যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এগিয়ে নেওয়া হবে না। তার ভাষায়, সৌদি আরবকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এ যোগ দিতে হবে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবের এখন আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার সময় এসেছে। তিনি দাবি করেন, এই শর্ত নতুন নয়; বরং শুরু থেকেই এটি দুই পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়ার অংশ ছিল। এর আগে বুধবার মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও সহায়তায় বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তিটি এখন পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করে, তাহলে এই পরমাণু চুক্তি কার্যকর হবে না। তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি শুধু শান্তিপূর্ণ বেসামরিক ব্যবহারের জন্য হবে এবং এতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে না। শুক্রবারও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তিনি জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করেননি। তবে তার দাবি, সৌদি আরব এবং সংশ্লিষ্ট সবাই জানত যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাই চুক্তির অন্যতম শর্ত। এদিকে ট্রাম্পের নতুন শর্তের বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় পথ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। এই অবস্থান সৌদি আরব একাধিকবার প্রকাশ্যে পুনর্ব্যক্ত করেছে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। হোয়াইট হাউসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা কয়েক দশকব্যাপী অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এই ধরনের চুক্তি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তির বিস্তার নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তবে মার্কিন প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, চুক্তিটি কেবল শান্তিপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনের জন্য এবং এটি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্ভাব্য বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর করতে হলে রিয়াদকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিতে যুক্ত হতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবকে ‘আব্রাহাম চুক্তি’তে যোগ দিয়ে ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মার্কিন জ্বালানি বিভাগের অধীনে যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির আলোচনা চলছে, তা আব্রাহাম চুক্তিতে সৌদির সম্মতির ওপর নির্ভর করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করে আসছে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে। তবে ফিলিস্তিন ইস্যু এবং গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি শক্তি হলেও দেশটি নিজেদের অর্থনীতি বহুমুখী করার লক্ষ্যে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা চায় রিয়াদ। তবে এই ধরনের চুক্তিতে প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও পারমাণবিক বিস্তার রোধের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ সতর্ক করে আসছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু হলে ভবিষ্যতে অঞ্চলটিতে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের মধ্যে সৌদি আরবের এই উদ্যোগকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে পারমাণবিক ইস্যু বহু বছর ধরে একটি সংবেদনশীল বিষয়। ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা এই ইস্যুকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ‘আব্রাহাম চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে সুদান ও মরক্কোও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। তবে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি। রিয়াদ বারবার জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি কঠিন। ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, ইসরায়েল-আরব কূটনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পূর্ণাঙ্গ পাঠ দ্রুত প্রকাশের চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তির লিখিত ভাষাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ এতে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আড়ালের সমঝোতা বা ‘ব্যাক-চ্যানেল’ অঙ্গীকারগুলোর প্রতিফলন নেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া বক্তব্যে কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির পাঠ ইচ্ছাকৃতভাবে বেশ অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো সামনে শুরু হতে যাওয়া জটিল ও কারিগরি পর্যায়ের সরাসরি আলোচনার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। একই সঙ্গে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে ইরান নিজ দেশের জনগণের কাছে চুক্তিটিকে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যে দেড় পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারকের কথা বলেছেন, তাতে ইরানের দেওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের উল্লেখ নেই। তাদের দাবি, এসব প্রতিশ্রুতিই যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তিতে সম্মত হতে অতিরিক্ত আস্থা জুগিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “এমওইউর ভাষা নিয়ে মানুষের বেশি কিছু অনুমান করা উচিত নয়।” তিনি চুক্তিটিকে মূলত একটি “রাজনৈতিক দলিল” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, “আসল দলিলের চেয়ে আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়াগুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতা করা এবং জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হবে।” তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আলোচনায় অগ্রগতির ওপর নির্ভর করেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও তহবিল ছাড় করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও শর্ত নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এসব সুবিধা কার্যকর হবে না। চুক্তির পাঠ দেখেছেন এমন একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, এতে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই ইউরেনিয়াম ধ্বংসের প্রক্রিয়া তদারকি করবে। চুক্তিতে কেবল বলা হয়েছে, ইরান “কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না”। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তিতেও তেহরান একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, আনুষ্ঠানিক নথিতে না থাকলেও গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশিত কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সমন্বয়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের বিষয়টিও রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। চুক্তির আর্থিক অংশে তুলনামূলকভাবে বেশি বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হলে ভবিষ্যতে ইরান ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি উন্নয়ন তহবিল থেকে সুবিধা পেতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স দুজনই জোর দিয়ে বলেছেন, এই তহবিলে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করা হবে না। ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়ের বিষয়েও চুক্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ আলোচনায় অগ্রগতি হলে এসব সম্পদ ধাপে ধাপে ছাড় করা হবে এবং ইরানের জন্য সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারযোগ্য করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রি করতে পারবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞা ছাড়পত্রও যুক্তরাষ্ট্র প্রদান করবে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, চুক্তিটি পুরোপুরি “কর্মসম্পাদনভিত্তিক”। ইরান কেবল তখনই এর সুবিধা পাবে, যখন তারা চুক্তির সব শর্ত মেনে চলবে। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরপেক্ষ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে বাধা না দেওয়া। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ না হলেও এর কপি ইতোমধ্যে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ইউরোপীয় ও অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঘুরছে বলে জানা গেছে। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন দেশের নেতা ট্রাম্পের কাছে চুক্তির কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছেন বলে জানা যায়। চুক্তির গোপনীয়তা নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের জানতে চাওয়া, ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত চুক্তি কেন এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রকাশ্যে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি প্রকাশ করতে চায়। তবে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধে প্রকাশের সময়সূচি সমন্বয় করা হচ্ছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “কাতার ও পাকিস্তান পুরো আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। তারা চেয়েছে চুক্তি প্রকাশের প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হোক।” সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা দ্রুত চুক্তির পাঠ প্রকাশ করতে আগ্রহী হলেও ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার প্রতি কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চাই চুক্তির পাঠ প্রকাশ করা হোক। তারা আমাদের শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছে। তবে আমরা এর আগেই প্রকাশের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছি।” কর্মকর্তাদের মতে, বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির অবস্থান। তিনি সমঝোতা স্মারকে নীরব সমর্থন দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে তিনি কোনো বিবৃতি দেবেন কি না, তা নিয়েও তেহরানে আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি একটি “আনুষ্ঠানিক পরিবেশে” চুক্তিটি প্রকাশ করতে চান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দলিলটির বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি এতটাই সন্তুষ্ট যে চাইলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে শব্দে শব্দে তা পড়ে শোনাতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী দফার আলোচনা প্রথম পর্বের তুলনায় অনেক সহজ হবে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমাকে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা “পরীক্ষামূলক পর্ব” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য, এই সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটন মূল্যায়ন করবে ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কতদূর ছাড় দিতে প্রস্তুত। একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা মূলত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিয়েই বেশি মনোযোগী। শেষ পর্যন্ত আস্থা তৈরি এবং বাস্তব বিষয়গুলোতে অগ্রগতি অর্জনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ায় নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার পথ সুগম করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সংলাপ আয়োজনের জন্য পাকিস্তানের ভূমিকাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন এবং আলোচনায় অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মূলত তিনটি ইস্যুতে সমঝোতার চেষ্টা চলছে—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির প্রশ্ন। এর মধ্যে সবচেয়ে জটিল বিষয় হয়ে উঠেছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ও তার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা। জানা গেছে, ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো, সমৃদ্ধির মাত্রা কমিয়ে আনা অথবা প্রাকৃতিক পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার সময়সীমা নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে—ইরান ৫ বছর এবং যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছর পর্যন্ত সময়সীমা চায়। তবে মাঝামাঝি কোনো সমাধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলেও এরপর থেকে ‘শাটল কূটনীতি’ চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। একদিকে তেহরানের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ, অন্যদিকে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয়—এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে সম্ভাব্য চুক্তির পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা চলছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা কমেছে, লেবাননে সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষেরই সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান কিছুটা নমনীয় হলে একটি চুক্তির সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।