হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করছেন ট্রাম্প!
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে শুক্রবার নিউইয়র্কে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রণালীটির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং শিগগিরই এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করা হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে তেহরান।
শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে কোন জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করবে, তা কার্যত যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করছে।
এর দুই দিন আগেও হরমুজ প্রণালী নিয়ে একই ধরনের দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। বুধবার তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মার্কিন নৌ অবরোধকে তিনি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ইরান এটি ঠেকাতে পারবে না বলেও দাবি করেন।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই পাল্টা অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, হরমুজ প্রণালীর অবস্থান বা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তেহরানের বক্তব্য, প্রণালীটি কোনো ঘোষণা, সামরিক শক্তি বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে দখল করা সম্ভব নয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর এক পাশে ইরান এবং অন্য পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ড রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই নৌপথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ দিয়ে অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবারও মাত্র কয়েকটি তেলবহির্ভূত জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
যুক্তরাষ্ট্রেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে গ্যাসের দামে। রয়টার্সের হিসাবে, দেশটিতে গ্যাসের জাতীয় গড় মূল্য গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪ দশমিক ০৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে মার্কিনিদের কিছুটা বেশি গ্যাসের দাম দিতে হচ্ছে। তবে তার দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য এই মূল্য দিতে হচ্ছে।
হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শান্তি আলোচনারও অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনা চললেও প্রণালীটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার প্রশ্নে এখনো সমঝোতা হয়নি। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং জব্দ করা সম্পদ ছাড়ের মতো একাধিক দাবি তুলেছে।
এর মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল ধরে চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ পর্যায়ক্রমে বদল করে এই অভিযান অব্যাহত রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার বিষয়ে ট্রাম্প কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানাননি। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সামুদ্রিক সীমানা ও সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের কারণে শুধু প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে এমন একটি আন্তর্জাতিক নৌপথকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করা যাবে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
ফলে ট্রাম্পের বক্তব্য এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিক মর্যাদা পরিবর্তন করেনি। তবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণা ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অ্যানা মারিয়া আইল্যান্ডে বাসা থেকে বের হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৫৫টি শিশু সামুদ্রিক কচ্ছপের মৃত্যু হয়েছে। সমুদ্রের দিকে যাওয়ার বদলে কৃত্রিম আলোয় বিভ্রান্ত হয়ে তারা বিপরীত দিকে চলে যায়। পরে সড়কের কাছে মৃত অবস্থায় কচ্ছপগুলোকে পাওয়া যায়। টাম্পাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএফএলএ জানিয়েছে, অ্যানা মারিয়া আইল্যান্ড টার্টল ওয়াচ অ্যান্ড শোরবার্ড মনিটরিংয়ের স্বেচ্ছাসেবীরা সকালে টহলের সময় শিশু কচ্ছপগুলোকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক বলে বর্ণনা করেছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। সামুদ্রিক কচ্ছপের বাচ্চারা সাধারণত রাতের অন্ধকারে বালুর নিচের বাসা থেকে বের হয়। জন্মগত প্রবৃত্তির কারণে তারা সবচেয়ে উজ্জ্বল ও খোলা দিগন্তের দিকে এগিয়ে যায়। প্রাকৃতিক পরিবেশে সমুদ্রের ওপর রাতের আকাশের আলো তাদের পানির দিকে যেতে সাহায্য করে। কিন্তু সৈকতের আশপাশের বাড়ি, হোটেল, রাস্তা, গাড়ি কিংবা অন্যান্য স্থাপনার কৃত্রিম আলো অনেক সময় তাদের সেই স্বাভাবিক দিকনির্দেশনা নষ্ট করে দেয়। ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম আলোয় বিভ্রান্ত হয়ে প্রতি বছর ফ্লোরিডায় হাজার হাজার শিশু সামুদ্রিক কচ্ছপ মারা যায়। অ্যানা মারিয়া আইল্যান্ডে চলতি মৌসুমে সমস্যাটি বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত সেখানে যে ২৭টি সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা থেকে বাচ্চা বের হয়েছিল, তার মধ্যে ১৫টির বাচ্চাদের কৃত্রিম আলোর কারণে দিক হারানোর ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ব্র্যাডেনটন বিচে ১০টি এবং হোমস বিচে পাঁচটি বাসায় এমন ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৪ সালের হারিকেন হেলেন ও মিল্টনের কারণে উপকূলের অনেক প্রাকৃতিক বালিয়াড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব বালিয়াড়ি আগে সৈকতের দিকে আসা কৃত্রিম আলো অনেকাংশে আটকে দিত। সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন আশপাশের আলো আরও সহজে সৈকতে পৌঁছাচ্ছে। ফ্লোরিডায় মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রধান নেস্টিং সিজন। এ সময় অ্যানা মারিয়া আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় সৈকতের দিকে দৃশ্যমান কৃত্রিম আলো নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নিয়ম রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পর্যটকদের রাতের বেলায় অপ্রয়োজনীয় বাইরের আলো বন্ধ রাখা এবং জানালার পর্দা টেনে রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছে। ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশন বলছে, সৈকত থেকে দেখা যায় এমন যেকোনো কৃত্রিম আলো শিশু কচ্ছপের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কাছাকাছি কোনো বাতির আলো তাদের কাছে সমুদ্রের দিগন্তের চেয়েও উজ্জ্বল মনে হতে পারে। তখন তারা পানির দিকে না গিয়ে সেই আলোর উৎসের দিকে এগিয়ে যায়। দিক হারানোর পর শিশু কচ্ছপগুলো দীর্ঘ সময় বালুর ওপর ঘুরতে থাকলে দ্রুত পানিশূন্যতা ও ক্লান্তিতে আক্রান্ত হতে পারে। একই সঙ্গে গাড়ির নিচে চাপা পড়া এবং শিকারি প্রাণীর কবলে পড়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। অ্যানা মারিয়া আইল্যান্ড টার্টল ওয়াচ বাসিন্দা ও পর্যটকদের রাতের বেলায় সৈকতের দিকে মুখ করা আলো কমিয়ে দিতে বলেছে। জানালার ব্লাইন্ড বা পর্দা বন্ধ রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া সৈকতে ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। সামুদ্রিক কচ্ছপের জীবনচক্রের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়গুলোর একটি জন্মের পর সমুদ্রে পৌঁছানোর এই ছোট পথ। ফ্লোরিডার বন্যপ্রাণী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, জন্ম নেওয়া প্রতি এক হাজার সামুদ্রিক কচ্ছপের মধ্যে আনুমানিক একটি পূর্ণবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকে। ফলে অ্যানা মারিয়া আইল্যান্ডে একসঙ্গে ৫৫টি শিশু কচ্ছপের মৃত্যু স্থানীয় সংরক্ষণকর্মীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নিউইয়র্কে অর্ধেক যাত্রী দিচ্ছেন না বাসভাড়া, মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি! চাপে মামদানির প্রতিশ্রুতি
‘ট্রাম্প বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে’, খাবার সংকটে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজের নাবিকের স্ত্রীর ক্ষোভ
হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করছেন ট্রাম্প!
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করতে গিয়ে অনেক অভিবাসী প্রথম দিকে এমন কিছু আর্থিক সিদ্ধান্ত নেন, যার প্রভাব পরে ক্রেডিট, ট্যাক্স, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কিংবা অবসরকালীন সঞ্চয়ে পড়ে। বাংলাদেশি নতুন অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রচলিত অনেক পরামর্শের সঙ্গে ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্যও ছড়িয়ে পড়ে। তাই শুরু থেকেই কয়েকটি বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকলে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে শক্ত আর্থিক ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব। প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ক্রেডিট হিস্ট্রি। যুক্তরাষ্ট্রে বাসা ভাড়া, ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি বা বাড়ির লোনসহ বিভিন্ন আর্থিক সিদ্ধান্তে ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যাদের আগে কোনো মার্কিন ক্রেডিট হিস্ট্রি নেই, তাদের জন্য সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড একটি সম্ভাব্য শুরুর পথ হতে পারে। কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত সময়মতো বিল পরিশোধ করা এবং ক্রেডিট লিমিটের খুব কাছাকাছি না যাওয়া ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরিতে সহায়ক। সংস্থাটি বলছে, কিছু বিশেষজ্ঞ মোট ক্রেডিট লিমিটের ৩০ শতাংশের নিচে এবং কেউ কেউ ১০ শতাংশের নিচে ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তবে ক্রেডিট কার্ডে ব্যালেন্স রেখে দিলেই ক্রেডিট স্কোর ভালো হয়, এমন ধারণা ঠিক নয়। প্রতি মাসে সময়মতো সম্পূর্ণ স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ করলে সুদের খরচ এড়ানো যায়। একই সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে অনেকগুলো নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্টের জন্য আবেদন করাও এড়িয়ে চলা ভালো। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ট্যাক্স। এ ক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত একটি তথ্য সংশোধন করা জরুরি। বছরে ৬০০ ডলারের বেশি আয় করলেই প্রত্যেক ব্যক্তির ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। কার ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হবে, তা নির্ভর করে আয়ের ধরন, পরিমাণ, বয়স ও ফাইলিং স্ট্যাটাসসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। তবে সেলফ এমপ্লয়মেন্ট থেকে বছরে অন্তত ৪০০ ডলার নেট আয় হলে সাধারণত ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন এবং সেলফ এমপ্লয়মেন্ট ট্যাক্সের নিয়ম প্রযোজ্য হয়। ক্যাশে আয় করলেও সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্যাক্সের বাইরে চলে যায় না। ট্যাক্সযোগ্য আয় সঠিকভাবে রিপোর্ট করা প্রয়োজন। ২০২৬ সালের ফাইলিং সিজনে ২০২৫ সালের অ্যাডজাস্টেড গ্রস ইনকাম ৮৯ হাজার ডলার বা তার কম হলে যোগ্য করদাতারা আইআরএস ফ্রি ফাইলের গাইডেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিনা খরচে ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে পারেন। এর বেশি আয়কারীদের জন্যও ফ্রি ফাইল ফিলেবল ফর্মস রয়েছে। তৃতীয় বিষয় হেলথ ইন্স্যুরেন্স। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি হতে পারে বলে শুধু সুস্থ থাকার কারণে ইন্স্যুরেন্সের প্রয়োজন নেই ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তবে মার্কেটপ্লেস থেকে মাসে ৫০ থেকে ১৫০ ডলারে সবাই হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রিমিয়াম নির্ভর করে আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বসবাসের এলাকা, বয়স, নির্বাচিত প্ল্যান এবং আর্থিক সহায়তার যোগ্যতার ওপর। ২০২৫ সালের শেষে মহামারির সময় চালু হওয়া অতিরিক্ত প্রিমিয়াম সহায়তার মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালে অনেকের মার্কেটপ্লেস প্রিমিয়াম আগের তুলনায় বেশি হতে পারে। চতুর্থ বিষয় ৪০১(কে) এবং আইআরএর মতো অবসরকালীন সঞ্চয়। চাকরিদাতা ৪০১(কে) সুবিধা দিলে তার নিয়ম ভালোভাবে বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মীর জমা দেওয়া অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশের বিপরীতে এমপ্লয়ার ম্যাচ দেওয়া হয়। তবে সব কোম্পানি ৩ থেকে ৬ শতাংশ ম্যাচ দেয় কিংবা কর্মী ১০০ ডলার রাখলে কোম্পানিও অবশ্যই ১০০ ডলার দেবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। ম্যাচের হার ও শর্ত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানের ওপর নির্ভর করে। এখানে ভেস্টিংয়ের নিয়মও জানা দরকার। কিছু ৪০১(কে) প্ল্যানে কোম্পানির দেওয়া অর্থের সম্পূর্ণ মালিকানা পেতে নির্দিষ্ট সময় চাকরিতে থাকতে হতে পারে। ফলে নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েই এইচআর বিভাগ বা প্ল্যান ডকুমেন্ট থেকে এমপ্লয়ার ম্যাচ এবং ভেস্টিংয়ের নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো। পঞ্চম বিষয় হলো সব সঞ্চয় চেকিং অ্যাকাউন্টে ফেলে না রাখা। দৈনন্দিন বিল ও খরচের জন্য চেকিং অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হলেও দীর্ঘ সময়ের জরুরি সঞ্চয়ের জন্য সুদ দেওয়া সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা হাই ইয়েল্ড সেভিংস অ্যাকাউন্ট বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ সুদ সব সময় বা সব ব্যাংকে পাওয়া যাবে, এমন নয়। সুদের হার পরিবর্তনশীল। তাই অ্যাকাউন্ট খোলার আগে বর্তমান এপিওয়াই, ফি, টাকা তোলার নিয়ম এবং প্রতিষ্ঠানটি এফডিআইসি বা এনসিইউএ সুরক্ষার আওতায় আছে কি না যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন অভিবাসীদের জন্য আরেকটি কার্যকর সুবিধা হলো ইউএসপিএস ইনফর্মড ডেলিভারি। যোগ্য ঠিকানায় এই ফ্রি সার্ভিস চালু করলে বাসায় আসার আগে অনেক লেটার সাইজের মেইলের বাইরের অংশের ডিজিটাল ছবি দেখা যায় এবং নির্দিষ্ট প্যাকেজের ডেলিভারি স্ট্যাটাসও জানা যায়। তবে এটি সব চিঠি বা গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হারানো ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না। ইউএসপিএস বলছে, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে প্রক্রিয়াকৃত লেটার সাইজের মেইলের ক্ষেত্রেই মূলত ছবির সুবিধা পাওয়া যায়। আমেরিকায় নতুন আসার পর প্রথম কয়েক মাসে ক্রেডিট তৈরি, সঠিকভাবে ট্যাক্স রিপোর্ট করা, প্রয়োজন অনুযায়ী হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়া, চাকরির রিটায়ারমেন্ট সুবিধা বোঝা এবং সঞ্চয়ের জন্য উপযুক্ত অ্যাকাউন্ট বেছে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। তবে এসব পদক্ষেপ মেনে চললেই প্রত্যেক ব্যক্তি বছরে নির্দিষ্টভাবে ৫ হাজার ডলার সাশ্রয় করবেন, এমন হিসাবের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। ব্যক্তির আয়, পরিবার, স্টেট, চাকরি ও আর্থিক পরিস্থিতির ওপর প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে। এই তথ্য সাধারণ সচেতনতার জন্য। ট্যাক্স, বিনিয়োগ, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও অন্যান্য আর্থিক সিদ্ধান্তের নিয়ম ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
টেক্সাস গভর্নরের হস্তক্ষেপের পর ডালাস বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজুর স্থান নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল
একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা: কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে তিন বোনের মধ্যে বেঁচে রইলেন শুধু একজন, হারালেন বাবা-মাকেও
টেক্সাসে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল দুই মার্কিন সেনা পাইলটের
