- প্রচ্ছদ
- Topic
মসজিদ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নোটিশ দিয়েছে ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর। ১৯ অক্টোবর জারি করা নোটিশে স্থাপনাটিকে অননুমোদিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মসজিদটি রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়ার পাশাপাশি দিল্লি হাইকোর্টে নোটিশ চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে, মসজিদটি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭ লোক কল্যাণ মার্গের কাছে অবস্থিত। ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের বক্তব্য, এটি সরকারি জমিতে গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে মসজিদের প্রতিনিধিরা এর ওয়াক্ফ মর্যাদা ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়টি সামনে এনেছেন। নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ঐতিহ্য তালিকায় মসজিদ ও এর চত্বরের উল্লেখ রয়েছে। মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন অভিযোগ করেছেন, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি মসজিদে প্রবেশের পথ সীমিত করা হয়েছে। গত ছয় মাসে বারবার দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডের কাছে সহায়তা চেয়েও কার্যকর উদ্যোগ পাননি বলে দাবি করেন তিনি। মসজিদ ও সংলগ্ন কবরস্থান রক্ষায় কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সঙ্গে দেখা করেছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধিদল। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমির নেতৃত্বাধীন দলটি আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে স্থাপনা ভাঙার পদক্ষেপ না নেওয়ার দাবি জানায়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি ও মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের অনুরোধ করে। মন্ত্রী বিষয়টিতে সাধ্যমতো উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে। নোটিশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, আম আদমি পার্টির নেতা আমানতুল্লাহ খান এবং কাশ্মীরের ধর্মীয় নেতা মীরওয়াইজ উমর ফারুক। ওয়াইসি দাবি করেছেন, মসজিদটি ১৯৭৭ সাল থেকে গেজেটভুক্ত ওয়াক্ফ সম্পত্তি। সেটি রক্ষায় দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ড কেন পদক্ষেপ নেয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ চান তিনি। দ্য ট্রিবিউনের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নোটিশটি ওই এলাকায় বৃহত্তর উচ্ছেদ কার্যক্রমের অংশ। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ জানিয়েছে, মসজিদ কমিটির পক্ষে আদালতে আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদ খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে; স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
ভারতের আসামের তিন জেলায় দুই দিনের অভিযানে ১ হাজার ১০০টির বেশি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম স্ক্রল। ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশ বাংলাভাষী মুসলিম। প্রশাসনের দাবি, সংরক্ষিত বনভূমির দখল সরাতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, সরকারই তাঁদের পরিবারকে কয়েক দশক আগে সেখানে বসতি গড়তে দিয়েছিল। স্ক্রলের ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ১৭ অক্টোবর নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। পরদিন নগাঁওয়ের লুতুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও ছয় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙার কথা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান এক জ্যেষ্ঠ বন কর্মকর্তা। একই এলাকার বাসিন্দা আবদুল নূর স্ক্রলকে বলেছেন, অভিযানে ১০টির বেশি মসজিদও ভাঙা হয়েছে। তাঁর দাবি, এগুলোর কয়েকটি ৫০ বছরের বেশি পুরোনো। মসজিদের সংখ্যা ও বয়সের তথ্যটি তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের হিসাবে কিছু পার্থক্য রয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে লুতুমারি বনাঞ্চল থেকে ৫৬৩টি পরিবার উচ্ছেদের কথা বলা হয়েছে। অভিযানের সমালোচনা করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। নিজের বাড়ি হারানো ৪৪ বছর বয়সী আবদুল নূরের দাবি, ভূমিহীন হওয়ায় তাঁদের পূর্বপুরুষদের ১৯৭৪ সালে সরকার সেখানে পুনর্বাসন করেছিল। সে সময় প্রায় ৩০০ পরিবারকে চার বিঘা করে জমি দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। উচ্ছেদ ঠেকাতে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েও প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন নূর। গত জুনেও লুতুমারি লংজাপের বাসিন্দাদের উচ্ছেদ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন অব ফরেস্ট ওয়ার্কিং পিপল। সংগঠনটির বক্তব্য ছিল, বন বিভাগের কাজে যুক্ত এসব পরিবারকে পুরোনো তাউঙ্গিয়া বন ব্যবস্থাপনার আওতায় বসতি গড়তে দেওয়া হয়েছিল। তাই তাঁদের সাধারণ দখলদার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে 'অনৈতিক কাজ' করার অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির সরকার। নাজেরুল ইসলাম আব্দুল বশির এবং সিতি আক্তার নামের ওই দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) কার্যকর করা হয়। তবে দণ্ড কার্যকরের আগে বা পরে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর পুরো বিষয়টি বাংলাদেশের নজরে আসে। পূর্ব অবগতি ছাড়া এমন চরম পদক্ষেপের জেরে সার্বিক ঘটনার বিস্তারিত জানতে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়ে গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট। নিহত ওই দুই বাংলাদেশি সৌদি আরবে কী ধরনের ভিসায় অবস্থান করছিলেন এবং বিচারের সময় তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের বা আপিলের কোনো আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারতশাসিত কাশ্মীরের মসজিদগুলোতে একই ধরনের বা অভিন্ন জুমার খুতবা চালুর একটি প্রস্তাব ঘিরে অঞ্চলটিতে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ডের এই উদ্যোগকে মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুকৌশল চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা। তাদের মতে, এটি কাশ্মীরি মুসলিমদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় রীতিনীতি ও স্বাধীনতায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও জম্মু-কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান দর্শন আন্দ্রাবি সম্প্রতি এই প্রস্তাবের কথা প্রকাশ্যে আনেন। বোর্ডের দাবি, সমাজ থেকে মাদকাসক্তি, আত্মহত্যা ও মানসিক চাপের মতো বিভিন্ন নেতিবাচক সমস্যা দূর করতে এই অভিন্ন খুতবা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। আন্দ্রাবির ভাষ্যমতে, ধর্মীয় আলেমদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি এই খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করবে এবং এখানে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকবে না। তবে গত রোববার কাশ্মীরের প্রায় দেড় হাজার আলেম ও ধর্মীয় বক্তাকে নিয়ে ওয়াকফ বোর্ডের অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কমিটিতে কারা থাকবেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি। উল্টো প্রস্তাবের বিষয়ে আলেমরা আপত্তি জানালেও তাতে কর্ণপাত করা হয়নি বলে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার কাছে অভিযোগ করেছেন এক অংশগ্রহণকারী আলেম। প্রস্তাবটি সামনে আসার পর থেকেই কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কাশ্মীরের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাঈম আখতার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মসজিদে খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণের অধিকার একান্তই ধর্মীয় নেতাদের; ওয়াকফ বোর্ডের দায়িত্ব মূলত ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত। অঞ্চলটির প্রধান মুসলিম ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুকও এই উদ্যোগকে সরাসরি ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে অভিযোগ করেছেন। তার নেতৃত্বাধীন মুত্তাহিদা মাজলিস-ই-ওলামা এবং কাশ্মীরের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও এই প্রস্তাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তীব্র সমালোচনার মুখে ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান অবশ্য পরবর্তীতে তার অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে জানান, খুতবায় সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার বিষয়টি স্বাধীন আলেম ও ধর্মীয় বক্তাদের সিদ্ধান্তের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিল করে অঞ্চলটিকে সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নিয়ে আসার পর থেকেই ওয়াকফ ব্যবস্থাপনাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর আগে মসজিদগুলোর ইমাম ও খতিবদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশের ফরম বিতরণ এবং শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনাও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মীরে ধর্ম ও রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে গভীরভাবে যুক্ত থাকায় এ ধরনের যেকোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মনে ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি করে।
