বাবা-দাদার নামে থাকা জমির তথ্য মিলবে মোবাইলেই, যেভাবে খুঁজবেন জানুন
বাবা, দাদা বা পরিবারের অন্য সদস্যের নামে কোথায় কতটুকু জমি রয়েছে, তার প্রাথমিক তথ্য এখন স্মার্টফোন থেকেই খুঁজে দেখা যায়। ভূমি সেবা ডিজিটাল হওয়ায় ঘরে বসে অনলাইনে খতিয়ান ও দাগসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু কারও নাম লিখে দেশের সব এলাকায় তাঁর নামে থাকা জমির পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। জমির রেকর্ড নির্দিষ্ট এলাকা, খতিয়ান ও দাগের সঙ্গে যুক্ত থাকে। আরটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জমির তথ্য খুঁজতে প্রথমে স্মার্টফোনের ক্রোম ব্রাউজারে গিয়ে ই-পর্চা সার্চ করতে হবে। এরপর সরকারি ই-পর্চা সেবায় প্রবেশ করে খতিয়ান অনুসন্ধানের অপশন নির্বাচন করতে হবে। সেখানে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার মতো প্রয়োজনীয় তথ্য নির্বাচন করার পর খতিয়ানের ধরন নির্ধারণ করতে হবে।
রেকর্ড অনুযায়ী বিএস, সিএস, আরএস বা এসএ খতিয়ানের তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এরপর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট জমির তথ্য অনুসন্ধান করা যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ক্যাপচা পূরণ করে অনুসন্ধান সম্পন্ন করতে হয়।
অনুসন্ধানের পর পাওয়া রেকর্ডে জমির মালিকের নাম, দাগ ও খতিয়ানসংক্রান্ত তথ্য এবং জমির পরিমাণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ফলে জমির অবস্থান বা রেকর্ড সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানতে অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।
খতিয়ানের কপি প্রয়োজন হলে অনলাইনেই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, ই-মেইল, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হতে পারে। নির্ধারিত সরকারি ফি থাকলে অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে তা পরিশোধ করা যায়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খতিয়ানের অনলাইন কপি পাওয়ার জন্য নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা।
তবে অনলাইনে পাওয়া তথ্যকে চূড়ান্ত মালিকানার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার বা মালিকানা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খতিয়ান, দলিল, নামজারি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে পুরোনো জমির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ের খতিয়ানে তথ্য পরিবর্তিত থাকতে পারে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবার আওতায় খতিয়ান ও অন্যান্য ভূমি-সংক্রান্ত সেবা অনলাইনে দেওয়ার ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে পাওয়া কিউআর কোডযুক্ত খতিয়ানও যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বাবা-দাদা বা পরিবারের কারও জমির তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে অনলাইন অনুসন্ধানকে প্রাথমিক যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তবে মালিকানা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব বৈধ নথি মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সূত্র: আরটিভি
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
বাংলাদেশ
View moreবাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পূর্ণ অর্থায়নে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নতুন এ উদ্যোগের আওতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঁচ শিক্ষার্থী ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপের সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) প্রকাশিত বাহান্ন নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সমঝোতা চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ। বিশেষ করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পড়াশোনা এবং দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করবে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। এই সহযোগিতার অংশ হিসেবেই পাঁচ শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়নে স্কলারশিপ দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। চুক্তি অনুযায়ী, শুধু শিক্ষার্থী বৃত্তি প্রদানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা। যৌথভাবে শিক্ষার মানোন্নয়ন, পাঠ্যক্রম ও সিলেবাস সংস্কার, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ গুরুত্ব পাবে ইনফরমেশন টেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারসংক্রান্ত বিষয়গুলো। এ ছাড়া অকুপেশনাল সায়েন্স, ক্লিনিক্যাল ল্যাব সায়েন্স এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের মতো বিষয়েও যৌথ শিক্ষা ও গবেষণার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার পথ তৈরি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি মূলত প্রযুক্তি ও ব্যবসায় শিক্ষার বিভিন্ন প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের টিউশন সহায়তাও দিয়ে থাকে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নতুন সমঝোতার ফলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তির সুযোগ যুক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে ঘোষিত পাঁচটি স্কলারশিপের জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচনের পদ্ধতি, আবেদনের যোগ্যতা, সময়সীমা এবং কোন কোন খরচ সম্পূর্ণ অর্থায়নের আওতায় থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। বৃত্তির জন্য পাঁচ শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। ফলে এটি আপাতত পাঁচ শিক্ষার্থীর জন্য বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা, চূড়ান্ত বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা নয়। নতুন এই সমঝোতা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা, প্রযুক্তি শিক্ষা এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার নতুন পথ তৈরি করাই এ সহযোগিতার অন্যতম লক্ষ্য।
এইচএসসি ২০২৬, খাতা পুনর্নিরীক্ষণ, শিক্ষা বোর্ড, পরীক্ষার ফলাফল, ফি আদায়ে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার রেকর্ড
জয়পুরহাটে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি নেই, ‘জাতির পিতা’ বলাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল
ডিসেম্বরে একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন, তার আগেই নিথর হয়ে ফিরলেন সেনাসদস্য তিতাস
সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় নিজ বাসার বাথরুম থেকে মো. নুরুল ইসলাম (৬৫) নামে এক আমেরিকা প্রবাসীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কায়স্থরাইল এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পাশে রান্নাঘরে ব্যবহৃত একটি দা পাওয়া গেছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নিহত নুরুল ইসলাম দক্ষিণ সুরমা থানার কায়স্থরাইল এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত আব্দুল গফুর। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কায়স্থরাইলের ২ নম্বর রোডের ২৫ নম্বর বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। শুক্রবার সকালে বাসার দ্বিতীয় তলার বাথরুমে নুরুল ইসলামকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এ সময় তাঁর মরদেহের পাশেই একটি দা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি দক্ষিণ সুরমা থানা-পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও উপকমিশনার মো. আফজাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম শ্যামল সিলেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা জানতে পুলিশ ও গোয়েন্দা দল কাজ শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে পাওয়া দাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে কীভাবে নুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। সূত্র: সিলেটটুডে২৪ #CrimeNews #PoliceInvestigation #AmericaBangla
জাতীয় চার নেতার নাম বাদ দিয়ে কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজের নতুন নাম
বাংলাদেশের রেলপথে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেন চালানোর প্রস্তাব, তিন রুটে ২৪ ঘণ্টা মালবাহী চলাচল চায় দিল্লি
প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’, বিমানবন্দর থেকে ব্যাংকিংয়ে মিলতে পারে ১০ ধরনের সুবিধা
সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে না হলে শ্রমিকদের মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তাঁর অভিযোগ, ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রতিবছর লাখ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। এসব অর্থ শ্রমিকদের বেতন ও কল্যাণে ব্যবহার করা গেলে তাঁদের জীবনমান আরও উন্নত করা সম্ভব হতো। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নগরীর চাঁদমারি এলাকায় চেম্বার ভবনে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চেম্বারের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। এতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মাসুদুজ্জামান বলেন, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, জন্মদিনসহ নানা উপলক্ষে অর্থ দিতে হয়। কাস্টমস ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন কার্যক্রমেও বাড়তি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, যেখানেই কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়, সেখানেই টাকা দিতে হচ্ছে। এভাবে অর্থ দিতে দিতে মালিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। বছরে লাখ লাখ, এমনকি কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ এই অর্থ শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা যেত। ব্যবসায়ীদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি দপ্তরগুলোর বিভিন্ন সেবা এক জায়গা থেকে সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা করা হলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে। এতে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর সক্ষমতাও তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের প্রসঙ্গ তুলে মাসুদুজ্জামান বলেন, কিছু শ্রমিক নেতা মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। তবে বেতন নির্ধারণের বিষয়টি মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আগেই প্রায় ৬৭ থেকে ৬৮টি কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পেছনে পরিকল্পিত উসকানি থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই ব্যবসায়ী নেতা। তাঁর মতে, সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর আরও দায়িত্বশীল ও সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন ছিল। তবে শ্রমিকদের আন্দোলন দমন করা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য নয় বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আবাসন, রেশনিং ও চিকিৎসাসেবায় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতিকে (বিকেএমইএ) আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান মাসুদুজ্জামান। তাঁর বক্তব্য, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঞ্চিত অর্থের একটি অংশ শ্রমিক ও মালিকদের সংকট মোকাবিলায় ব্যবহার করা উচিত। আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি এবং শিল্পমালিকদের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি। সূত্র: ইত্তেফাক
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত, ৫৭ জিম্মি উদ্ধার
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: ইকরামুল হাসান শাকিল