মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে এই অঞ্চলে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার) 'ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ' মোতায়েন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজটি মোতায়েন করা হয়েছে।
বর্তমানে এই অঞ্চলে আগে থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করছিল। নতুন এই রণতরী যুক্ত হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানকে দেওয়া একটি কঠোর সতর্কবার্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জানিয়েছে, এই তৃতীয় বিমানবাহী রণতরীটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমে সজ্জিত, যা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। এই মোতায়েনের ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রম আরও জোরালো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, তেহরান বিষয়টিকে উস্কানি হিসেবে দেখছে এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই সামরিক তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা আরও প্রবল হয়ে উঠল।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreজাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের। তবে তার সফরসঙ্গী হিসেবে নিযুক্ত গণমাধ্যম ও যোগাযোগ দলকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে জাতিসংঘের ৮১তম বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে একটি বিশেষ যোগাযোগ ও সংবাদকর্মী দলের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাদের ভিসা আবেদন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পেজেশকিয়ানের এটিই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। আগামী বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। ভিসা প্রত্যাখ্যানের এই ঘটনাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নজিরবিহীন ও বৈরী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে ইরনা। আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজও একই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ আব্বাসির বরাতে তারা জানায়, প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দলকে ভিসা না দেওয়া হলেও নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোর খবর জনসাধারণের কাছে ঠিকই পৌঁছে দেওয়া হবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মাসুদ পেজেশকিয়ানই প্রথম কোনো উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। তবে ভিসা দিলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবার ইরানি প্রতিনিধিদলের ওপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এমনকি নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তারা কোনো বিলাসবহুল পণ্য বা নির্দিষ্ট কিছু সামগ্রী কিনতে পারবেন না বলেও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিউইয়র্কে অবস্থিত হওয়ায় চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিতে যুক্তরাষ্ট্র একপ্রকার বাধ্য। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা বৈদেশিক নীতির কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন সময় মার্কিন প্রশাসন বেশ কিছু দেশের প্রতিনিধি ও তাদের সফরসঙ্গীদের ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা এই বৈরিতার কারণে প্রায়ই ইরানি কর্মকর্তাদের ভিসা প্রদানে জটিলতা সৃষ্টি করে ওয়াশিংটন। এর আগেও বিভিন্ন সময় জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা প্রদানে বিলম্ব বা সরাসরি অস্বীকৃতির ঘটনা ঘটেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনারই একটি নতুন রূপ এই ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনা। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ইরানের সম্পর্ক বেশ শীতল। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের ভিসা না দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজক দেশের ভূমিকা এবং ভিসা নীতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। সাধারণত ভিসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার কথা বলে মার্কিন প্রশাসন এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে। সূত্র: ইরনা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম
বিচার শেষ হওয়ার আগেই ইতালিতে ইমাম ডিপোর্ট! যে আইনে নড়ল আবাসনও, জানুন
পড়তে-লিখতে না জেনেও ৭১ বছর বয়সে পুরো কোরআন হিফজ করলেন মিশরীয় নারী
ইতালির স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধের ঘোষণা মেলোনির, কমানো হবে বিদেশি শিক্ষার্থী
মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের অন্যতম মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম বিন আদেল আল-মাদানি মারা গেছেন। সৌদি আরবের স্থানীয় সময় সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। তিনি মসজিদুল হারামের মুকাব্বিরিয়াহর সদস্য ছিলেন এবং বিশেষ করে ফজরের আজান ও তাকবিরের জন্য পরিচিত ছিলেন। সৌদি সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে সোমবার মসজিদুল হারামে ফজরের প্রথম আজানও দিয়েছিলেন শেখ ইব্রাহিম। এরপর অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয় বলে সৌদি ও উপসাগরীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর শেষ আজানের একটি অডিও-ভিডিও রেকর্ডিংও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানি মসজিদুল হারামের ২৪ জন নিয়মিত মুয়াজ্জিনের একজন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রতিদিন ছয়জন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও ফজরের প্রথম আজানের দায়িত্ব পালন করেন। শেখ ইব্রাহিম বিশেষভাবে ফজরের আজান, তাকবির এবং ইমামের পেছনে মুকাব্বিরিয়াহ থেকে মুসল্লিদের কাছে তাকবির পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতেন। মদিনায় বেড়ে ওঠার কারণে তাঁর আজানে মদিনার নিজস্ব ধারা ও সুরের প্রভাব ছিল। পরে মক্কায় এসে তিনি মক্কার আজানের রীতিও আয়ত্ত করেন। পেশাগত জীবনের শুরুতেই আজানের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে মদিনার একটি মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন শেখ ইব্রাহিম। পরে ১৪২৮ হিজরিতে মদিনার মসজিদ আল-মাদ্দাহর মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৪৩৯ হিজরিতে মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পান। মসজিদুল হারামে তাঁর প্রথম আজানের স্মৃতিও এক সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছিলেন শেখ ইব্রাহিম। হারামাইনের মুকাব্বিরিয়াহ নিয়ে একটি পডকাস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, কাবা শরিফ তাওয়াফরত মুসল্লিদের সামনে নিজের কণ্ঠে আজান শুনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। পবিত্র এই স্থানে নিজের কণ্ঠে আজান দেওয়ার সুযোগকে তিনি অত্যন্ত সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদুল হারামে তাঁর দেওয়া আজান ও তাকবিরের বিভিন্ন রেকর্ডিং শেয়ার করতে দেখা যায়। হারামাইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও আজানের বিষয়ে আগ্রহী অনেকেই তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। সৌদি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানির জানাজার নামাজ সোমবার আসরের নামাজের পর মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পরে মক্কার ঐতিহাসিক আল-মুয়াল্লা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর বয়স নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে বয়স ৪৮ বছর এবং অন্য একটি প্রতিবেদনে ৫১ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে বয়স নিশ্চিত করা হয়নি। তাই তাঁর নির্দিষ্ট বয়স উল্লেখ না করাই নিরাপদ। মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন হিসেবে শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানির কণ্ঠ বহু বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসল্লিদের কাছে পরিচিত ছিল। বিশেষ করে ফজরের আজান ও তাকবিরের মাধ্যমে তিনি মক্কার পবিত্র মসজিদের ইবাদতের পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সূত্র: সৌদি আরবের ওকাজ, আল-মদিনা, সৌদি প্রেস ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম
ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠক, এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ৩ - সীমান্তে ফের উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক বাজারে কমল তেলের দাম, ১০০ ডলারের নিচে নামল মার্কিন ক্রুড
ব্রিটেনের দুই বোন মিশেল ও ল্যাভিনিয়া অসবর্নের জীবনে ৪০ বছরেরও বেশি সময় পর এক ডিএনএ পরীক্ষা বদলে দিয়েছে পরিবার সম্পর্কে তাদের ধারণা। একই মায়ের গর্ভে একই সময়ে বেড়ে ওঠা এবং কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জন্ম নেওয়া এই দুই বোন জানতে পারেন, তাদের জৈবিক বাবা একই ব্যক্তি নন। অর্থাৎ তারা যমজ হলেও জেনেটিকভাবে তারা সৎবোন। ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল একটি জৈবিক প্রক্রিয়ার উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। মিশেল ও ল্যাভিনিয়া ১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তারা একে অপরের সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিলেন। তাদের মা জানিয়েছিলেন, তাদের বাবার নাম জেমস। তবে কৈশোরে জেমসের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হলেও মিশেলের মনে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ ছিল, তিনি আসলেই তার জৈবিক বাবা কি না। এই সন্দেহ থেকেই ২০২১ সালের শেষ দিকে মিশেল বাড়িতে করার জন্য একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট কিনেছিলেন। পরীক্ষার ফল ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি হাতে আসে। ফলাফলে দেখা যায়, জেমস তার জৈবিক বাবা নন। এরপর নিজের পারিবারিক ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে মিশেল জানতে পারেন, তার জৈবিক বাবা অ্যালেক্স নামে একজন ব্যক্তি, যিনি তাদের মায়ের পরিচিত একটি পরিবারের সদস্য ছিলেন। এরপর ল্যাভিনিয়াও নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি প্রথমে ধারণা করেছিলেন, পরীক্ষার ফল মিশেলের ফলের সঙ্গে মিলবে। কিন্তু ফলাফল পাওয়ার পর সামনে আসে আরও বড় সত্য। দেখা যায়, মিশেল ও ল্যাভিনিয়ার বাবা একই ব্যক্তি নন। ল্যাভিনিয়ার জৈবিক বাবা হিসেবে আরেক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়, যার নাম আর্থার। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল ঘটনাকে বলা হয় হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন। সাধারণভাবে একজন নারীর একই মাসিক চক্রে একাধিক ডিম্বাণু বের হলে এবং সেগুলো অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। পরে দুই ভ্রূণ একই গর্ভে বেড়ে উঠে একই সময়ে জন্ম নিলে তাদের যমজ হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু তাদের জৈবিক বাবা আলাদা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে এ ধরনের প্রায় ২০টি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এমন ঘটনা অনেক সময় ধরা পড়ে না, কারণ পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ না থাকলে যমজ সন্তানদের আলাদাভাবে ডিএনএ পরীক্ষা করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। যুক্তরাজ্যে মিশেল ও ল্যাভিনিয়ার ঘটনাটিকে এ ধরনের প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার ফল শুধু তাদের পারিবারিক পরিচয়ই বদলে দেয়নি, দুই বোনের সম্পর্কেও গভীর আবেগ তৈরি করে। ল্যাভিনিয়া জানান, সত্যটি জানার পর তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। অন্যদিকে মিশেল বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও পরীক্ষার ফল তার দীর্ঘদিনের সন্দেহের সঙ্গে মিলে যায়। পরে ল্যাভিনিয়া তার জৈবিক বাবা আর্থারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন এবং নিয়মিত দেখা করতে শুরু করেন। দুই বোনের এই ঘটনা বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘দ্য গিফট’ অনুষ্ঠানের নতুন মৌসুমেও উঠে এসেছে। সেখানে তারা জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষায় তাদের জৈবিক পরিচয় সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এলেও তারা একে অপরের জীবনে যমজ বোন হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ। চার দশকের বেশি সময় পর পাওয়া এই তথ্য তাদের পরিবারের অতীত সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করলেও, একই গর্ভে বেড়ে ওঠা এবং একসঙ্গে জীবন কাটানোর সম্পর্কটি তাদের কাছে আলাদা বাস্তবতা হিসেবে রয়ে গেছে।
কানাডায় ইউথ কনফারেন্স ২০২৭, যাতায়াত ও ফুল ফান্ডসহ রয়েছে আকর্ষণীয় সুবিধা
ইরান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