খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম ইরানে উদ্ধার হওয়া ‘খাইবার’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আন্তর্জাতিক সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। গত ৪ ও ৫ আগস্ট উদ্ধার হওয়া এই যন্ত্রাংশগুলো বিশ্লেষণ করে এমন কিছু চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যা ইরানের প্রযুক্তিগত ও সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্রটির গাইডেন্স সিস্টেম এবং থার্মাল প্রটেকশন আর্কিটেকচার নিয়ে এতদিন যে অস্পষ্টতা ছিল, তা এই ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের পর অনেকটাই কাটতে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বেশি মনোযোগ কেড়েছে ধ্বংসাবশেষে পাওয়া একটি ফোর-এলিমেন্ট কন্ট্রোলড রিসেপশন প্যাটার্ন অ্যান্টেনা বা সিআরপিএ (CRPA)। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক জ্যামিং একটি অতি সাধারণ অথচ কার্যকর কৌশল হলেও, এই সিআরপিএ প্রযুক্তির কারণে তীব্র জ্যামিংয়ের মুখেও ‘খাইবার’ তার লক্ষ্যপথে অবিচল থাকতে পারে। সাধারণ অ্যান্টেনার বদলে এটি একাধিক দিক থেকে আসা সংকেতের শক্তি বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। ফলে আকাশপথে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হলেও স্যাটেলাইট নেভিগেশনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা একেবারেই কম।
ক্ষেপণাস্ত্রটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর বহুমুখী স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অসামান্য সক্ষমতা। এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএস (GPS) বা রাশিয়ার গ্লোনাস (GLONASS)-এর ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং ইউরোপের গ্যালিলিও (Galileo) এবং চীনের বেইদু (Beidou) নেটওয়ার্কের সুবিধাও একযোগে কাজে লাগাতে পারে। এর মানে দাঁড়ায়, সংঘাতের সময় শত্রুপক্ষ যদি নির্দিষ্ট কোনো স্যাটেলাইট ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করেও দেয়, তবুও বিকল্প উপায়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। এর সাথে ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (INS) যুক্ত থাকায় দীর্ঘপথে বিচ্যুতির হারও ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে আসে। রাতের বেলা বা বৈরী আবহাওয়ায় কমান্ড সেন্টার কিংবা রাডার স্টেশনের মতো সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের কাছে আরও বেশি ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রটির টার্মিনাল ফেজ বা উড্ডয়নের শেষ ধাপ। দাবি করা হচ্ছে, খাইবার-এর ট্রাইকনিক ম্যানুভারেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকেল (MaRV) বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় প্রচণ্ড দ্রুতগতিতে নিজের অবস্থান ও গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। হঠাৎ উচ্চতা বা দিক পরিবর্তনের এই অভাবনীয় সক্ষমতার কারণে প্যাট্রিয়ট, থাড কিংবা অ্যারো-এর মতো অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর পক্ষেও এর গতিপথ অনুমান করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা সব সময় কতটা নিখুঁতভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত উপসংহার টানতে নারাজ অনেক বিশেষজ্ঞ।
এদিকে, উদ্ধার হওয়া অ্যান্টেনার নকশার সঙ্গে চীনের একটি বাণিজ্যিক মাল্টি-জিএনএসএস অ্যান্টি-জ্যামিং সিস্টেমের দৃশ্যত মিল পাওয়া গেছে। তবে একে সরাসরি চীনের কোনো সামরিক সহায়তা হিসেবে দেখতে রাজি নন অধিকাংশ বিশ্লেষক। তাদের মতে, তেহরান সম্ভবত বেসামরিক বা বাণিজ্যিক সাপ্লাই চেইন ব্যবহার করে এই প্রযুক্তি সংগ্রহ করেছে এবং পরবর্তীতে নিজস্ব দক্ষতায় রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের সামরিক সরঞ্জামে তা সফলভাবে যুক্ত করেছে। এই ধ্বংসাবশেষ অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করে যে, বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য প্রযুক্তি এবং দীর্ঘদিনের সামরিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইরান তাদের সমরাস্ত্রকে প্রতিনিয়ত নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এ ধরনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কেবল আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যকেই প্রভাবিত করবে না, বরং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের হিসাব-নিকাশেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
তথ্যপ্রযুক্তি
