কোকা-কোলার কাস্টম ক্যান নিয়ে বিতর্ক: ‘ঈশ্বরই প্রভু’ লিখা নিষিদ্ধ অথচ ‘শিশুকামী প্রাইড' লিখায় মিলল অনুমতি
কোকা-কোলার নিজের পছন্দমতো লেখা দিয়ে ক্যান তৈরির অনলাইন ব্যবস্থায় কোন বার্তা গ্রহণ করা হচ্ছে আর কোনটি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফক্স নিউজ ডিজিটালের পরীক্ষায় দেখা গেছে, ‘যিশুই প্রভু’ ও ‘আমেরিকাকে আবার মহান করো’র মতো ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বার্তা প্রত্যাখ্যান করলেও একই ব্যবস্থা ‘নাস্তিক হিসেবে গর্বিত’, ‘পুলিশের অর্থায়ন বন্ধ করো’ এবং শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনকারী অত্যন্ত আপত্তিকর একটি বার্তার নমুনা তৈরি করতে দিয়েছে।
বিষয়টি সামনে আসার পর কোকা-কোলা জানিয়েছে, এটি কোম্পানির নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন নয়। তাদের দাবি, অনলাইন ব্যবস্থায় একটি ‘প্রযুক্তিগত সমস্যা’ তৈরি হয়েছিল। সমস্যাটি সমাধানের কাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট নমুনা দেখানোর সুবিধা বন্ধ এবং নতুন ব্যক্তিগতকৃত পণ্যের অর্ডার সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
ফক্স নিউজ ডিজিটাল কোকা-কোলার অনলাইন ক্যান তৈরির ব্যবস্থায় ১৮ অক্ষরের মধ্যে বিভিন্ন শব্দ ও বাক্য লিখে পরীক্ষা চালায়। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যিশুই প্রভু’ এবং ‘আল্লাহই প্রভু’ লেখা গ্রহণ করেনি ব্যবস্থাটি। একইভাবে ‘আমেরিকাকে আবার মহান করো’ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির নামও প্রত্যাখ্যান করা হয়।
কোনো বার্তা প্রত্যাখ্যাত হলে ব্যবহারকারীদের জানানো হচ্ছিল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সংগঠন, পরিচিত ব্যক্তি, জনপরিচিত ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দল বা নিবন্ধিত বাণিজ্যিক নামের সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দের পাশাপাশি ধর্মীয়, রাজনৈতিক কিংবা অনুপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত বার্তা অনুমোদন নাও পেতে পারে।
কিন্তু একই পরীক্ষায় ‘ঈশ্বর মৃত’, ‘নাস্তিক হিসেবে গর্বিত’ এবং ‘পুলিশের অর্থায়ন বন্ধ করো’ ধরনের বার্তা দিয়ে ক্যানের নমুনা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে ফক্স নিউজ ডিজিটাল। এমনকি শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এমন একটি চরম আপত্তিকর বার্তাও স্বয়ংক্রিয় যাচাই ব্যবস্থা এড়িয়ে নমুনায় দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও একই ধরনের অসামঞ্জস্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। ফক্সের পরীক্ষায় ‘ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ান’ বার্তাটি গ্রহণ করা হলেও ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো’ প্রত্যাখ্যান করা হয়। আবার শ্বেতাঙ্গ বা কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয় নিয়ে গর্ব প্রকাশকারী কয়েকটি বার্তা এবং ‘কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনও গুরুত্বপূর্ণ’ বার্তাটিও অনুমোদন পায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে অনলাইনে কোনো বার্তা দিয়ে ক্যানের নমুনা তৈরি হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেই বার্তাসহ ক্যান বা বোতল তৈরি করে সরাসরি গ্রাহকের কাছে পাঠানো হতো। কোকা-কোলার নিয়ম অনুযায়ী, অর্ডার জমা দেওয়ার পর সেটি আরও একটি যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা।
বিতর্কের পর কোকা-কোলা জানায়, তাদের ‘শেয়ার আ কোক’ কর্মসূচির ব্যক্তিগতকরণ সুবিধাটি গ্রাহকদের বিশেষ নাম বা বার্তা দিয়ে ক্যান ও বোতল তৈরির সুযোগ দিতে চালু করা হয়েছিল। তবে অনলাইনে ক্যানের নমুনা দেখানোর ব্যবস্থায় একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে এবং সেটি ঠিক করতে কাজ করছে কোম্পানি।
