সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মসজিদ

ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে মুসলিমদের হত্যার হুমকি, অ স্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ
ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে মুসলিমদের হত্যার হুমকি, অ স্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি মসজিদে চিঠি পাঠিয়ে মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লুই হোয়াইট (৬০) নামের ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে সিরিয়াল নম্বরবিহীন একটি এআর-১৫ স্টাইলের রাইফেলসহ বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ফেডারেল আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট রিভারসাইড কাউন্টির ‘ইসলামিক সেন্টার অফ টেমিকুলা ভ্যালি’ নামের একটি মসজিদে হুমকিসংবলিত চিঠিটি আসে। চিঠিতে লেখা ছিল, "তোমাদের প্রত্যেককে হত্যা করার দিনটির জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না!" বার্তার ঠিক নিচে ক্রসহেয়ার বা বন্দুকের টার্গেটের আদলে একটি নকশা আঁকা ছিল।   সেই টার্গেটের ভেতরে চোখ কাটা ও টুপি পরা এক দাড়িওয়ালা ব্যক্তির ছবি এবং আল্লাহকে নিয়ে একটি আপত্তিকর মন্তব্য লেখা ছিল। চিঠিটি পাওয়ার পরই মসজিদ কর্তৃপক্ষ দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানায়।   তদন্তে নেমে পুলিশ চিঠিটির সূত্র ধরে সান দিয়েগো কাউন্টির ওয়ার্নার স্প্রিংসের বাসিন্দা লুই হোয়াইটের সন্ধান পায়। গত ২৯ আগস্ট তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিরিয়াল নম্বরবিহীন ওই এআর-১৫ স্টাইলের শর্ট-ব্যারেল রাইফেলটি উদ্ধার করা হয়, যা সাধারণত ‘গোস্ট গান’ নামে পরিচিত।   বর্তমানে লুই হোয়াইট রিভারসাইড কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাকে ফেডারেল হেফাজতে স্থানান্তর করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাগারে সাজা হতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী
ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

১৯৯৭ সালে ওমরা করতে সৌদি আরবের মদিনায় গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড সিস্টেমে একটি সমস্যা চোখে পড়ে তুরস্কের অডিও ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ টেকিন টুপুজদাগের। ইমামের কণ্ঠ স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল না, ছিল অতিরিক্ত প্রতিধ্বনি ও শব্দের প্রতিক্রিয়া। সেই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগই পরে তাকে পবিত্র দুই মসজিদের সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নের দীর্ঘ ১০ বছরের কাজে যুক্ত করে।   মসজিদে নববীর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কথা বলে নিজের পদ্ধতি পরীক্ষা করার সুযোগ পান টুপুজদাগ। একটি নির্দিষ্ট অংশে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করার পর শব্দের মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। এরপর পুরো সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নের কাজে তাকে যুক্ত করা হয়।   পরবর্তী এক দশকে মসজিদে নববীর অডিও ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। মাইক্রোফোন, কেবল, স্পিকারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিবর্তন ও সমন্বয় করা হয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কণ্ঠের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সাউন্ড সেটিংও আলাদাভাবে সমন্বয় করা হয়।   শব্দের প্রতিধ্বনি ও ফিডব্যাক কমানোর পাশাপাশি পুরো মসজিদকে সাতটি অডিও জোনে ভাগ করা হয়। নামাজের বিভিন্ন অবস্থায়ও যেন ইমামের কণ্ঠ মুসল্লিদের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছায়, সে জন্য অতিরিক্ত মাইক্রোফোন ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়।   মসজিদে নববীর পাশাপাশি মক্কার মসজিদুল হারামের সাউন্ড সিস্টেম নিয়েও কাজ করেন টুপুজদাগ। তার কাজের ফলে সাউন্ডের স্বচ্ছতা বাড়ে এবং বিস্তৃত ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জে শব্দ পৌঁছানোর সক্ষমতা উন্নত হয় বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।   সৌদি আরব ছাড়ার আগে টুপুজদাগ স্থানীয় সৌদি প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদেরও প্রশিক্ষণ দেন। পরবর্তীতে তারা দেশটির বিভিন্ন মসজিদের অডিও সিস্টেম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত হন।   একটি ওমরা সফরে গিয়ে সাউন্ডের একটি সমস্যা চোখে পড়া থেকে শুরু হয়েছিল যে উদ্যোগ, সেটিই শেষ পর্যন্ত মসজিদে নববী ও মসজিদুল হারামের অডিও ব্যবস্থা উন্নয়নের এক দশকের দীর্ঘ প্রকল্পে পরিণত হয়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
মসজিদে হা মলার হুমকি দিয়ে ২৮ মাসের কারাদণ্ড পেলেন ২১ বছর বয়সী ইহুদি যুবক
মসজিদে হা মলার হুমকি দিয়ে ২৮ মাসের কারাদণ্ড পেলেন ২১ বছর বয়সী ইহুদি যুবক

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে একটি সিনাগগে প্রাণঘাতী হামলার জেরে দুটি মসজিদে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অপরাধে গ্যাব্রিয়েল লেভি নামের ২১ বছর বয়সী এক যুবককে ২৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার লিডস ক্রাউন আদালতে হত্যার হুমকির বিষয়টি স্বীকার করার পর বিচারক তাকে দুই বছরেরও বেশি সময়ের এই সাজা প্রদান করেন।   ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর বিকেলে ম্যানচেস্টারের চিথাম হিলের আল-সুন্নাহ মসজিদে বেনামে ফোন করেন লেভি।   ফোন ধরা ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "আমি তোমাদের মসজিদে এসে তোমাদের হত্যা করব।"   একই দিন বিকেলে তিনি ম্যানচেস্টারের ইকরা মসজিদেও ফোন করে সেখানকার এক কর্মীকে বলেন, "আমি তোমাকে হত্যা করব, মুসলিম।" গ্রেপ্তারের পর ইহুদি ধর্মাবলম্বী এই যুবক পুলিশকে জানান, মাত্র দুদিন আগে ম্যানচেস্টারের একটি সিনাগগে হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি এই ফোন কলগুলো করেছিলেন। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে ইসলামোফোবিক ও বর্ণবাদী ঘৃণামূলক বার্তাও পায় পুলিশ।   এর আগে, গত ২ অক্টোবর ইহুদিদের পবিত্র দিন 'ইয়োম কিপুর' চলাকালে ক্রাম্পসালের হিটন পার্ক হিব্রু কনগ্রেগেশন সিনাগগে ভয়াবহ ওই হামলাটি ঘটে। জিহাদ আল-শামি নামের ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে সিনাগগের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভুয়া আত্মঘাতী বেল্ট পরে ছুরি দিয়ে হামলা চালায়।   পরে সশস্ত্র পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়। ওই হামলায় দুজন পুণ্যার্থী প্রাণ হারান। ৬৬ বছর বয়সী মেলভিন ক্রাভিটজ আল-শামির ছুরিকাঘাতে এবং ৫৩ বছর বয়সী আদ্রিয়ান ডলবি ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা এক পুলিশ কর্মকর্তার ভুল গুলিতে বুকে আঘাত পেয়ে মারা যান।   এই মামলার রায়ের বিষয়ে সিনিয়র ক্রাউন প্রসিকিউটর আমির সাজাদ বলেন, নিজের দায়িত্ব পালনের সময় কাউকে হত্যার হুমকি দিয়ে আতঙ্কিত করার অধিকার কারও নেই।   গ্যাব্রিয়েল লেভি যখন বেপরোয়াভাবে ফোন করে এই হুমকিগুলো দিচ্ছিলেন, তখন তিনি একবারও ভাবেননি অপর প্রান্তে কে আছেন। হত্যার হুমকি এবং ইসলামোফোবিক যেকোনো ঘৃণামূলক অপরাধকে আইনিভাবে সব সময়ই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মসজিদে লাউডস্পিকারে আজানের প্রস্তাব বাতিল
তীব্র আপত্তির মুখে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মসজিদে লাউডস্পিকারে আজানের প্রস্তাব বাতিল

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদ থেকে প্রতি শুক্রবার লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসানোর জন্য করা আবেদনটির বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬০০টির বেশি আপত্তি জমা পড়েছে। অন্যদিকে প্রস্তাবের পক্ষে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের পিটিশনে ৫ হাজারের বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন।   সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাকেম্বায় অবস্থিত মসজিদটির পরিচালনাকারী লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন চলতি বছরের মে মাসে ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলে নতুন ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন জমা দেয়। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালেও আবেদনটি নথিভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মসজিদের প্রায় ২০ মিটার উঁচু মিনারে চারটি লাউডস্পিকার স্থাপন করা হবে।   পরিকল্পনাটি মূলত শুক্রবারের জুমার নামাজের আগে আজান প্রচারের জন্য। তবে আজান কতক্ষণ এবং কত দূর পর্যন্ত শোনা যাবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দেওয়া তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক পিটিশনে সপ্তাহে একবার শুক্রবার দুপুরে সর্বোচ্চ তিন মিনিট আজান প্রচারের কথা বলা হয়েছে। শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।   মসজিদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রস্তাবিত আজান স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয় প্রয়োজন ও লাকেম্বার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। তারা বলছে, শব্দের মাত্রা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে যাতে আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর অযৌক্তিক প্রভাব না পড়ে।   তবে কাউন্সিলের কাছে জমা পড়া বিপুলসংখ্যক আপত্তিতে শব্দদূষণ, আবাসিক এলাকার শান্ত পরিবেশ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের আবেদনের নজির তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলও শব্দের মাত্রা নিয়ে জমা দেওয়া বিভিন্ন মূল্যায়নের অসঙ্গতিসহ কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে স্বাধীন অ্যাকুস্টিক পর্যালোচনাও করা হয়েছে।   কাউন্সিলর বারবারা কুরি প্রস্তাবটির অন্যতম বিরোধী। তার বক্তব্য, বিতর্কটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং আবাসিক ও কর্মসংস্থান এলাকায় বাইরে থেকে উচ্চ শব্দ প্রচারের ক্ষেত্রে একই নিয়ম নিশ্চিত করার বিষয়। তিনি ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে বাইরে প্রচারিত শব্দ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পরিকল্পনা বিধিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাবও দিয়েছেন।   এটি লাকেম্বা মসজিদের প্রথম আবেদন নয়। ২০২৫ সালে একই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসিয়ে প্রতি শুক্রবার আজান প্রচারের একটি আবেদন করা হয়েছিল। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, সেই আবেদন ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট স্থানীয় প্ল্যানিং প্যানেল প্রত্যাখ্যান করে। সে সময় জনমত গ্রহণে পাওয়া ৩২৯টি মতামতের মধ্যে ৩২৮টিই প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিল।   এরপর ২০২৬ সালে সংশোধিত পরিকল্পনা নিয়ে আবার আবেদন করেছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন। নতুন আবেদনটির নম্বর ডিএ-৫১৮/২০২৬। সরকারি প্ল্যানিং পোর্টালে আবেদনটির অবস্থা এখনো বিবেচনাধীন হিসেবে দেখানো হচ্ছে।   বর্তমান আবেদন নিয়ে বিতর্কের একদিকে রয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সমান সুযোগের প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে আবাসিক এলাকার শব্দ ও জনস্বাচ্ছন্দ্য রক্ষার দাবি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে শব্দের মাত্রা, আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং স্থানীয় পরিকল্পনা বিধি বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মসজিদ অবস্থানর অবস্থায় নারীর। ছবি:সংগৃহীত
মসজিদ সফরে মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহ, শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়ার অভিযোগে স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা

ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টো হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি মসজিদে শিক্ষা সফর ঘিরে ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছেন একদল অভিভাবক। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অধীনে আয়োজিত ওই সফরে শিক্ষার্থীদের ইসলামি পোশাক পরতে উৎসাহিত করা হয়, বাড়িতে নেওয়ার জন্য কোরআন দেওয়া হয় এবং তারা মুসলিমদের নামাজ পর্যবেক্ষণ করে। অভিভাবকদের দাবি, সরকারি স্কুলের শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সীমা অতিক্রম করে এটি ধর্মীয় কার্যক্রমে পরিণত হয়েছিল।   গত ৭ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল কোর্টে মামলাটি করা হয়। এতে পালো অল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং পালো অল্টো হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল ব্রেন্ট ক্লাইনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।   মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের শরৎকালে সান্তা ক্লারার মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের মসজিদে শিক্ষার্থীদের একটি সফর। এটি পালো অল্টো হাই স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অংশ ছিল।   স্কুলটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে তিন বছরের একটি শিক্ষা কর্মসূচি। এতে প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষা, কমিউনিটির সঙ্গে কাজ এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়। শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।   তবে মসজিদ সফরের ক্ষেত্রে সেই শিক্ষামূলক সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।   সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার বাদীরা ‘কমিউনিটি মেম্বারস ফর রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি ইন পাবলিক স্কুলস’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে ইহুদি, হিন্দু ও জরথুস্ত্রী পরিবারের অভিভাবক এবং সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছেন।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সফরের সময় শিক্ষার্থীদের কোরআনের কপি দেওয়া হয়েছিল এবং মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা মসজিদে দুপুরের নামাজও প্রত্যক্ষ করে। এসব কর্মকাণ্ডকে বাদীপক্ষ সরকারি স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করছে।   তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।   মসজিদ সফরের সঙ্গে যুক্ত নাগরিক অধিকারকর্মী জাহরা বিলু অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সফরের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায় সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ দেওয়া। ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল না এবং সফরটি শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।   এই পার্থক্যটিই মামলার গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুলে ধর্ম সম্পর্কে ইতিহাস, সংস্কৃতি বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে পড়ানো নিষিদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করতে পারে। তবে সরকারি স্কুল কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে সমর্থন, প্রচার বা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলনে অংশ নিতে বাধ্য করতে পারে না।   অভিভাবকদের অভিযোগ, মসজিদ সফরের কিছু কার্যক্রম পর্যবেক্ষণমূলক শিক্ষার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে সফরের আয়োজকদের অবস্থান হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের সামনে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও চর্চা তুলে ধরাই ছিল উদ্দেশ্য এবং অংশগ্রহণ ছিল স্বেচ্ছামূলক।   মামলায় শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, যথাযথ অনুমতি ছাড়াই কিছু শিক্ষার্থীর ছবি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছিল। তারা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কাছ থেকে দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘনের স্বীকৃতি চাইছেন।   পালো অল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ডিস্ট্রিক্ট আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার কাগজপত্র হাতে পায়নি। তবে তিনি সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে ডিস্ট্রিক্টের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   এখন ফেডারেল কোর্টে মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, মসজিদ সফরটি সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যে ছিল, নাকি সরকারি স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করেছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

