তীব্র আপত্তির মুখে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মসজিদে লাউডস্পিকারে আজানের প্রস্তাব বাতিল
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদ থেকে প্রতি শুক্রবার লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসানোর জন্য করা আবেদনটির বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬০০টির বেশি আপত্তি জমা পড়েছে। অন্যদিকে প্রস্তাবের পক্ষে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের পিটিশনে ৫ হাজারের বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন।
সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাকেম্বায় অবস্থিত মসজিদটির পরিচালনাকারী লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন চলতি বছরের মে মাসে ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলে নতুন ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন জমা দেয়। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালেও আবেদনটি নথিভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মসজিদের প্রায় ২০ মিটার উঁচু মিনারে চারটি লাউডস্পিকার স্থাপন করা হবে।
পরিকল্পনাটি মূলত শুক্রবারের জুমার নামাজের আগে আজান প্রচারের জন্য। তবে আজান কতক্ষণ এবং কত দূর পর্যন্ত শোনা যাবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দেওয়া তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক পিটিশনে সপ্তাহে একবার শুক্রবার দুপুরে সর্বোচ্চ তিন মিনিট আজান প্রচারের কথা বলা হয়েছে। শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রস্তাবিত আজান স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয় প্রয়োজন ও লাকেম্বার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। তারা বলছে, শব্দের মাত্রা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে যাতে আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর অযৌক্তিক প্রভাব না পড়ে।
তবে কাউন্সিলের কাছে জমা পড়া বিপুলসংখ্যক আপত্তিতে শব্দদূষণ, আবাসিক এলাকার শান্ত পরিবেশ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের আবেদনের নজির তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলও শব্দের মাত্রা নিয়ে জমা দেওয়া বিভিন্ন মূল্যায়নের অসঙ্গতিসহ কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে স্বাধীন অ্যাকুস্টিক পর্যালোচনাও করা হয়েছে।
কাউন্সিলর বারবারা কুরি প্রস্তাবটির অন্যতম বিরোধী। তার বক্তব্য, বিতর্কটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং আবাসিক ও কর্মসংস্থান এলাকায় বাইরে থেকে উচ্চ শব্দ প্রচারের ক্ষেত্রে একই নিয়ম নিশ্চিত করার বিষয়। তিনি ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে বাইরে প্রচারিত শব্দ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পরিকল্পনা বিধিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাবও দিয়েছেন।
এটি লাকেম্বা মসজিদের প্রথম আবেদন নয়। ২০২৫ সালে একই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসিয়ে প্রতি শুক্রবার আজান প্রচারের একটি আবেদন করা হয়েছিল। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, সেই আবেদন ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট স্থানীয় প্ল্যানিং প্যানেল প্রত্যাখ্যান করে। সে সময় জনমত গ্রহণে পাওয়া ৩২৯টি মতামতের মধ্যে ৩২৮টিই প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিল।
এরপর ২০২৬ সালে সংশোধিত পরিকল্পনা নিয়ে আবার আবেদন করেছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন। নতুন আবেদনটির নম্বর ডিএ-৫১৮/২০২৬। সরকারি প্ল্যানিং পোর্টালে আবেদনটির অবস্থা এখনো বিবেচনাধীন হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
বর্তমান আবেদন নিয়ে বিতর্কের একদিকে রয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সমান সুযোগের প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে আবাসিক এলাকার শব্দ ও জনস্বাচ্ছন্দ্য রক্ষার দাবি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে শব্দের মাত্রা, আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং স্থানীয় পরিকল্পনা বিধি বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreঅস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদ থেকে প্রতি শুক্রবার লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসানোর জন্য করা আবেদনটির বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬০০টির বেশি আপত্তি জমা পড়েছে। অন্যদিকে প্রস্তাবের পক্ষে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের পিটিশনে ৫ হাজারের বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাকেম্বায় অবস্থিত মসজিদটির পরিচালনাকারী লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন চলতি বছরের মে মাসে ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলে নতুন ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন জমা দেয়। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালেও আবেদনটি নথিভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মসজিদের প্রায় ২০ মিটার উঁচু মিনারে চারটি লাউডস্পিকার স্থাপন করা হবে। পরিকল্পনাটি মূলত শুক্রবারের জুমার নামাজের আগে আজান প্রচারের জন্য। তবে আজান কতক্ষণ এবং কত দূর পর্যন্ত শোনা যাবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দেওয়া তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক পিটিশনে সপ্তাহে একবার শুক্রবার দুপুরে সর্বোচ্চ তিন মিনিট আজান প্রচারের কথা বলা হয়েছে। শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি। মসজিদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রস্তাবিত আজান স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয় প্রয়োজন ও লাকেম্বার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। তারা বলছে, শব্দের মাত্রা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে যাতে আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর অযৌক্তিক প্রভাব না পড়ে। তবে কাউন্সিলের কাছে জমা পড়া বিপুলসংখ্যক আপত্তিতে শব্দদূষণ, আবাসিক এলাকার শান্ত পরিবেশ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের আবেদনের নজির তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলও শব্দের মাত্রা নিয়ে জমা দেওয়া বিভিন্ন মূল্যায়নের অসঙ্গতিসহ কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে স্বাধীন অ্যাকুস্টিক পর্যালোচনাও করা হয়েছে। কাউন্সিলর বারবারা কুরি প্রস্তাবটির অন্যতম বিরোধী। তার বক্তব্য, বিতর্কটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং আবাসিক ও কর্মসংস্থান এলাকায় বাইরে থেকে উচ্চ শব্দ প্রচারের ক্ষেত্রে একই নিয়ম নিশ্চিত করার বিষয়। তিনি ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে বাইরে প্রচারিত শব্দ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পরিকল্পনা বিধিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাবও দিয়েছেন। এটি লাকেম্বা মসজিদের প্রথম আবেদন নয়। ২০২৫ সালে একই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসিয়ে প্রতি শুক্রবার আজান প্রচারের একটি আবেদন করা হয়েছিল। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, সেই আবেদন ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট স্থানীয় প্ল্যানিং প্যানেল প্রত্যাখ্যান করে। সে সময় জনমত গ্রহণে পাওয়া ৩২৯টি মতামতের মধ্যে ৩২৮টিই প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিল। এরপর ২০২৬ সালে সংশোধিত পরিকল্পনা নিয়ে আবার আবেদন করেছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন। নতুন আবেদনটির নম্বর ডিএ-৫১৮/২০২৬। সরকারি প্ল্যানিং পোর্টালে আবেদনটির অবস্থা এখনো বিবেচনাধীন হিসেবে দেখানো হচ্ছে। বর্তমান আবেদন নিয়ে বিতর্কের একদিকে রয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সমান সুযোগের প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে আবাসিক এলাকার শব্দ ও জনস্বাচ্ছন্দ্য রক্ষার দাবি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে শব্দের মাত্রা, আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং স্থানীয় পরিকল্পনা বিধি বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত বাড়ছে ইসলামী অর্থনীতি, মুসলিমদের ব্যয় ছুঁতে পারে ৯ বিলিয়ন ডলার
একই এলাকায় স্কুলে ভর্তি ৯ জোড়া যমজ, শিক্ষকদেরও ‘দুইবার তাকানোর’ দশা
৬২০ ড্রোনে মস্কোয় ইউক্রেনের বিশাল হামলা, ব্রিটেনকে ‘পরিণতি ভোগের’ হুঁশিয়ারি রাশিয়ার
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান একদিন আবার ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের আলোচিত যোগগুরু রামদেব। এমন পরিস্থিতি দেখতে ভারতীয়দের ‘আরও কিছুটা ধৈর্য’ ধরার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন রামদেব। সোমবার রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ সময় পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ‘নির্যাতন ও অবিচার’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রামদেব। রামদেবের ভাষ্য, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের সঙ্গে যে ধরনের ‘অত্যাচার ও অবিচার’ হয়েছে, তা মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় নিষ্ঠুরতার ঘটনাগুলোর মধ্যে পড়ে। তবে নিজের এই দাবির পক্ষে ওই সময় নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা পরিসংখ্যান তুলে ধরেননি তিনি। এরপরই তিনটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেন রামদেব। তিনি বলেন, “এমন দিনও আসবে, যখন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের সঙ্গে একীভূত হবে। শুধু একটু ধৈর্য ধরুন।” রামদেবের এই বক্তব্য তার নিজস্ব রাজনৈতিক ও আদর্শিক অভিমত। বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার কোনো স্বীকৃত সরকারি পরিকল্পনা বা প্রক্রিয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেননি। ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক নীতিগত ঘোষণা হিসেবেও তার বক্তব্যকে দেখার সুযোগ নেই। রামদেবের মন্তব্যটি এসেছে এমন সময়ে, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় জাতীয় পরিচয়, সীমান্ত, ধর্ম ও আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে। ফলে বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে একীভূত হওয়ার কথা বলা স্বাভাবিকভাবেই একটি স্পর্শকাতর বক্তব্য। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ধর্মান্তর নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন রামদেব। ছত্তিশগড়ে ধর্মান্তর ঠেকাতে আনা নতুন আইনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতে হিন্দু, মুসলিম কিংবা খ্রিষ্টান - কোনো ধর্মই হুমকির মুখে নেই। তার দাবি, বরং হুমকির মুখে রয়েছে ভারতের সম্মান ও মর্যাদা। ছত্তিশগড়ের বিধানসভা চলতি বছরের মার্চে ধর্মান্তরবিরোধী একটি কঠোর বিল পাস করে। এতে বলপ্রয়োগ, প্রলোভন, প্রতারণা, ভুল তথ্য বা অন্যান্য বেআইনি উপায়ে ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ‘গণধর্মান্তরের’ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে। বিরোধী কংগ্রেস বিলটি আরও পর্যালোচনার জন্য সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানিয়েছিল এবং ভোটের সময় ওয়াকআউট করে। সনাতন ধর্ম প্রসঙ্গেও রামদেব বেশ কিছু মন্তব্য করেন। তার দাবি, সনাতন ধর্মে এমন কোনো ঘাটতি নেই যার কারণে কাউকে ইসলাম বা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করতে হবে। অতীতে বলপ্রয়োগ, প্রলোভনসহ বিভিন্ন উপায়ে হিন্দুদের ধর্মান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব বক্তব্য রামদেবের নিজস্ব দাবি; প্রতিবেদনে সেগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন রামদেব। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেক নাগরিকের কথা বলা এবং প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তবে সেই স্বাধীনতার ব্যবহার গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সীমার মধ্যে থাকা উচিত। দেশের ক্ষতি হয় এমনভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভারত নিয়ে নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাও জানান এই যোগগুরু। রামদেব বলেন, তিনি ভারতকে বিশ্বের সেরা গণতন্ত্র এবং ভারতীয়দের বিশ্বের সেরা নাগরিক হিসেবে দেখতে চান। ভারতের অর্থনীতিকে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিতে পরিণত করার পাশাপাশি রুপির মূল্য একদিন মার্কিন ডলার ও ব্রিটিশ পাউন্ডের সমপর্যায়ে পৌঁছাবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি। এমনকি ভারতীয় পাসপোর্ট এত শক্তিশালী হওয়া উচিত, যাতে ভারতীয় নাগরিকদের বিশ্বের কোনো দেশে যেতে ভিসার প্রয়োজন না হয় বলেও মন্তব্য করেন রামদেব। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে ভারত যেন সমান মর্যাদা ও সম্মান পায়, সেটিও তার প্রত্যাশা। তবে তার বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান নিয়ে করা মন্তব্যটি। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বর্তমান বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের অংশ ছিল এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে আফগানিস্তান ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসেবে ১৯৪৭ সালে আলাদা হয়ে যাওয়া কোনো রাষ্ট্র নয়; এর স্বাধীন রাষ্ট্রীয় ইতিহাস আরও পুরোনো। ফলে তিন দেশকে একই ঐতিহাসিক কাঠামোয় ‘আবার ভারতের অংশ’ হওয়ার দাবি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে সরলীকৃত। এ কারণে রামদেবের বক্তব্যকে কোনো আসন্ন সীমান্ত পরিবর্তন বা ভারত সরকারের ঘোষিত নীতি হিসেবে নয়, বরং তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক-আদর্শিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। তবে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে নিয়ে এমন মন্তব্য করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও অন্য দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে রামদেবের সর্বশেষ এই বক্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
মসজিদ রক্ষায় এক পায়ে লড়েছিলেন, সেই নেপালিকে সৌদির উপহার
নেপালের সেনাবাহিনীর ‘জেনারেল’ হলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান
স্পেনের সেউতায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসীর বিক্ষোভ, মানবিক সংকট আরও গভীর
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৬৮ জন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ১৫ আগস্টের এই ভূমিকম্পের পর একের পর এক পরাঘাত অব্যাহত থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহরের উত্তর-পশ্চিমে সমুদ্রের কাছে। ভূমিকম্পটি ছিল অগভীর, প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে হওয়ায় এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব বেশি হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ভূমিধসের কারণে বিভিন্ন সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং কয়েকটি দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান করছেন। অনেক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অস্থায়ী তাঁবু ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। প্রায় ১ হাজার ৬০০টি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এতে আতঙ্কিত বাসিন্দাদের অনেকে ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। ভূমিকম্পে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ১৯ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে চলে গেছেন। দুর্গম এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানোও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাথমিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কিছু এলাকায় ছোট আকারের সমুদ্রঢেউ দেখা যায়। ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ দুর্গম এলাকায় বিমান ও অন্যান্য মাধ্যমে জরুরি সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দুই ডলারের বেশি বেড়েছে।
মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট