি বক্তব্যকে সমর্থন করা নয়।

 

পরবর্তীতে ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারেও পাইকারের অতীতের বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয় এল-সায়েদকে। তিনি আবারও বলেন, কারও সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত হওয়া মানেই সেই ব্যক্তির প্রতিটি মন্তব্য বা বিশ্বাসকে নিজের বলে গ্রহণ করা নয়।

 

তবে প্রাইমারি জয়ের পর বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এল-সায়েদ এখন শুধু ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের প্রার্থী নন, মিশিগানের সাধারণ নির্বাচনে দলের আনুষ্ঠানিক সিনেট প্রার্থী।

 

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ইহুদি ভোটার এল-সায়েদের সঙ্গে পাইকারের সম্পর্ক এবং ইসরায়েল নিয়ে তার নিজের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এর আগে এপ্রিলে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির হিলেল পাইকারের ক্যাম্পাস সফর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। মিশিগানের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতাও তখন এল-সায়েদের সঙ্গে পাইকারের যৌথ অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেন।

 

অন্যদিকে এল-সায়েদের সমর্থকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, পাইকারের বিপুল তরুণ অনুসারী রয়েছে এবং তার মতো অনলাইন ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কথা বলা এমন ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর একটি উপায়, যারা প্রচলিত রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গে খুব বেশি সম্পৃক্ত নন। এপ্রিলে তাদের যৌথ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও তরুণ অংশ নিয়েছিলেন।

 

এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি ডেট্রয়েটের হেলথ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং করপোরেট অর্থের রাজনৈতিক প্রভাব কমানো।

 

ইসরায়েল ও গাজা প্রশ্নেও তার অবস্থান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মূলধারার অনেক নেতার তুলনায় কঠোর। তিনি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করেছেন। এসব অবস্থান তাকে প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে সমর্থন এনে দিলেও মিশিগানের কিছু ইহুদি ভোটারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

এল-সায়েদের প্রাইমারি জয়ের পর ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতারা তার পক্ষে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার এবং প্রাইমারিতে পরাজিত হ্যালি স্টিভেন্সও সাধারণ নির্বাচনে তাকে সমর্থন করেছেন।

 

এখন এল-সায়েদের সামনে বড় পরীক্ষা নভেম্বরে। প্রাইমারিতে প্রগতিশীল ভোটারদের সমর্থন নিয়ে জয়ী হলেও সাধারণ নির্বাচনে তাকে ডেমোক্র্যাট, স্বতন্ত্র এবং মধ্যপন্থী ভোটারদের আরও বড় অংশের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। হাসান পাইকারকে ঘিরে চলমান বিতর্ক সেই প্রচারণায় কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিও এখন মিশিগানের সিনেট নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ
যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট উচ্চ দক্ষতার পেশাজীবীদের যুক্তরাজ্যে কাজের সুযোগ দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা। যুক্তরাজ্যের বর্তমান অভিবাসন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন পাওয়া গবেষকরা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে মাত্র তিন বছর পর দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইনের জন্য আবেদন করতে পারেন।   যুক্তরাজ্য সরকারের হালনাগাদ নিয়ম অনুযায়ী, রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের অনুমোদনের ভিত্তিতে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য তিন বছরের স্থায়ী বসবাসের পথ রয়েছে। তবে শুধু তিন বছর যুক্তরাজ্যে থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় না। আবেদনকারীকে ধারাবাহিক বসবাসসহ অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়।   গবেষকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ হলো ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন বা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদিত গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের ভিত্তিতে আবেদন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ইউকেআরআই অনুমোদিত কোনো যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা গবেষণার জন্য যুক্ত থাকতে হবে এবং তার গবেষণার অর্থায়নও অনুমোদিত কোনো তহবিলদাতার কাছ থেকে আসতে হবে।   এই পথে আবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের মূল্য কমপক্ষে ৩০ হাজার পাউন্ড হতে হবে এবং সেটির মেয়াদ অন্তত দুই বছর হতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর চাকরির চুক্তি বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হোস্টিং চুক্তির অন্তত এক বছর বাকি থাকতে হবে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, আবেদনকারীকে তার মোট কর্মসময়ের অন্তত ৫০ শতাংশ ওই গবেষণা অনুদানের আওতাধীন কাজে ব্যয় করতে হবে। প্রধান গবেষক বা সহগবেষকের ক্ষেত্রে একাধিক যোগ্য গবেষণা অনুদানে কাজের সময় একত্র করে এই ৫০ শতাংশের শর্ত পূরণ করার সুযোগ রয়েছে।   গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার বড় সুবিধাগুলোর একটি হচ্ছে কর্মক্ষেত্রের স্বাধীনতা। এটি সাধারণ স্পনসরনির্ভর ওয়ার্ক ভিসার মতো নির্দিষ্ট একটি চাকরির সঙ্গে একইভাবে আবদ্ধ নয়। ভিসাধারীরা নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে চাকরি করতে, চাকরি পরিবর্তন করতে কিংবা স্বনিযুক্ত হিসেবে কাজ করতে পারেন। ফলে গবেষক ও উদ্ভাবকদের ক্যারিয়ার পরিচালনায় তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা থাকে।   স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে গবেষকদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদন পাওয়া গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসাধারী গবেষকরা গবেষণার কাজে যুক্তরাজ্যের বাইরে যে সময় কাটান, নির্দিষ্ট শর্তে সেই গবেষণাসংশ্লিষ্ট অনুপস্থিতি ধারাবাহিক বসবাসের হিসাবকে বাধাগ্রস্ত করে না।   তবে তিন বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় শুধু ভিসার মেয়াদ পূরণ করাই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে আয় করার প্রমাণসহ প্রযোজ্য অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হয়। বর্তমান নিয়মে ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা এবং যুক্তরাজ্যের জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত নির্ধারিত পরীক্ষার শর্তও রয়েছে।   ফলে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা শুধু যুক্তরাজ্যে গবেষণা বা চাকরির সুযোগ নয়, যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য তুলনামূলক দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথও তৈরি করছে। বিশেষ করে ইউকেআরআই অনুমোদিত গবেষণা অনুদান এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের জন্য এই ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ক্যারিয়ার গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ৩:২২
কোকা-কোলার কাস্টম ক্যান নিয়ে বিতর্ক

কোকা-কোলার কাস্টম ক্যান নিয়ে বিতর্ক: ‘ঈশ্বরই প্রভু’ লিখা নিষিদ্ধ অথচ ‘শিশুকামী প্রাইড' লিখায় মিলল অনুমতি

ইজরায়েল বিরোধী চরমপন্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে আগ্রহী এল-সায়েদ

ইহুদিদের উদ্বেগ স্বত্তেও, ইজরায়েল বিরোধী চরমপন্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে আগ্রহী এল-সায়েদ

ছেলের ময়নাতদন্তের ছবি দেখে আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা

ছেলের ময়নাতদন্তের ছবি দেখে আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা, বিচারক বললেন ‘শাট হার আপ’

৩৫ বছর আগের মার্স বার খুঁজে অবাক ক্লিনার
৩৫ বছর আগের মার্স বার খুঁজে অবাক ক্লিনার, বর্তমান চকলেটের পাশে রাখতেই চোখ কপালে

যুক্তরাজ্যের একটি বাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে ১৯৯১ সালের একটি পুরোনো মার্স চকলেট বার খুঁজে পেয়েছেন পেশাদার ক্লিনার ভিক্টোরিয়া গর্ডন। ৩৫ বছর আগের সেই চকলেটের সঙ্গে বর্তমান সময়ের মার্স বারের তুলনা করতেই সামনে এসেছে চোখে পড়ার মতো পার্থক্য। পুরোনো বারটি শুধু আকারেই বড় নয়, ওজনেও বর্তমান সংস্করণের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সী ভিক্টোরিয়া গর্ডন যুক্তরাজ্যের লিংকনশায়ারে একটি বাড়ি পরিষ্কার করার সময় পুরোনো মার্স বারটি খুঁজে পান। তিনি এমন একটি ক্লিনিং ব্যবসা পরিচালনা করেন, যেখানে অত্যন্ত নোংরা বাড়ি, দীর্ঘদিন ধরে জিনিসপত্র জমিয়ে রাখা বাড়ি এবং বিশেষায়িত পরিষ্কারের কাজ করা হয়।   চকলেটটির মোড়ক দেখে বোঝা যায়, সেটি ১৯৯১ সালের। কৌতূহল থেকে গর্ডন বর্তমান সময়ের একটি মার্স বার কিনে দুটির আকার তুলনা করেন। পাশাপাশি রাখার পর পার্থক্য দেখে তিনি নিজেও বিস্মিত হন।   ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাজ্যে একটি সাধারণ মার্স বারের ওজন ছিল ৬৫ গ্রাম। ১৯৯৫ সালের একটি সমসাময়িক প্রতিবেদনে ৬৫ গ্রামের মার্স বারের তথ্যও পাওয়া যায়। বিপরীতে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রচলিত একটি মার্স বারের ওজন ছিল ৫১ গ্রাম।   অর্থাৎ ৬৫ গ্রামের পুরোনো বারের তুলনায় ৫১ গ্রামের সংস্করণে চকলেটের পরিমাণ প্রায় ২২ শতাংশ কম।   তবে ২০২৬ সালে বিষয়টি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রয়বিষয়ক সংবাদমাধ্যম বেটার রিটেইলিং জানায়, চলতি বছর কিছু সিঙ্গেল মার্স বারের ওজন ৫১ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৪০ গ্রাম করা হয়েছে। মার্চ থেকে নতুন ছোট সংস্করণ বাজারে আসতে শুরু করে বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   ১৯৯১ সালের দাম নিয়েও তুলনা করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। তাদের হিসাবে, সে সময় যুক্তরাজ্যে একটি মার্স বারের দাম ছিল আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ পেন্স। বর্তমানে একই পণ্যের দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি, যদিও দোকান ও প্যাকেজের ধরন অনুযায়ী খুচরা মূল্য পরিবর্তিত হয়।   পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দাম একই রাখা অথবা দাম বাড়ানোর এই প্রবণতাকে সাধারণভাবে ‘শ্রিংকফ্লেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ ক্রেতা আগের সমান বা বেশি অর্থ ব্যয় করলেও প্যাকেটের ভেতরে পণ্যের পরিমাণ কম পান। খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রবণতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।   তবে পণ্যের আকার ছোট করার পেছনে উৎপাদনকারীদেরও ব্যয়ের চাপ রয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে মার্স রিগলি যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের একজন মুখপাত্র পণ্যের আকার পরিবর্তনের বিষয়ে বলেছিলেন, কোকোর দামসহ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার চাপ মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানকে কিছু পরিবর্তন করতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, পণ্যের আকার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সহজভাবে নেওয়া হয় না এবং চূড়ান্ত খুচরা মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের।   লিংকনশায়ারের বাড়িতে পাওয়া ১৯৯১ সালের মার্স বারটি তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুধু পুরোনো একটি চকলেট হিসেবে আলোচনায় আসেনি। কয়েক দশকে পরিচিত একটি পণ্যের আকার ও ওজন কীভাবে বদলে গেছে, তার বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও এটি মানুষের নজর কেড়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ১:৪৬
পরিবারের খাবার জোগাতে হিমশিম চিকিৎসক ইয়াসমানি

তিনটি ডিগ্রি, তবুও পরিবারের খাবার জোগাতে হিমশিম চিকিৎসক ইয়াসমানি

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও সংগঠন। ছবি: সংগৃহীত

মক্কা চুক্তির পক্ষে মুসলিম বিশ্ব, সমর্থন জানাল ওআইসি ও একাধিক দেশ

গ্রিস উপকূল থেকে দুই শতাধিক অভিবাসী উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিস উপকূলে ৪৮ ঘণ্টায় ২০২ অভিবাসী উদ্ধার, অধিকাংশই বাংলাদেশি

সিডনির গ্লেব এলাকায় অবস্থিত আলোচিত আবাসিক সম্পত্তি। ছবি: সংগৃহীত
‘স্কোয়াটার্স রাইটস’ দেখিয়ে ৪ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি দখল, প্রতারণার দায়ে ৭৮ বছর বয়সী দাদির কারাদণ্ড