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো শহরের ঐতিহাসিক গ্রেট উমাইয়া মসজিদ দীর্ঘ ১৩ বছর পর আবার মুসল্লিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর সংস্কার ও পুনর্বাসনের কাজ শেষে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক পুনরুদ্বোধন হয়। গৃহযুদ্ধের সময় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই স্থাপনা ফিরে পাওয়ার মধ্য দিয়ে আলেপ্পোর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র আবার সচল হলো। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল গারিব, মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। গভর্নর বলেন, বহু বছরের ধ্বংসযজ্ঞের পর মসজিদটিকে নগরবাসীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্কারের সময় এর ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ও স্থাপত্য সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আল গারিব মসজিদটির দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, উমাইয়া আমল থেকে এটি আলেপ্পোর ইতিহাসের অংশ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আলেম, ধর্মীয় বক্তা ও চিন্তাবিদদের মিলনস্থল হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। সিরিয়ার গণঅভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভকারীদের আশ্রয়স্থল হিসেবেও মসজিদটির ভূমিকা স্মরণ করেন তিনি। ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আলেপ্পোয় সংঘর্ষের সময় মসজিদ ও আশপাশের এলাকা যুদ্ধের সম্মুখভাগে পরিণত হয়। গোলাবর্ষণ ও অগ্নিকাণ্ডে নামাজের কক্ষ, বারান্দা, প্রবেশপথ এবং স্থাপনার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০১৩ সালের এপ্রিলে ভেঙে পড়ে ঐতিহাসিক মিনারটি। সেটি ধ্বংসের দায় নিয়ে তৎকালীন সরকারি বাহিনী ও বিরোধী পক্ষ পরস্পরকে অভিযুক্ত করেছিল। মসজিদটির সংস্কার অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হয়নি। ইউনেসকোর কাছে জমা দেওয়া পুরোনো নথিতেও ধ্বংসাবশেষ সরানো, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মজবুত করা এবং মিনারের পাথর সংরক্ষণের কাজের বিবরণ রয়েছে। ফলে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগকে শুধু ২০২৪ সালের পরের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সিরীয় সংবাদমাধ্যম এনাব বালাদির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আলেপ্পোর ওয়াকফ অধিদপ্তর নিজের তত্ত্বাবধানে সংস্কারকাজ পুনরায় শুরুর ঘোষণা দেয়। সর্বশেষ কাজের মধ্যে ছিল বারান্দা, আঙিনার পাথরের মেঝে, পানীয় জলের ব্যবস্থা ও অজুখানা সংস্কার। মিনার পুনর্নির্মাণে উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা মূল পাথরের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদটি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যভুক্ত প্রাচীন আলেপ্পো নগরীর অন্যতম প্রধান নিদর্শন। পুনরুদ্বোধন অনুষ্ঠানে সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ওসামা আল রিফাই জানান, ওয়াকফ মন্ত্রণালয় মসজিদগুলোতে কোরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় পাঠচক্র আয়োজনের কর্মসূচি প্রস্তুত করেছে। আলেপ্পোর মুফতি ইব্রাহিম শাশোও আশা প্রকাশ করেন, পুনরায় চালু হওয়া উমাইয়া মসজিদ ইবাদতের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে তার ঐতিহাসিক ভূমিকা ফিরে পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে একটি মসজিদ ও একটি চার্চ। একদিকে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রার্থনা, অন্যদিকে মসজিদ থেকে ভেসে আসা আজানের সুর। ইস্ট নিউইয়র্কের পিটকিন অ্যাভিনিউতে ধর্মীয় সহাবস্থানের এই দৃশ্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি মসজিদকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের সমাগম স্থানীয় বহুজাতিক সমাজের একটি পরিচিত চিত্র তুলে ধরেছে। ব্রুকলিনের ২১৩৫ পিটকিন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত মসজিদটির নাম মসজিদ আন নামিরাহ। এর ঠিক কাছেই ২১৪৫ পিটকিন অ্যাভিনিউতে রয়েছে ফেইথ ওয়ারশিপ সেন্টার নামে একটি চার্চ। পেন্টেকোস্টাল খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের এই উপাসনালয় এবং মসজিদটি একই সড়কে খুব অল্প দূরত্বে অবস্থিত। ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও দুটি প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের প্রার্থনা ও ধর্মীয় কার্যক্রমের স্থান হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মসজিদ ও চার্চের কাছাকাছি অবস্থান এবং আজানের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওটি ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্ক এলাকায় ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় শহরে এমন দৃশ্য অস্বাভাবিক নয়। তবে একই সড়কে দুটি ভিন্ন ধর্মের উপাসনালয়ের অবস্থান স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নতুন করে সামনে এনেছে। স্থানীয় কমিউনিটির তথ্য অনুযায়ী, মসজিদ আন নামিরাহ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশিদের উদ্যোগে গড়ে উঠলেও মসজিদটি কেবল একটি দেশের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি আফ্রিকান, আরব এবং বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা নামাজ আদায় করতে আসেন। ফলে ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মিলনস্থল হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে মসজিদটি। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের বসবাসের সঙ্গে মসজিদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ব্রুকলিনের কেনসিংটন, বে রিজ এবং ইস্ট নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি অভিবাসীরা ধীরে ধীরে নিজেদের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইস্ট নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মসজিদ আল আমান। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটি এলাকায় বাংলাদেশিদের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। মসজিদ আন নামিরাহও স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এদিকে নিউইয়র্ক সিটিতে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের নিয়ম নিয়েও অনেকের আগ্রহ রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন মেয়র এরিক অ্যাডামস এবং নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট নতুন নির্দেশনা ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মসজিদগুলোকে আলাদা পারমিট ছাড়াই বাইরে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের সুযোগ দেওয়া হয়। সিটির ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টার মধ্যে জুমার আজান প্রচার করা যায়। একইভাবে রমজান মাসে প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময় আজান প্রচারের সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে আলাদা পারমিট নিতে হয় না। তবে শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ সিটির প্রযোজ্য নিয়ম মেনে চলতে হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো মসজিদ ও স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয় করে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করে। সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, আজানের শব্দ আশপাশের স্বাভাবিক পরিবেশের তুলনায় সর্বোচ্চ ১০ ডেসিবেল বেশি হতে পারে। এর উদ্দেশ্য ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা। নিউইয়র্ক সিটির এই সিদ্ধান্ত মুসলিম কমিউনিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়। এর আগে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের ক্ষেত্রে পারমিটসংক্রান্ত নিয়ম নিয়ে অনেক মসজিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ছিল। নতুন নির্দেশনার ফলে শুক্রবার ও রমজানের নির্ধারিত সময়ে আজান প্রচারের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। তবে মসজিদ আন নামিরাহ কেবল নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। স্থানীয় অসচ্ছল পরিবারগুলোর খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এখানে মুনা সোশ্যাল সার্ভিসেসের উদ্যোগে বিনামূল্যে গ্রোসারি বিতরণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এই কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় পরিবারগুলোকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী, তাজা শাকসবজি এবং হালাল ও সাংস্কৃতিক চাহিদার উপযোগী খাবার দেওয়া হয়। খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসের প্রথম ও তৃতীয় সোমবার দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত মসজিদ আন নামিরাহ কেন্দ্রে গ্রোসারি বিতরণের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কার্যক্রমের সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। খাদ্যসহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে মসজিদটি এলাকার মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণেও ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের নিয়মিত গ্রোসারি কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ রয়েছে, তাদের জন্য এ ধরনের কর্মসূচি সহায়ক। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গা ব্যবহার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্যসহায়তা দেওয়ার এই উদ্যোগ কমিউনিটিভিত্তিক সেবার একটি উদাহরণ। অন্যদিকে কাছেই অবস্থিত ফেইথ ওয়ারশিপ সেন্টার স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। দুটি প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনার পদ্ধতি আলাদা হলেও একই এলাকায় তাদের অবস্থান ব্রুকলিনের বৈচিত্র্যময় সামাজিক পরিবেশকে তুলে ধরে। নিউইয়র্কের মতো শহরে বাংলাদেশি, আফ্রিকান, আরব, লাতিন আমেরিকানসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। ভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ একই এলাকায় বসবাস করলেও প্রত্যেকে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার সুযোগ পান। ইস্ট নিউইয়র্কের পিটকিন অ্যাভিনিউতে পাশাপাশি মসজিদ ও চার্চের অবস্থান সেই বাস্তবতারই একটি চিত্র। বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ আন নামিরাহ এখন শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের নামাজের স্থান নয়, বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের ধর্মীয় কার্যক্রম এবং স্থানীয় মানুষের খাদ্যসহায়তার একটি কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা পালন করছে। ব্রুকলিনের ব্যস্ত পিটকিন অ্যাভিনিউতে একদিকে মসজিদ থেকে আজানের সুর, অন্যদিকে চার্চের প্রার্থনা। পাশাপাশি দুটি ভিন্ন ধর্মের উপাসনালয় মনে করিয়ে দেয়, নিউইয়র্কের বহুজাতিক সমাজে নিজ নিজ ধর্মীয় ঐতিহ্য বজায় রেখেও একই এলাকায় বসবাস ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কানাডা সীমান্তবর্তী শহর লকপোর্টে একটি পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ওসমান। বাফেলো শহরের বাসিন্দা ওসমানের উদ্যোগে ভবনটি মুসলমানদের নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রমের উপযোগী করে তোলার কাজ চলছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে পাওয়া বিবরণে জানা গেছে। একসময় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত ভবনটির বাইরে এখন মসজিদের নামসংবলিত সাইনবোর্ড দেখা যাচ্ছে। তবে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর সময় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত ৩১ আগস্ট লকপোর্ট শহর পরিদর্শনের একটি বিবরণে পুরোনো গির্জাটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজের বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, শহরটিতে কোনো বাংলাদেশির সঙ্গে দেখা না হলেও একটি গির্জা ভবনকে মসজিদে রূপান্তরের কাজ নজরে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন বাফেলোপ্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ ওসমান। লকপোর্ট নিউইয়র্কের নায়াগ্রা কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্র। ঐতিহাসিক ইরি খালের পাশে গড়ে ওঠা শহরটি বাফেলো থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। কানাডা সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় শহরটির ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির মতো বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসতি এখানে না থাকলেও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন দেশের মানুষের বসবাস রয়েছে। মোহাম্মদ ওসমানের উদ্যোগে যে পুরোনো গির্জাটিকে মসজিদে রূপান্তরের কথা জানা গেছে, সেটি আগে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তী সময়ে ভবনটির আগের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায় বলে পাওয়া বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে সেটিকে নতুন ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে গির্জাটির পূর্ববর্তী নাম, সুনির্দিষ্ট ঠিকানা, মালিকানা হস্তান্তরের তারিখ এবং ক্রয়মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ভবনটির সংস্কারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভবনটির সংস্কার ও ব্যবহারসংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ ওসমান নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে বসবাস করেন। বাফেলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বসতি গড়ে ওঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির তুলনায় তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন, বাড়ি কেনার সুযোগ এবং জীবনযাত্রার খরচের কারণে অনেক বাংলাদেশি পরিবার বাফেলোতে বসবাস শুরু করেছেন। ২০০৬ সালের পর থেকে নিউইয়র্ক সিটি, ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর বাফেলোতে আসার প্রবণতা বাড়ে বলে স্থানীয় কমিউনিটির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। ধীরে ধীরে শহরটিতে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গ্রোসারি স্টোর, রেস্টুরেন্ট এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন গড়ে ওঠে। বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে বাফেলোতে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের চাহিদাও বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নতুন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পুরোনো ভবন সংস্কার করে ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাফেলোর ওয়ালডেন অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থিত বাফেলো ইসলামিক কালচারাল সেন্টার, যা মসজিদ বাইতুল আমান নামেও পরিচিত, স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির একটি পরিচিত প্রতিষ্ঠান। সেখানে নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি কোরআন শিক্ষা, শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় কার্যক্রম এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন পরিচালিত হয়। বাফেলোর ইস্ট সাইড এলাকাতেও পুরোনো গির্জা ভবন নতুনভাবে ব্যবহারের নজির রয়েছে। শহরটির ঐতিহাসিক সেন্ট অ্যানস চার্চ অ্যান্ড শ্রাইন ভবন ২০২২ সালের নভেম্বরে বাফেলো ক্রিসেন্ট হোল্ডিংসের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ডাউনটাউন ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ভবনটি একটি ইসলামিক ও কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা ছিল। তবে সেন্ট অ্যানস চার্চের প্রকল্পটি লকপোর্টে মোহাম্মদ ওসমানের উদ্যোগ থেকে পৃথক। সেন্ট অ্যানস ভবনটি বাফেলো শহরে অবস্থিত এবং সেটি নিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বাফেলো টরন্টো পাবলিক মিডিয়া ও ডব্লিউকেবিডব্লিউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ওই স্থাপনায় একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে ভবনটির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত সমস্যার কারণে মালিকপক্ষকে আদালতের মুখোমুখি হতে হয়। এই প্রেক্ষাপটে বাফেলো ও আশপাশের এলাকায় পুরোনো ধর্মীয় ভবন নতুন কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো গির্জার নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ভবনগুলো বিক্রি করা হয়। নতুন মালিকেরা স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সেসব স্থাপনা ধর্মীয়, শিক্ষামূলক কিংবা সামাজিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তর করতে হলে শুধু ভবন কেনা বা সংস্কার করাই যথেষ্ট নয়। ভবনটির বর্তমান অনুমোদিত ব্যবহার, স্থানীয় জোনিং বিধি, নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তার শর্ত এবং জনসমাগমের উপযোগিতা বিবেচনা করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সিটি প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়ার বিষয়ও থাকতে পারে। লকপোর্টের প্রকল্পটির ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা জানা যায়নি। একইভাবে নতুন মসজিদে কতজন মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা থাকবে, সেখানে ইসলামিক শিক্ষা বা কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, মোহাম্মদ ওসমানের মূল লক্ষ্য পুরোনো ভবনটিকে মুসলমানদের ইবাদতের উপযোগী করে তোলা। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভবনটি কিনেছেন, নাকি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের মাধ্যমে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। বাফেলোতে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ার মধ্যে নিকটবর্তী লকপোর্টে এমন একটি উদ্যোগ স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় চাহিদা পূরণের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদিও সেখানে বর্তমানে কতটি মুসলিম পরিবার বসবাস করে কিংবা সম্ভাব্য মসজিদটি কতজন ব্যবহার করবেন, তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। একসময় খ্রিষ্টানদের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত একটি ভবনকে নতুন করে মুসলমানদের নামাজের জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল অভিবাসী সমাজের একটি দিক তুলে ধরছে। তবে লকপোর্টের পুরোনো গির্জাটি কবে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ হিসেবে চালু হবে, তা নির্ভর করছে সংস্কারকাজ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং উদ্যোক্তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
