সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে জগিংয়ের সময় তরুণীকে গলায় ছুরিকাঘাত,হামলাকারীকে ধরতে ১০ হাজার ডলারের পুরস্কার ঘোষণা

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ১০:২৩
২৮ বছর বয়সী কেটি সুয়ারেজ
২৮ বছর বয়সী কেটি সুয়ারেজ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে জগিং করার সময় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এক তরুণী। কেটি সুয়ারেজ নামের ওই তরুণী বর্তমানে এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হাসপাতালের ব্রুকলিন শাখায় লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার তিন দিন পরও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)।

 

গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ব্রুকলিনের বাথ বিচ এলাকায় শোর পার্কওয়ে গ্রিনওয়ের একটি পথ ধরে দৌড়ানোর সময় হামলার শিকার হন কেটি। পুলিশ জানায়, বেল্ট পার্কওয়ের কাছে বে ১৭তম স্ট্রিট এলাকায় তাঁর গলায় একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিজার্স বে শপিং সেন্টারে নিজের কর্মস্থল থেকে বের হন কেটি। এরপর পোশাক পরিবর্তন করে দৌড়াতে যান। রাত ৮টার দিকে বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে জানান, পরিবারের সঙ্গে দেখা করার নির্ধারিত স্থান থেকে তিনি প্রায় আধা মাইল দূরে রয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছানো এবং পরবর্তী ফোনকলের উত্তর না দেওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁর বাবা।

 

পরে মেয়েকে খুঁজতে বের হয়ে বেল্ট পার্কওয়ের পাশের পথের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন বাবা। খবর পেয়ে পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজনের ধারণা, কেটি নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনের প্রস্তুতি হিসেবে দৌড়াচ্ছিলেন। তবে এবারের ম্যারাথনে তাঁর নিবন্ধন ছিল না বলে জানিয়েছে এবিসি৭ নিউইয়র্ক।

 

নিউইয়র্ক পুলিশের প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোসেফ কেনি জানিয়েছেন, হামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে ব্যাপক তল্লাশি চলছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুর, ডুবুরি দল ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পুলিশের ধারণা, হামলাটি আকস্মিক হতে পারে। তবে এর উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি।

 

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার পর কেটির মোবাইল ফোন ও গয়না তাঁর কাছেই পাওয়া গেছে। এ কারণে ঘটনাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন না তাঁরা। হামলাকারীর পরিচয় কিংবা কোনো সন্দেহভাজনের বর্ণনাও এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত দৌড়বিদদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

এদিকে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে কেটির ছবি প্রকাশ করেছে এনওয়াইপিডি। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিট থেকে রাত ৮টা ১২ মিনিটের মধ্যে বে ৮তম স্ট্রিট থেকে বে ১৭তম স্ট্রিটের মধ্যবর্তী পথে কেউ তাঁকে দেখে থাকলে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। তথ্য জানাতে এনওয়াইপিডি ক্রাইম স্টপার্সের ১-৮০০-৫৭৭-৮৪৭৭ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

 

সংবাদসূত্র: এনওয়াইপিডি, ABC7 New York


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে  চাকরি ছাড়লেন মুসলিম  শিক্ষিকা, কান্নায় ভেঙে পড়ল শিক্ষার্থীরা
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে চাকরি ছাড়লেন মুসলিম শিক্ষিকা, কান্নায় ভেঙে পড়ল শিক্ষার্থীরা

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব পড়া নিয়ে নতুন বিধিনিষেধের জেরে এক শিক্ষিকার চাকরি হারানোর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষিকাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছে তাঁর শিক্ষার্থীরা। রাজধানী বাকুর একটি স্কুলের এই ঘটনা দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে।   গত ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বাকুর রিচার্ড সরগে নামের ৯০ নম্বর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থী হিজাব পরা এক শিক্ষিকাকে ঘিরে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, হিজাব খুলতে রাজি না হওয়ায় ওই শিক্ষিকাকে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর চাকরি ছাড়ার বা বরখাস্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   আজারবাইজান সরকার গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের পোশাকসংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করে। এরপর ৬ অক্টোবর শিক্ষকদের পোশাক নিয়েও পৃথক নির্দেশনা জারি করা হয়। নতুন নিয়মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ পোশাক ও অতিরিক্ত পোশাকসামগ্রী ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যদিও বিধিমালায় সরাসরি হিজাব নিষিদ্ধ করার কথা উল্লেখ নেই, বাস্তবে কয়েকটি স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।   আল জাজিরার ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকুর একটি বিদ্যালয়ে ২৩ বছরের অভিজ্ঞ ইংরেজি শিক্ষিকা গুলশান আলিয়েভাকে হিজাব পরে কর্মস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর মেয়েকেও একই কারণে স্কুলে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। গুলশান জানান, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধার মুখে পড়তে চান না তিনি। প্রয়োজনে নিজের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার কথাও জানান এই শিক্ষিকা।   আরেক শিক্ষিকা জাহরা হাসানোভা আল জাজিরাকে জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে হিজাব পরে ক্লাসে আসতে নিষেধ করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হিজাব পরা বা না পরা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে আজারবাইজান সরকার। দেশটির পার্লামেন্টের মানবাধিকার কমিটির চেয়ারম্যান জাহিদ ওরুজ জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের বাইরে হিজাব পরায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিন্ন পোশাকনীতি বজায় রাখাই সরকারের উদ্দেশ্য।   এদিকে হিজাবসংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আজারবাইজানের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হয়েছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছে বলেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ১২ অক্টোবর রাজধানী বাকুতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ৩৭ জনকে আটক করার কথা জানায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা আরও বেশি।   মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্কুলে হিজাব পরা ছাত্রীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, পোশাকের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকারের প্রশ্ন তৈরি করে। সংগঠনটি হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।   প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ আজারবাইজান সাংবিধানিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। দেশটির সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও রয়েছে। নতুন পোশাকবিধি ঘিরে বিতর্ক তাই শুধু হিজাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এই ঘটনা।   সংবাদসূত্র: আল জাজিরা

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ১১:৪৫
হ্যালোইন উৎসবে শিশুদের পাওয়া চকলেট ও ক্যান্ডির ভেতরে সূচ

যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ অঙ্গরাজ্যে হ্যালোইনের ক্যান্ডিতে সূচ ও ধাতব বস্তু, বিশেষ সতর্কতা জারি ; তদন্তে পুলিশ

২৮ বছর বয়সী কেটি সুয়ারেজ

নিউইয়র্কে জগিংয়ের সময় তরুণীকে গলায় ছুরিকাঘাত,হামলাকারীকে ধরতে ১০ হাজার ডলারের পুরস্কার ঘোষণা

নিউইয়র্কে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে লেটিশিয়া জেমস

নিউইয়র্কে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে লেটিশিয়া জেমস

টিকাদান
যুক্তরাষ্ট্রে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, পেনসিলভানিয়ায় আক্রান্ত প্রায় ১৪০০ জন

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টির আমিশ সম্প্রদায়, যেখানে টিকাদানের হার তুলনামূলকভাবে কম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ১ আগস্ট থেকে দেড় লাখ ডোজ হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরেই দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজারের বেশি ডোজ।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ল্যাঙ্কাস্টারের আমিশ সম্প্রদায়ের এক-তৃতীয়াংশেরও কম মানুষ হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা নিয়েছেন বলে একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে সম্প্রদায়টির ধর্মীয় বিশ্বাসে টিকা গ্রহণের বিরুদ্ধে কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নেই। গবেষকদের মতে, পারিবারিক ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ টিকা নেওয়ার পক্ষে থাকলেও অন্যদের মধ্যে অনীহা রয়েছে।   পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই প্রাপ্তবয়স্ক। সাধারণত হামের সংক্রমণে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি হলেও এখানে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফিলাডেলফিয়া ইনকোয়ারারের তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া পাঁচজনের কেউই টিকা নেননি। তাঁদের মধ্যে দুই শিশু বয়সের কারণে টিকা নেওয়ার উপযুক্ত ছিলেন না। অন্য তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক আগে থেকেই স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছিলেন।   সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোর প্রশাসন ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন, ডাকযোগে সচেতনতামূলক বার্তা পাঠানো এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হচ্ছে। অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মীকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়েছে। বিশেষ কার্যক্রমে প্রায় ছয় হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ক্রিস্ট স্টল্টজফুস জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের টিকা নেওয়া সদস্যরা অসুস্থ হননি। তবে টিকা না নেওয়া কয়েকজন আত্মীয় হামে আক্রান্ত হয়েছেন। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর তাঁদের কেউ কেউ টিকা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা করেছেন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের হিসাবে, ২০২৬ সালে দেশজুড়ে ৪ হাজার ৫৮৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে। তবে পেনসিলভানিয়ার হিসাবে পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই পার্থক্য নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র অভিযোগ করেছেন, গভর্নর শাপিরোর প্রশাসন হামের প্রাদুর্ভাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে শাপিরো অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর তথ্য যথাযথভাবে স্বীকার করছে না। টিকা নিয়ে সংশয় ছড়ানোর জন্যও তিনি কেনেডির সমালোচনা করেছেন।   পেনসিলভানিয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্ক ও ওহাইওতেও হামের সংক্রমণ উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিউইয়র্কে শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পর গভর্নর ক্যাথি হোকুল অঙ্গরাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। সেখানে তিনটি আমিশ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের টিকাদান বাধ্যবাধকতা নিয়ে বিরোধ চলছে। টিকা না নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য দুই হাজার ডলার জরিমানার মুখে পড়ছে বিদ্যালয়গুলো। এলিজাবেথটাউন কলেজের অধ্যাপক স্টিভেন নোল্ট জানিয়েছেন, আমিশ সম্প্রদায়ের মধ্যে টিকাদানের হার কম হলেও সঠিক হার নির্ধারণের মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তাঁর মতে, ধর্মীয় নির্দেশনার চেয়ে পারিবারিক ঐতিহ্যই টিকা গ্রহণের সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ৮:৫৩
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাম বিচ কাউন্টির কাছে ব্যক্তিগত জেট বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