কোম্পানির বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, নিবন্ধিত বাণিজ্যিক নামসংক্রান্ত এবং অন্যান্য অনুপযুক্ত বা নিষিদ্ধ বার্তাসহ পণ্য তৈরি ঠেকাতে তাদের আলাদা যাচাই ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে অনলাইনে কোনো বার্তার নমুনা দেখা গেলেও সেটি চূড়ান্তভাবে উৎপাদনের অনুমোদন পাবে, এমন নিশ্চয়তা ছিল না।
ফক্সের পরীক্ষায় আরও দাবি করা হয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শব্দের মধ্যে ফাঁকা জায়গা রাখা অথবা অক্ষরের পরিবর্তে সংখ্যা ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় যাচাই ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল। ফলে অনলাইন ব্যবস্থাটির শব্দ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কোকা-কোলার ব্যক্তিগতকৃত ক্যান তৈরির ব্যবস্থা নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন নয়। ২০২১ সালেও অনলাইন ব্যবস্থায় ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বার্তা গ্রহণ এবং প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যের অভিযোগ সামনে এসেছিল।
তবে এবারের ঘটনায় কোকা-কোলা আপত্তিকর বার্তাগুলো অনুমোদন করাকে নিজেদের নীতি হিসেবে স্বীকার করেনি। কোম্পানির বক্তব্য, নমুনা তৈরির ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেই এমন অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট সুবিধা বন্ধ করে নতুন অর্ডারও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
বিশ্ব
View moreযিশুর সঙ্গে সাক্ষাতের আশ্বাস দিয়ে অনুসারীদের অনাহারে থাকতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে ১৯০ শিশুসহ ১৯১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় কেনিয়ার ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতা পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। একই মামলায় তাঁর ২৮ সহযোগীকেও ১০ থেকে ১৬০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপকূলীয় শহর মোম্বাসার হাইকোর্টের বিচারক ডায়ানা কাবেদজা-মোচাচে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, ম্যাকেঞ্জি তাঁর অনুসারীদের বিশ্বাস করিয়েছিলেন, অনাহারে থেকে মৃত্যুবরণ করলে তাঁরা যিশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন এবং স্বর্গে যেতে পারবেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন ‘গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল চার্চ’-এর অনুসারীদের নিয়ে কেনিয়ার কিলিফি কাউন্টির শাকাহোলা বনাঞ্চলে একটি বসতি গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে ধর্মীয় নির্দেশনার নামে ধাপে ধাপে নারী, পুরুষ ও শিশুদের খাবার গ্রহণ বন্ধ করতে বলা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, শিশুদের দিয়ে এই অনাহার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল এবং নির্দেশ অমান্যকারীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো। মামলার ১৯১টি হত্যার অভিযোগের মধ্যে ১৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে অনাহার ও অপুষ্টিতে। তাঁদের মধ্যে ১৮২ জন শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। বাকি আট শিশুকে সরাসরি হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয় ম্যাকেঞ্জিকে। এই দুই ধরনের হত্যার জন্য পৃথকভাবে ১০০ বছর করে মোট ২০০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তাঁর সহযোগীদের মধ্যে যাঁরা অনুসারীদের অনাহারে থাকতে বাধ্য করা, পাহারা দেওয়া কিংবা মরদেহ গোপন করার কাজে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ ম্যাকেঞ্জির সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিল। তবে বিচারক সেই আবেদন নাকচ করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, অভিযুক্ত গোষ্ঠীর বিশ্বাসে মৃত্যুকে যিশুর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পথ হিসেবে দেখা হতো। সে কারণে মৃত্যুদণ্ডকে তাঁরা শাস্তির পরিবর্তে একধরনের পুরস্কার বা বিজয় হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। এই বিবেচনায় তাঁকে দীর্ঘ মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন ম্যাকেঞ্জির আইনজীবী। ২০২৩ সালে কেনিয়ার উপকূলীয় কিলিফি কাউন্টির শাকাহোলা বনাঞ্চলে গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। তদন্তকারীরা ওই এলাকা থেকে চার শতাধিক মরদেহ ও কঙ্কাল উদ্ধার করেন। নিহতদের অধিকাংশই ম্যাকেঞ্জির অনুসারী ছিলেন। তবে সব মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় কেনিয়ার ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম তদারকি এবং উগ্রপন্থা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ম্যাকেঞ্জি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ১৯১ জনের মৃত্যুর মামলার বিচার শেষ হলেও শাকাহোলা বনাঞ্চলে আরও মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক মামলা রয়েছে। সেসব মামলায় সন্ত্রাসবাদ, শিশু নির্যাতন ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগও রয়েছে। কেনিয়ার তদন্ত বিভাগ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ধর্মীয় প্রচার, সংগঠিত নিয়ন্ত্রণ এবং অনুসারীদের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়গুলো তদন্তে গুরুত্ব পেয়েছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, আল জাজিরা ও কেনিয়া নিউজ এজেন্সি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গোপন তথ্য দিলে ২০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র
‘জেডি, হাবিবি’ বলে ভাইস প্রেসিডেন্টকে খোঁচা, আরব বিশ্বে প্রশংসায় ভাসছেন আবদুল এল-সায়েদ
এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিদ্র ওজোন স্তরে, কারণ জানাল নাসা
লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নাইকির লোগোযুক্ত পোশাক কেনা, বিক্রি ও পরা থেকে মুসলমানদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ফতোয়া জারি করেছে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ দারুল ইফতা। প্রতিষ্ঠানটির নাম ও পরিচিত ‘সুইশ’ লোগোকে গ্রিক পুরাণের দেবী নাইকির সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, এসব প্রতীক বহন করা পোশাক ব্যবহার করলে বহুঈশ্বরবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতীকের প্রচার হয়। গত ১ নভেম্বর জারি করা ৬৬৯৭ নম্বর ফতোয়াটি অনুমোদন করেছেন লিবিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি সাদিক আল-ঘারিয়ানি। দারুল ইফতার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘নাইকি’ নামটি গ্রিক পুরাণের বিজয়ের দেবী নাইকির নাম থেকে এসেছে। আর প্রতিষ্ঠানটির বিখ্যাত বাঁকানো লোগোটি ওই দেবীর ডানার আদলে তৈরি। এ কারণে লোগোযুক্ত পোশাক ব্যবহারকে ইসলামী বিশ্বাসের পরিপন্থী বলে মনে করছে সংস্থাটি। ফতোয়ায় আরও বলা হয়েছে, নাইকি ইসরায়েলকে সমর্থন করে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ইসরায়েলকে সমর্থনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য বর্জনেরও আহ্বান জানিয়েছে দারুল ইফতা। সংস্থাটি ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর প্রকাশিত নিজস্ব একটি বিবৃতির কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল-সমর্থক বলে বিবেচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে নাইকির বিরুদ্ধে এই অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই ফতোয়াকে লিবিয়া সরকারের জারি করা কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দারুল ইফতা দেশটির প্রভাবশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হলেও তাদের ফতোয়া সরাসরি রাষ্ট্রীয় আইনে পরিণত হয় না। নাইকির পণ্য ব্যবহার, কেনাবেচা অব্যাহত রাখলে কী ধরনের আইনি শাস্তি হতে পারে, সে বিষয়েও ফতোয়ায় কিছু বলা হয়নি। ফলে এটি মূলত ধর্মীয় নির্দেশনা, সরকারি নিষেধাজ্ঞা নয়। লিবিয়ায় নাইকির কোনো নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র নেই। তবে দেশটির বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানে ব্র্যান্ডটির পণ্য পাওয়া যায়। স্থানীয় বাজারে নকল নাইকি