অধিকৃত ফিলিস্তিনের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা অন্তত ২৬ বার অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। একই সময়ে মসজিদটিতে অন্তত ১৫০ বার আজান দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ধর্ম ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়। এছাড়া ইহুদি ছুটির দিনগুলোর অজুহাতে হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদও মোট ছয় দিন সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছিল দখলদার কর্তৃপক্ষ। অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক অভিযান, বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটেই মুসলিমদের এই স্পর্শকাতর পবিত্র স্থানগুলোতে চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফিলিস্তিনের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা (WAFA) জানায়, আল-আকসা প্রাঙ্গণে নিয়মিত ইহুদিদের ধর্মীয় আচার ও প্রকাশ্য প্রার্থনার হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা বা ‘স্ট্যাটাস কো’ অনুযায়ী, এই চত্বরে কেবল মুসলিমদেরই নামাজ আদায়ের অধিকার রয়েছে এবং অমুসলিমরা নির্দিষ্ট সময়ে কেবল পরিদর্শনের জন্য প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু উগ্র ডানপন্থী ইহুদি গোষ্ঠীগুলো এখন সেখানে শনিবারও প্রবেশের অধিকার দাবি করছে। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, এই ধরনের বেপরোয়া দাবির মূল উদ্দেশ্য হলো পবিত্র আল-আকসা প্রাঙ্গণের স্থান ও সময় ভাগ করে এক নতুন ও বিতর্কিত বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে, হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদেও বিধিনিষেধের মাত্রা তীব্রতর করা হয়েছে। ১৯৯৪ সালে এক চরমপন্থী ইহুদির গুলিতে ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লি নিহত হওয়ার পর থেকে এই মসজিদটি মুসলিম ও ইহুদিদের আলাদা অংশে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। ইউনেস্কোর ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এই অঞ্চলের মসজিদটির পূর্ব প্রবেশদ্বার এবং জানালাগুলো ২০২৫ সালের শুরু থেকেই ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু আল-আকসা বা ইব্রাহিমি মসজিদই নয়, সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিম তীরের অন্যান্য মুসলিম উপাসনালয়গুলোতেও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরায়েলিরা। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাবলুসের ইমাদ আল-দিন জেঙ্গি মসজিদে অগ্নিসংযোগ করে দেওয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লিখে দেয় ইহুদি বসতিস্থাপনকারীরা। এছাড়া মাদানার একটি নতুন মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয় এবং জেরিকোর আল-জিফতলিক এলাকার আল-দুআইসাত নামাজ কক্ষটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঠিক এক শতাব্দী আগে লন্ডনের বুকে গড়ে ওঠা প্রথম মসজিদ 'ফজল মসজিদ' বা 'লন্ডন মসজিদ' তার শতবর্ষ উদ্যাপন করছে। ওয়ান্ডসওয়ার্থের সাউথফিল্ডস এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদটি যুক্তরাজ্যের আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বর্তমানে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, যার অংশ হিসেবে গৃহহীন মানুষদের জন্য ১০ হাজার বিনা মূল্যের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৯২৪ সালে যখন মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়, তখন প্রায় ৬০০ জন বিশিষ্ট অতিথির উপস্থিতিতে একটি রুপালি চাবি দিয়ে এর বিশাল কালো দরজা খোলা হয়েছিল। এই মসজিদ নির্মাণের পেছনে রয়েছে এক অনন্য ত্যাগের ইতিহাস। ভারতের কাদিয়ানের একদল আহমদিয়া মুসলিম এর জন্য অর্থায়ন করেছিলেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন নারী। নিজেদের অলংকার বিক্রি করে তাঁরা লন্ডনের প্রথম এই মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন, যদিও তাঁরা জানতেন যে এই মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার সুযোগ হয়তো তাঁদের কখনোই হবে না। ২০১৮ সালে 'হিস্টোরিক ইংল্যান্ড' এই ভবনটিকে সংরক্ষিত স্থাপনার মর্যাদা দেয়। ১০০ বছর পেরিয়ে গেলেও এর ছিপছিপে জানালা, সবুজ গম্বুজ, শুভ্র দেয়াল এবং চারপাশের মনোরম গোলাপ বাগানের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। শুধুমাত্র উপাসনালয় নয়, বরং ফজল মসজিদ বিভিন্ন সময়ে মানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি বিমান হামলার হাত থেকে বাঁচতে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে রক্তদান কর্মসূচি এবং কোভিড-১৯ টিকাদান কেন্দ্রও পরিচালিত হয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই মসজিদ। ঈদের সময় শিশুদের মিষ্টি বিতরণ, প্রতিবেশীদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানানো কিংবা অন্য ধর্মের মানুষের ওপর হামলার প্রতিবাদ—সবকিছুতেই তারা সোচ্চার। তাদের মূলমন্ত্র হলো 'সবার জন্য ভালোবাসা, কারও জন্য ঘৃণা নয়'। মসজিদটি বিশ্ব ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও নীরব সাক্ষী। ১৯৩০-এর দশকে এই মসজিদের তৎকালীন ইমাম আবদুর রহিম দারদ এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন। সে সময় ভারতের রাজনীতি নিয়ে হতাশ হয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ লন্ডনে স্থায়ীভাবে আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু ইমাম দারদ তাঁকে বুঝিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফিরে যেতে রাজি করান। এই ফজল মসজিদের বাগানে দাঁড়িয়েই জিন্নাহ একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ভারত ভাগ এবং স্বাধীন পাকিস্তানের জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছিল। মসজিদটির অতীত ও বর্তমান নিয়ে আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটির বর্তমান প্রধান মির্জা মাসরুর আহমদ বলেন, এই মসজিদের ইতিহাস প্রতিবেশীদের সেবা করা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে শান্তি বজায় রাখার নীতিকে দারুণভাবে প্রতিফলিত করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মসজিদটি আগামী প্রজন্মের জন্যও শান্তির বাতিঘর হয়ে থাকবে। ফজল মসজিদ প্রমাণ করেছে যে, তাদের সম্প্রীতির বার্তাটি চিরন্তন এবং এর কোনো মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নেই।
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার একটি মসজিদে টানা ৯০ দিন জামাতে নামাজ আদায়ের চ্যালেঞ্জে বিজয়ী ৩২ জন শিশু-কিশোরকে পুরস্কার হিসেবে বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে। শিশুদের মসজিদমুখী করতে এবং জামাতে নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করে পাঠাননগর ইউনিয়নের উত্তর হরিপুর কুতুব উল্যাহ ভূঁইয়া জামে মসজিদ কমিটি। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ী শিশুদের হাতে এই আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হেলালীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুফতি শামসুদ্দোহা নূরী। সভাপতি নজরুল ইসলাম হেলালী জানান, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলা, মসজিদে নিয়মিত উপস্থিতিতে উৎসাহ দেওয়া এবং একটি মসজিদকেন্দ্রিক ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। পুরস্কার হিসেবে নতুন বাইসাইকেল পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত শিশু-কিশোররা। তারা জানিয়েছে, আগামী দিনেও তারা নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় করবে এবং নিজেদের বন্ধুদেরও মসজিদে আসতে উৎসাহিত করবে। স্থানীয়রা মসজিদ কমিটির এই উদ্যোগকে ব্যাপকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের চমৎকার আয়োজন শিশুদের ধর্মীয় চর্চা, শৃঙ্খলাবোধ এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে মসজিদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এই উদ্যোগ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ভারতে একের পর এক মসজিদ ও মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙা বা উচ্ছেদের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উত্তর প্রদেশ থেকে দিল্লি এবং মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, এসব পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে সরকারি জমি দখল, অনুমোদনহীন নির্মাণ কিংবা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে। চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতে সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরের একটি পুরোনো মসজিদ ভেঙে ফেলে প্রশাসন। মসজিদটির বয়স নিয়ে বিভিন্ন দাবি রয়েছে। এর ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে এটিকে শত বছরেরও বেশি পুরোনো, এমনকি প্রায় ১১৫ থেকে ১৫০ বছরের পুরোনো বলে দাবি করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, মসজিদটি সরকারি জমিতে অনুমোদনহীনভাবে নির্মিত এবং আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদের আদেশ বহাল থাকার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটির আইনি দিক নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সাহারানপুরের সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত জুলাই মাসে জায়গাটি থেকে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিল।মসজিদ পরিচালনা কমিটি সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। সেপ্টেম্বরের ২ তারিখ জেলা আদালত আপিল খারিজ করে আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর ভোরে মসজিদটি ভেঙে দেওয়া হয়। প্রশাসন বলেছে, আদালতের সিদ্ধান্তের পর আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, উচ্ছেদের নির্দেশকে সরাসরি ভবন ভাঙার অনুমতি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানোর আগেই স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, স্থাপনাটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন রেকর্ডে এর অস্তিত্ব ছিল। অন্যদিকে সরকারি পক্ষ আদালতে জমিটিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে উপস্থাপন করে এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষ বৈধ মালিকানা বা দখলের যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি বলে আদালতের সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঘটনাটির সঙ্গে ধর্মীয় অধিকারের পাশাপাশি জমির মালিকানা ও সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের আইনি প্রশ্নও জড়িয়ে আছে। সাহারানপুরের ঘটনার পর দিল্লির শালিমার বাগেও মসজিদ ভাঙার ঘটনা সামনে আসে। ২৩ সেপ্টেম্বর সেখানে সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে মদিনা মসজিদসহ কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। প্রশাসনের অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠে এবং একটি রাজনৈতিক দলের নেতার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মসজিদের ভেতরের কোরআনসহ কিছু সামগ্রী সরানোর পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে এই অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এরপর মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে শাহী মসজিদের একটি অংশ ভাঙার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২৮ সেপ্টেম্বর সেখানে সড়ক সম্প্রসারণের কাজের অংশ হিসেবে মসজিদের একটি অংশ সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হলে স্থানীয়দের একাংশ প্রতিবাদ করেন। পরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। উজ্জয়িনের ঘটনাটি সাহারানপুরের ঘটনার চেয়ে আলাদা। এখানে প্রশাসনের মূল যুক্তি হলো সড়ক সম্প্রসারণ। ২০২৮ সালের সিমহাস্থ মেলার আগে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ২৭০টির বেশি স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহী মসজিদের একটি অংশ প্রস্তাবিত সড়কের জায়গায় পড়ায় সেটিও প্রকল্পের আওতায় এসেছে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ অবশ্য মসজিদটির ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে বিকল্প জায়গা দিয়ে সড়ক সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশকে সামনে রেখে শহরের যান চলাচল ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনেই সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আদালতেও আইনি লড়াই হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আদালত আগে সড়ক সম্প্রসারণের পথে থাকা কিছু স্থাপনা অপসারণের বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করা আবেদন খারিজ করেছিল। এদিকে উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদে পরিস্থিতি আরও একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। পাকবারা এলাকার মুস্তাফা মসজিদকে নিয়ে মোরাদাবাদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ ও ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, এলাহাবাদ হাইকোর্টে শুনানির সময় কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙার আদেশ না হওয়া পর্যন্ত মসজিদটি ভাঙা হবে না। মসজিদ কর্তৃপক্ষ ওই নোটিশকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে একসঙ্গে দেখলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে জমি, ওয়াকফ সম্পত্তি, অনুমোদন, অবৈধ নির্মাণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একাধিক বিরোধ সামনে এসেছে। কিছু ঘটনায় স্থাপনা ইতোমধ্যে ভেঙে দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপের কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। এসব ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। মুসলিম সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের পদক্ষেপে বৈষম্য বা পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে সরকারি পক্ষ সাধারণত বলছে, আইন সবার জন্য সমান এবং অবৈধ দখল বা অনুমোদনহীন নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের সাহারানপুরের মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সমালোচনা করেছে এবং এটিকে ঐতিহাসিক ইসলামি স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে পাকিস্তানের এই বক্তব্য একটি রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক অবস্থান; ঘটনাটির স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভারতের আদালতের নথি ও প্রশাসনের বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ভারতে সাম্প্রতিক মসজিদ উচ্ছেদ ও ভাঙার ঘটনাগুলো নতুন করে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ, ওয়াকফ সম্পত্তি, সরকারি জমি এবং নগর উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে কোনো ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার আগে যথাযথ নোটিশ, আদালতের নির্দেশ, আপিলের সুযোগ এবং সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া কতটা অনুসরণ করা হয়েছে, সেটিই এখন এসব বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পাথর নিক্ষেপ, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু পুরো মসজিদ নয়, বরং সড়ক সম্প্রসারণের প্রস্তাবিত সীমানার মধ্যে পড়া মসজিদের একটি অংশ। উজ্জয়নের কান্থাল চৌরাস্তা থেকে গোপাল মন্দির পর্যন্ত সড়কটি প্রায় ৯০০ মিটার দীর্ঘ। সড়কটি ১৫ মিটার প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের সিমহাস্থ মেলায় বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে শহরের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত অপসারণ ঠেকাতে রোববার রাত থেকেই স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষ মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন। তাদের কেউ কেউ মসজিদের ভেতরেও রাত কাটান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের দাবি, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য মসজিদের অংশ সরানোর পরিবর্তে বিপরীত পাশের স্থাপনা সরিয়ে বিকল্পভাবে রাস্তা প্রশস্ত করা যেতে পারে। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকেও ধর্মীয় স্থাপনাটি বাদ রেখে বিকল্প পরিকল্পনার দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবিত অপসারণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে মসজিদের আশপাশে লোকজন জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে। পরে এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সও মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় একজন নারী পুলিশ পরিদর্শক আহত হয়েছেন বলে দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে। সংঘর্ষের আশঙ্কায় মসজিদের আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এলাকায় প্রায় দুই হাজার বা তার বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। মসজিদকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় ব্যারিকেড বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রশাসনের উদ্দেশ্য ছিল সংঘর্ষ যাতে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। উজ্জয়নে ২০২৮ সালে সিমহাস্থ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ১২ বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। তাই শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা প্রশস্তকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। কান্থাল চৌরাস্তা থেকে গোপাল মন্দির পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার প্রকল্পে একাধিক স্থাপনা রাস্তার নির্ধারিত অংশের মধ্যে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায় ২৭২ থেকে ২৭৪টি স্থাপনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্মীয় স্থাপনাও রয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, রাস্তা প্রশস্ত করার কাজটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে না; প্রকল্পের সীমানায় থাকা বিভিন্ন স্থাপনা সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মসজিদের অংশ অপসারণের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেছিলেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ। ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ এ বিষয়ে করা দুটি আবেদন খারিজ করেছিল বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে। আদালত বলেছিল, পৌর কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে এবং সড়ক সম্প্রসারণের বিষয়টি জনস্বার্থ ও যানবাহন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। আদালত সিমহাস্থ মেলার সময় উজ্জয়নে সম্ভাব্য ব্যাপক জনসমাগমের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়। তবে মসজিদ কমিটি ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চতর বেঞ্চে আবেদন করে। ২৮ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিয়ে শুনানির কথাও ছিল। একই দিনে মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়াটিও নতুন করে আলোচনায় আসে। শাহী মসজিদটির বয়স নিয়েও বিভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। স্থানীয় ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম মসজিদটি প্রায় ৬৩৬ বছরের পুরোনো এবং ১৩৯০ সালের দিকে নির্মিত বলে দাবি করেছেন। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে মসজিদের বয়স নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ফলে ৬৩৬ বছরের দাবিটিকে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ কারণে বর্তমান বিরোধে মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের দাবি এবং সরকারি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প—দুই বিষয়ই আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সোমবারের সংঘর্ষের পর উজ্জয়নের শাহী মসজিদ এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে আদালতের কার্যক্রমও বিরোধটির পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরো শাহী মসজিদ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নয়, বরং প্রস্তাবিত ১৫ মিটার সড়ক সম্প্রসারণের মধ্যে পড়া মসজিদের নির্দিষ্ট অংশ অপসারণ নিয়েই বর্তমান বিরোধ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষই এখন উজ্জয়নের সবচেয়ে আলোচিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরে সড়ক প্রশস্ত করতে শাহী মসজিদের একটি অংশ ভাঙার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রাতভর অবস্থান করেছেন স্থানীয় মুসলিমরা। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর রাত থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান রোববার রাতেও চলছিল। মসজিদের একটি অংশ সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সোমবার উচ্চ আদালতে শুনানির কথা রয়েছে। ২০২৮ সালের সিংহস্থ ধর্মীয় সমাবেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উজ্জয়িনী পৌর কর্তৃপক্ষ একটি সড়ক প্রশস্ত করছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত ও যানজট সামলাতে কাজটি প্রয়োজন। প্রস্তাবিত সড়কের সীমানার মধ্যে শাহী মসজিদের একটি অংশ পড়েছে। মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দাবি, ভবনটি ১৩৯০ সালে নির্মিত। তাঁর আশঙ্কা, মসজিদের সামান্য অংশ ভাঙলেও পুরো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্থানীয় মুসলিমরা মসজিদ অক্ষত রেখে সড়কের কাজ করার দাবি জানিয়েছেন। মসজিদটির বয়স নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য থাকায় ‘৬০০ বছরের পুরোনো’ দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। গত ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের একক বেঞ্চ পৌর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা দুটি আবেদন খারিজ করে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ এরপর উচ্চ আদালতের দুই বিচারপতির বেঞ্চে আবেদন করেছে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর সেই আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা। বিক্ষোভের মধ্যে মসজিদের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবারের শুনানির আগে মসজিদের অংশ ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে, এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
উত্তর লন্ডনের একটি মসজিদে গাজার শিশুদের মতো সেখানকার শিশুদেরও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে একবার চিৎকার করেছিলেন এক নারী। অন্য একটি ঘটনায়, মসজিদ ভবনের গ্যাসের পাইপ কেটে এমনভাবে রাখা হয়েছিল যাতে ভেতরে গ্যাস জমে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গত তিন বছরে লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সোসাইটিকে এমন অসংখ্য বিদ্বেষমূলক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে ভয়ে নিজেদের গুটিয়ে না নিয়ে বরং সাধারণ মানুষের জন্য নিজেদের দরজা আরও প্রসারিত করেছে মসজিদটি। শুধু এই একটি মসজিদই নয়, ইসলাম ও ব্রিটিশ মুসলমানদের সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করতে চলতি সপ্তাহে লন্ডন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, শেফিল্ড ও গ্লাসগোসহ যুক্তরাজ্যের শতাধিক মসজিদ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ‘ভিজিট মাই মস্ক’ নামের এই বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষকে চা, ঐতিহ্যবাহী খাবার, আলোচনা চক্র, আন্তঃধর্মীয় কার্যক্রম এবং শিল্প প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের আয়োজনে ১১তম বছরে পদার্পণ করা এই কর্মসূচিটি বর্তমানে দেশটিতে ক্রমবর্ধমান ইসলামভীতির প্রেক্ষাপটে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংস্থাটির মহাসচিব ড. ওয়াজিদ আখতার জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বহু মানুষ ব্রিটিশ মুসলিমদের সম্পর্কে নানা তথ্য অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভর করে পাচ্ছে। এছাড়া বিদেশি অর্থায়নে পুষ্ট কিছু ধনকুবের বিষাক্ত প্রচারণার মাধ্যমে অনলাইন ও রাজপথে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণাকে উসকে দিচ্ছে। ইস্ট লন্ডন মসজিদের মরিয়ম সেন্টারের প্রধান সুফিয়া আলম মনে করেন, ঘৃণার চেয়ে বন্ধুত্ব ও সংহতি যে অনেক বেশি শক্তিশালী, তা প্রমাণ করতেই তাদের এই অংশগ্রহণ। মানুষ যখন মসজিদে এসে মুসলিম পরিবার ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে কথা বলবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অনেক স্টেরিওটাইপ ও ভয় দূর হয়ে যাবে। যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে যখন গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এই সম্প্রীতির উদ্যোগটি সামনে এলো। সরকারের অংশীদার হিসেবে কাজ করা ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্টের তথ্যমতে, দেশটিতে প্রতি পাঁচ দিনে অন্তত একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা, সম্পত্তি ধ্বংস, হয়রানি এবং অনলাইনে গালাগালির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। ফিঞ্চবেরি পার্ক মসজিদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কোজবার বলেন, ক্রমবর্ধমান মুসলিমবিদ্বেষের সবচেয়ে ভালো জবাব হলো উন্মুক্ততা, সংলাপ এবং পারস্পরিক সংহতি বজায় রাখা। উত্তর লন্ডনের মসজিদটি পরিচালনা করছেন বিবি খান, যিনি যুক্তরাজ্যের কোনো মসজিদের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। শনিবার বিকেলে সব ধর্মের মানুষের জন্য মসজিদটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে সেখানে এক অভূতপূর্ব সম্প্রীতির দৃশ্য দেখা যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুসওয়েল হিল ইউনাইটেড সিনাগগের ডেপুটি এবং ব্রিটিশ ইহুদিদের একটি নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি বিষয়ক বিভাগের ভাইস-চেয়ার জুডিথ প্রিন্সলি। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে মুসলিম ও ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও, বিবি খান ও প্রিন্সলির মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির এক দারুণ উদাহরণ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবর ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবি খান জানান, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে, বিশেষ করে ইহুদিদের সাথে পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। মতানৈক্য থাকলেও কঠিন সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নিউইয়র্কের স্টেটেন আইল্যান্ডের সাউথ শোর এলাকায় নতুন একটি মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টার চালু হয়েছে। মুসলিমদের নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে নতুন এই কেন্দ্র। শনিবার হুগেনটন অ্যাভিনিউয়ের নতুন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আয়োজন করে মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি (এমএএস)। অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন অংশ নেন। স্টেটেন আইল্যান্ডে এটি সংগঠনটির দ্বিতীয় কেন্দ্র। সাবেক নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির একটি ভবন সংস্কার করে নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারটি তৈরি করা হয়েছে। ভবনটি হুগেনটন স্টেশন থেকে খুব কাছেই অবস্থিত। মুসলিম আমেরিকান সোসাইটির রাজনৈতিক ও জনসংযোগবিষয়ক পরিচালক আবদুল্লাহ আকল বলেন, সাউথ শোর এলাকায় মুসলিম জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও এতদিন স্থানীয় অনেক মুসল্লিকে নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটি কার্যক্রমে অংশ নিতে ডংগান হিলস এলাকার মসজিদে যেতে হতো। হুগেনটন এলাকার অনেক বাসিন্দাকে সেখানে যেতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট গাড়ি চালাতে হতো। এমএএস একটি জাতীয় সংগঠন, যার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৫০টির বেশি শাখা রয়েছে। নিউইয়র্ক শাখার অধীনে বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকায় সাতটি কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। স্টেটেন আইল্যান্ডে সংগঠনটির প্রথম কেন্দ্রটি বার্গার অ্যাভিনিউয়ে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ওই কেন্দ্রটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সেবা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি সেখানে নির্মাণকাজ হয়েছে এবং আগামী মাসে কেন্দ্রটির পুনরায় উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আকল। নতুন হুগেনটন কেন্দ্রটি শুধু মুসলিমদের ধর্মীয় উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। স্থানীয় সব ধর্মের মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম উন্মুক্ত থাকবে। কেন্দ্রটিতে কারাতে ও ফুটবল প্রশিক্ষণ, সপ্তাহের মাঝামাঝি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সাপ্তাহিক খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। আকল বলেন, নতুন কেন্দ্রটির মূল উদ্দেশ্য শুধু মসজিদ পরিচালনা করা নয়। মুসলিম ও অমুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই এখানকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির হুগেনটন শাখার সঙ্গেও নতুন কেন্দ্রটির সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় শিশুদের পড়াশোনা ও বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে সাক্ষরতা ও পাঠাভ্যাসভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে। ভবনটি আগে নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির শাখা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। নতুন জায়গায় লাইব্রেরি স্থানান্তরের সময় কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় এমএএস কর্তৃপক্ষ তাদের আগের ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। কয়েক সপ্তাহ আগে লাইব্রেরিটি নতুন স্থানে চলে যাওয়ার পর ভবনটি মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের কাজ শেষ করা হয়। আকল জানান, লাইব্রেরির নতুন জায়গায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে তাদের পুরোনো ভবনে লাইব্রেরির সেবা চালু রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিল এমএএস। নতুন কেন্দ্রটির সরকারি ধারণক্ষমতা ৩০০ জন। শুরুতে সেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ জন মুসল্লি ও অংশগ্রহণকারীকে সেবা দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রায় এক বছর আগে ভবনটি অধিগ্রহণ করা হয়। এরপর প্রায় দুই মাসের সংস্কারকাজে লাইব্রেরির তাক সরানো, ভবন পরিষ্কার করা এবং নামাজের জন্য কার্পেট বসানোসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শৌচাগার ও ভবনের অবকাঠামোর আরও উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রটি সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকবে। শুক্রবার দুপুরের জুমার নামাজ হবে