ইরাসমাস মুন্ডাসে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত স্কলারশিপ, যেভাবে স্টেপ বাই স্টেপ আবেদন করবেন
ইউরোপের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ, টিউশন ফিসহ বিভিন্ন খরচে আর্থিক সহায়তা এবং মাসিক স্কলারশিপ, সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স অন্যতম আকর্ষণীয় স্কলারশিপ। তবে কোন প্রোগ্রাম বেছে নেবেন, কীভাবে আবেদন করবেন, মোটিভেশন লেটার ও সিভি কেমন হবে কিংবা রেকমেন্ডেশন লেটারে কী থাকা প্রয়োজন, এসব নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায়ই নানা প্রশ্ন থাকে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচির অধীনে পরিচালিত ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স মূলত আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত মাস্টার্স প্রোগ্রাম। একটি প্রোগ্রাম সাধারণত বিভিন্ন দেশের একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম পরিচালনা করে। ফলে একজন শিক্ষার্থী একই ডিগ্রির অংশ হিসেবে একাধিক দেশে এবং একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারেন।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য ইইউ অর্থায়িত স্কলারশিপ মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে এবং এটি সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত দেওয়া হয়। স্কলারশিপে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের খরচের পাশাপাশি ভ্রমণ, ভিসা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ে সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। মাস্টার্স প্রোগ্রামগুলো সাধারণত এক থেকে দুই শিক্ষাবর্ষের হয়ে থাকে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্কলারশিপ নতুন নয়। ইরাসমাস মুন্ডাসে বাংলাদেশ অতীতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ১৩৯ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইরাসমাস প্লাস স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। ইইউর আরেকটি তথ্যে ২০২১ সালের ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্সে ১৫২ বাংলাদেশি নির্বাচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়, যা বাংলাদেশকে সে সময় বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রেখেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বাংলাদেশ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বাংলাদেশ গত বছর বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ পেয়েছে এমন দাবির পক্ষে সর্বশেষ প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য থেকে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে আবেদনকারীদের দেশভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ের চেয়ে নিজের আবেদন শক্তিশালী করার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আবেদনের প্রথম ধাপ সঠিক প্রোগ্রাম নির্বাচন। একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, আগ্রহ, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের যোগ্যতার শর্তের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ইরাসমাস মুন্ডাসের প্রতিটি মাস্টার্সের নিজস্ব ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়, ভর্তির যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং আবেদনের সময়সীমা দেওয়া থাকে।
সাধারণভাবে আবেদনকারীকে ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী হতে হয়। ব্যাচেলরের শেষ বর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারেন, তবে মাস্টার্স প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার আগেই তাদের স্নাতক সম্পন্ন করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ব্যাচেলর সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
আবেদন একটি কেন্দ্রীয় ফর্মের মাধ্যমে করা হয় না। শিক্ষার্থীকে পছন্দের ইরাসমাস মুন্ডাস প্রোগ্রাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি আবেদন করতে হয়। বেশির ভাগ প্রোগ্রামের আবেদন অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে নেওয়া হয়। তবে ডেডলাইন ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রোগ্রামভেদে আলাদা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ মোটিভেশন লেটার বা এসওপি। এখানে শুধু বিদেশে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেই যথেষ্ট নয়। কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামটি বেছে নেওয়া হয়েছে, আবেদনকারীর আগের পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সেটির সম্পর্ক কী এবং ডিগ্রি শেষে অর্জিত জ্ঞান কীভাবে কাজে লাগাতে চান, সেগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