পণ্যও বিক্রি হয়। ফলে ফতোয়ার প্রভাব দেশটির সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ওপর কতটা পড়বে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে গত বছর ফরাসি বিলাসবহুল অলংকার ও ঘড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আরপেলসের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ফতোয়া দিয়েছিল দারুল ইফতা। প্রতিষ্ঠানটির অলংকারে ব্যবহৃত চার পাতার ক্লোভার নকশাকে খ্রিষ্টধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, নকশাটি ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নাইকির বিরুদ্ধে নতুন ফতোয়াটি লিবিয়ায় ধর্মীয় রক্ষণশীলতার প্রভাব নিয়ে চলমান আলোচনাকে আবারও সামনে এনেছে। সংবাদ সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, লিবিয়া অবজারভার।
ফ্রান্সজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ, বেতন ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি
মোবাইল গেম দিয়ে ১৩ কোটি ডলার প্রতারণা, যুবকের ৪৫ হাজার বছরের বেশি কারাদণ্ড
ইরানকে ৯০টি হেলিকপ্টার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র দিতে চুক্তি রাশিয়ার
যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নির্দিষ্ট ধরনের পর্নোগ্রাফিক ছবি বা ভিডিও নিজের কাছে রাখা এবং প্রকাশ করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়া এই আইনে শ্বাসরোধের দৃশ্য, নির্দিষ্ট আত্মীয়ের মধ্যে যৌন সম্পর্কের দৃশ্য এবং অপ্রাপ্তবয়স্কের ছদ্মবেশে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন কর্মকাণ্ডের চিত্রযুক্ত সামগ্রী নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করে এসব সামগ্রী প্রকাশ বা অন্যের কাছে ছড়ালে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আর নিষিদ্ধ সামগ্রী নিজের কাছে রাখার অপরাধে বিষয়ভেদে দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাস্তব মানুষের মতো দেখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবিও এই আইনের আওতায় পড়বে। নতুন বিধানটি যুক্তরাজ্যের অপরাধ ও পুলিশিং আইন ২০২৬-এর অংশ। এতে তিন ধরনের পর্নোগ্রাফিক সামগ্রীকে বিশেষভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রথমত, কোনো ব্যক্তির গলা চেপে ধরা বা শ্বাস নেওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ার বাস্তবসম্মত দৃশ্য। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মধ্যে যৌন সম্পর্কের দৃশ্য, এমনকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাস্তবে আত্মীয় না হলেও যদি তাঁদের আত্মীয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তৃতীয়ত, এমন যৌন কর্মকাণ্ডের দৃশ্য, যেখানে অন্তত একজনকে ১৬ বছরের কম বয়সী বলে মনে হয় অথবা তাঁকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে অভিনয় করতে দেখা যায়। তবে এই বিধান সব ধরনের পর্নোগ্রাফি বা প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে করা সাধারণ যৌন অভিনয়ের ওপর blanket নিষেধাজ্ঞা নয়। নতুন আইনে নিষিদ্ধ সামগ্রী নিজের কাছে রাখার শাস্তি অপরাধের ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। শ্বাসরোধ বা নির্দিষ্ট আত্মীয়ের মধ্যে যৌন সম্পর্কের দৃশ্যসংবলিত পর্নোগ্রাফি রাখলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আর ১৬ বছরের কম বয়সী হিসেবে উপস্থাপিত ব্যক্তিকে নিয়ে যৌন কর্মকাণ্ডের দৃশ্যসংবলিত সামগ্রী রাখলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তিন ধরনের নিষিদ্ধ সামগ্রী প্রকাশ, আপলোড, পাঠানো, ভাগাভাগি বা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আইনের আওতায় শুধু ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সামগ্রীই নয়, ব্যক্তিগত মুঠোফোন, কম্পিউটার, অনলাইন অ্যাকাউন্ট কিংবা ক্লাউডে সংরক্ষিত ছবিও পড়তে পারে। আগে থেকে এসব সামগ্রী নিজের কাছে থাকলে আইন কার্যকরের আগেই স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার নির্দেশনা দিয়েছিল বিচার