Unknown আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে মার্কিন আইনপ্রণেতার তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন
টেক্সাসে মার্কিন আইনপ্রণেতার তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ম্যাকিনিতে একটি নতুন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বা কংগ্রেসম্যান কিথ সেলফ। তিনি ম্যাকিনি সিটি কাউন্সিলের কাছে ৫ দশমিক ৫ একর জায়গার ওপর ‘ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যাকিনি’-এর এই জোনিং আবেদনটি বাতিল করার জোর দাবি জানান। তবে তার এই কড়া বিরোধিতা এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক অভিযোগ সত্ত্বেও সিটি কাউন্সিল সর্বসম্মতভাবে মসজিদ নির্মাণের পক্ষেই রায় দিয়েছে। কাউন্সিল সদস্যদের মতে, মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাবটি শহরের সব নিয়মকানুনের সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।   সিটি কাউন্সিলের শুনানিতে কিথ সেলফ তথাকথিত ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ বা রাজনৈতিক ইসলাম এবং শরিয়া আইনকে স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কাউন্সিল সদস্যদের সতর্ক করে তিনি দাবি করেন যে, বাল্যবিবাহ বা অনার কিলিংয়ের মতো ঘটনা এখানে ঘটবে না—এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনী স্থানীয়দের বাঁচাতে আসবে না। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যে ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর মাধ্যমে নির্যাতনের কিছু অভিযোগও তুলে ধরেন, যেখানে তিনি প্রায় আড়াই লাখ ভুক্তভোগীর কথা উল্লেখ করেন। তবে সরকারি বা নির্ভরযোগ্য কোনো নথিতে তার এই পরিসংখ্যানের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।   ভার্জিনিয়া পার্কওয়ে এবং ক্রুচার ক্রসিংয়ের কাছাকাছি প্রস্তাবিত এই মসজিদটি নিয়ে ২০২৪ সাল থেকেই বিতর্ক চলে আসছিল। শুরুতে যানজট এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে কিছু উদ্বেগ থাকলেও পরবর্তীতে অ্যাসোসিয়েশন তাদের নকশা পরিবর্তন করে এবং যানজট ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নিজস্ব সমীক্ষা চালায়। মূলত উত্তর টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে রাজনৈতিক মহলের নজরদারি এবং রিপাবলিকান নেতাদের একাংশের কট্টর অবস্থানের কারণেই এই বিতর্ক বড় আকার ধারণ করে। এমনকি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মসজিদটির নির্ধারিত স্থানে লাগানো একটি সাইনবোর্ডে বড় আকারের ক্রস চিহ্ন এঁকে এবং যিশু খ্রিস্টের নাম লিখে তা ভাঙচুর করার ঘটনাও ঘটেছিল।   শুনানিতে দেড় শতাধিক মানুষের দীর্ঘ মন্তব্য ও কিথ সেলফের মতো প্রভাবশালী রাজনীতিকের সরাসরি হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও ম্যাকিনি সিটি কাউন্সিল এই প্রকল্পটির জোনিং আবেদনটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করে। সিটি কাউন্সিলের সদস্য জাস্টিন বেলার এই প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরের তীব্র সমালোচনা করেন। বিষয়টিকে ‘নির্বাচনি বছরে ভীতি ছড়ানোর অপকৌশল’ হিসেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মানুষকে আলাদা করে বা বিভাজন তৈরি করে ক্ষমতা লাভের চেষ্টা অত্যন্ত সস্তা একটি উপায়। জোনিং আবেদনটি পাস হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ভবিষ্যতে প্রতিটি ধাপে আলাদাভাবে ভবন নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমতি নিতে হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বৃদ্ধিতে মার্কিন মুসলিমদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদ লক্ষ্য করে হামলা ও হয়রানি বেড়েছে ১৮৩ শতাংশ: কায়ার

যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামিক স্থানগুলো বা মসজিদ লক্ষ্য করে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির একটি মুসলিম নাগরিক অধিকার ও প্রবক্তা গোষ্ঠী।   আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিল (কায়ার) জানিয়েছে, তারা চলতি বছরের মে, জুন এবং জুলাই মাস এ পর্যন্ত মোট ১৭টি এমন ঘটনার নথিবদ্ধ করেছে, যা গত বছরের পুরো সময়ের মোট ঘটনার ৫১ শতাংশ। অথচ গত বছরের ঠিক একই সময়ে মাত্র ৬টি এমন ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল।   এই ঘটনার মধ্যে রয়েছে একটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, সহিংসতার হুমকি, অগ্নিসংযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ধর্মের ভিত্তিতে ইসলামিক উপাসনালয়ে বাধা দেওয়ার মতো বিষয়গুলো। কায়ারের গবেষণা ও আধিকারিক পরিচালক কোরি সেয়লার বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া এখনো সহনীয় এক ধরনের ঘৃণা হিসেবে রয়ে গেছে। আমেরিকান উপাসনালয়গুলোকে প্রায়শই সস্তা রাজনৈতিক কুৎসা এবং সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখা হয়।" তিনি আরও বলেন, উপাসনালয়গুলোকে প্রার্থনা ও প্রতিফলনের স্থান হিসেবে টিকিয়ে রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।   গবেষকরা সাধারণত বড় কোনো ঘটনার পরের তিন মাস পর্যবেক্ষণ করে দেখেন যে কোনো ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে কি না। গত ১৮ মে সান ডিয়েগো ইসলামিক সেন্টারে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করে কায়ার জানায়, সেখানে আমিন আব্দুল্লাহ, মনসুর কাজিহা এবং নাদির আওয়াদ নামের তিন ব্যক্তি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী উগ্রপন্থীদের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন।   ২০২৫ সালে মসজিদ, ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারসহ মুসলিম উপাসনালয় লক্ষ্য করে ৩৩টি সুনির্দিষ্ট ঘটনার তথ্য পেয়েছিল কায়ার। এ ধরনের সব রিপোর্ট ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মতো উন্মুক্ত উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া গত মে মাসে সিএআইআর-নিউ জার্সি শাখা জানায়, তারা নিউ জার্সির চারটি মসজিদ থেকে হয়রানি ও হুমকি পাওয়ার খবর পেয়েছে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও জানিয়েছে যে আরও ছয়টি মসজিদ একই ধরনের হুমকির শিকার হয়েছে।   পরিস্থিতি মোকাবিলায় কায়ার কমিউনিটি নেতাদের তাদের আপডেট করা 'বেস্ট প্র্যাকটিসেস ফর মস্ক অ্যান্ড কমিউনিটি সেফটি গাইড'-এর জন্য আগে থেকেই নিবন্ধন করার আহ্বান জানিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী আগস্টের শেষ দিকে কায়ার এবং নর্থ আমেরিকান ইসলামিক ট্রাস্ট যৌথভাবে এই গাইড প্রকাশ করবে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
স্কটল্যান্ডে শিশু স্কাউটদের মসজিদ সফরের ভিডিও ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচার, ছড়ানো হয়েছে সম্পাদিত ও এআই ছবি
স্কটল্যান্ডে শিশু স্কাউটদের মসজিদ সফরের ভিডিও ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচার, ছড়ানো হয়েছে সম্পাদিত ও এআই ছবি