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ‘স্কোয়াটার্স রাইটস’ বা অ্যাডভার্স পজেশন আইনের সুযোগ নিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি বাড়ির মালিকানা পাওয়ার ঘটনায় ৭৮ বছর বয়সী মার্গারেট কোলকুহুনকে দুই বছর চার মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার ছেলে অ্যান্ড্রু কোলকুহুনকে ১৮ মাসের কমিউনিটি কারেকশন অর্ডার দেওয়া হয়েছে। তবে মার্গারেটের স্বামী ও সিডনির সাবেক আইনজীবী পিটার কোলকুহুন অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন।   নিউ সাউথ ওয়েলসের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে আলোচিত এ মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সিডনির গ্লেব এলাকার ৬১ বয়েস স্ট্রিটের একটি বাড়ি। আদালতের নথি ও অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্পত্তিটির মালিক ছিলেন আনসিস নিল্যান্ডস। ১৯৯৫ সালে তার মৃত্যুর পর সম্পত্তিটির উত্তরাধিকার নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।   নিউ সাউথ ওয়েলসে অ্যাডভার্স পজেশনের মাধ্যমে কোনো সম্পত্তির মালিকানা দাবি করতে সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে মালিকের অনুমতি ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন ও একচ্ছত্র দখলের প্রমাণ দিতে হয়। এ ব্যবস্থাই সাধারণভাবে ‘স্কোয়াটার্স রাইটস’ নামে পরিচিত।   মার্গারেট ও অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা সম্পত্তিটির দখল নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমন তথ্য দিয়েছিলেন, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিল ছিল না। বিশেষ করে তারা দাবি করেছিলেন, ২০০০ সালের নভেম্বরের দিকে বাড়িটির প্রকৃত দখল নিয়েছিলেন। এই সময়সীমা তাদের অ্যাডভার্স পজেশন দাবির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   কিন্তু আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটি তখন পুরোপুরি পরিত্যক্ত ছিল না। বিচারক অ্যালিস্টার অ্যাবাডি মামলার তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে মার্গারেট ও অ্যান্ড্রুকে প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। মার্গারেট ২০০৪ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার রেন্ট আদায় করেছিলেন বলেও আদালতে উঠে আসে।   পরবর্তীতে সম্পত্তিটির মালিকানা তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ২০২২ সালে গ্লেবের বাড়িটি প্রায় ৩.৬৭ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারে বিক্রি করা হয়। সাজা ঘোষণার সময় বিচারক মার্গারেট ও তার ছেলের আচরণের সমালোচনা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে তাদের কর্মকাণ্ডে প্রতারণামূলক আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মার্গারেট ২০২৭ সালের অক্টোবরে প্যারোলের জন্য যোগ্য হবেন।   অ্যান্ড্রুকে কারাগারে না পাঠিয়ে ১৮ মাসের কমিউনিটি কারেকশন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে তার পারিবারিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নয় সন্তানের প্রধান দেখাশোনাকারী। অন্যদিকে পিটার কোলকুহুনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের অভিযোগ ছিল, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। তবে আদালত সেই অভিযোগ প্রয়োজনীয় মানদণ্ডে প্রমাণিত হয়নি বলে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেননি।   মামলাটি অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কারণ অ্যাডভার্স পজেশনের মাধ্যমে সম্পত্তি দাবি করার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগে ফৌজদারি বিচারের এমন নজির অত্যন্ত বিরল। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটিকে দেশটিতে এ ধরনের প্রথম সফল ফৌজদারি মামলার নজির হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এই রায় একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য সামনে এনেছে। অ্যাডভার্স পজেশন নিজে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখলের সমার্থক নয়। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে এর মাধ্যমে মালিকানা দাবি করা সম্ভব। কিন্তু সেই দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য দখলের সময়কাল বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা উপস্থাপন করলে তা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে যেতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ০:৭
যুদ্ধের এক দশকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে উন্নয়নের বহু বছর পিছিয়ে ইয়েমেন

যুদ্ধের এক দশকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে উন্নয়নের বহু বছর পিছিয়ে ইয়েমেন, দায় হুথিদের!

এই ফল এই ন্যাটোর কোনো মিত্র দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া!

এই ফল এই ন্যাটোর কোনো মিত্র দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া! সতর্ক করল মার্কিন গোয়েন্দারা

অ্যাসাইলাম সিকারদের জোর করে পলাতে বাধ্য করা হচ্ছে টানা তিনবারের মতো!

অ্যাসাইলাম সিকারদের জোর করে পলাতে বাধ্য করা হচ্ছে টানা তিনবারের মতো! থেটফোর্ডে উত্তেজনা থামছেই না

0 Comments