ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে চলমান তীব্র দাবদাহকে এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বিস্তৃত বলে আখ্যায়িত করেছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের কারণেই এই চরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা নিশ্চিত করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানায়, ইউরোপের প্রায় অর্ধেক বড় শহরের মানুষ বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ‘হিট স্ট্রেস’ বা গরম ও আর্দ্রতার যৌথ যন্ত্রণার মুখোমুখি হচ্ছেন। আর্দ্রতা বেশি থাকায় শরীরে ঘাম শুকোচ্ছে না, যা এই দাবদাহকে মানুষের শরীরের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক করে তুলেছে। বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন 'ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন' (ডাব্লিউডাব্লিউএ) তাদের নতুন বিশ্লেষণে দেখিয়েছে যে বায়ুমণ্ডলে কার্বন দূষণ বৃদ্ধির ফলে চরম তাপমাত্রা কতটা দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিগত ৫০ বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা মাত্র ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেও জুনের এই দাবদাহ জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। এমনকি ২০০৩ সালের তুলনায় বর্তমানের রাতের বেলার তাপমাত্রা মানুষের ঘুমের যে ক্ষতি করছে, তার ঝুঁকি প্রায় ১০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জরুরি জলবায়ু পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ গ্রীষ্মগুলো আরও বেশি চরম আকার ধারণ করবে বলে সতর্ক করেছেন লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষক ড. থিওডোর কিপিং। এই তীব্র দাবদাহের কারণে ইতিমধ্যে পুরো ইউরোপজুড়ে মানুষের জীবনযাত্রা ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বহু স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, হাসপাতালগুলো রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে এবং মহাদেশজুড়ে ট্রেন ও বিমান চলাচল বাতিল করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে জুনের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে পশ্চিমা ইউরোপজুড়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এর আগে ২০২২ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপে তীব্র গরমে ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান সাইমন স্টিল এই পরিস্থিতির বিষয়ে বলেন, কয়লা, তেল এবং গ্যাসের প্রতি বিশ্বের অতিরিক্ত আসক্তির কারণেই জলবায়ু পরিবর্তন এখন আমাদের ওপর তাণ্ডব চালাচ্ছে। এর একমাত্র সমাধান হলো দ্রুত পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে ধাবিত হওয়া এবং বনাঞ্চল রক্ষা করা। লন্ডনে গত বুধবার একদিনেই জীবনঝুঁকিতে থাকা রেকর্ড ৬৪১টি জরুরি কল এসেছে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতি মিনিটে একজন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, যা মানব সভ্যতার জন্য এক চরম সতর্কবার্তা।
ইউরোপের দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গ্রীষ্মকালীন দাবদাহ দিন দিন মারাত্মক রূপ ধারণ করায় এয়ার কন্ডিশনার বা এসি কেনার রেকর্ড হিড়িক পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয়রা এসি-কে একটি অপ্রয়োজনীয়, অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিলাসিতা মনে করলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেই দীর্ঘদিনের ধারণা দ্রুত পাল্টাচ্ছে। তীব্র গরমে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঠেকাতে ইউরোপজুড়ে এখন ঘরে ঘরে এসি সংগ্রহের ধুম লেগেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ মহাদেশে প্রতি বছর অতিরিক্ত গরমের কারণে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ মারা যান। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের জীবন বাঁচাতে এসি এখন বিলাসিতা থেকে অন্যতম এক জরুরি পণ্যে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন চিকিৎসা ও পরিবেশ বিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরের ভেতরে সঠিক উপায়ে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার গরমজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারে। এত বড় সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের মাত্র ২০ শতাংশ পরিবারে এসি রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এই হার প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। ইউরোপে এতদিন এসির ব্যবহার কম থাকার পেছনে মূল কারণ ছিল তাদের ঐতিহ্যগত সহনশীলতা এবং প্রাচীন ঘরবাড়ির বিশেষ স্থাপত্যশৈলী। মহাদেশের দক্ষিণের দেশগুলোতে মোটা সাদা দেয়াল ও ছোট জানালার মাধ্যমে ঘর ঠান্ডা রাখা হতো, আর উত্তরের দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালে কখনোই এমন তীব্র গরম অনুভূত হতো না। এছাড়া ইউরোপের দেশগুলোতে গ্যাসের