সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

এইচএসসি ২০২৬, খাতা পুনর্নিরীক্ষণ, শিক্ষা বোর্ড, পরীক্ষার ফলাফল, ফি আদায়ে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার রেকর্ড

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: নভেম্বর ৮, ২০২৬ ২:৩২
এইচএসসি ২০২৬, খাতা পুনর্নিরীক্ষণ
এইচএসসি ২০২৬, খাতা পুনর্নিরীক্ষণ

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। মাত্র সাত দিনে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী মোট ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছেন। প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হিসাবে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফি আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫০ টাকা। শনিবার (৭ নভেম্বর) পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। আগামী ২৭ নভেম্বর পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান আবেদনের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয় ও পত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। ফলে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় উত্তরপত্রের সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছে।

শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫৬১ জন শিক্ষার্থী ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৮টি উত্তরপত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে আবেদন জমা পড়েছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ১১৬টি। সেই হিসাবে গত দুই বছরের যেকোনো একটির তুলনায় এবার আবেদনের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি।

এদিকে বিপুলসংখ্যক আবেদন থেকে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফি আদায়ের পরিমাণ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি উত্তরপত্রের জন্য নির্ধারিত ১৫০ টাকা হিসাবে মোট আদায়ের পরিমাণ ১৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বেশি। তবে এই অর্থের পুরোটাই শিক্ষা বোর্ডগুলোর মুনাফা নয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, পুনর্নিরীক্ষণের কারিগরি কার্যক্রম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিগরি সহায়তা এবং নতুন পরীক্ষক নিয়োগ ও তাঁদের পারিশ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করতে হয়।

পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়েছিল ১ নভেম্বর। প্রথমে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হলেও শেষ দিনে অনলাইন ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারেননি। পরে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি সময়সীমা বাড়িয়ে রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্ধারণ করে। ফলে বর্ধিত সময়ে জমা পড়া অতিরিক্ত আবেদন যুক্ত হলে মোট আবেদন ও ফি আদায়ের চূড়ান্ত হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদন যাচাই, পরীক্ষক নিয়োগ, উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও নম্বর পরিবর্তনের তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ করে ২৭ নভেম্বর ফল প্রকাশ করা হবে। এর আগে ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত ২২ বছরের মধ্যে এবার পাসের হার সর্বনিম্ন হওয়ায় ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সংবাদসূত্র: ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

বাংলাদেশ

View more
এইচএসসি ২০২৬, খাতা পুনর্নিরীক্ষণ
এইচএসসি ২০২৬, খাতা পুনর্নিরীক্ষণ, শিক্ষা বোর্ড, পরীক্ষার ফলাফল, ফি আদায়ে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার রেকর্ড

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। মাত্র সাত দিনে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী মোট ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছেন। প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হিসাবে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফি আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫০ টাকা। শনিবার (৭ নভেম্বর) পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। আগামী ২৭ নভেম্বর পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান আবেদনের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয় ও পত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। ফলে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় উত্তরপত্রের সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছে। শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫৬১ জন শিক্ষার্থী ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৮টি উত্তরপত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে আবেদন জমা পড়েছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ১১৬টি। সেই হিসাবে গত দুই বছরের যেকোনো একটির তুলনায় এবার আবেদনের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি। এদিকে বিপুলসংখ্যক আবেদন থেকে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফি আদায়ের পরিমাণ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি উত্তরপত্রের জন্য নির্ধারিত ১৫০ টাকা হিসাবে মোট আদায়ের পরিমাণ ১৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বেশি। তবে এই অর্থের পুরোটাই শিক্ষা বোর্ডগুলোর মুনাফা নয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, পুনর্নিরীক্ষণের কারিগরি কার্যক্রম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিগরি সহায়তা এবং নতুন পরীক্ষক নিয়োগ ও তাঁদের পারিশ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করতে হয়। পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়েছিল ১ নভেম্বর। প্রথমে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হলেও শেষ দিনে অনলাইন ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারেননি। পরে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি সময়সীমা বাড়িয়ে রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্ধারণ করে। ফলে বর্ধিত সময়ে জমা পড়া অতিরিক্ত আবেদন যুক্ত হলে মোট আবেদন ও ফি আদায়ের চূড়ান্ত হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদন যাচাই, পরীক্ষক নিয়োগ, উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও নম্বর পরিবর্তনের তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ করে ২৭ নভেম্বর ফল প্রকাশ করা হবে। এর আগে ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত ২২ বছরের মধ্যে এবার পাসের হার সর্বনিম্ন হওয়ায় ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সংবাদসূত্র: ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), 

প্রকাশ: নভেম্বর ৮, ২০২৬ ২:৩২
জয়পুরহাটে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি নেই

জয়পুরহাটে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি নেই, ‘জাতির পিতা’ বলাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল

ডিসেম্বরে একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন

ডিসেম্বরে একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন, তার আগেই নিথর হয়ে ফিরলেন সেনাসদস্য তিতাস

