ঢাবি ছেড়ে জাবিতে ভর্তি, সেখান থেকে অক্সফোর্ডে পূর্ণ বৃত্তিতে সামিয়ার যাত্রা
ছোটবেলা থেকেই বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতেন সামিয়া ইসলাম আনিকা। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একাধিকবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরও অর্থনীতি পড়ার আগ্রহ থেকে এক বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় বদলে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে।
সেখানকার পড়াশোনা, গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে এমফিল ও ডিফিল প্রোগ্রামে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ ক্ল্যারেনডন ফান্ড স্কলারশিপের পূর্ণ অর্থায়ন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন সামিয়া। স্নাতকে ৩.৯২ সিজিপিএ নিয়ে বিভাগ ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদে প্রথম হন তিনি। পরে স্নাতকোত্তরে অর্জন করেন ৩.৯১ সিজিপিএ। তাঁর একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি গবেষণাপত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি জার্নালে প্রকাশিত হয়। আরেকটি গবেষণাপত্র দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের একটি সম্মেলনে উপস্থাপন করেন তিনি।
সামিয়ার অর্থনীতি বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল নিজের আগ্রহ। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে গণিতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। একই সঙ্গে সমাজ ও মানুষের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কৌতূহল ছিল। সেই দুই আগ্রহকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর সুযোগ হিসেবে অর্থনীতিকে বেছে নেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরও নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। এক বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হয়ে শুরু করেন নতুন একাডেমিক যাত্রা।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি সামিয়া। বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এসব কাজের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি গবেষণা, আইসিটি বিভাগের হের পাওয়ার প্রকল্প এবং সমবায় অধিদপ্তরের নারীদের জীবিকা সংশ্লিষ্ট গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের বিভিন্ন গবেষণাতেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে গবেষণামুখী একাডেমিক প্রোফাইল গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
একই সময়ে বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশনে সহসাধারণ সম্পাদক এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠনে শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক জোটের কমিটিতেও সদস্য ছিলেন। ফলে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়জীবন একাডেমিক ফলাফল, গবেষণা, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে এগিয়েছে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে সামিয়ার আরেকটি বড় অর্জন ছিল জিআরই ও আইইএলটিএসের ফল। জিআরইতে ৩৩১ স্কোর করেন তিনি, যার মধ্যে কোয়ান্টিটেটিভ অংশে ছিল পূর্ণ ১৭০। আইইএলটিএসে তাঁর স্কোর ৮.৫। জিআরইয়ের ফল পাওয়ার পর শিক্ষকেরা তাঁকে পিএইচডি পর্যায়ের প্রোগ্রামে আবেদন করতে উৎসাহ দেন। নিজের স্কোর অক্সফোর্ডের নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখে তিনি আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন।
অক্সফোর্ডে আবেদন করার প্রস্তুতিও ছিল তুলনামূলকভাবে দ্রুত। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামিয়া মাত্র দুই দিনে তাঁর স্টেটমেন্ট অব পারপাস তৈরি করেছিলেন। তিনি একসঙ্গে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন এবং অক্সফোর্ডের পাশাপাশি ইয়েল, ওয়ারউইক ও ভ্যান্ডারবিল্ট থেকেও সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত তাত্ত্বিক অর্থনীতির প্রতি আগ্রহ এবং গবেষণার পরিবেশ বিবেচনায় অক্সফোর্ডকে বেছে নেন।
অক্সফোর্ডের এমফিল ও ডিফিল প্রোগ্রামটি সাধারণ অর্থে শুধু একটি মাস্টার্স প্রোগ্রাম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি সমন্বিত গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রাম, যেখানে প্রথমে দুই বছরের এমফিল সম্পন্ন করতে হয়। এরপর সন্তোষজনক ফলাফল থাকলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় আবেদন ছাড়াই তিন থেকে চার বছরের ডিফিল পর্যায়ে অগ্রসর হতে পারেন। অক্সফোর্ডের ডিফিল অন্যান্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডির সমতুল্য। পুরো প্রোগ্রামটি মূলত প্রায় পাঁচ বছরের সমন্বিত ডক্টরাল শিক্ষার পথ হিসেবে তৈরি।
এই প্রোগ্রামেই সামিয়ার জন্য রয়েছে ক্ল্যারেনডন ফান্ড স্কলারশিপ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের জন্য তাঁর টিউশন ফি ও জীবনযাপনের খরচের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে এই অর্থায়নের পরিমাণ বছরে প্রায় ৫১ হাজার ৮০০ পাউন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অক্সফোর্ডের ক্ল্যারেনডন স্কলার তালিকাতেও বাংলাদেশ থেকে সামিয়া ইসলামের নাম এমফিল ইন ইকোনমিকসের সঙ্গে রয়েছে।
তবে সামিয়ার এই পথচলার পেছনে শুধু পরীক্ষার ভালো ফল বা একটি স্কলারশিপ নয়, ছিল নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোটবেলায় কোচিং বা প্রাইভেটের ওপর নির্ভর না করে বাবার কাছেই পড়াশোনার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় বদলানো থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার বিষয় বেছে নেওয়া পর্যন্ত পরিবার তাঁর পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া বক্তব্যে সামিয়া পরিবারের সমর্থনকে তাঁর পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সিদ্ধান্ত, অর্থনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করা, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ভালো ফল, গবেষণায় সম্পৃক্ততা, জিআরই ও আইইএলটিএসে সাফল্য এবং শেষ পর্যন্ত অক্সফোর্ডের সমন্বিত এমফিল-ডিফিল প্রোগ্রামে সুযোগ পাওয়া, সব মিলিয়ে সামিয়া ইসলাম আনিকার শিক্ষাজীবন একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের গল্প। এখন তাঁর সামনে অর্থনীতিতে উচ্চতর গবেষণা এবং একাডেমিয়ায় নিজের অবস্থান তৈরি করার নতুন অধ্যায়।
সূত্র: প্রথম আলো
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreছোটবেলা থেকেই বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতেন সামিয়া ইসলাম আনিকা। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একাধিকবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরও অর্থনীতি পড়ার আগ্রহ থেকে এক বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় বদলে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখানকার পড়াশোনা, গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে এমফিল ও ডিফিল প্রোগ্রামে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ ক্ল্যারেনডন ফান্ড স্কলারশিপের পূর্ণ অর্থায়ন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন সামিয়া। স্নাতকে ৩.৯২ সিজিপিএ নিয়ে বিভাগ ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদে প্রথম হন তিনি। পরে স্নাতকোত্তরে অর্জন করেন ৩.৯১ সিজিপিএ। তাঁর একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি গবেষণাপত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি জার্নালে প্রকাশিত হয়। আরেকটি গবেষণাপত্র দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের একটি সম্মেলনে উপস্থাপন করেন তিনি। সামিয়ার অর্থনীতি বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল নিজের আগ্রহ। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে গণিতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। একই সঙ্গে সমাজ ও মানুষের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কৌতূহল ছিল। সেই দুই আগ্রহকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর সুযোগ হিসেবে অর্থনীতিকে বেছে নেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরও নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। এক বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হয়ে শুরু করেন নতুন একাডেমিক যাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি সামিয়া। বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এসব কাজের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি গবেষণা, আইসিটি বিভাগের হের পাওয়ার প্রকল্প এবং সমবায় অধিদপ্তরের নারীদের জীবিকা সংশ্লিষ্ট গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের বিভিন্ন গবেষণাতেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে গবেষণামুখী একাডেমিক প্রোফাইল গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সময়ে বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশনে সহসাধারণ সম্পাদক এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠনে শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক জোটের কমিটিতেও সদস্য ছিলেন। ফলে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়জীবন একাডেমিক ফলাফল, গবেষণা, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে এগিয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে সামিয়ার আরেকটি বড় অর্জন ছিল জিআরই ও আইইএলটিএসের ফল। জিআরইতে ৩৩১ স্কোর করেন তিনি, যার মধ্যে কোয়ান্টিটেটিভ অংশে ছিল পূর্ণ ১৭০। আইইএলটিএসে তাঁর স্কোর ৮.৫। জিআরইয়ের ফল পাওয়ার পর শিক্ষকেরা তাঁকে পিএইচডি পর্যায়ের প্রোগ্রামে আবেদন করতে উৎসাহ দেন। নিজের স্কোর অক্সফোর্ডের নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখে তিনি আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। অক্সফোর্ডে আবেদন করার প্রস্তুতিও ছিল তুলনামূলকভাবে দ্রুত। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামিয়া মাত্র দুই দিনে তাঁর স্টেটমেন্ট অব পারপাস তৈরি করেছিলেন। তিনি একসঙ্গে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন এবং অক্সফোর্ডের পাশাপাশি ইয়েল, ওয়ারউইক ও ভ্যান্ডারবিল্ট থেকেও সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত তাত্ত্বিক অর্থনীতির প্রতি আগ্রহ এবং গবেষণার পরিবেশ বিবেচনায় অক্সফোর্ডকে বেছে নেন। অক্সফোর্ডের এমফিল ও ডিফিল প্রোগ্রামটি সাধারণ অর্থে শুধু একটি মাস্টার্স প্রোগ্রাম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি সমন্বিত গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রাম, যেখানে প্রথমে দুই বছরের এমফিল সম্পন্ন করতে হয়। এরপর সন্তোষজনক ফলাফল থাকলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় আবেদন ছাড়াই তিন থেকে চার বছরের ডিফিল পর্যায়ে অগ্রসর হতে পারেন। অক্সফোর্ডের ডিফিল