‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান-আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে, ধৈর্য ধরুন’: রামদেব
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান একদিন আবার ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের আলোচিত যোগগুরু রামদেব। এমন পরিস্থিতি দেখতে ভারতীয়দের ‘আরও কিছুটা ধৈর্য’ ধরার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন রামদেব।
সোমবার রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ সময় পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ‘নির্যাতন ও অবিচার’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রামদেব।
রামদেবের ভাষ্য, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের সঙ্গে যে ধরনের ‘অত্যাচার ও অবিচার’ হয়েছে, তা মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় নিষ্ঠুরতার ঘটনাগুলোর মধ্যে পড়ে। তবে নিজের এই দাবির পক্ষে ওই সময় নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা পরিসংখ্যান তুলে ধরেননি তিনি।
এরপরই তিনটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেন রামদেব।
তিনি বলেন, “এমন দিনও আসবে, যখন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের সঙ্গে একীভূত হবে। শুধু একটু ধৈর্য ধরুন।”
রামদেবের এই বক্তব্য তার নিজস্ব রাজনৈতিক ও আদর্শিক অভিমত। বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার কোনো স্বীকৃত সরকারি পরিকল্পনা বা প্রক্রিয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেননি। ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক নীতিগত ঘোষণা হিসেবেও তার বক্তব্যকে দেখার সুযোগ নেই।
রামদেবের মন্তব্যটি এসেছে এমন সময়ে, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় জাতীয় পরিচয়, সীমান্ত, ধর্ম ও আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে। ফলে বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে একীভূত হওয়ার কথা বলা স্বাভাবিকভাবেই একটি স্পর্শকাতর বক্তব্য।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ধর্মান্তর নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন রামদেব। ছত্তিশগড়ে ধর্মান্তর ঠেকাতে আনা নতুন আইনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতে হিন্দু, মুসলিম কিংবা খ্রিষ্টান - কোনো ধর্মই হুমকির মুখে নেই। তার দাবি, বরং হুমকির মুখে রয়েছে ভারতের সম্মান ও মর্যাদা।
ছত্তিশগড়ের বিধানসভা চলতি বছরের মার্চে ধর্মান্তরবিরোধী একটি কঠোর বিল পাস করে। এতে বলপ্রয়োগ, প্রলোভন, প্রতারণা, ভুল তথ্য বা অন্যান্য বেআইনি উপায়ে ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ‘গণধর্মান্তরের’ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে। বিরোধী কংগ্রেস বিলটি আরও পর্যালোচনার জন্য সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানিয়েছিল এবং ভোটের সময় ওয়াকআউট করে।
সনাতন ধর্ম প্রসঙ্গেও রামদেব বেশ কিছু মন্তব্য করেন। তার দাবি, সনাতন ধর্মে এমন কোনো ঘাটতি নেই যার কারণে কাউকে ইসলাম বা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করতে হবে। অতীতে বলপ্রয়োগ, প্রলোভনসহ বিভিন্ন উপায়ে হিন্দুদের ধর্মান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব বক্তব্য রামদেবের নিজস্ব দাবি; প্রতিবেদনে সেগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন রামদেব। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেক নাগরিকের কথা বলা এবং প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তবে সেই স্বাধীনতার ব্যবহার গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সীমার মধ্যে থাকা উচিত। দেশের ক্ষতি হয় এমনভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভারত নিয়ে নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাও জানান এই যোগগুরু।
রামদেব বলেন, তিনি ভারতকে বিশ্বের সেরা গণতন্ত্র এবং ভারতীয়দের বিশ্বের সেরা নাগরিক হিসেবে দেখতে চান। ভারতের অর্থনীতিকে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিতে পরিণত করার পাশাপাশি রুপির মূল্য একদিন মার্কিন ডলার ও ব্রিটিশ পাউন্ডের সমপর্যায়ে পৌঁছাবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।
এমনকি ভারতীয় পাসপোর্ট এত শক্তিশালী হওয়া উচিত, যাতে ভারতীয় নাগরিকদের বিশ্বের কোনো দেশে যেতে ভিসার প্রয়োজন না হয় বলেও মন্তব্য করেন রামদেব। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে ভারত যেন সমান মর্যাদা ও সম্মান পায়, সেটিও তার প্রত্যাশা।
