বাংলাদেশে এসে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ জানালেন নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার
একই আকাশ, একই বাতাস, একই জল তরঙ্গ, তাহলে আমরা মিলেমিশে কাজ করব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার এইচ.ই. শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী। আজ বাংলাদেশে প্রবেশের পর দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে এভাবেই নিজের গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে সম্পূর্ণ সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন নতুন এই হাইকমিশনার। এ সময় তার সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার সহধর্মিণী মৃণাল (মিনাল) ত্রিবেদী।
বেলা ঠিক ১১টার দিকে তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে এসে পৌঁছালে বাংলাদেশ ও ভারতের কাস্টমস ও বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানান। এ সময় বাংলাদেশ পক্ষের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন, ডেপুটি চিফ অব প্রোটোকল আরিফ মোহাম্মদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সরোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ, সহকারী কমিশনার অতল গোস্বামীসহ ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, বন্দর প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।
নতুন হাইকমিশনারের আগমনকে কেন্দ্র করে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট এলাকা ও যশোর-ঢাকা মহাসড়কে কড়া ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চারদিকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন এবং সফল কূটনৈতিক সফরের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রটোকল শতভাগ নিশ্চিত করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়লে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতেও রূপ নিতে পারে। তিনি দুই দেশের যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন নতুন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও বিশদভাবে তুলে ধরেন।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য টুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি বর্তমানে তার বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে এবং খুব দ্রুত এমন একটি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে দুই দেশের সাধারণ মানুষ সবাই সন্তুষ্ট হন। তিনি দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বা পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ভারতের হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নতুন হাইকমিশনারকে স্বাগত জানাতে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস বাধে এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি গৌরব আগরওয়ালসহ একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল আগে থেকেই যশোরে অবস্থান করছিলেন। পরে তারা বেনাপোল সীমান্তে উপস্থিত হয়ে দীনেশ ত্রিবেদী ও তার সফর সঙ্গীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সীমান্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দীনেশ ত্রিবেদী সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের পরিচয়পত্র (ক্রিডেনশিয়ালস) পেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreদক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. রুবেল (৩৯) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃ ত্যু হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। রুবেলের মৃ ত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর নোয়াখালীতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত রুবেল নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের চুন বেপারী বাড়ির বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত শাহ আলমের বড় ছেলে। জীবিকার সন্ধানে কয়েক বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে প্রবাসে কাজ করছিলেন রুবেল। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান রুবেল। সেখানে তিনি তাঁর ফুফাতো ভাইয়ের দোকানে চাকরি করতেন। প্রবাসে কাজ করে দেশে থাকা পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে দোকানের প্রয়োজনীয় মালামাল কিনে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন রুবেল। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ ত্যু হয়। তবে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। রুবেলের দেশে স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মা রয়েছেন। তাঁর আকস্মিক মৃ ত্যুতে পরিবারের সদস্যরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কীভাবে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্বজনেরা। প্রবাসে পরিবারের জন্য উপার্জন করতে গিয়ে রুবেলের এমন পরিণতিতে তাঁর নিজ গ্রামেও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বজন ও পরিচিতজনেরা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, কীভাবে প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখতে পারবেন তাঁরা। রুবেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহযোগিতা চেয়েছে তাঁর পরিবার। স্বজনদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে। বিদেশের মাটিতে মৃ ত্যুর কারণে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে বলে পরিবারটি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে। এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। রুবেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। রুবেলের পরিবার এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রবাসে কর্মরত এই বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা গেলে স্বজনেরা তাঁর শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারবেন। একই সঙ্গে স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মায়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পরিবারটির মধ্যে।
মাইকিং করে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মালিককে ফিরিয়ে দিলেন দুই বন্ধু
৩ বছরের ব্যবধানে পুকুরের ডুবে একে একে ৩ সন্তানের মৃ'ত্যু দিশেহারা বাবা-মা
পিএসসির সদস্য হলেন জুলাইয়ে শেখ হাসিনার ছবি সরানো জাবি অধ্যাপক শামীমা
জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) দাফন নিয়ে পিরোজপুরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের বাধার অভিযোগ ও দিনভর টানাপোড়েনের পর গভীর রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে দাফন করা হয়। এ সময় পরিবারের পুরুষ সদস্যরা এগিয়ে না আসায় তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও বোন মিলে কবর খুঁড়েছেন বলে স্বজনদের দাবি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। গত দুই মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুর পর দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলাকালে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া এবং পিরোজপুরে দাফন করা নিয়ে আপত্তি ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি নিরাপত্তার জন্য পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নিয়ে যায়। পরে বিকেল ৫টার দিকে সেখানে মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। তবে এরপরও নিজ গ্রামে দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু মানুষের বিরোধিতার কারণে মরদেহ বাড়িতে নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় গভীর রাতে মরদেহ চিতলিয়া গ্রামে পৌঁছানো হয়। মানিক পশারীর বোন মোছাম্মৎ রিনা আক্তার জানান, দাফনের জন্য পরিবারের সদস্যরা প্রথমে একটি কবর খুঁড়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় কিছু লোক সেই কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন বলে তাঁর অভিযোগ। পরে পরিবারের নারী সদস্যরা আবারও কবর খোঁড়েন। পুলিশ মরদেহ নিয়ে আসার পর তাঁরাই মাটি দিয়ে দাফনের কাজ সম্পন্ন করেন। রিনা আক্তারের দাবি, পরিবারের পুরুষ সদস্যদের কেউ এ কাজে এগিয়ে আসেননি। তবে দাফনের সময় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এদিকে মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেন অভিযোগ করেছেন, মরদেহ পিরোজপুরে আনার পর রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর কথা বলে তাঁদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা হয়। সকাল ১০টায় মৃত্যুর পর দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও বিকেল পর্যন্ত গার্ড অব অনারের ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়নি। এরপর দাফনের স্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন জটিলতা দেখা দেয়। ফলে পরিবারের সদস্যরা দিনভর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। তবে দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর দাবি, জামায়াতের কোনো নেতা বা অঙ্গসংগঠনের সদস্য দাফনে বাধা দেননি। বরং পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদিও এর আগে মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম। পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কবরের আশপাশেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাফনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। তবে কবর ভরাট করে দেওয়ার অভিযোগে কারা জড়িত, সে বিষয়ে কোনো তদন্তের ফলাফল বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট তিনি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে পিরোজপুর থানায় মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মামলার সঙ্গে যুক্ত হয়। তিনি রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম সাক্ষী হিসেবেও সাক্ষ্য দেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মানিক পশারী নিজ এলাকায় বসবাস করতে পারছিলেন না। এরপর তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানেই অসুস্থ অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর নিজ গ্রামে দাফন নিয়েও জটিলতার মুখে পড়তে হয় পরিবারকে। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের সহযোগিতা এবং পুলিশের পাহারায় গভীর রাতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। সূত্র: ইত্তেফাক
পলাতক শক্তির কোনো অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর, ছয় প্রশ্নের জবাব চেয়ে চিঠি ঢাকার
ফেসবুক পোস্টের বিরোধে প্রাণ গেল বৃদ্ধের! কমলনগরে যুবকের ঘুষিতে মৃ ত্যুর অভিযোগ
ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। শনিবার, ২৪ অক্টোবর, দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর হতাহতদের পরিচয়, আহতের সংখ্যা এবং সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি। মহাসড়কে বাস ও ভারী যানবাহনের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা যাত্রী ও চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং, চালকের ক্লান্তি, যানবাহনের ত্রুটি এবং সড়কের পরিস্থিতি—এসব বিষয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা বজায় রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এড়িয়ে চলা এবং গাড়ির ফিটনেস নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি মহাসড়কে নজরদারি ও দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারব্যবস্থা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষককে চড় মারার ঘটনায় রুমির বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান
বাবার বাড়ি থেকে নাশতা কম পাঠানোয়, মারধরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু