কোকা-কোলার কাস্টম ক্যান নিয়ে বিতর্ক: ‘ঈশ্বরই প্রভু’ লিখা নিষিদ্ধ অথচ ‘শিশুকামী প্রাইড' লিখায় মিলল অনুমতি
কোকা-কোলার নিজের পছন্দমতো লেখা দিয়ে ক্যান তৈরির অনলাইন ব্যবস্থায় কোন বার্তা গ্রহণ করা হচ্ছে আর কোনটি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফক্স নিউজ ডিজিটালের পরীক্ষায় দেখা গেছে, ‘যিশুই প্রভু’ ও ‘আমেরিকাকে আবার মহান করো’র মতো ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বার্তা প্রত্যাখ্যান করলেও একই ব্যবস্থা ‘নাস্তিক হিসেবে গর্বিত’, ‘পুলিশের অর্থায়ন বন্ধ করো’ এবং শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনকারী অত্যন্ত আপত্তিকর একটি বার্তার নমুনা তৈরি করতে দিয়েছে।
বিষয়টি সামনে আসার পর কোকা-কোলা জানিয়েছে, এটি কোম্পানির নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন নয়। তাদের দাবি, অনলাইন ব্যবস্থায় একটি ‘প্রযুক্তিগত সমস্যা’ তৈরি হয়েছিল। সমস্যাটি সমাধানের কাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট নমুনা দেখানোর সুবিধা বন্ধ এবং নতুন ব্যক্তিগতকৃত পণ্যের অর্ডার সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
ফক্স নিউজ ডিজিটাল কোকা-কোলার অনলাইন ক্যান তৈরির ব্যবস্থায় ১৮ অক্ষরের মধ্যে বিভিন্ন শব্দ ও বাক্য লিখে পরীক্ষা চালায়। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যিশুই প্রভু’ এবং ‘আল্লাহই প্রভু’ লেখা গ্রহণ করেনি ব্যবস্থাটি। একইভাবে ‘আমেরিকাকে আবার মহান করো’ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির নামও প্রত্যাখ্যান করা হয়।
কোনো বার্তা প্রত্যাখ্যাত হলে ব্যবহারকারীদের জানানো হচ্ছিল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সংগঠন, পরিচিত ব্যক্তি, জনপরিচিত ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দল বা নিবন্ধিত বাণিজ্যিক নামের সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দের পাশাপাশি ধর্মীয়, রাজনৈতিক কিংবা অনুপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত বার্তা অনুমোদন নাও পেতে পারে।
কিন্তু একই পরীক্ষায় ‘ঈশ্বর মৃত’, ‘নাস্তিক হিসেবে গর্বিত’ এবং ‘পুলিশের অর্থায়ন বন্ধ করো’ ধরনের বার্তা দিয়ে ক্যানের নমুনা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে ফক্স নিউজ ডিজিটাল। এমনকি শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এমন একটি চরম আপত্তিকর বার্তাও স্বয়ংক্রিয় যাচাই ব্যবস্থা এড়িয়ে নমুনায় দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও একই ধরনের অসামঞ্জস্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। ফক্সের পরীক্ষায় ‘ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ান’ বার্তাটি গ্রহণ করা হলেও ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো’ প্রত্যাখ্যান করা হয়। আবার শ্বেতাঙ্গ বা কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয় নিয়ে গর্ব প্রকাশকারী কয়েকটি বার্তা এবং ‘কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনও গুরুত্বপূর্ণ’ বার্তাটিও অনুমোদন পায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে অনলাইনে কোনো বার্তা দিয়ে ক্যানের নমুনা তৈরি হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেই বার্তাসহ ক্যান বা বোতল তৈরি করে সরাসরি গ্রাহকের কাছে পাঠানো হতো। কোকা-কোলার নিয়ম অনুযায়ী, অর্ডার জমা দেওয়ার পর সেটি আরও একটি যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা।
বিতর্কের পর কোকা-কোলা জানায়, তাদের ‘শেয়ার আ কোক’ কর্মসূচির ব্যক্তিগতকরণ সুবিধাটি গ্রাহকদের বিশেষ নাম বা বার্তা দিয়ে ক্যান ও বোতল তৈরির সুযোগ দিতে চালু করা হয়েছিল। তবে অনলাইনে ক্যানের নমুনা দেখানোর ব্যবস্থায় একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে এবং সেটি ঠিক করতে কাজ করছে কোম্পানি।
কোম্পানির বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, নিবন্ধিত বাণিজ্যিক নামসংক্রান্ত এবং অন্যান্য অনুপযুক্ত বা নিষিদ্ধ বার্তাসহ পণ্য তৈরি ঠেকাতে তাদের আলাদা যাচাই ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে অনলাইনে কোনো বার্তার নমুনা দেখা গেলেও সেটি চূড়ান্তভাবে উৎপাদনের অনুমোদন পাবে, এমন নিশ্চয়তা ছিল না।
ফক্সের পরীক্ষায় আরও দাবি করা হয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শব্দের মধ্যে ফাঁকা জায়গা রাখা অথবা অক্ষরের পরিবর্তে সংখ্যা ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় যাচাই ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল। ফলে অনলাইন ব্যবস্থাটির শব্দ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কোকা-কোলার ব্যক্তিগতকৃত ক্যান তৈরির ব্যবস্থা নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন নয়। ২০২১ সালেও অনলাইন ব্যবস্থায় ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বার্তা গ্রহণ এবং প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যের অভিযোগ সামনে এসেছিল।
তবে এবারের ঘটনায় কোকা-কোলা আপত্তিকর বার্তাগুলো অনুমোদন করাকে নিজেদের নীতি হিসেবে স্বীকার করেনি। কোম্পানির বক্তব্য, নমুনা তৈরির ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেই এমন অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট সুবিধা বন্ধ করে নতুন অর্ডারও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreরাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। শুক্রবার ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়া বিলটির আওতায় বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ভারত, চীন, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া। তবে শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না। বিলটি আইনে পরিণত হলে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে। বিলটির নাম ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর এই উদ্যোগের পক্ষে কাজ করেছিলেন। বিলটির মূল লক্ষ্য ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে আসা আয় কমানো। এর আওতায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে। বর্তমানে ওই তালিকায় চীন ও ভারতের পাশাপাশি আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার নাম রয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশই রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এসব দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সিনেটে অনুমোদনের পর বিলটি এখন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে যাবে। গ্রীষ্মকালীন বিরতি শেষে হাউসের অধিবেশন ৩১ আগস্ট পুনরায় শুরু হওয়ার কথা। সেখানে বিলটি পাস হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। তবে হাউসে বিলটির ভবিষ্যৎ এখনো নিশ্চিত নয়। রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কংগ্রেসে ব্যাপক সমর্থন থাকলেও কিছু আইনপ্রণেতা প্রেসিডেন্টকে নতুন ও বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হলে শেষ পর্যন্ত মার্কিন আমদানিকারক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদেরও বাড়তি খরচ বহন করতে হতে পারে। বিলে শুধু রাশিয়ার জ্বালানির ক্রেতাদের লক্ষ্য করা হয়নি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির বিভিন্ন কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ধনকুবের এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৯৬ সালের ইরান স্যাংশনস অ্যাক্টের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে ইরানের জ্বালানি খাতে নির্দিষ্ট ধরনের বিনিয়োগ ও লেনদনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সিনেটে বিলটি পাস হওয়ার পর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল বলেন, লিন্ডসে গ্রাহাম বেঁচে থাকলে এই অগ্রগতিতে গর্বিত হতেন। তার মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের লক্ষ্য হচ্ছে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করে এমন পক্ষগুলোর ওপর চাপ বাড়ানো। তবে বিলটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ভারত বা চীনের ওপর এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়ে যায়নি। সিনেটের অনুমোদন আইন প্রণয়নের একটি ধাপ মাত্র। হাউসের অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পর বিলটি আইনে পরিণত হলে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করতে পারবেন।
যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ
কোকা-কোলার কাস্টম ক্যান নিয়ে বিতর্ক: ‘ঈশ্বরই প্রভু’ লিখা নিষিদ্ধ অথচ ‘শিশুকামী প্রাইড' লিখায় মিলল অনুমতি
ইহুদিদের উদ্বেগ স্বত্তেও, ইজরায়েল বিরোধী চরমপন্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে আগ্রহী এল-সায়েদ
ম্যাসাচুসেটসের বহুল আলোচিত লিন্ডসে ক্ল্যান্সি হত্যা মামলার বিচার চলাকালে আদালতের একটি ‘হট মাইক’ মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিজের আট মাস বয়সী ছেলে ক্যালানের ময়নাতদন্তের ছবি দেখে ক্ল্যান্সি কান্নায় ভেঙে পড়ার সময় প্রসিকিউশনের টেবিলের দিক থেকে আসা একটি মন্তব্যকে তার আইনজীবী ‘শাট হার আপ’ বা ‘ওকে চুপ করাও’ বলে দাবি করেছেন। তবে প্রসিকিউশন বলছে, কথাটি ছিল ‘শাট ইট অফ’, অর্থাৎ স্ক্রিন থেকে ময়নাতদন্তের ছবি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ। শুক্রবার প্লাইমাউথ সুপিরিয়র কোর্টে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। ক্ল্যান্সির ডিফেন্স অ্যাটর্নি কেভিন রেডিংটন আগের দিনের আদালতের ভিডিওতে ধরা পড়া ওই মন্তব্য নিয়ে আপত্তি তোলেন। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার, যখন মেডিকেল এক্সামিনার ডা. কিম্বারলি স্প্রিঙ্গার আদালতে ক্ল্যান্সির তিন সন্তানের ময়নাতদন্ত নিয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন। এ সময় জুরিদের সামনে শিশুদের ময়নাতদন্তের ছবিও দেখানো হয়। নিজের আট মাস বয়সী ছেলে ক্যালানের ছবি স্ক্রিনে আসার পর ক্ল্যান্সি দৃশ্যত ভেঙে পড়েন। আদালতের ভিডিওতে তাকে কাঁদতে দেখা যায়। সেই সময়ই একটি মাইক্রোফোনে নিচু স্বরের একটি মন্তব্য ধরা পড়ে, যা পরদিন আদালতে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। রেডিংটনের দাবি, প্রসিকিউশনের টেবিল থেকে কেউ ‘শাট হার আপ’ বলেছিলেন। তিনি আদালতে এ ধরনের মন্তব্যকে অসম্মানজনক বলে অভিযোগ করেন এবং বিষয়টি বিচারকের সামনে তোলেন। তবে প্লাইমাউথ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস রেডিংটনের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রসিকিউশনের বক্তব্য, কথাটি ছিল ‘শাট ইট অফ’। তাদের দাবি, ময়নাতদন্তের ছবি স্ক্রিন থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছিল, ক্ল্যান্সিকে চুপ করানোর কথা নয়। ফলে অডিওতে আসলে কী বলা হয়েছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এখন সম্পূর্ণ বিপরীত। বিচারক উইলিয়াম সুলিভান বিষয়টি নিয়ে আদালতে সতর্কতা জারি করেন। বিচারক জানান, বিচার কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টিকারী মন্তব্য সহ্য করা হবে না এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতকক্ষ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। ৩৫ বছর বয়সী লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে তার তিন সন্তান, পাঁচ বছর বয়সী কোরা, তিন বছর বয়সী ডসন এবং আট মাস বয়সী ক্যালানকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারিতে পরিবারের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। ক্ল্যান্সি হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এমনটি নয়, বর্তমানে তার বিচার চলছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ক্ল্যান্সি পরিকল্পিতভাবে এক্সারসাইজ ব্যান্ড ব্যবহার করে সন্তানদের শ্বাসরোধ করেন। ঘটনার পর তিনি বাড়ির জানালা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও মামলার তথ্য থেকে জানা যায়। গুরুতর আঘাতের কারণে বর্তমানে তিনি কোমরের নিচের অংশে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন। অন্যদিকে ডিফেন্সের মূল বক্তব্য, ঘটনার সময় ক্ল্যান্সি গুরুতর মানসিক অসুস্থতার মধ্যে ছিলেন। তার আইনজীবীরা দাবি করছেন, সন্তান জন্মের পর তিনি পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং একাধিক ওষুধের প্রভাবও তার মানসিক অবস্থার ওপর পড়েছিল। প্রসিকিউশন অবশ্য এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করছে। তাদের বক্তব্য, ক্ল্যান্সির কর্মকাণ্ড ও ঘটনার আগে-পরে তার আচরণ বিশ্লেষণ করলে তিনি নিজের কাজ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এই কারণেই মামলাটির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন এখন শুধু তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নয়। হত্যাকাণ্ডের সময় ক্ল্যান্সির মানসিক অবস্থা কী ছিল এবং আইন অনুযায়ী তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অপরাধমূলকভাবে দায়ী কি না, সেটিই বিচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চলমান বিচার ইতোমধ্যে ম্যাসাচুসেটসসহ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পোস্টপার্টাম মানসিক স্বাস্থ্য, গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত মায়েদের চিকিৎসা এবং ফৌজদারি মামলায় মানসিক অবস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যেই আদালতের ‘হট মাইক’ মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক মামলাটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে অডিওতে ‘শাট হার আপ’ নাকি ‘শাট ইট অফ’ বলা হয়েছিল, সে বিষয়ে দুই পক্ষের দাবি পরস্পরবিরোধী হওয়ায় কোনো একটি বক্তব্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি।
৩৫ বছর আগের মার্স বার খুঁজে অবাক ক্লিনার, বর্তমান চকলেটের পাশে রাখতেই চোখ কপালে
তিনটি ডিগ্রি, তবুও পরিবারের খাবার জোগাতে হিমশিম চিকিৎসক ইয়াসমানি
মক্কা চুক্তির পক্ষে মুসলিম বিশ্ব, সমর্থন জানাল ওআইসি ও একাধিক দেশ
লিবিয়ার উপকূল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভূমধ্যসাগরীয় পথ পাড়ি দিয়ে গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলের ক্রিত (ক্রিট) দ্বীপে পৌঁছানোর পর গত ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে অন্তত ২০২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক। এছাড়া কয়েকজন মিশরীয় নাগরিকও রয়েছেন। গ্রিক দৈনিক দিমোকরাতিয়া এবং মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি নজরদারি বিমান প্রথমে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়েরাপেত্রা উপকূলের কাছে একটি নৌকা শনাক্ত করে। পরে গ্রিক কোস্টগার্ডের টহল দল এবং একটি মাছ ধরার নৌকার সহায়তায় ৪০ জন আরোহীকে নিরাপদে ইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। বন্দরে পৌঁছানোর পর উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের পরিচয় যাচাই, নিবন্ধন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই একই এলাকায় আরও দুটি নৌকায় করে ১১২ জন অভিবাসী পৌঁছান। প্রথম নৌকায় ছিলেন ৫৬ জন। তাদের মধ্যে ৩১ জন সুদানের এবং ২৫ জন বাংলাদেশের নাগরিক। দ্বিতীয় নৌকায় থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি এবং ৯ জন মিশরীয় নাগরিক ছিলেন। গত কয়েক দিনে ক্রিত দ্বীপে অভিবাসীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে উদ্ধার হওয়া সবাইকে পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। এদিকে পৃথক এক অভিযানে অভিবাসী পাচারের অভিযোগে দক্ষিণ সুদানের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষের দাবি, আগের একটি ঘটনায় ৫০ জন অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা পরিচালনার সঙ্গে সে জড়িত ছিল। অভিবাসীদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নৌকাটি লিবিয়ার তব্রুক শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা বেড়েছে। যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য এবং উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করছেন। তবে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ছোট নৌকায় দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার কারণে প্রতিবছর বহু মানুষ প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন। গ্রিক কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্রিত ও আশপাশের উপকূলে অভিবাসী বহনকারী নৌকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: গ্রিক দৈনিক দিমোকরাতিয়া, মিডল ইস্ট মনিটর।
‘স্কোয়াটার্স রাইটস’ দেখিয়ে ৪ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি দখল, প্রতারণার দায়ে ৭৮ বছর বয়সী দাদির কারাদণ্ড
যুদ্ধের এক দশকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে উন্নয়নের বহু বছর পিছিয়ে ইয়েমেন, দায় হুথিদের!