সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
তথ্যপ্রযুক্তি

খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১২:১৫
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা

সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম ইরানে উদ্ধার হওয়া ‘খাইবার’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আন্তর্জাতিক সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। গত ৪ ও ৫ আগস্ট উদ্ধার হওয়া এই যন্ত্রাংশগুলো বিশ্লেষণ করে এমন কিছু চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যা ইরানের প্রযুক্তিগত ও সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্রটির গাইডেন্স সিস্টেম এবং থার্মাল প্রটেকশন আর্কিটেকচার নিয়ে এতদিন যে অস্পষ্টতা ছিল, তা এই ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের পর অনেকটাই কাটতে শুরু করেছে।

 

বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বেশি মনোযোগ কেড়েছে ধ্বংসাবশেষে পাওয়া একটি ফোর-এলিমেন্ট কন্ট্রোলড রিসেপশন প্যাটার্ন অ্যান্টেনা বা সিআরপিএ (CRPA)। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক জ্যামিং একটি অতি সাধারণ অথচ কার্যকর কৌশল হলেও, এই সিআরপিএ প্রযুক্তির কারণে তীব্র জ্যামিংয়ের মুখেও ‘খাইবার’ তার লক্ষ্যপথে অবিচল থাকতে পারে। সাধারণ অ্যান্টেনার বদলে এটি একাধিক দিক থেকে আসা সংকেতের শক্তি বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। ফলে আকাশপথে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হলেও স্যাটেলাইট নেভিগেশনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা একেবারেই কম।

 

ক্ষেপণাস্ত্রটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর বহুমুখী স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অসামান্য সক্ষমতা। এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএস (GPS) বা রাশিয়ার গ্লোনাস (GLONASS)-এর ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং ইউরোপের গ্যালিলিও (Galileo) এবং চীনের বেইদু (Beidou) নেটওয়ার্কের সুবিধাও একযোগে কাজে লাগাতে পারে। এর মানে দাঁড়ায়, সংঘাতের সময় শত্রুপক্ষ যদি নির্দিষ্ট কোনো স্যাটেলাইট ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করেও দেয়, তবুও বিকল্প উপায়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। এর সাথে ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (INS) যুক্ত থাকায় দীর্ঘপথে বিচ্যুতির হারও ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে আসে। রাতের বেলা বা বৈরী আবহাওয়ায় কমান্ড সেন্টার কিংবা রাডার স্টেশনের মতো সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর।

 

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের কাছে আরও বেশি ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রটির টার্মিনাল ফেজ বা উড্ডয়নের শেষ ধাপ। দাবি করা হচ্ছে, খাইবার-এর ট্রাইকনিক ম্যানুভারেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকেল (MaRV) বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় প্রচণ্ড দ্রুতগতিতে নিজের অবস্থান ও গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। হঠাৎ উচ্চতা বা দিক পরিবর্তনের এই অভাবনীয় সক্ষমতার কারণে প্যাট্রিয়ট, থাড কিংবা অ্যারো-এর মতো অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর পক্ষেও এর গতিপথ অনুমান করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা সব সময় কতটা নিখুঁতভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত উপসংহার টানতে নারাজ অনেক বিশেষজ্ঞ।

 

এদিকে, উদ্ধার হওয়া অ্যান্টেনার নকশার সঙ্গে চীনের একটি বাণিজ্যিক মাল্টি-জিএনএসএস অ্যান্টি-জ্যামিং সিস্টেমের দৃশ্যত মিল পাওয়া গেছে। তবে একে সরাসরি চীনের কোনো সামরিক সহায়তা হিসেবে দেখতে রাজি নন অধিকাংশ বিশ্লেষক। তাদের মতে, তেহরান সম্ভবত বেসামরিক বা বাণিজ্যিক সাপ্লাই চেইন ব্যবহার করে এই প্রযুক্তি সংগ্রহ করেছে এবং পরবর্তীতে নিজস্ব দক্ষতায় রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের সামরিক সরঞ্জামে তা সফলভাবে যুক্ত করেছে। এই ধ্বংসাবশেষ অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করে যে, বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য প্রযুক্তি এবং দীর্ঘদিনের সামরিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইরান তাদের সমরাস্ত্রকে প্রতিনিয়ত নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এ ধরনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কেবল আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যকেই প্রভাবিত করবে না, বরং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের হিসাব-নিকাশেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
দুই লাখ টাকার আইটি প্রশিক্ষণ বিনা খরচে
দুই লাখ টাকার আইটি প্রশিক্ষণ বিনা খরচে, আবেদন করতে পারবেন যেভাবে