অন্যান্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডির সমতুল্য। পুরো প্রোগ্রামটি মূলত প্রায় পাঁচ বছরের সমন্বিত ডক্টরাল শিক্ষার পথ হিসেবে তৈরি। এই প্রোগ্রামেই সামিয়ার জন্য রয়েছে ক্ল্যারেনডন ফান্ড স্কলারশিপ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের জন্য তাঁর টিউশন ফি ও জীবনযাপনের খরচের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে এই অর্থায়নের পরিমাণ বছরে প্রায় ৫১ হাজার ৮০০ পাউন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অক্সফোর্ডের ক্ল্যারেনডন স্কলার তালিকাতেও বাংলাদেশ থেকে সামিয়া ইসলামের নাম এমফিল ইন ইকোনমিকসের সঙ্গে রয়েছে। তবে সামিয়ার এই পথচলার পেছনে শুধু পরীক্ষার ভালো ফল বা একটি স্কলারশিপ নয়, ছিল নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোটবেলায় কোচিং বা প্রাইভেটের ওপর নির্ভর না করে বাবার কাছেই পড়াশোনার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় বদলানো থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার বিষয় বেছে নেওয়া পর্যন্ত পরিবার তাঁর পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া বক্তব্যে সামিয়া পরিবারের সমর্থনকে তাঁর পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সিদ্ধান্ত, অর্থনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করা, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ভালো ফল, গবেষণায় সম্পৃক্ততা, জিআরই ও আইইএলটিএসে সাফল্য এবং শেষ পর্যন্ত অক্সফোর্ডের সমন্বিত এমফিল-ডিফিল প্রোগ্রামে সুযোগ পাওয়া, সব মিলিয়ে সামিয়া ইসলাম আনিকার শিক্ষাজীবন একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের গল্প। এখন তাঁর সামনে অর্থনীতিতে উচ্চতর গবেষণা এবং একাডেমিয়ায় নিজের অবস্থান তৈরি করার নতুন অধ্যায়। সূত্র: প্রথম আলো
সূত্রাপুরে পারিবারিক কলহের জেরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন, দগ্ধ ৫
৩৪ দিন পর শাহজালাল মাজারের দানবাক্স খুলল, চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে চলছে টাকা গণনা
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর ঢাকাজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও রাজধানীর প্রবেশপথ মিলিয়ে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল ও এর চালকদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ। ঢাকা ট্রিবিউনের শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে এবং সন্দেহজনক চলাচল শনাক্ত করতে নিরাপত্তা তৎপরতা বাড়ানো হয়। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোট ১৪টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, যাত্রাবাড়ী, বাবুবাজার, বিটিভি ভবনের সামনে এবং মগবাজার মোড়ে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে কাফরুল থানার সামনে একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, জনসমাগমপূর্ণ এলাকা এবং ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে অবৈধ মোটরসাইকেল চলাচল এবং সেগুলো ব্যবহার করে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের এই পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা ঘিরেও পুলিশের নজরদারি বেড়েছে। ঢাকা ট্রিবিউনের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আকস্মিক মিছিল বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চলছে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হচ্ছে। খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে মোটরসাইকেল চালকদের ওপর ‘বিশেষ নজরদারি’ বলতে সব মোটরসাইকেল চালককে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে—এমন কথা প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়নি। ডিএমপির বক্তব্য অনুযায়ী, মূল লক্ষ্য অবৈধ মোটরসাইকেলের চলাচল এবং নাশকতায় মোটরসাইকেলের সম্ভাব্য ব্যবহার ঠেকানো।
১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ, সরকারি ভবনেও বড় পরিকল্পনা
অবশেষে অপেক্ষার অবসান - জারি হলো নবম পে-স্কেলের গেজেট
মায়ের আইফোন নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ, জঙ্গলে মিলল ১৩ বছরের অপ্রতিমের মরদেহ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরের পরই নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ এবং বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে বা বিজি প্রেসে ছাপার কাজ চলছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আজই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে। এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে মূল বেতন একসঙ্গে নয়, তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কাঠামোয় আগের মতো ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। অন্যদিকে ২০তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১৪২ শতাংশ। বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এখন সরকারি চাকরিজীবীদের নজর মূলত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সময়ের দিকে। দুপুরের পর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হলে এরপর নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ ও বকেয়া পাওনা সমন্বয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
যে কোনো সময় আসতে পারে এক দফা দাবি জামায়াত আমিরের হুশিয়ার
মাত্র ২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরি পেলেন সিলেটের রিজভী ইসলাম