সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুর ভয়াবহ থাবা, ১৭ দিনে ৭৯ মৃত্যু, হাসপাতালে বাড়ছে রোগী
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সেপ্টেম্বর মাসে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১৭ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২ হাজার ৫৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইউএনবি ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনের মৃত্যুর সংখ্যাই চলতি বছরের যেকোনো মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ।
চলতি বছরের শুরু থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে দুইজন, ফেব্রুয়ারিতে দুইজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। মার্চ ও এপ্রিল মাসে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনেই ৭৯ জনের মৃত্যু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির চিত্র তুলে ধরছে। হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মোট ডেঙ্গু মৃত্যুর প্রায় ৪৫ শতাংশই ঘটেছে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনে।
রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনে ২২ হাজার ৫৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগের পুরো আগস্ট মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২২ হাজার ৫৩৬ জন। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের মাত্র ১৭ দিনেই আগস্টের পুরো মাসের রোগীসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এ পরিসংখ্যান থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কত দ্রুত বেড়েছে তার একটি ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
শুধু মৃত্যুর সামগ্রিক সংখ্যা নয়, দৈনিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে। ৮ সেপ্টেম্বর এক দিনেই নয়জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়, যা চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। সেপ্টেম্বরের বিভিন্ন দিনে নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর খবরও এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৪৮৪ জন রোগী ভর্তি হন। পাঁচজন মৃতের মধ্যে চারজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে এবং একজন রংপুর বিভাগের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এই পাঁচজনের মৃত্যুর পর চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৬। আর বছরের শুরু থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা পৌঁছায় ৫৮ হাজার ৪০০ জনে। এর মধ্যে ৫৪ হাজার ৯২ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। ১৭ সেপ্টেম্বরের হিসাবে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তখনও ৪ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক সমস্যা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। সর্বশেষ পাঁচ মৃত্যুর একটি রংপুর বিভাগে হওয়ার তথ্যও দেখায় যে ডেঙ্গুর গুরুতর প্রভাব ঢাকার বাইরেও রয়েছে। তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ মৃত্যুর চারটিই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় হওয়ায় রাজধানীতে পরিস্থিতির গুরুত্বও স্পষ্ট।
ডেঙ্গু মূলত এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। এডিস মশার প্রজননের জন্য বাসাবাড়ি বা আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানির ছোট ছোট উৎস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে শুধু বড় জলাশয় পরিষ্কার করলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ শেষ হয় না। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশ কিংবা পানি জমে থাকতে পারে—এমন জায়গাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বরকে অবহেলা না করাও জরুরি। বিশেষ করে তীব্র জ্বরের পাশাপাশি মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বা অন্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ডেঙ্গু শনাক্ত হলে রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ। গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের কার্যকারিতাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করা না গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদেরও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়।
সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর দ্রুত বৃদ্ধি। আগস্টের পুরো মাসে ২২ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেপ্টেম্বরের মাত্র ১৭ দিনেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে ২২ হাজার ৫৫৪ জনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে বছরের মোট ১৭৬ মৃত্যুর মধ্যে ৭৯টিই ঘটেছে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনে।
পরিস্থিতি সামনের দিনগুলোতে কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে নতুন সংক্রমণের প্রবণতা, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, আবহাওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিরা কত দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন—এসব বিষয়ের ওপর। আপাতত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান স্পষ্ট করছে যে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে চলতি বছরের ডেঙ্গুর সবচেয়ে গুরুতর মাস হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে একদিকে অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি এবং অন্যদিকে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বাসাবাড়িতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা—সবগুলো বিষয়ই এখন সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।
চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ পরিসংখ্যান তাই সাধারণ মানুষের জন্যও সতর্কবার্তা। সেপ্টেম্বরের বাকি দিনগুলোতে সংক্রমণের প্রবণতা কমে আসে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে প্রথম ১৭ দিনের তথ্য বলছে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় এখনই সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreপরিস্থিতি তৈরি হলে আইনের আওতায় পুলিশের প্রাণঘাতী বল প্রয়োগের অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে বিক্ষোভ দমনে বিগত সরকারের মতো অতিরিক্ত বল প্রয়োগ বর্তমান বিএনপি সরকার চায় না বলেও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক জানতে চান, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকার পরও সরকার কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার একটি নতুন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাইছে। তাঁর প্রত্যাশা, বাংলাদেশের পুলিশ আর বিগত সরকারের সময়ের মতো আচরণ করবে না। পুলিশের ক্ষমতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী প্রাণঘাতী বল প্রয়োগের অধিকার পুলিশের রয়েছে। তবে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের অসামঞ্জস্যপূর্ণ বল প্রয়োগের কিছু ঘটনাও তাঁর নজরে এসেছে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আন্দোলনকারী কিংবা সন্দেহভাজন ব্যক্তি যে পরিচয়েরই হোক না কেন, তাঁরা রাষ্ট্রের নাগরিক। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। অতীতে যেভাবে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করা হয়েছে, বর্তমান সরকার সেই পদ্ধতি অনুসরণ করতে চায় না বলে জানান তিনি। পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান স্বীকার করেন, শুরুতে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ছিল। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির কারণে তাঁদের আর্থিক চাপ বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে বলে জানান তিনি। তবে শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অন্য কোনো পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য রয়েছে। আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো নতুন প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়নি। জাহেদ উর রহমান আশা প্রকাশ করেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর প্রকৃত শ্রমিকেরা আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের দাবি সমাধানের সুযোগ পাবেন এবং চলমান বিক্ষোভ দ্রুত শেষ হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
ঢাকার ডেমরায় কারখানা থেকে উদ্ধার বিরল হালকা গোলাপি রঙের গোখরা, লোকজন হতবাক
বাংলাদেশিদের শেনজেন ভিসার আবেদন নেবে না সুইডেন দূতাবাস ,জানাল বিকল্প নিয়ম
বাবার দুঃখ ঘোচানোর স্বপ্ন, এইচএসসিতে যমজ দুই বোনেরই জিপিএ-৫
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসে ঢাকার ওয়ারীতে নিজের বাসায় স্থাপিত ‘কুশ’ চাষের ল্যাব নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে তৌসিফ হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। রোববার ( ১ নভেম্বর) সকালে ওয়ারীর র্যাংকিন স্ট্রিটের বাসা থেকে ২২ বছর বয়সী এই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএনসির অভিযোগ, বিদেশে অবস্থানের সময়ও দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মাধ্যমে ওই ল্যাবের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও কার্যক্রম তদারকি করতেন তিনি। আগের মাদক মামলায় তাঁকে পলাতক আসামি করা হয়েছিল। ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি দল সকাল সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তৌসিফকে গ্রেপ্তার করে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে তাঁর কাছ থেকে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁর ডোপ টেস্টও করা হয়। ডিএনসির ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় মেথামফিটামিন ও ক্যানাবিনয়েডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা মাদক নিজের হেফাজতে রাখার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন মামলা হয়েছে। ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ইয়াবা পাঠানোর চেষ্টার তদন্ত করতে গিয়ে তৌসিফের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ওয়ারীতে তাঁর বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে ঘরের ভেতর কুশ চাষের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ল্যাবের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। ওই সময় তৌসিফকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এরপর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির অভিযানে বাসা থেকে কুশের বীজ, চাষ করা গাছ, সদ্য সংগ্রহ করা কুশ এবং চাষের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছিল। বাসার ছাদেও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত একটি বিশেষ কক্ষে একাধিক টবে চাষের ব্যবস্থা পাওয়া যায়। ডিএনসির অভিযোগ, তৌসিফ ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থানের সময় এ ধরনের চাষের কৌশল শেখেন এবং পরে দেশে এসে নিজের বাসায় ওই ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। বিদেশে ফিরে যাওয়ার পরও প্রযুক্তির মাধ্যমে সেখানকার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতেন তিনি। একই তদন্তে তৌসিফের এক বান্ধবীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠে আসে। ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ৩২টি ইয়াবা ক্যালিফোর্নিয়ায় তৌসিফের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কুরিয়ার কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ওই নারীকে শনাক্ত করা হয়। পরে ঢাকার খিলগাঁও থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তৌসিফের বাসার তত্ত্বাবধায়ককেও গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছিল। ডিএনসির উপপরিচালক মেহেদী হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তৌসিফ ঢাকার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে ইয়াবা ও কুশ সরবরাহে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন। মাদক সংগ্রহ ও সরবরাহের উৎস এবং এই কার্যক্রমে অন্য কারা যুক্ত ছিলেন, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তৌসিফ বা তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দেওয়ার বিষয়টি ডিএনসির কর্মকর্তাদের বক্তব্য হিসেবে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবা ও গাঁজা নিজের হেফাজতে রাখার অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ওয়ারী থানায় নতুন মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি। পাশাপাশি আগের কুশ ল্যাবসংক্রান্ত মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে। আরও তথ্য জানতে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে রিমান্ডের বিষয়ে আদালতের কোনো আদেশের তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। অধিদপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আসামে দেখা গেল যুবদলের ব্যানার, চিন্তায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ইউটিউব দেখে ইয়াবা কারখানা, টঙ্গীতে বাপ্পি গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে এআই দিয়ে বানানো কার্টুন মিম বিক্রি করে কোটি টাকার ব্যবসা বাংলাদেশের দুই ভাইয়ের
রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা, তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র এবং ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর খন্দকার আব্দুল হাফিজকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সপক্ষে কী ধরনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক মামলা, তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে খন্দকার আব্দুল হাফিজের কথিত সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এলেও তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কিংবা আদালতে হাজির করার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, খন্দকার আব্দুল হাফিজ বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন জানিয়েছেন, বনানী থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে বলেও জানান তিনি। এদিকে, ২০০৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খন্দকার আব্দুল হাফিজসহ সামরিক বাহিনীর কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা তৎকালীন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে দলটিতে যোগ দিয়েছিলেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে বর্তমান গ্রেপ্তারের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। সূত্র: আমার দেশ
পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ রাব্বির, স্বপ্ন বিজ্ঞানী হওয়ার
ডিএমপির নিউজ পোর্টাল হ্যাক, ভাসছে রাজনৈতিক বার্তা ও সহিংসতার চিত্র