উচ্চমূল্য এবং কম গড় বেতনের কারণে বিদ্যুৎ বিলের অতিরিক্ত খরচও এসি কেনার পেছনে একটি বড় সামাজিক বাধা হিসেবে কাজ করত। তবে বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে ইউরোপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এবং গরমে অতিষ্ঠ মানুষ একটু স্বস্তির খোঁজে নদী বা বিভিন্ন জলাশয়ে নামায় অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে প্যারিস ও এর আশপাশের দোকানগুলোতে সাধারণ এসি পুরোপুরি বিক্রি হয়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যও তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত জুন মাস পার করছে। সেখানে গত ৩ বছরের তুলনায় এসি ব্যবহারের হার দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ৪০ লাখ পরিবারে পৌঁছেছে। লন্ডনের স্থানীয় এসি সরবরাহকারী ও টেকনিশিয়ানরা জানিয়েছেন, করোনা মহামারীর পর থেকে এসির চাহিদা প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়লেও এবারের গরমের মতো এত ব্যস্ত সময় তারা গত ২৫ বছরে আর কখনো দেখেননি। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতে ২০০৩ সালের এক ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী দাবদাহের পর এসির ব্যবহার প্রথম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ওই সময়ে দেশটির মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়িতে এসি থাকলেও ২০২৪ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী তা বেড়ে ৫৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট এসি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের এক-তৃতীয়াংশই একা ব্যবহার করে ইতালি। আন্তর্জাতিক রেফ্রিজারেশন ইনস্টিটিউটের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে সামগ্রিকভাবে পুরো ইউরোপে এয়ার কন্ডিশনারের সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এমনকি জার্মানি এবং উত্তরের অন্যান্য তুলনামূলক ঠান্ডা দেশগুলোতেও এখন ধীরে ধীরে এসির ব্যবহার এবং বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সতর্ক করেছেন যে কয়লা বা গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে এসি চালালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রায় ৪ শতাংশ আসে কেবল এসি থেকে, যা বৈশ্বিক বিমান শিল্পের চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ। এই পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা সাধারণ এসি বাদ দিয়ে আধুনিক এবং কম বিদ্যুৎসাশ্রয়ী 'হিট পাম্প' প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সাথে এসির বিদ্যুৎ সরবরাহ সোলার বা সৌরবিদ্যুৎ থেকে নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০৫০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ কার্বনমুক্ত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করায় স্পেন, ইতালি ও গ্রিসের মতো দেশগুলো ইতিমধ্যেই সরকারি ভবনগুলোতে গ্রীষ্মকালে এসি ব্যবহারের ওপর নির্দিষ্ট সীমা বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
তীব্র ও রেকর্ডব্রেক দাবদাহে পুড়ছে সমগ্র ইউরোপ। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে ফ্রান্স। প্রচণ্ড গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে নদী বা জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে গত এক সপ্তাহে দেশটিতে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু জানিয়েছেন, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া এই ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ ও কম বয়সী। এই আকস্মিক ও নৃশংস আবহাওয়ায় ইউরোপের লাখ লাখ মানুষের জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফ্রান্সের ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী মারিনা ফেরারি এক সাক্ষাৎকারে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, দাবদাহের এই কঠিন সময়ে লাইফগার্ড বা নজরদারিবিহীন বিপজ্জনক জলাশয়গুলোতে সাঁতার কাটা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর 'মেতেও ফ্রান্স' জানিয়েছে, চলমান এই চরম আবহাওয়া অন্তত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফ্রান্সের প্রায় অর্ধেক অঞ্চল বা ৫৪টি বিভাগে ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতাসূচক 'রেড অ্যালার্ট' জারি করা হয়েছে। প্যারিসের ঐতিহাসিক আইফেল টাওয়ার তীব্র গরমের কারণে তাদের স্বাভাবিক সময়সূচি পরিবর্তন করে রাতে খোলা রাখার পরিবর্তে বিকেলেই বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সের অধিকাংশ ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত এয়ার কন্ডিশনিং বা এসি ব্যবস্থা না থাকায় বহু স্কুল, গণপরিবহন এবং ক্রীড়া অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ বা স্থগিত রাখা হয়েছে। সোমবার ফ্রান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত দিন ও রাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছাড়িয়ে ১০৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফ্রান্সের পাশাপাশি ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশও এই তীব্র গরমে পুড়ছে। স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়ায় তাপমাত্রা ১১১ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে গ্রীষ্মকালের প্রথাগত সময়ের বাইরেও ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহ আঘাত হানছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস'-এর মতে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ। এদিকে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরও বুধবার ও বৃহস্পতিবারের জন্য তীব্র দাবদাহের রেড ওয়ার্নিং জারি করেছে। সেখানে তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত ওঠার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার ফলে রেললাইন গলে যাওয়ার বা বিকল হওয়ার ঝুঁকিতে একাধিক ট্রেন অপারেটর তাদের সেবা বাতিল করেছে। জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থার বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, মানুষের তৈরি পরিবেশ দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আগামী পাঁচ বছরে গরমের এই ধরনের আরও অনেক রেকর্ড ভাঙতে পারে, যা জনস্বাস্থ্য ও বনের দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিজ্ঞান ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের তীব্র আপত্তি এবং মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কঠোর বিরোধিতার মুখে অবশেষে সুর নরম করল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। গভীর সমুদ্রের তথ্য সংগ্রহের জন্য চালিত ৩৬৮ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা) একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রকল্প বন্ধ বা স্ক্র্যাপ করার সিদ্ধান্ত থেকে তারা পিছু হটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (NSF) ঘোষণা করেছে যে, তারা ‘ওশেন অবজারভেটরিজ ইনিশিয়েটিভ’ (OOI) নামক এই সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাটি বন্ধ করার পরিকল্পনা এখনই স্থগিত করছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, "তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সমুদ্র থেকে কোনো যন্ত্রপাতি আর সরানো হবে না এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যক্রম সচল রাখা হবে। এই প্রজেক্টের তথ্যের ওপর যারা নির্ভরশীল, তাদের সবার উদ্বেগকে আমরা সম্মান জানাই।" এই প্রজেক্টের অধীনে সমুদ্রের ভেতর ৯০০টিরও বেশি বৈঞ্চানিক যন্ত্রপাতি বসানো রয়েছে, যা সমুদ্রের স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক স্রোতের গতিপ্রকৃতি এবং জীববৈচিত্র্যের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে। উত্তর ক্যারোলিনা, ওরেগন, ওয়াশিংটন ও আলাস্কা উপকূলের পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মধ্যবর্তী সাগরে এই পর্যবেক্ষণ যন্ত্রগুলো বসানো আছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছিলেন যে, এই প্রজেক্টটি বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক ঝড় এবং তীব্র আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়বে এবং বিজ্ঞানীরা জলবায়ু সংকটের খোঁজখবর রাখতে গিয়ে একপ্রকার "অন্ধের মতো" চলবেন। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঠিক একদিন আগে মার্কিন সিনেটে এই প্রজেক্টটি বাঁচানোর জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক বিলও পাস হয়। ওরেগনের ডেমোক্র্যাট জেফ বার্কলে এবং আলাস্কার রিপাবলিকান লিসা মুরকোস্কি এই বিলটি উত্থাপন করেন। সিনেটর জেফ বার্কলে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের সিদ্ধান্তকে "চরম বোকামি" বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি জনগণের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করত এবং জলবায়ুর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পথ বন্ধ করে দিত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেশ কিছু বিজ্ঞান ও জলবায়ু বিষয়ক প্রজেক্ট বন্ধ বা কাটছাঁট করার উদ্যোগ নেয়, যা নিয়ে পরিবেশবাদী ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে আগে থেকেই তীব্র ক্ষোভ ছিল।
বিশ্বের মাত্র ১০ শতাংশ উচ্চ-ভোগকারী বা ‘মেগা-ভোক্তা’ মানুষের অতিরিক্ত খাদ্য ও জ্বালানি ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর পরিবেশের বার্ষিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ছাড়া বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চেয়েও অনেক বড়। যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের গবেষকদের যৌথ এক নতুন গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য সংকটের জন্য ধনী দেশগুলোর অতিরিক্ত ভোগবিলাসকে সরাসরি দায়ী করছে। বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই অতি-ভোগকারী বা মেগা-ভোক্তাদের সিংহভাগই মূলত বাস করেন ‘গ্লোবাল নর্থ’ বা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। গবেষকরা এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিকে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন, যা পৃথিবীর জীবন রক্ষাকারী প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক দুটি ক্ষেত্র হলো খাদ্য ও জ্বালানি। বিশেষ করে রেড মিট বা লাল মাংসের অতিরিক্ত চাহিদা বিশ্বজুড়ে বন উজাড়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ঘন ঘন বিমান ভ্রমণ এবং বাড়িঘর অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম রাখার জন্য কয়লা, গ্যাস ও তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের এই ক্ষতিকে বহুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বার্ষিক ক্ষতির সবচেয়ে বড় অংশটি (৪৭-৫৬ শতাংশ) হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণে এবং বাকি ৩৬-৪৫ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক শীর্ষ ১০ শতাংশের তালিকায় থাকা একজন মানুষের কারণে গড়ে বার্ষিক ২,৩০০ থেকে ৭,৫০০ ডলারের পরিবেশগত ক্ষতি হয়। তবে এই হিসাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষেত্রে আরও কয়েকগুণ বেশি, যেখানে জনপ্রতি বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ১৯,০০০ থেকে ৬৩,০০০ ডলার। এদিকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ধনী পরিবারগুলোও দ্রুত এই তালিকায় এগিয়ে আসছে, যার ফলে বর্তমানে চীনের শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের পরিবেশগত ক্ষতির গড় পরিমাণ জার্মানির শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষকেও ছাড়িয়ে গেছে। গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রকৃত পরিবেশগত খরচের পরিমাণ এই ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ এই হিসাবে ধনীদের বিনিয়োগ বা শেয়ার বাজারের কার্বন ফুটপ্রিন্ট যুক্ত করা হয়নি। পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপিসের এক সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ শীর্ষ ধনীর আর্থিক বিনিয়োগের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের জলবায়ু বিপর্যয় ঘটছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গবেষকরা বিশ্বের সরকারগুলোকে ধনীদের বিলাসবহুল পণ্য, অতিরিক্ত সম্পদ এবং কার্বন ব্যবহারের ওপর বিশেষ ট্যাক্স বা কর আরোপের জোর সুপারিশ করেছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
২০২৫ সালের বৈশ্বিক বায়ুমান সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'আইকিউএয়ার' (IQAir) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তান। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে বাতাসে ক্ষতিকারক সূক্ষ্ম কণা পিএম ২.৫ (PM2.5)-এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১৩ গুণ বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। বায়ুদূষণের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে দেশটির লাহোরসহ প্রধান শহরগুলো ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়াশার (Smog) কবলে রয়েছে। আইকিউএয়ার জানায়, ২০২৫ সালে বিশ্বের ১৪৩টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। যার মধ্যে ১৩০টি দেশই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত বায়ুমান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। গত বছর মাত্র ১৩টি দেশ ও অঞ্চল ডব্লিউএইচও-এর মানদণ্ড (প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের কম পিএম ২.৫) বজায় রাখতে পেরেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় কিছুটা উন্নত। তালিকায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে থাকা চাদ এবার চতুর্থ অবস্থানে নেমে এসেছে। তবে গবেষকদের মতে, এটি দূষণ কমার কারণে নয় বরং তথ্যগত ঘাটতির কারণে হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈদেশিক দূতাবাসগুলো থেকে বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক দেশের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়নি। শহরভিত্তিক দূষণেও দক্ষিণ এশিয়ার আধিপত্য বজায় রয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভারতের 'লোনি'। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের 'হোটান'। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি দূষিত শহরের সবগুলোই ভারত, পাকিস্তান এবং চীনে অবস্থিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে লাওস, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ বেশি হওয়ায় দূষণের মাত্রা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইউরোপ পর্যন্ত বায়ুদূষণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পিএম ২.৫ কণা সরাসরি মানুষের ফুসফুস ও রক্তে মিশে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন এবং যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।