View moreনির্দিষ্ট কিছু আইফোন মডেলের মালিকদের জন্য সুখবর। অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট তহবিল থেকে অর্থ পেতে যোগ্য গ্রাহকরা এখন আবেদন জমা দিতে পারবেন। অ্যাপলের বিরুদ্ধে করা একটি শ্রেণি-অ্যাকশন মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেটেলমেন্টের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, যোগ্য আইফোন মালিকরা প্রতি ডিভাইসের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫ ডলার পেতে পারেন। তবে মোট কতজন আবেদন করেন এবং অন্যান্য কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে প্রতি ডিভাইসে অর্থের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই সেটেলমেন্টের আওতায় রয়েছে আইফোন ১৬-এর সব সংস্করণ। এর পাশাপাশি আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্সও তালিকায় রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ফোনগুলো ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে বিক্রি করা হয়ে থাকতে হবে। তবে শুধু তালিকাভুক্ত মডেলের আইফোন থাকলেই অর্থ পাওয়া যাবে না। আবেদনকারীকে ফোনটির মূল মালিক হতে হবে এবং ডিভাইসটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কেনা হয়ে থাকতে হবে। অর্থাৎ ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কেনা ফোন এই সেটেলমেন্টের আওতায় পড়বে না। যোগ্য আইফোন মালিকরা ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন জমা দিতে পারছেন। আবেদন করার শেষ সময় ২১ ডিসেম্বর। একই সময়ের মধ্যে কেউ চাইলে শ্রেণি-অ্যাকশন মামলার অংশ না হওয়ার সিদ্ধান্তও জানাতে পারবেন। অ্যাপলের বিরুদ্ধে করা মামলাটির সূত্রপাত মূলত সিরির কিছু উন্নত ফিচার নিয়ে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, অ্যাপল এমন কিছু ফিচার নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিল, যেগুলো তখনও ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হয়নি। এতে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মামলার নথিতে দাবি করা হয়—ক্রেতারা যদি জানতেন যে উন্নত সিরির ফিচারগুলো ডিভাইসে পাওয়া যাবে না, তাহলে তারা সংশ্লিষ্ট আইফোন কিনতেন না অথবা এর জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে কম দাম দিতেন। তবে অ্যাপল কোনো ভুল স্বীকার না করেই মামলাটি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুটি অতিরিক্ত ফিচারের প্রাপ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সমাধান করতেই তারা এই নিষ্পত্তিতে গেছে। একই সঙ্গে অ্যাপল জানিয়েছে, তারা নতুন পণ্য ও সেবা তৈরিতে মনোযোগ ধরে রাখতে চায়। সব আবেদন জমা পড়ার পর আদালতে এই সেটেলমেন্ট নিয়ে শুনানি হবে। সেটেলমেন্টটি ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও যথাযথ কি না, তা আদালত পর্যালোচনা করবে। বর্তমানে ওই শুনানি ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে।
অ্যাপলের ২৫ কোটি ডলারের মামলার নিষ্পত্তি, আইফোন ব্যবহারকারীরা পেতে পারেন ৯৫ ডলার পর্যন্ত
অস্ট্রেলিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা নিয়ে টিম কুকের প্রশংসা, নজরে শিশুদের নিরাপত্তা
তরুণদের সৃষ্টিশীলতার জায়গা দখল করছে এআই! হুঁশিয়ার না হলে যা হবে
কল্পবিজ্ঞানের দৃশ্য এবার বাস্তব কারখানায়। চীনের গুয়াংশি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের লিউঝৌয়ে ইউবিটেক রোবোটিকসের নতুন শিল্প হিউম্যানয়েড রোবট কারখানায় রোবটই অন্য রোবট তৈরির কাজে যুক্ত হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কারখানাটি উৎপাদনে যায়। পরিকল্পিত উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী, প্রতি ১০ মিনিটে একটি শিল্প হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদন করা সম্ভব হবে এবং বছরে ১০ হাজারের বেশি রোবট তৈরির সক্ষমতা রাখা হয়েছে। লিউঝৌয়ের উত্তরাঞ্চলীয় ইকোলজিক্যাল নিউ ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত এই কারখানার আয়তন প্রায় ১৪ হাজার বর্গমিটার এবং ভবনটির উচ্চতা ১৩ দশমিক ৮ মিটার। এখানে মূলত ইউবিটেকের ওয়াকার এস এবং ক্রুজার সিরিজের শিল্প হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি ১০ হাজার ইউনিট বা তার বেশি বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতার জন্য তৈরি বিশ্বের প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট স্মার্ট কারখানা। কারখানাটির বিশেষত্ব শুধু দ্রুত উৎপাদন নয়, বরং উৎপাদন প্রক্রিয়াতেই হিউম্যানয়েড রোবটের ব্যবহার। ক্রুজার ওয়াই১ ও ক্রুজার এস২ মডেলের রোবটগুলো যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য উপকরণ নামানো, স্তূপ করা, তোলা এবং উৎপাদন লাইনে সরবরাহের মতো কাজে যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি সহযোগী রোবোটিক বাহু, চালকবিহীন পরিবহন যান এবং অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় সরঞ্জামও চূড়ান্ত সংযোজনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। পুরো উৎপাদন ব্যবস্থা পরিচালনায় ব্যবহার করা হচ্ছে একটি ডিজিটাল ‘স্মার্ট ব্রেইন’। এর মাধ্যমে উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ সমন্বয়, যন্ত্রাংশের চলাচল এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। ইউবিটেকের সঙ্গে সিমেন্সও এই হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদনের জন্য বিশেষ ডিজিটাল উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরিতে কাজ করেছে। শিল্প কারখানার ভার্চুয়াল মডেল ব্যবহার করে উৎপাদন প্রক্রিয়া আগে থেকেই পরীক্ষা ও পরিকল্পনা করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই ধরনের ব্যবস্থা হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিকে পরীক্ষামূলক বা ছোট পরিসরের উৎপাদন