সিভিতেও অপ্রয়োজনীয় তথ্যের পরিবর্তে একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণা, প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ, চাকরির অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, স্বেচ্ছাসেবী কাজ ও প্রাসঙ্গিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একইভাবে রেকমেন্ডেশন লেটার এমন ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া ভালো, যিনি আবেদনকারীর একাডেমিক বা পেশাগত সক্ষমতা সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে লিখতে পারবেন। তবে কতটি রেকমেন্ডেশন প্রয়োজন এবং কার কাছ থেকে নেওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নিয়ম দেখে নিশ্চিত হতে হবে।
শুধু ভালো ফলাফল থাকলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত হয় না। প্রতিযোগিতামূলক এই স্কলারশিপে পুরো অ্যাপ্লিকেশন প্রোফাইলের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে সম্পর্কহীন প্রোগ্রামে আবেদন, একই মোটিভেশন লেটার সব প্রোগ্রামে ব্যবহার, ডেডলাইনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা কিংবা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ঠিকভাবে না পড়া আবেদনকে দুর্বল করে দিতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ইরাসমাস মুন্ডাস নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বিভিন্ন গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে। বিল্লাল হোসাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০ পর্বের একটি গাইডে সার্বিক আবেদন প্রক্রিয়া, ফাইন্যানশিয়াল সুবিধা, সঠিক প্রোগ্রাম ও ইউনিভার্সিটি কনসোর্টিয়াম নির্বাচন, মোটিভেশন লেটার, নমুনা এসওপি, সিভি, রেকমেন্ডেশন লেটার, ডকুমেন্টেশন, বিভিন্ন বিষয়ের প্রোগ্রাম এবং আবেদনের সাধারণ ভুল নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি ভবিষ্যতে Billal Beyond Borders-এর মাধ্যমে স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষার অ্যাডমিশন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও গাইডলাইন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
২০২৬ সালে নতুন করে ৩৭টি ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স প্রকল্প নির্বাচিত হয়েছে। এসব নতুন মাস্টার্স প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী আবেদন ২০২৬ সালের শরৎ থেকে শুরু হওয়ার কথা। ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষে আবেদন করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এখন থেকেই প্রোগ্রাম খোঁজা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা এবং নিজের একাডেমিক ও পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোর্স বাছাই করার উপযুক্ত সময়।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreইউরোপের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ, টিউশন ফিসহ বিভিন্ন খরচে আর্থিক সহায়তা এবং মাসিক স্কলারশিপ, সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স অন্যতম আকর্ষণীয় স্কলারশিপ। তবে কোন প্রোগ্রাম বেছে নেবেন, কীভাবে আবেদন করবেন, মোটিভেশন লেটার ও সিভি কেমন হবে কিংবা রেকমেন্ডেশন লেটারে কী থাকা প্রয়োজন, এসব নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায়ই নানা প্রশ্ন থাকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচির অধীনে পরিচালিত ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স মূলত আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত মাস্টার্স প্রোগ্রাম। একটি প্রোগ্রাম সাধারণত বিভিন্ন দেশের একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম পরিচালনা করে। ফলে একজন শিক্ষার্থী একই ডিগ্রির অংশ হিসেবে একাধিক দেশে এবং একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য ইইউ অর্থায়িত স্কলারশিপ মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে এবং এটি সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত দেওয়া হয়। স্কলারশিপে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের খরচের পাশাপাশি ভ্রমণ, ভিসা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ে সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। মাস্টার্স প্রোগ্রামগুলো সাধারণত এক থেকে দুই শিক্ষাবর্ষের হয়ে থাকে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্কলারশিপ নতুন নয়। ইরাসমাস মুন্ডাসে বাংলাদেশ অতীতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ১৩৯ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইরাসমাস প্লাস স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। ইইউর আরেকটি তথ্যে ২০২১ সালের ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্সে ১৫২ বাংলাদেশি নির্বাচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়, যা বাংলাদেশকে সে সময় বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রেখেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বাংলাদেশ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বাংলাদেশ গত বছর বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ পেয়েছে এমন দাবির পক্ষে সর্বশেষ প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য থেকে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে আবেদনকারীদের দেশভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ের চেয়ে নিজের আবেদন শক্তিশালী করার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আবেদনের প্রথম ধাপ সঠিক প্রোগ্রাম নির্বাচন। একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, আগ্রহ, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের যোগ্যতার শর্তের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ইরাসমাস মুন্ডাসের প্রতিটি মাস্টার্সের নিজস্ব ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়, ভর্তির যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং আবেদনের সময়সীমা দেওয়া থাকে। সাধারণভাবে আবেদনকারীকে ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী হতে হয়। ব্যাচেলরের শেষ বর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারেন, তবে মাস্টার্স প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার আগেই তাদের স্নাতক সম্পন্ন করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ব্যাচেলর সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। আবেদন একটি কেন্দ্রীয় ফর্মের মাধ্যমে করা হয় না। শিক্ষার্থীকে পছন্দের ইরাসমাস মুন্ডাস প্রোগ্রাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি আবেদন করতে হয়। বেশির ভাগ প্রোগ্রামের আবেদন অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে নেওয়া হয়। তবে ডেডলাইন ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রোগ্রামভেদে আলাদা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ মোটিভেশন লেটার বা এসওপি। এখানে শুধু বিদেশে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেই যথেষ্ট নয়। কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামটি বেছে নেওয়া হয়েছে, আবেদনকারীর আগের পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সেটির সম্পর্ক কী এবং ডিগ্রি শেষে অর্জিত জ্ঞান কীভাবে কাজে লাগাতে চান, সেগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। সিভিতেও অপ্রয়োজনীয় তথ্যের পরিবর্তে একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণা, প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ, চাকরির অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, স্বেচ্ছাসেবী কাজ ও প্রাসঙ্গিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একইভাবে রেকমেন্ডেশন লেটার এমন ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া ভালো, যিনি আবেদনকারীর একাডেমিক বা পেশাগত সক্ষমতা সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে লিখতে পারবেন। তবে কতটি রেকমেন্ডেশন প্রয়োজন এবং কার কাছ থেকে নেওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নিয়ম দেখে নিশ্চিত হতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল থাকলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত হয় না। প্রতিযোগিতামূলক এই স্কলারশিপে পুরো অ্যাপ্লিকেশন প্রোফাইলের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে সম্পর্কহীন প্রোগ্রামে আবেদন, একই মোটিভেশন লেটার সব প্রোগ্রামে ব্যবহার, ডেডলাইনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা কিংবা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ঠিকভাবে না পড়া আবেদনকে দুর্বল করে দিতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ইরাসমাস মুন্ডাস নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বিভিন্ন গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে। বিল্লাল হোসাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০ পর্বের একটি গাইডে সার্বিক আবেদন প্রক্রিয়া, ফাইন্যানশিয়াল সুবিধা, সঠিক প্রোগ্রাম ও ইউনিভার্সিটি কনসোর্টিয়াম নির্বাচন, মোটিভেশন লেটার, নমুনা এসওপি, সিভি, রেকমেন্ডেশন লেটার, ডকুমেন্টেশন, বিভিন্ন বিষয়ের প্রোগ্রাম এবং আবেদনের সাধারণ ভুল নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি ভবিষ্যতে Billal Beyond Borders-এর মাধ্যমে স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষার অ্যাডমিশন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও গাইডলাইন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। ২০২৬ সালে নতুন করে ৩৭টি ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স প্রকল্প নির্বাচিত হয়েছে। এসব নতুন মাস্টার্স প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী আবেদন ২০২৬ সালের শরৎ থেকে শুরু হওয়ার কথা। ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষে আবেদন করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এখন থেকেই প্রোগ্রাম খোঁজা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা এবং নিজের একাডেমিক ও পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোর্স বাছাই করার উপযুক্ত সময়।
পদার্থবিজ্ঞান থেকে মেডিকেল সায়েন্স, অক্সফোর্ডে ফুল ফান্ডে নন্দিতা দেব
নোয়াখালী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্সে, ডা. আবদুল্লাহ বাকীর গবেষণায় নতুন জীবন লাখো মা ও শিশুর
মানসিক চাপ কমাতে প্রথম সেমিস্টারে নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি আনছে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় যেতে ব্যাচেলর পর্যায়ে কম জিপিএ থাকলেই যে সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, বিষয়টি এমন নয়। বেশ কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স বা নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ৪.০০ স্কেলে ২.৫০ থেকে ২.৭৫ জিপিএ নিয়েও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়, ডিপার্টমেন্ট ও প্রোগ্রামভেদে অ্যাডমিশনের শর্ত আলাদা হওয়ায় শুধু একটি সাধারণ জিপিএ তালিকার ওপর নির্ভর করে আবেদন করা ঠিক নয়। বর্তমান অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স ও স্পেশালিস্ট প্রোগ্রামে সাধারণভাবে ন্যূনতম ২.৭৫ জিপিএ অথবা ব্যাচেলর পর্যায়ের শেষ ৬০ ক্রেডিট আওয়ারে ২.৭৫ জিপিএ প্রয়োজন। তবে নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্ট আরও বেশি জিপিএ চাইতে পারে। আরকানসাস টেক ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট কলেজে সাধারণ আনকন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের জন্য ব্যাচেলর পর্যায়ে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ অথবা শেষ ৩০ ক্রেডিট আওয়ারে ৩.০০ জিপিএ গ্রহণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি একই সঙ্গে জানিয়েছে, নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম চাইলে এর চেয়ে বেশি জিপিএ নির্ধারণ করতে পারে। জিপিএর শর্ত পূরণ না করলেও কিছু ক্ষেত্রে কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ থাকতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় স্প্রিংফিল্ডে পূর্ণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনের জন্য সাধারণভাবে ব্যাচেলর ডিগ্রিতে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ প্রয়োজন। তবে এখানেও প্রতিটি প্রোগ্রামের নিজস্ব অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট রয়েছে এবং কিছু প্রোগ্রামে এর চেয়ে বেশি জিপিএ দরকার হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কম জিপিএ থাকা আবেদনকারীকেও কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন মিলওয়াকির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন নীতিতে সাধারণভাবে ন্যূনতম ২.৭৫ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট জিপিএ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২.৭৫-এর নিচে জিপিএ থাকলে অতিরিক্ত একাডেমিক যোগ্যতা বা জিআরইসহ অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন নীতি বোঝানো ঠিক নয়। বর্তমান গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন তথ্যে বিভিন্ন ধরনের অ্যাডমিশনের ক্ষেত্রে ২.৭৫ থেকে ৩.০০ জিপিএর মানদণ্ড দেখা যায়। আবার বিশ্ববিদ্যালয়টির কিছু নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে ২.৫০ জিপিএ নিয়েও আবেদন বিবেচনা করা হয়। যেমন সাইকোলজির একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ উল্লেখ রয়েছে। ডিপল ইউনিভার্সিটিতেও একই পরিস্থিতি দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ২.৫০ জিপিএ গ্রহণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে ডিজিটাল কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া আর্টস মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ৩.০০ জিপিএকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০। ফলে ডিপল ইউনিভার্সিটিকে সামগ্রিকভাবে ‘২.৫০ জিপিএ গ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়’ বলা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এনজেআইটির কিছু মাস্টার্স প্রোগ্রামে ২.৮০ জিপিএ উল্লেখ রয়েছে। যেমন এমএস ইন ইনফরমেশন সিস্টেমস এবং কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে সাধারণত ন্যূনতম ২.৮০ জিপিএ প্রত্যাশা করা হয়। তবে এটিও সব প্রোগ্রামের জন্য একই নিয়ম নয়। লামার ইউনিভার্সিটির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ২.