বাংলাদেশে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন অনেক শিক্ষার্থী। আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকায় তাদের অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার আবেদন করা সম্ভব নয়। তবে কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ বা কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন প্রোগ্রাম রয়েছে, যেখানে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর ছাড়াই শুরু করার সুযোগ রয়েছে। পরে নির্ধারিত ইংলিশ প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ করে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়া যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে নিয়ম আলাদা এবং ভিসা কখনোই নিশ্চিত নয়। জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি: কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রাম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্ভাব্য পথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা আইইএলটিএস বা টোফেল না দিয়েও ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারেন। এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রোগ্রাম আই-২০ দেওয়ার অনুমোদনও রাখে। এই প্রোগ্রামের কয়েকটি স্তর সফলভাবে শেষ করলে নির্দিষ্ট শর্তে আন্ডারগ্র্যাজুয়েটে ভর্তি হওয়া যায়। ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা: অরল্যান্ডোর ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েটরা আবেদন করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ইংলিশ লেভেল টেস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দক্ষতা নির্ধারণ করে। প্রোগ্রামের লেভেল ৮ সফলভাবে শেষ করলে ইউসিএফে ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আইইএলটিএস, টোফেল বা ডুয়োলিঙ্গো পরীক্ষার স্কোর আর প্রয়োজন হয় না। এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য আই-২০ পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস: ডেন্টনের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের ইনটেনসিভ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ইংরেজি দক্ষতা উন্নত করতে পারেন। নতুন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্লেসমেন্ট পরীক্ষা দিতে হয় এবং সেই ফল অনুযায়ী ইংলিশের স্তর নির্ধারণ করা হয়। লেভেল ৬ সফলভাবে শেষ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ করা যায়। কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়াশোনার পথও রয়েছে। পেনসিলভানিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটি: ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইনটেনসিভ ইংলিশ ও কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন প্রোগ্রাম রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একাডেমিকভাবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা কোনো ইংলিশ টেস্ট স্কোর জমা না দিয়েও প্রভিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ পেতে পারেন এবং পরে ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথ তৈরি করতে পারেন। হাইস্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীরাও ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারেন। পূর্ণকালীন প্রোগ্রামে পড়ার জন্য এফ-১ ভিসা এবং আই-২০ প্রয়োজন। আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা: ইউনিভার্সিটি অব আলাবামায় একাডেমিক যোগ্যতা পূরণ করলেও ইংরেজি দক্ষতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ রয়েছে। এসব শিক্ষার্থী প্রথমে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ করার পর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্টভাবে বলছে, কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের ক্ষেত্রে আবেদনের সময় ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকলেও শিক্ষার্থীর ইংরেজিতে অন্তত ভিসা ইন্টারভিউ দেওয়ার মতো প্রস্তুতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা অফিসার শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উদ্দেশ্য, নির্বাচিত প্রোগ্রাম, শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারেন। তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-২০ পেলেই স্টুডেন্ট ভিসা নিশ্চিত হয় না। এ ধরনের প্রোগ্রামে আবেদন করতে সাধারণত একাডেমিক কাগজপত্র, পাসপোর্ট এবং আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয়। এফ-১ ভিসার জন্য আই-২০ পাওয়ার পর সেভিস ফি, ভিসা আবেদন এবং ইন্টারভিউয়ের ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রোফাইল, আর্থিক সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার উদ্দেশ্য পরিষ্কার ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, “আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই” মানে ইংরেজি দক্ষতার কোনো যাচাই ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া নয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব প্লেসমেন্ট পরীক্ষা, ইংলিশ প্রোগ্রাম বা কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ভাষাগত প্রস্তুতি যাচাই করতে পারে। তাই সদ্য এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ভর্তি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংক্রান্ত নিয়ম যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রে বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো ১৫ লাখের বেশি ডিম, না খাওয়ার কড়া নির্দেশ দিল এফডিএ
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে হাম, ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