থেকে বড় পরিসরের বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে হিউম্যানয়েড রোবটের ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশের সংখ্যা বেশি, সংযোজনের কাজ তুলনামূলক জটিল এবং মডেল দ্রুত পরিবর্তিত হয়। তাই একই উৎপাদন ব্যবস্থায় বিভিন্ন মডেল তৈরি করতে সক্ষম নমনীয় কারখানা প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। চীনে রোবট উৎপাদন বৃদ্ধির পরিসংখ্যানও এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে চীনে ৯৮ হাজার ৬৭৭টি শিল্প রোবট উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শিল্প রোবটের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬টি, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। আগস্টের পরিসংখ্যানেও এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, আগস্টে চীনে ৯৬ হাজার ১৭৪টি শিল্প রোবট উৎপাদিত হয়েছে, যা এক বছর আগের একই মাসের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৫২টি, যা বার্ষিক হিসাবে ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি। ফলে লিউঝৌয়ের নতুন কারখানাটি শুধু একটি নতুন উৎপাদন কেন্দ্র নয়, রোবট শিল্পের উৎপাদন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হিসেবেও সামনে এসেছে। যেখানে একসময় মানুষের হাতে তৈরি রোবটই ছিল স্বাভাবিক চিত্র, সেখানে এখন রোবটকে উৎপাদন লাইনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ব্যবহার করে পরবর্তী প্রজন্মের রোবট তৈরি করার দিকে এগোচ্ছে শিল্পখাত।
ভবিষ্যতে মানুষের নিয়ন্ত্রণে না থাকার নির্দেশ নিজেই নিজেকে দিল এআই! ধরা পড়ল পরীক্ষায়
‘মৃত মাকে এআই দিয়ে তৈরি করে কথা বলি’, শোক পালন বদলে দিচ্ছে ‘এআই ঘোস্ট’ ও ডেথস্লপ
ফেসবুকে শুধু সময় কাটানো নয়, নিজের প্রোফাইল থেকেই আয়ের সুযোগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং যথাযথ নজরদারি না থাকলে এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এআইকে রাজনৈতিক এজেন্ডার অন্যতম প্রধান বিষয় করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ১০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেশনাল ক্যাম্পেইন কমিটির একটি ব্যক্তিগত তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিসের সঙ্গে আলোচনায় এসব কথা বলেন ওবামা। তার বক্তব্যের আংশিক প্রতিলিপি পরে তার কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হয় এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তা প্রকাশ করে। ওবামার মূল উদ্বেগ এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং এর বড় একটি অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকা। তিনি বলেন, প্রযুক্তিটি খুব দ্রুত এগোচ্ছে এবং এর ওপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা না গেলে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। তবে যথাযথভাবে পরিচালনা করা গেলে এআই মানুষের জন্য বড় ধরনের সুফলও বয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এআইয়ের সম্ভাব্য ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। তার মতে, প্রযুক্তিটি ওষুধ তৈরির গবেষণাকে দ্রুত এগিয়ে দিতে পারে এবং রোগ নিরাময়ের নতুন পথ তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থার পথ খুঁজতেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে ওবামার উদ্বেগ শুধু প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে নয়। এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর সম্ভাবনা, শিশুদের ওপর এর প্রভাব, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয় মানুষের উদ্বেগকেও রাজনৈতিক আলোচনার অংশ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের এআই নিয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন ওবামা। ডেমোক্র্যাটরা যদি আগামী নভেম্বরে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পায়, তাহলে এআই নিয়ে একটি বিস্তৃত ও প্রকাশ্য নীতিগত আলোচনা শুরু করার জন্য জেফরিসকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ওবামা। তবে জেফরিস এখনো হাউসের স্পিকার নন; তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেই তিনি সেই পদে যেতে পারেন। এআই ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী এআই ও ডেটা সেন্টার নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। ভোটারদের মধ্যে চাকরি, বিদ্যুৎ খরচ, গোপনীয়তা এবং এআইয়ের সামাজিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও এআই নিয়ে নীতিগত অবস্থান তৈরির চাপ বাড়ছে। এর আগে দলটির কয়েকজন সাবেক নির্বাচনী কৌশলবিদ ও এআই নিরাপত্তা সমর্থক মিলে ‘টুমরো টুগেদার’ নামে একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি গঠন করেছেন, যার লক্ষ্য এআই নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের নীতিগত অবস্থান আরও স্পষ্ট করা। সূত্র: রয়টার্স, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
অ্যাপলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অ্যাপ ডেভেলপারদের ২৭০ কোটি ডলারের মামলা
মানুষের জন্য এআইয়ের সবচেয়ে বড় বিপদ কোথায়, জানাল এআইই