সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ, শীর্ষে কোন দেশ?

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৭:৪৩
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

২০২৫ সালের বৈশ্বিক বায়ুমান সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'আইকিউএয়ার' (IQAir) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তান।


প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে বাতাসে ক্ষতিকারক সূক্ষ্ম কণা পিএম ২.৫ (PM2.5)-এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১৩ গুণ বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। বায়ুদূষণের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে দেশটির লাহোরসহ প্রধান শহরগুলো ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়াশার (Smog) কবলে রয়েছে।


আইকিউএয়ার জানায়, ২০২৫ সালে বিশ্বের ১৪৩টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। যার মধ্যে ১৩০টি দেশই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত বায়ুমান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। গত বছর মাত্র ১৩টি দেশ ও অঞ্চল ডব্লিউএইচও-এর মানদণ্ড (প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের কম পিএম ২.৫) বজায় রাখতে পেরেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় কিছুটা উন্নত।


তালিকায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে থাকা চাদ এবার চতুর্থ অবস্থানে নেমে এসেছে। তবে গবেষকদের মতে, এটি দূষণ কমার কারণে নয় বরং তথ্যগত ঘাটতির কারণে হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈদেশিক দূতাবাসগুলো থেকে বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক দেশের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়নি।


শহরভিত্তিক দূষণেও দক্ষিণ এশিয়ার আধিপত্য বজায় রয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভারতের 'লোনি'। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের 'হোটান'। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি দূষিত শহরের সবগুলোই ভারত, পাকিস্তান এবং চীনে অবস্থিত।


জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে লাওস, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ বেশি হওয়ায় দূষণের মাত্রা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইউরোপ পর্যন্ত বায়ুদূষণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পিএম ২.৫ কণা সরাসরি মানুষের ফুসফুস ও রক্তে মিশে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন এবং যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করে তাঁকে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
জীবন বাজি রেখে বিমান রক্ষা, ভারতীয় পাইলটকে বিশেষ সম্মান দিতে চান নেতানিয়াহু

আকাশে উড়ন্ত বিমানে সহ-পাইলটের হামলার শিকার হয়েও ককপিটের দরজা খুলে যাত্রীদের সহায়তায় সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা ঠেকানো ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ইসরায়েলে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করে আগামী বছরের ইসরায়েলি স্বাধীনতা দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক মশাল জ্বালানোর আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তিনি।   ৩ অক্টোবর নেতানিয়াহু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন মচ্ছরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ভারত ও ইসরায়েলের সাহসী জনগণের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের কাছেই মচ্ছর একজন নায়ক। নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে ওই ফোনালাপের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। নেতানিয়াহু জানান, মচ্ছর ও নরেন্দ্র মোদিকে আগামী মে মাসে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে দেখতে চান তিনি। অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বালনের দায়িত্ব সাধারণত ইসরায়েলি নাগরিকদের দেওয়া হলেও মচ্ছরের সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই বিশেষ সম্মান দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।   ঘটনাটি ঘটে ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে। উড়োজাহাজটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। মাঝ আকাশে ওমানের নাগরিক সহ-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন মচ্ছরের ওপর হামলা চালান। মচ্ছর গুরুতর আহত হলেও শেষ পর্যন্ত ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে।   হামলার বিষয়ে মচ্ছর নেতানিয়াহুকে জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে সহ-পাইলট নামাজ পড়ার জন্য সময় চেয়েছিলেন। বিষয়টি তাঁর কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। সহ-পাইলট প্রার্থনায় ব্যস্ত থাকায় তিনি সম্মান দেখিয়ে সামনে তাকিয়ে ছিলেন এবং পেছনে কী ঘটছে তা খেয়াল করেননি। মচ্ছরের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মিনিট পর হঠাৎ তাঁর মাথার পেছনে প্রচণ্ড আঘাত লাগে। প্রথমে তিনি মনে করেছিলেন, সম্ভবত বিমানের কোনো গুরুতর সমস্যা হয়েছে। কিন্তু পরপর আরও আঘাত আসতে থাকায় তিনি বুঝতে পারেন, বিমানের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং ককপিটে থাকা সহ-পাইলটই তাঁকে আক্রমণ করছেন।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীরা পরে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সহ-পাইলট ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে মচ্ছরের ওপর হামলা করেছিলেন। তবে হামলার উদ্দেশ্য ও এর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আহত অবস্থায় মচ্ছর ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। তাঁর স্মৃতি পুরোপুরি পরিষ্কার না থাকলেও তিনি জানান, একপর্যায়ে দরজা খুলতে সক্ষম হলেও সহ-পাইলট সেটি আবার বন্ধ করে দেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, দরজা না খুলতে পারলে নিজের পাশাপাশি বিমানের অন্য সবার জীবনও চরম ঝুঁকিতে পড়বে।   মচ্ছর নেতানিয়াহুকে বলেন, তাঁর মনে হয়েছিল এটিই হয়তো বাঁচার শেষ সুযোগ। নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে তিনি আবার দরজার দিকে এগিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত সেটি খুলতে সক্ষম হন। দরজার বাইরে থাকা যাত্রী ও ক্রুরা তখন দ্রুত ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। এই ঘটনার সময় বিমানটি হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে নিচের দিকে নেমে যায়। পরে যাত্রী ও ক্রুদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অন্য পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করান। ঘটনাটিতে মচ্ছর গুরুতর আহত হন এবং তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।   মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। একই ঘটনায় ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারাও ভারতীয় পাইলটের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম হাসপাতালে মচ্ছরের সঙ্গে দেখা করে তাঁর সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করেন বলে খালিজ টাইমস জানিয়েছে। এদিকে ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সহ-পাইলট কীভাবে এই ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন এবং তাঁর অতীত সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো সতর্কতামূলক তথ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে তাঁর অতীত, হামলার উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে তদন্ত করছে।   ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার পূর্ণ উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন মচ্ছরের ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তই যাত্রী ও ক্রুদের দ্রুত হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে এবং সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   সূত্র: এএফপি

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২১:৭
ডেলিভারির ফাঁকেও কোরআন পড়ে আলোচনায় উগান্ডার রাইডার মনসুর

ডেলিভারির ফাঁকেও কোরআন পড়ে আলোচনায় উগান্ডার রাইডার মনসুর

এক বছরেই ৩ ঈদ ও ২ হজের বিরল সম্ভাবনা!

এক বছরেই ৩ ঈদ ও ২ হজের বিরল সম্ভাবনা!

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে হামলার নতুন কারণ জানালেন ট্রাম্প, পাঠানো হচ্ছে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

ম্যানচেস্টারের ইহুদি সম্প্রদায়কে ঘিরে কথিত হামলার পরিকল্পনার তদন্ত করছে ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ, গ্রেপ্তার দুই ইরানি নাগরিক

উত্তর ইংল্যান্ডের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে দুই ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, ইয়ম কিপুরের আগে ম্যানচেস্টারে হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইয়ম কিপুর ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র দিন।   অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন ৩৫ বছর বয়সী রহমান সালেহি ও ৩৬ বছর বয়সী সালাম আহমাদিয়ান। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনের প্রস্তুতি নেওয়া বা অন্য কাউকে এমন কর্মকাণ্ডে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০৬-এর ৫ ধারার অধীনে করা হয়েছে।   যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে যে দুই ব্যক্তি একটি ঘরে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যস্থলও তারা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন বলে পুলিশের দাবি। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত পরিকল্পনার বিষয়ে তারা বিদেশে থাকা এক তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন, যিনি সম্ভবত ইরানে অবস্থান করছিলেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি ম্যানচেস্টার ও বৃহত্তর ম্যানচেস্টার এলাকায় ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে কথিত পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসও জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান এবং উভয়ের ন্যায্য বিচারের অধিকার রয়েছে।   যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, দেশটি ইরানি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের গুরুতর নিরাপত্তা হুমকির মুখোমুখি। তার দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা এবং বিদেশে সমালোচকদের চুপ করানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকে। এসব কর্মকাণ্ডে প্রক্সি ও অপরাধী নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি। তবে ইরান বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।   সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের জাতীয় সমন্বয়কারী ভিকি ইভান্স বলেন, পবিত্র দিনগুলোর সময় কথিত হামলার পরিকল্পনার খবর ইহুদি সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক সিনাগগে গত বছরের প্রাণঘাতী হামলার বর্ষপূর্তিও ঘনিয়ে এসেছে।   ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক হিব্রু কংগ্রেগেশন সিনাগগে হামলার ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হন। যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলাকারী গাড়ি নিয়ে উপাসনালয়ের বাইরে থাকা মানুষের ওপর আঘাত করার পর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করে।   এদিকে নতুন মামলার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আরেকটি সাম্প্রতিক নিরাপত্তা তদন্তের কোনো সম্পর্ক নেই বলে পুলিশ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিকে ঘিরে কথিত হামলার পরিকল্পনার তদন্তে গত বৃহস্পতিবার এক দ্বৈত ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে শুক্রবারের মামলায় অভিযুক্ত সালেহি ও আহমাদিয়ানের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।   যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই অভিযুক্ত কয়েক বছর আগে ছোট নৌকায় করে ইউরোপ থেকে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদের একজনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল এবং অন্যজনের আশ্রয়ের আবেদন তখনও চলমান ছিল।   দুই অভিযুক্তকে শুক্রবার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ৩ অক্টোবর লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করার কথা ছিল। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, দ্রুত পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তের পর আদালতে অভিযোগ উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলে প্রসিকিউটররা মনে করেছেন। তবে সেটি কোনোভাবেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ২০:৪৮
ইন্দোনেশিয়ায় গন্ধগোকুলের মল থেকে পাওয়া বীজ দিয়ে তৈরি কোপি লুওয়াক বিশ্বজুড়ে কফিপ্রেমীদের কাছে দারুণ সমাদৃত। ছবি: সংগৃহীত

হাতি ও গন্ধগোকুলের মল থেকে তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম দামি কফি

পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড

পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড

রক্তাক্ত শরীরে বিমান নামিয়ে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পাইলট স্মিথ

রক্তাক্ত শরীরে বিমান নামিয়ে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পাইলট স্মিথ

স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী
স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী

ভারতের কেরালার ত্রিশূরে একটি লজ থেকে তরুণীকে অপহরণ করে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষ বন্ধুকেও মারধর করা হয়। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির স্ত্রী হামলাকারীদের ভাড়া করেছিলেন বলে তদন্তে অভিযোগ উঠে এসেছে।    গত সেপ্টেম্বরে ওই তরুণী তাঁর বিবাহিত পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ত্রিশূরের একটি লজে ওঠেন। লজটি কেরালা রাজ্য পরিবহন সংস্থার বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত।   এনডিটিভি জানিয়েছে, পাঁচজনের একটি দল পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁদের কক্ষে ঢোকে। এরপর দুজনকে বেঁধে গাড়িতে করে তামিলনাড়ুর দিকে নিয়ে যায়। পথে পুরুষ সঙ্গীকে মারধর করা হয়। তাঁর হাত-পায়ে হাড় ভাঙার আঘাত লাগে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    অভিযোগ অনুযায়ী, তিরুপুরের একটি হাসপাতালের বাইরে ওই ব্যক্তিকে ফেলে রেখে হামলাকারীদের দুজন তরুণীকে অন্য গাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়।   তরুণীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তামিলনাড়ু পুলিশ মামলা করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব ত্রিশূর সিটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    তদন্তকারীদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরুষ সঙ্গীর স্ত্রী তাঁর স্বামীর ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে হামলাকারীদের কাছে তথ্য পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার পরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৭:৫৪
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত, বেসামরিক প্রাণহানিরও অভিযোগ

এল নিনো ও বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাবে খাদ্য সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

নিকট ভবিষ্যতেই তীব্র হতে পারে খাদ্য সংকট, দায়ী এল নিনো ও দুই যু দ্ধ

ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ছবি: সংগৃহীত

মাঝ আকাশে বিমানে হামলা, পাইলটের সাহসিকতায় রক্ষা পেলেন ১৮০ যাত্রী

0 Comments