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতা অর্জন করে নিজের কর্মজীবন গড়ে তুলতে আগ্রহী তরুণদের জন্য এসেছে বড় সুযোগ। প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়মূল্যের আন্তর্জাতিক মানের আইটি প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-বাংলাদেশ ইসলামিক সলিডারিটি এডুকেশন ওয়াক্ফ (আইএসডিবি-বিআইএসইডব্লিউ)। প্রতিষ্ঠানটির আইটি স্কলারশিপ প্রোগ্রামের ৭৫তম রাউন্ডে ভর্তির জন্য আবেদন গ্রহণ চলছে। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য রয়েছে প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থনে সহযোগিতার সুযোগ।   কারা আবেদন করতে পারবেন?   এই কর্মসূচিতে মূলত নন-আইটি শিক্ষাগত পটভূমির যোগ্য মুসলিম তরুণদের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। স্নাতক বা সমমান পাস এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।   আবেদনকারীর বয়স ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩০ বছর হতে হবে। কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক ও আইনজীবীরা এই স্কলারশিপের জন্য যোগ্য নন। আগের কোনো রাউন্ডে এই কর্মসূচির কোর্সে অংশগ্রহণকারীরাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না।   যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে   স্নাতক ও সমমান ডিগ্রিধারীদের জন্য রয়েছে ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, ক্রস-প্ল্যাটফর্ম অ্যাপস, ওরাকল ডেটাবেজ অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্ক সলিউশন ও সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং গ্রাফিকস, অ্যানিমেশন ও ভিডিও এডিটিং।   অন্যদিকে, চার বছর মেয়াদি নির্দিষ্ট ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য রয়েছে আর্কিটেকচারাল অ্যান্ড সিভিল ক্যাড, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্ক সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, গ্রাফিকস ও মোশন গ্রাফিকস, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং থ্রি-ডি ভিজুয়ালাইজেশনের মতো কোর্স।   প্রশিক্ষণের সুযোগ-সুবিধা   আইএসডিবি-বিআইএসইডব্লিউর তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রশিক্ষণার্থীর পেছনে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এই অর্থ সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠান বহন করে। কোর্সের মেয়াদ সর্বোচ্চ সাড়ে আট মাস। প্রশিক্ষণ শেষে সফল শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্লেসমেন্ট সেল সহযোগিতা করে।তবে প্রশিক্ষণ শেষ করলেই চাকরি নিশ্চিত নয়। যোগ্যতা ও নিয়োগদাতার চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সহযোগিতা করা হয়।   আবেদন করবেন যেভাবে আগ্রহীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার নিয়ম হলো— ১. প্রথমে আইএসডিবি-বিআইএসইডব্লিউর নির্ধারিত আবেদন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। ২. আবেদন করার আগে ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশনা ও প্রশ্নোত্তর অংশ ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে। ৩. নিজের নাম, জন্মতারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রতিষ্ঠানের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। ৪. নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি আপলোড করতে হবে। ৫. আবেদন ফরম জমা দেওয়ার পর বিকাশের মাধ্যমে ১০০ টাকা আবেদন ফি পরিশোধ করতে হবে। ৬. আবেদন সম্পন্ন হলে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে হবে।     আবেদনের শেষ তারিখ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আইএসডিবি-বিআইএসইডব্লিউর অনলাইন আবেদন পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ৭৫তম রাউন্ডে আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬। প্রার্থী বাছাই করা হবে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে। লিখিত পরীক্ষায় গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে এমসিকিউ পদ্ধতিতে প্রশ্ন করা হবে। পরীক্ষা এবং প্রশিক্ষণ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। তাই ঢাকায় গিয়ে পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি থাকতে হবে। আবেদনসংক্রান্ত সহযোগিতার জন্য ০১৭১৯০০৭১০৭ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। আবেদনের ওয়েবসাইট: https://apply.idb-bisew.info/

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৭:২৪
ফ্লোরিডায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে এয়ার ট্যাক্সি

ফ্লোরিডায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে এয়ার ট্যাক্সি, সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে উড়বে টাম্পা পর্যন্ত

টেসলার একটি সাইবারক্যাব

টেসলার একটি সাইবারক্যাব থেকে বছরে ৫০ হাজার ডলার মুনাফার সম্ভাবনা

মোড় নেওয়ার সময় পথচারীদের সতর্ক করার প্রযুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিউ ইয়র্কের বাসে বদলে যাচ্ছে নিরাপত্তা, চালু হচ্ছে সংঘর্ষ প্রতিরোধ প্রযুক্তি

৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের
এআইয়ে বিপুল বিনিয়োগের চাপ, ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সংখ্যাটি মাইক্রোসফটের মোট বৈশ্বিক কর্মীসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তবে এটি সরাসরি কর্মী ছাঁটাই নয়। যোগ্য কর্মীরা চাইলে নির্দিষ্ট আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।   মাইক্রোসফটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ভলান্টারি এক্সিট অফার। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ভারতে কর্মরত নির্দিষ্ট বিভাগের কর্মীরা এই সুযোগ পাবেন। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ পদমর্যাদার ৭০ বা তার নিচের স্তরের কর্মীরা এতে অংশ নিতে পারবেন। কিছু ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাও এই কর্মসূচির আওতায় পড়ছেন। মাইক্রোসফটের চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় জানান, যাঁরা প্রতিষ্ঠানের বাইরে নতুন ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এই সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন। তবে প্রতিষ্ঠানের সব বিভাগ এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট বিভাগের ব্যবসায়িক প্রয়োজন ও কর্মী ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে।   প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে বিশ্বজুড়ে মাইক্রোসফটের পূর্ণকালীন কর্মী ছিলেন প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার কর্মী নতুন প্রস্তাবের আওতায় পড়লেও সবাই চাকরি ছাড়বেন, এমন নয়। কতজন কর্মী শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যোগ্য কর্মীদের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। যাঁরা প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, তাঁদের চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠান ছাড়ার কথা রয়েছে। চাকরির মেয়াদ ও পদমর্যাদার ভিত্তিতে আর্থিক সুবিধার পরিমাণ নির্ধারিত হবে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের বেতন, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং ক্যারিয়ার পরিবর্তনে সহায়তার মতো সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এদিকে মাইক্রোসফটের নতুন সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এল, যখন প্রতিষ্ঠানটি এআই প্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার এবং ক্লাউড অবকাঠামোয় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। এই খাতে ব্যয় বাড়ার কারণে পরিচালন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার চাপও তৈরি হয়েছে। তবে নতুন স্বেচ্ছা প্রস্থান কর্মসূচির কারণ হিসেবে মাইক্রোসফট সরাসরি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কর্মীদের প্রতিস্থাপনের কথা বলেনি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পরিবর্তিত ব্যবসায়িক প্রয়োজনের সঙ্গে কর্মী ব্যবস্থাপনাকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই উদ্যোগ।   এর আগে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮ হাজার ৭৫০ কর্মীকে স্বেচ্ছায় অবসরের সুযোগ দিয়েছিল মাইক্রোসফট। ওই কর্মসূচিতে প্রায় ৩০ শতাংশ যোগ্য কর্মী অংশ নেন। পরে জুলাই মাসে আরও প্রায় ৪ হাজার ৮০০ পদ বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এসব সিদ্ধান্তের ফলে মাইক্রোসফটের কর্মীসংখ্যায় পরিবর্তন এসেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিপুল ব্যয় সামলাতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কর্মী ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন খরচ নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে। মাইক্রোসফটের সর্বশেষ উদ্যোগও সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ। তবে ৬০ হাজার কর্মীকে চাকরি ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে কতজন এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন এবং প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীসংখ্যা কতটা কমবে, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ২:১২
বাজারে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুওর পর্দায় ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

আইফোন ডুওর ডিসপ্লের ত্রুটি স্বীকার করল অ্যাপল, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের নতুন ফোন দেওয়ার ঘোষণা

ইক্রোসফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান

মাইক্রোসফটের ৬০ হাজার কর্মীকে চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব, মিলবে আর্থিক সুবিধা

বাংলাদেশি প্রকৌশলী তারেক সরোয়ার

ইলন মাস্কের টেসলা রোডস্টারের গবেষণায়  বাংলাদেশের বুয়েটের তারেক সরোয়ার! জানালেন অভিজ্ঞতা

আইফোন ডুও
বাজারে আসার কয়েক ঘণ্টায় আইফোন ডুওর মজুত শেষ, পুনর্বিক্রিতে দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ হাজার ডলার!

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং ফোন আইফোন ডুও বাজারে আসার দিনই পুনর্বিক্রির বিজ্ঞাপনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার দাম চাওয়া হয়েছে। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার বিক্রি শুরুর পর নিউইয়র্কের অ্যাপল স্টোরগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরাসরি দোকানে আসা ক্রেতাদের জন্য বরাদ্দ ফোনের মজুত শেষ হয়ে যায়। এরপর ইবে ও ক্রেইগসলিস্টে বাড়তি দামে ফোনটি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যায়।      ক্রেইগসলিস্টে নিউইয়র্কের এক বিক্রেতা আইফোন ডুওর দাম চেয়েছেন ৭ হাজার ৯৯৯ ডলার। তবে বিজ্ঞাপনে চাওয়া দাম আর বাস্তবে বিক্রি হওয়া দাম এক বিষয় নয়। সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলারের বিজ্ঞাপন পাওয়া গেলেও সেই দামে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এই অঙ্ককে ফোনটির নিয়মিত বাজারদর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।    যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ডুওর ২৫৬ জিবি মডেলের নির্ধারিত দাম শুরু ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট স্টোরেজের সংস্করণের দাম ৩ হাজার ১৯৯ ডলার। ব্যারনসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন কিছু অর্ডারের সম্ভাব্য ডেলিভারি সময় জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত পিছিয়েছে। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পেছনে ক্রেতার চাহিদার পাশাপাশি সরবরাহের সীমাবদ্ধতাও ভূমিকা রাখতে পারে।      অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর ফোনটির প্রি অর্ডার শুরু হয়। বন্ধ অবস্থায় এতে রয়েছে ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে। খুললে ভেতরের বড় পর্দায় ভিডিও দেখা, গেম খেলা ও একাধিক কাজ করার সুবিধা পাওয়া যায়। অ্যাপল জানিয়েছে, খোলা অবস্থায় এর ভেতরের ডিসপ্লের আয়তন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের ডিসপ্লের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।      ফোনটিতে এ২০ প্রো চিপ এবং দুটি ব্যাটারির সমন্বিত কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। ফোল্ডিং নকশার সঙ্গে মানিয়ে পর্দা বদলানো ও পাশাপাশি দুটি অ্যাপ চালানোর সুবিধাও রয়েছে। তবে নতুন নকশার বড় পর্দার জন্য সব অ্যাপের ব্যবহার এখনো সমানভাবে উপযোগী হয়নি বলে প্রাথমিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। বাজারে আসার প্রথম দিনের আগ্রহের পাশাপাশি সফটওয়্যার কতটা মানিয়ে নিতে পারে, সেটিও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকছে। 

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ২:৪৯
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোন ‘ডুয়ো’

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোন ‘ডুয়ো’ কিনতে বিশ্বজুড়ে ক্রেতাদের ভিড়

ডালাস ও ফোর্ট ওয়ার্থ, অস্টিন এবং হিউস্টনকে ঘিরে তিনটি এয়ার ট্যাক্সি নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা

ডালাসসহ টেক্সাসের তিন অঞ্চলে এয়ার ট্যাক্সি চালুর নতুন পরিকল্পনা আর্চার এভিয়েশনের

ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস

এক্সে ১৫ ভিডিওতে বোনাসের সুযোগ, নেই কোন ফলোয়ারের শর্ত

0 Comments