তবে তার বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান নিয়ে করা মন্তব্যটি।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বর্তমান বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের অংশ ছিল এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে আফগানিস্তান ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসেবে ১৯৪৭ সালে আলাদা হয়ে যাওয়া কোনো রাষ্ট্র নয়; এর স্বাধীন রাষ্ট্রীয় ইতিহাস আরও পুরোনো। ফলে তিন দেশকে একই ঐতিহাসিক কাঠামোয় ‘আবার ভারতের অংশ’ হওয়ার দাবি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে সরলীকৃত।
এ কারণে রামদেবের বক্তব্যকে কোনো আসন্ন সীমান্ত পরিবর্তন বা ভারত সরকারের ঘোষিত নীতি হিসেবে নয়, বরং তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক-আদর্শিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
তবে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে নিয়ে এমন মন্তব্য করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও অন্য দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে রামদেবের সর্বশেষ এই বক্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপ এবার আরও গভীরে পৌঁছেছে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয়। রাতভর মস্কো ও আশপাশের অঞ্চল লক্ষ্য করে ৬২০টি ড্রোন পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা। একই সময়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ তুলে যুক্তরাজ্যকে ‘পরিণতি ভোগ করতে হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো। মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত চলা হামলা নিয়ে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানী ও আশপাশের এলাকা লক্ষ্য করে আসা ড্রোনগুলোর মধ্যে অন্তত ১৮০টি ধ্বংস করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৬২০ ড্রোন পাঠানোর এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। কয়েকটি ভবন ও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গেছে। রাশিয়ার রাজধানীর দিকে এত বিপুলসংখ্যক ড্রোন পাঠানোর ঘটনা ইউক্রেন যুদ্ধের পরিবর্তিত চিত্র সামনে আনছে। সম্মুখযুদ্ধের পাশাপাশি দুই দেশই এখন দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত বাড়াচ্ছে। ইউক্রেন বিশেষভাবে রাশিয়ার সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং যুদ্ধের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। তবে এবারের ঘটনাপ্রবাহ শুধু রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। নতুন করে উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্যও। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের দুটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ড্রোন ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলার জন্য ব্যবহার করছে। এসব হামলায় রাশিয়ার সামরিক ও শিল্প স্থাপনাসহ তেল শোধনাগার এবং বিভিন্ন লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এরপরই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লন্ডনে রুশ দূতাবাস। রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেনকে এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য শুধু কিয়েভকে সহায়তা করছে না - বরং রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার সহযোগীতে পরিণত হচ্ছে। মস্কোর হুঁশিয়ারি, সংঘাতে ব্রিটেনের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, দেশটিকে তার জন্য তত বড় মূল্য দিতে হতে পারে। তবে রাশিয়ার এসব অভিযোগ ও হুঁশিয়ারির পরও অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ব্রিটেন। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ মস্কোর সতর্কবার্তার পরও কিয়েভকে সামরিক সহায়তা থেকে সরে আসার কোনো ঘোষণা দেয়নি লন্ডন। ফলে ব্রিটিশ তৈরি ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে রাশিয়ার অভিযোগ এখন ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে মস্কো ও লন্ডনের পুরোনো উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন যখন রাশিয়ার গভীরে হামলার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তখন ইউক্রেনের জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামোর ওপরও আক্রমণ জোরদার করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফটোগাজ জানিয়েছে, মাত্র এক সপ্তাহে তাদের স্থাপনাগুলোতে ১৩টি রুশ হামলা হয়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, শীতের আগে দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থা দুর্বল করে দিতেই পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক রুশ হামলায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহের একটি বড় ইস্পাত কারখানাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে দুইজন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাল্টাপাল্টি এসব হামলা দেখাচ্ছে, যুদ্ধ এখন আর শুধু সম্মুখসারিতে সীমাবদ্ধ নেই - উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানার চেষ্টা করছে। আর ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন রাশিয়ার অভ্যন্তরে ব্যবহারের অভিযোগ সেই উত্তেজনাকে আরও বড় আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। এখন প্রশ্ন শুধু ইউক্রেন রাশিয়ার কতটা গভীরে আঘাত করতে পারছে, সেটি নয় - পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা অস্ত্র রাশিয়ার অভ্যন্তরে কতটা ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর জবাবে মস্কো কতদূর যেতে প্রস্তুত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ৬২০ ড্রোনের বিশাল হামলার পর তাই নজর এখন মস্কোর পরবর্তী পদক্ষেপে। বিশেষ করে ব্রিটেনকে দেওয়া ‘পরিণতি ভোগের’ হুঁশিয়ারি শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি রাশিয়া সেটিকে বাস্তব কোনো পদক্ষেপে রূপ দেয় - সেটিই এখন লন্ডন-মস্কোর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পরবর্তী বড় প্রশ্ন।
‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান-আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে, ধৈর্য ধরুন’: রামদেব
মসজিদ রক্ষায় এক পায়ে লড়েছিলেন, সেই নেপালিকে সৌদির উপহার
নেপালের সেনাবাহিনীর ‘জেনারেল’ হলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান
স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসী বিক্ষোভ করেছেন। রোববার, ১৬ আগস্ট, এল ত্রাম্পোলিন সৈকতে জড়ো হয়ে তারা স্পেনের কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ এবং মরক্কোয় ফেরত না পাঠানোর দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের হাতে স্পেনের পতাকা ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ছিল। সেখানে তারা ‘আমরা মরক্কোয় ফিরতে চাই না’ এবং ‘আমরাও মানুষ’—এ ধরনের স্লোগান দেন। অনেক অভিবাসী সৈকত ও শহরের আশপাশে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন। সেউতায় সাম্প্রতিক বড় ধরনের সীমান্ত অতিক্রমের পরও প্রায় ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার অভিবাসী রয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। তাদের অধিকাংশ পরবর্তী সময়ে মরক্কোয় ফিরে যান। সেউতায় অবস্থানরত অনেক অভিবাসী বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। কেউ সৈকতে তাঁবু বা ত্রিপল টাঙিয়ে থাকছেন, আবার কেউ শহরের বাইরে অবস্থান করছেন। খাবার, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মরক্কোর তেতোয়ান থেকে আসা এক অভিবাসী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তারা সমুদ্রের পাশে ঠান্ডা ও দুর্গন্ধের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন এবং অনেক কষ্টে দিন পার করছেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের সাধারণভাবে সেউতায় থাকার বা মূল ভূখণ্ড স্পেনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেন সরকার সেউতায় অতিরিক্ত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এসব স্থানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে সাময়িকভাবে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্পেনের সেনাবাহিনীও প্রায় ১ হাজার ৫০ জন আশ্রয়প্রার্থীর জন্য অস্থায়ী শিবির স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে ১৭ আগস্ট থেকে শতাধিক অভিবাসী আশ্রয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেছেন। তাদের দাবি, স্পেনে আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে এবং তাদের জোর করে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না। অন্যদিকে, নতুন করে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা ঠেকাতে মরক্কো ও স্পেন উভয় দেশই নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক এক অভিযানে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ৩০০ অভিবাসীকে আটক করেছে। সেউতার বর্তমান পরিস্থিতি এখন স্পেনের জন্য বড় মানবিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একদিকে আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি, অন্যদিকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসননীতি—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে স্পেন সরকারকে।
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৬৮, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দুই ডলারের বেশি বেড়েছে।
মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট
সন্তানের জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা, একের পর এক ব্যর্থ গর্ভধারণ এবং আইভিএফের পর মৃত যমজ সন্তান প্রসবের বেদনা। সবকিছুর পর যখন সারা কনেল ও তার স্বামী বিল কনেলের বাবা-মা হওয়ার স্বপ্ন প্রায় নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন এগিয়ে আসেন সারার মা ক্রিস্টিন কেসি। ৬১ বছর বয়সে নিজের মেয়ের সন্তানের সারোগেট হয়ে গর্ভে ধারণ করেন নাতিকে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় জন্ম দেন সুস্থ শিশু ফিনিয়ান লি কনেলকে। ঘটনাটি সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবিসি নিউজসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রিস্টিন তখন তিন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মা এবং প্রায় ১০ বছর আগেই তার মেনোপজ হয়ে গিয়েছিল। বয়স ও শারীরিক বাস্তবতার কারণে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু আধুনিক প্রজনন চিকিৎসার সহায়তায় শেষ পর্যন্ত মেয়ের সন্তানকে পৃথিবীতে আনার সুযোগ পান তিনি। সারা ও বিল দীর্ঘদিন ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ফার্টিলিটি চিকিৎসা ও একাধিক গর্ভধারণের পরও তাদের সন্তান বেঁচে থাকেনি। একপর্যায়ে আইভিএফের মাধ্যমে যমজ সন্তান গর্ভে এলেও তারা মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। ধারাবাহিক এই অভিজ্ঞতার পর দম্পতির বাবা-মা হওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছিল। এই অবস্থায় মেয়ের জন্য সারোগেট হওয়ার প্রস্তাব দেন ক্রিস্টিন। তবে শুধু ইচ্ছা থাকলেই এত বেশি বয়সে গর্ভধারণ সম্ভব ছিল না। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার স্বাস্থ্যের বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। বয়সের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় মেডিকেল মূল্যায়নের পর তাকে গর্ভধারণের উপযোগী করতে হরমোন চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় ক্রিস্টিন শিশুটির জৈবিক মা ছিলেন না। সারা কনেলের ডিম্বাণু এবং তার স্বামী বিল কনেলের শুক্রাণু ব্যবহার করে আইভিএফের মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। সেই ভ্রূণ ক্রিস্টিনের জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় সফলভাবে গর্ভধারণ করেন তিনি। প্রায় ৩৯ সপ্তাহ নাতিকে গর্ভে বহন করেন ক্রিস্টিন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন মেমোরিয়াল হাসপাতালের প্রেন্টিস উইমেন্স হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় ফিনিয়ান লি কনেল। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল প্রায় সাত পাউন্ড। চিকিৎসকেরা সে সময় জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচারটি জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ক্রিস্টিনের কিডনি-সংক্রান্ত সাময়িক একটি জটিলতা দেখা দেয়, যা দ্রুত চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্রিস্টিনের জন্য এটি ছিল প্রায় তিন দশক পর আবার সন্তান প্রসবের অভিজ্ঞতা। তবে এবার যে শিশুটিকে তিনি গর্ভে বহন করেছিলেন, সেই শিশুই ছিল তার নিজের প্রথম নাতি। ঘটনার পর ক্রিস্টিন জানিয়েছিলেন, নিজের তিন মেয়েকে জন্ম দেওয়ার দিনগুলো তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর মধ্যে ছিল। সেই মাতৃত্বের আনন্দ মেয়েকেও পাওয়ার সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সারা কনেল তাদের এই দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী যাত্রার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও লেখেন। সেখানে সন্তান হারানোর কষ্ট থেকে শুরু করে নিজের মায়ের সারোগেট হওয়ার সিদ্ধান্ত এবং শেষ পর্যন্ত ফিনিয়ানের জন্ম পর্যন্ত পুরো অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। ফিনিয়ানের জন্মের গল্পের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিকটি ছিল পারিবারিক সম্পর্কের এই সমীকরণ। জৈবিকভাবে সারা ও বিল তার বাবা-মা। কিন্তু যে নারী তাকে নয় মাস গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীতে এনেছিলেন, তিনি একই সঙ্গে তার নানি ক্রিস্টিন কেসি। ৬১ বছর বয়সে নেওয়া ক্রিস্টিনের সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত এমন একটি পরিবারের বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল, যেখানে একজন মা নিজের মেয়েকে মাতৃত্বের সুযোগ করে দিতে নিজেই হয়ে উঠেছিলেন তার সন্তানের সারোগেট।
একটি ফোনকলের পরই ডিপোর্টেশন ফ্লাইট থেকে ফিরিয়ে আনা হলো মার্কিন সেনার স্ত্রীকে
ইতালির জাদুঘর থেকে চুরি গেল রেনেসাঁ যুগের ৪টি অমূল্য চিত্রকর্ম