মন্ত্রণালয়। একইভাবে অনলাইনে আপলোড করা নিষিদ্ধ ছবি বা ভিডিও অন্যদের দেখার সুযোগ থাকলে সেগুলোও সরিয়ে ফেলতে হবে। তবে কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন ছবি পেয়ে গেলে এবং অযৌক্তিক সময় পর্যন্ত সেটি নিজের কাছে না রাখলে নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, সহিংসতামূলক যৌন দৃশ্যের সহজলভ্যতা মানুষের আচরণ ও সম্পর্ক সম্পর্কে ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সহিংস আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত অক্টোবরে দেশটির বিচার প্রতিমন্ত্রী অ্যালেক্স ডেভিস-জোনস বলেন, এই আইনের উদ্দেশ্য নিরীহ যৌন পছন্দকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা নয়। বরং নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে তুলে ধরে, এমন সামগ্রীর বিস্তার রোধ করাই এর লক্ষ্য। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যারোনেস গ্যাবি বার্টিনের নেতৃত্বে পরিচালিত পর্যালোচনার সুপারিশের ভিত্তিতেও আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে নতুন আইন নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বাক্স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের আশঙ্কা, আইনের কিছু শব্দ ও সংজ্ঞা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। ফলে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে তৈরি কিছু যৌন দৃশ্যও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। বিশেষ করে শ্বাসরোধ বা শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা দেওয়ার সংজ্ঞা আইনে নির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। বিচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গলা চেপে ধরার পাশাপাশি মুখ ও নাক ঢেকে দেওয়া কিংবা বুকের ওপর চাপ সৃষ্টি করে শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত করাও শ্বাসরোধের আওতায় আসতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট ছবি আইনের আওতায় পড়বে কি না, তা শেষ পর্যন্ত আদালত নির্ধারণ করবে। আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সংসদ সদস্য জেসিকা আসাতো নতুন বিধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কিছু বক্তব্য সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে হওয়া কিছু যৌন কর্মকাণ্ড নিয়েও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমালোচকদের মতে, আইনের অস্পষ্টতা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিভিত্তিক যৌন আচরণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিষিদ্ধ করা হয়েছে নির্দিষ্ট ক্ষতিকর ও বাস্তবসম্মত দৃশ্যযুক্ত সামগ্রী, সব ধরনের প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন নয়। এদিকে, অনলাইনে নিষিদ্ধ সামগ্রীর বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপরও যুক্তরাজ্যের অনলাইন নিরাপত্তা আইনের আওতায় দায়িত্ব রয়েছে। দেশটির যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম এসব নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড অথবা তাদের যোগ্য বৈশ্বিক আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। তবে এটি নতুন ফৌজদারি আইনের অধীনে ব্যক্তির কারাদণ্ডের বিধান থেকে আলাদা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, নতুন বিধানটি মূলত ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কার্যকর হয়েছে। স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে এ ধরনের সামগ্রী নিয়ন্ত্রণে পৃথক আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে পুরো যুক্তরাজ্যে একই নিয়ম কার্যকর হয়েছে বলে মনে করার সুযোগ নেই। সংবাদ সূত্র: যুক্তরাজ্যের বিচার মন্ত্রণালয়, সরকারি আইনবিষয়ক ওয়েবসাইট ও নিউজউইক।
আটতলা থেকে পড়ে আধঘণ্টা অচেতন, জ্ঞান ফিরেই নির্বিকার ভঙ্গিতে ২০ মিনিট মোবাইল ব্যবহার করলেন নারী
অসুস্থ মায়ের সেবায় পড়াশোনা ছাড়ার সিদ্ধান্ত, পাশে দাঁড়াল সহপাঠীরা