জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্য অনৈতিক কাজের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও আলোচিত লেখক মির্জা গালিব।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, জামায়াত একটি ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল। ফলে দলের নেতা-পর্যায়ের কারও বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ ওঠা এবং দলীয় শাস্তির মুখোমুখি হওয়া স্বাভাবিকভাবেই দলের জন্য লজ্জাজনক।
তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কোনো দলই সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত নয়। মানুষের সমাজে ভুল, দুর্বলতা ও পদস্খলন থাকবে—এটাই বাস্তবতা। তাই ব্যক্তি অপরাধকে পুরো আদর্শের সঙ্গে এক করে দেখার পরিবর্তে দল কীভাবে সেই অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা গালিব তার লেখায় আরও বলেন, ইসলামী দল বা ধর্মচর্চাকারীদের মধ্যেও যদি অনৈতিকতার ঘটনা ঘটতে পারে, তাহলে অন্যদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত বিচারকসুলভ মনোভাব বা ‘মোরাল পুলিশিং’ থেকে বিরত থাকা উচিত। তিনি মনে করেন, মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সম্মান ইসলামে সুরক্ষিত, এবং ধর্মীয় অনুশীলনে কম সক্রিয় ব্যক্তিদের প্রতিও সেই সম্মান সমানভাবে প্রযোজ্য।
স্ট্যাটাসে তিনি আত্মসমালোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে লেখেন, অন্যের পাপ নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত হওয়ার পরিবর্তে নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তওবা করাই একজন মুসলমানের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
দলীয় শৃঙ্খলার প্রসঙ্গে মির্জা গালিব বলেন, ব্যক্তি যে কোনো সময় অপরাধ করতে পারেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল যেন কোনো ধরনের ছাড় না দেয়। তার মতে, দলীয় নেতা-কর্মীরা যদি নিশ্চিত হন যে অপরাধ প্রমাণিত হলে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে, তাহলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি অনেকটাই কমে আসবে।
উল্লেখ্য, মির্জা গালিব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের Howard University-এ সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি নিয়মিত মতামত প্রকাশ করে থাকেন।
বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনে মির্জা গালিবের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত মতামত তুলে ধরা হয়েছে। এতে প্রকাশিত মন্তব্যগুলো তার নিজস্ব মতামত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত আলেম, শিক্ষাবিদ, ঐতিহ্যবাহী সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল (এমএ) মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এবং কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা মতিউর রহমান গুরুতর অসুস্থ। তাঁর সুস্থতা কামনায় দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে মাওলানা মতিউর রহমানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার ইতিহাস। উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাতদরগাহ গ্রামের আব্দুন্নাছির পীর সাহেব কেবলা ও স্থানীয় কয়েকজন ইসলামি শিক্ষানুরাগীর উদ্যোগে ১৯৪২ সালে কয়েক একর জমির ওপর মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে হাজারো আলেম, মুফতি, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও শিক্ষক তৈরি হয়েছেন, যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্বীনি শিক্ষা ও অন্যান্য পেশায় অবদান রেখে চলেছেন। মাওলানা মতিউর রহমান অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাদ্রাসাটির শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২২ সালে যমুনা টেলিভিশনে প্রকাশিত সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা নিয়ে একটি প্রতিবেদনে তাঁকে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ ও সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাতে বলা হয়, মাওলানা মতিউর রহমান অধ্যক্ষ থাকা পর্যন্ত মাদ্রাসাটির কার্যক্রম ভালোভাবে চলছিল। তাঁর অবসরের পর অধ্যক্ষ নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা দেখা দেয়। শিক্ষকতা ও ইসলামি শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন মাওলানা মতিউর রহমান। নির্বাচনী রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি ৬৮ হাজার ৫৭৯ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এ কে এম মাঈদুল ইসলাম পান ৬৩ হাজার ৫৮২ ভোট। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে একজন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ হিসেবেই তাঁর পরিচিতি শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁর কাছে পড়াশোনা করা অসংখ্য শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছেন। তাঁদের অনেকে ধর্মীয় শিক্ষা, শিক্ষকতা, সমাজসেবা, রাজনীতি ও বিভিন্ন পেশায় যুক্ত রয়েছেন। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাবেক শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। প্রিয় শিক্ষাগুরুর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সবার কাছে দোয়ার আবেদন জানাচ্ছেন তারা। মাওলানা মতিউর রহমানের বর্তমান চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে তাঁর শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মহান আল্লাহর কাছে তাঁর দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করেছেন।
কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে হতবাক হয়ে গেছেন দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি আবিষ্কার করেন, রাস্তায় পড়ে থাকা নিথর দেহটি তারই দশ বছর বয়সী আদরের সন্তান তুহিন আবদুল ওয়াহেদের। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে শহরের গাইটাল এলাকায় অবস্থিত আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত তুহিন ওই বিদ্যালয়েরই চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কনস্টেবল সামসুল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে স্কুলের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক শিশু তুহিনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সদর মডেল থানা থেকে কনস্টেবল সামসুল পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি যে, সেখানে তার নিজের ছেলেরই লাশ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছেলের নিথর দেহ দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় সেখানে এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে উপস্থিত সহকর্মী পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা শোকাহত এই পিতাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কনস্টেবল সামসুল তাদের থানার একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল সদস্য। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি নিজেই সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন এবং গিয়ে নিজের সন্তানের মরদেহ দেখতে পান। ওসি আরও জানান, প্রাণঘাতী এই দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রাকটিকে ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার গুঞ্জনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম লেখেন, “একটি বিষয় নিশ্চিত, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন না। তিনি দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই, ‘তিন শূন্যের বিশ্ব’ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসা সম্প্রসারণে তাঁর চলমান কাজেই নিবেদিত থাকবেন।” সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড. ইউনূসকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখা যেতে পারে—এমন নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রেস সচিবের এই বক্তব্যকে গুঞ্জনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের দায়িত্ব হিসেবেই দেখছেন এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার কোনো আগ্রহ তাঁর নেই। প্রেস সচিবের সর্বশেষ এই মন্তব্যের ফলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে, এমন চলমান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।