স্কটল্যান্ডের একটি মসজিদে শিশু স্কাউটদের শিক্ষামূলক সফরের বাস্তব ভিডিওকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে বিভ্রান্তিকর দাবি। কোথাও ঘটনাটিকে স্কুলের ফিল্ড ট্রিপ, কোথাও শিশুদের বাধ্য করে নামাজ পড়ানো এবং একটি শিশুর সেই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ছড়ানো হয়েছে সম্পাদিত ছবি এবং পরে একই ঘটনার নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি সম্পূর্ণ ভুয়া ছবিও।   ব্রিটিশ ফ্যাক্টচেক সংস্থা ফুল ফ্যাক্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মূল ভিডিওটি বাস্তব। এটি স্কটল্যান্ডের একটি বিভার স্কাউট দলের মসজিদ পরিদর্শনের সময় ধারণ করা হয়েছিল। ভিডিওতে কয়েকজন শিশুকে মুসলিমদের নামাজের বিভিন্ন শারীরিক ভঙ্গি অনুসরণ করতে এবং একটি শিশুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বেশ কিছু পোস্টে ঘটনাটিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তার সঙ্গে যাচাই করা তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।   ভাইরাল পোস্টগুলোর একটিতে দাবি করা হয়, একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের স্কুলের ফিল্ড ট্রিপে মসজিদে নিয়ে যান। সেখানে একজন ইমাম শিশুদের ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দেন, মেয়েদের বোরকা পরার পদ্ধতি দেখান এবং সবাইকে নামাজের জন্য নত হতে বলেন। পোস্টটিতে আরও দাবি করা হয়, শুধু একটি ছেলে নত হতে অস্বীকৃতি জানায়।   কিন্তু যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো স্কুলের শিক্ষার্থীদের ফিল্ড ট্রিপ ছিল না। শিশুরা যুক্তরাজ্যের স্কাউট আন্দোলনের বিভার স্কাউট দলের সদস্য হিসেবে মসজিদটি পরিদর্শন করেছিল।   শিশুদের বাধ্য করে নামাজ পড়ানোর দাবিও অস্বীকার করেছে স্কাউট কর্তৃপক্ষ।   ফুল ফ্যাক্টকে স্কাউটসের একজন মুখপাত্র জানান, শিশুরা প্রকৃত নামাজে অংশ নিচ্ছিল না। ইমাম মুসলমানরা নামাজের সময় যেসব শারীরিক ভঙ্গি করেন, সেগুলো দেখাচ্ছিলেন। শিশুদের ইচ্ছা হলে সেই ভঙ্গি অনুসরণ করার সুযোগ ছিল। এতে অংশ নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না।   ভিডিওতে একটি শিশুকে অন্যদের মতো নত না হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এই দৃশ্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ইসলামি প্রার্থনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানো শিশু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   তবে শিশুটি কেন দাঁড়িয়ে ছিল কিংবা সে প্রতিবাদ হিসেবে নামাজের ভঙ্গি অনুসরণ করেনি কি না, তা নিশ্চিত করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শুধু ভিডিওর দৃশ্য দেখে শিশুটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বাড়ে একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর। ছবিটিতে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটির পাশে সাদা পোশাক ও টুপি পরা লম্বা দাড়িওয়ালা একজন ব্যক্তিকে দেখা যায়। ছবিটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন ওই ব্যক্তিই শিশুদের সামনে দাঁড়িয়ে নামাজের নির্দেশনা দিচ্ছেন।   কিন্তু স্কাউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি মূল ভিডিওতে ছিলেনই না।   ফুল ফ্যাক্ট মূল ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল ছবিটি তুলনা করে আরও কিছু অসঙ্গতি শনাক্ত করে। স্কাউটসের মুখপাত্রও নিশ্চিত করেন, সাদা পোশাকের দাড়িওয়ালা ব্যক্তিকে পরবর্তীতে ছবিতে যোগ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাস্তব ভিডিও থেকে নেওয়া একটি দৃশ্য ডিজিটালি পরিবর্তন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।   এর কয়েক দিনের মধ্যেই একই মসজিদ সফরের ঘটনা দাবি করে নতুন কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। এবার ছবিগুলো শুধু সম্পাদিত নয়, পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি।   ১০ জুন প্রকাশিত আরেকটি যাচাই প্রতিবেদনে ফুল ফ্যাক্ট জানায়, এসব ছবির শিশু, পোশাক ও কক্ষের সঙ্গে প্রকৃত ভিডিওর দৃশ্যের মিল নেই। ছবিগুলোতে এমন ডিজিটাল চিহ্নও পাওয়া গেছে যা সেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে।   ফলে পুরো ঘটনাটিতে বাস্তব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য আলাদা করা গুরুত্বপূর্ণ। স্কটল্যান্ডে বিভার স্কাউটদের একটি দলের মসজিদ পরিদর্শন বাস্তব। সেখানে মুসলমানদের নামাজের ভঙ্গি শিশুদের দেখানো হয়েছিল এবং কয়েকজন শিশু তা অনুসরণ করেছিল। একটি শিশুকে দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা গেছে।   কিন্তু শিশুদের বাধ্য করে নামাজ পড়ানোর দাবি যাচাই করা যায়নি। বরং স্কাউট কর্তৃপক্ষ বলেছে, অংশগ্রহণ ছিল ঐচ্ছিক। একইভাবে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটি ধর্মীয় কারণে প্রতিবাদ করেছিল, এমন দাবিরও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটিকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ফিল্ড ট্রিপ হিসেবে উপস্থাপন করাও সঠিক নয়। আর ভাইরাল হওয়া দাড়িওয়ালা ব্যক্তিসহ ছবিটি সম্পাদিত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।   এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাও নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটেনে ইসলাম ও মুসলিমদের ঘিরে আরও বেশ কয়েকটি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও দাবি শনাক্ত করেছে ফুল ফ্যাক্ট। এর মধ্যে ব্রিটেনে শরিয়াহ আইন চালুর দাবি, হালাল নীতির কারণে যুক্তরাজ্যের স্টারবাকসে কুকুর নিষিদ্ধ করার দাবি এবং লন্ডনে হালাল খাদ্যের দাবিতে মুসলিমদের বিশাল মিছিলের নামে ছড়ানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিও রয়েছে।   এসব ঘটনার মধ্যে কোনো সংগঠিত যোগসূত্র রয়েছে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো পক্ষ সমন্বিতভাবে ইসলামবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ইসলাম ও মুসলিমদের ঘিরে বাস্তব ঘটনার সঙ্গে বিভ্রান্তিকর বর্ণনা, সম্পাদিত ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি কনটেন্ট যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার একাধিক ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে নথিবদ্ধ হয়েছে।   স্কটল্যান্ডের শিশু স্কাউটদের মসজিদ সফরের ঘটনাটি দেখায়, একটি বাস্তব ভিডিওর সঙ্গে অযাচাইকৃত ব্যাখ্যা এবং পরিবর্তিত বা কৃত্রিম ছবি যুক্ত হলে মূল ঘটনা কত দ্রুত ভিন্ন বর্ণনায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ধর্মের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তাই ভাইরাল ছবি বা ভিডিওর ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে মূল ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার জেরে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো ফিলিস্তিনি মসজিদ
অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার জেরে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো ফিলিস্তিনি মসজিদ

দখলকৃত পশ্চিম তীরে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা এবং দুটি মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে নাবলুসের কাছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। ওই ঘটনার পরই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিম তীরে।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে তাল গ্রামের কাছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের একটি দল প্রবেশ করলে স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা তাদের প্রতিহত করতে বাড়িঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। একপর্যায়ে সেখানে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারান। নিহত দুই সেনার একজন স্থানীয় নিরাপত্তা সমন্বয়কের দায়িত্বেও ছিলেন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সংঘর্ষের সময় এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তি ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে একটি অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালান। তবে পুরো ঘটনার পরিস্থিতি ও কার গুলিতে কারা নিহত হয়েছেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।   এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর রোববার ভোরে পশ্চিম তীরের কয়েকটি ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলার অভিযোগ ওঠে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। নাবলুসের দক্ষিণ-পূর্বে কুসরা গ্রামে একটি সদ্য নির্মিত মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। গ্রামের পরিষদপ্রধান আবদেল আজিম ওয়াদি বলেন, হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘ইহুদি প্রতিশোধ’সহ বিভিন্ন স্লোগান লিখে যায়। নিহত এক ইসরায়েলির নামও সেখানে লেখা হয়েছিল বলে তিনি জানান।   ওয়াদি বলেন, ২০১১ সাল থেকে কুসরা গ্রাম বারবার হামলার শিকার হয়ে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   একই দিনে তুলকারেম শহরের দক্ষিণ-পূর্বে কুর গ্রামের একটি মসজিদেও আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গ্রামের পরিষদ সদস্য ফারিদ জিয়ুসির ভাষ্য, ভোরে তিনজন বসতিস্থাপনকারী মসজিদটিতে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন। তবে মুসল্লিরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলায় তা মসজিদের মূল অংশে ছড়িয়ে পড়েনি। ওই মসজিদের দেয়ালেও হিব্রু ভাষায় গ্রাফিতি লেখা হয়েছে বলে তিনি জানান।   ঘটনার পর কুসরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে অগ্নিসংযোগের আলামত ও গ্রাফিতি দেখতে পেয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছে। প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পুলিশ সদস্যদেরও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ধর্মীয় স্থাপনায় হামলাসহ এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, এলাকায় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হামলায় কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।   পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অধিকাংশ দেশ ও জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলে রয়েছে।   ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ফিলিস্তিনিরা গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিকদের একটি অংশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।   সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ ও মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম তীরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও হামলার আশঙ্কা করছেন, আর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
রাজা তৃতীয় চার্লস
ইউরোপের প্রথম পরিবেশবান্ধব মসজিদ দেখে মুগ্ধ খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী রাজা তৃতীয় চার্লস

ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। তীব্র গরমের মধ্যেও ভবনটি শীতল রাখার পরিবেশবান্ধব নকশা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মসজিদটির ভূমিকা দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন তিনি।   সোমবার, ২০ জুলাই, কেমব্রিজের মিল রোডে অবস্থিত মসজিদটিতে পৌঁছালে রাজাকে স্বাগত জানান ধর্মীয় নেতা, মসজিদ ট্রাস্টের সদস্য এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা। বাগান ও ভবনের স্থাপত্য ঘুরে দেখার পর জুতা খুলে নামাজের মূল কক্ষে প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেন রাজা চার্লস।    মসজিদটির নকশা ও নির্মাণে দেওয়া যত্নের প্রশংসা করে রাজা বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদের সঙ্গে কমিউনিটি সেন্টার যুক্ত করার উদ্যোগ তাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। এটি শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নয়, পুরো কেমব্রিজ শহরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   পরিদর্শনের সময় রাজা চার্লস সেখানে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি কেমব্রিজকে শহরের মর্যাদা দেওয়ার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্থাপিত একটি স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। ১৯৫১ সালে রাজা ষষ্ঠ জর্জ কেমব্রিজকে আনুষ্ঠানিকভাবে শহরের মর্যাদা দিয়েছিলেন।   মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সবুজ জ্বালানির ওপর নির্ভরতার কারণে কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদকে ইউরোপের প্রথম পরিবেশবান্ধব মসজিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভবনের ছাদে বসানো সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। নিচতলায় থাকা উচ্চদক্ষ হিট পাম্প গরম ও ঠান্ডার সময় ভবনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। উন্নত নিরোধক ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের কারণে তাপপ্রবাহের মধ্যেও মসজিদের ভেতর তুলনামূলক শীতল থাকে।    বড় আকারের ছাদের জানালা দিয়ে দিনের আলো প্রবেশ করায় কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন কম হয়। প্রয়োজনের সময় কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী এলইডি বাতি জ্বালানো হয়। হাতমুখ ধোয়ার ব্যবহৃত পানি এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে শৌচাগার ও মসজিদ প্রাঙ্গণের বাগানে ব্যবহার করা হয়। সাইকেল রাখার ব্যবস্থা এবং ভূগর্ভস্থ গাড়ি পার্কিংও ভবনটির পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার অংশ।   প্রায় এক হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মসজিদটিতে ২০১৯ সালে নিয়মিত নামাজ শুরু হয়। একই বছরের ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটির উদ্বোধন করা হয়েছিল। নামাজের স্থানের পাশাপাশি এতে নারীদের জন্য পৃথক সুযোগ-সুবিধা, পাঠ ও সভাকক্ষ, ক্যাফে, কমিউনিটি সেন্টার এবং ইসলামি নকশার বাগান রয়েছে।    পরিদর্শন শেষে রাজা চার্লস মসজিদটির আন্তধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা তৈরিতে কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে মসজিদের সম্প্রসারণ ঠেকাতে ২ লাখ ৫৭ হাজার ডলার খরচ
নিউইয়র্কে মসজিদের সম্প্রসারণ ঠেকাতে ২ লাখ ৫৭ হাজার ডলার খরচ, শেষ পর্যন্ত জয় মসজিদ কর্তৃপক্ষের

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি মসজিদের সম্প্রসারণ ঠেকাতে আইনি লড়াইয়ে নেমে দুই লাখ ৫৭ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় করেছে নর্থ হেম্পস্টেড টাউন কর্তৃপক্ষ। তবে শেষ পর্যন্ত ফেডারেল আদালতে সমঝোতায় পৌঁছে মসজিদটির সম্প্রসারণে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে তারা। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই আইনি লড়াইয়ের ব্যয় করদাতাদের অর্থ থেকেই বহন করা হয়েছে।    মামলাটি কেন্দ্র করে রয়েছে নিউ হাইড পার্কে অবস্থিত হিলসাইড ইসলামিক সেন্টার। ২০২৪ সালে নর্থ হেম্পস্টেড টাউন বোর্ড মসজিদের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলে মসজিদ কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের মার্চে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রকল্পটি প্রযোজ্য জোনিং বিধিমালা পূরণ করলেও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অন্যায়ভাবে অনুমোদন আটকে দেওয়া হয়েছে। মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় ভূমি ব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তিদের সুরক্ষা আইন (RLUIPA) এবং যুক্তরাষ্ট্র ও নিউইয়র্কের সংবিধানের অধীনে দাবি উত্থাপন করা হয়।    মামলা চলাকালেই উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছায়। গত ১৭ এপ্রিল আদালত সমঝোতা আদেশ অনুমোদন করে। সমঝোতা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে হিলসাইড ইসলামিক সেন্টারের সম্প্রসারণের অনুমতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি টাউন কর্তৃপক্ষ মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ এবং ৪ লাখ ডলার আইনজীবীদের ফি ও মামলার খরচ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সমঝোতা চুক্তিতে কোনো পক্ষই নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেনি।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার অর্থের বাইরে শুধুমাত্র টাউন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বাইরের আইনজীবীদের জন্যই ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের বেশি। ফলে মামলাটি করদাতাদের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে বলে আলোচনায় এসেছে।    হিলসাইড ইসলামিক সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল, তাদের বর্তমান ভবন ক্রমবর্ধমান মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। সম্প্রসারণের মাধ্যমে বড় নামাজের স্থান, শিক্ষা কার্যক্রম এবং কমিউনিটি সেবার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। সমঝোতার মাধ্যমে সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ এখন উন্মুক্ত হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মসজিদে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে লন্ডনে গ্রেপ্তার ১৪ বছরের কিশোর
একটি নয়, দুটি মসজিদে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে লন্ডনে গ্রেপ্তার ১৪ বছরের কিশোর

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ লন্ডনে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই রোমহর্ষক পরিকল্পনার সঙ্গে চরম ডানপন্থি মতাদর্শের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। এমন ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ওই কিশোরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগ গঠন করে।   জানা যায়, গত ৯ জুলাই একটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ প্রথমে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছিল। এরপর তার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু উদ্বেগজনক নথি উদ্ধার করা হয়। এই নথিগুলোর সূত্র ধরেই তদন্তে যুক্ত হয় পুলিশের সন্ত্রাসবাদবিরোধী ইউনিট। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তদন্ত শেষে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, সাটন এলাকার দুটি মসজিদকে লক্ষ্য করে হামলার গভীর ছক কষেছিল ওই কিশোর। এর পাশাপাশি, গত ২০ জুন বা তার আগে একটি গাড়ির জানালা ভাঙার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্যে সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে।   ঘটনার পরপরই বিশেষজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তারা সাটন এলাকার ওই দুই মসজিদের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করেন। তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিষয়ক পরামর্শ ও সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত অন্য কাউকে বর্তমানে খোঁজা হচ্ছে না এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের কোনো অতিরিক্ত হুমকির তথ্য তাদের কাছে নেই। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত কিশোরকে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার তাকে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।   লন্ডনের সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশের প্রধান কমান্ডার হেলেন ফ্লানাগান এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এত অল্প বয়সি একজনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই শঙ্কা সৃষ্টি করবে। সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট তদন্তে শিশু-কিশোরদের জড়িয়ে পড়ার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি অভিভাবক, শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যদের আরও বেশি সতর্ক হওয়ার এবং সন্তানদের প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ইসলামিক সেন্টার টাইসন মসজিদে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ; সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ | ছবি: সংগৃহীত
ফিলাডেলফিয়ার ইসলামিক সেন্টার টাইসন মসজিদে মধ্যরাতে আগুন, পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভেনিয়া: পেনসিলভেনিয়ার নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত ইসলামিক সেন্টার টাইসন মসজিদে মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের ঘটনা।   মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর দ্রুত জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে মসজিদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   কর্তৃপক্ষের দাবি, মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে ভবনের কাছে এসে আগুন লাগিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা গেছে। ওই ফুটেজ তদন্তকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সেটির ভিত্তিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।   স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করছেন।   এ ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কমিউনিটির নেতারা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এবং উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।   তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পুলিশ আগুন লাগার কারণ বা এটি অগ্নিসংযোগ ছিল কি না—সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ম্যাডিসন হাইটসের মসজিদে হুমকির ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকির অভিযোগে মামলা করেছে ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটরের দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানের একটি মসজিদে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার হুমকি

মিশিগানের ম্যাডিসন হাইটসে একটি মসজিদে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক গৃহহীন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি ও কম্পিউটার ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ঘটনাটিকে ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হুমকির উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়, ধর্মীয় নেতারা এবং ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয়।   ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটরের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ক্রিস্টোফার লর্ডের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকির মিথ্যা অভিযোগ (False Threat of Terrorism) এবং কম্পিউটার ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আদালত তার জামিন ৫ লাখ ডলার নগদে নির্ধারণ করেছেন।   তদন্তে জানা গেছে, গত ২৮ জুন বিকেলে ম্যাডিসন হাইটসের আমেরিকান ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার-এর ভয়েসমেইলে একাধিক হুমকিমূলক বার্তা রেখে যায় অভিযুক্ত। সেখানে মসজিদের সদস্যদের হত্যার হুমকি, মুসলিমদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি এবং সহিংসতার ভাষা ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ।   ঘটনার পর মিশিগানের মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা এবং ইমামস কাউন্সিল অব মিশিগান এক সংবাদ সম্মেলনে এ ধরনের হুমকির তীব্র নিন্দা জানান। ইমামস কাউন্সিল অব মিশিগানের সহসভাপতি স্টিভ মুস্তাফা এলতুর্ক বলেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে এ ধরনের হুমকি নতুন নয়। তবে ২০২৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসলামবিদ্বেষমূলক ঘটনাগুলো আরও বেড়েছে বলে তাদের পর্যবেক্ষণ।   ডিয়ারবর্ন হাইটসের ইসলামিক হাউস অব উইজডম-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মোহাম্মদ আলী এলাহী বলেন, ইসলামবিদ্বেষ বহুদিন ধরেই সমাজে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় নেতারা জানান, চলতি বছরে মিশিগানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক ঘটনার সংখ্যা তাদের নথিভুক্ত ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্য করে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বেড়েছে।   ধর্মীয় অধিকারকর্মী সাইয়েদ নাজাহ আল-হুসাইনি বলেন, এটি শুধু একটি মসজিদের বিরুদ্ধে হুমকি নয়, বরং সব ধর্মের মানুষের নিরাপদে উপাসনার অধিকারের ওপর আঘাত। তার ভাষায়, গির্জা, সিনাগগ, মন্দির কিংবা মসজিদ, সব উপাসনালয়ই নিরাপদ থাকা উচিত।   সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ঘটনার ক্ষেত্রে প্রায়ই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাদের দাবি, অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধ ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানালেও ম্যাডিসন হাইটসের এই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত এফবিআই বা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেয়নি। এমনকি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এফবিআই মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগও করেনি বলে তারা দাবি করেন।   এমলাইভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফবিআই এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ওকল্যান্ড কাউন্টির প্রসিকিউটর ক্যারেন ম্যাকডোনাল্ড বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিরাপদে ধর্মীয় উপাসনা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ব্যক্তিগত সংকট বা মাদকাসক্তির কারণ থাকলেও ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, একই ব্যক্তি ট্রয় শহরের একটি রেস্তোরাঁর কর্মীকেও মদ্যপ অবস্থায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পৃথক তদন্তের আওতায় রয়েছেন। মিশিগান শাখার কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR-MI)-এর নির্বাহী পরিচালক ইমাম দাউদ ওয়ালিদ বলেন, উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে সহিংসতার হুমকিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত এবং এ ঘটনায় অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছে তাদের সংগঠন।   এ ধরনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মসজিদ, সিনাগগ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা কিংবা হামলার হুমকির ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   সূত্র: MLive, Oakland County Prosecutor's Office

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
গুজরাটে উচ্ছেদ অভিযানে তিনটি মসজিদ ও কয়েকটি মাজার ভাঙার অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
নোটিশ ছাড়াই ভারতে ভেঙে ফেলা হলো ৩ মসজিদ ও কয়েকটি মাজার

ভারতের গুজরাট রাজ্যের কুচ জেলায় পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে তিনটি মসজিদ ও কয়েকটি মাজার ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থাপনা অপসারণের আগে কোনো ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের ইসলামি সংগঠন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ।   দ্য হিন্দুস্তান গ্যাজেট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুচ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি পরিচালিত অভিযানে মোট ৩০টি স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং দুটি আবাসিক ভবন। ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে তিনটি মসজিদ ও কয়েকটি মাজারও রয়েছে।   ঘটনার পর জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল কুচ জেলা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির নেতা মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাসমি। তিনি অভিযোগ করেন, মসজিদগুলো ভাঙার আগে কেন কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে জানতে চাইলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।   ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে কুচ জেলার জুনা কান্দলা মসজিদ। মসজিদের খাদেমের দাবি, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়। তিনি বলেন, সে সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের আটক করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬৫ সাল থেকে জুনা কান্দলা মসজিদটি ওয়াকফ বোর্ডে নিবন্ধিত ছিল। দীর্ঘদিনের এই মসজিদটি এর স্থাপত্যশৈলীর জন্যও এলাকায় পরিচিত ছিল।   মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সামার বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের সময় তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে এবং মসজিদের কাছে যেতে চেয়েছিলেন। তবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা তাদের সেখানে যেতে দেননি। বরং এগোলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আদিপুর এলাকার একটি মসজিদও একই অভিযানে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এদিকে কুচ জেলার এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযানে মোট ৩০টি স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি ধর্মীয়, ১৭টি বাণিজ্যিক এবং দুটি আবাসিক স্থাপনা রয়েছে। তবে তিনি পৃথকভাবে কোনো নির্দিষ্ট মসজিদ বা মাজার সম্পর্কে মন্তব্য করেননি।   ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় মুসলিম সংগঠনগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং উচ্ছেদ অভিযানে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় মসজিদের বাইরে ইমামের ওপর হামলা, চরম শঙ্কায় মুসলিমরা

কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের ভিক্টোরিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি মসজিদের বাইরে এক ইমামের ওপর ভয়াবহ ও ঘৃণ্য শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ওই মুসলিম ধর্মীয় নেতার নাম শেখ ইব্রাহিম। দেশের মাটিতে একজন সম্মানিত ধর্মীয় নেতার ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার পর দেশটির অন্যতম প্রধান মুসলিম অধিকার বিষয়ক সংগঠন 'ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস' শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে মসজিদের বাইরে ঘটা এই নজিরবিহীন ও হিংসাত্মক হামলার ঘটনাটি পুরো কানাডাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।   প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার এশার নামাজ শেষ করে শেখ ইব্রাহিম যখন ভিক্টোরিয়ার বিসিএমএ মসজিদের বাইরে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির ভেতর একা বসেছিলেন, ঠিক তখনই এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি জোরপূর্বক তার গাড়ির লক করা দরজা খুলে ফেলে। গাড়ির দরজা খোলার সাথে সাথেই ওই হিংস্র ব্যক্তি ইমামের ওপর অতর্কিত ও মারাত্মক শারীরিক আক্রমণ শুরু করে। হামলার পাশাপাশি ওই ব্যক্তি ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিক বিভিন্ন চরম আপত্তিকর গালিগালাজ করতে থাকে এবং ইমামকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে বলতে থাকে, "তুমি অবিলম্বে তোমার নিজের দেশে ফিরে যাও।"   হৃদয়বিদারক এই নেতিবাচক ঘটনার পর গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে কানাডার ওই শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সংগঠনটি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং উচ্চপদস্থ আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে জড়িত মূল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে তার কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের মুসলিম কমিউনিটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে। তবে হামলার শিকার ইমাম শেখ ইব্রাহিমের বর্তমান শারীরিক অবস্থা কেমন বা এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে নির্দিষ্টভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।   ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস তাদের প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছে, আমাদের সমাজের একজন অত্যন্ত সজ্জন ও সম্মানিত ধর্মীয় নেতাকে এভাবে টার্গেট করে আক্রমণ করা কোনো সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই অমানবিক ঘটনাটি আমাদের আবার নতুন করে মনে করিয়ে দেয় যে, কানাডায় দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকা চরম ইসলামভীতি আমাদের সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য প্রতিদিন কতটা বড় ধরণের সামাজিক হুমকি ও জীবনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এমন একটি জঘন্য ঘটনার পর আমরা কোনোভাবেই চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না।   সংগঠনটি কানাডার সব স্তরের রাজনৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের প্রতি এই মুসলিম বিরোধী ঘৃণ্য সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানোর এবং সমাজে দিন দিন বাড়তে থাকা ধর্মীয় বিদ্বেষ চিরতরে দূর করতে দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। এর পাশাপাশি তারা স্থানীয় প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে ধর্মীয় বা জাতিগত বিদ্বেষের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গভীরভাবে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ভিক্টোরিয়া এলাকার স্থানীয় সাধারণ মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।   সূত্র: আনাদোলু 

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মসজিদে মুসল্লিদের জন্য বিনামূল্যে খেজুর, বিস্কুট আর পানিও আছে

জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে মসজিদের প্রবেশমুখে খেজুর, বিস্কুট ও পানির সারি দেখে প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন অনেকেই। পরে জানা গেল, এটি কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মসজিদে প্রচলিত এক সুন্দর সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ।   যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়া শহরের রুজভেল্ট এলাকায় অবস্থিত আল ফোরকান মসজিদে এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। স্থানীয় মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুমা কিংবা অন্যান্য নামাজের পর স্বেচ্ছায় খাবার ও পানীয় বিতরণ এখানে দীর্ঘদিনের একটি চর্চা, যা মুসল্লিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করে।   ফিলাডেলফিয়ার অন্যতম পরিচিত এই মসজিদে জুমার নামাজে অংশ নিতে আসেন বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা। আরব, আফ্রিকান, বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও অন্যান্য অভিবাসী মুসলিমদের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিমরাও নিয়মিত এখানে নামাজ আদায় করেন।   মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং বহুজাতিক মুসলিম সম্প্রদায়ের মিলনকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। একসঙ্গে প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন। ঈদের সময় মুসল্লির সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। তখন অনেক ক্ষেত্রে মসজিদের ভেতরে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের খোলা স্থান ও সড়কের অংশেও নামাজের ব্যবস্থা করতে হয়।   আল ফোরকান মসজিদের আরেকটি বিশেষ দিক হলো এর অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ। নারী মুসল্লিদের জন্য রয়েছে আলাদা নামাজের ব্যবস্থা। একই সঙ্গে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ও শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মুসল্লিদের সুবিধার্থে বিশেষ প্রবেশপথ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে সবাই নির্বিঘ্নে ইবাদত করতে পারেন।   জুমার খুতবা পরিচালনা করেন একজন আরব বংশোদ্ভূত ইমাম। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মুসল্লিদের কথা বিবেচনায় রেখে খুতবা সাধারণত ইংরেজি ভাষায় দেওয়া হয়, যাতে অধিকাংশ মানুষ সহজে তা বুঝতে পারেন। মসজিদে আসা মুসল্লিদের পোশাক-পরিচ্ছদেও দেখা যায় বৈচিত্র্য। কেউ আরবি পোশাকে, কেউ আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী পোশাকে, আবার অনেকে পশ্চিমা পোশাক পরেই নামাজে অংশ নেন। ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষার মানুষ হলেও নামাজের কাতারে সবাই এক হয়ে দাঁড়ান।   মসজিদে রাখা খেজুর, বিস্কুট ও পানির বিষয়ে জানতে চাইলে ফিলাডেলফিয়ায় প্রায় সাত বছর ধরে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশি শামসুল করিম জানান, এসব আয়োজন মূলত ব্যক্তিগত উদ্যোগে করা হয়। তিনি বলেন, “এটি মসজিদ কর্তৃপক্ষের নিয়মিত কোনো কর্মসূচি নয়। অনেকেই সওয়াবের আশায় বা অন্য মুসল্লিদের সেবা করার উদ্দেশ্যে নিজের খরচে খাবার ও পানীয় নিয়ে আসেন। কোনো শুক্রবার খেজুর ও পানি থাকে, আবার অন্য কোনোদিন ফল, মিষ্টি বা ভিন্ন ধরনের খাবারও দেখা যায়।”   তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের উদ্যোগ একটি ইতিবাচক সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু খাবার বিতরণের বিষয় নয়, বরং মুসল্লিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করার একটি মাধ্যম।   শামসুল করিম আরও বলেন, “বাংলাদেশে যেমন বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা মিলাদে মিষ্টি, তেহারি কিংবা অন্যান্য খাবার বিতরণের প্রচলন রয়েছে, এখানেও মানুষ স্বেচ্ছায় অন্যদের আপ্যায়নের জন্য খাবার নিয়ে আসে। এতে এক ধরনের আত্মিক তৃপ্তি যেমন পাওয়া যায়, তেমনি কমিউনিটির মানুষের মধ্যেও বন্ধন তৈরি হয়।”   তিনি জানান, শুধু ফিলাডেলফিয়া নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বহু মসজিদেই এমন চর্চা দেখা যায়। বিশেষ করে রমজান মাসে ইফতার, তারাবিহ ও অন্যান্য ধর্মীয় আয়োজনে মুসল্লিদের জন্য ব্যাপক পরিসরে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় মুসল্লিদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ নতুন অভিবাসীদেরও কমিউনিটির সঙ্গে দ্রুত সম্পৃক্ত হতে সাহায্য করে। অনেকেই প্রথমবার মসজিদে এসে অন্য মুসল্লিদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।   জানা গেছে, আল ফোরকান মসজিদের পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশই আসে অভিবাসী মুসলিমদের অনুদান থেকে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ও নিয়মিত সহায়তা করে থাকে। বিশেষ করে রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা মসজিদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধন ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মসজিদ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, ফিলাডেলফিয়ার আল ফোরকান মসজিদের এই চিত্র তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ বলে মনে করছেন কমিউনিটির সদস্যরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
রাজস্থানে ৬ মসজিদ-মাদরাসায় এক দিনের উচ্ছেদ নোটিশ, মানবাধিকার সংগঠনের ক্ষোভ

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের বারমের জেলায় ছয়টি মসজিদ ও মাদরাসাকে উচ্ছেদের জন্য স্বল্প সময়ের নোটিশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অব সিভিল রাইটস (এপিসিআর)।   সংগঠনটির দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জমি খালি করা অথবা কারণ দর্শানোর জন্য কার্যত মাত্র এক দিনের সময় দেওয়া হয়েছে, যা ন্যায়বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতির পরিপন্থী।   সংবাদমাধ্যম মাকতুবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বারমের জেলার গাদরা রোড তহশিল এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি মসজিদ ও মাদরাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে সম্প্রতি উচ্ছেদ নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি খালি করতে অথবা কেন উচ্ছেদ করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।   এপিসিআরের রাজস্থান শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাদাত আলী বুধবার এক বিবৃতিতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া আইনি বাধ্যবাধকতার অংশ।   তিনি জানান, নোটিশগুলোতে ১১ জুনের তারিখ উল্লেখ থাকলেও সেগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের হাতে পৌঁছেছে ১৭ জুন সন্ধ্যায়। অথচ তাদের ১৮ জুনের মধ্যে জবাব দিতে অথবা তহশিল কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।   ফলে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা কিংবা প্রশাসনের দাবির জবাব প্রস্তুত করার জন্য বাস্তবে খুবই অল্প সময় পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অ্যাডভোকেট সাদাত আলী বলেন, “কোনো প্রতিকূল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রভাবিত ব্যক্তিদের কথা শোনার সুযোগ দেওয়া প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের অন্যতম মৌলিক নীতি। এত কম সময়ের নোটিশ সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”   মানবাধিকার সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, এই পদক্ষেপ ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত সমতা, ব্যক্তিগত অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিভিন্ন সাংবিধানিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এপিসিআরের মতে, উচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অতীতে একাধিক রায়ে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সেই আলোকে বর্তমান নোটিশ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।   সংগঠনটি প্রশাসনের কাছে উচ্ছেদ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে। এপিসিআর আরও জানিয়েছে, যদি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো একতরফা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়, তাহলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে আইনি সহায়তা দেবে।   তবে এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পর্যবেক্ষকদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত যেকোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তাই এ ধরনের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য শোনার সুযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।   বর্তমানে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ঐতিহাসিক সংমরমার মসজিদ
ভারতে এবার ৭৬ বছরের পুরোনো মসজিদ উচ্ছেদে নোটিশ সরকারের

ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে একটি পুরোনো মসজিদ উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্টেশন পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের কারণ দেখিয়ে 'সংমরমার মসজিদ' নামক প্রায় ৭৬ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ সরিয়ে ফেলার নোটিশ জারি করেছে। আগামী ২৭ এপ্রিলের মধ্যে মসজিদটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, মসজিদটি রেলের মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত এবং এটি স্টেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা সতর্ক করে বলেছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মসজিদটি সরানো না হলে আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে এবং এর খরচ মসজিদ পরিচালনা কমিটির কাছ থেকে আদায় করা হবে। অন্যদিকে, মসজিদ কমিটি রেলওয়ের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মসজিদটি একটি নিবন্ধিত 'ওয়াকফ' সম্পত্তি এবং ১৯৫০ সাল থেকে এর দালিলিক প্রমাণ রয়েছে। এমনকি ১৯৬১ সালে মসজিদটির সংস্কার কাজও করা হয়েছিল। মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও রেলওয়ে এই নোটিশ দিয়েছে। তারা ইতোমধ্যে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং এই উচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে গত কয়েক বছরে অবকাঠামো উন্নয়নের নামে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয় এবং স্থাপনা উচ্ছেদের ঘটনা বাড়ছে। মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকরা এই ধরণের পদক্ষেপে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আপাতত বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন থাকায় পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে আছে উভয় পক্ষ।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০