৫০ জিপিএ নিয়েও আবেদন করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাপ্লায়েড ডিজিটাল লার্নিং প্রোগ্রামে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট জিপিএ ২.৫০ হলে জিআরই ছাড়াই আবেদন করা যায়। তবে ২.৫০-এর নিচে গেলে ওই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে সরাসরি অ্যাডমিশন দেওয়া হয় না। কম জিপিএ থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু জিপিএ দিয়েই অ্যাডমিশনের সিদ্ধান্ত হয় না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শেষ ৬০ ক্রেডিটের ফলাফল, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কোর্সওয়ার্ক, কাজের অভিজ্ঞতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার, জিআরই বা জিম্যাট স্কোর এবং ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার ফলাফলও বিবেচনা করে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে টোফেল, আইইএলটিএস, ডুয়োলিঙ্গো বা বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত অন্য ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার শর্তও থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধিকাংশ আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট আবেদনকারীর জন্য নির্দিষ্ট ইংরেজি দক্ষতার মান পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এ কারণে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ‘২.০০ থেকে ২.৯৯ জিপিএ গ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা’ সরাসরি চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রোগ্রাম ২.৫০ জিপিএ গ্রহণ করলেও আরেকটি প্রোগ্রামে ৩.০০ বা তার বেশি প্রয়োজন হতে পারে। কোথাও আবার কম জিপিএর আবেদনকারীকে কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন বা আলাদা একাডেমিক রিভিউয়ের মাধ্যমে বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখে আবেদন না করে প্রথমে নির্দিষ্ট ডিগ্রি ও ডিপার্টমেন্টের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে ন্যূনতম জিপিএ, ইংরেজি দক্ষতার স্কোর, ব্যাচেলর ডিগ্রির সমমান, জিআরই বা জিম্যাটের প্রয়োজনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত শর্ত ভালোভাবে দেখে আবেদন করলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন ফি ও সময় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।
নোবেলপ্রত্যাশী বিজ্ঞানীদের আলোচনায় বাংলাদেশের আধ্যাপক ড. জাহিদ হাসান
স্কুলে গেটের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ে নিষেধাজ্ঞা, নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থা
বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে ফ্রী তে পড়ার সুযোগ! আবেদন করতে পারবেন যে কেউ
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও গবেষণাগারে সময় কাটাতেন। এরপর একের পর এক টিউশন করিয়ে রাতে ফিরতেন বাসায়। সেখানে অপেক্ষা করত ক্যানসারে আক্রান্ত বাবার সেবার দায়িত্ব। পরিবারের কঠিন সময়ের মধ্যেও থেমে থাকেনি উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। টিউশনের আয় থেকে নিজের পড়াশোনা, আইইএলটিএস পরীক্ষা ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের খরচ চালিয়েছেন চট্টগ্রামের উচ্ছাস সিকদার। সেই অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে এবার যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী উচ্ছাস শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেবেন। মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ বছরের পূর্ণ বৃত্তিতে ‘হিউম্যান গাট মাইক্রোবায়োটা’ নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করবেন তিনি। মানুষের অন্ত্রে থাকা অণুজীব বা গাট মাইক্রোবায়োম নিয়ে তাঁর গবেষণার লক্ষ্য ব্যক্তিভেদে রোগের ঝুঁকি বোঝা এবং ভবিষ্যতে রোগীর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণে গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান তৈরি করা। ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এই গবেষণার সম্ভাব্য গুরুত্ব রয়েছে। উচ্ছাসের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে। তবে বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা এলাকায়। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। দুই পরীক্ষাতেই গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে ভর্তি হন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুই পর্যায়েই তাঁর সিজিপিএ ৩ দশমিক ৯৬। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ থেকেই টিউশন করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতেন তিনি। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিভাগে ক্লাস ও গবেষণাগারে কাজ করার পর টিউশন করাতেন। কখনো টানা দুটি, আবার কখনো চারটি টিউশনও করতে হয়েছে তাঁকে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির খরচও এসেছে সেই টিউশনের আয় থেকে। পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন কোনো মাসে তুলনামূলক কম থাকলে উপার্জনের কিছু অংশ জমিয়ে রাখতেন। সেই সঞ্চয় থেকেই আইইএলটিএস পরীক্ষা ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের খরচ মেটান। পিএইচডিতে ভর্তির জন্য পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল তাঁর। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই বিদেশে গবেষণার অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পান উচ্ছাস। ২০২৩ সালে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় ১৫ দিনের ইন্টার্নশিপে জাপানে যান তিনি। জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ফিজিওলজিক্যাল সায়েন্সেসে অসুস্থ প্রাণীর ওপর প্রাকৃতিক উপাদান ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার কাজ শেখেন। তবে স্নাতকোত্তরে ওঠার পর তাঁর জীবনে শুরু হয় সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। ২০২৪ সালের শুরুতে বাবা কানু সিকদারের ক্যানসার শনাক্ত হয়। বড় দুই বোন বিবাহিত হওয়ায় মা কৃষ্ণা সিকদারই মূলত বাসায় বাবার দেখাশোনা করতেন। এমন পরিস্থিতিতে নিজের গবেষণা, থিসিস, বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি এবং পরিবারের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে হয় উচ্ছাসকে। বাবার চিকিৎসার জন্য একপর্যায়ে প্রায় এক মাস ভারতেও থাকতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে উচ্ছাস বলেন, ছাত্রজীবনে সব সময় চেষ্টা করেছেন নিজের খরচ নিজেই চালাতে, যাতে পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে। কিন্তু বাবার ক্যানসার ধরা পড়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। দিনের বেশির ভাগ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে কাজ করে এরপর ট্রেনে শহরে এসে টিউশন করাতেন। রাত ৯টা বা ১০টার দিকে বাসায় ফিরে বাবার সেবাযত্ন করতেন। তখন তাঁর সামনে বড় প্রশ্ন ছিল ক্যারিয়ার গড়বেন, নাকি পরিবারের পাশে থাকবেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মারা যান উচ্ছাসের বাবা। সে সময় তাঁর স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছিল। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে একটি পরীক্ষা স্থগিত করেছিল বিভাগ। উচ্ছাস বলেন, অনেক মানুষের সহযোগিতায় তিনি এত দূর আসতে পেরেছেন। শিক্ষক, বন্ধু ও জুনিয়ররা সব সময় পাশে ছিলেন। তাঁর ভাষায়, বাবার ক্যানসারের সময়কার দুই বছরই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। সেই সময় পার করে আসার পর আর কোনো চ্যালেঞ্জকেই অসম্ভব মনে হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতিতেও নিজের সঞ্চয় কাজে লাগাচ্ছেন উচ্ছাস। বিমানভাড়া ও সেখানে প্রথম এক মাসের জীবনযাত্রার খরচ মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। এর একটি অংশ নিজের সঞ্চয় থেকে এবং বাকি অর্থ পরিবার থেকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর তাঁর আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৬৭৪ মার্কিন ডলার স্টাইপেন্ড পাবেন তিনি। পাশাপাশি প্রথম বছরের ২৯ হাজার ৫৬৬ মার্কিন ডলার টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে। পিএইচডি শেষে দেশে ফিরে নিজের গবেষণার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান উচ্ছাস। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উচ্ছাসের পরামর্শ, প্রথমেই নিজের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে এবং নিজের সক্ষমতা নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগা যাবে না। শুধু সিজিপিএ কম বলে সুযোগ পাওয়া যাবে না এমন ধারণা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে প্রত্যেকেরই চেষ্টা করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজে আসলে কী চান, সে বিষয়ে পরিষ্কার থাকা। উচ্ছাসের গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক আদনান মান্নান বলেন, প্রচণ্ড ব্যক্তিগত শোক, হতাশা ও অসহনীয় কাজের চাপের মধ্যেও উচ্ছাস যেভাবে নিজেকে ধরে রেখেছেন এবং প্রতিটি দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন, তা অনন্য। তিনি উচ্ছাসকে নিয়ে গর্বিত এবং বলেন, উচ্ছাস কখনো হার মানেননি কিংবা হতাশার কাছে আত্মসমর্পণ করেননি। টিউশনের আয় দিয়ে নিজের পড়াশোনা চালানো থেকে শুরু করে বাবার দীর্ঘ চিকিৎসাকালীন দায়িত্ব সামলে বিদেশে পিএইচডির প্রস্তুতি নেওয়া, উচ্ছাসের পথটি ছিল একাধিক কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। এবার সেই দীর্ঘ প্রস্তুতির পর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হতে যাচ্ছে তাঁর।
হার্ভার্ডে ফুল-ফান্ডেড ফেলোশিপের সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন যে কেউ
মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী