সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

১০,০০০ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ, কার কাছে ও কোথায়?

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৭:৩৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য নতুন আলোচনাকে ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে তেহরানের বিদেশে আটকে থাকা ‘ফ্রোজেন অ্যাসেটস’ বা জব্দ সম্পদের বিষয়টি। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই বিপুল অর্থ এখন ইরানের জন্য যেমন অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কূটনৈতিক দরকষাকষির বড় উপাদান হয়ে উঠেছে।

 

১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব এবং পরবর্তী সময়ে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকটের পর প্রথমবার ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে কেন্দ্র করে সেই নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত হয়। এর ফলে তেল রপ্তানির বড় অংশসহ ইরানের বিপুল বৈদেশিক আয় বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে পড়ে।

 

সাম্প্রতিক সময়েও বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে, যখন সম্ভাব্য আলোচনার আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট করে জানান—বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত না হলে আলোচনায় অগ্রগতি কঠিন। যদিও কিছু প্রতিবেদনে আংশিক অর্থ ছাড়ের সম্ভাবনার কথা উঠে আসে, যুক্তরাষ্ট্র তা নাকচ করে জানায়—ইরানের সম্পদ এখনো জব্দ অবস্থাতেই রয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের ধারণা, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-এর গবেষকদের মতে, এই অঙ্কটি ইরানের বার্ষিক তেল-গ্যাস আয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। ফলে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

 

বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে এই অর্থ। অনানুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী—চীনে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার, ভারতে ৭০০ কোটি, ইরাকে ৬০০ কোটি, কাতারে ৬০০ কোটি, জাপানে প্রায় ১৫০ কোটি, যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ কোটি এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আরও বড় অঙ্কের অর্থ আটকে রয়েছে।

 

ইরান ইতোমধ্যে অন্তত ৬০০ কোটি ডলার ছাড়ের দাবি তুলেছে, যা আস্থা তৈরির প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, অর্থ ছাড় পেলেও তা ব্যবহারে নানা শর্ত আরোপ করা হয়, ফলে পূর্ণ সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

 

‘ফ্রোজেন অ্যাসেটস’ বলতে এমন সম্পদকে বোঝায়, যা কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় থাকলেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা আইনি জটিলতার কারণে ব্যবহার বা স্থানান্তর করা যায় না। সমালোচকদের মতে, এই ব্যবস্থাটি অনেক সময় রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। শুধু ইরান নয়, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, ভেনেজুয়েলাসহ আরও কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা গেছে।

 

ইতিহাস বলছে, ১৯৮১ সালের আলজিয়ার্স চুক্তি-এর মাধ্যমে কিছু অর্থ মুক্ত করা হলেও তার বিনিময়ে জিম্মিদের মুক্তি দিতে হয়েছিল। পরে ২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তি-এর ফলে ইরান কিছু অর্থ ফেরত পায়। তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে সরে এসে আবারও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে পরিস্থিতি আগের মতোই জটিল হয়ে ওঠে।

 

বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে এই জব্দ সম্পদ ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্থ দেশে ফিরতে পারলে মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল করা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনীতিকে চাঙা করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
মালদ্বীপে বাংলাদেশি বাবুলকে ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ ঘোষণা
মালদ্বীপে বাংলাদেশি বাবুলকে ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ ঘোষণা, তথ্য পেতে সহায়তা চায় কর্তৃপক্ষ

মালদ্বীপে ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক মো. বাবুল মিয়াকে ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পেতে জনসাধারণের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।   ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাবুল মিয়ার নাম, বয়স ও নাগরিকত্বের তথ্য প্রকাশ করে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন। বিজ্ঞপ্তিতে তাকে ২৫ বছর বয়সী পুরুষ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাবুল মিয়ার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনকে জানাতে হবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে তাকে কেন ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।   তথ্য দিতে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের নির্ধারিত যোগাযোগ নম্বর ও ইমেইলে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটির রেফারেন্স নম্বর IF-RM/2026/04।   তবে বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ বা মামলার তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই; কর্তৃপক্ষের ব্যবহৃত ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ শব্দটি শুধুমাত্র তাদের বিজ্ঞপ্তির ভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১১:১
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় গিয়ে ২৬ বছর বয়সী যুবকের শরীরে মিলল জরায়ু

বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় গিয়ে ২৬ বছর বয়সী যুবকের শরীরে মিলল জরায়ু, আতঙ্কে যুবক

বিমানবন্দরে ডিউটি-ফ্রি দোকানে পাসপোর্ট স্ক্যানের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পরিবারের

বিমানবন্দরে ডিউটি-ফ্রি দোকানে পাসপোর্ট স্ক্যানের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পরিবারের

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার ৫০ ফুট সোভিয়েত যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরে জাপানের ক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত
ব্রিকস সম্মেলনের আগে মোদি-পুতিন বৈঠক, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় জোর

ভারতের নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, শিল্প, জ্বালানি ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকের শুরুতে দুই নেতা করমর্দন ও আলিঙ্গন করেন। বৈঠকে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি শিল্প সহযোগিতা, রেল ও টানেল নির্মাণ, ইস্পাত খাত, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের বাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সার এবং রাশিয়ায় দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের কাজের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। বৈঠকের আগে মোদি পুতিনকে প্রাচীন তামিল সাহিত্যকর্ম ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ ভাষার অনুবাদ উপহার দেন। কবি ও দার্শনিক তিরুভাল্লুভারের লেখা এই গ্রন্থে নৈতিকতা, শাসন, সম্পদ, ভালোবাসা ও মানবিক আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ১ হাজার ৩৩০টি দ্বিপদী রয়েছে। এদিকে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নাইজেরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশিম শেত্তিমাও ভারতে পৌঁছেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়েরও সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। মোদির সঙ্গে শির পৃথক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়ার সংকট, হরমুজ প্রণালির অবরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শুল্কনীতির মতো বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও সম্মেলনের আলোচনায় প্রভাব ফেলবে। রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যাংক এসবারব্যাংকও ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা (CBDC) ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। ব্যাংকটির প্রধান জার্মান গ্রেফের মতে, ডিজিটাল মুদ্রাভিত্তিক বাণিজ্য নিষ্পত্তি আরও কার্যকর হতে পারে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৭:২০
ছবি: সংগৃহীত

কঙ্গোতে স্কুলে আগুন, পদদলিত হয়ে নিহত ২৪ শিশু

নির্মাণসামগ্রী হিসেবে পয়ঃবর্জ্য ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার প্রতীকী চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে মানুষের মল থেকে তৈরি হচ্ছে কংক্রিট, যা প্রচলিত কংক্রিটের চেয়েও শক্তিশালী

হৃদরোগের অবনতি হওয়ায় বিচারকের কাছে নিউইয়র্কের একটি বাসায় গৃহবন্দী থাকার আবেদন জানিয়েছেন মাদুরোপত্নী সিলিয়া। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস, উন্নত চিকিৎসার দাবি

ইসরায়েল নির্বাচনে বড় চাপে নেতানিয়াহু, ৭ অক্টোবরের হামলার সতর্কতা উপেক্ষার অভিযোগ
ইসরায়েল নির্বাচনে বড় চাপে নেতানিয়াহু, ৭ অক্টোবরের হামলার সতর্কতা উপেক্ষার অভিযোগ

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আগামী ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার প্রায় ১০ দিন আগে হামাসের বড় ধরনের অভিযানের বিষয়ে তাঁকে সতর্ক করেছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তবে নেতানিয়াহু এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন।    ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ-এ প্রকাশিত একটি বইয়ের উদ্ধৃতি থেকে এই দাবি সামনে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন - এমন তথ্য নিয়ে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট কথা বলেন। হামলাটি ব্যাপক প্রাণহানি ঘটাতে পারে এবং পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু সতর্কবার্তায় উদ্বিগ্ন না হয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে সম্ভাব্য হামলা পশ্চিম তীর থেকে আসতে পারে এবং ইসরায়েল যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তবে এই ফোনালাপ বা সতর্কবার্তার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। সিবিএস নিউজও জানিয়েছে, তারা হারেৎজের প্রতিবেদনটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।    নেতানিয়াহুর কার্যালয় অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাঁর দাবি, তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এমন কোনো সতর্কবার্তা পাননি। নেতানিয়াহু হারেৎজ ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত বা অস্বীকার না করে বলেছে, তারা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বা জল্পনা নিয়ে মন্তব্য করে না।   এই বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে ঘিরে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ অক্টোবরের হামলা ও পরবর্তী আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে জনঅসন্তোষের কারণে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সমর্থন চাপে রয়েছে। বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটও শক্ত অবস্থানে উঠে এসেছেন।   সাম্প্রতিক একটি জরিপে আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২৩টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস পেয়েছে, যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পেয়েছে ২০টি। তবে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনে পৌঁছাতে পারছে না। একই জরিপে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকটকে ৩৮ শতাংশ এবং নেতানিয়াহুকে ৩৫ শতাংশ মানুষ বেশি উপযুক্ত বলেছেন।    ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের ৩১ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বরের জরিপেও দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি ভোটারের কাছে ৭ অক্টোবরের ঘটনা আসন্ন নির্বাচনে দল বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে হামলার আগে কী সতর্কতা ছিল এবং নেতানিয়াহু তা কীভাবে মোকাবিলা করেছিলেন - এই প্রশ্নটি নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ৩:৫৫
নেপালে বন্যার পানিতে হোটেল ভেসে যাওয়ায় নিখোঁজ ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার ডা. ইশান ও তার পরিবার

নেপালে বন্যার পানিতে হোটেল ভেসে যাওয়ায় নিখোঁজ ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার ডা. ইশান ও তার পরিবার

১৫ বার অ্যামাজনের প্রত্যাখ্যান, শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে ১.১ কোটি রুপির চাকরি

১৫ বার অ্যামাজনের প্রত্যাখ্যান, শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে ১.১ কোটি রুপির চাকরি

ময়লা দুই টন ই-বর্জ্য থেকে ১৯১ গ্রাম সোনা

ময়লা দুই টন ই-বর্জ্য থেকে ১৯১ গ্রাম সোনা! চীনা রিফাইনারের ভিডিওতে তোলপাড়

0 Comments