এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পুরোনো বই কিনে স্ক্যান করেই পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে আরও দক্ষ করে তুলতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো লাখ লাখ বই কিনে সেগুলো স্ক্যান করার পর ধ্বংস করছে, এমন অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ৪০৪ মিডিয়ার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরোনো ও বিরল বই সংগ্রহ করে সেগুলোর মলাট কেটে দ্রুতগতির যন্ত্রে স্ক্যান করার পর মূল কপিগুলো নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সরাসরি নয়, বরং মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বই সংগ্রহ করছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের আগে প্রকাশিত বইগুলোর চাহিদা বেশি, কারণ এসব বইয়ে এআই-সৃষ্ট লেখা থাকার সম্ভাবনা নেই। ফলে মানবসৃষ্ট উচ্চমানের লেখার মাধ্যমে নতুন এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া সহজ হয় এবং তথাকথিত ‘মডেল কলাপস’ বা নিম্নমানের এআই-নির্ভর কনটেন্টে প্রশিক্ষিত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক ‘প্রজেক্ট পানামা’ নামে একটি গোপন প্রকল্পে লাখো বই কিনে তাদের মলাট কেটে স্ক্যান করে ‘ক্লড’ চ্যাটবটের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করেছিল। আদালতে উপস্থাপিত নথিতে প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল বিশ্বের বিপুলসংখ্যক বই ধ্বংসাত্মক পদ্ধতিতে স্ক্যান করে ডিজিটাল ডেটায় রূপান্তর করা।
এই প্রকল্পকে ঘিরে লেখকদের করা কপিরাইট মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচারক উইলিয়াম আলসাপ রায় দেন, বৈধভাবে কেনা বই স্ক্যান করে ডিজিটাল কপি তৈরি এবং সেই কপি দিয়ে এআই প্রশিক্ষণ দেওয়া ‘ফেয়ার ইউজ’-এর আওতায় পড়তে পারে, যদি সেগুলো প্রকাশ বা বাণিজ্যিকভাবে বিতরণ না করা হয়। তবে একই মামলায় অ্যানথ্রপিকের কাছে সংরক্ষিত লাখো পাইরেটেড বই কপিরাইট লঙ্ঘনের শামিল বলে আদালত মন্তব্য করে। পরে প্রতিষ্ঠানটি লেখক ও প্রকাশকদের সঙ্গে ১৫০ কোটি ডলারে সমঝোতায় পৌঁছায়।
বই ধ্বংসের এই প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন অনেকেই। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কংগ্রেস সদস্য ব্র্যাড কারসন বলেছেন, বর্তমান আইনি কাঠামো বই সংরক্ষণের পরিবর্তে ধ্বংসকে উৎসাহিত করছে। স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কও জানিয়েছেন, বিরল বই থাকলে সেগুলো ধ্বংস না করে বিকল্প উপায়ে স্ক্যান ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ফ্যাক্টরি এআইয়ের প্রধান নির্বাহী মাতান গ্রিনবার্গের মতে, যান্ত্রিকভাবে বই ধ্বংসের মধ্যে মানবসভ্যতাবিরোধী একটি দিক রয়েছে এবং ইতিহাস কখনোই বই ধ্বংসকারীদের ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেনি। অন্যদিকে লেখকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ফেয়ারলি ট্রেইনড’-এর প্রতিষ্ঠাতা এড নিউটন-রেক্স প্রশ্ন তুলেছেন, মাত্র কয়েক ডলারে একটি ব্যবহৃত বই কিনে সেটি দিয়ে বাণিজ্যিক এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া কতটা নৈতিক, যদি সেই মডেল পরবর্তীতে লেখকের সঙ্গেই প্রতিযোগিতা করে।
এদিকে বিতর্কের পর আইএসবিএনডিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কখনো এআই প্রশিক্ষণের জন্য বই কেনা, স্ক্যান বা বিক্রির সেবা চালু করেনি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাটি ছিল কেবল বাজারের আগ্রহ যাচাইয়ের একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। সেটি কখনো বাস্তবে চালু করা হয়নি এবং ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
তথ্যপ্রযুক্তি
View moreকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে আরও দক্ষ করে তুলতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো লাখ লাখ বই কিনে সেগুলো স্ক্যান করার পর ধ্বংস করছে, এমন অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ৪০৪ মিডিয়ার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরোনো ও বিরল বই সংগ্রহ করে সেগুলোর মলাট কেটে দ্রুতগতির যন্ত্রে স্ক্যান করার পর মূল কপিগুলো নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সরাসরি নয়, বরং মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বই সংগ্রহ করছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের আগে প্রকাশিত বইগুলোর চাহিদা বেশি, কারণ এসব বইয়ে এআই-সৃষ্ট লেখা থাকার সম্ভাবনা নেই। ফলে মানবসৃষ্ট উচ্চমানের লেখার মাধ্যমে নতুন এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া সহজ হয় এবং তথাকথিত ‘মডেল কলাপস’ বা নিম্নমানের এআই-নির্ভর কনটেন্টে প্রশিক্ষিত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক ‘প্রজেক্ট পানামা’ নামে একটি গোপন প্রকল্পে লাখো বই কিনে তাদের মলাট কেটে স্ক্যান করে ‘ক্লড’ চ্যাটবটের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করেছিল। আদালতে উপস্থাপিত নথিতে প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল বিশ্বের বিপুলসংখ্যক বই ধ্বংসাত্মক পদ্ধতিতে স্ক্যান করে ডিজিটাল ডেটায় রূপান্তর করা। এই প্রকল্পকে ঘিরে লেখকদের করা কপিরাইট মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচারক উইলিয়াম আলসাপ রায় দেন, বৈধভাবে কেনা বই স্ক্যান করে ডিজিটাল কপি তৈরি এবং সেই কপি দিয়ে এআই প্রশিক্ষণ দেওয়া ‘ফেয়ার ইউজ’-এর আওতায় পড়তে পারে, যদি সেগুলো প্রকাশ বা বাণিজ্যিকভাবে বিতরণ না করা হয়। তবে একই মামলায় অ্যানথ্রপিকের কাছে সংরক্ষিত লাখো পাইরেটেড বই কপিরাইট লঙ্ঘনের শামিল বলে আদালত মন্তব্য করে। পরে প্রতিষ্ঠানটি লেখক ও প্রকাশকদের সঙ্গে ১৫০ কোটি ডলারে সমঝোতায় পৌঁছায়। বই ধ্বংসের এই প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন অনেকেই। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কংগ্রেস সদস্য ব্র্যাড কারসন বলেছেন, বর্তমান আইনি কাঠামো বই সংরক্ষণের পরিবর্তে ধ্বংসকে উৎসাহিত করছে। স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কও জানিয়েছেন, বিরল বই থাকলে সেগুলো ধ্বংস না করে বিকল্প উপায়ে স্ক্যান ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ফ্যাক্টরি এআইয়ের প্রধান নির্বাহী মাতান গ্রিনবার্গের মতে, যান্ত্রিকভাবে বই ধ্বংসের মধ্যে মানবসভ্যতাবিরোধী একটি দিক রয়েছে এবং ইতিহাস কখনোই বই ধ্বংসকারীদের ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেনি। অন্যদিকে লেখকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ফেয়ারলি ট্রেইনড’-এর প্রতিষ্ঠাতা এড নিউটন-রেক্স প্রশ্ন তুলেছেন, মাত্র কয়েক ডলারে একটি ব্যবহৃত বই কিনে সেটি দিয়ে বাণিজ্যিক এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া কতটা নৈতিক, যদি সেই মডেল পরবর্তীতে লেখকের সঙ্গেই প্রতিযোগিতা করে। এদিকে বিতর্কের পর আইএসবিএনডিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কখনো এআই প্রশিক্ষণের জন্য বই কেনা, স্ক্যান বা বিক্রির সেবা চালু করেনি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাটি ছিল কেবল বাজারের আগ্রহ যাচাইয়ের একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। সেটি কখনো বাস্তবে চালু করা হয়নি এবং ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পুরোনো সিম কার্ডেই মিলল ১৯১ গ্রাম সোনা! ভাইরাল ভিডিওর পর বাড়ছে পুরোনো সিম কেনাবেচা
সিকিউরিটি পরীক্ষায় ওপেনএআই এর এআই হ্যাক করেছিল আরেক এআই কোম্পানিকে! আসলে কী ঘটেছিল?
যেভাবে হোয়াটসঅ্যাপের কল রেকর্ড করবেন, জেনে নিন সহজ উপায়
পৃথিবীর কক্ষপথে ভেসে থাকা স্পেসএক্সের একটি ব্যবহৃত ফ্যালকন-৯ রকেটের উপরের অংশ আগামী ৫ আগস্ট চাঁদের পৃষ্ঠে অনিচ্ছাকৃতভাবে আঘাত হানতে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি কোনো দুর্ঘটনাজনিত বিপর্যয় নয়; বরং মহাকাশ গবেষণার জন্য বিরল এক পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, রকেটের অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল (প্রায় ৮ হাজার ৭০০ কিলোমিটার) গতিতে চাঁদের আইনস্টাইন ক্রেটারের কাছাকাছি এলাকায় আঘাত করবে। এতে প্রায় ৯০ ফুট চওড়া এবং ১৬ ফুট গভীর একটি নতুন গর্ত তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ধুলা ও শিলাখণ্ডের একটি বিশাল মেঘ তৈরি হবে, যা শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে কিছু সময়ের জন্য পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে। রকেটের এই অংশটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ উৎক্ষেপণের সময় ব্যবহৃত হয়েছিল। ওই মিশনে ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসের ব্লু ঘোস্ট এবং জাপানের আইস্পেসের হাকুটো-আর চন্দ্রযান বহন করা হয়। মিশন শেষে রকেটের উপরের ধাপটি মহাকাশে ভেসে থাকে এবং পরে এর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে চাঁদের দিকে চলে যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই সংঘর্ষ পৃথিবীর জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না এবং বর্তমানে চাঁদে থাকা কোনো কার্যকর মিশনের ওপরও প্রভাব ফেলবে না। তবে এটি মানুষের তৈরি মহাকাশযানের চাঁদে আঘাতের বিরল ঘটনা হওয়ায় গবেষকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এই সংঘর্ষ থেকে উড়ে যাওয়া ধুলা, গর্তের আকার এবং প্রভাব বিশ্লেষণ করে চাঁদের পৃষ্ঠের গঠন ও ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। নাসার লুনার রিকনাইস্যান্স অরবিটার (এলআরও) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দানুরি চন্দ্রযান সংঘর্ষস্থলের আগে ও পরে ছবি তুলে পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন মানমন্দির ও অপেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও ঘটনাটি পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা মহাকাশে ক্রমবর্ধমান 'স্পেস জাঙ্ক' বা মহাকাশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে চাঁদে মানব ও রোবোটিক অভিযান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহৃত রকেট ও অন্যান্য মহাকাশযানের অংশ কীভাবে নিরাপদে অপসারণ করা হবে, সেটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রে রাজকীয় বিয়ের কয়েক দিন আগে ধসে পড়ল ২৪ বছরের তরুণের ৪৫ বিলিয়ন ডলারের এআই তহবিল
গুগল আর্থে এআই ছবি তৈরির ফিচার চালুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বন্ধ
অ্যাপল পে ও অ্যাপল ক্যাশে বিভ্রাট, লেনদেনে ভোগান্তিতে হাজারো ব্যবহারকারী
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার) ব্যবহারকারীদের জন্য ‘এক্স মানি’ নামে নতুন আর্থিক সেবা চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে আমন্ত্রণভিত্তিক এই সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একে অপরকে তাৎক্ষণিক অর্থ পাঠাতে পারবেন, পাশাপাশি পাবেন ভিসা-সমর্থিত ডেবিট কার্ড ও অন্যান্য ব্যাংকসদৃশ সুবিধা। নতুন সেবাটি বর্তমানে এক্সের প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য চালু হয়েছে। ‘এক্স মানি’ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ জমা রাখা, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে (পি-টু-পি) অর্থ স্থানান্তর, বিল পরিশোধ, সরাসরি বেতন গ্রহণ (ডাইরেক্ট ডিপোজিট) এবং ভিসা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন করা যাবে। এ সেবার ব্যাংকিং অংশীদার হিসেবে রয়েছে ক্রস রিভার ব্যাংক। এক্স জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যবহারকারীরা জমাকৃত অর্থের ওপর সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ বার্ষিক মুনাফা এবং যোগ্য কেনাকাটায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন। ডেবিট কার্ডটি এটিএম থেকেও ব্যবহার করা যাবে এবং অ্যাপল ওয়ালেটের মতো ডিজিটাল ওয়ালেটের সঙ্গেও সংযুক্ত করা যাবে। দীর্ঘদিন ধরেই ইলন মাস্ক এক্সকে একটি ‘এভরিথিং অ্যাপ’ বা বহুমুখী সেবা প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা বলে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বার্তা আদান-প্রদান এবং আর্থিক সেবাকে একই প্ল্যাটফর্মে একীভূত করার লক্ষ্যেই ‘এক্স মানি’ চালু করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নতুন এ আর্থিক সেবা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। ভোক্তা সুরক্ষা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং সেবাটির ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোমান্টিক সময় কাটাচ্ছেন ট্রুডো-কেটি, আলোচনায় সানস্ক্রিন মাখানোর ছবি
এখনই আইফোন আপডেট করুন, অ্যাপলের সর্বশেষ আপডেটে থাকছে বড় চমক