সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

মোবাইল অপারেটরদের কাছে সরকারের বকেয়া ১৩,৩৪৪ কোটি টাকা, শীর্ষে গ্রামীণফোন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ৯:৫২
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের কাছে সরকারের মোট বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে বেসরকারি অপারেটর গ্রামীণফোন লিমিটেডের কাছে এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে অপারেটরগুলোর বকেয়ার এই বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেন।

 

সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি, প্রশাসনিক জরিমানা, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ) এবং নিরীক্ষা বা অডিট আপত্তিজনিত দাবির কারণে অপারেটরগুলোর কাছে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওনা হয়েছে। সরকারি হিসাব মতে, শীর্ষ বকেয়াদার গ্রামীণফোনের কাছে সরকারের পাওনা সবচেয়ে বেশি, যার পরিমাণ ৬ হাজার ১০২ কোটি টাকা। ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি এবং ভ্যাট-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই পাওনা তৈরি হয়েছে, যা বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

 

বকেয়ার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি ও অন্যান্য খাতে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওনা আদায়ের বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। অন্যদিকে, আরেক বেসরকারি অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের কাছে সরকারের পাওনা ৬১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অডিট আপত্তিজনিত দাবি এবং রেভিনিউ শেয়ারিং-সংক্রান্ত পাওনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এই আদায়ের বিষয়টিও বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

 

এছাড়া বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের কাছে সরকারের বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৪৭৩ কোটি টাকা। অডিট আপত্তি ও রেভিনিউ শেয়ারিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবির কারণে এই অর্থ পাওনা হয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়। মোবাইল অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বেশ কয়েকটি বড় অংকের দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলায় এই বকেয়া আদায়ের প্রক্রিয়া অনেকটাই দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিশেষ করে অডিট আপত্তি ও রাজস্ব ভাগাভাগি সংক্রান্ত বিরোধগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে থাকায় সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব বর্তমানে ঝুলে আছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বিমানের বহরে বড় চমক, ১১ বোয়িং কেনার পথে বাংলাদেশ; দরজায় ১০ এয়ারবাসের প্রস্তাবও

বড় ধরনের বহর সম্প্রসারণের পথে এগোচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি নিউইয়র্কে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। একই সময়ে ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগগুলোর একটি হবে।   দ্য ডেইলি স্টারের ২৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তি নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এই কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে রয়েছে বলে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান রুমি আখতার হোসাইন চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। চুক্তির পর বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচিও রয়েছে।   তবে নতুন ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজের মডেল, মোট মূল্য, অর্থায়নের পদ্ধতি এবং কবে থেকে সেগুলো সরবরাহ করা হবে—এসব তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গত এপ্রিলে বিমান ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি করে। ওই বহরে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স রয়েছে। সেগুলোর সরবরাহ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে হওয়ার কথা।   অন্যদিকে এয়ারবাসের সঙ্গেও বিমানের আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত ১০টি উড়োজাহাজের মধ্যে চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে হতে পারে। তবে আলোচনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।   বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে মঙ্গলবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, এয়ারবাস নিয়ে আলোচনা চলছে এবং তা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি মূলত বিমান ও এয়ারবাসের মধ্যকার বাণিজ্যিক লেনদেন; বাংলাদেশ ও ফ্রান্স সরকারের মধ্যকার কোনো উড়োজাহাজ ক্রয়চুক্তি নয়। তিনি ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলেন।   বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। নতুন ১১টি বোয়িং ও ১০টি এয়ারবাস কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এবং আগে অর্ডার করা ১৪টি বোয়িং যুক্ত হলে ভবিষ্যতে বহরের আকার ৫৪টিতে পৌঁছাতে পারে। তবে উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ বিভিন্ন সময়ে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।   বিমান কর্তৃপক্ষের সামনে একই সঙ্গে বহর ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে মিশ্র বহর পরিচালনা করলে পাইলট প্রশিক্ষণ, প্রকৌশলী, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে বিমান বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে একাধিক নির্মাতার উড়োজাহাজ থাকলে একক সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীলতা কমার সম্ভাবনার কথাও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১০:৩০
মেট্রোরেল

চলন্ত মেট্রোরেলে অপারেটর কেবিনের দরজার তালা খুলে বিপত্তি, ২৬ মিনিট বন্ধ ট্রেন চলাচল

দেশেই বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন নারী

বিদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টে খরচ ৫০ লাখ টাকা, দেশেই বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন নারী

ঢাকায় অফিস খোলতে চায় মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকায় অফিস খোলতে চায় মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সন্দেহজনক পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে পুলিশের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমানের হোটেলের কাছে সন্দেহজনক পরিত্যক্ত স্যুটকেস, নিউইয়র্কে নিরাপত্তা জোরদার

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবস্থান করা হোটেলের কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত কালো স্যুটকেস ঘিরে মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, নিরাপত্তা তৎপরতা চালায় নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ বা এনওয়াইপিডি। পূর্ব ৪৩তম স্ট্রিট ও তৃতীয় অ্যাভিনিউয়ের কাছে স্যুটকেসটি পাওয়ার পর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে যায় এবং আশপাশের কয়েকটি সড়কে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ জানায়, বস্তুটি আর সন্দেহজনক বা বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না।    স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার কিছু আগে স্যুটকেসটি পাওয়া যায়। এনওয়াইপিডির একটি প্রশিক্ষিত কুকুর স্যুটকেসটির ভেতরে কিছু শনাক্ত করার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়। এরপর পুলিশের ইমার্জেন্সি সার্ভিস ইউনিট এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ পূর্ব ৪২তম থেকে ৪৪তম স্ট্রিট পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অ্যাভিনিউ থেকে লেক্সিংটন অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় সাময়িকভাবে যানবাহন ও পথচারী চলাচল বন্ধ করে দেয়।    ঘটনাস্থলটি ক্রাইসলার ভবনের কাছাকাছি এবং জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে কয়েকটি অ্যাভিনিউ দূরে। নিরাপত্তা তৎপরতার সময় কাছের একটি ভবন থেকেও লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন চলায় ওই এলাকায় তখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।    তবে প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও পরে সেটিকে হুমকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্যুটকেসের ভেতরে বোমা বা কোনো বিস্ফোরক পাওয়া গেছে এমন তথ্য নেই। একইভাবে এটি তারেক রহমান, তার সফরসঙ্গী বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিনিধি দলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অংশ ছিল, এমন কোনো তথ্যও কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।    তারেক রহমান ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও একাধিক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিউইয়র্কে অবস্থানকালে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে থাকছেন। একই দিন তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত স্বাগত নাশতায় অংশ নেন এবং সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী কার্যক্রমে যোগ দেন।    সন্দেহজনক স্যুটকেসটি যে এলাকায় পাওয়া যায়, সেটি তার হোটেলের কাছাকাছি হলেও ঘটনাস্থলটি হোটেল ভবনের ভেতরে বা প্রবেশপথে ছিল না। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হোটেলটি পূর্ব ৪২তম স্ট্রিটের কাছে, আর স্যুটকেসটি পাওয়া যায় পূর্ব ৪৩তম স্ট্রিট ও তৃতীয় অ্যাভিনিউয়ের কাছে। তাই ঘটনাটিকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হোটেলে হামলার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।    ঘটনাটির সময় নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছিলেন। এ কারণে ম্যানহাটনের ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের সময় বিভিন্ন সড়কে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। তারেক রহমানও এ সফরে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তার প্রথম বক্তব্য হবে বলে বাংলাদেশি সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    মঙ্গলবারের স্যুটকেস ঘিরে নিরাপত্তা তৎপরতায় কোনো বিস্ফোরণ বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশি পরীক্ষা শেষে বস্তুটি হুমকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা এলাকার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি একটি সন্দেহজনক পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে, বোমা হামলা হিসেবে নয়।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২২:৫৩
জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশে স্ত্রীর মৃ ত্যুর তদন্ত প্রভাবিত করতে ঘু ষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় গ্রে প্তার আওলাদ হোসাইন

খু নের ঘটনায় পুলিশের নথি থেকে নাম কাটাতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্রে প্তার

১৮৬৮ সালে চট্টগ্রাম থেকে ধরা পড়া ঐতিহাসিক গণ্ডার ‘বেগম’

বাংলাদেশে ১৮৬৮ সালে শেষবার ধরা পড়া গণ্ডার, এরপর চলে যায় লন্ডনের চিড়িয়াখানায়

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (ছবি- সংগৃহিত ও পরিমার্জিত)
বাবা-মায়ের পর সন্তান হিসেবে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিশ্বে বিরল নজির!

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হবেন। তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে প্রথমবার এই মঞ্চে ভাষণ দেন।   জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন জিয়াউর রহমান। তাঁর বক্তব্যে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।   এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রথমবার বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়া। পরে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক সভা, ২০০২ সালের শিশুবিষয়ক বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালের ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাসহ আরও কয়েকটি জাতিসংঘের কার্যক্রমে তিনি বক্তব্য দেন।   এবার তাদের ছেলে তারেক রহমান একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন। তাঁর এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হবে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের এবারের ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসার কথা রয়েছে।   জিয়া পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘে অংশগ্রহণের ইতিহাসের শুরু ১৯৮০ সালে। জিয়াউর রহমানের পর খালেদা জিয়ার একাধিকবার অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।   এবার বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০২৬ সালের ২ জুন এ পদে নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব শুরু করেন।   জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে; এরপর ২৮ সেপ্টেম্বরও সাধারণ বিতর্কের কার্যক্রম রয়েছে।   তারেক রহমানের ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণ তাই শুধু তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণই নয়, একই পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার ধারাবাহিকতারও একটি নতুন পর্ব হিসেবে সামনে আসছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৫:৩১
বিষাক্ত বুড়িগঙ্গায় টিকে আছে মাত্র ২০ ডলফিন, বেঁচে থাকতে খাচ্ছে সাকার ফিস

বিষাক্ত বুড়িগঙ্গায় টিকে আছে মাত্র ২০ ডলফিন, বেঁচে থাকতে খাচ্ছে সাকার ফিস

হাসপাতাল

সন্তান জন্মের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদ, যমজ নবজাতককে হাসপাতালে রেখে বাবার আত্মহত্যা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রদূত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

0 Comments