সিলেটে নিজ বাসার বাথরুমে আমেরিকা প্রবাসী মো. নুরুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

সিলেটে নিজ বাসার বাথরুমে আমেরিকা প্রবাসী মো. নুরুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

জাতীয় চার নেতার নাম বাদ দিয়ে কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজের নতুন নাম
জাতীয় চার নেতার নাম বাদ দিয়ে কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজের নতুন নাম

জাতীয় চার নেতার নামে থাকা চারটি জাহাজসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মোট পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তন করেছে সরকার। এর মধ্যে চারটি জাহাজের নাম ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতার নামে। অন্য জাহাজটির নাম ছিল ‘জয় বাংলা’। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাঁচটি জাহাজেরই নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম নির্ধারণ করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত-৩ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মাসফিকা হোসেন। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জাহাজগুলোর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নামগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘বিসিজিএস সৈয়দ নজরুল’ জাহাজের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘বিসিজিএস ফিরোজ কবীর’। ‘বিসিজিএস তাজউদ্দীন’ জাহাজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘বিসিজিএস নুরুল ইসলাম’। একইভাবে ‘বিসিজিএস মনসুর আলী’ জাহাজের নতুন নাম হয়েছে ‘বিসিজিএস এম হুমায়ুন কবীর’ এবং ‘বিসিজিএস কামরুজ্জামান’ জাহাজের নাম রাখা হয়েছে ‘বিসিজিএস আশরাফ সিদ্দিকী’।   এ ছাড়া ‘বিসিজিএস জয় বাংলা’ জাহাজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘বিসিজিএস অদম্য বাংলা’। ফলে জাতীয় চার নেতার পাশাপাশি ‘জয় বাংলা’ নামটিও কোস্ট গার্ডের সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর নাম থেকে বাদ পড়ল। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষ নতুন নামের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের পর বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কোস্ট গার্ডকে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।   কোস্ট গার্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় চার নেতার পরিবর্তে যে চার ব্যক্তির নামে জাহাজগুলোর নতুন নামকরণ করা হয়েছে, তাঁরা সবাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। দেশের ভেতরে ও বিদেশে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার সময় তাঁরা শহীদ হন। উল্লেখ্য, জাতীয় চার নেতা হলেন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনায় তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।   ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় এই চার নেতাকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসেবে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত এই চার নেতার নামে কোস্ট গার্ডের জাহাজগুলোর নাম রাখা হয়েছিল। সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই নামগুলো পরিবর্তিত হলো।  সূত্র: চ্যানেল আই      

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৮:৮
বাংলাদেশের রেলপথে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেন চালানোর প্রস্তাব

বাংলাদেশের রেলপথে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেন চালানোর প্রস্তাব, তিন রুটে ২৪ ঘণ্টা মালবাহী চলাচল চায় দিল্লি

প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড

প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’, বিমানবন্দর থেকে ব্যাংকিংয়ে মিলতে পারে ১০ ধরনের সুবিধা

সরকারি দপ্তরে টাকা না দিলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৫০ হাজার বেতন দিতাম: মাসুদুজ্জামান

সরকারি দপ্তরে টাকা না দিলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৫০ হাজার বেতন দিতাম: মাসুদুজ্জামান

টেকনাফে মানবপাচার বিরোধী যৌথ বাহিনীর অভিযানে সেনাসদস্য তিতাস শেখ নিহত। ছবি: সংগৃহীত
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত, ৫৭ জিম্মি উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গোলাগুলির ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত সেনাসদস্যের নাম মো. তিতাস শেখ (২৭)। এ সময় মানবপাচারকারীদের হাতে জিম্মি থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে।   আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, রঙ্গীখালীর গহিন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিককে জিম্মি করে রেখেছে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল। তাঁদের উদ্ধারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এ সময় সেনাবাহিনীর সৈনিক তিতাস শেখ বাঁ কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।   আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তিতাস শেখের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে।   আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা ৫৭ জনের মধ্যে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।   ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকসংলগ্ন পাহাড়ে জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে সশস্ত্র অপরাধীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করা হয়।   এদিকে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছে, সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে ওই পাহাড়ি আস্তানায় বেশ কয়েকজনকে আটকে রাখা হয়েছিল। সীমান্তবর্তী টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার, অপহরণ ও সশস্ত্র অপরাধী চক্রের তৎপরতার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে।   অভিযানে নিহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ০:৩৪
এলব্রুস জয়ের পর জাতীয় পতাকা হস্তান্তর করলেন শাকিল। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: ইকরামুল হাসান শাকিল

হঠাৎ ‘স্যরি’তে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া,

হঠাৎ ‘স্যরি’তে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া, নেপথ্যে রহস্য কী ?

মালিক-শ্রমিকপক্ষের ঐকমত্য

১ জানুয়ারি বর্ধিত মজুরি পাবেন পোশাক শ্রমিকরা, মালিক-শ্রমিকপক্ষের ঐকমত্য

0 Comments