সাপ্তাহিক প্রধান ধর্মীয় আয়োজন। এছাড়া মুসলিমদের দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ব্যবস্থাও থাকবে। আকলের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেটেন আইল্যান্ডে মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পুরোনো কমিউনিটি কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে আগের তুলনায় বেশি মানুষের চাহিদা সামাল দিতে হচ্ছে। এমনকি সংগঠনটির পরিচালিত খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতেও প্রতি সপ্তাহে খাবার শেষ হয়ে যায় বলে জানান তিনি। এমএএস স্টেটেন আইল্যান্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও শিশু, তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয়, শিক্ষামূলক, ক্রীড়া ও সামাজিক কার্যক্রমের তথ্য দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি আগে থেকেই স্থানীয় মুসলিম ও বৃহত্তর কমিউনিটির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। নতুন কেন্দ্র চালুর উদ্যোগটি স্টেটেন আইল্যান্ডে এমএএসের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। সংগঠনটির আগের কেন্দ্রটি জায়গার সংকটে একাধিক জুমার জামাত, বিভিন্ন দিনে সাপ্তাহিক স্কুল এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে বলে তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: স্টেটেন আইল্যান্ড অ্যাডভান্স/সিলাইভ, মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি স্টেটেন আইল্যান্ড
যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে একসময় যেখানে নিয়মিত মদের আসর বসত, আজ সেখানে আজানের ধ্বনি আর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের সুর ভেসে আসে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরম শান্তিতে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। চট্টগ্রামের রাউজানের সন্তান ও লন্ডনপ্রবাসী বিশিষ্ট বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেলের একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে তিনি একটি পুরোনো মদের বার কিনে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরিত করেছেন। প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, রূপান্তরিত এই সম্পত্তিটির বর্তমান বাজারমূল্য সাড়ে ৪ মিলিয়ন (৪৫ লাখ) পাউন্ড ছাড়িয়েছে। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসা থেকে তিনি এই মসজিদটির নামকরণ করেছেন নিজের মায়ের নামে। তবে শুধু পূর্ব লন্ডনের এই মসজিদ নির্মাণেই জিয়া বিন রাসেলের দাতব্য কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নেই। প্রচারের আড়ালে থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশে-বিদেশে বহুমুখী মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন। ফিলিস্তিনের গাজা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে অসহায় পরিবারগুলোর জন্য রান্না করা খাবার, রুটি, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশে শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের সহায়তা, পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন ও আর্থিক অনুদান প্রদান, দুর্যোগ ও বন্যা মোকাবিলায় ত্রাণ বিতরণ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাদ্রাসাগুলোতে কোরআনিক শিক্ষায় নিয়মিত সহায়তা করে আসছেন তিনি। তার এই নিরবচ্ছিন্ন সহায়তায় ইতোমধ্যে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছেন। বাংলাদেশে তার দীর্ঘমেয়াদি মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাভারের নবীনগরে ‘হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’-এর অধীনে প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষদের সম্মানজনকভাবে বাঁচার ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জিয়া বিন রাসেল বর্তমানে এই দাতব্য সংস্থাটির একজন সম্মানিত উপদেষ্টা ও অভিভাবক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। প্রচারবিমুখ এই মানুষটির অসংখ্য মহৎ কাজই কোনো ছবি বা ভিডিও ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। তবে কেবল সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের মানবিক কাজে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই তার সহকর্মীরা সম্প্রতি কিছু উদ্যোগ জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। লন্ডনে বার থেকে মসজিদ নির্মাণ হোক কিংবা গাজা-সুদানের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—তার প্রতিটি পদক্ষেপই মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি মসজিদে চিঠি পাঠিয়ে মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লুই হোয়াইট (৬০) নামের ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে সিরিয়াল নম্বরবিহীন একটি এআর-১৫ স্টাইলের রাইফেলসহ বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ফেডারেল আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট রিভারসাইড কাউন্টির ‘ইসলামিক সেন্টার অফ টেমিকুলা ভ্যালি’ নামের একটি মসজিদে হুমকিসংবলিত চিঠিটি আসে। চিঠিতে লেখা ছিল, "তোমাদের প্রত্যেককে হত্যা করার দিনটির জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না!" বার্তার ঠিক নিচে ক্রসহেয়ার বা বন্দুকের টার্গেটের আদলে একটি নকশা আঁকা ছিল। সেই টার্গেটের ভেতরে চোখ কাটা ও টুপি পরা এক দাড়িওয়ালা ব্যক্তির ছবি এবং আল্লাহকে নিয়ে একটি আপত্তিকর মন্তব্য লেখা ছিল। চিঠিটি পাওয়ার পরই মসজিদ কর্তৃপক্ষ দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানায়। তদন্তে নেমে পুলিশ চিঠিটির সূত্র ধরে সান দিয়েগো কাউন্টির ওয়ার্নার স্প্রিংসের বাসিন্দা লুই হোয়াইটের সন্ধান পায়। গত ২৯ আগস্ট তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিরিয়াল নম্বরবিহীন ওই এআর-১৫ স্টাইলের শর্ট-ব্যারেল রাইফেলটি উদ্ধার করা হয়, যা সাধারণত ‘গোস্ট গান’ নামে পরিচিত। বর্তমানে লুই হোয়াইট রিভারসাইড কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাকে ফেডারেল হেফাজতে স্থানান্তর করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাগারে সাজা হতে পারে।
১৯৯৭ সালে ওমরা করতে সৌদি আরবের মদিনায় গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড সিস্টেমে একটি সমস্যা চোখে পড়ে তুরস্কের অডিও ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ টেকিন টুপুজদাগের। ইমামের কণ্ঠ স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল না, ছিল অতিরিক্ত প্রতিধ্বনি ও শব্দের প্রতিক্রিয়া। সেই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগই পরে তাকে পবিত্র দুই মসজিদের সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নের দীর্ঘ ১০ বছরের কাজে যুক্ত করে। মসজিদে নববীর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কথা বলে নিজের পদ্ধতি পরীক্ষা করার সুযোগ পান টুপুজদাগ। একটি নির্দিষ্ট অংশে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করার পর শব্দের মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। এরপর পুরো সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নের কাজে তাকে যুক্ত করা হয়। পরবর্তী এক দশকে মসজিদে নববীর অডিও ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। মাইক্রোফোন, কেবল, স্পিকারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিবর্তন ও সমন্বয় করা হয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কণ্ঠের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সাউন্ড সেটিংও আলাদাভাবে সমন্বয় করা হয়। শব্দের প্রতিধ্বনি ও ফিডব্যাক কমানোর পাশাপাশি পুরো মসজিদকে সাতটি অডিও জোনে ভাগ করা হয়। নামাজের বিভিন্ন অবস্থায়ও যেন ইমামের কণ্ঠ মুসল্লিদের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছায়, সে জন্য অতিরিক্ত মাইক্রোফোন ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়। মসজিদে নববীর পাশাপাশি মক্কার মসজিদুল হারামের সাউন্ড সিস্টেম নিয়েও কাজ করেন টুপুজদাগ। তার কাজের ফলে সাউন্ডের স্বচ্ছতা বাড়ে এবং বিস্তৃত ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জে শব্দ পৌঁছানোর সক্ষমতা উন্নত হয় বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরব ছাড়ার আগে টুপুজদাগ স্থানীয় সৌদি প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদেরও প্রশিক্ষণ দেন। পরবর্তীতে তারা দেশটির বিভিন্ন মসজিদের অডিও সিস্টেম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত হন। একটি ওমরা সফরে গিয়ে সাউন্ডের একটি সমস্যা চোখে পড়া থেকে শুরু হয়েছিল যে উদ্যোগ, সেটিই শেষ পর্যন্ত মসজিদে নববী ও মসজিদুল হারামের অডিও ব্যবস্থা উন্নয়নের এক দশকের দীর্ঘ প্রকল্পে পরিণত হয়।