‘আমরা বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছি, আর সময় নেই’, ফ্লোরিডায় মৃত্যুর আগে পাইলটের শেষ বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের অসুস্থ বা বয়স্ক স্বজনদের দেখাশোনা করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ছেন স্বজনেরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অসুস্থ স্বজনের যত্নে ঋণ নিচ্ছেন মার্কিনিরা, বছরে খরচ সাড়ে ১১ হাজার ডলার

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে মার্কিন সাধারণ মানুষের খরচ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির পেছনে অতিরিক্ত ১৪ হাজার ৭৭০ কোটি ডলার ব্যয় ড্রাইভারদের

মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ হারালে ডেমোক্র্যাটদের আনা বিল আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা হারলে ‘মিস্টার ভেটো’ হওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের আনা বিল আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন। তবে একের পর এক বিল বাতিল করার পর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।   আগামী মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ঠিক আগে রোববার, ১ নভেম্বর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারের অংশে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিক মিরান্ডা ডিভাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাখ্যা করেন, কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও কীভাবে নিজের প্রশাসনের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চান।   ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে তাঁর কাছে বিভিন্ন বিল পাঠাবে। তখন তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। তাঁর ধারণা, এক বা দুই মাস এভাবে চলার পর উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধী দলের প্রস্তাবিত সব আইন তিনি মেনে নেবেন না। তবে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজবেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে এবং এমন পরিস্থিতির প্রয়োজন হবে না।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে বিভিন্ন নির্বাচনী পূর্বাভাস। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।   ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে। এই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের সম্পর্ক কেমন হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিল প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলে তিনি সেটিতে স্বাক্ষর করতে পারেন অথবা ভেটো দিয়ে ফেরত পাঠাতে পারেন। প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে সেটি অতিক্রম করে বিল আইনে পরিণত করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের সমর্থন প্রয়োজন হয়।   ফলে ডেমোক্র্যাটরা সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ট্রাম্পের ভেটো অতিক্রম করা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্পের নতুন আইন পাসের উদ্যোগও বাধার মুখে পড়তে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত আরও দুটি বিলে ভেটো দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ দুই মেয়াদ মিলিয়ে তাঁর ভেটো দেওয়া বিলের সংখ্যা ১২টি।   এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনা মাথায় রেখে হোয়াইট হাউস কয়েক মাস ধরে বিকল্প প্রশাসনিক পরিকল্পনা তৈরি করছে। এই পরিকল্পনায় কংগ্রেসের নতুন আইন ছাড়াই প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার আওতায় কোন কোন নীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিবাসননীতি, আমদানি শুল্ক, আবাসন ব্যয় এবং ফেডারেল সরকারের খরচসংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছেন ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এবং বাজেট পরিচালক রাসেল ভট।   তবে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করলেও প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের সব সাংবিধানিক কর্তৃত্ব এড়িয়ে যেতে পারবেন না। নতুন আইন প্রণয়ন, সরকারি অর্থ বরাদ্দ এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ অনুমোদনের মতো বিষয়ে কংগ্রেসের নির্দিষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশও আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।   ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারবে। আর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে বিচারকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের অনুমোদন আটকে দেওয়ার ক্ষমতা পাবে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতির প্রস্তুতি হিসেবে হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা কংগ্রেসের সম্ভাব্য তদন্ত, নথিপত্র চাওয়া এবং কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে প্রশাসনকে পরামর্শ দিচ্ছেন।   তবে হোয়াইট হাউস রিপাবলিকানদের পরাজয় অনিবার্য বলে মনে করছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের বিষয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।   মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল তাই শুধু কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণ করবে না, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়নের পথ তুলনামূলক সহজ থাকবে। আর ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক দরকষাকষি এবং ভেটো প্রয়োগের ঘটনা বাড়তে পারে।

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ৬:৯
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এমপিএইচ ও পিএইচডি আবেদনের চমৎকার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য চিকিৎসকদের স্কলারশিপ ফান্ডিং নিয়ে রয়েছে ২ টি ট্র্যাক, জানুন বিস্তারিত

ইরানে পারমাণবিক হামলার অনুমোদন দিতে পারেন ট্রাম্প, দাবি টাকার কার্লসনের। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে কয়েক দিনের মধ্যে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প, দাবি মার্কিন বিশ্লেষকের

যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন ঘিরে গু লিবর্ষণ

যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন ঘিরে গু লিবর্ষণ, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অন্তত ২৪ নি হত ও ৯৪ আ হত

0 Comments