সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

ঢাবি ছেড়ে জাবিতে ভর্তি, সেখান থেকে অক্সফোর্ডে পূর্ণ বৃত্তিতে সামিয়ার যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ০:২৭
ঢাবি ছেড়ে জাবিতে ভর্তি, সেখান থেকে অক্সফোর্ডে পূর্ণ বৃত্তিতে সামিয়ার যাত্রা
ঢাবি ছেড়ে জাবিতে ভর্তি, সেখান থেকে অক্সফোর্ডে পূর্ণ বৃত্তিতে সামিয়ার যাত্রা

ছোটবেলা থেকেই বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতেন সামিয়া ইসলাম আনিকা। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একাধিকবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরও অর্থনীতি পড়ার আগ্রহ থেকে এক বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় বদলে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে।

 

সেখানকার পড়াশোনা, গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে এমফিল ও ডিফিল প্রোগ্রামে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ ক্ল্যারেনডন ফান্ড স্কলারশিপের পূর্ণ অর্থায়ন। 

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন সামিয়া। স্নাতকে ৩.৯২ সিজিপিএ নিয়ে বিভাগ ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদে প্রথম হন তিনি। পরে স্নাতকোত্তরে অর্জন করেন ৩.৯১ সিজিপিএ। তাঁর একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি গবেষণাপত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি জার্নালে প্রকাশিত হয়। আরেকটি গবেষণাপত্র দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের একটি সম্মেলনে উপস্থাপন করেন তিনি। 

 

সামিয়ার অর্থনীতি বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল নিজের আগ্রহ। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে গণিতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। একই সঙ্গে সমাজ ও মানুষের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কৌতূহল ছিল। সেই দুই আগ্রহকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর সুযোগ হিসেবে অর্থনীতিকে বেছে নেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরও নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। এক বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হয়ে শুরু করেন নতুন একাডেমিক যাত্রা। 

 

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি সামিয়া। বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এসব কাজের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি গবেষণা, আইসিটি বিভাগের হের পাওয়ার প্রকল্প এবং সমবায় অধিদপ্তরের নারীদের জীবিকা সংশ্লিষ্ট গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের বিভিন্ন গবেষণাতেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে গবেষণামুখী একাডেমিক প্রোফাইল গড়ে তুলতে সহায়তা করে। 

 

একই সময়ে বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশনে সহসাধারণ সম্পাদক এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠনে শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক জোটের কমিটিতেও সদস্য ছিলেন। ফলে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়জীবন একাডেমিক ফলাফল, গবেষণা, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে এগিয়েছে। 

 

বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে সামিয়ার আরেকটি বড় অর্জন ছিল জিআরই ও আইইএলটিএসের ফল। জিআরইতে ৩৩১ স্কোর করেন তিনি, যার মধ্যে কোয়ান্টিটেটিভ অংশে ছিল পূর্ণ ১৭০। আইইএলটিএসে তাঁর স্কোর ৮.৫। জিআরইয়ের ফল পাওয়ার পর শিক্ষকেরা তাঁকে পিএইচডি পর্যায়ের প্রোগ্রামে আবেদন করতে উৎসাহ দেন। নিজের স্কোর অক্সফোর্ডের নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখে তিনি আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। 

 

অক্সফোর্ডে আবেদন করার প্রস্তুতিও ছিল তুলনামূলকভাবে দ্রুত। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামিয়া মাত্র দুই দিনে তাঁর স্টেটমেন্ট অব পারপাস তৈরি করেছিলেন। তিনি একসঙ্গে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন এবং অক্সফোর্ডের পাশাপাশি ইয়েল, ওয়ারউইক ও ভ্যান্ডারবিল্ট থেকেও সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত তাত্ত্বিক অর্থনীতির প্রতি আগ্রহ এবং গবেষণার পরিবেশ বিবেচনায় অক্সফোর্ডকে বেছে নেন। 

 

অক্সফোর্ডের এমফিল ও ডিফিল প্রোগ্রামটি সাধারণ অর্থে শুধু একটি মাস্টার্স প্রোগ্রাম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি সমন্বিত গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রাম, যেখানে প্রথমে দুই বছরের এমফিল সম্পন্ন করতে হয়। এরপর সন্তোষজনক ফলাফল থাকলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় আবেদন ছাড়াই তিন থেকে চার বছরের ডিফিল পর্যায়ে অগ্রসর হতে পারেন। অক্সফোর্ডের ডিফিল অন্যান্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডির সমতুল্য। পুরো প্রোগ্রামটি মূলত প্রায় পাঁচ বছরের সমন্বিত ডক্টরাল শিক্ষার পথ হিসেবে তৈরি। 

 

এই প্রোগ্রামেই সামিয়ার জন্য রয়েছে ক্ল্যারেনডন ফান্ড স্কলারশিপ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের জন্য তাঁর টিউশন ফি ও জীবনযাপনের খরচের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে এই অর্থায়নের পরিমাণ বছরে প্রায় ৫১ হাজার ৮০০ পাউন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অক্সফোর্ডের ক্ল্যারেনডন স্কলার তালিকাতেও বাংলাদেশ থেকে সামিয়া ইসলামের নাম এমফিল ইন ইকোনমিকসের সঙ্গে রয়েছে। 

 

তবে সামিয়ার এই পথচলার পেছনে শুধু পরীক্ষার ভালো ফল বা একটি স্কলারশিপ নয়, ছিল নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোটবেলায় কোচিং বা প্রাইভেটের ওপর নির্ভর না করে বাবার কাছেই পড়াশোনার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় বদলানো থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার বিষয় বেছে নেওয়া পর্যন্ত পরিবার তাঁর পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া বক্তব্যে সামিয়া পরিবারের সমর্থনকে তাঁর পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সিদ্ধান্ত, অর্থনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করা, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ভালো ফল, গবেষণায় সম্পৃক্ততা, জিআরই ও আইইএলটিএসে সাফল্য এবং শেষ পর্যন্ত অক্সফোর্ডের সমন্বিত এমফিল-ডিফিল প্রোগ্রামে সুযোগ পাওয়া, সব মিলিয়ে সামিয়া ইসলাম আনিকার শিক্ষাজীবন একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের গল্প। এখন তাঁর সামনে অর্থনীতিতে উচ্চতর গবেষণা এবং একাডেমিয়ায় নিজের অবস্থান তৈরি করার নতুন অধ্যায়।

 

সূত্র: প্রথম আলো


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

বাংলাদেশ

View more
হঠাৎ ‘স্যরি’তে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া,
হঠাৎ ‘স্যরি’তে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া, নেপথ্যে রহস্য কী ?

দেশের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হঠাৎ শুধু ‘স্যরি’ লিখে একটি পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। সংক্ষিপ্ত এই পোস্ট ঘিরে পাঠকদের মধ্যে তৈরি হয় কৌতূহল ও বিভ্রান্তি। কেউ ধারণা করেন পেজটি হ্যাক হয়েছে, আবার কেউ মনে করেন এটি বিশেষ কোনো প্রচারণার অংশ।   তবে শেষ পর্যন্ত জানা গেছে, প্রথম আলোর এমন রহস্যময় পোস্টের পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির রম্য সাময়িকী ‘রস+আলো’র একটি বিশেষ আয়োজন। পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই প্রচারণা চালানো হয়।   পোস্টটি প্রকাশের পর ফেসবুকে নানা ধরনের মন্তব্য করেন ব্যবহারকারীরা। অনেকে জানতে চান, প্রথম আলোর মতো একটি সংবাদমাধ্যম হঠাৎ কেন ক্ষমা চাইছে। কেউ আবার বিষয়টিকে নিছক রসিকতা হিসেবে দেখেন।   ফেসবুক ব্যবহারকারী মির্জা হাসিব মন্তব্য করেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন প্রথম আলোর পেজ হ্যাক হয়েছে। পরে সম্পাদক মতিউর রহমানের পেজেও একই পোস্ট দেখে এবং রস+আলোর সাম্প্রতিক প্রচ্ছদের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়ে এটিকে প্রচারণার অংশ বলে ধারণা করেন।   সংবাদমাধ্যম জনবাণীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রস+আলোর বিশেষ সংখ্যার মূল বিষয় ছিল ‘আইডিয়া সংকট’। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন সংকটের সঙ্গে মিল রেখে রম্য লেখার নতুন ভাবনার সংকটকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।   রস+আলোর পক্ষ থেকে পাঠকদের জানানো হয়, উপযুক্ত আইডিয়ার অভাবে এবারের সংখ্যায় প্রত্যাশিত আনন্দ দিতে না পারায় তারা দুঃখিত। সেই ভাবনাকে কেন্দ্র করেই ফেসবুকে প্রকাশ করা হয় এক শব্দের ‘স্যরি’ পোস্ট।   অর্থাৎ, প্রথম আলোর এই পোস্ট কোনো হ্যাকিং বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে নয়। রস+আলোর বিশেষ সংখ্যার প্রচারণার অংশ হিসেবেই অভিনব কৌশলটি ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৬:৪৬
মালিক-শ্রমিকপক্ষের ঐকমত্য

১ জানুয়ারি বর্ধিত মজুরি পাবেন পোশাক শ্রমিকরা, মালিক-শ্রমিকপক্ষের ঐকমত্য

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে ফ্লোরিডায় ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিয়া ডান্ডিয়া

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে ফ্লোরিডায় ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিয়া ডান্ডিয়া

বাংলাদেশে শেনজেন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনেছে ঢাকার সুইডিশ দূতাবাস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ঢাকার সুইডিশ দূতাবাসে শেনজেন ভিসা সংক্রান্ত সহায়তা বন্ধ, নতুন নির্দেশনা জারি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের রায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। ছবি: সংগৃহীত
হাসিনার সম্পত্তির বিক্রির অর্ধেক অর্থ পাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত পলাতক আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের রায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বিক্রি করে পাওয়া অর্থ নিহতদের পরিবারের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাসহ যেসব দণ্ডিত পলাতক আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ রয়েছে, তাঁদের সম্পত্তি দ্রুত শনাক্ত করে সরকারের হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হবে।   চিফ প্রসিকিউটর জানান, শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফসহ প্রায় ১১ থেকে ১২ জন দণ্ডিত আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট রায় ও আদেশ যাচাই করে পর্যায়ক্রমে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।   তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের সময়সীমা রয়েছে। যেসব পলাতক আসামি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করেননি, তাঁদের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। ফলে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে আইনগত বাধা নেই বলে মনে করছে প্রসিকিউশন।   পলাতক আসামিরা নিজেদের সম্পত্তি বিক্রি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করে দিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন চিফ প্রসিকিউটর। এ কারণে রায় বাস্তবায়নের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সম্পত্তি শনাক্ত, মূল্যায়ন ও বিক্রির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের।   তবে বাজেয়াপ্তযোগ্য সম্পত্তির মোট পরিমাণ কিংবা আর্থিক মূল্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। চিফ প্রসিকিউটর জানান, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ এবং মূল্যায়নের পরই জানা যাবে কত অর্থ পাওয়া যেতে পারে। ফলে নিহতদের পরিবারগুলো কত টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।   এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই রায়ে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়। সেই আদেশ কার্যকর করার অংশ হিসেবেই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর গত এক বছরে দুটি ট্রাইব্যুনাল থেকে আটটি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৭২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। কারাগারে থাকা যেসব দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আপিল নিষ্পত্তির পর রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্ধারিত হবে।   সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমিনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যমান আইনি বিধানের আওতায় রায় বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আলাদা বিধিমালা তৈরি করা হলে কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজ হবে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর পর সম্পত্তি শনাক্ত, সরকারি হেফাজতে নেওয়া এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বিতরণের পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সম্পত্তি বিক্রি কিংবা নিহতদের পরিবারের মধ্যে অর্থ বিতরণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, এমন তথ্য জানানো হয়নি। সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট নিউজ

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ৮:৩৭
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

'পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশের হত্যার অধিকার আছে '- তথ্য উপদেষ্টা

রাজধানীর ডেমরায় একটি ইনসুলেশন কারখানা থেকে বিরল হালকা গোলাপি রঙের গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ডেমরায় কারখানা থেকে উদ্ধার বিরল হালকা গোলাপি রঙের গোখরা, লোকজন হতবাক

বাংলাদেশে জমা দেওয়া শেনজেন ভিসার আবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে

বাংলাদেশিদের শেনজেন ভিসার আবেদন নেবে না সুইডেন দূতাবাস ,জানাল বিকল্প নিয়ম

এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া যমজ দুই বোন রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বাবার দুঃখ ঘোচানোর স্বপ্ন, এইচএসসিতে যমজ দুই বোনেরই জিপিএ-৫

বাবার বেকারত্ব, সংসারে অভাব-অনটন আর নানা সীমাবদ্ধতা-সবকিছুকে পেছনে ফেলে সাফল্য অর্জন করেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার যমজ দুই বোন রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে দুজনই পেয়েছে জিপিএ-৫। রহিমা ও রাবেয়া উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রামকার্জি গ্রামের বাসিন্দা। তারা রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী।   কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৪২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র দুজন। তারা দুজনই যমজ বোন রহিমা ও রাবেয়া। এ ছাড়া উপজেলার সাতটি কলেজ, তিনটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চারটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারাই একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জনকারী।   তাদের বাবা মনির হোসেন সরদার রিজু ও মা নাসিমা বেগম। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট দুই মেয়ে রহিমা ও রাবেয়া। বাবা বেকার থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে চলছে তাদের সংসার। সীমিত আয়ের মধ্যে দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে মা-বাবাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে আর্থিক সংকট তাদের পড়াশোনায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।   এই যমজ দুই বোনের পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছেন কয়েকজন শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন, আহসান হাবিব ও সোহেল স্যার তাদের মধ্যে একজনকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ ভর্তি ও ফরম পূরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি উপবৃত্তিও পেয়েছে তারা।   মেয়েদের সাফল্যে আবেগাপ্লুত মা নাসিমা বেগম বলেছেন, "আমার স্বামী বেকার। অনেক কষ্ট করে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছি। প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন, আহসান হাবিব ও সোহেল স্যার দুই বোনের মধ্যে একজনকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ স্যার ভর্তি, ফরম পূরণসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে নামমাত্র টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া তারা উপবৃত্তিও পেয়েছে। সবার সহযোগিতা না পেলে হয়তো মেয়েদের পক্ষে এত ভালো ফল করা সম্ভব হতো না"।   নিজেদের পরিশ্রমের কথা জানিয়ে রহিমা ও রাবেয়া বলেছেন,"বাবার কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে আমরা ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়ে পড়াশোনা করেছি। কলেজে যাতায়াত ও খাওয়া-দাওয়ার সময়টুকু বাদে প্রায় সব সময়ই পড়াশোনা করতাম। ঘুমও হতো খুব সীমিত। এখন আমাদের স্বপ্ন, ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছি"।   কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহা. জহুরুল ইসলাম বলেছেন, "রাজারহাট উপজেলার ১৪টি কলেজের মধ্যে এই যমজ দুই বোনই মানবিক শাখা থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের এ অসাধারণ সাফল্যে আমরা আনন্দিত। কলেজের পক্ষ থেকে দুজনকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই"।   আর্থিক সংকটের মধ্যেও রহিমা ও রাবেয়ার এমন সাফল্য এলাকাবাসীকে গর্বিত করেছে। তাদের এই অর্জন এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে এবং স্বপ্নপূরণে সাহস জোগাবে-এমনটাই আশা করছেন স্থানীয়রা।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ২১:৫৪
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কুশ ল্যাব নিয়ন্ত্রণের  অভিযোগে  ঢাকায় গ্রেপ্তার তৌসিফ

ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মাধ্যমে কুশ ল্যাব নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, ঢাকায় গ্রেপ্তার তৌসিফ

আসামের ধানখেতে গ্যাস বেলুনসহ মিলল যুবদলের ব্যানার। ছবি: সংগৃহীত

আসামে দেখা গেল যুবদলের ব্যানার, চিন্তায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ

প্রেমের সম্পর্কে ব্যর্থ হয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন নাজমুল ইসলাম বাপ্পি

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ইউটিউব দেখে ইয়াবা কারখানা, টঙ্গীতে বাপ্পি গ্রেপ্তার

0 Comments