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে একটি সিনাগগে প্রাণঘাতী হামলার জেরে দুটি মসজিদে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অপরাধে গ্যাব্রিয়েল লেভি নামের ২১ বছর বয়সী এক যুবককে ২৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার লিডস ক্রাউন আদালতে হত্যার হুমকির বিষয়টি স্বীকার করার পর বিচারক তাকে দুই বছরেরও বেশি সময়ের এই সাজা প্রদান করেন। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর বিকেলে ম্যানচেস্টারের চিথাম হিলের আল-সুন্নাহ মসজিদে বেনামে ফোন করেন লেভি। ফোন ধরা ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "আমি তোমাদের মসজিদে এসে তোমাদের হত্যা করব।" একই দিন বিকেলে তিনি ম্যানচেস্টারের ইকরা মসজিদেও ফোন করে সেখানকার এক কর্মীকে বলেন, "আমি তোমাকে হত্যা করব, মুসলিম।" গ্রেপ্তারের পর ইহুদি ধর্মাবলম্বী এই যুবক পুলিশকে জানান, মাত্র দুদিন আগে ম্যানচেস্টারের একটি সিনাগগে হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি এই ফোন কলগুলো করেছিলেন। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে ইসলামোফোবিক ও বর্ণবাদী ঘৃণামূলক বার্তাও পায় পুলিশ। এর আগে, গত ২ অক্টোবর ইহুদিদের পবিত্র দিন 'ইয়োম কিপুর' চলাকালে ক্রাম্পসালের হিটন পার্ক হিব্রু কনগ্রেগেশন সিনাগগে ভয়াবহ ওই হামলাটি ঘটে। জিহাদ আল-শামি নামের ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে সিনাগগের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভুয়া আত্মঘাতী বেল্ট পরে ছুরি দিয়ে হামলা চালায়। পরে সশস্ত্র পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়। ওই হামলায় দুজন পুণ্যার্থী প্রাণ হারান। ৬৬ বছর বয়সী মেলভিন ক্রাভিটজ আল-শামির ছুরিকাঘাতে এবং ৫৩ বছর বয়সী আদ্রিয়ান ডলবি ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা এক পুলিশ কর্মকর্তার ভুল গুলিতে বুকে আঘাত পেয়ে মারা যান। এই মামলার রায়ের বিষয়ে সিনিয়র ক্রাউন প্রসিকিউটর আমির সাজাদ বলেন, নিজের দায়িত্ব পালনের সময় কাউকে হত্যার হুমকি দিয়ে আতঙ্কিত করার অধিকার কারও নেই। গ্যাব্রিয়েল লেভি যখন বেপরোয়াভাবে ফোন করে এই হুমকিগুলো দিচ্ছিলেন, তখন তিনি একবারও ভাবেননি অপর প্রান্তে কে আছেন। হত্যার হুমকি এবং ইসলামোফোবিক যেকোনো ঘৃণামূলক অপরাধকে আইনিভাবে সব সময়ই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদ থেকে প্রতি শুক্রবার লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসানোর জন্য করা আবেদনটির বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬০০টির বেশি আপত্তি জমা পড়েছে। অন্যদিকে প্রস্তাবের পক্ষে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের পিটিশনে ৫ হাজারের বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাকেম্বায় অবস্থিত মসজিদটির পরিচালনাকারী লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন চলতি বছরের মে মাসে ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলে নতুন ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন জমা দেয়। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালেও আবেদনটি নথিভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মসজিদের প্রায় ২০ মিটার উঁচু মিনারে চারটি লাউডস্পিকার স্থাপন করা হবে। পরিকল্পনাটি মূলত শুক্রবারের জুমার নামাজের আগে আজান প্রচারের জন্য। তবে আজান কতক্ষণ এবং কত দূর পর্যন্ত শোনা যাবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দেওয়া তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক পিটিশনে সপ্তাহে একবার শুক্রবার দুপুরে সর্বোচ্চ তিন মিনিট আজান প্রচারের কথা বলা হয়েছে। শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি। মসজিদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রস্তাবিত আজান স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয় প্রয়োজন ও লাকেম্বার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। তারা বলছে, শব্দের মাত্রা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে যাতে আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর অযৌক্তিক প্রভাব না পড়ে। তবে কাউন্সিলের কাছে জমা পড়া বিপুলসংখ্যক আপত্তিতে শব্দদূষণ, আবাসিক এলাকার শান্ত পরিবেশ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের আবেদনের নজির তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলও শব্দের মাত্রা নিয়ে জমা দেওয়া বিভিন্ন মূল্যায়নের অসঙ্গতিসহ কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে স্বাধীন অ্যাকুস্টিক পর্যালোচনাও করা হয়েছে। কাউন্সিলর বারবারা কুরি প্রস্তাবটির অন্যতম বিরোধী। তার বক্তব্য, বিতর্কটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং আবাসিক ও কর্মসংস্থান এলাকায় বাইরে থেকে উচ্চ শব্দ প্রচারের ক্ষেত্রে একই নিয়ম নিশ্চিত করার বিষয়। তিনি ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে বাইরে প্রচারিত শব্দ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পরিকল্পনা বিধিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাবও দিয়েছেন। এটি লাকেম্বা মসজিদের প্রথম আবেদন নয়। ২০২৫ সালে একই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসিয়ে প্রতি শুক্রবার আজান প্রচারের একটি আবেদন করা হয়েছিল। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, সেই আবেদন ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট স্থানীয় প্ল্যানিং প্যানেল প্রত্যাখ্যান করে। সে সময় জনমত গ্রহণে পাওয়া ৩২৯টি মতামতের মধ্যে ৩২৮টিই প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিল। এরপর ২০২৬ সালে সংশোধিত পরিকল্পনা নিয়ে আবার আবেদন করেছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন। নতুন আবেদনটির নম্বর ডিএ-৫১৮/২০২৬। সরকারি প্ল্যানিং পোর্টালে আবেদনটির অবস্থা এখনো বিবেচনাধীন হিসেবে দেখানো হচ্ছে। বর্তমান আবেদন নিয়ে বিতর্কের একদিকে রয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সমান সুযোগের প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে আবাসিক এলাকার শব্দ ও জনস্বাচ্ছন্দ্য রক্ষার দাবি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে শব্দের মাত্রা, আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং স্থানীয় পরিকল্পনা বিধি বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টো হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি মসজিদে শিক্ষা সফর ঘিরে ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছেন একদল অভিভাবক। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অধীনে আয়োজিত ওই সফরে শিক্ষার্থীদের ইসলামি পোশাক পরতে উৎসাহিত করা হয়, বাড়িতে নেওয়ার জন্য কোরআন দেওয়া হয় এবং তারা মুসলিমদের নামাজ পর্যবেক্ষণ করে। অভিভাবকদের দাবি, সরকারি স্কুলের শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সীমা অতিক্রম করে এটি ধর্মীয় কার্যক্রমে পরিণত হয়েছিল। গত ৭ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল কোর্টে মামলাটি করা হয়। এতে পালো অল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং পালো অল্টো হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল ব্রেন্ট ক্লাইনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের শরৎকালে সান্তা ক্লারার মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের মসজিদে শিক্ষার্থীদের একটি সফর। এটি পালো অল্টো হাই স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অংশ ছিল। স্কুলটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে তিন বছরের একটি শিক্ষা কর্মসূচি। এতে প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষা, কমিউনিটির সঙ্গে কাজ এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়। শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। তবে মসজিদ সফরের ক্ষেত্রে সেই শিক্ষামূলক সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার বাদীরা ‘কমিউনিটি মেম্বারস ফর রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি ইন পাবলিক স্কুলস’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে ইহুদি, হিন্দু ও জরথুস্ত্রী পরিবারের অভিভাবক এবং সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সফরের সময় শিক্ষার্থীদের কোরআনের কপি দেওয়া হয়েছিল এবং মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা মসজিদে দুপুরের নামাজও প্রত্যক্ষ করে। এসব কর্মকাণ্ডকে বাদীপক্ষ সরকারি স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। মসজিদ সফরের সঙ্গে যুক্ত নাগরিক অধিকারকর্মী জাহরা বিলু অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সফরের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায় সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ দেওয়া। ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল না এবং সফরটি শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। এই পার্থক্যটিই মামলার গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুলে ধর্ম সম্পর্কে ইতিহাস, সংস্কৃতি বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে পড়ানো নিষিদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করতে পারে। তবে সরকারি স্কুল কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে সমর্থন, প্রচার বা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলনে অংশ নিতে বাধ্য করতে পারে না। অভিভাবকদের অভিযোগ, মসজিদ সফরের কিছু কার্যক্রম পর্যবেক্ষণমূলক শিক্ষার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে সফরের আয়োজকদের অবস্থান হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের সামনে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও চর্চা তুলে ধরাই ছিল উদ্দেশ্য এবং অংশগ্রহণ ছিল স্বেচ্ছামূলক। মামলায় শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, যথাযথ অনুমতি ছাড়াই কিছু শিক্ষার্থীর ছবি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছিল। তারা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কাছ থেকে দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘনের স্বীকৃতি চাইছেন। পালো অল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ডিস্ট্রিক্ট আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার কাগজপত্র হাতে পায়নি। তবে তিনি সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে ডিস্ট্রিক্টের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এখন ফেডারেল কোর্টে মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, মসজিদ সফরটি সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যে ছিল, নাকি সরকারি স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করেছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।